ক্রাশ_যখন_বউ,পর্ব ০৫,০৬

ক্রাশ_যখন_বউ,পর্ব ০৫,০৬
মেহেদী
পর্ব ০৫

আমি :- দরজা খুলেই অবাক দৃষ্টিতে আমার
দিকে তাকিয়ে রইল আলিফা।

আলিফা :- তুই মেহেদী না! তর এ কি
পরিবর্তন চিনতেই পারছি না।

ক্ষ্যাত থেকে স্মার্ট হয়ে গেলি কেমনে?
তোর দিক থেকে তো চোখ সরাতে
পারছি না।

আমি :- আপনার চোখ সরাতে হবে না।
আমিই সরে যাচ্ছি।সরেন আমাকে
ভিতরে ঢুকতে দেন।

আলিফা :- আচ্ছা ভিতরে আয়।
বল তো তুই এই স্মার্ট হয়েছিস কি ভাবে।
আগে তো আনস্মার্ট ক্ষ্যাত ছিলি।

আমি :- শুনেন আমি আগে কেমন ছিলাম
সেটা আমি ভুলে গিয়েছি।

আর আপনি আমাকে আমার অসুন্দর
আন স্মার্ট লুকের জন্য কম ছোটো
করেন নাই। এখন আর পারবেন না।

মানুষ চাইলে যে কোনো মুহূর্তে পরিবর্তন
হতে পারে।

আর পরিবর্তন এর কারণ টা আজীবন
মনে রাখে। আমিও মনে রেখে দিয়েছি
আমাকে কতটা অপদস্থ করা হয়েছে তা।

ভুলবো না কখনো। আর এখন থেকে
দেখবেন কিভাবে আমার ভালোবাসাও
পরিবর্তন হয়ে যায়।

আলিফা :- আরে তোর পরিবর্তনে আমার
কিছু আসে যায় না বুঝলি।
কারণ আমি আমার ডাক্তার কে ভালোবাসি।

আম্মু :- বউমা তোমরা দুজনে কিসের
আলাপ করছো?

আরে মেহেদী তোর এত পরিবর্তন কিভাবে❓

আমি কত বলেছি নিজেকে পরিবর্তন
করতে করিসনি। আর এখন বউয়ের
ভালোবাসা পেয়ে এতো পরিবর্তন।

আলিফা :- এমনি হানিমুন নিয়ে আলোচনা
করছিলাম মা।

আমি :- মনে মনে কত বড় মিথ্যা কথা টা
বললো ডায়নিটা। আর আম্মার ও যে
কথা ভালোবাসা পেয়ে নাকি এমন
পরিবর্তন।

সত্য কথা যদি জানতো মা অনেক
বেশি কষ্ট পেতো।যায় হোক এবার
বাস্তবে ফিরে আসা যাক।

মা বিয়ের পর সবাই পরিবর্তন হয়।

তাই আমিও হলাম তাছাড়া আমার বউ
যে সুন্দরী ওর সাথে মানানোর জন্য
আমাকে তো একটু পরিবর্তন
হতে হবেই তাই না।

তাছাড়া ওর ও তো আশা থাকতে পারে
যে ওর স্বামী অনেক স্মার্ট হবে।
তাই সবকিছু ভেবেই এই পরিবর্তন।

আম্মু :- বাহ ভালো লাগলো তোর কথা
শুনে।তুই বুঝতে পারছিস তোর বউকে।

আচ্ছা এখন আয় বাবা খেয়ে বিশ্রাম কর।

আমি :- আচ্ছা আম্মু আমরা ফ্রেস হয়ে আসছি।
তারপর ফ্রেস হয়ে রাতের খাবার
খেয়ে রুমে চলে এলাম।

আলিফা :- শুন আজকে চাইলে তুই
বিছানায় থাকতে পারিস অসুবিধা নেই।

আমি :- তার আর কোনো দরকার নেই।
আমার কোনো চাওয়া নেই সকল চাওয়া
পাওয়া কে মাটি দিয়ে দিছি।
আমি চাইনা কারো সাথে ঘুমোতে।

