আশিকি❤ #Madness_Of_Love,13,14

❤#আশিকি❤
#Madness_Of_Love,13,14
#Writer_Sanjana_Fahmida_Shabnam
#Part_13

সানাহ গার্ল্স হোস্টেলে থাকে। এই চার বছর ও হোস্টেলে থেকেই নিজের স্টাডি কমপ্লিট করবে। ওর আম্মুকে অনেক ভাবে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সানাহ পারমিশন নিয়েছে একা হোস্টেলে থাকার জন্য।

সানাহ কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে এমন সময় ওর আম্মুর কল আসে।

সানাহঃ হ্যালো আম্মিজান,,,

রাহেলাঃ কেমন আছো সানু,,,

সানাহঃ ফার্স্ট ক্লাস তুমি?

রাহেলাঃ তোমাকে ছাড়া কেমন থাকতে পারি,,, তোমার চিন্তায় তো আমার রাতের ঘুম যেন হারাম হয়ে গেছে।

সানাহঃ ওফফো আম্মু আ’ম গ্ৰো আপ নাও,,, আমি এখন নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারি। এই যে দেখ আমি একদম পারফেক্ট আছি,, তাছাড়া খুব ভালো ভাবেই নিজের খেয়াল নিজে রাখছি। সো ডোন্ট ওয়ারি এবাউট মি,,,,

রাহেলাঃ হুম বুঝেছি আপনি এখন বড় হয়ে গিয়েছেন এবং নিজের খেয়াল নিজে রাখতে পারেন।

কিছুক্ষন মায়ের সাথে কথা বলে সানাহ ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যায় কলেজের উদ্দেশ্যে।

বাইরে এসে রিকশার জন্য ওয়েট করছে ও। রিকশা খোজার বাহানায় আশেপাশে আমালকে খোঁজার চেষ্টা করছে সানাহ।

আমাল প্রতিদিন সানাহকে কলেজের জন্য পিক করতে আসে বাট সানাহ যায় না ওর সাথে। আমাল‌ও গ্ৰাহ্য না করে টাইম মত চলে আসে সানাহকে নিতে। সানাহ রিকশা করে গেলে আমাল গাড়ি লো স্পীড করে সানার পিছু পিছু আসে। ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করে সানাহ,,,

কিন্তু আজ রাস্তায় আমালের গাড়ি নেই দেখে মুখের হাসি যেনো উধাও হয়ে গেল ওর। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও আমাল আসলো না। সানাহ মন খারাপ করে রিকশায় উঠে যায়। কেমন যেন একটা খালি খালি অনুভূতি হচ্ছে মনের মধ্যে। কিছু একটা যেন মিসিং,,,

প্রতিদিন আমালের হাসি মাখা মুখ দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে সানাহ তাই আজ ওর অনুপস্থিত হৃদয়ের কোথাও ব্যথা দিচ্ছে।

সারা রাস্তায় পেছনে তাকাতে তাকাতে এসেছে সানাহ এই বুঝি আমালের গাড়ি দেখা যাবে। কিন্তু নাহ আমাল আসে নি আজ সানার জন্য।

মনে ভয় সৃষ্টি হচ্ছে সানার। আমাল ঠিক আছে তো নাকি ওর কিছু…… ভয়টা।কেমন যেন মনে গেথে যাচ্ছে।

কলেজের সামনে রিকশা থামতেই ধ্যান ভাঙ্গে সানার।

রিকশা থেকে নেমে কলেজের ভিতরে ঢুকে পরলো ও।

আশেপাশে আমালকে খুঁজতে শুরু করে সানার চোখ জোড়া।

হঠাৎ কয়েকজন ছেলে মেয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো সানার। সবার হাতেই একটা করে কার্ড । কিন্তু কার্ড গুলো উল্টা করে ধরেছে তারা। সানাহ বুঝতে পারছে না তারা কি করতে চাইছে।

এক এক জন করে সবাই সাঁড়ি বেধে দাঁড়ায় তার পর একের পর এক করে কার্ড গুলো সোজা করে ধরে,,,,

কার্ড গুলো দেখে সানার চোখ যেন ছানাবরা হয়ে উঠে। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ও কার্ড গুলোর দিকে।

প্রত্যেকের হাতের কার্ডে একটা করে শব্দ বা ওয়ার্ড লেখা।

সব গুলো শব্দ মিলিয়ে হয়,,,, I LOVE YOU SANAH WILL U MARRY ME…….

