তার শহরের মায়া 😍,পার্ট_১৮,১৯

তার শহরের মায়া 😍,পার্ট_১৮,১৯
Writer_Liza_moni
পার্ট_১৮

কবুল বলার পর বড়রা সবাই অনু আর তূর্য কে একসাথে বসিয়ে দেয়। তূর্যর মা অনু কে বউ হিসেবে পেয়ে অনেক খুশি। মাহির তনুকে খাবারের সময় পাহারা দিচ্ছিল। তনুর খাওয়া শেষ হলে মুচকি হেসে তনুর হাত ধরে তূর্যর কাছে এগিয়ে যায়।

তূর্যর পাশে অনু কে দেখে চোখ যেনো কঠোর থেকে বের হয়ে আসবে। তনুর হাত ছেড়ে দিয়ে মাহির অনুর দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে।অনু কে তূর্যর বউ হিসেবে দেখার জন্য মাহির একদমই প্রস্তুত ছিল না। ভীষণ অবাক হয়েছে সে।

অনু মাহির কে চোখ বড় বড় করে তাকাতে দেখে দাঁত কেলিয়ে চোখ মারলো।

মাহির থতমত খেয়ে চোখ নামিয়ে নিল।

আর মাহিরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো মিস্টার দুলাভাই আমাকে যতটা না কষ্ট দিয়েছেন এই কয়েক মাসে, আমি যত কষ্ট পেয়েছি সব কিছু সুদে আসলে ফেরত দিবো। আমি কখনোই ভুলবো না আপনার জন্য আমি দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত কান্না করেছি। আমার কাছে জীবনের মানেটাই হারিয়ে গিয়েছিল। আমাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন না? এখন আপনি তৈরি হোন।

তূর্য অনুর দিকে তাকিয়ে বললো নিজের জামাই থাকতে অন্যের জামাইয়ের দিকে নজর না দিলেই হয়।

অনু দাঁত কটমট করে তূর্যর দিকে তাকালো।

তূর্য মুখটা কে বাচ্চাদের মত করে বললো
না মানে আমার কলিজা জ্বলে তো। আমি ও কিন্তু অনেক কিউট আছি মাহিরের থেকে।

কী বললেন এই মাহির কিউট?😂
ছুঁচোর মতো দেখতে লাগে ওরে। কেমনে যে ভালোবাসিলাম এরে?

অনুর কথাটায় তূর্য বেশ মজা পেলো।
.

যাওয়ার সময় অনু মাকে জড়িয়ে ধরেছিল শুধু। কান্না করেনি। তবে কষ্ট হচ্ছিল খুব। তবু ও চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়েনি।
বাবা মা অনু কে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করেছেন।

পুরোটা সময় মাহির একটা ঘোরের মাঝে ছিল। এখন ও সেই ঘোর থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি।

.
রজনীগন্ধা আর লাল গোলাপ দিয়ে সাজানো হয়েছে তূর্যর রুমটা। কিছুক্ষণ আগেই জুঁই এবং তার কিছু কাজিনরা মিলে অনু কে তূর্যর রুমে বসিয়ে দিয়ে গেছে। ওরা চলে যাওয়ার পর অনু বসা থেকে উঠে তূর্যর রুমটা দেখতে লাগলো।

এমন সময় তূর্য রুমে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল। তূর্য কে দেখে অনু্র কেমন জানি নার্ভাস ফিল হচ্ছে। কিন্তু তা সে প্রকাশ করতে চাইলো না। স্বাভাবিক ভাবেই জিজ্ঞেস করলো

তানিশার জায়গায় আমাকে দেখে আপনি অবাক হোননি কেন?

তূর্য বিছানায় বসতে বসতে বললো
আমি কী বোকা? আমাকে দেখে কী বোকা মনে হয়?

তা কখন বললাম?

কাজী সাহেব যখন আপনার নাম, বাবার নাম বলেছিলেন তখনই তো বুঝতে পেরেছি। একজন সিআইডি অফিসার কে বোকা বানানো এত সহজ না।

আপনি সিআইডি অফিসার?

আমার কথায় কী ডাউট লাগে?

