My_Mafia_Husband❤,পর্ব:১০(অন্তিম পর্ব)

My_Mafia_Husband❤,পর্ব:১০(অন্তিম পর্ব)
লেখিকা: মিহু

নীল: জিজু আ..আমার বোনের কিছু হবে না তো?

মেঘ: ন..ন..নাহ্ না না মিহুর কিছু হবে না

নীল: কিন্তু ওরা কারা ছিল আর কেনই বা মিহুকে কিডন্যাপ করল ওরা?

মেঘ: আমি হয়তো জানি

নীল: কি?

মেঘ: নীল তুমি বাসায় যাও

নীল: কিন্তু জিজু……

মেঘ: আই সেইড গো। আর মিহুর কিন্তু হবে না কজ আমি হতে দিব না। ওর কিছু হলে আমি বাঁচব না। তাই ওর কিছু হবে না বুঝলে তুমি?

নীল: হুম

“মেঘ আর কিছু না বলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল। রাগে মেঘের মাথার রগ ফুলে আছে,,,চোখ দু’টো লাল বর্ণ ধারণ করেছে,,,রাগে ওর শরীরে রীতিমতো কাপছে,,,চেহারা লাল হয়ে গিয়েছে। মেঘ গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে আসলো”


মেঘ: চার্লস, ড্যানি!!!(চিল্লিয়ে)

“মেঘের চিৎকার শুনে ড্যানি আর চার্লস দৌড়িয়ে এলো”


ড্যানি: স্যার কি হয়েছে?

চার্লস: স্যার আপনি রেগে আছেন মনে হচ্ছে,,,কি হয়েছে?

মেঘ: এখনি খবর নে মিহু কোথায় আছে আর কারা ওকে কিডন্যাপ করেছে?

ড্যানি: ম্যামকে কিডন্যাপ করেছে?

চার্লস: কিন্তু স্যার এত বড় সাহস কার হবে?

মেঘ: যারই হোক না কেন সে খুব বড় ভুল করেছে। সে মেঘ চৌধুরীর ওয়াইফকে কিডন্যাপ করেছে। আমার কলিজায় হাত দিয়েছে সে

ড্যানি: স্যার আ..আমরা এখুনি খবর নিচ্ছি আপ..আপনি হাইপার হবেন না

মেঘ: এখুনি কমিশনারকে ফোন দে

চার্লস: আমি দিচ্ছি

মেঘ: রাফিন কোথায় আছে খবর নে? আজকে ওই হারামজাদার খবর আছে

ড্যানি: জ্বি স্যার আমি দেখছি

মেঘ: (আমি আমার মিহুর কিছু হতে দিব না। মিহু তোমার কিচ্ছু হবে না কিচ্ছু না)

এদিকে____________________
.
মিহু: উমমমম…… উমমম….. উমমমমমম……..

১ম লোক: স্যার মেয়েটা একটু বেশি লাফালাফি করছে

২য় লোক: স্যার মেয়েটা মনে হয় কিছু বলতে চায়। মুখের বাঁধনটা কি খুলে দিব?

স্যার: হুম খোল

মিহু: (গাড়িতে উঠানোর সাথে সাথেই ওরা আমার হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে দিয়েছিল। এখনো খুলে নি,,,আমি কোথায় আছি? আমাকে এখানে কে এনেছে,,,কেন এনেছে কিছুই জানি না আমি? মেঘ আপনি কোথায়? প্লিজ আমাকে নিয়ে জান এখান থেকে)

“ওই ২ জন লোকের মধ্যে একজন এসে মিহুর মুখের বাঁধনটা খুলে দিল”


মিহু: কে আপনারা,,,আমাকে এখানে কেন এনেছেন?

স্যার: আমাকে চিনতে পারছিস না?

মিহু: কে আপনি?

স্যার: ওই যা ওর চোখের বাঁধনটাও খুলে দে

২য় লোক: জ্বি স্যার

“আরেকজন এসে মিহুর চোখের বাঁধনটা খুলে দিল। মিহু চোখ খুলে যাকে দেখলো তাকে দেখার জন্য মিহু মোটেও প্রস্তুত ছিল না”


মিহু: আ..আপনি???

এদিকে___________________
.
ড্যানি: স্যার রাফিনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না

মেঘ: আমি না শব্দটা শুনতে চাই না

ড্যানি: স্যার স্যার আপনি শান্ত হন আমি আবার খোঁজ নিচ্ছি

মেঘ: ফাস্ট

চার্লস: স্যার আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে

মেঘ: কে?

চার্লস: রুপসা ম্যাম

মেঘ: ওকে বল আমি এখন বিজি আছি তাই মিট করতে পারব না

রুপসা: তা কি নিয়ে বিজি আছো তুমি মেঘ?

মেঘ: একি তুমি ভেতরে এসেছো কেন?

রুপসা: ওহ্ কামন মেঘ আমি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে আসি নি

মেঘ: লিসেন রুপসা রাইট নাও আই এম ভেরি বিজি। সো গেট আউট ফ্রম হিয়ার

রিসাদ: বউকে নিয়ে টেনশনে আছো বুঝি?

মেঘ: হাউ ডু ইউ নো?

রুপসা: উই নো এভরিথিং

মেঘ: মানেহ্,,,কি জানো তোমরা?

রুপসা: এই যে তোমার সো কলড্ লাভলি ওয়াইফ এখন রাফিনের কাছে

মেঘ: তুমি কি করে জানলে?

রিসাদ: কজ আমরাই সরিয়েছি তোমার ওয়াইফকে

মেঘ: রিসাদ খাআআন (চিল্লিয়ে রাগে ওনার কলার চেপে ধরলাম)

রুপসা: মেঘ লিভ হিম। ছাড়ো ড্যাডকে নয়তো মিহুকে শেষ করে দিব

মেঘ: নো নো নো আ..আমি ছেড়ে দিচ্ছি। এবার বলো মিহু কোথায়?

রুপসা: এত সহজে নাকি?

মেঘ: কি চাও তুমি? টাকা??? টাকা চাও তো? বলো কত টাকা লাগবে তোমার? বলো???

রুপসা: তোমাকে চাই

মেঘ: মানে? [দাঁতে দাঁত চেপে]

রুপসা: আই লাভ ইউ এন্ড দ্যাট’স হুয়াই আই নিড ইউ

মেঘ: আমি অলরেডি মিহুর তাই আমাকে তুমি ভুলে যাও। আর ভালোভাবে বলছি মিহু কোথায় বলো

রুপসা: ড্যাড তুমি যাও আমি দেখছি ওকে

রিসাদ: ওখেই বাই গাইস,,,এনজয় (বলে ওখান থেকে বেরিয়ে গেলাম)

মেঘ: রুপসা লাস্ট টাইম আস্ক করছি মিহু কোথায়?

রুপসা: মিহু রফিনের সাথে। আর রাফিন তোমার বউয়ের সাথে একরাত কাটাতে চায়। তোমার বউকে তার বেড পার্টনার বানাতে চায়

মেঘ: রুপসাআআআ (ঠাস করে ওর গালে একটা চড় বসিয়ে দিলাম) ওর গায়ে যদি একটা টোকাও লাগে তাহলে আমি নিজেও জানি না আমি ঠিক কি করব

রুপসা: কেন মেঘ কেন তুমি এমন কর? আমি যে তোমাকে ভালোবাসি তুমি কি তা বোঝো না?