ছেলে মেয়ে গুলো একে একে সরে যেতেই তাদের
পেছন থেকে আমাল বেড়িয়ে আসে।

আমালকে দেখে মনের মধ্যে যেই ব্যথাটা ছিল গায়েব হয়ে যায় ওর। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুঁটে উঠে নিজের অজান্তেই সানার।

আমালের উপর থেকে চোখ সরানো মুশকিল হয়ে গেছে সানার। আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে আমালকে,,,

ধূসর রঙের জ্যাকেট হোয়াইট জিন্স হাতে বয়েজ ওয়াচ। স্কেট্স সুজ আর হাতে স্টারগেজার এর তোরা।

সানাহ হা হয়ে তাকিয়ে আছে আমালের দিকে আর কলেজের বাকি সবাই তাকায়ে আছে ওদের দুজনের দিকে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আবিদ ওদের মূহুর্ত গুলোকে ক্যামেরা বন্দি করছে।

আমাল এসে সানার সামনে হাটু গেড়ে বসে ওর সামনে স্টারগেজার ফুল গুলো এগিয়ে দিয়ে বলল,,,

আমালঃ ভালোবাসা কি কখনো বুঝার চেষ্টা করিনি সানাহ,,, কিন্তু তোমাকে জানার পর আমার মন ভালোবাসাটাকে জানতে চায়। তোমার সাথে ভালোবাসাটাকে অনুভব করতে চায়,,,, আমার অগোছালো জীবনটাকে গোছাতে একটা সানাহ চায় এই মন,,, আই নিড ইউ ইন মাই লাইফ,,, আই লাভ ইউ সানাহ,,,, উইল ইউ বি মাই????

সানার উত্তরের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আমাল,,, সানাহ এখনো শক্ড এ আছে। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না ও।

সানাহঃ ভালো তো আমি ও বাসি আমাল কিন্তু এতো সহজে তোমাকে ধরা দিবে না এই সানাহ। আরো একটু কষ্ট করো আমিও দেখি তোমার ভালোবাসা আমার জন্য কতটা গভীর,,, (মনে মনে)

সানাহকে চুপ থাকতে দেখে আমাল ধৈর্যহীন হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে বলল।

আমালঃ আরে এয়ার এতো কষ্ট করে প্রপোজ করলাম হ্যাঁ তো বলো,,, 😅

সানাহ মনে মনে শয়তানি হাসি দিল তারপর চেহারায় রাগি ভাব এনে বলল।

সানাহঃ আই ডোন্ট লাভ ইউ,, লাভ কি আমিতো তোমাকে সহ্য ও করতে পারি না ভালোবাসা তো দুরের কথা 😒

এই সব ড্রামা দেখলে অন্য সব মেয়েরা পটবে কিন্তু সানাহ না,,,,

সানার কথায় আমালের রাগের বদলে কান্না আসছে। এতো কষ্ট করে সব কিছু প্লান করে প্রপোজ করলো আর এই মেয়ে ওকে রিজেক্ট করছে।

আজ অবদি আমালকে না করার সাহস কারো হয় নি কিন্তু আজ,,,

আমাল আর যাই করুক কখনো হার মানতে শেখেনি,,, সানাহকে ওর চাই যে কোন মূল্যে চাই,,,
অনেক বেশি ভালোবাসে ও সানাহকে যা কখনো প্রকাশ করার মতো না।

আমালের ফেস দেখে অনেক হাসি পাচ্ছে সানার। তাও নিজের হাসি চাপিয়ে ওখান থেকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় সানাহ।

সানাহকে চলে যেতে দেখে আমাল এক কদম দু কদম করে পিছিয়ে কলেজের ভিতরে ঢুকে পরে। আমালকে এভাবে যেতে দেখে সবাই অনেকটা অবাক হয় বিশেষ করে আবিদ। কারন ও জানে আমালকে কেউ রিজেক্ট করবে আর আমাল সেটা এতো সহজে মেনে নিবে দ্যাট্স ইম্পসিবল,,,,

