তুলি_কোথায়,৩য়_পর্ব

#তুলি_কোথায়,৩য়_পর্ব
#Misk_Al_Maruf

মনে অজস্র সাহস সঞ্চয় করে এবং ভয়কে জয় করে আমি আর দেরী করলাম না বরং দ্রুতপায়ে দৌড় দিয়ে অবয়বটিকে শক্ত করে ধরেই মাটিতে ঝাপিয়ে পরি। হয়তো জ্বীন বাবুজি নিজেও কল্পনা করেনি তার উপর এভাবে কেউ চড়ে বসতে পারে। মুখের ওপর থেকে কাপড়টা যখনি সরাতে যাবো তার আগেই জ্বীনরূপী মানব সত্ত্বাটি হাতে থাকা কোনো এক শক্ত বস্তু দিয়ে আমার মাথায় প্রচন্ড বেগে আঘাত করে। আঘাতের দরুন মুহূর্তেই ব্যাথার যন্ত্রনা সহ্য না করতে পেরে অচেনা সত্ত্বাটিকে ছেড়েই আমি চিৎকার দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে শুয়ে পরলাম। আর এই সুযোগে অবয়বটি আর দেরী করলো না বরং সাথে সাথে আমাকে ছেড়ে দিয়েই দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
শায়িত অবস্থায় এখনো মাথায় হাত দিয়ে অন্ধকারে বসে আছি, পকেট থেকে কোনোরকম মোবাইলটি বের করে টর্চ জ্বালাতেই দেখি পুরো হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে জুবজুব করছে। চিন্তা করলাম এই মুহূর্তে বাড়ির ভিতরে ঢুকলে নিশ্চই সবাই আমাকে সন্দেহের বশে এটা ওটা জিজ্ঞেস করবে। তাই আর একমুহূর্ত দেরী না করে পরিহিত গেঞ্জিটি খুলেই মাথায় পেঁচিয়ে নিলাম। কিন্তু আমার মনের খুঁতখুঁত টা এখনো পুরোপুরি যাচ্ছে না। বারবার নিজে নিজেই ভাবছি,
“ওর আসলে এদিকে কাজটা কি? ও যে জ্বীন নয় সেটা আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি এখন, কিন্তু প্রতিদিন ঘাঁট পাড় পেড়িয়ে বাড়ির পেছনের দিকটাতেই কেনো আসে? এটার কি নির্দিষ্ট কোনো রহস্য আছে?”
এসব ভাবতে ভাবতে যখনি মাটি থেকে উঠতে যাবো তখনি আমার মোবাইলের টর্চের আলোটি চলে যায় পাশেই কিছু নরম মাটির দিকে। আচমকাই নিজের পায়ের দিকে তাকাতেই খেয়াল করি, নাহ এটাতো এই জুতার ছাঁপ নয় তাহলে নিশ্চয়ই এটা ঐ মানব সত্ত্বার জুতার ছাঁপ। কেনো যেনো জুতার ছাঁপটা আমার খুব চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে এই বাড়ির কোনো পুরুষ মানুষেরই জুতার ছাঁপ হবে। কিন্তু কার সেটা আমার এই মুহূর্তে মাথায় খেলছে না। যাক অন্তত একটা ক্লু তো পাওয়া গেলো।
কোনোরকম মাথার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে আমি যখনি সেখান থেকে চলে আসতে যাবো তখনি আবারো গতকালের ন্যায় একটি মেয়েলি কণ্ঠস্বরের আর্তনাদ আমার মধ্য কর্ণে আঘাত করলো। রাতের এই নিস্তব্ধ পরিবেশে আমি অনেকটাই নিশ্চিত হলাম যে আওয়াজটা এই বাড়ির মধ্য থেকেই আসছে এবং বাড়ির ঠিক পেছনের দিকটা থেকেই। কিন্তু আওয়াজের তীব্রতা এতোটাই সূক্ষ্ম যে সেটা কোত্থেকে আসছে তা পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। পূর্বের ন্যায় বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও সেটার কোনো উৎস পেলাম না। তাই অনেকটা নিরূপায় হয়েই সেখান থেকে প্রস্থান করে ঘরের দিকে রওনা দিলাম। তাছাড়া রক্ত ঝরা যেনো কোনো ক্রমেই থামছে না। এভাবে আরো কিছুক্ষণ চলতে থাকলে নিশ্চিত এখানেই হয়তো অজ্ঞান হয়ে পরে থাকতে হবে।

