অতলস্পর্শ,সূচনা পর্ব

অতলস্পর্শ,সূচনা পর্ব
জান্নাতুল বিথী

—-“তুমি ভাবলে কি করে তোমার মতো একটা থার্ডক্লাশ মেয়ের প্রোপজাল এক্সেপ্ট করবে এই কুশান চৌধুরি।”

কুশান চৌধুরি নামটা শুনার সাথে সাথে চমকে উঠে আমি কথাটা বলা মানুষটার দিকে তাকালাম।যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই।এই কুশান চৌধুরিই যে আমার কাজিন হবে তা ভাবতেও পারি নাই।অবশ্যই কুশান ভাইয়া জানে না যে আমি তার কাজিন।আমার বয়স যখন ১১ তখন কুশান ভাইয়া ইউএসএ চলে যায়।আর কালকেই বাংলাদেশে ব্যাক করেছে পড়ালেখা কম্প্রিট করে।আমার এখন নিজের চুল নিজে চিড়তে ইচ্ছে করছে যে বন্ধুদের কথা মতো কেনো এই কাজ করতে গেলাম।

ফ্ল্যাশব্যাক…

আমি মিতু নাঈমা আর ফাহিম চার জনে মিলেই ট্রথ অর ডেয়ার খেলছি।আর আমি যখন ডেয়ার নেই তখন ফাহিম বলে..

—-“জিহা তোর কাজ হলো ওই যে (হাত দিয়ে ইশারা করে) একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে সাদা টি-শার্ট পরা ওকে গিয়ে বলবি I love you।ব্যস এতো টুকুই।”

—-“আহা মাত্র এই টুকুই।এটাতো আমার বা হাতে খেল।তোরা একটু অপেক্ষা কর আমি আসছি।”

—-“হ্যা হ্যা তবে শর্ত হলো আগামী ১ ঘন্টা তুই তাকে বলতে পারবি না যে তুই তাকে ডেয়ার পুরন করার জন্য প্রোপোজ করলি।”

বলেই ফাহিম আমাকে চোখ মারে।আমি তাকে ভেংচি দিয়ে উঠে যাই।ছেলেটা উল্টো দিকে ঘুরা ছিলো তাই আমি তার মুখ দেখতে পাইনি।আমি ছেলেটার পেছনে গিয়ে দাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে বলি..

—-“এই যে মিস্টার আমি আপনাকে ভালোবাসি।I love you.”

কথা টা বলেই চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ফেলি।তারপর তার কথা শুনে চোখ খুলে তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি।

বর্তমানে…..

——“এই মেয়ে আমি কি বলছি শুনতে পাচ্ছো তুমি।”

আমি নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়তে হবে জীবনেও ভাবী নাই।আমি নিচের দিকে তাকিয়ে মিন মিন করে বলি..

——–“ধন্যবাদ ভাইয়া রিজেক্ট করে দেওয়ার জন্য।”

কথা শুনে ভাই অবাক চোখে আমার দিকে তাকায়।ভাইয়া কিছু বলবে তার আগেই আমি তার দিকে একবার তাকিয়ে উল্টা দিকে ঘুরে হাটতে থাকি।আর ভাবছি ভাইয়া আগের থেকেও অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছে।কাল রাতে আসায় অন্ধকারে ভালো করে তাকে দেখি নাই।কুশান ভাইয়াদের বাড়ি রাস্তার এ পাশে আর আমাদের বাড়ি উল্টো পাশে।

যাইহোক আমি ওদের তিন জনের কাছে এসে ফাহিমকে উরাধুরা মারতে থাকি।আর ও মাইর খাওয়া থেকে বাছতে দোড়ায়।এভাবেই আমরা দুজন কিছুক্ষণ দোড়াদড়ি করে হাফিয়ে মিতু আর নাঈমার কাছে এসে দাড়াই।ওরা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ওরা তিন জনেই অবাক।..

——-“ওই তোরা এই ভাবে কি দেখছ।আমার চেহারায় কি মুক্তা ঝরে পড়ছে।”

আমার কথা শুনে ওরা কোনো রিয়েক্ট করে না।কারন তারা জানে আমি এমনই।ফাহিম আমার দিকে তাকিয়ে বলে..