সানাহ কিছুটা দূর যেতেই হঠাৎ সবার চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পায়,,, সবাই আমালের নাম নিয়ে ডাকা ডাকি করছে। বুক ধক করে উঠলো সানার। তাড়াতাড়ি পেছনে ফিরে তাকালো ও।

আমাল কলেজের সব চেয়ে উচু ভবনের রুফ টপে দাঁড়িয়ে আছে। সানাহ দৌড়ে সবাইকে ঠেলে সরিয়ে সামনে আসে।

আবিদঃ কি করছিস আমাল নাম ওখান থেকে,,,, তোর মাথাটা পুরোই গেছে নাম পরে যাবি,,,

আমালঃ আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি সানাহ,,,, I can’t live without you… তুমি যদি আমার প্রপোজ এক্সেপ্ট না করো I swear I will jump…. This is the #Madness_Of_My_Love Sanah…. তোমাকে পাবার জন্য আমি সব করতে রাজি তার জন্য যদি মরতেও হয় I won’t give up…..

আবিদঃ আব্বে মরে গেলে ভালোবাসা দেখাবি কিভাবে ভূত হয়ে? তুই মরে গেলে তোর সানাহ অন্য কাউকে নিয়ে সুখে সংসার করবে কিন্তু তুই? তুই ভূত পেত্নির মত ঘুরঘুর করে আমাদের মতো নিশ্পাপ মানুষদের জ্বালাতন করবি!! নাম বলছি,,,,

আমালঃ তুই চুপ কর,,, আমি মরে ভুত হলে সবার আগে তোকে মারবো একা একা ভূত হ‌ওয়ায় মজা নেই দুই বন্ধু মিলে ভূত হয়ে সবাইকে জ্বালাবো,,,

আবিদঃ ইশশ আমার বয়েই গেছে তোর সাথে ভূত হতে। আমি মরে গেলে আমার এত্ত গুলা গার্লফ্রেন্ড সব বিধবা হয়ে যাবে তাদের কে দেখবে,,,

আবিদের কথায় সবাই ওর দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকালো। দুই বন্ধু নিশ্চিত পাগল হয়ে গিয়েছে ভাবছে সানাহ,,,

আমাল আর আবিদ তর্কাতর্কি করছে এই সুযোগে সানাহ ভবনের ভিতরে ঢুকে যায়। যত দ্রুত সম্ভব সানাহ উপরে উঠার চেষ্টা করছে।

আমালঃ ডোন্ট ওয়ারি এয়ার তুই মরলে তোর গার্লফ্রেন্ড দের জন্য আমি আছি না আমি তাদের সাহারা দেব,,, আসলে আমালের মন এবং বাড়ি দুটোই অনেক বড় এখানে অনেক মানুষ মিলে মিশে বসবাস করতে পারবে আই উইল টেক কেয়ার অফ মাই ভাবিজ 😌

আবিদঃ আব্বে তুই কি দেখবি। তুইতো আমার আগেই মৃত্যু লোকে প্রস্থান করবি,,, আর তোর বড় মন আর বড় বাড়ি নিজের সানার জন্য রাখ। যদি শুনে ওহ স্যরি স্যরি শুনেই তো ফেলছে,,,, সানাহ তুমি……

আবিদ পাশে তাকিয়ে দেখে সানাহ নেই,,,

আবিদঃ আমাল ব্রো তোর সানাহ কোথায় গেল?😐
আমাল ভালো ভাবে উপর থেকে তাকিয়ে দেখলো সানাহ নেই নিচে,,,

আমালঃ ক‌ই গেল??রিলেশন হ‌ওয়ার আগেই ব্রেক‌আপ 😭

আমাল পেছনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। সানাহ দৌড়ে উপরে উঠেছে। হাঁপিয়ে গিয়েছে বেচারী।

সানাহকে দেখে আমালের ঠোঁটে হাসি ফুঁটে উঠলো। সানার চোখে মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সানাহ ওর জন্য এতো ঘাবরে গিয়েছে ভাবতেই অবাক লাগছে আমালের।

সানাহঃ কি শুরু করে দিয়েছো তুমি হ্যাঁ,,, এত কর্ণারে কেউ দাঁড়ায় স্টুপিড,,, তুমি কি ভেবেছো এরকম বাচ্চামি করলে আমি হ্যাঁ করব জীবনেও না,,,, চুপচাপ নিচে চলো আমাল,,,