আলিফা :- নিজে থেকে বললাম তো তাই
দাম দিলি না ওকে যা ফ্লোরেই ঘুমা।

আমি :- জ্বি আপনি বিছানায় আরাম করে
নির্ভয়ে ঘুমান আমি ফ্লোরেই ঘুমাবো।

আলিফা :- ওকে গুড নাইট।

আমি :- দরদ দেখাতে আসছে আমাকে।
চাইনা কেউ আমার প্রতি দরদ দেখাক।
নিজ তো আরাম করে ঘুমাচ্ছে।

কষ্ট হচ্ছে আমার নিজের বাড়ি আর
নিজের কিনা বিছানা রেখে ফ্লোরে
ঘুমাতে হয়।

একেই বলে কপালের নাম গোপাল।
যায় হোক ঘুমিয়ে পড়ি ।

সকাল বেলায়,,,,,,

আলিফা :- এই মেহেদী ঘুম থেকে উঠবি না।
সকাল হয়ে গেছে তো।

আমি :- ঘুম ঘুম চোখে ঘুম ভাবে
কি হয়েছে হ্যাঁ কেবলই তো ঘুমিয়েছি।
বিরক্ত করবেন না যান।

আর চোখে পরীকে দেখে নিলাম।
ভেজা খোলা চুলের ঘ্রাণে আমি
মাতাল হয়ে যাচ্ছি।

অপরুপ সুন্দর লাগছে ওকে।
ধুর কি ভাবছি এসব ওরে নিয়ে এতো
ভেবে লাভ নেই এখন ফ্রেস হয়ে আসি।

ফ্রেস হয়ে সরাসরি নাস্তা করতে চলে গেলাম।
আমার সামনে বসছে আলিফা।

আমি খাওয়ার পাশাপাশি ওকে ও দেখছি।
বিষয় টা ও বুঝতে পেরে,

আলিফা :- এই খাবারের সময় অন্যদিকে
তাকাতে নেই খেয়ে উঠো।

আমি :- মা সাথে তাই আজ বউ ভালোবেসে
সুন্দর করে একটা কথা বললো এতদিনের
বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করার পর।

মা কে দেখানোর জন্য বলা হলেও এতেই
আমি ভালোবাসা খুঁজে নিয়েছি।

খাওয়া শেষে মা বললো,,

আম্মু :- তোমারা সবকিছু গুছিয়ে ফেলো আজ বিকালেই তোমাদের হানিমুনের ফ্লাইট।

আলিফা :- ওয়াও মা এটা তো খুশির কথা
আমি এখনি যাচ্ছি সব কিছু গুছাতে।

এই তুমিও আসো আমাকে হেল্প করবে।
আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো।

আমি :- আচ্ছা চলো। মনে মনে ভাবছি বউ
টা এতো ভালো হলো কেমনে।
আজ ওর কথাতে শুধু ভালোবাসা লেগে আছে।

যায় হোক আমাদের সব কিছু গোছানো
শেষ আমরা এখন রেডি বের হবো।

আমাদের সাথে আম্মুও যাবে আমাদের এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দিয়ে আসবে সাথে ফ্রেন্ডরা ও আছে।
অবশেষে ১ ঘন্টা পর আমরা এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছলাম।

আম্মু :- এই নে বাবা তোদের দুজনের টিকেট।
সাবধানে রাখ আর গিয়ে পৌঁছালেই জানাবি।

আমি :- আচ্ছা মা আমাদের জন্য দোয়া করবে।

বন্ধুরা :- সাবধানে যাস আর কোনো দরকার
পরলে জানাতে ভুলবি না। আর হানিমুন
থেকে আসার সময় সুখবর টা ও নিয়ে আসবি।

আমি :- আচ্ছা তোমরা সবাই ভালো থাকো।
আর মা তুমি নিজের প্রতি খেয়াল রাখবে
ঠিকমতো ঔষধ গুলো খাবে।

কোনো কিছুর দরকার হলে আমার বন্ধুদের
বলবে । আর শুন বন্ধু তোরাও ভালো
থাকিস আর দোয়া করিস।

