নিরব সে,১৮শ পর্ব,১৯

নিরব সে,১৮শ পর্ব,১৯
সাদিয়া_সৃষ্টি
১৮শ পর্ব

বাসায় ফিরে ওয়াফিফ নিজের ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দেয়। একটু বেশি জোরেই। কিছুক্ষণ সেদিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। আজ পর্যন্ত যতবার সে দরজা লাগিয়েছে ততবার কোন শব্দ শুনতে পায় নি সে। আর আজ এই শব্দ কি করে হল? এপ্রোন টা কোন মতে খুলে বিছানায় ছুঁড়ে মারল। চশমাটাও ছুঁড়ে মারল। তবে বিছানায় পড়ায় কিছু হল না সেটার। সে কিছুক্ষণ ভাবল তার অনুভূতি যদি হয়ে থাকে রাগের, তাহলে তার কি করা উচিত? রাগ হলে মানুষ কি কি করতে পারে? আর তার এখন কি করলে রাগ কমতে পারে। নিজের ক্যারিয়ারে মানুষদের কি কি করতে দেখেছে বা শুনেছে সেগুলো একে একে মনে করার চেষ্টা করল। মনেও পড়ল বেশ কিছু। একে একে সব গুলোর সাথে নিজের চরিত্র মিলিয়ে দেখল তার সাথে কোনটা যায়। কিন্তু কিছু খুঁজে পেল না। তার এমন কিছু কাজ লাগবে যেটা করলে অন্য কেউ বুঝতে পারবে না যে সে রেগে আছে। কিন্তু তার মাথায় প্রথম যেই আইডিয়া এলো সেটা হল জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলা, ভাংচুর করা। কিংবা যার উপর রেগে আছেন তাকে মারা। এমন আক্রমণাত্মক ইচ্ছা মাথায় আসায় সাথে সাথে ঝেড়ে ফেলল সে। নিজে ডাক্তার হয়ে কি না অন্যের হাড় জোড়া লাগানোর বদলে ভাঙার চিন্তা করছে। কবে সে ডাক্তার থেকে কসাই এ পরিণত হল। তবে শেষ কাজটা করতে তার ভীষণ ভাবে মন চাইল। যার উপর রাগ তাকে মারা। ওয়াফিফ নিজের মস্তিষ্ক কে আরেকটু খাটিয়ে বের করল যে সে কার উপর রেগে আছে। সাথে সাথে দুটো নাম মাথায় এলো। আরেক্তু ভাবতেই সেটা ২ থেকে ৩ হয়ে গেল। এক ছবি, দুই জিনিয়া আর ৩ জাবির। অবশ্য ৩ নাম্বারে বললেও জাবিরের উপর রাগ সবচেয়ে বেশি। ছবির দোষ সে কেন ওয়াফিফের সামনে এলো। আবার পুরনো অনুভূতি জাগিয়ে নিজে আবার ফিরে গেল। স্বল্প সময়ের দেখা হলেও খুব কষ্টদায়ক ছিল ওয়াফিফের জন্য। কমপক্ষে হলেও ৬ বছরের ভালোবাসা, অবশ্য সেই ৬ বছরের পর যে তার প্রতি অনুভূতি চলে গিয়েছে এমনটাও নয়। আজও নিজে থেকেই তার প্রতি এক অজানা মায়াজালে নিজেকে আটকে রেখেছে সে। বের হতে পারবে সেখান থেকে । কিন্তু নিজেই চাইছে না। আর সবচেয়ে বড় বাঁধা এখানেই।

মানুষ যতক্ষণ নিজ থেকে কিছু না চায় ততক্ষণ কোন কিছুই সম্ভব না। সবাই সব কাজ করার আগে নিজে কিছু সময়ের জন্য হলেও চিন্তা করে, কাজটি করবে না কি করবে না। যেমন , মানুষ একটা মজার কৌতুক শুনল। তারপর সে কিছু সময়ের জন্য হলেও ভাবে যে হাসবে কি হাসবে না। হোক সেটা ১ সেকেন্ডেরও কম সময়। কিন্তু মানুষ ভাবে। যখন মন আর মস্তিষ্ক হ্যাঁ বলে তখনই মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। বেশিরভাগ মানুষ এই চিন্তা ভাবনায় কম সময় নেয়। তাই তারা হয়তো এর টেরও পায় না। কিন্তু কিছু মানুষ বেশি সময় নেয়। আর তারা খুব ভালোই বুঝতে পারে।

