জ্বীনের_প্রেম #অন্তিম_পর্ব

#জ্বীনের_প্রেম
#অন্তিম_পর্ব
লেখিকাঃ #সাবরিন_খান

লেখিকাঃ সাবরিন খান

অমিত আর মেঘলা বাগানে হাঁটাহাঁটি করছে।
মেঘলা পানি দিচ্ছে তার পছন্দের বেলিফুল গাছে।

অমিত মাঝে মাঝে লক্ষ্য করছে মেঘলাকে।
মেঘলার মাঝে কি যেন একটা অদ্ভুত ব্যাপার রয়েছে।

অমিত একটু দূরের থেকেই মেঘলাকে জিজ্ঞেস করলো “আপনি কি ছোটবেলা থেকে এই বাড়িতেই থাকেন?”মেঘলা অমিতের দিকে না তাকিয়েই বলে ” হ্যা”।অমিত আবারও জিজ্ঞাস করে “যেহেতু ছোট থেকেই আপনি এখানে বড় হয়েছেন আশে পাশে আপনার কোন বন্ধু নেই?” মেঘলা এবার একটু অন্য রকম দৃষ্টিতে অমিতের দিকে তাকিয়ে বলে “নাহ আমার এখানে কোন বন্ধু নেই।

আমার একা থাকতে ভালো লাগে ছোটবেলা থেকেই।
“মেঘলাকে উদ্দেশ্য করে অমিত বলে “আজকে আন্টির সাথে আমার কথা হয়েছে।
তিনি আমাকে কিছু জিনিস বললেন।সেগুলা কি সত্যি?

তুমি কি কেউকে দেখতে পাও?”মেঘলা বলে “যদি আপনার কাছে মিথ্যা মনে হয় তাহলে মিথ্যাই ধরে নিন।

” এই কথাটা বলে মেঘলা বাসার দিকে হাটতে শুরু করে।মেঘলাকে থামিয়ে দিতে পিছে থেকে অমিত বলে “এমনও তো হতে পারে তুমি যাকে দেখছো তার কোন অস্তিত্বই নেই।

সে শুধু তোমার কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে।মেঘলা কিছু মুহুর্তের জন্য থমকে গিয়ে বলে” তার অস্তিত্ব থাকলেও আমি তাকে ভালবাসি না থাকলেও আমি তাকে ভালবাসি।এমন একটা উত্তর অমিত আশা করেনি।

অমিত বুঝতে পারলো মেঘলার এই বিষয়টা গভীরে চলে গেছে ফিরে আসার পথ অনেক কঠিন। চলে যাওয়ার সময় অমিত মেঘলার মাকে বলে গেল আন্টি যতটা সম্ভব মেঘলাকে চোখে চোখে রাখবেন।একা থাকতে দিবেন না।

আমার মনে হচ্ছে ওর এই সমস্যাটির জন্য ওর একাকীত্ব দায়ী।ও নিজের মতো করে এমন একজন বানিয়ে নিয়েছে যার সাথে ও সময় কাটাতে পারবে আর এখন সে কল্পনাকে ভালবাসতে শুরু করেছে যা খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়।মেঘলার মা খুব আতংকিত হয়ে পড়লো।

ঠিক করলো মেঘলাকে ওর নিজের রুমে আর যেতে দিবেনা যেখানে সে ছেলেটার সাথে কথা বলে।মেঘলার মা মেঘলাকে ডাক দিয়ে তার রুমে নিয়ে গেলো।

আর অন্য দিকে কাজের বুয়াকে বলে রাখলো মেঘলার রুমে তালা মেরে দিতে।মেঘলা যখন নিজের রুমে ফেরত যাবে দরজার সামনে গিয়ে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। মা মা বলে চিৎকার শুরু করে।তার মায়ের কোন জবাব না পেয়ে মেঘলা তার মায়ের রুমের দিকে যায়।

মায়ের রুমে গিয়ে দেখে মা বসে বসে হাতে একটা রান্নার রেসিপি নিয়ে পড়ছে। মেঘলা রাগের মাথায় জিজ্ঞেস করে “আম্মু আমার রুমে তালা মারা কেন?তুমি তালা মারতে বলেছো। তাইনা?আমার রুমের তালার চাবি দাও।

আমার কিন্তু এসব ধরনের মজা একদম ভালো লাগেনা।মেঘলার মা বইয়ের পাতায় চোখ বোলাতে বোলাতেই উত্তর দেয় ” মজা তো আমি না তুমি করছো প্রতি রাতে।

