জেদ,#পার্ট১৮,১৯

#জেদ,#পার্ট১৮,১৯
(A Conditional LoveStory)
#আফরিন_ইনায়াত_কায়া
পার্ট১৮

বাবার জেদ সম্পর্কে যথাযথ অবহিত আমি।মানুষটা প্রচন্ড একগুয়ে।কোন কিছু যদি করার সিদ্ধান্ত নেন তবে সেটা উনি করেই ছাড়বেন। আমার বিয়ে নিয়ে তাই তোড়জোড় যেন একটু বেশিই।
আজ আরদ্ধ আমাকে ড্রপ করে চলে যায় নি। আজ ও এসেছে আমার সাথে। বাবার সাথে কথা বলার জন্যে।বাসায় ঢুকতে যাব তখনি আরদ্ধ পেছন থেকে হাত টেনে ধরল।আমি জিজ্ঞাসাসূচক দৃষ্টিতে তাকাতেই আরদ্ধ হালকা হাসল। এগিয়ে এসে আলতো করে আমার ঠোটের কোনায় ঠোট ছোয়ালো।
-My good luck chram.
কথাটা বলেই আরদ্ধ আমার হাত ধরে টেনে ভিতরে নিয়ে গেল।
.
.
দুইবার কলিং বেল চাপতেই মা দরজা খুললেন। দাড়ালেন।আরদ্ধ মাকে দেখে হাসিমুখে সালাম দিল।আমার পাশে আরদ্ধকে দেখে বেশ অবাক হলেন মা।কিন্তু মুখে কিছু বললেন না।চুপচাপ দরজা ছেড়ে দাড়ালেন।আমি আরদ্ধকে নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই মা পেছন থেকে আমার হাত টেনে বললেন
-তুই জানিস না তোর বাবা বাসায় বন্ধু আসা পছন্দ করে না ।তারপরেও তুই ফ্রেন্ড নিয়ে এসেছিস?তাও আবার ছেলে ফ্রেন্ড।আর ছেলেটা কে ?
আমি মার কথার জবাব দিয়ে বললাম
-সব জানতে পারবে ।বাবাকে ডাকো আগে।আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
মাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই আমি রুমের দিকে পা বাড়ালাম।
কোন রকমে রুমে এসে হাত মুখে ধুয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে ডাইনিং এ দৌড়ে আসলাম।
আরদ্ধ আর বাবা মুখোমুখি হয়ে বসে আছে।আমি আরদ্ধর দিকে জিজ্ঞাসা সূচক দৃষ্টিতে তাকাতেই ও আমাকে ইশারায় বলল সব ঠিক আছে।
আমি ধীরে সুস্থে গিয়ে আরদ্ধর পাশে বসলাম।
বাবা একনজর আমাদের দিকে চোখ বুলিয়ে আরদ্ধর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে মারলেন
-তা বাবা তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না।
আরদ্ধ ঠোটে হাসি ফুটীয়ে বলল
-স্যার আমি আরদ্ধ।আরদ্ধ রেওয়াত।রেওয়াত গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ এর মালিক।লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে বিজনেস সামলাচ্ছি।ইনায়াত আর আমাদের কোম্পানি একসাথে কাজ করে।
এতটুকু বলে থামল আরদ্ধ।
বাবা আরদ্ধের দিকে আরেকবার সরু চোখে তাকালেন।কোন ভ্রুক্ষেপ না করেই আবার বলে উঠলেন
-তা বাবা হঠাত আমার বাসায় যে!কোন কাজ ছিল?