যেখানে মানুষ ছোট কাজ করতেই ভাবে, সেখানে ওয়াফিফ নিজ থেকে চাইছে না একটা মায়াজাল থেকে বের হতে। তাকে জোর করেও বের করা সম্ভব না সেখান থেকে , যতক্ষণ না তার চিন্তার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।

ছবিতা ওয়াফিফের প্রাক্তন বলা চলে। তবে ওয়াফিফ আজও তার প্রতি অনুভূতি রাখে। যেখানে ওয়াফিফ নিজে অন্যকে অনেক কিছু বোঝায়, সেখানে আজ পর্যন্ত নিজেকে বোঝাতে পারে নি তার সাথে এখন আর কোন সম্পর্ক নেই। ছবিতার ছেলের এক অসুখের কারণে সে ওয়াফিফের সাথে যোগাযোগ করে। প্রায় ৫ বছর পর নিজ থেকে কল করেছিল সে। আর ওয়াফিফ নিজের আবেগে ভেসে গিয়ে তার সাহায্য করার জন্য এই হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছে। প্রতিটা মুহূর্তে ছবি আর তার বরকে একসাথে দেখে কষ্ট পেয়েছে। তবু নিজেকে ঠিক করে রেখেছিল। ছোট বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে। একেবারে প্রবাসী এক ভালো ডাক্তারের খোঁজ পেয়ে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিল আজ। আর আজ থেকে সে আর ছবিকে দেখতে পাবে না। সে আবার চলে গিয়েছে।

এটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছিল না তার। কিন্তু তারপর জিনিয়া আর জাবিরকে একসাথে দেখে সেই অনুভূতি যেন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। মাথায় চড়ে বসেছে এক আকাশ সমান রাগ। ছবি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এখন জিনিয়াও চলে যাবে এটা সে মেনে নিতে পারছে না।

মানুষ সাধারণত সত্যের থেকে নিজের চোখকে বেশি বিশ্বাস করে। তাই এক দেখায় নানা কথা নিজের মনে ভেবে বসে। যদি দেখা না হয় তবুও শুধু তার নাম শুনেই তার সম্পর্কে কল্পনার পাহাড় গড়ে তোলে। তার বিপরীত ঘটে নি ওয়াফিফের ক্ষেত্রেও। ওয়াফিফ যতই বুঝদার মানুষ হোক। যখন নিজের মধ্যে দুঃখ কষ্ট এমন অনুভূতি চলছে তখন অন্তত পজিটিভ কোন কথা ভাবা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন। তাই সে প্রথম দেখায় ভেবে ফেলেছে জিনিয়া তাকে ছেড়ে চলে যাবে এবার। এরপর মনে পড়ল আগের কয়েকদিনের কথা। তার সাথে জিনিয়ার ঠিক মতো কথা হয় নি। সে এটাকে ভেবে নিল জিনিয়া ওকে ইগনোর করেছে। কারণ জিনিয়া এই কয়দিন জাবিরের সাথে ছিল। কিন্তু সে নিজে কথা বলার চেষ্টা করে ই এই কথা ভেবেও দেখছে না। কারণ সে নিজে রোজ কারো না কারো কাছ থেকে জিনিয়া ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করে কিনা, ওষুধ খায় কি না সেসব জেনে নিত। আর জিনিয়াকে ঘুমাতে দিত। এর মধ্যে জিনিয়া যে নিরব থাকার মতো মানুষ সেটা তার মাথায় আসলো না। নিজেকে এক ভাবে ফেলে রেখে অন্যকে দোষ দিতে শুরু করল যেন।

আর ভাবতে ইচ্ছা করছে না বলে সে দরজায় হেলান দিয়ে ফ্লোরেই বসে পড়ল। আর নিজের দুই হাত দিয়ে চুল চেপে ধরল। টানল কয়েকবার। তবে ছিঁড়ল না একটাও চুল। ব্যথা পেয়েছে অবশ্য। সে কেন এত রেগে যাচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছে না। এতো টা কষ্ট সে তখনও পায় নি যখন ছবি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। রাগ কীজন্য? জিনিয়া তাকে ছেড়ে চলে যাবে এজন্য না কি জিনিয়াকে ছাড়া সে থাকতে পারবে না এজন্য। এসব সমীকরণ মিলাতে না পেরে সে বিছানায় ওভাবেই শুয়ে পড়ল। ভেবেও যখন কোন লাভ হচ্ছে না তাহলে এতো কষ্ট করে না ভেবে ঘুমানো ভালো। এই চিন্তা করেই সে শুয়ে পড়ল। আর এর থেকে কিছু সময় অতিবাহিত হতে না হতেই ঘুমিয়ে পড়ল।