মেঘ: তোমার ভালোবাসা বুঝতে চাই না আমি রুপসা। আমি শুধু মিহুকে ভালেবাসি

রুপসা: মিহু মিহু মিহু মিহু!!!! এই…এই নামটা আ..আমার জাস্ট স..সহ্য হয় না। এ..এই মেয়ে..মেয়েটা তোমাকে আম..আমার কাছ থেকে দূরে…দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ও…ও যদি তো..তোমার লাইফে না আস..আসতো তাহলে তুমি আমা…আমা..আমার হতে। আমি ওই মিহুকে ছাড়ব নাআ। ছাড়..ছাড়ব না আমি মি..মিহুকে [অতিরিক্ত রাগে তোতলিয়ে]

মেঘ: রুপসা ইউ আর মেন্টালি সিক্। তোমার প্রপার ট্রিটমেন্ট দরকার

রুপসা: ইয়েস আই এম সিক। আমি পাগল মেঘ আমি পাগল। আমি তোমার ভালোবাসার জন্য পাগল। তোমায় নিজের করে পাওয়ার জন্য পাগল

মেঘ: (এখন একমাত্র রুপসাই পারে মিহু কোথায় সেটা বলতে। হে আল্লাহ্ আমার মিহু যেন ঠিক থাকে। রুপসার কাছ থেকে যেভাবেই হোক মিহু কোথায় জানতে হবে। তারপর ওই রফিনের বাচ্চাকে আমি দেখে নিব)

রুপসা: কি হলো মেঘ তুমি চুপ হয়ে আছো কেন?

মেঘ: রুপসা তুমি আমার কথা শোনো। তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই না?

রুপসা: হ্যা..হ্যা মেঘ

মেঘ: আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারি তবে একটা শর্তে

রুপসা: আমি তোমার সব শর্তে রাজি। তুমি শুধু বলো শর্তটা কি

মেঘ: শুধু এইটুকু বলো যে রাফিন এখন কোথায়?

রুপসা: তুমি কি আমাকে এতটা বোকা পেয়েছো মেঘ যে তুমি আমার কাছে জানতে চাইবে যে রাফিন কোথায় তারপর আমি বলে দিব তারপর তুমি সেখানে যেয়ে মিহুকে নিয়ে আসবে তাই না?

মেঘ: নাথিং লাইক দ্যাট রুপসা। আমি শুধু জানতে চাইছি কজ রাফিন আমার অনেক বড় একটা ক্ষতি করে দিয়েছে তাই ওকে উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে

রুপসা: প্রমিস?

মেঘ: প্রমিস

রুপসা: উম… নাহ্ তার আগে আমার একটা শর্ত আছে

মেঘ: (ওহ্ গড প্লিজ তুমি দেখো মিহুর যেন কিছু না হয়) কি শর্ত?

রুপসা: কিস্ করো আমাকে

মেঘ: রুপ…..(নাহ্ ওকে এখন কিছু বলে লাভ নেই। ওর শর্তে রাজি না হলে আমি জানতে পারব না যে মিহু কোথায়)

রুপসা: কি হলো?

মেঘ: হুম করছি (আ’ম সরি মিহু। তোমাকে বাঁচানোর জন্য আমাকে এটা করতে হচ্ছে)

“মেঘ রুপসাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে রুপসাকে কিস্ করতে লাগলো”

[😭😭😭আমার মেঘ😭😭😭]

এদিকে____________________
.
মিহু: রাফিন আপনি?

রাফিন: হ্যা আমি ওইদিন তো বেচে গিয়েছিলি। কিন্তু আজকে কে বাঁচাবে তোকে?

মিহু: আপনি আমার কিছু করতে পারবেন না। মেঘ আমাকে প্রমিস করেছে ও থাকতে আমার কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না

রাফিন: হাহাহাহাহাহা তোর মেঘ বাঁচাবে তোকে? ও তো এখন রুপসার সাথে বিজি। তাই তোর কথা ও ভুলেই গিয়েছে

মিহু: রু..রুপসার সাথে বিজি মানে?

রাফিন: হ্যা দেখবি ও রুপসার সাথে এখন কি করছে?

মিহু: নাহ্ আমার মেঘ রুপসার সাথে নয়। ও আমাকে না পেয়ে এখন আমাকে খুঁজছে আমি জানি

রাফিন: দেখ তবে (পকেট থেকে ফোনটা বের করে একটা ভিডিও অন করে ওকে দেখাতে লাগলাম) দেখ লাইভ ভিডিও

মিহু: (আমি ভিডিওটা দেখে পুরো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি। আমার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না। আমি কান্না করা ভুলে গিয়েছি এই ভিডিও দেখে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার মেঘ রু..রুপসাকে কিস্ করছে? এটাও কি সম্ভব? মেঘ তার মানে আমাকে এতদিন ধোকা দিয়েছে?)

“আসলে রিসাদ খান যখন বের হয়ে আসছিল তখন নিজের কোর্টটা ওখানে ইচ্ছে করে ফেলে এসেছিলেন। ওনার কোর্টের পকেটে পেন ক্যামেরা লাগানো ছিল। যার ফলে মেঘ রুপসার সাথে যা যা করছে তার ভিডিও হচ্ছে। আর সেই ভিডিওই রাফিনের ফোনে কানেক্ট করা ছিল”


রাফিন: কিরে এবার হলো বিশ্বাস?

মিহু: ন..নাহ্ মেঘ এটা করতে পারে না

রাফিন: এটাই সত্যি

মিহু: (আমার বিশ্বাস নিয়ে এভাবে কেন ছিনিমিনি খেললেন আপনি মেঘ? আপনাকে কি আমি কম ভালোবেসে ছিলাম?)

রাফিন: এবার নিশ্চই আমার সাথে আমার বেড পার্টনার হওয়ায় তোর কোনো সমস্যা নেই?

মিহু: (ওনার দিকে রাগী চোখে তাকালাম) মেঘ আমাকে ধোঁকা দিয়েছে বলে যে আমি তোর সাথে তোর বেড পার্টনার হওয়ার জন্য রাজি হয়ে যাব এটা ভাবলি কি করে তুই? আমার নিজের একটা সম্মান আছে আছে সেই সম্মানকে আমি এভাবে বিসর্জন দিতে পারব না বুঝলি তুই? একজন মেয়ের কাছে তার সম্মান তার ইজ্জত ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তোর মত জানোয়ারেরা বুঝবে না

রাফিন: (রাগের বশে ওকে আরও একটা থাপ্পড় দিলাম) এখন নিজের ইজ্জতের বড়াই যত মন চায় কর। আজ রাতের পর থেকে তুই আর তোর ইজ্জতের বড়াই করতে পারবি না

মিহু: (বলার মত কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। যাকে ভালোবাসলাম সে আমাকে ঠকালো। আর এখন কি নিজের সম্মানটুকুও আমাকে বিসর্জন দিতে হবে? নাহ্ কখনো না দরকার পরলে আমি মরে যাব তাও নিজের সম্মানে একটা দাগও লাগতে দিব না)

রাফিন: গেট রেডি ফর টুনাইট সুইটহার্ট (বলে ওকে রেখে রুমের গেট লক করে বেরিয়ে গেলাম)

মিহু: (আল্লাহ্ প্লিজ বাঁচাও আমাকে?) কেন করলেন মেঘ আমার সাথে এমন? (বলেই কাঁদতে লাগলাম)

এদিকে__________________
.
“রুপসাকে অনেক্ষণ কিস্ করে ছেড়ে দিল মেঘ”


মেঘ: এখন বলো রুপসা রাফিন কোথায়?