এত প্রশ্ন করেন কেন উফফ।অনু গিয়ে তুর্যর পাশে বসলো।
আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। শান্ত দৃষ্টিতে তূর্যর দিকে তাকিয়ে বললো অনু।

তূর্য অনুর দিকে তাকিয়ে বললো হুম বলুন।

আমি জানি না আপনি আমার সম্পর্কে কতটুকু জানেন।আমি হুট করে বিয়ে করতে চাইনি। বিয়ের কথা আমি আর ও পরে চিন্তা করেছি। কিন্তু আজ যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বিয়েটা না করে আমার উপায় ছিল না।বাধ্য হয়ে বিয়েটা করতে হয়েছে। আমার জীবনে অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে। ছেলেদের বিশ্বাস করতে এখন আমার ভীষণ ভয় হয়। আসলে বিশ্বাসটা আসে না।
আমি দেখেছি স্বার্থের জন্য মানুষ কে বদলে যেতে। বন্ধু বান্ধবের মত বিশ্বস্ত মানুষ গুলো কে ও ঠকাতে দেখেছি আমি। দিনের পর দিন ভালোবাসার অভিনয় করতে ও দেখেছি আমি।

অনু ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।তার পর আবারও বলতে শুরু করলো
আপনি যেহেতু আমার স্বামী সেহেতু আপনার সব কিছু জানার অধিকার আছে।তিন শব্দের কবুল বলার পর আপনাকে আমার স্বামী হিসেবে মানতেই হবে। আমার একজনের সাথে তিন বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সে আমার ভালোবাসা নিয়ে গেমস খেলেছে। ঠেকিয়েছে আমাকে।
অনু চুপ করে গেলো। কথা গুলো বলতে তার ভালো লাগছে না। তবুও তূর্য কে তার সব বলে দেওয়া উচিত। সম্পর্কের শুরুটা যেমন করেই হোক না কেন সম্পর্কটা তো গড়েই গেছে।

তূর্য স্বাভাবিক ভাবেই অনুর কথা শুনছে। কোনো রিয়েকশন করলো না সে।
অনুর মুখ দেখেই সে বুঝতে পারছে যে অনুর কথা গুলো বলতে ভালো লাগছে না।

তূর্য অনুর দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো ফ্রেশ হয়ে আসেন । এই ভারি শাড়ি গয়না পরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে না?

তূর্যর কথায় অনু অবাক হলো ভীষণ। লোক টা কে যেমন ভেবেছিলাম তেমন নয়। না জানি ফিউচারে কেমন হবে?

অনু মাথা নাড়িয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে গয়না গুলো সব খুলতে লাগল। তূর্য এক নজরে অনুর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো

আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি অনু। মাহির আপনার সাথে যা করেছে তা আমি আমার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে ভুলিয়ে দিব।ওর দেওয়া কষ্ট হয় তো আপনি কোনো দিন ও ভুলবেন না। কিন্তু আমি আমার ভালোবাসার চাদরে আপনাকে জড়িয়ে রাখবো। তখন আপনি নিজেই বলবেন মাহির আপনার সাথে ওমনটা করেছে বলেই আমাকে পেয়েছেন। আপনাকে কখনো কষ্ট পেতে দিবো না আমি। আপনার ভাঙ্গা মনকে আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে জুড়ে দিবো।প্রমিস।

তূর্য উঠে ওয়াস রুমে চলে গেল ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে এসে টাওয়াল দিয়ে হাত মুখ মুছতে মুছতে অনুর উদ্দেশ্যে বললো আমি বাইরে যাচ্ছি। আপনি ফ্রেশ হয়ে এসে শাড়ি টা বদলে নিন।

অনু তূর্যর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ওয়াশ রুমে চলে গেল।ফ্রেশ হয়ে এসে ব্যাগ খুলে দেখে সেখানে সব শাড়ি। শাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। শাড়ি পরতে মোটামুটি পারে অনু।ওতো সুন্দর হয় না। কুচি এলোমেলো হয়ে যায়। একটা শাড়ি নিয়ে রুমের দিকে তাকিয়ে দেখে তূর্য নেই। দরজা বাইরে থেকে বন্ধ।অনু তবু ও এগিয়ে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়।যদি তূর্য চলে আসে শাড়ি পরার মাঝে।তাই রিস্ক নিলো না।

শাড়ি পরে বিছানায় বসতেই দরজায় টোকা পড়লো।অনু দরজা খুলে দিয়ে দেখে তূর্য দাঁড়িয়ে আছে।

আমাকে কী বিশ্বাস করা যায় না?