জিনিয়া বাড়ি ফিরে নিজের রুমের সামনে এসে অবাক হয়ে গেল। এই ভর দুপুরে তার ঘরের দরজা আটকে রাখা কেন। নক করতে যাবে কিন্তু তার আগেই হাতের সাথে লেগে খুলে গেল। সে ভিতরে ঢুকতেই প্রথমে তার চোখ পড়ল বিছানায় থাকা ওয়াফিফের দিকে। প্রতিবারের মতো এক হাত কপালে রেখে নিজের চোখ ঢেকে রেখেছে । আর এক হাত বুকের উপর রাখা। ওয়াফিফকে দেখে তার মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠল। আজকাল সে ওয়াফিফকে দেখলে হাসে। খুব ভালো লাগে ওয়াফিফকে। আজ যখন সে জাবিরকে না বলল তখন তার আগের মতো অতো কষ্টও হয় নি। নিজেকে সামলে নেওয়ার যোগ্যতা ছিল তার। আগের জিনিয়া হলে ঠিকই কান্না করত। কিন্তু এবার সে করে নি। তবে যতটুকু কান্নার ইচ্ছা জেগেছিল সেটাও ওয়াফিফের বুকে মাথা রেখে। এই মানুষটার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সে। আর এই নির্ভরতাও ভালো লাগে তার। ওয়াফিফের জন্য অপেক্ষা করা রোজকার রুটিনে পরিণত হয়েছে। ওয়াফিফকে দেখলেই তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছা করে। তবুও নিজেকে দমিয়ে রাখে। এটা করার অধিকার আজও ওয়াফিফ তাকে দেয় নি। না প্রকাশ করেছে কোন ভাবে। আর না একবারও বলেছে। তাই সে নিজের সীমার মধ্যেই থাকার চেষ্টা করে।

জিনিয়া এসব ভাবনায় হারিয়ে গিয়েছিল প্রায়, কিন্তু তখন নজর পড়ল ওয়াফিফের পায়ের দিকে। বেশ কয়েক বার হোঁচট খাওয়ার ফলে কিছু কিছু জায়গায় পাথরে বা অন্য কিছুতে কেটে আর ছিলে গিয়েছে। জিনিয়া সাথে সাথে ফার্স্ট এইড বক্স এনে ক্ষত পরিষ্কার করে ধীরে ধীরে ফুঁ দিতে দিতে ওষুধ লাগিয়ে দিতে থাকল যাতে ওয়াফিফ ব্যথা না পায়। এতো সাবধানে ওষুধ লাগাচ্ছিল যেন ওয়াফিফের পা ওর হাতের সাথে লাগলেও আবার কেটে যাবে বা ওয়াফিফ অনেক ব্যথা পাবে। ওয়াফিফের পায়ের অবস্থা এমন কেন হয়েছে সেটার থেকে বেশি জিনিয়ার এই নিয়ে চিন্তা হচ্ছে যে এটা ঠিক হতে বেশি সময় লাগলে ওয়াফিফের কষ্ট হবে । তারপর নিজে ওয়াফিফের পাশে বসে থাকল চেয়ার নিয়ে। একবার মিনা ডাকতে এসেছিল। কিন্তু সে বেশি শব্দ করতে না বলে পাঠিয়ে দিয়েছে। ওয়াফিফ তখনও গভীর ঘুমে। গত কয়েকদিন ঠিক মতো ঘুম হয় নি বলে আজ যেন আর উঠার নাম নিচ্ছে না সে। জিনিয়ার তার দিকে তাকিয়ে থেকেই সময় কাটিয়ে দিল। পুরোটা সময় অন্যকেউ জিনিয়াকে দেখলে এটাই ভাববে যে জিনিয়া ওয়াফিফকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