রুপসা: ওয়াও মেঘ নাইস কিস্। আচ্ছা আচ্ছা বলছি (তারপর ওকে এড্রেস দিয়ে দিলাম)

মেঘ: ড্যানি, চার্লস!!!

ড্যানি: ইয়েস স্যার

মেঘ: এই মেয়েকে এখুনি মেন্টাল হসপিটালে নেওয়ার ব্যবস্থা কর

রুপসা: এসব তুমি কি বলছো মেঘ?

মেঘ: তোর মত একটা সাইকো মেয়েকে এভাবে বাইরে ছেড়ে রাখার কোনো মানেই হয় না বুঝলি?

চার্লস: স্যার আমি হসপিটালে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি ওরা এখুনি আসছে

মেঘ: হুম,,,আর মিহু কোথায় আছে তা জানতে পেরে গিয়েছি তাড়াতাড়ি গাড়ি বের কর

ড্যানি: ওকে স্যার

রুপসা: মেঘ তুমি কিন্তু আমাকে প্রমিস করেছিলে যে আমাকে ভালোবাসবে

মেঘ: তোর মত একটা পাগলকে করা প্রমিস আমি রাখতে পারব না

রুপসা: মেঘ ইউ কান্ট ডু দিস টু মি

মেঘ: ইয়েস আই ক্যান (বলে ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলাম)

“মেঘ আর মেঘের লোকেরা মিহুকে খোঁজার জন্য বেরিয়ে পড়ল”

“এদিকে মিহু ওর হাত-পায়ের বাঁধন খোলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। মিহু খেয়াল করল পাশে কতগুলো কাচ ভেঙে পড়ে আছে। ও কোনোভাবে গড়িয়ে ওদিকে গেল। তারপর একটা কাচের টুকরো পেছন দিক দিয়ে হাতে নিলো,,,কাচটা অতিরিক্ত ধারালো হওয়ায় মিহু ধরার সাথে সাথে ওর হাতের তালু কিছুটা কেটে গেল। কিন্তু ওর ব্যাথা লাগলো না কারন ওর চোখের সামনে এখনো মেঘ আর রুপসার ভিডিওটা ভাসছে। সেই ভিডিওটা দেখার পর ওর বুকে কেমন যেন একটা চিনচিনে ব্যথার অনুভব হয়। সেই ব্যাথার সামনে এই সামান্য ব্যাথা কিছুই না। মিহু ওর হাতের দড়িটা কাচের টুকরো দিয়ে তাড়াতাড়ি করে কাটতে লাগলো। হাতের দড়ি কাটতে যেয়ে যে মিহু নিজের হাতের কত জায়গায় কেটে ফেলেছে তাতে ওর কোনো হুস নেই। অবশেষে অনেক কষ্টে হাতের দড়িটা কাটতে পাড়লো। তাড়াতাড়ি হাতের দড়ি খুলে পায়ের দড়িটাও খুলে ফেললো ও। তারপর উঠে দাড়িয়ে বের হওয়ার পথ খুঁজতে লাগলো মিহু। দরজাটা বাইরে থেকে লক করা তাই মিহু বের হতে পারছে না আর অন্য কোনো রাস্তাও নেই বের হওয়ার। মিহু এখন কি করবে কিছু ভেবে পাচ্ছে না। হঠাৎ কারও পায়ের আওয়াজ শুনতে পেল মিহু,,,আওয়াজটা এদিকেই আসছে। তার মানে কেউ একজন রুমে আসছে ভাবলো মিহু। তাড়াতাড়ি করে আশেপাশে কিছু খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো ও। খুজতে খুজতে একটা রড পেল ও। রডটা হাতে নিয়ে দরজার পাশে এসে লুকিয়ে পড়লো মিহু। কেউ একজন গেট খুলে ভেতরে ঢুকলো। মিহু দেখতে লাগলো লোকটা আসলে কে। রাফিন হলে আজকে মিহু ওকে এই রড দিয়ে বাড়ি দিয়ে ওর মাথা ফাটাবে ভাবছে মিহু। দেখলো আসলেই রাফিন ঢুকেছে রুমের ভেতরে। রাফিন মিহুকে দেখতে না পেয়ে যেই চিৎকার দেওয়ার জন্য সামনে ঘুরলো তখনি মিহু রাফিনের কপালে রড দিয়ে আঘাত করল। কিন্তু ও একটু হালকাভাবেই আঘাত করেছিল যার ফলে রাফিনের তেমন কিছু হয় নি জাস্ট কপালটা একটু কেটে গিয়েছে। রাফিন এখনো ঠিক আছে দেখে মিহু দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু ও কোথায় এসেছে বুঝতে পারছে না। আর এখান থেকে বের হবেই ব কি করে? যেদিকে তাকাচ্ছে সব দিকেই বড় বড় কিসব বক্স দিয়ে ভরা,,,ও বুঝতে পারছে যে এটা একটা গোডাউন। আর ওকে আটকে রেখেছিল গোডাউনের স্টোর রুমে। পেছন থেকে কারও আসার আওয়াজ শুনে মিহু তাড়াতাড়ি পাশের কতগুলো বক্স ছিল তার পেছনে লুকিয়ে পড়লো। লোকগুলো যে মিহুকে খুঁজছে তা মিহু খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। ওরা ওখান থেকে চলে যেতেই মিহুও বের হওয়ার জন্য রাস্তা খুঁজতে লাগলো। কিছুটা সামনে যেতেই দেখতে পেল রাফিন রাগান্বিত হয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে। মিহু লুকিয়ে ওদের কথা শুনতে লাগলো”


রাফিন: রিসাদ খান তোমার মেয়ে সামান্য একটা কাজ করতে পারল না? মেঘকে ওর ফাঁদে আটকে রাখতে বলেছিলাম আমি কিন্তু ও ফাদে তো আঁটকেছিল ঠিকই কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে পুরো প্ল্যানটা বরবাদ করে দিল? ওকে বলতে কে বলেছিল যে আমি কোথায় আছি? মেঘ ওর কাছ থেকে কথা নেওয়ার জন্য চাল চেলেছিলো ও বুঝে নি সেটা? ও কি ছোটা বাচ্চা নাকি? আর এদিকে মিহুও আছে। ওকে মেঘ আর রুপসার কিসিং ভিডিওটা দেখালাম কিন্তু ও বিলিভই করতে চাইল না। বাট তারপরও ওর মনে কিছুটা হলেও এফেক্ট করেছে ভিডিওটি। ও তো আর জানে না যে মেঘ ওর খবর জানার জন্যই বাধ্য হয়ে রুপসাকে কিস করেছে। না মিহু আর যাই হোক এখান থেকে বের হতে পারবে না,,,ও এখানেই কোথাও আছে। না তুমি টেনশন নিও না,,,,আমি ওকে খুঁজে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা করছি

মিহু: (ত..তার মানে মেঘের কোনো দোষ নেই? ও আমার জন্য এটা করতে বাধ্য হয়েছিল? আর আ..আমি মেঘকে ভুল বুঝেছিলাম? কি করে পারলাম আমি মেঘকে ভুল বুঝতে?)

