একজন_অনন্যার_গল্প_শেষ_পর্ব

#একজন_অনন্যার_গল্প_শেষ_পর্ব

অমিতকে ছাড়া ছোট দুটি বাচ্চাকে নিয়ে অনন্যা, ঢাকায় এক কঠিন জীবন সংগ্রামে পতিত হলো।অনন্যার কাছে সব সময় মনে হতো বিবাহিত জীবনে আত্মিক প্রেমের প্রয়োজন অনেক বেশি। কারন আত্মিক প্রেম অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়। আর স্বামী- স্ত্রীর আত্মিক প্রেম যাদুর মতো প্রভাব বিস্তার করে। বিয়ের পর বছরখানেক তাদের মধ্যে এই আত্মিক প্রেমটা ছিলো। কিন্তু বিয়ের বছর খানেক যেতে না যেতেই সংসার জীবনে অমিতের উদাসীনতা অনন্যাকে অনেক বেশি বেদনার্ত করে তুলেছিলো,,যা
থেকে সে ধীরে ধীরে বুঝে গিয়েছিল অমিতের মধ্যে
আত্মিক প্রেমের বড় অভাব।

ঢাকা অনন্যার খুব পরিচিত আর ভালোবাসার শহর।
এখানে সে কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে।
তাছাড়া তার বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই এখানে আছে। কিন্তু তারপর ও অমিতের জন্য তার মনটা কেমন
যেনো ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে। যখন তার বড় মেয়েটা তার বাবাকে দেখার জন্য মন খারাপ করতো,তখন অনন্যার মনটাও অমিতের জন্য অনেক উতলা হয়ে
থাকতো।

অনন্যা, ঢাকায় এসে নামিরাকে একটি ভালো ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করে দেয়। নামিরাকে কেন ইংরেজি
মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করানো হলো, তা নিয়ে অমিত, অনন্যাকে অনেক মানষিক নির্যাতন শুরু করে দেয়।কিন্তু অনন্যা বিন্দুমাত্র অমিতের কথাকে গ্রাহ্য না করে, কিভাবে নামিরা সেখানে ভালো রেজাল্ট করতে পারবে , সেই প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়।

অনন্যা তার বাবার বাড়িতে একমাস কাটানোর পর কেমন যেনো একটা অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তার ছোট ভাই বোনেরা সবাই ছিলো অত্যন্ত মেধাবী। তাই তারা বেশির ভাগ সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো ।
তার বাচ্চারা ছোট হওয়ায় তাদের চিৎকার, চেঁচামেচিতে তার ভাইবোনেরা পড়াশোনা
করার সময় মাঝে মাঝে বিরক্ত বোধ করতো । তবে পড়াশোনার সময়টা বাদ দিয়ে অন্য সময় তারা অনন্যার দুটি বাচ্চা নামিরা আর জাবিরাকে অনেক আদর করে এবং তাদেরকে নিয়ে সুন্দর সময় কাটায়। সত্যি বলতে, বিয়ে হয়ে যাবার পর বাবার বাড়িটাও মেয়েদের জন্য কেমন যেনো পর হয়ে যায়। তাই এভাবে তার বাবার বাসায় অনন্যা আর কতদিন কাটাবে?? সেজন্য অনন্যা তার বাবার বাসার কাছে নিজের জন্য একটা বাসা খুঁজতে থাকে । একটা ছোট দুই রুমের বাসা সে পেয়ে যায়। ঢাকায় আসার পর অনন্যা একদম ভুলে গেলো যে সে এতো বড় ব্যবসায়ী পরিবারের বউ । কারন অমিত অনন্যাকে টাকা পয়সা দেবার ক্ষেত্রে ছিলো অনেক বেশি হিসেবি। তবে অমিত অনন্যা আর তার দুই বাচ্চার সব ধরনের খরচ করার জন্য যা টাকা-পয়সা লাগতো তা সব সময় দিতো কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। অনন্যা তার শ্বশুরবাড়ির এতো বড়ো বাড়ি, গাড়ির কথা ভুলে, খুব সাধারণ মধ্যবিত্তের মতো জীবনযাপন শুরু করলো।

