বিবশ_রজনী #পর্ব_চার

#বিবশ_রজনী
#পর্ব_চার
…..
রাতের খাবার খেয়ে নিজাম সাহেব ল্যাবে বসে প্রজেক্টরে ঈশানের ভিডিও দেখছেন, পাশে রয়েছে কাগজ কলম। ঈশানের ঠোঁটের ভাষা তিনি কাগজে লিপিবদ্ধ করছেন। ঈশান ঘর থেকে বের হয়ে প্রথম যেই কথাটি বলল তা হচ্ছে, “ঘর থেকে বের হলাম, যাচ্ছি ছাদে।”
ছাদে গিয়ে ঈশান বলল, “কষ্ট হয় বুঝলে, খুব কষ্ট হয়।”
নিজাম সাহেবের মনে হলো, ঈশান কথাগুলো কাউকে উদ্দেশ্য করে বলছে, অপর পাশ থেকে সে কি কোন প্রতিউত্তর পাচ্ছে? যদি পেয়ে থাকে তবে সেসব তার অবচেতন মন তাকে দিচ্ছে নাকি অন্যকেউ? তিনি পুনরায় ভিডিওতে মনযোগী হলেন।

ঈশান ছাদের রেলিংয়ের উপরে গিয়ে দাঁড়ালো। একমুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে হাঁটতে হাঁটতে বলল, “আমি এখন কি করছি জানো?”
নিজাম সাহেবের মনে হচ্ছে অপর পাশ থেকে কেউ জিজ্ঞাসা করলো, “কি করছো?” কারণ ঈশান কয়েক সেকেণ্ডের জন্যে থেমে বলল, “ছাদের রেলিংয়ের উপর দিয়ে হাঁটছি, পরে গেলে মরে যাব। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

ঈশান বেশকিছুক্ষণ কোন কথা বলল না। মিনিট দশেক পর ঈশান আবারও বলল, “দেখো আমাদের সম্পর্কটা দিনকে দিন কেমন হয়ে যাচ্ছে। আমার দোষটা কোথায় বলো তো? আমার জীবনে তুমি নিজে থেকে এসেছিলে, যেই তোমাকে নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি, একটাদিন ডিপার্টমেন্টের সহপাঠী হিসেবেও যাকে আমি জিজ্ঞাসা করবার প্রয়োজন বোধ করিনি কেমন আছো সেই তুমি একদিন আমাকে বললে, তুমি আমার সাথে মিশতে চাও। আমি তোমায় সময় দিতে পারবো কি না। তোমার এই সরলতা আমার এতোটাই ভাল লেগেছিল যে আমি তোমার সাথে না মিশে থাকতে পারিনি। তোমাকে সময় দিতে দিতে, এখানে-সেখানে ঘুরতে ঘুরতে বন্ধুদের সাথে আমার সম্পর্কের পাঠ ঘুচিয়ে গেল। ধীরে ধীরে একদিন বুঝলাম তুমি আমারই এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছো। তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না, তুমি নিশ্চয়ই আমার মনের অবস্থা বুঝতে পারতে। আমি মাঝে মাঝেই ভীষণ অবাক হই, যেই তোমাকে আমি কখনো জিজ্ঞাসা করার কথা ভাবিনি কেমন আছো, সেই তোমারই সাথে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক হয়ে গেল।”

ঈশান আবারও থামলো, নিজাম সাহেব একটা সিগারেট ধরিয়ে ভাবলেন, ঈশানের কি কোন প্রেমিকা ছিল? যদি থেকে থাকে তবে সে কোথায়? তার সাথে কি ঈশানের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে? অথবা মেয়েটার কি বিয়ে হয়ে গেছে?

ঈশান আবারও বলতে শুরু করলো, “আমাদের সম্পর্কের কোন পরিনতি ছিল না আমি জানি, তুমিও জানতে, ওসব মেনেই তো ভালোবেসেছিলাম। চারটা বছর কত রাগ-অভিমানের পরেও আমরা এক থেকেছি। চিরদিন তেমনই থাকবার কথা ছিল, বিশ্বাস করো আমি তোমাকে কখনোই আপন করে পেতে চাইনি, চেয়েছিলাম কেবল একটুখানি পাশে পেতে, বন্ধুর মতো, ছায়ার মতো।”

ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “অথচ একদিন তোমার পুরো আদল বদলে গেল, কেমন অচেনা হয়ে গেলে তুমি। যেই আমাকে ছাড়া তোমার একটাদিন পূর্ণতা পেত না তুমি বলতে, সেই তুমি আমার একটা খোঁজ নেবার প্রয়োজন ভুলে গেলে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কেটে যায় একটাবার তুমি আমার খোঁজ নিতে না। জানো তো এই কষ্ট সইবার মতো সাধ্য পৃথিবীর কোনো পুরুষ মানুষের নেই। প্রতিটা মুহূর্তে তোমাকে আমার মনে পড়ে, স্মৃতিগুলো বার বার চোখের সামনে এসে জানান দেয়, তুমি আর আগের মতো নেই। আমি তোমাকে বারংবার বলেছি, তোমার কাছে তেমন কিছু তো আমি চাইনি, শুধুমাত্র একটুখানি পাশে পেতে চেয়েছি, রোজ দিন পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে যার কাছে আশ্রয় নেওয়া যায় সেই মানুষটি তুমি আমার ছিলে। আমি জানি না, তুমি হঠাৎ কেন আমায় অবহেলা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে শুরু করলে। হয়তো তুমি ভেবেছিলে তোমার সুখের কথা, সংসারের কথা, তাই তো আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য অবহেলা করে বার বার দূরে সরিয়ে দিতে শুরু করেছিলে। তোমার জীবনে একজন এলো, হয়তো তারই জন্যে আমার স্থান হারালো, কিন্তু এমনটা কথা ছিল না, কথা ছিল চিরটাদিন বন্ধুর মতো পাশে থাকার। তাকে নিয়ে তুমি সুখী হবে সেটা আমি ভীষণ চাইতাম কিন্তু হঠাৎই তুমি হারালে। আমাকে উপেক্ষা করতে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে, ভীষণ কষ্ট হতো, তোমার মুখখানা, তোমার গলার স্বর শুনলেই একমুহূর্তে আমি সব ভুলে যেতাম। আজ আর তোমার গলার স্বর শোনার উপায় নেই, তোমার মুখখানা একটাবার দেখতে পারি না, কোথায় হারালে তুমি?”

ঈশান রেলিং থেকে নেমে দাঁড়ালো, কান্নারত অবস্থায় চোখের পাতা বন্ধ করলে মানুষকে যেমন দেখায় ঈশানকে ঠিক তেমনই দেখাচ্ছে। নিজাম সাহেব আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “আহা জীবন, মানুষ এত গভীরভাবে মানুষকে কেন ভালোবাসে? মানুষগুলো এত গভীর ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে কি করে?”

নিজাম সাহেব ল্যাব থেকে বের হয়ে বেলকনিতে গিয়ে বসলেন। তাঁর মনটা খারাপ হয়ে গেছে। তিনি ঈশানের এই ভয়ংকর অবস্থা মেনে নিতে পারছেন না। ছেলেটা কি গভীরভাবেই না ভালোবেসেছিল, যেই ভালোবাসায় কোন চাওয়া-পাওয়া নেই সেই ভালোবাসাকে উপেক্ষা করা কি উচিৎ? অবশ্যই উচিৎ নয়। পৃথিবী থেকে ভালোবাসার সম্পর্কগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। আজকাল একের পর এক ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানো, একের পর এক বিচ্ছেদ হয়ে গেছে রীতি, অহরহ ছড়িয়ে যাচ্ছে শারীরিক সম্পর্কের চাহিদা, ওতে ভালোবাসা কোথায়? সবই যে শরীরের লোভ!

বেশকিছুক্ষণ নিজাম সাহেব চুপচাপ বসে রইলেন। এই পৃথিবীর সবকিছুই তিনি মেনে নিতে পারেন কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসাকে উপেক্ষা করার বিষয় তিনি মেনে নিতে পারেন না। একজন ভালোবাসার মানুষ জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজন, সে হতে পারে বন্ধু অথবা অন্যকেউ, যার কাছে মানুষ নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করতে পারে, যাকে মনের সব কথাগুলো বলে ফেলা যায় কোন সংশয় ছাড়াই।

নিজাম সাহেব বেলকনি থেকে উঠে এক কাপ চা বানিয়ে পুনরায় বেলকনিতে এসে বসলেন। ঈশানের বয়ান থেকে তিনি বেশকিছু বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত, ঈশানের সাথে কারও ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল, শুধু ভালোবাসা না, অতি গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। মেয়েটা ঈশানের খুব কাছের বন্ধু ছিল, একটা সময় তারা একে অপরকে ভালোবাসতে শুরু করে, তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, বিভিন্ন স্থানে তারা ঘুরে বেড়িয়েছে। তার সাথে মিশতে মিশতে বন্ধুদের সাথে ঈশানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। একটা সময় মেয়েটা ঈশানকে উপেক্ষা করতে শুরু করেছে, ঈশান সর্বদা চেষ্টা করে গেছে সম্পর্ক ঠিক রাখবার কিন্তু মেয়েটার কাছ থেকে সে দিনের পর দিন অবহেলিত-উপেক্ষিত হয়েছে। একটা সময় হয়তো তার সাথে ঈশানের যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঈশান হয়ে গেছে একদম একা। কিছু ব্যাপারে নিজাম সাহেব অনিশ্চিত, ঈশানের কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে মেয়েটাকে ঈশান জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চায়নি। কিন্তু একজন মানুষকে এত গভীরভাবে ভালোবাসবার পরেও জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবার কামনা-বাসনা থাকবে না কেন? ঈশানের শেষ বাক্য ছিল, “আজ আর তোমার গলার স্বর শোনার উপায় নেই, তোমার মুখখানা একটাবার দেখতে পারি না, কোথায় হারালে তুমি?” নিজাম সাহেব নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলেন, মেয়েটা এখন কোথায়?