“মিহুর পা একটা বক্সের সাথে বেঝে সবগুলো বক্স একসাথে নিচে পড়ে গেল। রাফিন চমকে পেছনে তাকিয়ে দেখলো মিহু। তাড়াতাড়ি ফোনটা রেখে মিহুকে ধরতে গেল রাফিন,,,মিহু পালাতে চেয়েও পালাতে পারল না তার আগেই রাফিন মিহুকে ধরে ফেলেছে”


রাফিন: তোর সাহস কি করে হলো এখান থেকে পালানোর কথা ভাবার?

মিহু: আ..আপনি আমায় মিথ্যে বলেছিলেন তখন মেঘ আর রুপসার ব্যাপারে তা আমি শুনে ফেলেছি। আপনি এতটা নিচে কি করে নামতে পারেন?

রাফিন: ওহ্ তাহলে সব শুনে ফেলেছিস? তা ভালো হয়েছে। যাক সে সব কথা বাদ দে। তোর হাসবেন্ড জেনে গিয়েছে যে আমি আই মিন আমরা এখানে আছি। তাই আমাদের এখান থেকে এখন বের হতে হবে। তোকে আজকে রাতে কিছু করতে পারলাম না। কিন্তু কাল! কাল তোর নিস্তার নেই

মিহু: আমার কিছু হলে মেঘ তোকে ছাড়বে না

রাফিন: দেখা যাবে তোর মেঘ আমার কি করতে পারে

“রাফিন মিহুকে টেনে নিয়ে গেল। রাফিনের গাড়ির ডিক্কিতে মিহুকে রেখে ডিক্কি লক করে দিল রাফিন। মিহু বারবার ডিক্কিতে ধাক্কাছে কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। কিছুদূর আসতেই রাফিন গাড়ি ব্রেক করল। রাফিন এখন অনেকটা ভয়ে আছে,,,এভাবে তীরে এসে তরী ডুবে যাবে ও ভাবতেও পারে নি। রাফিনের ঠিক সামনে দাড়িয়ে আছে মেঘ আর ওর লোকেরা। রাফিন তো মেঘের তাকিয়ে আরও চুপসে যাচ্ছে কারন মেঘকে পুরোপুরি হিংস্র লাগছে দেখতে। চোখ-মুখ অসম্ভব লাল হয়ে আছে রাগে। ড্যানি এসে রাফিনের কলার ধরে ওকে গাড়ি থেকে টেনে বের করল। মেঘ এসে রাফিনকে উরাধুরা মারতে লাগলো। হঠাৎ মেঘ খেয়াল করলো মিহু গাড়িতে নেই”


মেঘ: বল মিহু কোথায় নাহলে আজকে তোকে মেরেই ফেলব আমি

রাফিন: মিহুকে আর কখনো পাবি না কারন আমি ওকে মেরে দিয়েছি [বলে জোরে জোরে হাসতে লাগলো]

মেঘ: রাফিইইইইইন [জোরে একটা চিৎকার দিয়ে আবারও মারতে লাগলো]

ড্যানি: স্যার..স্যার একটু শান্ত হন অনেক মেরেছেন ওকে আরেকটু হলে তো ও মরেই যাবে। আর মরলে ম্যামকে কোথায় খুজব স্যার তাই একটু শান্ত হন

মেঘ: (হঠাৎ খেয়াল করলাম কোথা থেকে যেন একটা আওয়াজ আসছে। মনে হচ্ছে কেউ কিছুতে বারি দিচ্ছে বারবার। ভালো করে আওয়াজটা শুনে দেখি রাফিনের গাড়ির ডিক্কি থেকে আসছে আওয়াজটা। রাফিনের গাড়ির চাবিটা নিয়ে ওর গাড়ির ডিক্কির লক খুললাম। তারপর আস্তে আস্তে গাড়ির ডিক্কিটা খুলে আমার মনে হয় কলিজায় পানি ফিরে আসলো) মি..মিহু!!! (তাড়াতাড়ি ওকে ডিক্কি থেকে বের করলাম। কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি ওকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম)

মিহু: (ওনাকে দেখামাত্রই ওনাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম। আমি ভেবেছিলাম আমি আর কখনো ওনাকে দেখতে পারব না)

“মেঘ মিহুকে পেয়ে কতক্ষণ ওকে জড়িয়ে ধরে রেখে তারপর মিহুর মাথায় আর সারা মুখে চুমু দিতে লাগলো। তারপর মেঘ মিহুকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করালো। আর রাফিনের কাছে এগিয়ে গেল”


মেঘ: বিশ্বাস কর রাফিন আজকে যদি মিহুর কিছু হয়ে যেত তাহলে আমি এই পৃথিবী ধ্বংস করে দিতাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার মিহুর কিছু হয় নি। কিন্তু আমি তোকে ছেড়ে দিতে পারব না। তুই আমার সবচেয়ে দূর্বল জায়গায় আঘাত করেছিস তাই তোকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব না

রাফিন: (নিচ থেকে উঠে দাড়ালাম আর হাত তালি দিতে লাগলাম) বাহ্ বাহ্ বাহ্ কি প্রেম দু’জনের মধ্যে। কিন্তু আমিও যে এত সহজে হার মানব না [রাফিন মেঘ আর মিহুর চারপাশে হাঁটছে আর বলছে]

মেঘ: তুই আর চাইলেও কিছু করতে পারবি না

রাফিন: তাই নাকি? (বলে এই চান্সে মিহুর হাত ধরে টান দিয়ে আমার কাছে নিয়ে আসলাম আর আমার পেছন থেকে গান বের করে ওর মাথায় ধরলাম) আজ তোর মিহুর এই পৃথিবীতে শেষ দিন। শেষবারের মতো ওকে দেখে নে মেঘ

মেঘ: রাফিন ভুলেও এই কাজটা করিস না

রাফিন: আজ আমি মরলে মরব কিন্তু তার আগে ওকে মারব

মেঘ: রাফিন ছাড় ওকে নাহলে কিন্তু আমি তোকে সুট করে দিব (ওর দিকে গান ধরে)

রাফিন: (মিহুকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে ওর মাথায় গান ধরলাম)

মিহু: (নিচে পড়ার সাথে সাথেই আমার কাটা হাতে চাপ লাগলো) আহ্

মেঘ: মিহু!!! রাফিন তোর শুত্রুতা আমার সাথে তাহলে শুধু শুধু কেন ওকে কষ্ট দিচ্ছিস?