বাবার এরকম অযাচাচিত প্রশ্নে বেশ অপ্রস্তুত হলাম আমি ।আরদ্ধ কিছু বলার আগেই আমি বলে উঠলাম
-বাবা বেশ কয়েকদিন ধরে তুমি আমার বিয়ে নিয়ে বেশ চিন্তা করছ।তোমার ঘাড়ের বোঝা নামাতে তাই ওকে বাসায় নিয়ে এলাম।দুই বছরেরও বেশি সময় আমরা একে অপরকে ভালোবাসি ।আমি আরদ্ধকে বিয়ে করতে চাই।
আমার কথা শুনে বাবা প্রচন্ড রাগ হলেন জানি।নিজের মেয়ের মুখে হঠাত করে এরকম কথা বলা বাবার মোটেও পছন্দের না ।কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করে বলে উঠলেন
-খালি তুমি চাইলেই তো আর সব হবে না।সবার মত থাকতে হবে।
বাবা আরদ্ধের দিকে ফিরে বলতে লাগলেন
-দেখো বাবা আমার মেয়ে তোমাকে কি বলেছে আমি জানি না ।ও এখনো ছোট বাচ্চার মত ব্যবহার করে।এখনো সে নিজের ভালো মন্দ বুঝে উঠতে পারেনি ।তুমি ওর কথা শুনো না।
বাবার কথায় আরদ্ধ একটা স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে বলল
-জ্বি স্যার ঠিক বলেছেন আপনি।নিজের ভালো মন্দ ইনায়াত একটূও বোঝে না।সে জন্যেই আমি যখন ওকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলাম সে নানা অযুহাতে এরিয়ে যেত।কিন্তু আমিও হাল ছাড়ার পাত্র নই ।ওর একটা কথাও শুনিনি ।শেষমেষ ওকে বুঝাতে পেরেছি যে ভালোবাসাটা শুধু আমার একার না ।ও নিজেও আমাকে ভালোবাসে।
কথাগুলো বলে থামল আরদ্ধ।ওর ঠোটে এখনো সেই হাসিটা লেগে আছে।বাবা অবাক হয়ে আরদ্ধের দিকে তাকিয়ে আছেন।তার কথার জবাবে এরকম প্রতিউত্তর কেউ কোন দিন দিবে বাবা তা ঘূর্নাক্ষরেও ভাবেননি।
নিজেকে সামলে নিয়ে বাবা নড়েচড়ে বসলেন।বেশ প্রস্তুত হয়ে আরদ্ধের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন
-দেখ বাবা ইনায়াত আমার একমাত্র মেয়ে।আর আমি….
-আপনি অনেক যত্ন আর শাসনের সহিত ইনায়াতকে বড় করেছেন।আপনার শিক্ষা ইনায়াতের ব্যবহারের মধ্যেই প্রকাশ পায়।আপনি মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন যাতে সে মাথা উচু করে সমাজে দাড়াতে পারে।এ জন্যেই সে দিন রাত খেটে তার ড্রিম প্রোজেক্টে কাজ করছে।যাতে আপনাদের শ্রম আর অর্থ সার্থক হয় ।আপনি কখনোই চাইবেন না ইনায়াত কোন ভুল করুক।এমন কিছু করুক যেটা আপনার মর্যাদার হানি ঘটায়।ঠিক এই কারনেই আপনি অজানা একটা ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করলেও সে আপনাকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে নি।
বাবা যেন এবার আরদ্ধের কথায় থ বনে গেল ।কী বলবে ভাষা খুজে পাচ্ছেন না উনি ।শুধু অবাক দৃষ্টিতে আরদ্ধের দিকে তাকিয়ে আছে।
.
.
আরদ্ধ আবার এক রাশ হাসি টেনে বলল
-আংকেল ইনায়াতকে আমি প্রথম যেদিন দেখেছিলাম তখনি ঠিক করেছিলাম আমি ওকে বিয়ে করব।আমার ভালোবাসায় সাড়া দেবার পরেই আমি চেয়েছিলাম যেন পারিবারিক আর সামাজিকভাবে এক হয়ে যাই ।কিন্তু শুধু তার স্বপ্নের কথা ভেবে আমি চুপ ছিলাম ।
কথাগুলো বলেই আরদ্ধ এগিয়ে গিয়ে বাবার সামনে হাটু গেড়ে ভসে তার দুহাত নিজের দুহাতে নিয়ে চেপে বলল
-স্যার আমি আপনার মেয়েকে অনেক ভালোবাসি।কিন্তু তার থেকেও অনেক বেশি আপনি ভালোবাসেন তাকে।আপনি যতটা আদর ভালোবাসা দিয়ে ওকে মানুষ করেছেন আমি সারাজীবন ওকে আগলে রাখলেও হয়তোবা তার সমান হবে না ।তার জন্যে আমি কৃতজ্ঞ আপনার কাছে।আপনার সেই ভালোবাসা আর স্নেহ থেকেই বলছি