এই বলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে
আমরা দুজন প্লেনে আমাদের সিটে গিয়ে বসলাম।

আলিফা :- আজ তোমাকে অনেক সুন্দর
লাগছে। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে আমার
দেখে সহ্য হচ্ছে না।তুমি জানালার
পাশে এসে বসো।

আমি :- হুট করে আমার প্রতি এতো প্রেম
কোথা থেকে আসলো। আর ওরা তাকালেই
আপনার কি আপনি তো আমাকে মানেন
না আপনার স্বামী হিসেবে।

আলিফা :- এটি বুঝবে না তুমি।
একটা মেয়ে একটি ছেলেকে ভালো না
বাসলেও সেই ছেলের সাথে অন্য মেয়েকে
সহ্য করতে পারে না।

আর হ্যাঁ তুমি এখন থেকে আমাকে আর
আপনি করে না তুমি করে বলবে না হলে
সবাই ভাববে আমাদের মাঝে কোনো
ঝামেলা আছে।

আমি :- আচ্ছা ঠিক আছে আপনি যা বলেন
তাই হবে।

আলিফা :- আপনি যা বলেন মানে কি হ্যাঁ তুমি বলবা।

আমি :- ওকে তুমি যা বলো।
তারপর প্লেন উড়তে শুরু করলো।
এদিকে এক সুন্দরী এয়ার হোস্টেস এসে
আমাকে বললো।

এয়ার হোস্টেস :- এই যে শুনেন।
আপনি তো মা মেহেদী আর উনি আপনার
স্ত্রী আলিফা সোহাব।

আমি :- হ্যাঁ কি বলবেন বলেন।
আলিফা কে দেখিয়ে সুন্দর করে বললাম।
আলিফা তো জ্বলে পুড়ে মরছে।আমার
অনেক ভালো লাগছে।

এয়ার হোস্টেস :- জ্বি আপনারা আপনাদের
সিটবেল্ট লাগান আর এই যে আপনাদের
নাস্তা খেয়ে নিন । আর যে কোনো প্রয়োজনে
আমাকে ডাকবেন।
একটা কথা আপনাকে অনেক স্মার্ট লাগছে।

আমি :- ওকে ঠিক আছে আমি প্রয়োজনে
আপনাকে ডাকবো। এদিকে বউ তো জ্বলতেছে আগুনের মতো।

আলিফা :- এই কুত্তা হারামী এয়ার হোস্টেস
এর সাথে তুই আর কোনো কথা বলবি না
যা বলার আমি বলবো।
কথাটা মনে থাকে যেনো।

আমি :- আমি ওরে রাগানোর জন্য
এয়ার হোস্টেস কে ডাক দিতে যাবো
যখন তখনই ও আমাকে ধরে……
·
·
·
চলবে…………………
#ক্রাশ_যখন_বউ (পর্ব ০৬)
#মেহেদী
·
·
·
আলিফা আমাকে অমনি ধরে বললো,,,,

আলিফা :- এই কুত্তা তোকে না কেবলই
বললাম তুই ঐ মেয়েকে ডাকবি না।

তাহলে কেন ডাকলি আমার কথা কি
মাথায় ঢুকেনি নাকি মেরে ঢুকাতে হবে ।

আমি :- এই ছাড়ো না সবাই দেখছে।
সবাই কি বলবে বল তো।

ছেড়ে দাও তোমার স্বামীর মান সম্মান
কি তুমিই ক্ষুন্ন করতে চাও?

আলিফা :- দেখার দেখুক। আমি আমার
জুনিয়র স্বামীকে শাসন করবো
এতে কার কি হ্যাঁ।

একদম চুপচাপ বসে থাকবে কারো সাথে
কথা বলা তো দুরে থাক তাকাবেও না।

আমি :- আচ্ছা জো হুকুম মহারানী ।
আমি আর কারো দিকে তাকাবোও না
শুধু আমার এই পরীর দিকেই অপলক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবো।

আর তোমার রূপের মুগ্ধতায় নিজেকে
ডুবিয়ে নিবো।

আলিফা :- এই যাও তো দুষ্টু। এভাবে বলবে
না আমার লজ্জা লাগে আর পরে
তোমার প্রেমে পড়ে যাবো।