রাফিন: কারন ও কষ্ট পেলে তুই কষ্ট পাবি তাই

মেঘ: (আমি রাফিনকে লক্ষ্য করছি একটু ওর নজর এদিক ওদিক হলেই ওকে সুট করব)

রাফিন: তোর কথাই সত্যি হলো মিহু তোর মেঘ আমাকে মারার জন্য এসেছে (মিহুর দিকে তাকিয়ে)

মেঘ: (দেখলাম ও মিহুর দিকে তাকিয়ে আছে তাই আর সময় নষ্ট না করে ওকে সুট করে দিলাম)

রাফিন: (সুট করার আওয়াজ শুনে ভুলে আমার হাতের গানের ট্রিগারও চাপ লাগলো)

“মেঘের বুলেটটা একদম রাফিনের মাথার মধ্যে দিয়ে ঢুকে গেল আর রাফিন সোজা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আর রাফিনের বুলেটটা মিহুর কাঁধ ছুয়ে বেরিয়ে গেল”


মেঘ: মিহু!!!!!! (ওকে কোলে নিয়ে তাড়াতাড়ি গাড়িতে বসিয়ে হসপিটালে চলে আসলাম। ডক্টর এসে ওকে ওটিতে নিয়ে গেল)

“মেঘ বাইরে চুপচাপ বসে আছে। আজ নিজেকে শেষ করে ফেলতে মন চাইছে ওর। ও তো মিহুর কোনো ক্ষতি করতে চায় নি। মিহুকে বাঁচাতে চেয়েছিল ও। ওর সাথে থাকার পর থেকে মিহু একটা না একটা কষ্ট পেয়েই যাচ্ছে। তাই মিহু ঠিক হলে ওকে নিজের থেকে ছেড়ে দিবে মেঘ। কারন ও চায় না ওর জন্য মিহু আর কোনো কষ্ট পাক। এসব ভাবছিল মেঘ তখনি ওটির লাইট অফ হয়ে গেল এবং ডক্টর বেরিয়ে এলো”


মেঘ: ডক্টর মিহু কেমন আছে?

ডক্টর: সি ইজ আউট অফ ডেন্জার। ওনাকে এখুনি কেবিনে দেওয়া হবে। আর ১ মাস প্রপার রেস্টে থাকতে হবে ওনাকে তাহলেই উনি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে যাবে

মেঘ: (বড় করে একটা শ্বাস নিলাম) থ্যাংক ইউ ডক্টর

ডক্টর: নো নো ইট’স মাই ডিউটি

“ডক্টর চলে গেল,,,মেঘ কেবিনের বাইরে দরজার গ্লাস দিয়ে মিহুর দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা এখন কি সুন্দর নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে ভাবছে মেঘ। ১ সপ্তাহ পর মিহুকে রিলিজ করে দেওয়া হলো। দেখতে দেখতে ১ মাস কেটে গেল। এই ১ মাস মিহুর সব রকম খেয়াল রেখেছে মেগ। মিহুর সামান্যতম অযত্ন হতে দেয় নি মেঘ। এর মধ্যে নীল, নীলা, আরিফ, রাইসা, মানিক, অনু এসে দেখে গিয়েছে মিহুকে অনেকবার। মিহুর মম-ড্যাডও মেনে নিয়েছে ওদের বিয়ে আর ওনারাও এসে দেখে গিয়েছে মিহু আর মেঘকে। এই একমাস মেঘ মিহুর সাথে তেমন একটা কথা বলে নি। এই জিনিসটা মিহু লক্ষ্য করেছে,,,তাই ও ভেবেছে কিছু দিনের মধ্যে মেঘের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলবে মিহু। আজকে মিহু একা একা বসে ছিল তখনি মিহুর ফোন বেজে উঠল। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো নীলা ফোন দিয়েছে,,,তাই রিসিভ করলো”


মিহু: হুম বল

নীলা: কিরে তোর কি মুড অফ?

মিহু: না তুই বল কি হয়েছে?

নীলা: আসলে ভাবছি আজকে কাজটা করে ফেলি

মিহু: আচ্ছা

নীলা: ওকে (বলে ফোন কেটে দিলাম)

এদিকে__________________
.
নীল: (আজ প্রায় দু’টো মাস ধরে নীলার সাথে কথা বলি না ঠিক মত। ও কি করে আমার থেকে লুকোতে পারলো এত বড় সত্যিটা? আমি ওকে এত ভালোবাসি এত বিশ্বাস করেছি কিন্তু ও হয়তো আমাকে ঠিক মত বিশ্বাস করে উঠতে পারে নি। বড় করে একটা নিশ্বাস নিলাম। ও যে পর্যন্ত না আমার কাছে এসে সরি বলছে আমি ওর সাথে কথা বলব না। কফিশপে বসে কফি খাচ্ছিলাম আর এগুলো ভাবছিলাম তখনি একজন বোরখা পড়া, নিকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢাকা একটি মেয়ে এসে আমার সামনে দাড়ালো) জ্বি কিছু বলবেন? (বলতে না বলতেই মেয়েটি আমার দিকে গান ধরে দাঁড়ালো) আ..আরে এ আপ..আপনি কি করছেন?

মেয়েটি: চুপচাপ আমার সাথে চলুন

নীল: মানে কি আমি কেন আপনার সাথে যাব?

মেয়েটি: আপনাকে আসতে বলেছি আপনি আসবেন নয়তো আমি এখনি আপনাকে সুট করে দিব

নীল: কিন্তু আপ..আপনি আমার সাথে কেন এমন করছেন? আমি কি করেছি আপনাকে?

মেয়েটি: আমি কিন্তু আমার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছি। এবার আপনি বলুন আপনি আমার সাথে আসবেন নাকি আমি আপনাকে সুট করে দিব?

নীল: কিন্তু আমাকে নিয়ে যাবেন কোথায় আগে সেটা বলুন?

মেয়েটি: চলুন বলছি আমার সাথে [ধমক দিয়ে]

নীল: যা..যা..যাচ্ছি চলু..চলুন

“মেয়েটি নীলকে নিয়ে কফিশপ থেকে বেরিয়ে গেল। তখনি একটি গাড়ি এসে ওদের সামনে থামল”


মেয়েটি: উঠুন গাড়িতে

নীল: চুপচাপ উঠে বসলাম

“গাড়িটি নিজের আপন গতিতে চলতে লাগল। মেয়েটি এখনো নীলের মাথায় গান ধরে রেখেছে”


নীল: (কখনো ভাবতেও পারি নি কোনো মেয়ে আমাকে কিডন্যাপ করবে তাও আবার এভাবে? হঠাৎ মেয়েটি আমাকে ডাক দিলো) জ্বি

মেয়েটি: আপনি কি বয়রা নাকি?

নীল: না মানে….……

মেয়েটি: নামুন গাড়ি থেকে [ধমক দিয়ে]

নীল: কথায় কথায় ধমক দিচ্ছেন কেন?

মেয়েটি: চুপচাপ সামনে হাঁটুন

নীল: (সামনে তাকিয়ে দেখি কাজী অফিস) এ..এই আম..আমরা এখানে কে..কেন এসেছি?

