অতলস্পর্শ,পার্ট_০৬+৭

অতলস্পর্শ,পার্ট_০৬+৭
জান্নাতুল বিথী

ভার্সিটি থেকে এসে সেই যে রুমে ডুকলাম এখনো বের হই নাই।এখন রাত ৮ টা বাজে।ভার্সিটি থেকে এসে শাওয়ার নিয়ে আমি রুমে অনেক্ষন বসে ছিলাম।বসে ছিলাম বললে ভুল হবে বসে বসে মিতুর সাথে কথা বলছি।ওদের থেকে আমি কোনো কথাই গোপন রাখি না তাই সব কিছুই বলছি।সব শুনে ও বলছে..

“দেখ জিহু আমার মনে হয় কুশান ভাইয়া তোর ওই কথায় রাগ করছে।তুই কেনো বলতে গেলি যে তুই ফাহিমকে ভালোবাসিস।এটা বলা হয়তো তোর উচিত হয় নাই।”

“কিন্তু এতো মাইন্ড করার কি আছে আমি তো তার সাথে মজা করছি।আর কেনোই বা ভাইয়া এই কথা শুনে এতোটা রিয়েক্ট করলো।”

“আমি যা ভাবছি তা নাও হতে পারে।তুই একটা কাজ কর।তুই বরং এখন কুশান ভাইয়াদের ফ্ল্যাটে যা গিয়ে দেখ ভাইয়া কি করে।যদি মন খারাপ থাকে তাহলে মন টা ভালো করে দিয়ে আয়।”

আমি অবাক হয়ে মিতুর কথা শুনছিলাম।ভাবছি আসলেই কি মিতু পাগল টাগল হয়ে গেলো নাকি…

“এই মিতু তুই কি পাগল নাকি।আর আমি তার মন ভালো করবো কিভাবে।”

“সেটা তুই ই ভালো জানিস।আমি কিভাবে জানবো। যেটা বলছি সেটা কর তোর জন্য ভালো হবে।”

বলেই কট করে ফোনটা কেটে দেয়।আমি ফোনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।কি করবো তাই ভেবে পাচ্ছি না।ভাবতে ভাবতেই তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।এখন ঘুম থেকে উঠে এতো রাত হয়ে গেলো দেখতেই অনেকটা চমকে উঠি।আবার ভাবতে থাকি আসলেই কি আমার ভাইয়ার কাছে যাওয়া উচিত.??উনি এতো অল্পতেই কেনো রেগে গেলেন??আমাকে তো উনি সহ্যই করতে পারেন না তবে.??

এমন হাজারো প্রশ্ন আমার মনে পীড়া দিচ্ছে।ভাবনার মাঝেই আম্মু ডাক দিলো..

“জিহা মা কি হইছে তোর.??দরজা খুলিস না কেনো.??না খেয়ে থাকবি নাকি আজ.??”

আমি ফোস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি…

“আম্মু পরে খেয়ে নেবো আমি এখন ইচ্ছে করছে না আমার।”

আম্মু আর বাড়াবাড়ি না করে চলে যায় বুঝতেই পারি।কারন আম্মু খুব ভালো করেই জানে যে আমি ঠিক কতোটা ঘাড়ত্যাড়া।তাই আর কথা বাড়ায় না।আমি চোখ বন্ধ করে কয়েকবার শ্বাস নিয়ে উঠে দাড়াই।উঠে গিয়ে ফ্রেস হয়ে ফোন হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসি।জিদান ভাইয়া লিভিংরুমে বসে বসে মোবাইলে কিছু দেখছে আম্মু কিচেনে। আমি ধীর পায়ে গিয়ে ভাইয়া পাশে বসে পড়ি।ভাইয়ার পাশে বসতেই ভাইয়া চমকে উঠে আমার দিকে তাকায়।আমাকে দেখে চোখ বন্ধ করে একটা নিশ্বাস নিয়ে বলে..

“ম্যাডাম অবশেষে বের হলেন রুম থেকে।তা আমি তো ভাবলাম সারা দিনেও হয়তো আর বের হবেন না।”

অন্য সময় হলে ভাইয়ার কথার পাল্টা জবাব দিতাম।কিন্তু এখন জবাব দেওয়ার মতো এনার্জি বা ইচ্ছা কোনোটাই নেই আমার।তাই আমি কিছু না বলে দুই হাতে ভাইয়ার গলা জড়িয়ে বুকে মুখ গুজে থাকি।আমার কাজে প্রথমে জিদান ভাইয়া হকচকিয়ে গেলেও পরে নিজেকে সামলে নিয়ে এক হাতে আমায় পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে…

“তোর কি মন খারাপ জিহু.??”

আমি কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে না বলি।তারপর ভাইয়াও আর কোনো কথা না বলে চুপ করে বসে থাকে।আমিও ভাইয়ার বুকে গুটিশুটি মেরে চোখ বন্ধ করে চুপ করে বসে থাকি।প্রায় অনেক্ষন পর আমি হালকা মাথা তুলে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বলি…

“আচ্ছা ভাইয়া তুমি তো অফিসে ছিলে তাহলে আমি যখন রাস্তায় দাড়িয়ে কান্না করছিলাম তখন তুমি কেনো আসছো আর কিভাবে আসছো.??তুমি তো জানার কথা না তাহলে.??”

কথা শেষ না করেই আমি থেমে যাই।ভাইয়ার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমি।..