আমি :- ওর হাতটি ধরে বললাম সমস্যা নাই
তো স্বামীর প্রেমে তো স্ত্রীই পড়বে।

আলিফা :- কিন্তু আমি যে ডাক্তার কে
ভালোবাসি।ওরে ভুলতে পারবো না আমি।

আমি :- আমি তোমাকে এতো বেশি ভালোবাসা
দিবো যে তুমি ডাক্তার কে ভুলে গিয়ে আমার ভালোবাসায় ডুব দিতে চাইবে।

আলিফা :- আচ্ছা দুষ্টু এখন চুপ করে বসো।
এয়ার হোস্টেস আপু দয়া করে
একটু এদিকে আসবেন।

এয়ার হোস্টেস :- জ্বি ম্যাম বলুন।

আলিফা :- আপনি এখন থেকে যা কথা
বলার আমার সাথে বলবেন।

আমার স্বামীর সাথে কোনো কথা বলতে হবে না।

এয়ার হোস্টেস :- কিন্তু আপু!

আলিফা :- কোনো কিন্তু নেই আমি যা বলছি তাই করবেন। কথাটা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন।

এয়ার হোস্টেস :- আচ্ছা ম্যাম ঠিক আছে।

আমি :- তুমি এভাবে না বললেও পারতে।

আলিফা :- আমি কিভাবে বলবো না বলবো
সেটা তোমার বলে দিতে হবে না।চুপ করে
বসে থাকো আমার দিকে তাকিয়ে।

আমি :- আচ্ছা বউ। ব্যপারটা বুঝছি না
ওকি প্রেমে পড়লো আমার ?
হঠাৎ করে এতো ভালোবাসা কেন দেখাচ্ছে?

যাইহোক আমি এতো কিছু ভাবতে পারবো
না বরং ওর দিকে তাকিয়ে ওর রূপের
মুগ্ধতায় ডুবে যায়।

অতঃপর ৩ ঘন্টা শেষে প্লেন অবতরণ করলো।

আলিফা :- এই আমার হাত ধরে নিয়ে নামবে। একা একা চলে যাচ্ছে বউকে রেখে কত বড় কলিজা।

আমি :- আচ্ছা আসো।

তারপর আমরা এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি
নিয়ে সোজা বালির রিসোর্ট এর কাছাকাছি
একটি হোটেলে গিয়ে উঠি।

হোটেল টি খুব নিরিবিলি জায়গায়। সমূদ্রের
সাথে তাই বারান্দা থেকে সমূদ্রের ভিউটা
উপভোগ করা যায়।

আমাদের পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে তাই
আর আজ সমূদ্র সৈকতে যায়নি।

এসেই বাসায় ফোন দিয়ে আম্মুকে ও
বন্ধুদের জানিয়ে বারান্দায় বসে সমূদ্রের
তীরে আছড়ে পড়া ঢেউ আর সমূদ্রের
ভিউটা উপভোগ করছি। এমতাবস্থায়..

আলিফা :- এই আর কতক্ষণ বসে থাকবে
আসো ডিনার করে এসে গল্প করবো।

আমি :- ওকে চলো । তারপর দুজন একসাথে
হাতে হাত মিলিয়ে চলে গেলাম ডিনার করতে।
ডিনার শেষ করে দুজন ২ কাপ কফি
নিয়ে বারান্দায় বসে সমূদ্রের মনোরম
পরিবেশটা উপভোগ করতেছি।

আলিফা :- দেখছো সমূদ্র কত সুন্দর।
কালকে আমরা ব্রেকফাস্ট করেই সৈকতে
চলে যাবো হুম।

আমি :- আচ্ছা বউ যাবো। তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। তোমার চোখের লেপ্টানো কাজল, দীঘল কালো কেশ,ঠোঁটের নিচের তিল আমাকে কিল করে নিচ্ছে। তোমার চুলের ঘ্রাণে আমি মাতাল হয়ে যাচ্ছি। আমার ইচ্ছে করছে আজ তোমার মাঝে ডুবে যেতে।