মেয়েটি: ভেতরে চলুন বলছি

নীল: আপনি আমার কাছে কি চান সত্যি করে বলুন তো

মেয়েটি: আপনি ভেতরে ঢুকবেন নাকি আমি আপনাকে সুট করব?

নীল: করেন সুট করেন আমাকে

মেয়েটি: (গানটা ওনার মাথা থেকে সরিয়ে একপাশে খালি জায়গায় সুট করলাম)

নীল: (আমিতো ভেবেছিলাম মেয়েটি জাস্ট ফান করে বলছে বাট ও তো সিরিয়াস) এই না না না না চলুন চলুন আমি ভেতরে যাচ্ছি

মেয়েটি: হুম গুড চলুন ফাস্ট

নীল: (মেয়েটির সাথে কাজী অফিসে ঢুকে পড়লাম। একটা রুমে এসে মেয়েটি আমাকে চেয়ারে বসতে বলল আমি চুপচাপ বসে পড়লাম)

নীল: (তারপর মেয়েটি আমার দিকে একটা কাগজ এগিয়ে দিল) কি এটা?

মেয়েটি: ম্যারেজ পেপার

নীল: মানে?

মেয়েটি: মানে আপনি আমাকে বিয়ে করছেন

নীল: (বিয়ের কথা শুনে আমি পুরো থ হয়ে গেলাম) সরি আমি এই বিয়ে করতে পারব না

মেয়েটি: আপনার কি নিজের জীবনের প্রতি মায়া নেই?

নীল: না নেই,,,আমি একজনকেই ভালোবাসি আর তাকেই বিয়ে করব

মেয়েটি: তা সেই মেয়েটির নাম কি নীলা?

নীল: আ..আপনি কি করে জানলেন?

মেয়েটি: কারন আপনার ভালোবাসা এখন আমার হাতে বন্দী। তাই যদি তাকে বাঁচাতে চান তাহলে সুন্দর মত সাইন করে দিন

নীল: মানে কি নীলা কোথায়? কোথায় আমার নীলা?

মেয়েটি: চেচামেচি করবেন না। আপনার নীলার মাথায়ও এখন গান ফিট করা আছে। যদি আপনি বিয়েটা না করেন তাহলে ওখানে ওর জীবন নিতে আমার লোকের জাস্ট এক সেকেন্ড টাইম লাগবে

নীল: নাহ্

মেয়েটি: জ্বি হ্যা আর আপনি যেহেতু সাইন করবেন না তাহলে আপনার নীলার জানটাই নেই আমি নাকি? ওয়েট আমি আমার লোকেদের ফোন করছি

নীল: (মেয়েটি কাকে যেন ফোন দিল)

মেয়েটি: ওকে শেষ করে দাও

নীল: না না না না আ..আমি সা..সাইন করছি তবুও প্লিজ আপনি ওকে কিছু করবেন না (বলে তাড়াতাড়ি সাইন করে দিলাম)

মেয়েটি: গুড (বলেই আমিও সাইন করে দিলাম)

কাজী: বিয়ে কমপ্লিট এখন থেকে আপনারা হাসবেন্ড ওয়াইফ

নীল: সাক্ষী লাগবে না?

কাজী: সাক্ষীরা আগেই সাইন করে দিয়েছে আপনি হয়তো খেয়াল করেন নাই

নীল: কিন্তু………….

মেয়েটি: চুপ চলুন এখন

নীল: কিন্তু নীলা….

মেয়েটি: ও ঠিক মত বাড়ি পৌঁছে যাবে চলুন

নীল: হুমমম

মেয়েটি: আপনি গাড়িতে উঠুন ড্রাইভার আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিবে

নীল: আপনি যাবেন না?

মেয়েটি: হুম যাব তো বাট পড়ে

নীল: হুমমম (বলে গাড়িতে উঠে বসলাম। আমি ভাবতেও পারি নি যে আমার বিয়ে এভাবে হয়ে যাবে। আমি এখন বিবাহিত। কার সাথে বিয়ে হয়েছে? তার নাম কি? সে দেখতে কেমন? কিছুই জানি না আমি এখন আমি নীলাকে কি বলব? আমার নীলাকে আমি কি জবাব দিব? ভাবতে না ভাবতেই দেখি আমার বাড়ির সামনে চলে এসেছি। তাই চুপচাপ আমি গাড়ি থেকে নেমে বাড়িতে ঢুকে গেলাম)

মম: কি হয়েছে নীল?

নীল: নাথিং মম আ’ম টায়ার্ড। উপরে যাচ্ছি একটু রেষ্ট নিব

মম: কিন্তু…..যাহ্ চলে গেল। হঠাৎ করে কি হলো ছেলেটার?

নীল: (উপরে এসে বেডে শুতেই নীলার মুখটা ভেসে উঠলো সামনে। চোখ দু’টো ঘোলা হয়ে আসছে মনে হচ্ছে এখনি গড়িয়ে জ্বল পড়বে। আমি আজকে নীলাকে হারিয়ে ফেললাম সারাজীবনের মত। ভাবতে না ভাবতেই চোখের পলকে জ্বল গুলো গাল বেয়ে পড়তে লাগল। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। হাতে নিয়ে দেখি মিহু তাই চোখ-মুখ মুছে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম) হ্য..হ্যালো

মিহু: ভাই তুই ঠিক আছিস তোর গলা এমন লাগছে কেন?

নীল: না রে আমি ঠিক আছি। তুই কেমন আছিস?

মিহু: ভাই আমার রুমে যেয়ে দেখ আমার আলমারিতে একটা স্যুটকেস আছে ওর মধ্যে আমার অনেক জরুরি জিনিসপত্র আছে তাই ওটা যদি এখন একটু দিয়ে যেতি তাহলে ভালো হতো

নীল: এত রাতে?এখনি লাগবে?

মিহু: হুমমম

নীল: আচ্ছা আসছি

মিহু: ওকে ভাই বাই

নীল: হুমমম (বলে উঠে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে মিহুর রুমে যাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হতেই দেখি মম-ড্যাড দাঁড়িয়ে আছে) মম-ড্যাড তোমরা এখানে?

ড্যাড: তুই বিয়ে করেছিস আমাদের বললি না যে?

নীল: তো..তো..তোমরা কি করে জানলে?

মম: বিয়ে করবি ভালো কথা একবার বললে কি এমন হতো?

নীল: মম……

ড্যাড: থাক থাক আর কথা বলতে হবে না যা তোর বউ এসেছে

নীল: বউ? কোথায় বউ?

মম: মিহুর রুমে দিয়ে এসেছি

নীল: মিহুর রুমে কেন?

ড্যাড: তোর রুম এখন পরিস্কার করতে অনেক সময় লাগতো তাই

মম: যা নিজের বউয়ের কাছে যা

নীল: বাট মম (আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ওনারা আমাকে মিহুর রুমে ঠেলে পাঠিয়ে দিলেন। রুমে ঢুকে দেখি মেয়েটি উইন্ডো সাইডে বসে আছে। পেছন থেকে ওর চেহরা একদম দেখা যাচ্ছে না। আমার হার্টবিট কেন যেন ফাস্ট হয়ে গেল) এই যে শুনছেন?