এর পরের কিছু দিন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ওয়াফিফের আচরণ এ কোন পরিবর্তন নেই। সে সবার সাথে আগের মতই হাসিমুখে কথা বলে। তার হাসপাতালে আর কাজের চাপ নেই। আগেও ছিল না। শুধু ছবির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এখন ছবিও নেই, চাপও নেই। সে রাতে আগের মতো ঠিক সময়ে বাড়ি ফিরে আসে, সবার সাথে খাওয়া দাওয়া করে। গল্প করে। আর সময় হলে ঘুমাতে যায়। দুপুরেও বাড়ি এসেই খাওয়া দাওয়া করে। সব স্বাভাবিক। কিন্তু এর মধ্যেই অস্বাভাবিকতা রয়েছে। ওয়াফিফ জিনিয়ার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছে। আগে যেমন অন্যদের থেকে জিনিয়ার খোঁজ খবর নিত, এখন আর নেয় না। কোন কথা বলে না। আগে ব্যস্তয়ার জন্য বলত না আর এখন নিজ থেকেই বলে না। স্বেচ্ছায়। জিনিয়ার চেক আপ করাতেও নিয়ে যায় নি। এক ঘরে থাকা স্বত্ত্বেও কথা বলে না। দুই জনই এক ঘরে থাকে কিন্তু যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ শান্ত থাকে সব। যেন শীতের বাতাস প্রবাহিত হয় সেখানে। নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দ ছাড়া আর যে একটা শব্দ শোনা যায় সেটা হল ঘড়ির টিকটিক শব্দ। জিনিয়া এবার ভাবতে শুরু করেছে এসব নিয়ে। তার নিজের মনে এক আলাদা আশংকা হানা দিয়েছে। ওয়াফিফ তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে এমনটা মনে হচ্ছে তার। তবে এটা কি তার নিছক কল্পনা বৈ কিছু না সেটাও জানে না। তাই কথা বলাই ঠিক মনে করল সে। নিজের চেক আপের জন্য কয়েকবার যাওয়া হয় নি। তাই সেই বাহানা দিয়েই কথা বলা শুরু করবে ভেবে নিল জিনিয়া।

পরের দিন ছুটির দিন হওয়ায় ওয়াফিফ বাড়িতেই আছে। অনেক দিন পর সে ছুটি কাটাচ্ছে। ঘুমিয়েই সারাদিন পার করার ইচ্ছা আছে তার। তবুও ঘুম ভেঙে গেল ওয়াফিফের। আজকাল সে খেয়াল করেছে, জিনিয়াকে আর ডেকে দেওয়া লাগে না। বরং জিনিয়া তার আগেই উঠে। ওয়াফিফের এতো বছরের অভ্যাস কি করে জিনিয়া রেকর্ড ভেঙে ফেলল সেটাই চিন্তার বিষয়। যদি টানা ৬ বছর ধরে হওয়া ক্লাসে ফার্স্ট বয় হঠাৎ করে সেকেন্ড হয়ে যায় তাহলে যেমন লাগে, তেমনটাই লাগছে ওয়াফিফের। সারাদি ঘুমানোর প্ল্যান ও ভেস্তে গেল এতদিনের অভ্যাসে, এখন ঘুম আসতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে । তার আর না ঘুমিয়ে উঠে গেল। এর বদলে আফরানের ছেলে আসফির সাথে খেলবে। এটাই ভেবে উঠতে গেল। কিন্তু তার আগে নিজের পায়ের দিকে নজর পড়ল বিছানা থেকে নামার সময়। নিজের পা দেখে সে একবারে বলতে পারবে তার পায়ে গতকাল কিছু হয়েছে আর তার পায়ে ওষুধ ও লাগানো হয়েছে। সে ভাবল হয়তো তার মা ই করেছে। তাই আর বেশি ভাবল না। ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বের হল। আর মায়ের সাথে দেখা হতেই থ্যাংক ইউ বলল। কেন বলল সেটা আফিয়া রহমান বুঝতে পারলেন না। কিন্তু তিনি সুফিয়াকে কি কি রান্না করতে হবে সেটা বলতে জাচ্ছিলেন। তাই বেশি ভাবলেন না।

জিনিয়া সারা সকাল ওয়াফিফের আশেপাশে ঘুর ঘুর করেছে। এই আশায় যে ওয়াফিফ তাকে দেখে কিছু জিজ্ঞেস করবে। কিন্তু কিছুই বলে নি ওয়াফিফ। বরং এমন ভান করেছে যেন তার আশেপাশে কেউ নেই। তাই দুপুরে ঘরে ওয়াফিফ ঢুকতেই জিনিয়াও পিছন থেকে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। ওয়াফিফ চমকে গিয়ে বলে উঠল,

–কি হয়েছে? দরজা বন্ধ করলে কেন?

–আপনার কি হয়েছে বলবেন? এই কয় দিন ধরে আপনি এমন কেন করছেন, ডাক্তার সাহেব?

চলবে।

”নিরব সে”
#সাদিয়া_সৃষ্টি
১৯শ পর্ব

–আপনার কি হয়েছে বলবেন? এই কয় দিন ধরে আপনি এমন কেন করছেন, ডাক্তার সাহেব?