আলিফা :- ইশ এভাবে বলিও না। আসো আজ
তোমাকে আমি আমার করে নিবো।

আমি :- আজ আমার খুব ভালো লাগছে ।
আজ আমি আমার বউয়ের ভালোবাসা একদম কাছ থেকে উপভোগ করবো।
তারপর সোজা চলে গেলাম বেডরুমে।

আলিফা :- আসো কাছে আসো।
আমি :- মাতাল হয়ে ওর নেশায় ডুবে যাওয়ার জন্য কাছে চলে গেলাম একদম কাছে। ওর নিশ্বাস আমার মুখে আর আমার নিশ্বাস ও মুখের উপর পড়ছে।

আলিফা :- এই সরো কিছু হবে না।আমার পাশে চুপ করে ঘুমিয়ে পড়বে। কোনো দুষ্টুমি নয়।

আমি :- ধ্যাত ভাল্লাগে না এই সময় কেউ
এমন কথা বলে। নিজেই বললো ওর করে
নিবে এখন আবার নিজেই বলে কি না
কিছু হবে না।

এটা কেমন ভালোবাসা ধ্যাত ভাল্লাগে না।
ঘুমিয়ে পড়ি যা হবার কাল হবে।
সকালে ওর চিমটি খেয়ে ঘুম শেষ।

আলিফা :- ঐ উঠো ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে বীচে যাবো।

আমি :- আচ্ছা আমি আসছি ফ্রেস হয়ে আর এতো জোরে কেউ চিমটি দেয় নাকি অনেক লাগছে।

আলিফা :- এই টুকু তেই লাগছে আরো
ব্যথা অপেক্ষা করতেছে। just wait মেহেদী
just wait (আস্তে বলল )

আমি :- কি বিড়বিড় করতেছো।

আলিফা :- কিছু না ফ্রেস হয়ে আসো।

আমি :- ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে দুজনে বালির
একটি কফিশপে গেলাম। এখানে অনেক
ভালো কফি পাওয়া যায় যা বিশ্বের
সেরা মানের কফি এবং এখান থেকেই
এগুলো সাপ্লাই দেওয়া হয়।

আর এই কফি এক জাতের পচা মাছের
থেকে বানানো হয়। এটি শুনে আমার আর
কফি খেতে ইচ্ছে করছে না।

তবুও এখানে আসছি আর এখানের নামকরা
কফি না খাইলে তো হবে না। তারপর দুজনে
কফি খেয়ে বীচের দিকে রওনা দিলাম।

আলিফা :- দেখছো বীচটা কতো সুন্দর।পানি
একদম ফ্রেস নিচের বালি দেখা যাচ্ছে
এতে পরিস্কার। এই চলো না একটু দুজনে
ভিজে গোসল করে যায়।

আমি :- না এখানে না এখানের সবচেয়ে
আকর্ষণীয় পিংক বীচে গিয়ে ভিজবো।

আলিফা :- আচ্ছা চলো তাহলে আমরা
পিংক বীচেই যাই।

আমি :- তারপর আমরা একটি স্পিড বোটে
করে পিংক বীচে গেলাম।

আলিফা :- ওয়াও জোস কতো সুন্দর বীচ একদম পিংক।

আমি :- হুম আর এজন্য এই বীচের নাম পিংক বীচ।

আলিফা :- ওকে চলো সুইম কস্টিউম পড়ে আমরা সাঁতার কাটবো।

আমি :- ওকে।

তারপর দুজনে সুইম কস্টিউম পড়ে
পানিতে নেমে পড়লাম।

আলিফা :- অনেক ভালো লাগছে আমার
আজকে। এই চলো না আমরা ঐ পাশে যায়
এ পাশে মানুষ আছে ঐ পাশে কেউ নাই।

নিশ্চয় ঐ পাশের পানি আরো বেশি পরিস্কার।

আমি :- আচ্ছা চলো।

আমরাই শুধু আর কেউ নাই এখানে। সাগরের
উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বীচে। ভিউটা
জোস আর সাথে সুন্দরী বউ সব মিলিয়ে
নিজেকে সিনেমার হিরো মনে হচ্ছে।

