আকাশ_ছোঁয়া_ভালোবাসা♥,পর্ব_২৬,২৭

আকাশ_ছোঁয়া_ভালোবাসা♥,পর্ব_২৬,২৭
সাহেদা_আক্তার
পর্ব_২৬

বাড়িতে এসে অনেকক্ষণ মেয়েটাকে ভোলার চেষ্টা করলাম কিন্তু কেন যেন মেয়েটার ঐ এক চিলতে হাসি আমার মনে গেঁথে গেল। আমি বিছানায় শুয়ে সেই হাসিতেই হারিয়ে গেলাম। আমি বিকালে চা খেতে যাই। কিন্তু আজ কখন যে তার কথা ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা হয়ে গেল বলতে পারব না। আম্মু আমার জন্য নাস্তা এনে বলল, কিরে আজকে যাসনি যে? আমি অবাক হয়ে বললাম, সন্ধ্যা হয়ে গেছে! আম্মু হেসে বলল, কেন? খেয়াল করিসনি বুঝি?

– হুম।

– কোন কল্পনায় ডুবে গেলি যে খেয়াল করিসনি? খুলে বল তো।

আমি আমার আব্বু আম্মুর সাথে একেবারে ফ্রি। তাই সব খুলে বললাম। সব শুনে আম্মু মুচকি হেসে বলল, বাব্বা! আমার ছেলে তো দেখি প্রেমে পড়তে শিখে গেছে। আমি এক মুহুর্তে থমকে লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম।

♥ দ্বিতীয় দেখা:
প্রায় দু’সপ্তাহ হয়ে গেল। আমি কিছুতেই ওকে ভুলতে পারলাম না। একটা হাসিতে সে আমাকে পাগল করে দিল। আমিও হাল ছাড়ার পাত্র নই। আমি তাকে খুঁজে বের করেই ছাড়বো। ওর গায়ে গার্লস স্কুলের পোশাক ছিল। আমি ঐ ক্লু দিয়েই শুরু করলাম। কলেজ শেষ করেই ওখানে চলে যেতাম। কিন্তু একটা দিনও ওর দেখা পেলাম না। যেন সে জেনেশুনেই আমি পৌঁছানোর আগেই বাসায় চলে যেত। তাই প্রত্যেকদিন মন খারাপ করে বাড়ি ফিরতাম। আমি আসলেই আম্মু হাসিমুখে বলত, কি রে, আমার বৌমাকে পেলি না বুঝি? আমি আম্মুকে আনন্দে জড়িয়ে ধরতাম। এমন মা কয়জনের জোটে? আম্মু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলত, পাগল ছেলে আমার।

বছরের শেষ দিন বের হলাম বন্ধুদের সাথে। পুরো শহর আলোয় জ্বলজ্বল করছিল। বন্ধুরা বলল, মোহাম্মদীয়ার দোকানের চা নাকি সেই বিখ্যাত। যদিও এখান থেকে যেতে পনের বিশ মিনিটের হাঁটা রাস্তা। আমার কেন যেন যেতে ইচ্ছে করছিল না। আমি নানা বাহানা দিলাম না যাওয়ার জন্য কিন্তু রেদোয়ান কিছুতেই আমাকে ছাড়লো না। জোর করে নিয়ে গেল। দোকানে কিছুটা ভীড় আছে। আমি চা খাচ্ছি আর বাইরে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ চোখ আটকে গেল একটা মেয়ের দিকে। হ্যাঁ, সেই মেয়েটা। আমি রেদোয়ানকে ম্যানেজ করে উঠে বের হয়ে এলাম। অনেকটা দূর থেকে ফলো করতে করতে গেলাম। সে তার বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিল। একটু পরে ও ওর বান্ধবী থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাসার পথ ধরল। দশ মিনিট পর ও একটা পাঁচ তলা বাসায় ঢুকে পড়ল। আমিও দৌঁড়ে ঢুকলাম। দেখলাম ও সেই বাসার দোতলায় থাকে। আমি তো খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। বাসাটা থেকে বের হতেই একটা টুলেট চোখে পড়ল। বাসা ভাড়া দেওয়া হবে। এই সুযোগ। বাড়িতে এসেই আম্মুকে সব বললাম। আম্মু বলল, তুই যখন চাচ্ছিস তবে ঐ ভাড়া বাসাতেই আমরা ভাড়া উঠবো। আমারও আমার বৌমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে যাকে দেখে আমার ছেলেটা এমন পাগল হয়ে গেল।