–কোথায় ? কি করছি আমি? কিছুই তো করছি না। তুমি কি বলতে চাইছ?

–আপনি কি কোন কারণে আমার উপর রেগে আছেন?

এর থেকে আর বেশি বলতে পারল না। ও নিজের সীমার থেকেও অনেক বেশি বলে ফেলেছে। নিজের সামর্থ্যের থেকে অনেকটাই বেশি। তাই নিজেই চুপ করে থাকল। আর পরে কিছু বলার জন্য নিজেকে তৈরি করতে থাকল। অন্যদিকে ওয়াফিফ জিনিয়ার কাছ থেকে ”রেগে আছেন” শোনার সাথে সাথে সেদিনের কথা মনে পড়ল। জিনিয়ার সাথে জাবিরের মুখোমুখি বসে থাকার দৃশ্য মাথায় আসতেই আগের রাগটা মাথায় চড়ে বসল। তার জিনিয়ার থেকে বেশি রাগ জাবিরের উপর হচ্ছে। কিন্তু জাবির তো আর সামনে নেই এ তাকে রাগ দেখাবে। তাই জিনিয়া সামনে থাকায় তার উপর রাগ দেখানোই ঠিক বলে মনে হল। এখন তার মাথায় আর অন্য কোন চিন্তা আসলো না, জিনিয়া তার কথা শুনে কি মনে করবে এই কথার চেয়ে তার মধ্যে এই কথা বেশি কাজ করছে যে সে কার উপর নিজের রাগ ঝাড়বে। সামনে জিনিয়া থাকায় জিনিয়ার উপর ই রাগ দেখাতে চাইল। কিন্তু ওয়াফিফ তখনকার রাগ থেকে শুরু না করে শুরু করলে একেবারে প্রথম থেকে।