মেয়েটি: না আমি তো বয়রা তাই কানে শুনি না

নীল: দেখুন আপনি কে,,,আপনার নাম কি,,,আপনি দেখতে কেমন,,,আপনার পরিচয় কি এর কিছুই জানি না আমি। আর আপনি কেন আমার সাথে এমন করলেন তাও জানি না। এবার কি আপনি প্লিজ আমাকে বলবেন যে আপনি আমার,এত বড় ক্ষতি কেন করলেন? কেন আমার গলায় এভাবে ঝুলে পড়লেন?

মেয়েটি: ওই কি বললি তুই আমি তোর গলায় ঝুলে পড়েছি? তুই আমাকে চিনিস না? আমি তোর ক্ষতি করেছি? আমি দেখতে কে তুই জানিস না? আমি দেখতে কেমন জানিস না? আমার পরিচয় জানিস না? ঠিক আছে যা কালকেই তোকে ডিভোর্স দিয়ে দিব [রেগে]

নীল: (মেয়েটি সামনে ঘুরতেই আমার বিস্ময়ের শেষ নেই) নী..নী..নী..নীলা!!!!!!!!

নীলা: হ্যা আমি,,,কেন তুই কি অন্য কাউকে এক্সপেক্ট করেছিলি?

নীল: না মানে মানে মানে আমি মানে আসলে না মানে

নীলা: কি মানে মানে লাগিয়ে রেখেছিস?

নীল: তো..তোমার সাথে বিয়ে হয়েছে আমার?

নীলা: তো আর কার সাহস আছে তোকে বিয়ে করার?

নীল: তাহলে ওই মেয়ে?

নীলা: ওইটা আমিই ছিলাম

নীল: আর নীলাকে কিডন্যাপ মানে ওগুলা?

নীলা: সব প্ল্যান ছিল আমার আর মিহুর প্ল্যান😤

নীল: কিহ্?

নীলা: জ্বি,,,আই এম এ লেডি মাফিয়া ওকে?

নীল: তোমার মাফিয়াগিরি আমি বের করছি তোমার জন্য আমি কত কষ্ট পেয়েছি তুমি জানো? (ওর কাছে যেয়ে ওকে ঝাকিয়ে)

নীলা: (ওর চোখে আমি কিছু হারানোর ভয় স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি) নী..নীল আমি তো….

নীল: তুমি তো কি বলো?

নীলা: আ..আ’ম সরি নীল

নীল: সাট আপ নীলা। তুমি জানো যখন আমি ওই পেপারে সাইন করছিলাম তখন আমার ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছিল? বুঝো তুমি জিনিসটা? ওহ্ সরি আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে তোমার লাইফে সব কিছুই তো ফান কোনো কিছুই তুমি সিরিয়াসভাবে নাও নি আজ পর্যন্ত। এই বিয়েটাও কি ফান হিসেবে করেছো?

নীলা: (আমি ভাবতেও পারি নি যে নীল এই বিয়েটাকে ফানের নাম দিবে। আমি অলওয়েজ ফান করি ঠিক আছে বাট তাই বলে বিয়েটাকে ও এভাবে…….) ওকে আ’ম সরি নীলা আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। পারলে আমাকে মাফ করে দিও। আর এই বিয়ের ব্যাপারে কেউ জানে না শুধু তোমার ফ্যামিলি আর আমার ভাই ছাড়া। তাই তোমার ফিউচারে আমাকে কোনো প্রবলেম হবে না। এই বিয়েটাকে একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে লাইফে মুভ অন করো। বাই আর কখনো তোমাকে জ্বালাব না [কথাগুলো বলছিল চর চোখ থেকে পানি পড়ছিল] (বলে চলে আসছিলাম পেছন থেকে নীল আমার হাত ধরে টান দিয়ে ওর বুকের উপর ফেললো আমাকে)

নীল: আমি তো রাগের মাথায় বলেছি নীলা তাই বলে সত্যি তুমি চলে যাবে? আই লাভ ইউ নীলা। আ’ম সরি (বলে ওকে জড়িয়ে ধরলাম)

নীলা: (আমিও ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম) আই লাভ ইউ টু নীল

নীল: (ওকে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রেখে ওকে ছেড়ে দিলাম) এই এই ওয়েট

নীলা: কি?

নীল: তার মানে আজকে আমাদের বাসর রাত?

নীলা: যা ভাবছো ভুলে যাও,,,একদম ওসব কথা মাথায় আনবা না

নীল: বললেই হলো নাকি? আমার বউ বলে কথা তোমাকে তো আজ রাতে ছাড়ছি না (বলে ওর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম)

নীলা: নী..নীল একদম না এই তু..তুমি আমার কাছে আস..আসবা না

নীল: (ও পিছুতে পিছুতে একদম দেওয়ালের সাথে লেগে দাঁড়ালো আর আমি ওর সাথে লেগে দাড়ালাম) আজকে তো বাসর করেই ছাড়ব

নীলা: নীল সর ভুলে যেও না আমি মাফিয়ার বোন সর সর

নীল: তুমি ভুলে যেও না যে তোমার ওই মাফিয়া ভাই এখন আমার বোনের জামাই

নীলা: নীল প্লিইইইজ

নীল: (কে শুনে কার কথা। ওর ঠোঁটে নিজের ঠোঁট আঁকড়ে ধরলাম)

নীলা: (শক্ত করে দু’হাত দিয়ে ওর শার্ট আকড়ে ধরলাম)

[বাকিটা ওদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাক আমাদের জেনে লাভ নেই]

এদিকে____________
.
মিহু: (কখন থেকে একা একা রুমে বসে আছি। মেঘের আসার কোনো খবরই নেই। উনি ওইদিনের পর থেকে আমার সারা ভালোমতো কথা বলেন না। আজ বেশ কিছুদিন ধরে উনি বাসায়ও ঠিকমত আসে না। রাতে ২-৩টার দিকে বাসায় আসে আর সকাল ৬-৭ টার দিকে বেরিয়ে যায়। আচ্ছা উনি কি আমাকে ইগনোর করতে চাইছেন? কিন্তু উনি তো আমাকে ভালোবাসেন তাহলে উনি কেন আমাকে ইগনোর করবেন? না আজ ওনার সাথে কথা বলতেই হবে। কিন্তু উনি কখন আসবেন? অলরেডি ২:৩০ টা বাজে। হঠাৎ নিচ থেকে গাড়ির হর্নের আওয়াজ পেলাম। তার মানে উনি চলে এসেছেন। দেখলাম উনি রুমে ঢুকলেন)

মেঘ: (সামনে তাকিয়ে দেখি মিহু দাঁড়িয়ে আছে) একি তুমি এখনো ঘুমাও নি কেন?

মিহু: আপনার এত রাত হলো কেন?

মেঘ: কাজ ছিল তাই দেরি হয়ে গিয়েছে

মিহু: ওহ্ আচ্ছা দাঁড়ান আমি আপনার টাওয়েল আর জামাকাপড় বের করে দিচ্ছি

মেঘ: থাক লাগবে না আমি নিজের জিনিস নিজে বের করে নিতে পারব (বলে টাওয়েল আর জামাকাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম)

মিহু: (উনি আমার সাথে এমন কেন করছেন? কি করেছি আমি?)