♥ আমার সদ্য ফোঁটা ভালোবাসার লাল গোলাপ:
আমরা একসপ্তাহের মধ্যে নতুন বাসায় উঠলাম। ঠিক মেয়েটার বাসার সামনের বাসাটা। সব গোছগাছ শেষ হলে আম্মু আমাকে বলল, চল, বৌমাকে দেখে আসি। আমি তো শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। আমি তৈরী হয়ে নিলাম। আম্মুকে নিয়ে নক করলাম পাশের বাসায়। একজন আন্টি দরজা খুলল। আম্মু বলল, আমরা পাশের বাসায় নতুন এসেছি তাই পরিচিত হতে এসেছি। আন্টি আমাদেরকে ভেতরে বসালেন। বললেন, তারা তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকেন। তখনই তিনি ডাক দিলেন, ছোঁয়া, এদিকে আয়।

ছোঁয়া। আমার ভালোবাসার নাম ছোঁয়া……

আমার হাত থেকে ডায়রীটা পড়ে গেল। আমি থমকে বইসা রইলাম। চোখ থেকে একফোঁটা পানি গড়াই পড়ল। আনন্দের পানি। আকাশ, আকাশ আমাকে ভালোবাসতো!!!!!!! আমি তার ক্রাশ ছিলাম। আমি… আমি…। কি করব বুঝতে পারতেসি না। খুশিতে পাগল পাগল লাগতেসে। এতদিন জানতাম চাঁদনি ওর ক্রাশ তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ জানতে পারলাম ওই বোকা হাদাটা আমার উপর ক্রাশ খাইছিল। একবার বললোও না। আগে জানলে বগলদাবা কইরা নিজের কাছে রাইখা দিতাম। ভাইবাই হাসি পাইল আমার। আমি ডায়রীটা নিচ থেকে তুইলা আবার পড়া শুরু করলাম।

(ডায়রী)
ও আমাদের সামনে এসে দাঁড়াল। হয়ত খেয়াল করেনি যে কেউ ওদের বাসায় এসেছে তাই যেভাবে ছিল ওভাবেই চলে এসেছিল। আমি ওকে দেখে পাগলের মতো তাকিয়ে রইলাম। সদ্য গোসল করে আসায় ভেজা লম্বা চুলগুলো থেকে একটু আধটু পানি পড়ছে। মুখের পাশের ছোট চুলগুলো লেপ্টে আছে। একটা হাঁটু পর্যন্ত লম্বা হালকা গোলাপী ফ্রক পরেছিল। ওকে ওকে…… অন্যরকম সুন্দর লাগছিল। ইচ্ছে করছিল ওকে একটু ছুঁয়ে দেখি। অনেকক্ষণ পানিতে থাকায় ওকে সাদা সাদা লাগছিল। আর ওর ঠোঁট জোড়া……

– এ্যাঁ…… ও খেয়াল করছিলো আমি যে ওড়না ছাড়া ছিলাম!!!!!!!!!!! ( মুখ সুচালো করে) হুহ্, ছয় বছর আগেও ব্যাটা লুচু ছিল। দেখো কিভাবে লিখেছে। ইস্!!!!!!!

আমি লজ্জায় লাল হই গেলাম। এরপর নিজেকে কন্ট্রোল করে কইলাম, নাহ্ এভাবে চললে আর পড়া লাগবে না।

(ডায়রী)
ও দৌঁড়ে ভেতরে চলে গেল। আমার ইচ্ছে করছিল ওকে আমার সামনে বসিয়ে রেখে সারাজীবন ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। ও এবার ওড়না পরে ভদ্র হয়ে এল। আমি লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না। ও আম্মুকে সালাম দিয়ে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, আমাকে কেউ মেরেছে কি না। আমি ওর দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। আম্মু হেসে কারন জানতে চাইলে ও বলল, আমার গাল দুটো নাকি চেরি ফলের মতো হয়ে আছে। বলেই ও হঠাৎ লজ্জা পেয়ে গেল। আমি ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। যদিও ও ফর্সা না। কিন্তু ওর লজ্জা পাওয়া মুখটা আমার পুরো হূদয়কে নাড়িয়ে দিল।

আমি বাসায় এসে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। বার বার ওর লাল হয়ে যাওয়া মুখটা ভেসে উঠল। আম্মু আমার কাছে এসে বলল, আমার বৌমাকে পছন্দ হয়েছে। দেখতে আসলেই কিউট। তবে এখন ওর বয়স কম। বাচ্চা মেয়ে। তাই ওকে সময় দেওয়া উচিত। কি বলিস?