আমালঃ তোমাকে হ্যাঁ বলতেই হবে সানাহ,,, আমি আমার ভালবাসা পাওয়ার জন্য যে কোন সীমা অতিক্রম করতে পারি। আজকে শেষবারের মতো নাহয় আমার #Madness_Love টা দেখে নাও,,,, পিছাচ্ছে আর বলছে আমাল,,, তুমি যে পর্যন্ত আমাকে আই লাভ ইউ না বলবে আমার কদম থামবে না,,,,

আমাল যত‌ই পিছাচ্ছে সানার ভয় তত‌ই বাড়ছে।

সানাহঃ আই থিঙ্ক এখন ফাইজলামি অফ করা লাগবে বাড়াবাড়ি বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমাল যদি সত্যিই,,,,

আমাল অনেক কর্নারে চলে গিয়েছে।

আমালঃ গুড বাই সানাহ এখন আর কেউ তোমাকে জ্বালাবে না,,

আর এক কদম পিছিয়ে গেলেই আমাল নিচে পরে যাবে। আমাল কদম পিছাতেই সানাহ চেঁচিয়ে উঠে,,,,

সানাহঃ আমাল স্টপপপ আই লাভ ইউ,,,

নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না আমাল ওর কদম থেমে যায়।

আমালঃ আবার বলো 😲

সানাহঃ আই লাভ ইউ আমাল,,,, তখ‌ই বলতাম কিন্তু ভাবলাম তোমার সাথে একটু মজা করবো। তোমাকে রাগাবো। কিন্তু তুমি আমার প্লানের বারোটা বাজিয়ে দিলে 😡

আমালঃ রিয়েলি সানাহ আমি…… আমাল সামনে আসার জন্য পা বাড়াতেই ব্যালেন্স হারিয়ে পিছলে যায়,,,,

আমালঃ আআআ সানাহহহহ্

সানাহঃ আমালললল

চারপাশ যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সানার শরীর কাঁপছে চোখ দিয়ে পানি পরছে অঝোরে।

আমাল ওর সামনে রুফটপের উপর দিয়ে পরে গেলো।

সানাহ দৌড়ে কর্নারে গিয়ে নিচে তাকালো। নিচে তাকাতেই হা হয়ে গেল ও।

আমাল ঝুলে আছে আর ওর কোমরে দড়ি বাধা। সেই দড়ি আমালের কোমর থেকে ছাদের একটা পাইপের সাথে বাধানো। দড়িটা আমালের শার্টের নিচে ছিল তাই সানার চোখে পরে নি,,,, দ্যাট্স মিন আমাল এতক্ষন নাটক করে ওকে বোকা বানালো।

আমাল উপরে সানার দিকে তাকিয়ে চোখ মারলো। তারপর ঝুলন্ত অবস্থায় দু হাত ছড়িয়ে বলল,,,

আমালঃ আই লাভ ইউ সানাহহহহহহ,,,,

সানাহ শুধু শক্ড হয়ে দেখছে।

আমালঃ কি রিপ্লাই দিবে নাকি দড়িটা খুলে ফেলব 😁

সানাহঃ আই লাভ ইউ টু ( চোখের পানি মুছে হেসে)

নিচে সবাই চেঁচিয়ে আমালকে বলে,,,,

আমাল ইউউউ রক্সসসস,,,

সানাহ ফিক করে হেসে দিলো আমালের কান্ডে।আর পাগলামো দেখা বাকি আছে আমালের কে জানে?? ভাবছে সানাহ,,,,

আমাল উপরে উঠে আসে তারপর হাত বাড়িয়ে দিতেই সানাহ ওকে টেনে তুলে।

আমালঃ একচুয়ালি ভাবলাম আমি মরে গেলে তোমার কি হবে তাই সেফটির জন্য দড়ি,,, 😁

সানাহ আমালকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয় তারপর বলে,,,

সানাহঃ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম,,,নেক্সট টাইম এমন কিছু করলে আমি নিজেই তোমাকে মেরে ফেলবো 😡( আমালের বুকে কিল বসিয়ে)

To be continued…….