-এমন কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না যেটা আপনার কষ্টকে ধূলোয় মিশিয়ে দিবে।আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আপনার পছন্দমত ছেলের সাথে বিয়ে দিলে সে সুখে থাকবে।কিন্তু শান্তি শুধু সে আমার কাছেই পাবে।I am her peace.আপনার কাছে অনুরোধ নিজের #জেদের জন্যে ইনায়াতের স্বপ্ন আর শান্তিকে বিসর্জন দিবেন না।প্লিজ ।
কথা শেষ করে আরদ্ধ উঠে দাড়াল।
-আমার যা বলার তা আমি বলে দিয়েছি।ভালো মন্দ নির্দ্বিধায় আপনি আমার থেকে ভালো বোঝেন।সিদ্ধান্ত আপনার হাতে।আসি আসসালামু আলাইকুম।
আরদ্ধ আর কোন কথা না বলেই চুপচাপ বাসা থেকে বের হয়ে গেল।ফিরে তাকালো না কোন দিকে।বাবা খানিকক্ষন চুপচাপ বসে থেকে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালেন।মা চললেন তার পিছুপিছু ।আমি চুপচাপ বসে রইলাম।কেউ নেই শুধু আমি একা রয়ে গেলাম।এক রাশ শূন্যতা যেন নিমিষেই গ্রাস করে নিল আমাকে।তখনি টুং করে ফোনে একটা ম্যাসেজ এল।
আরদ্ধ খুদে বার্তা পাঠিয়েছে
-ভেবো না।তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছিনা কখনো।বড্ড ভালোবাসি তোমাকে।
আমার অজান্তেই ঠোটের কোণে একটা হাসি ফুটে উঠল….

চলবে

#জেদ(A Conditional LoveStory)
#পার্ট১৯
#আফরিন_ইনায়াত_কায়া
.
.
মাস দুয়েক কেটে গেছে।বাবা আরদ্ধের ব্যাপারে টু শব্দ পর্যন্ত করেন নি বরং কথা তুলতে গেলেই দেখি বলে এড়িয়ে গিয়েছেন।হয়তো বাবা অপেক্ষায় আছেন আমার প্রোজেক্ট শেষ হওয়ার।হয়তো বাবার সময় দরকার আরো সিদ্ধান্ত নিতে৷ তাতে অবশ্য আমার কোন সমস্যা নেই৷ আরদ্ধকে পাওয়ার জন্যে আমি হাজার বছর অপেক্ষা করতে পারি।সেখানে মাস কয়েক তুচ্ছ। এদিকে আমার কাজের চাপও বেড়েছে ইদানীং।দম ফেলার সময় টুকু ঠিক ভাবে পাই না। অবসর সময়টুকুতেও মাথা গুজে থাকি ল্যাপটপে। তা নিয়ে অবশ্য আরদ্ধ খুব একটা মাথাব্যাথা নেই।সে চুপচাপ আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চুলে নাক গুজে থাকে। এখনো মাস চারেক এর খাটাখাটুনি বাকি। আমার বিয়ে সাময়িক এড়ানো গেলেও আরদ্ধ বেশ প্রেশার খাচ্ছে বিয়ে নিয়ে৷ আরদ্ধর বাবা রেগুলার কোন না কোন মেয়ে খুজে আনে তার জন্যে। আরদ্ধর বাবা বেশ বড় মাপের একজন লোক।তার আশেপাশে সুখের মাছির অভাব নেই।অনেক নামি দামী হাই ক্লাস ফ্যামিলির লোকেরা তাদের মেয়েকে আরদ্ধের ঘাড়ে ঝুলাতে ব্যস্ত।কিন্তু আরদ্ধ শুরু থেকেই ব্যাপারগুলো খুব ভালোভাবে ম্যানেজ করে এসেছে।আমাকে টু শব্দ টুকু জানতে দেয় নি।ছেলেটা সব সময়ই এরকম করে।আমার ছোট খাটো বিপদ গুলো সানন্দে তুলে নেয় নিজের ঘাড়ে আর নিজের ভিতরে বয়ে যাওয়া ঘূর্নিঝড় গুলোকে হাসিমুখে দাবিয়ে রাখে।
কিন্তু সেদিনের ঘটনাটা যেন একটু ব্যতিক্রম ছিল।আরদ্ধর বাবার পেন্ট হাউজে কিটি পার্টি এরেঞ্জ করেছিলেন তার এক বন্ধু। উপলক্ষ ছিল তার মেয়ের জন্মদিন।আরদ্ধর মোটেও ইচ্ছ ছিল না যাওয়ার। কিন্তু বাবার জোড়াজুড়িতে অবশেষে বাধ্য হয় সে। সেজেগুজে টিপটপ হয়ে পার্টিতে গেলেন ফুলবাবু।পার্টিতে পৌছেই আরদ্ধ ছুট লাগাল এক কোনে।ফাকা পেয়ে আমাকে ভিডিও কল দিল।আমি কল রিসিভ করতেই ব্যাক ক্যামেরা অন করে নাক ফুলিয়ে বলতে লাগল
-এই মেয়ের সমস্যা কি?তখন থেকে হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে!জীবনে কোনদিন ছেলে দেখিনি নাকি?