– হুম।

আমি রাজি হয়ে গেলাম। আসলেই ওর বয়স কম। আমি ওর জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করতে রাজি আছি।

আমি মন খারাপ কইরা বললাম, আকাশ…… আমি আমি …… ক্ষমা করে দিও আমায়। তোমাকে ভুল বোঝার জন্য। ক্ষমা করে দিও।

(ডায়রী)
♥ প্রপোজাল:
আমি কলেজ যাওয়ার জন্য আটটার আগে রেডি হয়ে দরজার কাছে গিয়ে বসে থাকতাম। কখন ও বের হবে। কিন্তু ও বের হতো সাড়ে আটটায়। যখন আমি বের হতাম। কয়দিন এভাবেই চলল। আমি ভাবলাম, ওর স্কুল তো আটটায়। ও সাড়ে আটটায় বের হয় কেন? তবে আমার ভালোই লাগতো। ওর দুটো চোখ দেখে দিনটা শুরু করলে দিনটা কেন যেন ভালো যেতো। হঠাৎ ওর সাড়ে আটটায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। আমিও ওকে আড়াল থেকে দেখতে লাগলাম। শুক্রবার একটা কারনে ছাদে গিয়েছিলাম। একটু পরে দেখলাম ও এক গাদা ভেজা কাপড় নিয়ে হাজির। আমি না দেখার ভান করে রইলাম। তবে ওর কান্ড দেখে হাসি পাচ্ছিল। একই কাপড় বার বার মেলছিল। একটু পরেই ও সব কাপড় দিয়ে চলে যেতে লাগলে ডাক দিলাম। ওয়াই ফাই নেয়ার বাহানায় ওর সাথে কথা বললাম। তখনই বুঝলাম আমার মিষ্টি বউটা ভীষণ দুষ্টু। আমাকে পাসওয়ার্ড দেওয়ার বদলে I love you বলে চলে গেল। আমি অবাক হওয়ার ভান করে আবার জানতে চাইলাম। ওর মুখ থেকে আবার I love you শুনে যেন আমার পুরো পৃথিবীটাই রঙিন প্রজাপতির মতো উড়তে লাগল। বুঝলাম ছোঁয়াও আমাকে একটু একটু পছন্দ করে ফেলেছে। এমন সময় নিপা খালা এসে ঝামেলা করে দিল। আম্মুর কাছে এসে রসিয়ে রসিয়ে কত কথা বলল। নিপা খালাকে দেখে ছোঁয়া তখনই দৌঁড়ে নিচে চলে এল। আমি বাসায় ঢুকতেই আম্মু হেসে বলল, কিরে বৌমা থেকে প্রপোজ পেয়ে গেলি নাকি? আমি হেসে বললাম, তোমার বউ মা ভীষণ দুষ্টু। এখন ব্যাপারটা সামাল দিতে হবে নইলে নিপা খালা সারা দুনিয়ায় রাষ্ট্র করে বেড়াবে। আমি আর আম্মু গিয়ে ব্যাপারটা মিটমাট করে এলাম।

আমি ডায়রীটা বুকে জড়িয়ে নিয়া বললাম, চেরি তো ভালোই সেয়ানা। আমার তাকে প্রপোজ করতে বয়েই গেছে। কিন্তু করে তো ফেলছিলাম। কি আর করা।

(ডায়রী)
♥ প্রথম ভালোবাসার রান্না:
আমার সেদিন ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল। আমার টিম খেলায় জিতে ছিল। আমি হাসিমুখে ঘরে ঢুকতেই দেখি ছোঁয়া এসে বসে আছে। টেবিলে গাজরের হালুয়া। আমার সবচেয়ে ফেবারেট খাবার। আম্মু বলল, ছোঁয়া নাকি নিজে বানিয়েছে। আমি তো মহা আনন্দে গিয়ে পেয়ালাটা নিয়ে নিলাম। সে হঠাৎ বলল, চলে যাবে। আমি একচামুচ খেয়ে বুঝে ফেললাম, প্রথম রান্না করেছে আর ইচ্ছা মতো চিনির জায়গায় লবন ঢেলেছে। আমি তাকে সুন্দর মতো একটা বাঁশ দেওয়া প্রশংসা করতেই সে দৌঁড়ে বেরিয়ে গেল। ভাবলাম বেশি হয়ে গেল নাকি?