❤#আশিকী❤
#Madness_Of_Love
#Writer_Sanjana_Fahmida_Shabnam
#Part_14

আমাল আর সানার ভালোবাসার চার বছর পূর্ন হয়েছে। এই চার বছরে খুনসুটি ঝগড়া যেমন ছিল তার থেকেও বেশি ভালোবাসা ছিল। আমালের প্রতিটা নিঃশ্বাসে সানার নাম আর সানার প্রতিটা হার্টবিটে শুধুই আমাল।

ম্যাসেজ এর টুং শব্দে ঘুম ভেঙে গেল সানার। ঘুম ঘুম চোখে ম্যাসেজ ওপেন করতেই ঠোঁটে হাসি ফুঁটে উঠলো ওর।

ফোনটা বেড সাইডে রেখে উঠে জানালার সামনে চলে গেল সানাহ। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে চোখ সরাতে ইচ্ছে করছে না ওর।

নিচের মানুষটি ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই।

গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আমাল এতক্ষন। হোয়াইট টি শার্ট ব্লাক জ্যাকেট আর হোয়াইট প্যান্ট সব মিলিয়ে যে কাউকে ঘায়েল করে দেওয়ার মত।

সানাহ কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমাল ওকে ইশারায় জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে। সানাহ মাথা ঝাকিয়ে বলল কিছু না।

সানাহ আমালকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলল ও পাঁচ মিনিটে রেডি হয়ে নিচে আসছে। আমাল নিজের হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল ফাস্ট।

সানাহ রুমে এসে কাবার্ড খুলে আমালের সাথে ম্যাচিং করে একটা হোয়াইট অ্যান্ড ব্লাক কম্বিনেশন এর কুর্তি আর জিন্স বের করে রেডি হয়ে নিল।

এটা সানার রেগুলার রুটিন। আমালের ম্যাসেজ টোনে ওর ঘুম ভাঙানো, প্রতিদিন ওর জন্য আমালের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা আর আমালের সাথে ম্যাচিং করে ড্রেস আপ করা। এই তিনটা জিনিস যেন সানার রেগুলার রুটিন।

সানাহ রেডি হয়ে নিচে নেমে আসতেই আমাল গাড়ির দরজা খুলে দিলো। সানাহ আমালের দিকে তাকিয়ে একটা স্মাইল দিয়ে বসে পরলো। আমাল দরজা বন্ধ করে ঘুরে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে পরলো।

আমালঃ তোমাকে একদম পরীর মতো লাগছে লাভ( ড্রাইভ করতে করতে)

সানাহঃ আর তোমাকে একদম জ্বিনের মতো লাগছে ( মজা করে)

আমাল সাথে সাথে গাড়ি ব্রেক করে সানার দিকে ফিরলো। তারপর নাক ফুলিয়ে বলল,,,

আমালঃ বেবি হোয়াট ডু ইউ মিন বাই জ্বীন??

সানাহঃ মেয়েদের পরী লাগলে ছেলেদের তো জ্বীনের মতোই লাগবে ( হাসতে হাসতে) লজিক আমাল,,,

আমালঃ এসব লজিক তোমার কাছেই পেলাম। ( ড্রাইভ শুরু করে)

সানাহ ব্যাগ থেকে ব‌ই বের করে পড়তে শুরু করে আর আমাল ওকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।

সানাহঃ আমাল তোমার প্রিপারেশন কেমন?? ( আমালের দিকে ফিরে)

আমালঃ কিসের প্রিপারেশন জান( ড্রাইভ করতে করতে)

সানাহঃ আজকে আমাদের এক্সাম আমাল। ( রেগে চিল্লিয়ে)

আমাল সানার কথায় হচকিয়ে যায়। তারপর আমতা আমতা করে বলে,,,

আমালঃ অ অনেক ভালো প্রিপারেশন জান,,, একশতে একশ পাবো দেখ।

সানাহঃ আচ্ছা আমাল ক্যামেস্ট্রি এর সব পয়েন্ট ভালো করে পড়েছো তো।

আমালঃ ভালো মানে এতো ভালো করে পড়েছি যে লেকচারার রা অবাক হয়ে যাবে আমার অ্যন্সার দেখে।