অনন্যাও ছিলো অনেক শিক্ষিত আর ভদ্র পরিবারেরর সন্তান। তাই অনন্যার বোনেরা তার মতো এতো বড়লোক বাড়ির বউকে এরকম সাদামাটা জীবন-যাপন করতে দেখে অনেক সময় মন খারাপ করতো। কিন্তু অনন্যা ছিলো অত্যন্ত শক্ত প্রকৃতির তাই অনন্যা কখনো অমিতের মতো পুরুষের ক্ষেত্রে জোর করে কিছু আদায় করাটা অপছন্দ করতো । নামিরা ঢাকা আসার পর ,তার দাদার এতো বড়ো বাড়িটায় সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করাটা প্রচন্ড মিস করতো। ঢাকায় এসে এতো ছোট বাসায় থেকে প্রায়ই দাদার বাড়ি অর্থাৎ অমিতদের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য আবদার করতো। তখন অনন্যার মনটা বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হতো।

অনন্যার শাশুড়িকে বাহিরে থেকে দেখে অনন্যার সব সময় অনেক কঠিন মনে হতো আর অনন্যার সাথে
তার ব্যবহারটা ও ছিলো অনেকটা সেরকমই। কিন্তু অনন্যার দু’টি বাচ্চার প্রতি তার শাশুড়ি ছিলো অনেক বেশি সহানুভূতিশীল। কারন এতো শান্ত আর ভদ্র বাচ্চা, তার শাশুড়ি এ বাড়িতে আর কাউকে পায়নি।তাই অনন্যার শাশুড়ি ঢাকায় প্রায়ই তার বাচ্চাদের জন্য মুরগী,পোলাউয়ের চাল, ঘি এগুলি পাঠাতো। অনন্যার বাচ্চাদের প্রতি তার শাশুড়ির এ রকম মায়া,তার শ্বশুর বাড়ির আর কোনো বাচ্চার প্রতি অনন্যা কখনো দেখতে পায়নি।

নামিরা ইংরেজি মাধ্যমের জুনিয়র সেকশনের চার বছরের কোর্সটি দুই বছরে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে
পাশ করে ফেললো। তারপর প্রতিটি ক্লাসে নামিরা খুব ভালো রেজাল্ট করতে লাগলো। ইংরেজি মাধ্যমের অন্য সব বাচ্চাদের চেয়ে নাামিরা, আর তার ছোট বোন জাবিরা ছিলো একটু অন্যরকম। তারা ছিলো অত্যন্ত ভদ্র আর শান্তশিষ্ট বাচ্চা।

অমিত মাঝে মাঝে ঢাকা আসলেও বাচ্চাদের একটু
আধটু দুষ্টুমি একেবারে সহ্য করতে পারতো না।
সব সময় অনন্যাকে বাচ্চাদের চড়- থাপ্পড় দেবার জন্য বলতো। এ কথা শুনে অনন্যা অনেক কষ্ট পেতো।
সে কখনো তার বাচ্চাদের মারধোর করে মানুষ করার পক্ষপাতি ছিলো না। তবে অমিতের এই কথার শোনার পর বাচ্চাদের সাথে সে অনেক সময় রাগারাগি করতো, যা ছিলো তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নামিরার সুন্দর আচরণের জন্য তার প্রতিটি ক্লাসটিচার তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতো।

ঢাকায় আসার পর, ৩/৪ বছর অনন্যা তাদের পাশাপাশি বাসায় টিউশনি করাতো।
ইংরেজি মাধ্যমের, ইংরেজি গ্রামার বিষয়টা ছিলো অনেক কঠিন। অনন্যা নিজে ও ইংরেজিতে অনেক
পারদর্শী ছিলো। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমের গ্রামারটা
বাংলা মাধ্যমের গ্রামারের তুলনায় অনেক কঠিন ছিলো
বিধায় সে তার মেয়ে নামিরার কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা নিতো পারতো, কারণ নামিরা ছিলো অনেক বেশি মেধাবী।