–ছবিতা, ওকে আমি ছবি বলেই ডাকি। ও আমার ব্যাচের ই ছিল। বলা যায় আমার ১ম ক্রাশ ছিল। ওকে আমি প্রথম দেখেছিলাম আমাদের কলেজে। ওকে দেখার পর পরই আমার মধ্যে এক অন্য অনুভূতির জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। না চাইতেও ওকে অনেকটাই পছন্দ করে ফেলেছিলাম। অবশ্য তখন কোন বাধাও ছিল না। জীবনে প্রথমবার এমন অনুভূতির সম্মুখীন হওয়ায় কি করা ঠিক আর কি করা ভুল জানতাম না। তাই ওর সম্পর্কে খোঁজ নিতে লাগলাম। আগে আমি একদম এমন ছিলাম না। কিছুটা অন্যরকম ছিলাম। পড়াশোনায় কোনোরকম। ঠিকঠাক বলা যায়। আমার বাবা মা এই নিয়ে কোনোদিন চাপ ও দেন নি। বন্ধু বান্ধবে মেতে থাকতাম। ছবি আমার জীবনে আসে ১৩ বছর আগে। প্রথম দেখায় ভালো লাগার অনুভূতি। বয়সটাও তেমনই ছিল। দেখলাম ও পড়ালেখায় খুব ভালো। তাই ওর সাথে কথা বলা যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য ঠিক মতো পড়াশোনা করলাম। এইচএসসি তে ভালো ফলাফল করলাম। এমনকি ওর সাথে যেন প্রতিদিন দেখা হয় সেজন্য মেডিকেলেও পরীক্ষা দিলাম। দিন রাত পরিশ্রম করলাম। শুধু ওকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি করার জন্য। কোন দিন অন্য কোন মেয়ে নিয়ে ভাবি নি। ওকে ছাড়া সবাইকে বোন হিসেবে নিয়েছিলাম। কলেজ বাঙ্ক করা ছেলে হয়ে গেল নিয়মিত ছাত্র। বন্ধুদের কাছে অনেক কথা শুনেছিলাম। আমার ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু মেডিকেলে চান্স পেলাম। প্রথম প্রফ খুব ভালো মতই কেটে গেল। অনেক অবহেলায়। ওর সাথে একই ক্লাসে থাকার খুশিতে সারাদিন মন ওর দিকেই থাকত। চোখ দুটোও বেহায়ার মতো ওর চেহারায় আটকে থাকত। নিজের লাভ এট ফার্স্ট সাইট কে সারাদিন ভাবতাম। এটা করতে গিয়ে ছোট খাটো পরীক্ষা গুলো চালিয়ে দিলেও টার্ম এক্সাম খারাপ হয়ে গেল। ওই রেজাল্টের পর ওর সাথে দেখা করার বা কথা বলার সাহস পেলাম না। প্রফ এক্সাম ও তেমন ঠিক হল না। দেড় বছর এভাবেই গেল। এর পরের সেকেন্ড আর থার্ড প্রফ এক্সামের জন্য অনেক পড়াশোনা করলাম। যেহেতু ও ক্লাসের প্রথম ছাত্রী ছিল তাই নিজের লেভেল মিলালাম। তারপর সাহস নিয়ে ওর সাথে কথা বলতে গেলাম। কথাটা খুব ছোট ছিল। পড়াশোনা নিয়েই। কিন্তু আমার ওর সাথে প্রথম কথা ছিল এটা, সামনাসামনি। পরের দেড় বছরে আমরা বেশ কাছাকাছি এসেছিলাম। বন্ধুত্ব হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু ২ জনের কাজে কর্মে প্রকাশ পেয়েছে বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু। আমি সিউর, ও আমাকে শুধু বন্ধু হিসেবে ভাবত না। যতক্ষণ মেডিকেলে থাকতাম, একসাথেই থাকতাম, পাশাপাশি বসতাম, ঘোরাঘুরিও চলত। আর যখন মেডিকেলের বাইরে বা বাসায় থাকতাম, ফোনে কথা হত, ম্যাসেজে। আমাদের বেশির ভাগ কথা পড়া সম্পর্কে হলেও ওর মাঝে যে দুটো কথা হত, সেটার স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতাম। গ্যালারিতে আলাদা একটা ফোল্ডার ছিল এর। কিন্তু বলা হয় নি মনের কথা। একটাই বাঁধা ছিল। বললে ও অদি বন্ধুত্ব ভেঙে দেয়। ও যদি সত্যিই আমাকে নিয়ে অমন অনুভব না করে যেমন টা আমি ভাবি। তাহলে কি মেনে নিতে পারতাম আমি? হয়তো পারতাম না। তাই আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার কথা ভাবি। অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকটা সময় কেটে যায়। এক সময় ভেবেছিলাম, একেবারে নিজে জব পেয়ে ওকে বলব আমার মনের কথা। একসাথে এসিস্ট্যান্ট ডক্টর হিসেবে একই হাসপাতালে ট্রেইনিং নিয়েছিলাম। শেষে আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে ও আমাকে ঠিক ততটাই পছন্দ করে। কিন্তু হঠাৎ করে এক দিন থেকে তার সাথে আমার সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওকে ফোনে কল করে পাইনি। ওকে ম্যাসেজ করে পাই নি। এমন কি ওর সাথে হাস্পাতালেও দেখা হয় নি। কয়েকদিন চলে গেলে অন্যদের সাথে কথা বলি আর জানতে পারি ওর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর ওর এই বিয়ে না কি অনেক আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তখন মনে প্রশ্ন আসে, তাহলে এতো দিন কি ছিল? ওই যে বৃষ্টিতে একসাথে ভেজা কিংবা ফাঁকা রাস্তায় হাত ধরে হাঁটা, ওর দৃষ্টি, আড়চোখ সব কি মিথ্যা ছিল? না কি ও কোন দিন আমাকে বন্ধু ছাড়া কিছুই ভাবে নি। ওর কোথায় যে আমি অধিকার বোধ খুঁজে পেয়েছিলাম সেটাও কি শুধু বন্ধুত্বের ই ছিল। কোন প্রশ্নের উত্তর পাই নি। ছবির বিয়ে হয়ে গেলে তার দুই দিনের মধ্যে ও বিদেশে চলে যায়, তাই আর যোগাযোগ করা হয় নি। কিন্তু আবার হঠাৎ করে কিছুদিন আগে এলো ওর ছেলে অসুস্থ তাই। আমিও ওকে সাহায্য করলাম। কেন করলাম জানি না। ও চেয়েছিল একটা ভালো ডাক্তারের খোঁজে , সেই খোঁজ দ্রুত পেতে সাহায্য করলাম ওকে। যেহেতু আমার সাথে অন্যান্য ডাক্তারের যোগাযোগ বেশি রয়েছে। ও নতুন ঠিকানা পেল আর নিজের স্বামীর সাথে চলে গেল। ওকে সামনে পেয়েও কখনো মনে জমে থাকা প্রশ্নের উত্তর খুজি নি। ওর কাছে উত্তর চাই নি। ও আমকে একা করে চলে গেল। আমিও একা রইলাম। ডক্টর হিসেবে চাকরি পেয়েও অনেকটা সময় এসব ছেড়ে বেকার হয়ে বসে ছিলাম ঘরে। কিন্তু পরে যখন ঘর থেকে বের হয়ে বাইরের পরিবেশ দেখলাম, শুনলাম অন্যদের কথা বলা তখন আর না পেরে কাজে যোগ দিলাম। তারপর আমার হাসপাতালের কাজ আর আমার পরিবার সাথে ছবির স্মৃতি। টানা ৩ বছর ধরে জোর করার পর আমাকে সিরিয়ালের মতো ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে দিয়ে দিল। ওরা কেউ জানে না ছবির কথা। এজন্য মনে অনেক রাগ পুষে রেখেছিলাম। কিন্তু এরপর তুমিও আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছ? যাও, যাও চলে যাও। আমার কাউকে লাগবে না। আমি একাই ছিলাম, একাই থাকব। কয়েক দিন ধরে নিজেই আমাকে ইগনোর করলে, এখন তো আমি জানি কেন তুমি ইগনোর করেছ? আমাকে ছেড়ে চলে যাবে তো? যাও।