ঘড়ির কাটা ভোর চারটা ছুঁইছুঁই করছে। নিজাম সাহেব বেলকনি থেকে উঠে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন।

বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে নিজাম সাহেবের চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এসেছে এমন সময় বিকট শব্দে তিনি হুড়মুড় করে বিছানায় উঠে বসলেন। হামিদুলের ঘর থেকে শব্দটা এসেছে। নিজাম সাহেব দ্রুত বিছানা ছেড়ে নেমে হামিদুলের ঘরে গিয়ে দেখলেন, হামিদুলের ঘরের জানালার একটা কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তিনি তাকালেন হামিদুলের দিকে, হামিদুলকে অঘোরে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তিনি স্বস্থির শ্বাস ফেলে ঘরের বাতি জ্বালালেন। কাঁচের টুকরো টুকরো অংশ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। নিজাম সাহেব দ্রুত ঝাড়ু এনে মেঝের কাঁচ পরিস্কার করে নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালেন। আজ আর ঘুম আসবে বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। তিনি ঘরের একটা জানালা খুলে দিয়ে জানালার সামনে চেয়ার টেনে বসে ভাবতে শুরু করলেন, প্রতি রাতে এরকম ভাবে ঢিল ছুড়ে কে? কেনই বা ঢিল ছোড়ে? এক দুইবার ঢিল ছুড়লে সেটা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতিরাতে ঢিল ছুড়লে ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবেই ফাজলামোর পর্যায়ে পড়ে না। কে কেন এরকম ভাবে ঢিল ছুড়ছে? গতকাল যদিও ঘরের কোনো জানালার কাঁচ ভাঙ্গেনি তবে নিজাম সাহেবের মনে হচ্ছে গত রাতেও ঢিল ঠিকই ছোড়া হয়েছিল কিন্তু জানালায় এসে লাগেনি। জানালার সামনে বসে থাকতে থাকতে সকালের আলো প্রস্ফুটিত হলো। নিজাম সাহেব মুখ-হাত ধুয়ে বাড়ির নিচে গিয়ে খুঁজতে শুরু করলেন কোন ইট অথবা পাথরের টুকরো পড়ে আছে কি না। বাড়ির চারপাশ একবার চক্কর দিতেই তাঁর চোখে পড়লো অসংখ্য ইট এবং পাথরের টুকরো। যেমনটা তিনি ভেবেছিলেন ঘটনা তেমনই, প্রতি রাতেই কেউ একজন নিজাম সাহেবদের জানালা লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে মারে। এই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। সে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ক্ষোভের বশে ঢিলগুলো ছুড়ছে। একটা ঢিল যদি কারও মাথায় এসে পড়ে তবে তার বেঁচে থাকবার কথা নয় কারণ ঢিলগুলো বেশ বড় বড়। যে এই কাজগুলো করছে তার সাথে মীমাংসার প্রয়োজন।

নিজাম সাহেব আরও কয়েকবার বাড়ির চারপাশে হেঁটে একটা বিষয় লক্ষ্য করলেন, এক জায়গায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে আছে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি হয়নি জন্যে দাগগুলো এখনো মুছে যায়নি, তবে রক্তের রঙ বদলে কালচে হয়ে আছে। নিজাম সাহেব দাগ অনুসরণ করতে শুরু করলেন। বাড়ির দক্ষিণ পাশ থেকে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দক্ষিণ দিকের দেয়ালে গিয়ে মিশে গেছে। নিজাম সাহেবের মনে হলো, কেউ একজন কোনো না কোনো উদ্দেশ্যে দেয়াল টপকে বাসায় প্রবেশ করেছিল এবং তাঁর কুকুরটা তাকে কামড়ে দিয়েছে। তিনি মনে মনে ভাবলেন, সেই ব্যাক্তিই কি ঢিলগুলো ছুড়ছে?