বলেছি তো এখন সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারিনা।

তূর্য রুমে ঢুকে অনুর উদ্দেশ্যে বললো অযু করে আসুন।

অনু কিছু না বলে ওয়াস রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর অযু করে এসে তূর্যর সাথে নামাজ পড়ে নিলো।

জায়নামাজ গুছিয়ে রেখে অনু বিছানায় গিয়ে বসলো। তূর্য বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। চাঁদের আলোয় আলোকিত চারপাশ।

রাত প্রায় ১ টা।অনু বিছানার চাদরের দিকে তাকিয়ে রইলো।লাল গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে আছে।অনু হাতের মুঠোয় কিছু পাপড়ি নিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।

এমন একটা রাত যে তার জীবনে আসবে এই কয়েক দিনে ভাবেনি সে। তূর্য রুমে এসে অনুর উদ্দেশ্যে বললো অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ুন।

অনু তূর্যর দিকে এক নজর তাকিয়ে বললো
আপনি তো তখন আমার সব কথা শুনেন নি।

তূর্য মুচকি হেসে বললো
আমাদের জীবন মাত্র শুরু হয়েছে।একে অপরকে জানার এখন ও অনেক সময় পরে আছে। আপনার মন যখন বলতে চাইবে আপনি বলিয়েন। তখন যদি আমার হাজারো কাজ থাকে তার পর ও আমি বিরক্ত না হয়ে মন দিয়ে আপনার কথা শুনবো।সারা দিন অনেক ধকল গেছে। এখন একটু ঘুমিয়ে নিন। আপনার চোখে অনেক ঘুম আসছে। দেখতে পাচ্ছি আমি। আগামীকাল সকালে আবার বউ ভাতের আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ধকল যাবে।তাই বলছি ঘুমিয়ে নিন।

অনু তূর্য কে আজ যত দেখছে তত অবাক হচ্ছে।অনু আর কিছু না বলে মাঝখানে বালিশ দিয়ে শুয়ে পড়ল।

মাঝে বালিশ দিতে হবে না। বিছানায় আপনি ঘুমান। আমি সোফায় ঘুমাবো। আমি জানি আমাকে মেনে নিতে, বিশ্বাস করতে, ভালোবাসতে আপনার অনেক সময় লাগবে। তার আগে আমি আপনাকে ছুঁবো না। কথা দিলাম।
তূর্য মুচকি হেসে লাইট অফ করে ড্রিম লাইট জ্বেলে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।

সারা দিন অনেক ধকল যাওয়ায় অনু ঘুমিয়ে পড়েছে। তূর্য অনুর মুখের দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
.
.
তনু ঘুমিয়ে আছে।মাহিরের কেন জানি ঘুম আসছে না। কেমন জানি অস্থির অস্থির লাগছে। বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো সে। সিগারেটের নেশা জেগেছে তার। পকেট থেকে এক প্যাকেট সিগারেট বের করে একটার পর একটা শেষ করতে লাগলো।

ঘুম আসছে আজ।তনু কে জড়িয়ে ধরলে যার ঘুমে চোখ ভারি হয়ে আসতো তার ঘুম আসছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়চে।

তনু পাশ ফিরে বিছানায় মাহির কে দেখতে না পেয়ে ঘুম ঘুম চোখে উঠে বসলো। কয়েক বার মাহির কে ডাকার পর ও কোনো সাড়া না পেয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।

এতো রাতে গেল কোথায় আবার?
বেলকনিতে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে সে দিকে এগিয়ে যায় তনু।

মাহিরের কাঁধে হাত রাখতেই মাহির চমকে উঠে পাশে তাকায়। তনু কে দেখতে পেয়ে সিগারেট বাহিরে ফেলে দিল।
তনু রাগী কন্ঠে বললো
তুমি আবার ও সিগারেট খাচ্ছো কেন?

ঘুম আসছিলো না তাই।

তাই বলে সিগারেট খাবে?

সরি।আর খাবো না।

মনে থাকে যেন।

হুম।

তনু কিছুক্ষণ মাহিরের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো সত্যি করে বলো তো তোমার কী হয়েছে? তূর্য আর অনু কে দেখার পর থেকেই তুমি কেমন যেনো সব উল্টোপাল্টা কাজ করছো।কী হয়েছে আমাকে বলো?