বাড়ির ভিতরে ঢুকে আমি যখন নিজের রুমের দিকে পা বাড়াবো তখনি আমার বাবা মায়ের রুমের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে মনের মধ্যে কিঞ্চিত সন্দেহের জন্ম নেয়। সচরাচর তাদের রুমের দরজা এমনভাবে খোলা থাকে না। আমি সন্দেহের বশে ধীরপায়ে রুমের দিকে এগিয়ে যেতেই হালকা আলোতে দেখতে পাই আমার মা একাই শুয়ে আছে কিন্তু বাবা নেই। এই মধ্যরাতে বাবা দরজা খুলে কোথায় গেলেন সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না পুরোপুরি। হুট করে পেছন থেকে কেউ আমার কাঁধে স্পর্শ করতেই আমি চমকে উঠি। পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখি তিনি হাতমুখ ভেজা অবস্থায় কৌতূহল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। সন্দেহ চোখে আমাকে জিজ্ঞেস করেন,
“কিরে এই রাতের বেলা তুই এখানে কি করিস? আর তোর শরীরের গেঞ্জি মাথায় বেঁধে রাখছিস কেনো?”
অন্ধকারে হয়তো তিনি মাথায় রক্তের অস্তিত্ব বুঝতে পারেননি, আমিও তাকে বুঝতে দিলাম না। ইতঃস্তত ভঙ্গিতে বলি,
“এমনি গরম লাগছিল তাই ঘরের মধ্যে ভালো লাগছিল না, সেকারণেই গেঞ্জি খুলে মাথায় পরেছি। কিন্তু তুমি এতো রাতে কোথায় গেছিলে?”
তিনি নির্লিপ্ত স্বরে বললেন,
“ঐ একটু ওয়াশরুমে গেছিলাম, তাই অজু করেই চলে এসেছি। কিছুক্ষণ পরইতো ফজরের আযান দিবে। তুই এখন এখানে না দাঁড়িয়ে থেকে রুমে যা।”
আমি তার কথায় সায় দিয়ে তৎক্ষনাৎ নিজের রুমে চলে আসি। রুমে এসেই কিছুক্ষণ আগের ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনা মন দিয়ে ভাবছি। আমার মন বলছে দুটো ঘটনাই হয়তো একই সূত্রে গাঁথা। সিদ্ধান্ত নিলাম আগামীকাল ঐ মেয়েলি আর্তনাদের আওয়াজের রহস্য যেভাবেই হোক উদঘাটন করবো।

সকাল হয়েছে…
ঘুম ভাঙ্গলেও কোনোভাবেই যেন বিছানা থেকে উঠতে মন চাইছে না। গতকাল রাতের রক্তক্ষরণে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তবুও কোনোরকম বিছানা থেকে উঠেই যখন ফ্রেশ হয়ে সবার সাথে খাবার টেবিলে উপস্থিত হলাম তখন আমাকে দেখে সকলেই ইতোমধ্যে বুঝে গিয়েছে যে নিশ্চয়ই আমার মাথায় কিছু হয়েছে। আমার মা চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করেন,
“কিরে মাথায় ওটা পেঁচিয়ে রেখেছিস কেনো? আর চোখমুখ এতো লাল দেখাচ্ছে কেনো? তোর মাথায় কি হয়েছে?”
আমি ইতঃস্তত ভঙ্গিতে বলি,
“আরে ঐযে দরজার সাথে লেগে মাথায় একটু আঘাত পেয়েছিলাম আরকি। বাদ দাওতো এসব।”
পাশ থেকে চাচী বললেন,
“বললেই হলো নাকি যে বাদ দিবো? দেখি কেমন আঘাত পেয়েছিস?”
এই বলেই তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠেই আমার কাছে চলে আসলেন।
মাথার ক্ষত দেখে তিনি ভয়ার্ত স্বরে বললেন,
“এতো বিশাল আঘাত পেয়েছে। সামান্য দরজায় বারি খেলেতো এতো বড় ক্ষত হওয়ার কথা না। সত্যি করে বলতো আমাকে কি হয়েছে?”
সবাই অধীর আগ্রহে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আঘাত পাওয়ার সত্যতা জানার জন্য। আমি বাবার দিকে তাকাতেই খেয়াল করি তিনি কেমন যেন অন্য কিছু চিন্তা করছেন। হয়তো গতকাল রাতে মাথায় গেঞ্জি পেঁচানোর সাথে এটাকে মিলানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

