পবিত্র_বন্ধন #পর্ব -২

#পবিত্র_বন্ধন
#পর্ব -২

মা বাবা কে না বলে বের হলাম, এত ভোরে রিকশা পাওয়া মুশকিল দূর থেকে একটা রিক্সা হাতছানি দিচ্ছে। মামা কদমতলী যাবেন?

—— হ আফা যামু।।

একটু তাড়াতাড়ি চালান।

কদমতলী রেল স্টেশন পোছে ভাড়া মিটিয়ে দৌড়ে ঢুকলাম।। খুশি লাগছে আজ আমি আমার ভালোবাসার মানুষ কে সারাজীবনের জন্য আপন করে পাবো।।

ডুকে দেখি ভিতরে ও নেই!! মুগ্ধ কে কল করছি ধরছে না।
মনের মধ্যে কু ডাক দিচ্ছে। আচ্ছা মুগ্ধ আসবে তো!!
কেন এমনটা মনে হচ্ছে নিজেও জানিনা।

২ ঘণ্টা বসে আছি মুগ্ধের কোন খবর নাই!! চোখের পানি ছলছল করছে,যার জন্য এত পথ পাড়ি দিলাম তার খবর নাই।কল দিতে দিতে মোবাইলের চার্জ ১০% এ চলে এসেছে।

মনের অস্থিরতা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। আচ্ছা আর একটু বসি হয়ত আসছে গাড়ির আওয়াজে মোবাইলের রিং শুনতে পারছেনা।

অনেকক্ষন পরে রিং বেজে উঠল। কলিজায় পানি আসছে!!
আমি জানতাম মুগ্ধ তুমি ঠিক কল দিবে এটা বলে খুশি মনে ফোন হাতে নিয়ে দেখি মা কল দিছে!!

কেটে দিলাম মা বার বার কল দিচ্ছে।

দুনিয়া কত বিচিত্র আমি মুগ্ধ কে কল দিতে দিতে অস্থির আর মা আমাকে কল দিতে দিতে অস্থির। দুজনের দরকার তবে দুজন আলাদা মানুষ কে ।।

এত গুলা কল দেখে ভয়ে ভয়ে ফোন রিসিভ ধরলাম।

—– মেঘলা তুই কোথায় সবাই খুজতেছে। প্লিজ মা বাসায় আয়, জানিস তো তোর বাবা কত গরম আজ মান সম্মান গেলে তোর বাবা মরে যাবে।। কারো কাছে মুখ দেখাতে পারবেনা তোর ছোট ভাই বোনদের জীবন নষ্ট হই যাবে।

মা এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেল্ল।

আমি কল কেটে দিলাম কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কেন জানি মা বাবার জন্য খুব খারাপ লাগছে। মুগ্ধ কে কল করছি এবার মোবাইল টা বন্ধ বলছে। কি করব এখন!!! বাসায় চলে যাব। দুপুর হয়ে যাচ্ছে….

মায়ের কথা মনে করে বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।
মুগ্ধ এমন টা না করলে পারতে। আমাদের ভালোবাসা কি মিথ্যা ছিল তাহলে!!

সারা টা পথ কল দিয়েছি নাম্বার বন্ধ। বাসার সামনে এসে আসেপাশে খেয়াল করে লুকিয়ে বাসায় ডুকে গেলাম। মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
—- কেন গেলি আমাদের বলতে পারতি তোর কোন পছন্দ আছে।। —– না মা আমার কোন পছন্দ নেই। ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম বিয়ের। তাই মুড ঠিক করতে ভোরে হাটঁতে বের হয়েছি। আমি বিয়েতে রাজি।।

——- সত্যি বলছিস??

——– হুম মা সত্যি।।

আজ নিজের স্বপ্ন গুলাকে ধামাচাপা দিব। তুমি জানতে মুগ্ধ আমি তোমার বুকে ছাড়া আর কারো বুকে নিশ্বাস নিতে চাই না তাহলে আজকের কেন আসলে না।। কেন আমায় অগ্নি পরীক্ষায় দাঁড় করিয়ে দিলে…

আমার মামাতো বোন রা মিলে আমাকে সাজাচ্ছে তাতে আমার কোন খেয়াল নেই, আমার মাথায় শুধু মুগ্ধের স্মৃতি!!