অনন্যা ইংরেজি মাধ্যমের বাচ্চাদের টিউশনি করানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার একটা নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়ে গেলো। তার ছোট বাচ্চাকে ও সে তার বড় মেয়ের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলো।

অনন্যা তার ছোট দুই বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকা আসার বেশ কয়েক বছর পর একদিন তার দুই বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয়ে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলো,তখন একদিন নামিরা হঠাৎ মাঝ রাস্তায় পড়ে যায়। একথা শুনে বাবা হিসেবে নামিরার জন্য অমিতের খুব মন খারাপ হয়।
সে সময়ের পর থেকে সে তার স্ত্রী সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো অনেক উতলা হয়ে পরে। তারপর অমিত, তাদের জন্য একটা ভালো গাড়ি কিনে দেয়।

যত উপরের ক্লাসে নামিরা উঠতে লাগলো শিক্ষক,অভিভাবক এর মিটিংয়ে নামিরার সম্পর্কে তার শিক্ষকদের মন্তব্য শুনে অনন্যার মনটা আনন্দে ভরে উঠতো।

একদিন অনন্যা, নামিরাকে স্কুলের ক্যান্টিন থেকে নামিরার পছন্দের কোনো খাবার কিনে খাওয়ার জন্য কিছু টাকা দিলো। এই টাকা নামিরা নিজে না খেয়ে স্কুলে বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্যে সব টাকা দিয়ে দিলো। তা শুনে অনন্যার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। নামিরা শুধুমাত্র পড়াশোনা নয় ভালো ব্যবহার দিয়ে তার শিক্ষক ও তার বন্ধু বান্ধবদের মন ও জয় করে ছিলো।

অনন্যা যখন তার ছোট বাচ্চা জাবিরাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলো তখন অনন্যা তার স্কুলের কাজের
চাপে জাবিরার পড়াশোনাটা ভালো করে খেয়াল
করতে পারতো না। জাবিরা ছিলো একটু ফাঁকিবাজ টাইপের। এ কারণে অনন্যার খুব মন খারাপ থাকতো।
কিন্তু জাবিরার স্কুলের যিনি টিচার্স ইনচার্জ ছিলেন তিনি জাবিরাকে অত্যন্ত আদর করতেন। তিনি বলতেন,শুধুমাত্র পড়ালেখায় খুব ভালো হলেই একটা বাচ্চাকে ভালো বলা যায় না আরো অনেক গুনের প্রয়োজন হয়। আপনার বাচ্চা পড়াশোনা একটু কম পারলেও বাকি সব গুনগুলি তার মধ্যে বিদ্যমান। সে
একদিন খুব উন্নতি করবে বলে আমার বিশ্বাস । সত্যি সত্যিই ঐ শিক্ষকের কথাগুলো কয়েক বছরের মধ্যে সত্যি প্রমাণিত হলো।

অনন্যা আর তার দু’টি বাচ্চার স্কুল পৃথক পৃথক হওয়াতে তাদের স্কুল ছুটির সময় কোথাও বেড়াতে যাওয়া নিয়ে খুব সমস্যা হতো। অনন্যার স্কুলের ছুটি
শেষ হয়ে যাবার পর , তার বাচ্চাদের ছুটি শুরু হতো।এই করে করে বেশ কয়েকবছর চলে গেলো,, অনন্যার শাশুড়ি স্কুল ছুটির সময় তার নাতনিদের দেখতে না পেয়ে খুব মন খারাপ করতো। সে কারণে অনন্যা ও চিন্তা করতে লাগলো তার বাচ্চাদের স্কুলে চাকরির চেষ্টা করবে। সত্যি সত্যিই একদিন ঐ স্কুলে পরীক্ষা দেবার পর বাচ্চাদের স্কুলে অনন্যার চাকুরীটা হয়ে গেলো। তার এ স্কুলে চাকরি হওয়াতে তার বড় মেয়ে নামিরার মাসিক বেতনটাও অর্ধেক হয়ে যায়। এ যেনো সোনায় সোহাগা। অনন্যা ভেবেছিলো সে বাংলা মিডিয়ামের হওয়াতে ইংরেজি মাধ্যমের এতো ভালো স্কুলে চাকুরী হওয়াটা তারজন্য আশাতীত ব্যাপার। কিন্তু এতো ভালো চাকরিটা তার হয়ে যাওয়াতে সব দিক মিলিয়ে অনন্যার অনেক সুবিধা হয়ে গেলো।