আরে না কিছু হয়নি।কী হবে? এমনিতেই অফিসের কাজ নিয়ে একটু টেনশনে আছি।বস ফোন করে বলেছে যেন বউ ভাতের পরই অফিসে চলে যাই।

ওহ আচ্ছা।আসো ঘুমাতে আসো। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিবো।

চলবে,,,, 🍁
#তার_শহরের_মায়া 😍
#পার্ট_১৯
#Writer_Liza_moni

সকালে তুর্যর আগে অনুর ঘুম ভাঙ্গলো। বিছানা থেকে নেমে হাই তুলতে তুলতে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে সময় দেখে অনুর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। আটটা বাজে সবাই এখন কী ভাববে?এত বেলা হয়ে গেছে।

অনু ব্যাগ থেকে একটা শাড়ি নিয়ে ওয়াস রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর চুল মুছতে মুছতে বের হয়ে এসে সোফার দিকে চোখ পড়ল। তূর্য এখন ও ঘুমিয়ে আছে।অনু ধীর পায়ে তূর্যর দিকে এগিয়ে গেল।

তূর্য গুটি শুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে।
এতো লম্বা মানুষ, শরীর ও মাশাআল্লাহ। এই সোফায় ঘুমুতে পারে।বাহ্।

এই যে শুনছেন?
অনেক বেলা হয়ে গেছে উঠুন। একটু পরেই সবাই ডাকা ডাকি শুরু করবে।

তূর্য নড়েচড়ে আবার ও ঘুমিয়ে গেল।

কী প্রানীরে বাবা?অনু তূর্যর কাঁধ ধরে ঝাকুনি দিতেই চোখ মেলে তাকায় তূর্য। ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো কি হয়েছে মা এতো সকালে ডাকছো কেন?

আরেএএএএএ আমি কী আপনার মা লাগি নাকি?বউ লাগি আপনার।

তূর্য চোখ ছোট ছোট করে তাকালো অনুর মুখের দিকে। ঘুম ঘুম কন্ঠেই বললো ও বউ আরেকটু ঘুমাতে দেন না প্লিজ।

অনু থমকালো। তূর্যর ঘুম ঘুম কন্ঠা মাহিরের থেকে ও মারাত্মক।অনু ধীর কন্ঠে বললো সাড়ে আটটা বাজে। একটু পরেই ডাকতে আসবে। উঠুন।

তূর্য শোয়া থেকে উঠে বসলো। চোখ ডলে অনুর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললো আপনি এত সকালে গোসল করেছেন কেন?

আপনি না সিআইডি অফিসার। ভালো করে চিন্তা করে দেখুন।

আমাদের মাঝে তো কিছুই হয়নি।

অনু চোখ গরম করে তূর্যর দিকে এক নজর তাকিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল হালকা আঁচড়ে নিলো। ভেজা চুল তো আর বেঁধে রাখা যায় না।তার চেয়ে বড় কথা মাহির কে এই ভেজা চুল দেখাতে হবে তো।

তূর্য কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইলো। তার পর উঠে এসে অনুর পেছনে দাঁড়িয়ে আয়নায় অনুর মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
আপনি খুব চালাক। আমাদের সম্পর্কটা যে ঠিক হয়নি তা যেন কেউ বুঝতে না পারে তার জন্য এই সিদ্ধান্ত?

বুঝতে পেরেছেন তাহলে?
আপনাকে সিআইডি অফিসারেই মানায়।

অনু হালকা গয়না পরে আর হালকা সেজে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। গোসল করে আসুন। আমাদের মাঝে যা আছে তা আমাদের মাঝেই থাক।অন্যরা জানলে কষ্ট পাবে।

তূর্য কিছু বললো না।

অনু শাড়ির আঁচল টেনে মাথায় ঘোমটা দিয়ে দরজার কাছে এগিয়ে যেতেই তূর্য ডাক দিল।

শুনুন,,

অনু পেছন ফিরে প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকায়।

না কিছু না।
অনু বাইরে চলে গেল।

আমার বউটা হেব্বি কিউট। তনু ভাবির চেয়ে ও। বুদ্ধিমতী ও। ধন্যবাদ মাহির।অনু কে আমার জন্য ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। ছেড়ে গেলি বলেই তো আমি ওরে পেয়েছি।
তূর্য মুচকি হেসে এক হাত দিয়ে মাথার চুল গুলো এলোমেলো করে দিয়ে কাভার্ড থেকে ট্রাউজার আর গেঞ্জি নিয়ে ওয়াস রুমে চলে গেল।
.
.
অনু রুম থেকে বের হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় মাহিরের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল।অনু নামছে মাহির উপরে যাচ্ছে।অনুর মুখের কাছের চুল থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। চুলের পানি গুলো অনু ইচ্ছে করেই ভালো করে মুছেনি।