তোমার আর একা ঐ রুমে থাকা চলবে না,এখানেই থাকবে আমার সাথে।” মেঘলা নিজের রাগের সামাল না দিতে পেরে হাতের সামনে থাকা ফুলদানিটা মাটিতে ছুরে মেরে ভেঙে ফেলে।

মেঘলার মা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে তার মেয়ে কতটা হিংস্র হয়ে উঠেছে।ড্র‍য়িং রুমের সোফায় বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে থাকে মেঘলা।

সারাদিন না খেয়ে কাটিয়ে দেয়।রাতের বেলা মেঘলার মা এসে বলে এখানে বসে না থেকে কিছু খেয়ে ঘুমাতে আয়।মেঘলা বসেই আছে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে মাটির দিকে।চোখ দিয়ে পানি থামার কোন লক্ষন নেই।মেঘলা ভেবে চলেছে সে কি ছেলেটাকে এতটাই ভালবেসে ফেলেছে ।

তার সাথে কথা বলতে পারবেনা দেখে মেঘলার এতটাই খারাপ লাগছে।মেঘলা সোফায় বসেই যখন ছটফট করতে থাকে তখন সামনে হটাৎ বাসার মেইন গেইটটা বাতাসে হালকা খুলে গেল।

দরজার খুলে যাওয়া দেখে মেঘলা ভাবে তাহলে সে কি আমাকে ডাকছে। মেঘলা দৌড়ে ছাদে গিয়ে দেখে ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে।ছেলেটাকে দেখে মেঘলা নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেনা।ছেলেটার সামনে গিয়েই কাদতে শুরু করে।

“মেঘলা আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু তুমি ভেঙে পরবেনা। অপেক্ষা করবে আমি আসবো হয়তো আবারও কোন একদিন তবে এভাবে নয় তোমাকে অবাক করে।”মেঘলা কাদো কাদো চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে কবে আসবেন?”ছেলেটা হেসে বলে আসবো আমি যদি তুমি অপেক্ষা করো তাহলেই।

এরপর চোখের পলকেই যেন কোথায় মিলিয়ে গেল সে। ছেলেটার চলে যাওয়ার পর মেঘলা ছাদে বসেই কাদতে থাকে।

…………… ৫ বছর পর…………….
পড়ালেখা শেষ করে একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করছে মেঘলা।

মায়ের দায়িত্ব এখন মেঘলার কাধেই।
মা সময়মত ঔষধ খেয়েছে নাকি তা জানার জন্য দিনে ২-৩ দিন বার ফোন দেয় মেঘলা
।অনেকটা দায়িত্বশীল হয়ে গেছে।আগের মতো রাগ ও আর করতে পারেনা।মায়ের অনেক জোরাজোরির পরেও সে বিয়ে করেনি।শুধু একটাই বাহানা আমার বিয়ে হয়ে গেলে তোমাকে দেখবে কে আম্মু। সব কিছু পরিবর্তন হলেও একটা অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি গত ৫ বছরে সেটা হলো প্রতি রাতে বারান্দায় গিয়ে ছেলেটার জন্য কিছু মুহূর্ত অপেক্ষা করা।

এখন আর মেঘলার মা তাকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেও কিছু বলেনা।কারন মেঘলা আর কথা বলেনা শুধু চুপ করে দারিয়ে থাকে।মেঘলা আশা ছাড়েনা মনে প্রানে বিশ্বাস করে একদিন সে আসবেই।আজ মেঘলার জন্মদিন সে এবার ২৭ বছরে পা দিলো।
জন্মদিনের সকালে ঘুম মেঘলার ঘুম ভাঙে কলিং বেলের আওয়াজে ।

গেট খুলার পর মেঘলা দেখে একটি বাচ্চা ছেলে তার দিকে তাকিয়ে হেসে বললো আপু এই চিঠিটা আপনার জন্য ।
এটা বলেই চলে যায়।

মেঘলা চিঠিটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভাবছে এখনকার সময়ে কেউ চিঠি লিখেনা তাহলে আমাকে কে চিঠি লিখলো।

চিঠিটা খুলে মেঘলা দেখলো লেখাঃ
“অনেক তো অপেক্ষা করলে
এবার তোমার অপেক্ষার ইতি টানা হোক”

৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷ সমাপ্ত।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।

ভালো লাগলে কমেন্ট করে জানাবেন❤😊

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here