অনন্যা চেয়েছিলো তার বাচ্চারা যেনো হিসেবি হয়।কারণ ইংরেজি মাধ্যমের বেশির ভাগ বাচ্চারাই আসে উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে। তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেহিসেবী এবং অনেক বেশি অহংকারী হয়ে থাকে। কিন্তু এ দুটি বিষয় অনন্যার খুব অপছন্দ ছিলো।
তাই অনন্যা তার বাচ্চাদের টাকা জমানোর জন্য খুব আকর্ষণীয় বক্স কিনে দিতো, যেগুলোর একপাশে ছোট ছোট তালাচাবির সিস্টেম ছিলো।
এক কথায় বাহ্যিক দিক দিয়ে এই কয়েন বক্সগুলো ছিলো অনেক বেশি আকর্ষণীয়। টাকা পয়সা জমানোর
এ রকম কয়েনবক্স পেয়ে তার বাচ্চারা ঈদে -পার্বনে বা জন্মদিনে আপন আত্মীয় স্বজনদের থেকে পাওয়া টাকা পয়সা, ঐ কয়েন বক্সে এনে জমাতো। অনন্যা সব সময় তার বাচ্চাদের বুঝাতো, তোমরা তোমাদের জমানো টাকা থেকে অর্ধেকের বেশি খরচ করবে আর অর্ধেকের কম টাকা জমাবে। কিন্তু দেখা যেতো, তার বাচ্চারা কয়েন বক্সের জমানো টাকা সেভাবে আর খরচ করতো না। মাঝে মাঝে অনন্যাও তাদের থেকে ধার নিয়ে আবার কিছু লাভ দিয়ে ফেরত দিতো। এভাবে অনন্যা তার বাচ্চাদের মধ্যে একটা সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তুললো।
:
অনন্যা সব সময় চাইতো, তার বাচ্চাগুলি সৎগুণসম্পন্ন
হোক। তারা যেনো তাদের সহৃদয়তা দিয়ে সবার মন জয় করে নিতে পারে। নামিরা আর জাবিরা যতো বড়
হতে লাগলো অনন্যা, তার বাচ্চাদের মধ্যে এ গুনগুলি
স্পষ্টভাবে যেনো দেখতে পেলো। অনন্যার বাসার ড্রাইভার, কাজের লোক, তাদের স্কুলের শিক্ষক এবং
শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের কথা শুনেও সে তা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে।
:
ঢাকায় আসার পর নামিরা আর জাবিরাকে নিয়ে, অনেকদিন ধরেই অনন্যা, অমিতদের মতো বড়লোক বাড়ির বউ হবার পর ও এতোটা কষ্ট সহ্য করাতে, অনন্যার স্বামী অমিত অনন্যার নামে একটা ভালো খোলামেলা ফ্ল্যাট কিনে দিলো । যে ফ্ল্যাটে নামিরা আর জাবিরা পাশের বাসার অন্য বাচ্চাদের সাথে অবসর সময় পেলেই দৌড়াদৌড়ি করতে পারে।
:
সঠিকভাবে বাচ্চাদের প্রতিপালন করার জন্য
অনন্যার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ও এখন তার প্রশংসায়
পঞ্চমুখ। তাদের কথা হলো, **অনন্যা যেভাবে বাচ্চাদের মানুষ করেছে এ বাড়ির অন্য কোন বউদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি, অনন্যার রান্নাবান্না ও খুব
সুস্বাদু, অনন্যার মনটাও অনেক নরম আর মুরুব্বিদের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল, অনন্যা কখনো বেহিসেবী জীবন যাপন করে নি **। শ্বশুর বাড়ির লোকদের মুখে এখন শুধু তার প্রশংসা আর প্রশংসা । অনেক পরে হলে ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মুখে এ রকম প্রশংসা অনন্যার মনকে আনন্দিত করে।