রাতে আম্মুকে বললাম, ওকে তোমার রান্নার ট্রেনিং দেওয়া লাগবে বিয়ের পরে। না হলে এভাবে সারাজীবন লবন গাজরের হালুয়া খেতে খেতে বয়রা হয়ে যাবো। আম্মু আমার কথা শুনে হাসলেন।

আমি এই জায়গাটা পড়ে থাইমা গেলাম। মনে মনে কইলাম, দাঁড়া বিয়ার পর লবন গাজরের হালুয়া না নিমের পাঁচন দিয়া গাজরের হালুয়া রান্না কইরা খাওয়ামু। নিমের কথা ভাইবা নিজেই মুখটা বাঁকা কইরা ফেললাম।

(ডায়েরী)
♥বৃষ্টিভেজা তুমি:
পরদিন ঠিকই আবার চলে এল আম্মুর কাছে রান্না শিখতে। ভালোই গাজরের হালুয়া রান্না করেছে আজ। আমি খেলতে গিয়েছিলাম। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় চলে এসেছিলাম। ভাগ্যিস এসেছিলাম। না হলে মিষ্টি মুখটা দেখতেই পেতাম না। ফ্রেশ হয়ে এসে ওকে একটু খেপালাম। তাতে মুখ ভার করে পেয়ালায় থাকা গাজরের হালুয়া এক চামুচ খেয়ে বলল, আন্টি আমি যাই। আমি গাজরের হালুয়া নষ্ট করার বাহানায় ওর থেকে পেয়ালাটা নিয়ে নিলাম। ও আমার দিকে বোকার মতো তাকিয়ে রইল। আমার হঠাৎ খেয়াল হল, ওকে দেখেছিলাম আজকে জামা রোদে দিয়ে এসেছে। এখন বাইরের যা অবস্থা, যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি চলে আসবে। কথা বলার বাহানায় বুঝিয়ে দিতেই ও এক দৌঁড়ে ছাদে চলে গেল। আম্মু বলল, আমারও নাকি কিছু কাপড় ছাদে। ব্যস, আমিও চলে গেলাম ছাদে। গিয়ে দেখি বৃষ্টি চলে এসেছে। ও বাচ্চাদের মতো বৃষ্টিতে ভিজছে। ইচ্ছে করছিল ওকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলি, ছোঁয়া, তোমার মাঝে কি আছে যা আমাকে চম্বুকের মতো টানে? হঠাৎ খেয়াল হলো, যেভাবে ভিজছে, জ্বর না হয়ে যায়। আমি বলল, আগে কি বৃষ্টি দেখো নাই? ও আমাকে দেখেই লজ্জা পেয়ে জামা নিয়ে এক দৌঁড়ে নিচে চলে গেল। আমি হেসে ফেললাম। কারণ বউটা আমার যে জামাকে বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য এসেছিল সেই জামাটাই ভিজিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমিও আমার ভেজা কাপড় নিয়ে চলে এলাম। ফলে আমাকেও ভিজতে হলো।

আম্মু আমাকে দেখে বলল, কি রে এমন ভিজেছিস কেন? ইস রে, যা তাড়াতাড়ি চেঞ্জ কর। ঠান্ডা লেগে যাবে। আমিও জামা চেঞ্জ করে ফেললাম। কিন্তু লাভ হল না। সর্দি ধরে গেল। আমার সামান্য ভেজায় এই অবস্থা তাহলে ছোঁয়ার কি অবস্থা কে জানে।

♥ দুষ্ট বউয়ের জ্বর:
আমি সকালে আম্মুকে বললাম, তুমি একটু দেখে এসো। আম্মু এসে বলল, ওর জ্বর হয়েছে। মেয়েটা আসলে বাচ্চা। আমি মনে মনে বললাম, আমার কাছে একবার আসুক তারপর ইচ্ছা মতো ওকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো। হি হি হি……। তারপর জ্বর হলে একসাথে নাপা এক্সট্রা খেয়ে কাঁথা গায়ে দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকবো।

চলবে…

#আকাশ_ছোঁয়া_ভালোবাসা♥
#পর্ব_২৭
#সাহেদা_আক্তার

জ্বর হলে একসাথে নাপা এক্সট্রা খেয়ে কাঁথা গায়ে দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকবো।

শুনলাম কালকে ও যে জামা রোদে দিয়েছিল ওটা নাকি ছিঁড়ে গেছে। আর জামাটার জন্য নাকি বউটা আমার কেঁদে কেটে এক সার। দাঁড়াও আগে বিয়েটা হতে দাও তারপর তোমাকে একগাদা কিনে দেবো।