কল রিসিভ করেই আমি একটা ফাইল চেক করছিলাম। আরদ্ধের কথায় পুরো থ বনে গেলাম আমি।ছেলে বলে কি!
স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখি ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরা এক সুন্দরী ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে আরদ্ধর দিকে।আরদ্ধের চাদমুখ খানি এই মুহুর্তে দেখতে না পেলেও আমি বেশ অনুমান করে বলতে পারছি ভ্রু কুচকে বেশ উষখুষ করছে সে। আরদ্ধের কাহিনি শুনে বেশ হাসি পাচ্ছে আমার। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম
-কি করবে বল!তুমি এতটাই হট যে তোমার দিকে তাকালে চোখে পলকই ফেলা যায় না।
আমার কথা শুনে আরদ্ধ সাথে সাথে ক্যামেরা রোটেট করে ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করল
-ফ্লার্ট করছ?
আমি হাসি মুখে মাথা নাড়ালাম।আরদ্ধ রেগে গিয়ে বলল
-বের হতে দেও একবার এই চিড়িয়াখানা থেকে তারপর দেখাচ্ছি তোমাকে ফ্লার্ট করা।
-বারেহ!আমার বয়ফ্রেন্ড আমিই ফ্লার্ট করতে পারব না!যাও গে তুমি তোমার কমলা সুদরীর কাছে।
আরদ্ধ অবাক জিজ্ঞেস করল
-Now who is this কমলা সুন্দরী?
আরদ্ধর কথা শুনে বুঝতে পারলাম সে মেয়েটার দিকে ঠিকভাবে তাকায়নি এখনো।তাহলে হয়তো জানতে পারত যার নালিশ নিয়ে সে আমাকে কল করেছে সেই মেয়ে কমলা রংগের ড্রেস পরে আছে।

আমি কিছু বলব তার আগেই দূর থেকে হালকা স্বরে আরদ্ধর নাম শুনতে পেলাম।ওর বাবা ডাকছে।আরদ্ধ কল না কেটে দিয়েই সেদিকে এগোলো।
আমিও কাজের দিকে মন দিলাম।বেশ কিছুক্ষন পর হালকা শোরগোল শুনে চোখ বেশ অবাক হলাম আমি।আরদ্ধকে জিজ্ঞেস করলাম
-কি হল?
আরদ্ধ শান্ত গলায় জবাব দিল
-Nothing .Relax
আরদ্ধ ফোনটা বেশ সুবিধামত এংগেলে ধরল যাতে আমি সবটুকু দেখতে পাই।কিছুক্ষন পরেই নজরে পরল সবাই সাজানো একটা ছোট টেবিলের সামনে জড়ো হয়েছে।টপস জিন্স পরা এক সুন্দরী কেকটা কাটল সানন্দে।মোমবাতি নিভিয়ে চোখ বুঝে মনের ইচ্ছাটুকুও চেয়ে নিল।Pure western culture.
কেক কাটার পর্ব শেষ হতে না হতেই স্যুট পড়া একজন ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন সামনে।সবার মনযোগ আকর্ষন করে বললেন
-ladies and gentlemen as you all know আজকে আমার একমাত্র মেয়ে আলিসার বার্থডে।Please pray for her long and happy life .But I have another good news.আমি আমার বন্ধু আহমাদ রেজানে চাচ্ছি আমাদের সম্পর্কটাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে।তাই জিসার সাথে রেজানের একমাত্র ছেলে আরদ্ধর বিয়ে ঠিক করেছি।
কথাটা বলেই তিনি হাততালি দিলেন।সাথে যোগ দিলেন উপস্থিত সবাই।
.
.
হাতের পাশে পরে থাকা কোল্ড কফির কাপটা হাতে নিয়েছি মাত্র হঠাত এই কথা শুনে বিষম খেলাম আমি ।হাত ফসকে কিছু কফি ছিটকে পরল আমার হাতে আর ফ্লোরে।হঠাত কি হল কিছু বুঝতে পারলান না।আরদ্ধও দেখি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।আমি অবাক হয়ে আরদ্ধকে জিজ্ঞেস করলাম
-এসব কি আরদ্ধ?তুমি জানতে আগে থেকে?