:

নামিরা আর জাবিরা যতো উপরের ক্লাসে উঠতে
লাগলো, ততোই কৃতিত্বের সাথে তারা পরীক্ষায় পাশ করতে লাগলো। জাবিরা, বাংলায় অনেক দুর্বল ছিলো কিন্তু অনন্যা ক্সাস ফাইভে উঠার পর এ বিষয়টি
এমনভাবে তাকে শিক্ষা দিলো, যাতে পরবর্তীতে সে বাংলায় অনেক ভালো নাম্বার পেতে পারে। পরবর্তীতে সত্যি সত্যিই জাবিরা এতো ভালো করতো যে , তার মা অনন্যা বাংলা মাধ্যমের হয়েও কখনো বাংলায় এতো ভালো করতে পারেনি।

:

নামিরা ইংরেজি মাধ্যমের **ও -লেভেল **আর এ- লেভেল পরীক্ষায় আশাতীতভাবে ভালো ফলাফল
করলো, যে কারণে দুটি পরীক্ষাতেই নামিরা**ডেইলি স্টার **এওয়ার্ড পেলো। তারপর নামিরা মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় ও খুব ভালো ফলাফল করলো। যার ফলে সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চান্স পেয়ে গেলো,,যেটা সর্বযুগে, সর্বকালে সোনার হরিণের মতোই একটি দুর্লভ বিষয় ছিলো। আর সে-কারণেই অনন্যা তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, তার সৃষ্টকর্তাকে শুকরিয়া জানায়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চান্স পাবার কয়েকমাস পর কি একটা কমপিটিশনে নামিরাদের চারজনের দলটি প্রথম স্থান অধিকার করে আশি হাজার টাকা জয় করে নেয়। যা দেখে অনন্যা তার বাচ্চা নামিরার প্রতি অনেক বেশি মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়। তার বাচ্চা নামিরা ছিলো রান্নাবান্নায় ও সমান পারদর্শী। অনন্যা সব সময় চাইতো নামিরা যেনো বাসার বাহিরে গিয়ে তার বন্ধু বান্ধবদের সাথে সময় না কাটিয়ে, তাদের বাসায় তার বন্ধু- বান্ধবদের এনে সারাদিন সুন্দর সময় কাটায় এবং তার বন্ধু বান্ধবদের ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ায় কারণ বাইরে ঘুরাঘুরি না করার জন্য অনন্যা তার মেয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি চিন্তা মুক্ত থাকবে।

:

দিনের পর দিন অনন্যা তার স্বামী অমিতের অবহেলা – অনাদর সহ্য করে যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে , তা আমাদের সমাজে যে-কোন নারীর ক্ষেত্রে মেনে নেয়া ছিলো খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। এ ধরণের মানষিক কষ্ট সহ্য করে করে আমাদের সমাজে অনেক নারীরাই মানষিক রোগী হয়ে যায়। সে কারণে তাদের আর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া একেবারেই সম্ভব হয় না। অনন্যার নিজের প্রতি নিজের একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো, সে চ্যালেঞ্জে সে সার্থকভাবে জয়ী হয়েছে। তাই বলা যায়, সে আজ একজন সফল নারী।

:

অনন্যা সব সময় চিন্তা করে, একটা পরিবার সুন্দর
হতে হলে স্বামী- স্ত্রী, উভয়েই উভয়কে সন্মান করতে
হবে। যে যেখানে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য, সে জায়গায়
তাকে প্রশংসা করতে হবে। একজন আরেকজনকে
সত্যিকারভাবে ভালোবাসতে হবে। তাহলেই সেই সংসারটিতে থাকবে ভালোবাসার দখিনা বাতাস।
অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তারপর ও অনন্যা
বলে উঠে —

আমার প্রশান্তির জায়গা আমার সংসার,

যেথায় দখিনা বাতাস দোলা দিয়ে যায় বার বার —

কোনো কিছুই করে না এখানে ক্লান্তি,

আমার ঘরে আছে এক অনাবিল শান্তি।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here