ওয়াফিফের কথা শুরু থেকেই মন দিয়ে শুনছিল জিনিয়া। ওয়াফিফ যে আগেও কাউকে ভালবাসত এটা শোনার পর থেকেই ওর নিজের খারাপ লাগছে। তাও শুনেছে। যখন কোন ”ছবি” নামের মেয়ের প্রতি ওয়াফিফ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিল তখন জিনিয়া সেটা শুনতে শুনতে নিজের এক হাত দিয়ে অপর হাত খামচে ধরছিল। আর বার বার এমন করায় দাগও বসে গিয়েছে। লাগ হয়ে গিয়েছে জায়গাটা। যেন এখনই রক্ত বের হয়ে আসবে। তবুও সে চুপচাপ বসে ছিল। শুনছিল ওয়াফিফের কথা। নিজের মধ্যে ‘জেলাসি’ নামক অনুভূতি উদয় স্পষ্ট টের পেয়েছে সে। কিন্তু শেষে যখন নিজের কথা শুনল তখন সে চমকে উঠল। ওয়াফিফ এমন করে কেন বলছে যে সে জাবিরের সাথে চলে যাবে। তাই প্রশ্ন করে বসল,

–আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? আমি আপনাকে ছেড়ে চলে যাব কেন?

–থাক, লুকাতে হবে না, আমি জানি, তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইছ।

–কেন এমন ভাবছেন আমি?

–তুমি আমাকে না বলে জাবিরের সাথে দেখা করতে গিয়েছ এটা কি যথেষ্ট না তোমার প্রশ্নের উত্তর হিসেবে?

–কিন্তু আমি তো…

–থাক, আমাকে কিছু বলা লাগবে না, আমি জানি আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে। জাবির নিজেই তো কিছুদিন আগে আমাকে বলল ও তোমাকে আমার থেকে নিয়ে যাবে। আর তুমিও না কি ওকে না করতে পারবে না। তাই না, ওর কলের মানে আমি এখন বুঝতে পারি। খুব ভালোভাবে। তুমি থাক তোমার জাবিরকে নিয়ে। আমি বাঁধা দিব না। যাতে আমাদের মধ্যে কেউ কোন প্রকার মায়ায় না জড়ায় সেজন্যই আমি দূরে দূরে থাকছি। জতদিন না জাবির এসে নিয়ে যায় তত দিন আমি তোমাকে এখানে থাকতে না করব না। বাকিটা তোমার ইচ্ছা।