——-“ওই আবাল মার্কা মাইয়া কি হইছে তোর আমারে মারছ কেনো.??”

——-“হারামি তোর কারনে সব তুই আর কাউরে পাইলি না শেষমেষ আমার কাজিনকেই। i love you বলতে বললি।যে কিনা এখনো পর্যন্ত আমাকে দেখেই নি। সে যখন জানবে আমি তার বোন কাজিন লাগি তখন কি মনে করবে।তাও আবার ভাইয়া বলে কিনা আমি থার্ডক্লাশ মেয়ে।” (শেষের কথাটা কাদো কাদো ফেস করে বলি)

আমার কথা শুনে মিতু ফাহিম আর নাঈমা তিন জনেই আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকায়।নাঈমা বলে..

———“তার মানে উনি তোর ভাই।দোস্ত প্লিজ লাইন করে দে না।”

নাঈমার কথা শুনে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে।দাঁত কটমট করে তার দিকে তাকিয়ে বলি…

——-“আমি মরি আমার জ্বালায় আর তোরা আমার সাথে ফান করছ.??”

——–“আজিব তোর কাজিন তো কি হইছে.??”(মিতু)

—–“তুই জানছ এই কুশান ভাইয়াকে আমি ঠিক কতোটা ভয় পাই.??আর তাছাড়া কুশান ভাইয়া যদি একবার জিদান ভাইয়াকে (আমার ভাই) বলে দেয় তাহলে আমি শেষ।”

—–“আরেহ বলবে না চিন্তা করবি না।”(নাঈমা)

আমি ফাহিমের দিকে রাগী লুকে তাকাই। তারপর কিছুক্ষণ চারজন মিলে ঝগড়া করতে থাকি।আসলে আমাদের বন্ধুত্বটাই এমন। এই ভালো তো এই খারাপ।এই সুন্দর করে কথা বলছে তো এই ঝগড়া শুরু হইছে।তারপর আমাদের চারজনের আরেকটা বড় গুন হলো আমরা কথা শুরু করবো টেকনাফ থেকে আর আমাদের কথা গিয়ে শেষ হবে তেতুলিয়ায়।কথার কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় পৌছে যাই তার ঠিক নেই।চারজন এতো ঝগড়া করি তারপরো এক জনকে না দেখলে আরেক জন থাকতে পারে না।এতোটা ভালো বন্ধুত্ব আমাদের মাঝে।

এবার আসুন পরিচয় দেওয়া যাক।..

আমি জিহা। বাবা মা আর ভাইয়ার আদরের মেয়ে।আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।আমার ভাই জিদান চৌধুরি পড়া লেখা শেষ করে বাবার ব্যবসায় হাত দিলো মাত্র কিছুদিন হলো।আমি দেখতে এতোটাও খারাপ না যার জন্য কুশান ভাইয়া আমাকে থার্ডক্লাশ টাইপের মেয়ে বললো।অবশ্যই বলতেই পারে আমেরিকায় বড় হয়েছে বলে কথা।

অন্যদিকে কুশান চৌধুরি। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে।খুব আদরের।কুশান ভাইয়া আর জিদান ভাইয়া খুব ভালো বন্ধু।দুজনেই সম বয়সি।যাই হোক বাকীটা গল্পে জানবেন।

আমি রুমে এসে ফ্রেস হয়ে মাত্র মোবাইল টা নিয়ে একটু শুইলাম।হঠাৎ লিভিংরুম থেকে কিছু কথা এসে আমার কানে বারি খাচ্ছে।আমি কান খাড়া করে শুনার চেষ্টা করছি।বুঝতেই পারছি লিভিংরুমে কুশান ভাইয়া বাবা আম্মু আর জিদান ভাইয়া সবাই আছে।কথার এক পর্যায়ে কুশান ভাইয়া বলে উঠে…

——“চাচ্ছু এই বাড়িতে কি আর কেউ থাকে না.??”

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here