খুব যত্ন সহকারে আমার চাচী মাথায় আঘাতের চারপাশের চুল ফেলে দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা সম্বন্ধে তার যে ভালো ধারণা আছে সেটা আমি ছোটবেলা থেকেই জানি। কারণ ছোটবেলায় বাড়ির কোনো বাচ্চারা খেলাধুলা করে আঘাত পেলে আমাদের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না বরং তিনিই খুব যত্ন সহকারে চিকিৎসা করতেন। যার কারণে আমার চাচা ওনাকে একটি ফার্স্ট এইড বক্সও এনে দিয়েছিলেন।

ঘাঁটপাড়ে আমি বসে আছি একা একা, কিছুক্ষণ বাদেই আমার বাবা এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“কিরে তোর শরীরটা এখন কেমন লাগছে?”
আমি যখনি তার কথার উত্তর দিতে যাবে তখনি আমার চোখ যায় বাবার জুতার দিকে। জুতাটি দেখেই আমার মাথায় আঘাতের জায়গায় চিনচিন করে ব্যথা অনুভূত হলো। কিছুটা দূরেই নরম মাটির উপর দিয়ে হেঁটে আসায় তার জুতায় কিছুটা নরম মাটি লেগেছিল। আমি এতকিছু বুঝতে না দিয়ে তাকে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলি,
“হ্যাঁ এখন সুস্থ অনুভব করছি। তুমি কোথায় যাচ্ছো?”
তিনি এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
“তুলি মেয়েটা নিখোঁজ হওয়ার পর দৌড়াদৌড়ির কারণে বাড়িতে তেমন বাজার সদায় করা হয়নি তাই বাজারে যাচ্ছি। তোর কিছু লাগবে নাকি? লাগলে বল!”
আমি সামান্য হেসে বলি,
“না লাগবে না এখন কিছু, তুমি যাও তাহলে।”
আমার কথা শুনে তিনি আর কিছু না বলে চলে যেতেই আমি আর একমুহূর্ত দেরী করলাম না, সাথে সাথেই বাবার হাঁটার জায়গার সূত্র ধরে নরম মাটির খোঁজ শুরু করি।
আমার সমস্ত শরীর প্রচুর কাঁপছে। নরম মাটির উপর স্পষ্টত জুতার ছাঁপ আর তার থেকেও বড় কথা গতকাল রাতে বাড়ির পিছনে আমি যেই পায়ের ছাঁপটি দেখেছি ঠিক হুবুহু সেরকমই পায়ের ছাঁপ এখানেও। তার মানে এসবের পেছনে…
আমি আর একমুহূর্ত ভাবতে পারছি না। এক এক করে যেন সবকিছু খোলাসা হতে শুরু করলো। তাছাড়া কাল রাতে বাড়িতে ঢোকার পর বাবা মায়ের রুমে বাবার অনুপস্থিতিও আমাকে খুব করে ভাবাচ্ছে। কিন্তু আমার মনে এটাই খেলছে না যে এসব করেতো ওনার কোনো লাভ নেই তাহলে সকল রহস্য ওনার উপরে গিয়েই কেনো পরছে?