আচ্ছা যারা ভালোবাসার মানুষ কে পায় না তাদের সবার হয়ত এ দিনটার প্রতি কোন ভালো লাগা কাজ করে না।।

সব মেয়েদের কত স্বপ্ন থাকে এ দিনটাকে ঘিরে,, সারাজীবন বিয়ের মুহুর্ত গুলাকে বুকে আগলে রাখে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আজকে আমার জীবনের শেষ দিন।

মরণ পথের যাত্রির কাছে আজরাইল রুহ নিতে আসলে যেমন লাগে ,, আমার কাছে ঠিক তেমন টাই লাগছে।।

শশী আমাকে টেনে আড়াল করে বলে যার জন্য সব ছাড়লি সে তো মাঝপথে তোরে রেখে পালিয়ে গেছে। আর কাঁদিস না। যে তোর জীবনে আসছে তার কথা ভাব।

এত সহজ জীবন!!

মেঘলা আপু এত কাঁদলে সাজাবো কিভাবে বলতো। তোমাকে এমন ভাবে সাজাবো না রাশেদ ভাইয়া চোখের পলক ফেলতে পারবেনা!!

মা এসে বলছে, এই তোরা মেঘলা কে তারাতাড়ি সাজা রাশেদ চলে এসেছে,, এ কথা টা শুনার পর আমার ভিতর টা ধুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল।

মোবাইল টা হাতে রেখেছি যদি মুগ্ধ কল দেয়,আচ্ছা ওর কোন বিপদ আপদ হল নাতো,, হলে কারো মাধ্যমে আমাকে জানাতে পারত কিছু মাথায় ডুকছে না।

এর মাঝে হুজুর চলে চলে আসছে বিয়ে পড়াতে, কবুল বলছি আর যেন নিজেকে বলি দিচ্ছি!!

মা বাবা থেকে বিদায় নিচ্ছি। কেন এত কষ্ট হয় আপন মানুষদের ছেড়ে যেতে। কেন এই নিয়ম মেয়েদের জন্য….
.
.
আমার বর কে আমি এখনো দেখিনি!! ভাবীরা আমাকে উনার রুমে বসিয়ে গেছে।। চোখের পানি শুকাচ্ছে না কোথা থেকে যে এত পানি আসে!! কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতে পারিনি।। ঘুম ভাঙলো দরজা নক করার আওয়াজে, কে জানি জিজ্ঞাস করছে

– আমি কি আসব??
– মনে মনে বলছি যত নেকা নিজের রুমে আসতে কত ডং।। জি আসতে পারেন।

রুমে ডুকে,,
——আসসালামুঅালাইকুম, ভালো আছেন আপনি?

——আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম।

আমার জানা নেই কারো নতুন বর ডুকে এভাবে সালাম দেয়।। উনি আমার যত কাছে আসছে আমার ভয় তত বাড়ছে, কাছে এসে হাত বাড়িয়ে বলছে, কাপড় টা নিন ফ্রেশ হয়ে আসুন এত ভারি কাপড়ে আপনার অনেক কষ্ট হচ্ছে।।

আমি আর দেরী না করে উনার সামনে থেকে চলে যাওয়ার জন্য ওয়াশরুমে ডুকে গেলাম। ইচ্ছা মত ঝর্ণা ছেড়ে গোসল করলাম চোখের পানি ঝরনার পানি এক হয়ে যাচ্ছে।।

আচ্ছা যে বাহিরে বসে আছে সে কি বুঝবে আমার মনের ভিতর কি চলছে নাকি সে স্বামীত্ব খাটাতে চাইবে। আমি তো মুগ্ধ কে ছাড়া এ জায়গায় আর কাউকে ভাবিনি।। ওয়াশরুমে বের হতে ইচ্ছে করছে না আমার।

উনি বাহির থেকে নক করছেন,আপনি একটু তাড়াতাড়ি বের হন আমার কাজ আছে আপনার সাথে।। এ কথা শুনে আমি আর আমার মাঝে নেই এত রাতে কিসের কাজের কথা বলছেন উনি। যে ভয়ে আছি সেটাই হবে নাতো!

না না আমি কিছুতেই কাছে আসতে দিব না….

…..চলবে

(কাজী সারা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here