তোমাকেই_চাই পর্ব_০৪

তোমাকেই_চাই
পর্ব_০৪
#লেখনীতে_জান্নাতুল_মাওয়া_মাহিমুন

শায়ান আড়চোখে সামিরকে ফলো করছিল শায়ানকে সুহানার কাছে না পেয়ে হঠাৎ করে সামির সুহানার হাত ধরে অন্য দিকে টেনে নিয়ে গেলো। এটা দেখে শায়ান রেগে বোম হয়ে ওদের দিকে দৌড়ে গেল। শায়ান গিয়ে যা দেখল তা দেখে ওর রাগ আরও দ্বিগুন বেড়ে গেল এখনই যেন মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে আগুন বের হবে।

সামির সুহানাকে ফুল দেখাচ্ছে, আশ্চর্য ব্যাপার যদি ফুলই দেখাতে হয় তাহলে এভাবে হাত ধরে টান দেয়ার কি আছে মনে চাচ্ছে এখুনি এটাকে মেরে ফেলতে ইচ্ছা হচ্ছে শায়ান এর।

“আরে আরে আরে তুমি এভাবে দৌড়ে আসলা কেন”

“জিজু তো দেখি পুরো হিরোদের মত দৌড়ে আসলো ফিল্মে যেমন হিরোরা দৌড়ে আসে ঠিক তেমনি বাট সেখানে তো হিরোইন কে কোন ভিলেন নিয়ে গেলে এভাবে দৌড়ে আসে। জিজু এভাবে দৌড়ে আসলো কেন তোকে কি কোন ভিলেন নিয়ে যাচ্ছে”

“হাহাহা সামির ভাইয়া তুমি কি বলো তো সব সময় মজা করো”

“মজা না এটাই সত্যি”

“সামির আপনি যান”

“কেনো আপনাদের সাথে থাকলে কি রোমান্সের বারোটা বাজবে”

“এমন কিছুই”

“ওকে করেন বেশি করে রোমান্স আমি চলে যাচ্ছি”

সামির মুখটাকে বানরের মত করে সেখান থেকে চলে গেলো।

“অন্য কেউ তোমার হাত ধরবে কেন”

“অন্য কেউ ধরে নি তো আমার ভাই ধরেছে”

“দেখো রাগ উঠিও না”

“আজব তুমি সবসময় আমার সাথে এমন করো কেন, সামির ভাইয়াকে তুমি দুচোখেই সহ্য করতে পারোনা?”

“হ্যাঁ জানোতো ওকে আমি সহ্য করতে পারিনা তাহলে ওর সাথে মিশো কেন”

“ও আমার ভাই হয় তাই”

“আমার থেকে তোমার কাছে তোমার ভাই বড় হয়ে গেল? তাও তো নিজের ভাই না নিজের ভাই হলে সেটা অন্য ব্যাপার”

“শায়ান তুমি দিনদিন এমন হয়ে যাচ্ছ কেন? তোমাকে অনেক অচেনা লাগে আমার তুমি আগের শায়ান নেই অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছো”

“আরেকটা কথা বলবে না। নাহলে একটা থাপ্পর মারব, চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকো, এখান থেকে কোথাও যাবা না, আমি কল টা শেষ করে আসছি”

“যা বলছি মনে থাকে যেন”

“হুম কিন্তু..”

“কি?”

“আগে আমাকে আদর করো”

” 🌿তোমার পাশে অন্য কেউ তো দূরে থাক, তোমার মুখে অন্য কারোর নাম শুনলেই বুকের ভেতর অবাধ্য ব্যথা অনুভব করি। তোমার প্রতি এমন ভালোবাসা যদি আমার পাগলামো হয়, তাহলে এই পাগলামো নিয়ে সারাজীবন বেচে থাকতে চাই। কারণ আমি শুধু #তোমাকেই_চাই🌿” বলে দু হাতে একসাথে চুমু খেয়ে চলে গেলো।
||
||
||
||
||

এদিকে শায়না সেই কখন থেকে ওয়েট করছে সামিরের জন্য। কখন আসবে আর ওর সাথে কথা বলবে, বেচারী মন খারাপ করে সামিরের জন্য দাঁড়িয়ে আছে।

“কি হলো ম্যাডাম তুমি এখানে মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছো কেন”

“কই নাতো”(শুকনো হাসি দিয়ে)

“তোমাকে দেখে তো তাই মনে হচ্ছে কারো জন্য কি অপেক্ষা করছো, ও বুঝেছি তোমার ভাই আর ভাবির জন্য ওয়েট করছো শোনো ওরা এখন আসবে না রোমান্স করতে করতে পরে আসবে চলো আমরা ঘুরতে থাকি”

“আমার ওই (হাত দিয়ে দেখিয়ে) জায়গাটা খুব ভালো লেগেছে আসেন আমরা ওখান থেকে ঘুরে আসি”

“হুম চলো”

শায়না আর সামির ঘুরছে আর দুজন দুজনের সাথে কথা বলছে। শায়ান সুহানাকে নিয়ে নদীর ধারে চলে গেলো।

“দেখো সুহা আমি একদমই পছন্দ করি না তুমি সামিরের সাথে কথা বলো। প্লিজ তুমি ওর সাথে কোন কথা বলোনা” (কাধে মাথা রেখে)

“তুমি বুঝতে পারছনা কেন ও আমার ভাই হয় ওর সাথে আমি কেন কথা বলবো না”

“আমি মানা করেছি তাই তুই ওর সাথে কথা বলবি না। তোর কি কথা কান দিয়ে ঢুকে না কতবার বলতে হয় এক কথা। আমি চাই না তুই সামিরের সাথে কোন কথা বলিস বুঝতে পেরেছিস” (রেগে গিয়ে)