♥ সেরা বার্থডে:
আজকে আমার বার্থডে আর আমার বউটা জ্বরে পরে আছে ঐ বাসায়। ধুর, ভালো লাগে না। আম্মুর কথায় সুন্দর করে সেজে রেডি হয়ে নিলাম। বিকালে থেকে সব বন্ধু বান্ধবরা আসা শুরু করে দিল। সন্ধ্যার একটু পরে আমি আমার বার্থডের সবচেয়ে দামি গিফটটা পেলাম। দেখলাম ছোঁয়া এসেছে। ওকে দেখে আমি আবার ক্রাশ খেলাম। এত সুন্দর একটা মানুষ কি করে হতে পারে। আমার দুষ্টু মিষ্টি বউটাকে ডানা কাটা পরী লাগছিল। চোখই ফেরাতে পারছিলাম না। ও কাছে আসতেই আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। এমন সময় চাঁদনি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল৷ আমি নিজেকে ওর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটা কিটকাট দিলাম। ভেবেছিলাম আমার বউটারেও দিবো। কিন্তু সেই সময় ও চলে যেতে লাগল। আমি ডাক দিলাম গাজরের হালুয়া বলে। সেটা শুনে সবাই জানতে চাইল আমি কেন ওকে এই নামে ডাকলাম। আমি সবাইকে লবনের কাহিনী বললাম। ছোঁয়া হয়ত কষ্ট পেয়ে চলে গেল। কিন্তু ও যদি জানত কেন আমি ওকে গাজরের হালুয়া নাম দিয়েছি! গাজরের হালুয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। আর ওযে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের একজন। আমার দুষ্টু মিষ্টি বউ। তাই যে ওকে আমি এই নাম দিয়েছি।

আকাশ, এত ভালোবেসেছিলে আমায়? একবার যদি মুখ ফুটে বলতে তখন। আমি ডায়রীটার দিকে কতক্ষণ তাকাই থেকে পড়া শুরু করলাম। এখনও যে অনেকটুকু বাকি। অনেক না জানা অনুভূতি অনুভব করা বাকি রয়ে গেছে।

( ডায়রী)
বউটা আমার রাগ করে চলে গেল নিজের বাসায়। আমি কেকের লাভ ইমোজি দেওয়া অংশটা সুন্দর করে কেটে ওদের বাসায় গেলাম। নক করতেই ছোঁয়া এসে দরজা খুলে দিল। একবার ফিরেও দেখল না কে এসেছে। বলল সে রাতে খাবে না। বলেই নিজের রুমে গিয়ে লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। আমি ওর পিছু পিছু রুমে গেলাম। বুঝলাম গাজরের হালুয়া বলায় খারাপ লেগেছে অনেক। কেন যেন ওর ভার হয়ে থাকা মুখটা দেখে নিজেকে আটকাতে পারলাম না। তাই কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালে একটা চুমু দিয়ে চলে এলাম।

– তার মানে ঐদিন আমি ঠিকই ধরেছিলাম। আব্বা আম্মা না চেরি ফল এসেছিল কেক দিতে। ডাকাতের মতো এসে চোরের মতো পালিয়ে গেল কেকটা দিয়ে।

(ডায়রী)
♥ জেলাস:
আমার জন্মদিনের পরে একদিন ছোঁয়ার বাসায় গিয়েছিলাম। ও ছিল না। আন্টি বললেন বসতে। তারপর রান্নাঘরে চলে গেলেন। আমি ওর রুমে উঁকি দিলাম। কেমন যেন বাচ্চা বাচ্চা স্মেল আসছিল ওর রুম থেকে। আমি হেসে ওর টেবিলের কাছে গেলাম। ওখানে ওর ডায়রী পড়ে ছিল। খুলে একটু পড়েই বুঝলাম ছোঁয়া আমাকে খুব পছন্দ করে। জেনে খুবই খুশি লাগছিল। তবে হাসিও পাচ্ছিল ওর বাচ্চা লেখা দেখে। বাসায় এসে মনের আনন্দে নাচতে লাগলাম।

পরদিন শুক্রবার। চাঁদনি বাসায় এসেছিল। ছাদে যাবে বলে বায়না ধরল। আমিও গেলাম। একটু পরে দেখি আমার বউটা কাপড় নিয়ে হাজির। সে অনেক জোরে বালতি রেখে তার অদ্ভুত কন্ঠে গান গাইতে লাগল৷ চাঁদনি ওর সাথে ভাব জমাতে চেয়েছিল কিন্তু সে কড়া কথা শুনিয়ে চলে এল নিচে। আমার ওর কান্ড দেখে হাসি পেল।