বলেই জিনিয়াকে পাশ কাটিয়ে ঘরের দরজা খুলে ঘর থেকে চলে গেল ওয়াফিফ। জিনিয়া অনেকটা সময় নিল নিজেকে ঠিক করতে। জিনিয়া নিজে ঠিক করতে আসলো আর কি থেকে কি হয়ে গেল। জিনিয়া যখন ওয়াফিফের সাথে কথা বলতে এসেছিল তখন ও ভাবেও নি ওয়াফিফ এমনটা চিন্তা করছে। ও ভেবেছিল হয়তো এতদিনের ব্যস্ততায় ও কথা বলতে পারছে না। সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ সে প্রশ্নটাও এভাবে করতে চায় নি। কিন্তু মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল। আর তার উত্তর এমনটা পেয়ে সে অনেকটাই হকচকিয়ে ই গিয়েছে। তাই অনেকটা সময় লাগল তার সবটা বুঝতে। আর বুঝতে পেরে ঘর থেকে বের হল ওয়াফিফের খোঁজে। বাইরে বেরিয়ে দেখল আসফির সাথেই আছে ওয়াফিফ। সে গিয়ে কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুক্ষন আগের ওয়াফিফের রাগে রকথা চিন্তা করে পিছিয়ে গেল। কথা বলার শক্তি পেল না। সব কথা যেন গলা পর্যন্ত এসেই গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সে নিজেও অবাক কিন্তু করার কিছুই নেই। তাই সে ওয়াফিফের ঘরে ফেরার অপেক্ষা করল। ওয়াফিফ কে সারাদিনে কয়েকবার বোঝানোর জন্য গিয়েছিল কিন্তু ওয়াফিফ প্রতিবার ভেবেছে যে জিনিয়া তার আর জাবিরের সম্পর্কের কথা বলবে আর এটা নিয়ে ভাবতেই ওয়াফিফের বুকে চিনচিনে ব্যথা ওঠে। তাই জিনিয়ার মুখ থেকে জাবিরের নাম শুনতে চায় না সে। এ জন্যই জিনিয়াকে প্রতিবার ফিরিয়ে দিয়েছে। রাতেও ওয়াফিফ জিনিয়াকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে সোজা বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর ভান করে। জিনিয়া বুঝলেও আর কিছু বলে নি। সে এর মধ্যে অনেকবার নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতো কথা বলার অভ্যাস তার নেই। তাই সব কিছু নিয়তির উপর ছেড়ে গিয়ে সে গেস্ট রুমে চলে গেল ঘুমাতে। এখানে থাকলে তার নানান চিন্তা হবে। আর সেই চিন্তা করার সক্তিও তার মধ্যে নেই। তাই এখান থেকে চলে জাওয়াই ঠিক মনে করল।

জিনিয়া ঘর থেকে চলে যাওয়ার অনেকক্ষণ পরও যখন ঘরে ফিরল না তখন ওয়াফিফ চোখ খুলল। সে বিছানা থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করল, দরজা দিয়ে উঁকি দিল। কিন্তু জিনিয়ার আসার কোন নাম নেই। সব ঘরের লাইট বন্ধ হয়ে গেলে সে নিজে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ল। বুঝতে পারল যে জিনিয়া গেস্ট রুমে গিয়েছে। সেটা ভাবতেই তার রাগ আরও বাড়ল আর এই চিন্তা আরও হল যে সে সত্যিই জাবিরের সাথে চলে যাবে।

অন্যদিকে জিনিয়া অন্য ঘরে গিয়েও ঠিক মতো ঘুমাতে পারল না। ওয়াফিফের চিন্তাই বেশি হচ্ছে। তাছাড়া মানুষটা রোজ পাশে থাকত কিন্তু আজ নেই ভেবেই খারাপ লাগছে তার/ কিছু সময়ের মধ্যে সেও ঘুমিয়ে পড়ল। তবে ওয়াফিফ অনেক রাত পর্যন্ত চোখ খুলে দরজার দিকে তাকিয়ে আবার বন্ধ করে ফেলেছে।


সকালে দেরি করেই ঘুম ভাঙল ওয়াফিফের। সে আশেপাশের খেয়াল না করে নিজের মতো রেডি হয়ে হাসপাতালে চলে গেল। সারাদিন হাসপাতালে বার বার ফোন এর দিকে নজর পড়ছিল তার। কারো কলের অপেক্ষায় আছে সে। কিন্তু মন থেকে এই কথাটা মানতে চাইছে না সে।

রাতে বাড়ি ফিরে সে অবাক হল। রোজ দরজা জিনিয়া খুলে দিত। কিন্তু আজ দিল না। সে নিজের ঘরে গেল ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করল কিন্তু তাও জিনিয়াকে দেখতে পেল না। অনেকক্ষণ বাবার সাথে বসে টিভি ও দেখল কিন্তু তাও জিনিয়া নেই। সে নিজের ঘরে গিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকল এই আশায় যে জিনিয়া ওই ঘরে এক বার হলেও আসবে। কিন্তু মন বলছে অন্য কথা। জিনিয়া চলে গিয়েছে। তাই সে উঠে সরাসরি ফারহান রহমানের রুমে গেল। সেখানে গিয়ে আফিয়া রহমান কে ডাক দিল।

–মা, জিনিয়া কোথায়?

–জিনিয়া তো নিজের বাবার বাড়ি গিয়েছে।

চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here