সকাল দশটার দিকে নিজাম সাহেব হামিদুল সহ গাড়ি নিয়ে সোজা ঈশানদের বাসায় চলে গেলেন। ঈশানদের বাড়ির কলিংবেল বাজাতেই ঈশানের মা নাজিয়া আফরোজ এসে দরজা খুলে দিলেন। ঈশান তখনো ঘুমিয়ে আছে, আব্দুল মালেক সাহেব অফিসে চলে গেছেন। নিজাম সাহেব হামিদুলকে নিয়ে ঈশানদের বসার ঘরে গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে মিসেস নাজিয়া ট্রে ভর্তি নাস্তা নিয়ে বসার ঘরে এসে হাসিমুখে বললেন, “নিন নাস্তা করুন।”
নিজাম সাহেব হেসে বললেন, “আপনাদের বাসায় নাস্তা করতেই এত সকাল সকাল চলে এলাম।”
মিসেস নাজিয়া জানেন নিজাম সাহেব নাস্তা করবার উদ্দেশ্যে আসেননি, তবুও তিনি হাসিমুখেই বললেন, “খুব ভালো কাজ করেছেন, যখন-তখন নাস্তা করতে আমাদের এখানে চলে আসবেন।”
হামিদুলের দিকে তাকিয়ে মিসেস নাজিয়া জিজ্ঞাসা করলেন, “ছেলেটা কে?”
নিজাম সাহেব হামিদুলের কাঁধে একটা হাত রেখে বললেন, “বেটা। এইটা আমার একমাত্র বেটা।”
নাজিয়া আফরোজ তাড়া দিয়ে হামিদুলকে বললেন, “নাও বাবা নাস্তা করো।”
হামিদুল তাকালো নিজাম সাহেবের দিকে। তিনি নাস্তার দিকে তাকিয়েও দেখছেন না এমতাবস্থায় সে কি করে খাওয়া শুরু করবে?
নিজাম সাহেব মিসেস নাজিয়াকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা ঈশানের কি কারও সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল?”
মিসেস নাজিয়া বললেন, “আমি এই বিষয়টা ঠিক বলতে পারছি না। ঈশান কখনো এরকম কিছু আমাকে বলেনি, তবে ও মাঝে মাঝে ফোনে খুব কথা বলতো।”
–“ঈশানের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বন্ধুর সাথে আপনার পরিচয় আছে?”
–“আছে তো, কয়েকজনের সাথেই আছে।”
–“আমি তাদের সাথে ঈশানের ব্যাপারে কথা বলতে চাই। আমাকে তাদের ফোন নম্বরগুলো দেওয়া যাবে?”
–“হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনি নাস্তা করুন, আমি তাদের ফোন নম্বর আপনাকে লিখে দিচ্ছি।”

মিসেস নাজিয়া বসার ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। নিজাম সাহেব পাউরুটিতে বাটার লাগাতে লাগাতে হামিদুলকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কিরে খাচ্ছিস না কেন?”
হামিদুল কিছু না বলে নিজাম সাহেবের মতো রুটিতে বাটার লাগাতে শুরু করলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে মিসেস নাজিয়া বসার ঘরে ফিরে এসে নিজাম সাহেবকে একটা কাগজ দিয়ে বললেন, “এইখানে ঈশানের দুজন বন্ধুর ফোন নম্বর লেখা আছে। আপনি ওদের সাথে কথা বলতে পারেন।”

নিজাম সাহেব কাগজ পকেটে রেখে বললেন, “ঈশানের ঘুম ভাঙ্গে কখন?”
মিসেস নাজিয়া বললেন, “ঠিক নেই, কোনোদিন সকাল আটটায় কোনোদিন দশটায় আবার কখনো কখনো দুপুর গড়িয়ে যায়।”
–“এখন থেকে ঈশানকে সকাল আটটা বাজতেই ঘুম থেকে ডেকে তুলবেন।”
–“আচ্ছা।”

নিজাম সাহেব নাস্তা শেষ করে মিসেস নাজিয়ার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঈশানদের বাসা থেকে বের হয়ে আসলেন। গাড়িতে উঠে তিনি হামিদুলের দিকে শব্দ করে হাসতে শুরু করলেন। হামিদুল নিজাম সাহেবের দিকে বিরক্তমুখে তাকিয়ে বলল, “এমন করে হাসছো কেন?”
নিজাম সাহেব হাসতে হাসতে বললেন, “গাধা তোকে না বলেছিলাম খাওয়া-দাওয়া শেষ করে মুখটা ভালো করে মুছবি, আয়নায় দেখতো তোকে কেমন দেখাচ্ছে।”
হামিদুল দ্রুত আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখলো, তার ঠোঁটের উপরে বাম পাশে বাটার লেগে সাদা মোচ গজিয়েছে। সে দ্রুত হাত দিয়ে মুখমণ্ডল মুছে ফেলল এবং নতুন একটা সমস্যা পড়লো তার হাতের আঙ্গুলগুলো আঠালো হয়ে গেছে।
…..
#চলবে

লেখা,
নাহিদ হাসান নিবিড়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here