সানাহ রেগে কটমট করতে করতে আমালকে বলল,,

সানাহঃ মার্কেটিং এ ক্যামেস্ট্রি থাকে আজ প্রথম বার শুনলাম। ( রাগে গজগজ করতে করতে)

আমাল বেচারা নিজেই নিজের কথায় ফেসে গেল। বেচারাতো জানেই না আজকে কি এক্সাম পড়বে কি ঘোড়ার ডিম।

আমাল ভয়ে প্লাস অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো সানার দিকে। সানাহ রেগে ব‌ই দিয়ে আমালকে বারি দিল,,,

আমালঃ আউচচচ্ জান আস্তে ব্যথা পাচাচি তো। ( হাত ডলতে ডলতে)

সানাহঃ ব্যাথা পাওয়ার জন্যই দিয়েছি। সামনে তাকিয়ে চুপচাপ ড্রাইভ করো। আমি পয়েন্ট গুলো তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি এগুলো কেয়ারফুলি শুনবে আর মনে রাখবে।

আমালঃ ওকেই ম্যাডাম ( মুখ ফুলিয়ে)

সানাহ পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আমালকে বুঝাচ্ছে আর আমাল ড্রাইভ করার ফাঁকে শুনছে। আমালের ধ্যান পড়ার উপর নেই ও তো সানার কথা শুনছে। সানার ব‌ই পড়ানোর মাঝেও আমাল অন্য একটা ফিলিং অনুভব করে।এই চার বছর সানাহ আমালকে শুধু একজন লাভার হিসেবে না একজন টিচার হিসেবেও গার্ড করেছে। আমালের ছোট থেকে ছোট বিষয় গুলোও সানাহ খেয়াল রেখেছে।

আমাল আর সানাহ কলেজে পৌঁছে গাড়ি পার্ক করে ক্লাসে চলে আসে।

আবিদঃ হাই গাইজজ,,,

সানাহ আমালঃ হাই

আমাল আবিদকে জড়িয়ে ধরতেই আবিদ বলল,,,

আবিদঃ ভালোই তো আমাল গার্লফ্রেন্ড এর সাথে টিচার ফ্রি পেয়েছিস,,, তোর ফি বেঁচে গেল,, ( হাসতে হাসতে)

আমাল আবিদকে সরিয়ে বলল।

আমালঃ নে নে তুইও মজা নে। লুক সান তোমার জন্য আমার প্রেস্টিজ এর টায়ার ফুসসস হয়ে গেল। ( ন্যাকা কান্না করে)

সানাহঃ আমি না থাকলে পরিক্ষায় ডাব্বা মারতা তখন কি প্রেস্টিজ এর হাওয়া লিক হতো না, ( চোখ বাকিয়ে)

আমালঃ নো বেবি। আমি আমাল খান। আমার ড্যাডের এতো বড় বড় হোটেল বিজনেস সব‌ই তো আমার। তাই আমি ডাব্বা মারলেও নো টেনশন।

সানাঃ তোমার এই ডায়লগ চার বছর ধরে শুনছি। নিজের ড্যাডের উপর ডিপেন্ড না করে নিজের উপর ডিপেন্ড করতে শেখ আমাল।

আমালঃ স্যরি,,,

আবিদঃ প্রফেসর ম্যাম আসছে অল দ্যা বেস্ট বোথ অফ ইউ।

আবিদ ওর সিটে গিয়ে বসে পড়ে আর আমাল সানাহ ওদেরটায়। সানাহ সেকেন্ড বেঞ্চে আর আমালের সিট সানার পেছনে থার্ড বেঞ্চে পরেছে।

ম্যাম এসে সবাইকে পেপার দিয়ে এক্সাম স্টার্ট করেন।

সানার মোস্ট অফ প্রশ্ন কমন পড়েছে তাই ও ননস্টপ লিখেই যাচ্ছে। কিন্তু আমাল!! বেচারা প্রশ্নের দিকে তাকিয়ে একটা কথাই ভাবছে,,,

” তুই আমার লাভ স্টোরির সবচেয়ে বড় ভিলেন ”

আমালের পেছনের সিটে আবিদ বসেছে। আমাল আর আবিদ দুজনেই একে অপরের খাতা কপি করে লিখছে। দুজনের অস্থাই সেম।