মাহির অনুর দিকে কেমন করে যেন তাকালো।অনু ডোন্ট কেয়ার ভাব করে নিচে নেমে আসলো। মাহির উপর থেকেই অনুর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

মনে মনে একটা কথাই ভাবছে মাহির
যে মেয়েটা তার সাথে দেখা হলেই চোখ ভিজে যেতো সে মেয়েটা এখন তাকে দেখলে ডোন্ট কেয়ার ভাব ধরে। কতটা বদলে গেছে অনু।

অনু কে দেখতে পেয়ে জুঁই এসে জড়িয়ে ধরলো।কী ভাবি কেমন ঘুম হয়েছে?

খুব ভালো।

সেকি অনু তোর তো কাল রাতে ঘুম না হওয়ার কথা ছিল।

কেন?

তনু অনুর কানে কানে বললো
কেমন আদর করেছে‌ আমার দেবর ?

আপুইইইই ভুলে যাবি না তুই আমার বড় বোন লাগিস।

বড় বোন সেটা বাড়িতে গেলে। এখন তোর জা লাগি।

তনু মা অনু কে আর লজ্জা দিও না।দেখো লজ্জায় কেমন মুয়ে গেছে।

ফুফু মনি তোমার ছেলের বউ এমনিতেই একটু লজ্জাবতী গাছের মতো। ছুঁয়ে দেওয়ার আগেই লজ্জায় মুয়ে যায়।

অনু তনুর হাতে চাপ দিয়ে বললো একটু চুপ কর না বইন। আমি তোর ছোট বোন লাগি।

অনু মা এ দিকে আসো তো বলে তূর্যর মা তার রুমে চলে গেল।
অনু তনুর মুখের দিকে তাকালো।

যা কিছু দিবে হয় তো।

অনু মাথা নাড়িয়ে তূর্যর মায়ের কাছে চলে গেল।

তূর্যর মা আলমারি খুলে একটা বক্স বের করে অনুর হাতে দিল। তার পর কলা পাতা রঙের একটা মসলিন শাড়ি বের করে বিছানায় রাখলেন।অনু কে বসতে বলে তিনি ও বিছানায় বসলেন।

অনু বসলো।বক্সটা তূর্যর মায়ের হাতে দিল।

তিনি বক্সটা খুলে এক জোড়া কানের দুল বের করে অনুর হাতে দিলেন।

এইটা আমার ছেলের বউয়ের জন্য। তার পর চিকন একটা চেন বের করে অনুর গলায় পরিয়ে দিলেন।

সিম্পল জিনিস সব সময় অনুর পছন্দের। কানের দুল গুলো ও সিম্পলের মধ্যে।

পছন্দ হয়েছে?

ভীষণ।অনু তূর্যর মাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি আপনাকে আম্মু আর তুমি বলে ডাকি?

অবশ্যই। আমি তো তোর মায়ের মতই।

মতো না।মা হতে হবে।যেমন জুঁই এর মা।

তূর্য মা অনু কে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো
আমি তোর মতই একটা মেয়ে চেয়ে ছিলাম। ছেলের বউ না।
.
.
তূর্য গোসল করে বের হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে লাগলো। মাথায় শয়তানি বুদ্ধি উদয় হলো তার। মাহির কে একটু জ্বালানো যাক।তিন বছর রিলেশন যখন করেছে মায়া তো একটু হলেও হয়েছে।

তূর্য গলা উঁচু করে অনু কে ডাকতে লাগলো।
অনুমেঘা
অনুমেঘা
আমার ঘড়িটা কোথায় রাখছেন?

একটু এদিকে আসুন তো।

সে সময় মাহির তূর্যর রুমে আসলো।
মুখটাকে গম্ভীর করে বললো
তুই তো নাকি বিয়েই করতে চাস নাই তাহলে এখন বউকে ছাড়া আর কাউকে খুঁজিস না কেন?