-I guessed so.
-তাহলে কিছু বলছ না কেন?
আরদ্ধ ধীরে সুস্থে জবাব দিল
-Relax Ina.এনাউন্সমেন্ট করছে শুধু কাজী ডেকে বিয়ে পড়াচ্ছে না এখন।
আরদ্ধের কথা শুনে আমি যেন বলদ বনে গেলাম।আল্লাহ জানে এই ছেলের মাথায় কখন কি চলে!
আরদ্ধ এক কোনে চুপচাপ গ্লাস হাতে মোবাইল টিপছে।খুব মনযোগ সহকারে সে কিছু একটা দেখছে।হঠাত করে তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠল।যেন খুব মহামূল্যবান কিছু পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেকেন্ড দুয়েক পরেই তা আবার মিলিয়ে গেল।আরদ্ধ ফোনটা ছেড়ে চুপচাপ চারদিকে তাকতে লাগল।
কিছুক্ষন পরে আরদ্ধের বাবা তার হবু পুত্রবধুর হাত ধরে আরদ্ধের কাছে এল।উনার চোখে রাগের অভিব্যক্তি প্রকাশ পেলেও হাসি মুখে বললেন
– আহ মাই সান।এত সুন্দর একটা মেয়ে কয়েকদিন পর তোমার বউ হতে যাচ্ছে। কোথায় একটু নিজেদের জানবে ভালো মন্দ গল্প করবে আর তুমি তাকে একা ছেড়ে এইখানে কি করছ?
আরদ্ধ তার বাবার জবাবে বলল
-বিয়ের আগে ছেলের বউএর ভালো মন্দ জানা তোমার কাজ বাবা। আমার জানার জন্যে তো সারাজীবন পরে আছে।
আরদ্ধর জবাবে তার বাবার মুখখানা বেশ কালো হয়ে গেল।কিন্তু নেহায়েত এ নিজেকে সামলে বললেন
– Anyways. You guyz talk আমি ওদিকটা একটু দেখে আসি। Enjoy.
বলেই আরদ্ধর বাবা সেখান থেকে চলে গেলেন।জিসা আরদ্ধের বেশ কাছে এগিয়ে আসতেই আরদ্ধ তাকে বার্থডে উইশ করল।জিসা ধন্যবাদ জানিয়ে বলল
-তখন থেকে দেখছি চুপচাপ এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছ? কোন সমস্যা?
আরদ্ধ বাকা হেসে বলল
– Actually I’m missing Piyash.ওর গার্লফ্রেন্ড এর বার্থডে অথচ ও নেই। How sad!
পিয়াসের নাম শুনে চমকে উঠল জিসা।অবাক চোখে সেকেন্ড কয়েক আরদ্ধর দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেকে সামলে বলল
– কে…কে…মানাফ?কি বলছ তুমি?
আরদ্ধ এবার জিসার দিকে ফিরে বলল
– Oh come on baby doll.I know those nights were fun for you.Don’t be so shy.
আরদ্ধের কথা শুনে এবার আমার অবাক হওয়ার পালা। স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখি আরদ্ধের ঠোটের বাকা হাসিটা প্রসারিত হয়েছে। জিসাকে অবাক হতে দেখে আরদ্ধ বলে উঠল
– কি হল?অবাক হচ্ছ কেন? এত জলদি ভুলে গেলে?
Wait lemme show you.
বলেই আরদ্ধ জিসার সামনে তার ফোনটা তুলে ধরল।জিসা যেন এবার ভুত দেখার মত চমকে উঠল।কাপা কাপা গলায় বলে উঠল
– Call off this marriage. আমাদের দুইজনের জন্যেই ভালো। Otherwise i don’t care actually if my future wife is sleeping with some other guy but our dads must be.
আরদ্ধ কিসের প্রতি ইংগিত করছে জিসার বুঝতে অসুবিধা হয় নি। সে চুপচাপ মাথা নাড়িয়ে সেখান থেকে চলে গেল।আরদ্ধ ঠোটে একটা হাসি ফুটিয়ে ফোনের স্ক্রীন সামনে এনে বলল
– ১৫ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে নামো।আমি আসছি।
বলেই টুক করে ফোনটা কেটে দিল আরদ্ধ।…

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here