“কুশান আমাকে ফোন করে বলেছিলো তুই ওই রাস্তার মোড়ে আসিস যেনো তোকে বাড়ি পৌছে দেই আমি।”

আমি ভাইয়ার মুখের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছি।আমার যেনো কথাটা বিশ্বাসই হচ্ছে না। কুশান ভাইয়া তো তখন আমাকে রেগে গাড়ি থেমে নেমে যেতে বললেন।তাহলে আবার দয়া দেখাতে আসছে কেনো।আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বলি…

“উনি আমাকে এভাবে গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলছেন কেনো.??”

“রেগে যাওয়ার মতো কথা বললে রাগাটাই স্বাভাবিক।”

“কিন্তু এই সামান্য কারনে উনি রেগে গেলেন কেনো আজিব।”

“তোর চাইতেও একটা ৫ বছরের বাচ্ছা ভালো বুঝে।যাইহোক তোর এসব প্রশ্নের উত্তর একমাত্র কুশানই ভালো দিতে পারবে।তুই বরং তার কাছে যা।”

সেই কখন থেকে বড় মার সাথে বকবক করেই যাচ্ছি।অনেকটা জোরেই কথা বলছি যেনো কুশান ভাইয়া রুম থেকে আমার কথা শুনে নিচে নেমে আসে।কিন্তু আমার ধারনা সম্পুর্ন ভুল প্রমান করে দিয়ে ভাইয়া নিচে আসে নাই।আমার একটু রাগ হয় তার উপর।কিন্তু পরক্ষনেই ভাবতে থাকি তার উপর রাগ করার অধিকার কি আমার আছে.??কেনো রাগ করবো আমি।আর আমার রাগ তাকে দেখিয়ে কি লাভ হবে আমার.?এসব প্রশ্ন মনে আসতেই আচমকা মনটা ভীষন খারাপ হয়ে যায়।আমি বড়মার দিকে একবার তাকিয়ে একটু জোরেই বলি..

“ঠিক আছে বড়মা আজ না হয় আমি আসি।অন্য একদিন আসবো।আজ আমার পড়া আছে।”

কথাটা বলতেই বড়মা ফিক করে হেসে দেয়।তার হাসির কারনটাও আমার জানা আছে।আমি এমন ভাবে কথা বলছি যেনো আমি অনেক দুর থেকে তাদের বাড়ি আসছি।এখন না গেলে খুব বড় সমস্যা হয়ে যেতে পারে।এসব শুনেই বড়মা হেসে দেয়।তারপর আমি ফিসফিস করে বলি..

“বড়মা ভাইয়া আমার উপর রেগে আছে একটু গিয়ে দেখি উনি কি করছে।”

আমার কথা শুনে বড়মা মুচকি হাসে।তারপর আমাকে সম্মতি দিতেই আমি ভাইয়ার রুমের দিকে এগিয়ে যাই।দরজার কাছে যেতেই দেখি দরজা খোলা।আমি আস্তে করে ভাইয়ার রুমে প্রবেশ করি।দেখি ভাইয়া খাটে হেলান দিয়ে আধ শোয়া অবস্থায় বসে আছে।চোখ দুটো বন্ধ।আমি এগিয়ে গিয়ে তার পাশের একটি আসনে বসলাম।ভাইয়া হয়তো আমার উপস্থিতি বুঝতে পারে নাই তাই ওই ভাবেই বসে আছে।আমি অনেক্ষন গালের নিচে হাত দিয়ে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে থাকি।ভাইয়াকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে থাকি।ভাইয়া ফর্সা মুখ অনেকটা লাল বর্ন ধারন করে আছে।অনেকটা রেগে আছে হয়তো এখনো।আমি ইচ্ছে করে একটু শব্দ করি।আর তাতেই কাজ হয় ভাইয়া চোখ মেলে তাকিয়ে আমাকে দেখে অনেক চমকে উঠে।আমার দিকে একটু তাকিয়ে ভাইয়া আবার চোখ বন্ধ করে নেয়।চোখ বন্ধ করা অবস্থাতেই ভাইয়া বলে..

“এখানে কি জিহু।রুম থেকে চলে যা।প্লিজ লিভ মি এলোন।”

শেষের কথাটা ভাইয়া অনেকটা জোরেই বলে।আমি হালকা কেটে উঠি।ভ্রু কুচকে চোখ বন্ধ করে থাকি।তারপর তার দিকে তাকিয়ে বলি..

“ভাইয়া আমি..

“আমি আমি কি বলছি তোকে।প্লিজ চলে যা এখান থেকে নয়তো আমার চাইতেও খারাপ আর কেউ হবে না।”

কিন্তু তাতেও আমার কোনো নড়চড় নেই।আমি নিচের দিকে তাকিয়ে একদমে বলি..

“সরি ভাইয়া তখন আমি আপনার সাথে মজা করে ওই কথাটা বলেছিলাম।ফাহিম তো আমার জাস্ট ফ্রেন্ড।আমার কোনো বফ টফ নেই।প্লিজ রাগ করবেন না.”

অনেকটা করুন গলায় বলে উঠি আমি।আমার কথা শেষ হতেই ভাইয়া চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে বলে..

“আমি কি তোকে বলেছি যে আমি রাগ করছি.??”

আমি মাথা নেড়ে না বলি।তারপর নিচের দিকে তাকিয়ে বলি..

“তাহলে আপনি আমার সাথে এমন করছেন কেনো।আর আমার মতো থার্ডক্লাশ একটা মেয়ের যদিও বফ থাকে ত্তে আপনি এতো জেলাস ফিল করছেন কেনো.??”

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here