“আমি কথা বলবো বলবো বলবো”(জেদ করে)

” সুহানা”(ধমক দিয়ে)

“কি ভাবো? ভাবো টা কি তুমি নিজেকে তোমার কথাই সব হবে? আমাদের কথার কোন দাম নেই তোমার কাছে? আমি আমার ভাইয়ের সাথে কোন কথা বলবো না সেটা তুমি আগে আমাকে বল কী দোষ করেছে, সামির ভাইয়া”

“কি দোষ করেনি তুই সেটা বল আমাকে? ও কোন সাহসে তোকে জড়িয়ে ধরে? কোন সাহসে তোর হাত ধরে টেনে অন্য দিকে নিয়ে যায়? আর ওকেই আমি কি বলবো তুই নিজেই তো ভালো না। তোর লজ্জা করে না অন্য ছেলে যখন তোর হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল তুই কেন গেলি ওর সাথে বাঁধা দেসনি কেনো?

“কেন যাব না আমার ভাই আমাকে নিয়ে গেছে”

“চুপপপ ভাই না কি তা আমি খুব ভাল করেই জানি এত ভাই ভাই করবি না”

“আজব”

“তোর সাথে কথা বলাই ভুল একবার বাড়িতে যাই তারপর তোর মজা ভালো করে বোঝাবো”

বেচারা আবির সামির শায়ান শায়না আর সুহানা ওদের কাউকে না পেয়ে একা একা এতিমের মতো ঘুরছে। আবির আনমনে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যাচ্ছিল তখন কোন একটা মেয়ের আওয়াজ শুনতে পেল। মেয়েটি বারবার বলছে আমার এত বড় সর্বনাশ করো না। আমাকে ছেড়ে দাও আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি। দয়া করে তোমরা আমার কোনো ক্ষতি করো না আমাকে ছেড়ে দাও। আবির এটা শুনে দৌড়ে পাহাড়ের ভাঙ্গা খরকুটোর ঘরে চলে গেল। আবির দেখে কিছু ছেলে বললে ভুল হবে অমানুষ, মেয়েটির ওপর নানান ভাবে অত্যাচার করতে থাকে। এটা দেখে আবির তাড়াতাড়ি ছেলেগুলোকে উরাধুরা মারতে থাকে। একসময় ওরা মার খেতে খেতে সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়। আবির মেয়েটিকে নিয়ে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে চলে আসে।

“আপনি ওই ঘরে কি করছিলেন আর ওই ছেলেগুলো কে?”

“পাহাড়ের ওপর অনেকগুলো ফুল গাছ আছে আমি প্রতিদিন সেখান থেকে ফুল তুলে মালা গেঁথে বাজারে বিক্রি করি আজও ফুল তুলতে যাচ্ছিলাম তখন ওই ছেলেগুলো আমাকে নষ্ট করতে চাচ্ছিল (কান্না করতে করতে)

“কান্না কইরেন না আপনার বাসা কোথায় বলেন আমি পৌঁছে দিয়ে আসছি”

“আমি একাই যেতে পারবো আপনি আজ যা করলেন আমার জন্য আমি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব”

“হাহাহা কৃতজ্ঞ থাকতে হবে না প্রতিটা ছেলের এটা কর্তব্য”

“হুম”

“চলেন আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি, আচ্ছা আপনার নাম কি?”

” জী নূর”

“আপনার আর আমার নামের মধ্যে অনেক মিল আছে”

“আপনার নাম কী”

“আবির”

“কই মিল আছে?”

“আমাদের দুজনের নামের লাস্টে র আছে😄 যাই হোক বাদ দেন”

মেয়েটি আর কোন কথা না বলে হাঁটতে থাকে, আবির মেয়েটিকে ওর বাসায় পৌঁছে দিয়ে বাড়ি আসার পথে দেখে শায়ান আর সুহানা কোথা থেকে যেন আসছে। ওদের দেখে মুখটাকে বাচ্চাদের মতো করে নিলো।

“কেমন রোমান্স করলা দুজন মিলে?”

“কিসের রোমান্স?”

“আরে শালাবাবু কত রোমান্স করেছি,,, তুমি তো খুব ছোট মানুষ তোমার এগুলো জানতে হবে না এটা বল তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? সামির শায়না ওরা কোথায়? ”

“জানিনা”

“শায়না কি সামিরের সাথে আছে? সামির কোনভাবে যদি শায়নার ক্ষতি করে তাহলে আমি ওকে জানে মেরে ফেলবো। ওর কত বড় সাহস ও আমার বোনের সাথে ঘুরছে” (মনে মনে)

“আমার ভালো লাগছেনা আমি ঘরে যাব তোমরা কি যাবে”

“শায়না আসুক তারপর”

“তোমরা সবাই কত খারাপ একটা বার চিন্তা করে দেখেছো আমি এখানে একা একা এতিমের মতো ঘুরছি আর তোমরা জোড়া জোড়া ঘুরে বেড়াচ্ছো আমার কি কষ্ট লাগে না?”

“দেখো নাটক করো না এমনিতেই রাগ মাথায় চুপচাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকো”(ধমক দিয়ে)

“জিজু তুমি আমাকে ধমক দিতে পারলা?”

“চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকো”

‘হুম অকে”(ভাব নিয়ে)

শায়ান কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখে সামির শায়নাকে কোলে করে নিয়ে আসছে। এটা দেখে শায়ান বোম হয়ে ওদের দিকে…….

চলবে কী?

কেও গল্প পছন্দ করছে না কেনো? রোমান্টিক কিছু না জানলে কীভাবে লেখবো? তাই কেও বয়ফ্রেন্ড জোগার করে দাও গো🥺 ভালোবাসা অবিরাম💙

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here