বিকালবেলা ছোঁয়া বাসায় এসে হাজির। আমাকে হয়ত আশা করেনি। দেখে একটু ভ্যাবাচেকা খেয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছেন গাজরের হালুয়া? ও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ভালো চেরি ফল। ও আমাকে চেরি ফল নাম দিয়েছি। শুনে আমার ভীষণ ভালো লাগল। তবু না বুঝার ভান করে বললাম, চেরিফলটা কে? ও আমাকে ইঙ্গিত করল। চাঁদনি জিজ্ঞেস করল, কে এসেছে? ও রেগে বলল, চেরির বউ গাজর আসছে। বলে ভেতরে চলে গেল। আমার বেশ ভালো লাগল শুনতে। একেবারে টিক কথা বলেছে। চাঁদনি বুঝতে পারেনি ও কি বলেছে। চাঁদনি আমার ক্লোজ ফ্রেন্ডদের একজন। বুঝতে পারলাম ওর হিংসে হচ্ছে চাঁদনিকে আমার এত কাছে দেখে।

আমি চাঁদনিকে এগিয়ে দিয়ে যখন নিজের রুমে এলাম দেখি ছোঁয়ার হাতে আমার ডায়রী। প্রথমে দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। সব পড়ে ফেলল নাকি! তাড়াতাড়ি ওর হাত থেকে ডায়রীটা নিতেই ও ধরা খাওয়া চোরের মতো তাকাল। তখন আমার ওকে দেখে হাসি পাচ্ছিল। আমাকে দেখে হাত দুটো পেছনে লুকিয়ে ফেলল। আমার মনে হল ও কিছু লুকাচ্ছে। আমি মুখ গম্ভীর করে জিজ্ঞেস করতেই এক দৌঁড়ে পালালো। ডায়রী খুলে দেখলাম ও বেশিদূর পড়তে পারেনি। প্রথম পৃষ্ঠা পড়ছিল মাত্র।

আমার কলেজ প্যান্টে একটা দরকারি কাগজ ছিল। ওটা নিতে গিয়ে দেখি আমার কলেজ শার্টের শেষ বোতামটা নেই। দেখে বোঝা যাচ্ছে কেউ সুন্দর করে কেটে নিয়ে গেছে। ছিঁড়ে পড়ে গেলে তো সুতা থাকত। বুঝলাম কাজটা কার। কিন্তু কেন কেটে নিয়ে গেল বুঝলাম না।

♥মাতাল আমি:
প্রত্যেক শুক্রবার দুপুরে ছাদে আমি ওর দেখা পাই। আজকেও গেলাম। আমার ডি এস এল আর ক্যামেরাটা নিয়ে। ওটা নিয়েই খুটখাট করছিলাম। হঠাৎ চোখ পড়লো ছাদের দরজার সাথে দেয়ালের দিকে। ছোঁয়া দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে হাঁপাচ্ছে। ওকে দেখে আরেকটু হলে আমার হাত থেকে ক্যামেরাটা পড়ে যেত। কেমন অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল। ও যখন চোখ খুলল আমি সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। ও তাড়াহুড়ো করে কাপড় দিয়ে চলে যাচ্ছিল। এমন সময় খুব জোরে পড়ে গেল। ভেবেছিলাম গিয়ে ধরে তুলব। কিন্তু আমি এখন বোঝাতে চাই না যে আমি ওকে ভালোবাসি। সময় হলে বলব। তাই ওর দিকে তাকিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। ও টু শব্দ না করে উঠে চলে গেল। আমি আর থেকে কি করব? ছাদের দরজার কাছে এসে দেখলাম ও বসে আছে সিঁড়িতে। আমি ওকে সরতে বললে ও পা সরিয়ে আমাকে জায়গা করে দিল। আমি নেমে গেলাম। কিন্তু পরে মনে হল বেশ ভালোই চোট পেয়েছে। একলা যেতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। গিয়ে দেখি ও কাঁদো কাঁদো মুখ করে বসে আছে। পা মোচকে কালশে হয়ে গেছে। আমি গিয়ে বললাম আমার কাঁধে হাত দিতে। ও আমার কাঁধে হাত দিয়ে উঠে দাঁড়াল। ওর এত কাছে আমি কখনো যাইনি। ওর ছোঁয়া আর ঘামে ভেজা মিষ্টি গন্ধ আমাকে মাতাল করে ফেলছিল। নেশা হয়ে যাচ্ছিল। ওদের বাসার সামনে আসতেই ওকে ছেড়ে দিলাম। আর এক মুহূর্ত থাকলে কি যে করে ফেলতাম নিজেই জানি না। ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললাম আমাকেও এখন গোসল করতে হবে। বলে বাসায় ঢুকে দরজা আটকে কাচে চোখ রাখলাম। দেখি ও মুখ গোমড়া করে বাসায় ঢুকে গেল। আমি মুচকি হাসলাম। শার্টটা ওর গায়ের পানিতে ভিজে গিয়েছিল। ইচ্ছে করছিল রেখে দেই। কিন্তু নিপা খালা হতে দিল না। পরদিনই শার্টটা ধুয়ে রোদে দিয়ে দিল।