তূর্যর খুব হাসি পাচ্ছে। কিন্তু সে হাসলো না।

আরে বলিস না।কাল রাতে ওরে বলছি ঘড়িটা হাত থেকে খুলে দিতে। দিছে কিন্তু কোথায় যে রাখছে পাচ্ছি না।

তুই গোসল করেছিস?

ওমা গোসল করবো না কেন? তুই কি ভুলে গেলি নাকি কাল আমাদের বাসর রাত ছিল।

না ভুলিনি। এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম।

.
আমার ছেলেটা বিয়েই করতে চায়নি।আর এখন বউকে চোখে হারাচ্ছে।যা মা দেখে আয় কেন ডাকছে।

অনু লাজুক হেসে তূর্যর রুমের দিকে চললো।ঢং
ওনার ঘড়ি কী আমি রেখেছি না কি যে খুঁজে পাচ্ছে না।

অনু রুমে এসে দেখে মাহির আর তূর্য কথা বলছে। তূর্য হাসলে ও মাহির খুব গম্ভীর।

কী হয়েছে দুলাভাই? আপনার মন খারাপ মনে হয়?মন খারাপ কেন?আপু কী সব জেনে গেছে?

জানতে দিলেই তো জানবে। মাহির এটা বলে রুম থেকে বের হয়ে গেল।অনু তো হাসতে হাসতে শেষ।

কী হয়েছে এতো হাসছেন কেন?

না এমনিতেই।এই ভাবে ষাঁড়ের মত চিল্লিয়ে ডাকছিলেন কেন? বাড়িতে যে মেহমান আছে সেই খবর নাই?

তূর্য মুচকি হেসে মাথা চুলকিয়ে বিড় বিড় করে বললো এত সুন্দর বউকে একা ছাড়তে কলিজায় লাগে।

অনু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো তূর্যর মুখের দিকে।কী বিড় বিড় করছেন?

কিছু না তো। আমার ঘড়িটা পাচ্ছি না। একটু খুঁজে দেন তো।

অনু ড্রেসিং টেবিলের উপরে তাকিয়ে সে দিকে এগিয়ে গেল।ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে ঘড়িটা নিয়ে তূর্যর হাতে দিয়ে বললো নাকের জন্য কী চোখে দেখেন না?
লম্বা মানুষের নাক ও লম্বা থাকে।

তূর্য মুচকি হেসে মনে মনে বললো আপনার জন্যই তো দেখতে পেয়ে ও না দেখার ভান করে ডাক দিলাম।

নিচে আসুন।সবাই নাস্তা করার জন্য ডাকছে।
অনু আর তূর্য রুম থেকে বের হতে যাবে এমন সময় জুঁই এসে নাস্তার ট্রে অনুর হাতে দিয়ে বললো
মা বলেছে ঘরেই খাওয়ার জন্য। নিচে অনেক মানুষ।

অনু রুমে এসে বিছানায় বসে লুচি আর গরুর মাংস ভুনা খাওয়া শুরু করে দিল। অনেক ক্ষিদা পেয়েছে তার।

একা একা খাচ্ছেন কেন?

আপনি ও খান।
তূর্য ও বসে পড়লো খাওয়ার জন্য। খাওয়া শেষে তনু এসে অনুর হাতে কিছু শাড়ি দিয়ে বললো বউ ভাতের জন্য যেটা মন চায় সেটা পরে নিস।পার্লার থেকে মেয়েরা এসে সাজাবে।

১১ টার দিকে পার্লারের মেয়েরা এসে অনু কে সাজানো শুরু করে দিল। তূর্য একটা লাল খয়েরী রঙের পাঞ্জাবি ফতুয়া পরেছে।

অনু কে ও তূর্যর সাথে মেচিং করে শাড়ি পরানো হয়েছে।কাপল পিক তুলার সময় তূর্য অনু বিভিন্ন ধরনের পোস দিয়েছে। বিয়েটা একবার হয়।যেমন করেই হোক না কেন?বিয়েতো হয়েছে।

মাহির সারাটা সময় এক জায়গায় দম মেরে বসে ছিল শুধু। তনুর সাথে দুয়েকটা কথা বলেছে। কেমন জানি লাগছে তার। বলতে পারছে না কাউকে।

চলবে,,,, 🍁

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here