সন্ধ্যার ঠিক পরপরই মাগরিবের নামাজটা পড়ে বাড়ির পেছনের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম। উদ্দেশ্য একটাই আর তা হলো সেই মেয়েলি আর্তচিৎকার এর উৎস বের করা। এই সময়টিকে বেছে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল যাতে বাড়ির কেউ সন্দেহ করতে না পারে। ধীরপায়ে যখনি ঘাঁট পাড়ের উত্তর দিকটায় চলে আসি তখনি এক অচেনা তরুণকে চুপিচুপি ভাঙ্গা দেওয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকতে দেখে সাথে সাথে নিজেকে আড়াল করে নিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো চোর হবে তবে গেটআপে তা প্রতীয়মান হলো না। ছেলেটি বাড়ির ভিতরে ঢুকেই আমাদের বাংলোর পেছনের দিকের জানালাটায় উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। যেদিকে ও উঁকি দিচ্ছে সেদিকের রুমটাতেই মূলত তুলি আর মিলা রাতে ঘুমায়। আমি ধীরপায়ে বেশ সাবধানতার সাথেই ছেলেটির দিকে এগিয়ে গেলাম। আমি পেছন দিক থেকে আসায় হয়তো ছেলেটি বুঝতে পারেনি যে আমি ওকে নজরদারী করছি।
খপ করে ওর শার্টের কলারটি ধরতেই চমকে উঠলো। আমি রাগান্বিত স্বরে জিজ্ঞেস করি,
“কিরে এইসময় এই বাড়িতে কি করিস? চোরের মতো বাড়িতে কেনো ঢুকলি?”
ভয়ার্ত স্বরে বললো,
“ভাইয়া! মাফ করে দেন। এমনি ঢুকছিলাম, আর কখনো এরকম করবো না।”
সাথে সাথে আমি একটি চড় বসিয়ে দিয়ে বললাম,
“সত্যি কথা না বললে আজকে তোরে এখানেই বেঁধে রাখমু।”
“ভাই বলছি বলছি! আসলে এই বাড়ির যে মেয়েটা আছে নাহ? ঐযে তুলি! ও আর আমি একসাথেই ভার্সিটিতে পড়ি। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ ওর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না তাই ওর খোঁজেই এসেছিলাম।”
ছেলেটির কলার আরো শক্ত করে ধরে বললাম,
“শুধু কি খোঁজ নিতে এসেছিস? আর কোনো উদ্দেশ্য নেই?”
ছেলেটি থতমত খেয়ে বলে,
“আসলে ভাই ওকে আমি খুব পছন্দ করি তাই আর কি!”
এই বলেই মাথা নিচু করে ফেললো। আমি আর তুলির নিখোঁজের কথা ওকে না বলে কলার ছেড়ে দিয়ে কর্কশ কণ্ঠে বললাম,
“হুম বুঝছি। আর যদি এই বাড়ির আশেপাশে তোকে দেখি তাহলে হাত পা ভেঙ্গে গাছে ঝুলিয়ে রাখবো। যাহ দৌড় দে!”
আমার কথা শুনে কোনোকিছু না ভেবেই ছেলেটি দৌড়ে পুনরায় দেয়াল টপকে চলে গেলো। মনে মনে বলছি,
“শা*লা! তুলির চিন্তায় আমার রাতে ঘুম আসেনা আর সে আসছে খোঁজ নিতে।”
এই বলেই চলে গেলাম বাড়ির পেছনের জঙ্গলের দিকে। আজকে সাথে করে একটি আগাছা পরিষ্কার করার কাঁচিও নিয়েছি।

পশ্চিম আকাশের সূর্যটা অনেক আগেই অস্তমিত হয়েছে। আধঘন্টা যাবৎ বাড়ির জঙ্গলের আশপাশটা ঘুরছি আর পরিষ্কার করছি। হঠাৎই বাড়ির শেষ মাথায় দেওয়ালের ঠিক কর্ণারেই কিছু কৃত্রিম আগাছা ফেলে রাখতে দেখে আমার সন্দেহটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। আগের দুইবার খোঁজাখুঁজি করলেও এখানে আসা হয়নি। কৌতূহল বসত সেখানে যেতেই দেখি কিছু ছোট আগাছা এমনভাবে ফেলে রাখা হয়েছে যাতে কেউ বুঝতে না পারে এখানে অন্য কিছু আছে। আগাছা গুলো সরাতেই দেখি একটি ছোট কুয়ার মতো জিনিস কাঠের ঢাকনা দিয়ে লাগানো। ঢাকনাটা দেখে তেমন পুরাতন মনে হলো না।
ঢাকনাটা সরাতেই দেখি ভিতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, টর্চ জ্বালিয়ে ধরতেই দেখলাম মই জাতীয় কিছু একটা সেখানে ঝুলানো। এতবছর ধরে বাড়িতে থাকছি অথচ এই বেজমেন্টের খোঁজ আমি কখনো পাইনি সেটা ভাবতেই আমার অবাক লাগলো। তার থেকেও বড় কথা কুয়ার ভিতরের ডান সাইটেই এক সুরঙ্গের মতো একটি বড়সড় গর্ত আরো ভিতরের দিকে চলে গেছে। হঠাৎই আমার সাড়াশব্দ পেয়ে ভিতর থেকে এক তরুণীর আর্তচিৎকার ভেসে এলো আমার কানে। ততক্ষণে আমি বুঝে গেছি চিৎকারের উৎস আর কোথাও না বরং এই সুরঙ্গের ভিতরেই। একমুহূর্ত দেরী না করে আমি কুয়ার ভিতরে নামতেই চিৎকারের আওয়াজ আরো স্পষ্ট হলো। একটু ভালোভাবে খেয়াল করতেই বুঝতে পেলাম চিৎকারের আওয়াজটি আর কারো নয় বরং আমার একমাত্র চাচাতো বোন এবং হবু স্ত্রী তুলির গলার চিৎকার। আমার বুকের হৃৎকম্পন এতোটাই বেড়ে গেলো যে মনে হচ্ছে কেউ যেনো আমার বুকে ঢোল পিটাচ্ছে। কিন্তু এই গভীর সুরঙ্গে কেই বা তুলিকে আটকে রাখলো? প্রশ্নটা থেকেই যায়…

(To be continued)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here