সেদিন বিকালে কাপড় আনতে গিয়ে দেখি আমার বার্থডেতে যে শার্টটা পরেছি ওটা হাওয়া। প্যান্টটা আছে শার্ট নেই। কাজটা কার খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছি। বাসায় গিয়ে আম্মুকে বললাম, তোমার বউমা এখন থেকে দখল করা শুরু করে দিয়েছে। আম্মু হেসে বলল, কি হয়েছে?

– আমার শার্টটা নিয়ে গেছে।

– কি করে বুঝলি?

– অন্য কেউ হলে পুরো সেট নিয়ে যেত। এখানে শুধু শার্টটাই গায়েব।

আম্মু হাসলেন। সন্ধ্যায় আম্মুকে বলে ছোঁয়াদের বাসায় পাঠালাম। দেখতে ওর কি অবস্থা। তার একটু পরে আমি নাস্তা বানিয়েছি এটা বলার বাহানায় ওদের বাসায় গেলাম। দেখি ছোঁয়া আম্মুর সাথে বসে আছে। হঠাৎ ওর গলার চেইনের দিকে নজর গেল। সেখানে আমার কলেজ ড্রেসের বোতামটা ঝুলছে। এবার বুঝলাম বোতামটা আনার কারন। আমি সবার সামনে বোতাম চুরির কথা বলতেই ও সাথে সাথে হাত দিয়ে বোতামটা লুকিয়ে রুমে চলে গেল। যাওয়ার আগে বলল ও ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার আগে আমাদের বাসায় আসবে আমার নাস্তা খেতে। আমিও ওয়েট করতে লাগলাম।

নক করতেই দরজা খুলে আমি এক মুহূর্ত থমকে গেলাম। আর কতবার ও আমাকে ঘায়েল করবে। এবার তো ওকে কাছে পাওয়ার আগেই হার্ট ফেল করব। আমি বললাম, ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে না প্রেম করতে যাচ্ছে। সে আমাকে পাত্তা না দিল। আমি ওর সাথে তর্ক শুরু করলাম যে বাসার ভেতর যেতে দেবো না। এক পর্যায়ে ও আম্মুকে ডাকতে লাগলে আমি মুখ চেপে ধরলাম। দুষ্ট বউটা কামড়ে দিল! যদিও ওর রূপের মোহে ব্যাথা টের পাইনি। তাকিয়ে দেখি একেবারে দাগ দিয়ে ফেলেছে। আমি কিছু বলার আগেই ভেতরে চলে গেল। আমি দরজার আড়াল থেকে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম। ও খেয়াল করতেই সরে পড়লাম। একটু পরে আঙ্কেল এসে নিয়ে গেল।

♥লবন চা:
পরদিন আম্মু গিয়ে ওকে দেখে আসল। বউটা আমার পড়ে একেবারে পায়ে হাড় নাড়িয়ে ফেলেছে। প্লাস্টার করতে হয়েছে। তারপরের কয়েকদিন আর দেখা পেলাম না। তাই একদিন আম্মুকে যেতে বললাম। আম্মু আরেকদিন দেখে এল। শুনলাম এখন ভালো আছে। পরেরদিনই প্লাস্টার খোলার সাথে সাথে আম্মুর থেকে চা বানানো শিখে গেল। আমি একবারও চাঁদ বদন মুখটা দেখার সুযোগ না।

কয়দিন পর বিকালে আমাকে দেখতে চাঁদনি, রেদোয়ান আর সৌরভ আসল বাসায়। আমার হালকা জ্বর হয়েছিল তাই। একটু পরে কলিং বেল বাজল। গিয়ে দেখি ছোঁয়া হাজির। ও মনে হয় আমাকে আঘাত করার জন্য ওর সৌন্দর্যের মিসাইল তাক করে থাকে। ও আমাকে সরিয়ে ভেতরে ঢুকল। আম্মু জিজ্ঞেস করতেই বললাম গাজরের হালুয়া এসেছে। শুনেই মুখ বাঁকা করে চলে গেল রান্নাঘরে। আমি সোফায় এসে বসলাম। আম্মু নাস্তা দেওয়ার একটু পরে ও চা নিয়ে আসলো। বুঝলাম ও বানিয়েছে। চাটা মুখে নিতেই যেন বয়রা হয়ে গেলাম। গাজরের হালুয়ার মতো এখানেও লবন। ও উৎসুক হয়ে বলল, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খেয়ে দেখো। ছোঁয়া আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে আমার হাতে কাপের পুরো চাটা খেয়ে নিল। তারপর সাথে সাথে দৌঁড়ে চলে গেল। আমি মনে মনে বললাম, খেলো কি করে চাটা?