আলিফা :- এই আমি একটু ঝিনুক কুড়োবো
আমার অনেক শখ এটি।

আমি :- আচ্ছা যাও।

আমি সাঁতার কাটতে লাগলাম।

থাকতে থাকতেই হুট করে একটি বড় ঢেউ এসে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে তীরে ফেললো।

তারপর আমি মাথা উঁচু করে দেখি পাঁচজন
বখাটে গুন্ডা টাইপের লোক আমার
সামনে দাঁড়িয়ে। আমি উঠে যেতে লাগলেই
একজন কাধে হাত রেখে বলে,,

বখাটে :- কোথায় যাবেন ভাই।

আমি :- আমার বউকে নিয়ে এখন হোটেলে ফিরবো। (কেন জানি তাদের আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না তাই চলে যেতে চাইলাম)।

বখাটে :- ভাই আপনি মনে হয় ভুলে গেছেন
এখানে কেউ আসলে আর ফিরে যেতে পারে না।

আমি :- কথাটি শুনেই আমার গাঁ শিউরে উঠে।
চুপসে যাওয়া কণ্ঠে বললাম। কি বলছেন
ভাই যেতে পারবো না কেন আসছি যখন
তখন যেতেও পারবো।

বখাটে :- সিগারেটে জোরে টান দিয়ে আমার
মুখে ধোয়া ফু দিয়ে বললো। এই বীচ পিংক
বীচ হলেও আজ তোর জন্য এই বীচ ডেড বীচ।

আমি :- বুঝতে আর দেরি হলো না এরা
গুন্ডা আমাকে ফেলে হয়তো আমার
বউকে নিয়ে চলে যাবে।

আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি আলিফা
কোথাও নেই।আমি অনেক ভয় পেয়ে যায়।
আমি পালানোর চেষ্টা করার আগেই
হায়েনার দল আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।

প্রাণপণে চেষ্টা করলাম নিজেকে বাঁচানোর
জন্য কিন্তু পেরে উঠলাম না পাঁচজনের
সাথে। অনেক্ষণ মারার পর তারা
ভাবছে আমি মারা গিয়েছি।

তাই বখাটে গুন্ডাদের লিডার কারে যেনো
ফোন দিয়ে আসতে বললো। কিছুক্ষণ
পর আমি যা দেখলাম তা দেখার জন্য
আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

দেখলাম আলিফা একটি লোকের সাথে
হাসতে হাসতে এই গুন্ডাদের কাছে আসলো।
লোকটি আর কেউ না আলিফার প্রেমিক
ডাক্তার নিলয় । (Dost dont mind.আমার
friend er nam নিলয়)

নিলয় :- কাজ খতম হয়েছে।

বখাটে :- হ্যাঁ বস আপনি যেভাবে বলছেন
সেভাবেই করেছি।

আলিফা :- আহারে বেচারা কি ভয়ংকর
মৃত্যুটাই না দেখতে হলো দুদিনের
দেখানো মিথ্যা ভালোবাসায় সব ভুলে গেছিলো।

নিলয় :- লাশটা কে এই সমুদ্রে ভাসিয়ে দে।
আর নে তোদের পারিশ্রমিক।

আমি :- এসব কি দেখছি কি শুনলাম আমি।
আমার ভালোবাসাই আমার মৃত্যুর কারণ।

আমি কি দোষ করেছিলাম ।
শুধু ভালোবেসে ছিলাম ।

আমি তো নিজেই ওর লাইফ থেকে সরে
যেতে চেয়েছি আর ও কিনা আমাকে
এ ভাবে মিথ্যা ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে
এভাবে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দিচ্ছে।

এতো নিষ্ঠুর হয় কিভাবে একটা মানুষ।
চলে গেলো ওরা দুজন আর বখাটেরা
আমাকে জোরে জোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে
আমাকে ভাসিয়ে দিলো তারপর আমার আর কিছু মনে নাই।
·
·
·
চলবে…………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here