আমাল একটু সামনের দিকে এগিয়ে এসে সানাহকে ফিসফিসিয়ে বলল।

আমালঃ বেবিইইই স্যরি আমি এবার সত্যিই ডাব্বা মারবো।

সানাহ আমালের কথায় লিখা স্টপ করে পেছনের দিকে না ঘুরেই বলল।

সানাহঃ চুপচাপ আমার খাতা কপি করো মুখ থেকে একটাও ওয়ার্ড বের করবে না।( রেগে ফিসফিসিয়ে বলল)

সানাহ একটু সরে বসতেই আমাল সানার খাতা দেখে কপি করে লিখা শুরু করল।

হঠাৎ ম্যাম এসে সানার খাতা ছো মেরে নিয়ে নিলেন। আমাল আর সানাহ ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

ম্যামঃ এখানে কি প্রেমলিলা চলছে। এটা এক্সাম হল তোমাদের প্রেম দেখানোর জায়গা না।

সানাহঃ মিস একচুয়ালি…….

ম্যামঃ Shut Upppppp… (ধমক দিয়ে)

সানাহকে ধমক দেওয়ায় আমাল রাগে নিজের হাতের মুঠো বন্ধ করে নিল। তারপর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে করতে বলল।

আমালঃ ম্যাম যা বলার আমাকে বলেন। সানার এখানে কোন ফল্ট নেই আমিই ওকে বলেছিলাম একটু হেল্প করতে।

ম্যামঃ সেটাতো বলবেই। পুরো কলেজ যানে তোমাদের দুজনের প্রেমের কাহিনী।এটা এক্সাম হল তোমাদের প্রেমের ক্লাব না যে নিজেদের ভালোবাসার প্রদর্শনী করবে।

এখানে সবাই নিজের যোগ্যতা দিয়ে পাস করে।আর তুমি ( সানাহকে উদ্দেশ করে) কি ভাবো নিজেকে। ভেবেছো নিজের বয়ফ্রেন্ড কে পাস করিয়ে দিয়ে মহান হয়ে যাবে। এসব চলবে না আমার ক্লাসে। গেট আউট ফ্রম মাই ক্লাস। তোমার এক্সাম দেওয়ার দরকার নেই গোও।

সানাহ নিচের দিকে তাকিয়েই ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে বেড়িয়ে যায়। সবার চোখ এড়োলেও সানার চোখের পানি আমালের চোখ এড়োলো না। ওর ভেতরটা রাগে ফেটে যাচ্ছে।

আমাল কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায় ক্লাস থেকে।

After some time….

সানাহ এখনো বসে কান্না করছে। আবিদ আর বাকি বন্ধুরা মিলে সানাহকে বুঝাচ্ছে তাও সে নীরবে কান্না করেই যাচ্ছে।

ছোট থেকে বড় হয়েছে এই পর্যন্ত সানার আম্মু আব্বুও ওকে ধমক দেয় নি। আর আমাল!! ওতো সব সময় সানাহকে আগলে রাখে সানার সব কথাই আমালের জন‌্য আজ্ঞাকারী।

আমাল তখন ক্লাস থেকে বেরিয়েছে এখনও ফিরে নি। কোথায় গিয়েছে কেউ যানে না। আবিদ অনেক বার কল করা সত্ত্বেও আমাল কল রিসিভ করে নি। সানার এই মুহুর্তে আমালকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কিন্তু আমাল‌ই এখন ওর পাশে নেই তাই আরো বেশি খারাপ লাগছে সানার।

হঠাৎ সামনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে মুখ তুলল সানাহ। আমাল দু হাটু ভাজ করে ওর সামনে কান ধরে ইনোসেন্ট ফেস করে বসে আছে। সানাহ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমালের দিকে তাকালো।

আমালঃ আ’ম স্যরি লাভ। আমার জন্য তোমাকে এতো কথা শুনতে হলো এতো ইনসাল্ট হতে হলো। আমি প্রমিস করেছিলাম তোমাকে যে কখনো তোমার চোখে পানি আসতে দিবো না কিন্তু আজ আমার কারনেই তোমার চোখে পানি। আ’ম স্যরি সানাহ…. আই প্রমিস এখন থেকে ভালো করে স্টাডি করবো অ্যান্ড নিজের যোগ্যতায় পাস করবো দেখ। প্লিজ স্টপ ক্রাইং আমি তোমার চোখে পানি সহ্য করতে পারি না তুমি জানো। তুমি প্লিজ আমাকে বকো মারো তাও রাগ করে থেকো না জান।