♥পরীক্ষা:
আমার এইচএসসি পরীক্ষা চলে এল। আমি পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তাও প্রত্যেক শুক্রবার আমি ছাদে যেতাম। গিয়ে দরজা বেয়ে উপরে উঠে বসে থাকতাম। যাতে ছোঁয়া ছাদে আসলে আমি ওকে এক পলক দেখতে পাই। কিন্তু ও আমাকে দেখতে পাবে না। এভাবে শুক্রবারের অল্প কিছু সময় ওকে চোখের দেখা দেখতাম। ও এসে আমাকে খুঁজতো। আমি নেই দেখে আবার চলে যেত।

আমার প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার সময় আবার জ্বর এল। আমি পড়ছিলাম এমন সময় রান্নাঘরে ছোঁয়ার গলা পেলাম। তার আরও কিছুক্ষণ পরে ও একটা গ্লাস নিয়ে রুমে ঢুকল। আমি উঁকি মেরে দেখলাম নিমের রস৷ ও আমাকে খেতে বলল, আমি শর্ত দিলাম ওকে অর্ধেক খেতে হবে। প্রথমে মুখ বাঁকা করলেও পরে অর্ধেকটা খেয়ে নিয়ে আমাকে দিল। আমি বললাম ওর খাওয়া খাবো না। ও আরেকটা গ্লাস আনতে গেল। এই ফাঁকে আমি খেয়ে নিলাম বাকি অর্ধেকটা। কেন যেন নিমের রসটাও মিষ্টি লাগল। হয়ত ওর ঠোঁটের ছোঁয়া লেগেছে বলে।

খেয়েই শুয়ে পড়লাম বিছানায়। ও এসে বোকার মতো তাকিয়ে রইল। তারপর খালি গ্লাস নিয়ে রাগ করে চলে গেল। আমি মুচকি হাসলাম। কিছুক্ষণ পরে ও আবার এল। আমি ঘুমানোর ভান করে পড়ে আছি। এমন সময় ও আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে গেল। ও চলে যেতেই আমি ছাদের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম, আজকের দিনটা আমার বেস্টদিনের একটা হয়ে গেল তোমার ঐ আলতো ছোঁয়ায়।

♥প্রস্তাব:
পরীক্ষার শেষদিন। পরীক্ষা দিয়ে বের হতেই চাঁদনি বায়না ধরল মাঠে যেতে। বন্ধু বান্ধবরা ঘিরে ধরল। আমি জানতাম চাঁদনি আমাকে পছন্দ করে। সে দিন ও আমাকে প্রপোজ করে বসল। আমি ওর ফুলটা নিতেই সবাই ভাবল আমি একসেপ্ট করেছি। আমি ফুলটা নিয়ে বললাম, তুই এত কষ্ট করে ফুলটা এনেছিস তাই নিলাম। কিন্তু আমি তোকে ভালোবাসতে পারব না। আমি অন্য কাউকে সেই কবে মন দিয়ে বসে আছি। সরি রে। চাঁদনি হয়ত ব্যাপারটা জানত। তাই মুখ কালো করে রইল। হঠাৎ ভীড়ে দেখলাম ছোঁয়ার ফ্রেন্ড রিদি দাঁড়িয়ে আছে। ওর কাছে গিয়ে বললাম, তুমি এখানে? ও বলল, ছোঁয়াও নাকি এসেছিল। কিন্তু এখন আর দেখছে না। বাসায় চলে গেছে হয়ত। আমি বুঝলাম ও আর্ধেক দেখেই চলে গেছে। হয়ত ভুল বুঝেছে আমায়।

‘ তুমি ঠিকই ধরেছিলে। সত্যিই আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম আকাশ। তাই আজ আমাদের মাঝে এত দূরত্ব।’ আমি দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকাইলাম। ঘড়িটা টিক টিক কইরা আগাই যাইতেসে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেইলা আবার ডায়রীটা খুলে পড়ার শুরু করলাম। আজ যে আমার সব রহস্যের জট খুলে যাইতেসে।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here