মেঘ: (আমি চাই না মিহু তুমি আমার জন্য আর কোনো কষ্ট পাও। তাই তুমি আমার থেকে যতটা দূরে থাকবে তোমার জন্য ততটাই মঙ্গলজনক। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি মিহু মন খারাপ করে বসে আছে। হয়তো আমার ব্যাবহারের জন্য কষ্ট পেয়েছে। আমি কিছু না বলে যেয়ে শুয়ে পরলাম)

মিহু: আপনি খাবেন না?

মেঘ: বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি

মিহু: আচ্ছা আপনি আমার সাথে এমন কেন করছেন? আমি কি কিছু ভুল করেছি? যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাকে তার জন্য মারুন বকুন তারপরও প্লিজ আমাকে এভাবে ইগনোর করবেন না। আমি আর নিতে পারছি না আপনার এই ধরনের ব্যাবহার। প্লিজ কিছু তো বলুন [কান্না করতে করতে] (দেখলাম উনি ঘুমিয়ে গিয়েছে। তাই নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। শাওয়ার অন করে কান্না করতে লাগলাম)

মেঘ: (আমি চোখ বন্ধ করে ওর কথাগুলো শুনছিলাম। ওর কথা গুলো শুনে আমার খুব খারাপ লাগছিল কিন্তু তারপরও আমার কিছু করার নেই। হঠাৎ শাওয়ারের আওয়াজ পেলাম। পাশে তাকিয়ে দেখি মিহু নেই তার মানে ও শাওয়ার নিচ্ছে? কিন্তু এখন এই সময়ে কেন? দেখতে দেখতে ১ ঘন্টা হয়ে গেল কিন্তু মিহু বের হচ্ছে না। তাই আমি যেয়ে গেট নক করলাম) মিহু,,,মিহু!!!

মিহু: (শাওয়ার অফ করে চুপচাপ গেট খুলে বেরিয়ে এলাম আর ওনার পাশ কাটিয়ে আলমারি থেকে ড্রেস নিয়ে আবার ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম)

মেঘ: (ও ওয়াশরুম থেকে বের হতেই ওর দিকে তাকিয়ে আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। ওর চোখ-মুখ লাল হয়ে ফুলে আছে তার মানে ও এতক্ষণ শাওয়ারের নিচে বসে কান্না করেছে? আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই ও আবার ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। একটু পরেই বের হলো। আমি ওকে কিছু বলতে যাব তার আগেই ও যেয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়লো। তার মানে কি ও এখন আমাকে ইগনোর করতে চাইছে? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। সকালে রুমের গেট লাগানোর শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম কে যেন গেট লাগিয়ে চলে গেল। পাশে তাকিয়ে দেখি মিহু নেই। বাইরে থেকে গাড়ি বের হয়ে যাওয়ার আওয়াজ পেলাম। নিচে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম মিহু ভার্সিটি চলে গিয়েছে। আমি কিছু না বলে রুমে চলে আসলাম)

মিহু: (উনি যেহেতু আমাকে ইগনোর করতে চাইছেন তাহলে আমিও আর ওনাকে ডিস্টার্ব করব না)

“এভাবেই চলছিলো দুজনের দিনকাল,,,দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ কেটে গেল। মেঘের কাছে এগুলো আর সহ্য হচ্ছিল না। মিহু ওকে এভোয়েড তো করছিলোই সাথে এই এক সপ্তাহে মিহু মেঘের সাথে একটা কথাও বলে নি। গত ৪ দিন ধরে তো মিহু মেঘের রুমেও থাকে না। মেঘ আর সহ্য করতে না পেরে মিহুর রুমে গেল। রুমে ঢুকে দেখে মিহু আধশোয়া হয়ে বালিশে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে”


মেঘ: মিহু!

মিহু: (কারও আওয়াজ শুনে গেটের দিকে তাকালাম। দেখলাম মেঘ দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছু না বলে আবার চোখ বন্ধ করে ফেললাম)

মেঘ: মিহু আমি তোমাকে ডাকছি তুমি কি শুনতে পাচ্ছো না?

মিহু: (নিশ্চুপ)

মেঘ: মিহু এবার কিন্তু বেশি বেশি হচ্ছে (একটু জোরে)

মিহু: (কিছু না বলে চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলাম)

মেঘ: (এবার রাগ কনট্রোল করতে পারলাম না তাই ওর হাতটা জোরে চেপে ধরে মোচড় দিয়ে ওর পিঠে ঠেকালাম)

মিহু: আহহ্ [ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো]

মেঘ: প্রবলেম কি তোমার? [চিল্লিয়ে]

মিহু: (এবার মুখ খুললাম) প্রবলেম আমার না প্রবলেম আপনার

মেঘ: তুমি আমাকে আজ ৭ দিন ধরে ইগনোর কেন করছো?

মিহু: আমি তো জাস্ট ৭ দিন ধরে ইগনোর করেছি। আর আপনি যে আমাকে গত একটা মাস ধরে ইগনোর করছেন সেটা কিছু না?

মেঘ: (ওর হাত ছেড়ে দিয়ে ওকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেখি ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। ওর চোখের পানি মুছে দিলাম) সরি জান আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই নি বিশ্বাস কর। আমি ভেবেছিলাম আমার সাথে থাকলে তুমি কষ্ট বেশি পাবে তাই তোমাকে ইগনোর করছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস কর যখন থেকে তুমি আমাকে ইগনোর করা শুরু করলে তখন বুঝতে পারলাম যে ইগনোর জিনিসটা ঠিক কতটা হার্ট করে। আ’ম সরি জান আ’ম রিয়েলি ভেরি সরি

মিহু: (ওনাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম) প্লিজ আর কখনো আমাকে ইগনোর করবেন না। নাহলে আমি থাকতে পারব না। এই কয় দিন আমি ঠিক কতটা কষ্টে ছিলাম তা যদি আপনাকে বোঝাতে পারতাম তাহলে হয়তো আপনি বুঝতেন

মেঘ: আ’ম সরি জান আ’ম রিয়েলি ভেরি সরি। আর কখনো এমন করব না। আমি আর যাই হোক তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না

মিহু: আমিও না

মেঘ: আই লাভ ইউ জান

মিহু: আই লাভ ইউ টু

মেঘ: কি বললে? (ওকে ছেড়ে দিয়ে)

মিহু: কি?

মেঘ: তুমি আমাকে আই লাভ ইউ টু বললে?

মিহু: হুমমম

মেঘ: তাহলে তো আজ তোমায় আর ছাড়া যাচ্ছে না

মিহু: মা..মা..মানে?

মেঘ: (একটা বাকা হাসি দিয়ে ওর কোমড় ধরে আমার সাথে মিশিয়ে ফেললাম)

মিহু: এ..এটা কি হচ্ছে?

মেঘ: আজকে নাহয় সব বাঁধা সব দূরত্ব শেষ হয়ে যাক (বলে ওর ঠোঁট দু’টো পরম আবেশে নিজের করে নিলাম)

[বাকিটুকু নাহয় ওদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাক]

—————–সমাপ্ত—————

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here