আমালের এমন ইনোসেন্ট ফেস দেখে সানাহ আর না হেসে পারলো না।

সানাহ আমালের হাত ওর কান থেকে সরিয়ে বলল।

সানাহঃ আমি তোমার উপর রেগে ন‌ই আমাল। মিসের কথায় একটু খারাপ লাগছিল বাট এখন তোমার কথায় সেই খারাপ লাগা টুকুও গায়েব হয়ে গিয়েছে।

আমাল কখনো সানার কান্নার কারন হতে পারে না কজ সানার সব খুশি সব হাসির পেছনে একজন‌ই আর সে হলো সানার আমাল। ( আমালের নাক টেনে)

আমাল উঠে সানাহকে জড়িয়ে ধরে বলল।

আমালঃ আই লাভ ইউ লাভভ

সানাহঃ আই লাভ ইউ টু,,,

আবিদ মুহুর্ত টাকে নিজের ফোনের ক্যামেরায় এতক্ষন বন্দী করছিল। ওদের দেখে আবিদ শুধু একটা কথাই বলল।

আবিদঃ You both r made for each other…..

হঠাৎ করেই ওদের ক্লাসের একটা ছেলে এসে বলতে শুরু করল

ছেলেটিঃ হেই গাইজ একটা ব্রেকিং নিউজ শুনেছো তোমরা।

আবিদঃ কি হলো আবার??

ছেলেটিঃ প্রিন্সিপাল স্যার রিনা ম্যাডাম কে কলেজ থেকে রাস্টিগেট করে দিয়েছে।

ছেলেটির কথায় আবিদ সানাহ সহ বাকি সবাই অবাক হয়ে যায়।

সানাহঃ কিহ!! কিন্তু কেন??

ছেলেটিঃ সেটা জানি না বাট প্রিন্সিপাল স্যার সবার সামনে ম্যাডাম কে অনেক কথা শুনিয়েছেন প্লাস কলেজ থেকে রাস্টিগেট করে দিয়েছেন। বেচারী কান্না করতে করতে বেরিয়ে গিয়েছেন কলেজ থেকে।

সানাহ বুঝতে পারছে না কিভাবে কি হলো। আবিদের চোখ তৎখনাথ আমালের দিকে গেল।আমালের ফেসে এক অদ্ভুত হাসি। এই হাসির মানেটা আবিদ ভালো করেই বুঝে। আবিদ বুঝতে পারছে কাজটা কে করিয়েছে। এই চার বছরে এমনটা অনেক বার হয়েছে। সানাহ কে কোন ছেলে খারাপ নজরে দেখলে বা যদি কেউ তাকে কিছু বললে দ্বিতীয় দিন তাকে আর কলেজের ধারের কাছেও দেখা যায় নি।

আমালঃ let it be Sanah. ওনার বিষয়ে ভেবে আমাদের কাজ নেই। তুমি আমার সাথে চলো। আজকে ড্যাড তোমাকে দেখতে এসেছে কানাডা থেকে।

সানাহঃ কিন্তু আমাল মিস হয়তো অনেক কষ্ট পেয়েছে।

আমালঃ উনি তোমাকে যেটা দিয়েছে আমি তাকে সেটাই রিটার্ন করেছি জান। ( মনে মনে) বাদ দাও তো। উনি যেটা ডিসার্ভ করেন সেটাই পেয়েছেন। রাইট আবিদ?? ( আবিদের দিকে ডেভিল স্মাইল দিয়ে তাকিয়ে)

আবিদঃ আব হ্যাঁ হ্যাঁ আমাল ইজ রাইট। ( হাসার চেষ্টা করে)

আমালঃ লুক আবিদও এটা বলছে। নাও কাম এভাবেই অনেক লেইট হয়ে গিয়েছে তার জন্য।

সানাহঃ হ্যাঁ চলো। ( অন্যমনস্ক হয়ে)

To be continued….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here