my unexpected love part_1

my unexpected love
part_1
Arohi Ayat

রাত ১টার দিকে চুপিচুপি নিজের রুম থেকে বের হয়ে হঠাৎ পাশে তাকাতে আত্না কেপে উঠলো আর জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলাম৷ তারাতাড়ি নিজের রুমের ভিতরে দৌড়ে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বেডে বসে পড়লাম৷ আমার শরীর হাত পা এখনো কাপছে৷ সবাই আমার চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে আমার রুমে আসলো৷ মা এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো চিন্তিত হয়ে যে কি হয়েছে? আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না৷ একটু পরে হঠাৎ চোখ ডলতে ডলতে নিবির ভাইয়া এসে রেগে বলল
– কি সমস্যা? এত রাতে কি হয়েছে তোর আবার? সবার ঘুম ভেঙে দিয়েছিস!!

আমি ছোট ছোট চোখ করে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি৷ আমি রিলেক্স হয়ে আমতা আমতা করে বললাম
– মা,, আমি এমনেই একটু নিচে যাচ্ছিলাম পানি খেতে তখন কিসের যেন ছায়া দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম৷ তুমি তো জানো আমি কত ভয় পাই!! হেহেহে~!

নিবির ভাইয়া আবার রেগে বলে উঠলো
– সত্যিই কোন ভুত এসে তোকে নিজের সাথে কেন নিয়ে গেলো না??! একটা থাপ্পড় লাগাবো রাত ১টা বাজে তামাশা করছিস??!

মা আমার দিকে রেগে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চলে গেলো৷ আর আমি নিচের দিকে তাকিয়ে আছি৷ সবাই আবার যার যার রুমে চলে গেলো৷ নিবির ভাইয়া যেতে নিলে আমি তারাতাড়ি ভাইয়ার হাত ধরে বললাম৷
– দাড়াও! এত ড্রামা করো কেন তুমি? একটু আগে তুমিই ছিলে না যে আমার রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিলে? তুমি জানো আমি কত ভয় পাই তার পরেও এমন করলে কেন?

ভাইয়া আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলল
– আচ্ছা তুই আগে বল তুই এত রাতে কোথায় যাচ্ছিলি? পানি খেতে যে যাস নি তা আমি ভালো করে জানি৷ কারণ তোর রুমেই পানি রাখা আছে! আর হ্যা আমার কোন শখ নেই রাত ১টা বাজে এসে তোর রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবো!! দেখ আবার সত্যিই কোন ভুত ছিল নাকি!

এটা বলে ভাইয়া চলে গেলো৷ আর আমি আবার বেডে গিয়ে চাদর ভালো করে মুরো দিয়ে ভাবছি৷ আমি যখন বেরিয়েছি তখন আমি পাশে তাকাতেই দেখেছি যে ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে৷ কিন্তু ভাইয়া তো আবার সবসময় সিরিয়াস থাকে ভাইয়া মিথ্যে কথা তো বলবে না,, ভাইয়া যে বলল উনি আমার রুমের বাহিরে এত রাতে কি করবে সেটাও ঠিক!! কিন্তু একজনকে দেখেছি! আল্লাহ জানে কে ছিল? কোন চোর নাকি আবার? নাকি সত্যিই কোন ভুত!!! আহহহ!!


সকালে,,,,,

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতে দেখলাম সবাই ব্রেকফাস্ট করছে৷ পুরো চিরিয়া খানা লাগছে৷ বড়রা সব টেবিলে বসেছে আর সব ভাই বোনরা কেউ সোফায় কেউ এইখানে কেউ ওইখানে বসে আছে৷ আমাকে নিচে নামতে দেখে ব্যাস সবার আলাপ আলোচনা শুরু হয়ে গেলো আমাকে নিয়ে৷ প্রথমেই আমার প্রান প্রিয় ছোট ভাই নিড়ব বলল
– কালকে রাতে কি হয়েছিলো? এই নিশি এত জোরে চিৎকার দিল কেন?

তারপর আমার খালাতো বোন তানিশা বলল
– আরে এই নিশির বাচ্চা যা করেছে না কালকে রাতে!!

তারপর আবার আমার এক খালাতো ভাই তানভীর বলল
– আরে আমি তো ওর চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল কিন্তু আমি আর ঘুম থেকে উঠি নাই৷ দেখলাম নিশান ভাইয়া শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে তাই আমিও উঠি নাই! ভাবলাম বেচারিকে মনে হয় কোন ভুতে নিয়েই গেছে এখন আর আমার ঘুম থেকে উঠে কি লাভ!!

আমি ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছি ওদের দিকে৷ হঠাৎ আবার মাঝখান দিয়ে নিবির ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো
– ওকে একটা থাপ্পড় লাগানো উচিৎ ছিল! এত কানা রাতে সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়েছে! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম৷ শুধু এই নিশানই ভালো করেছে ঘুম থেকে উঠে নাই এই মেয়ের আজাইরা নাটক দেখতে!!

আমি এইবার রেগে বললাম
– আমি বুঝলাম না তোমরা সবাই এমন কেন করছো? আমার থেকে কি তোমাদের সবার কাছে ঘুম বেশি?? আমি একেবারে এমন কি করেছি যে তোমারা এই ভাবে গবেষণা করছো?

একটা বড় ভেটকি দিয়ে সাথে সাথে সবাই একসাথে বলে উঠলো
– of course! ঘুম বেশি!

আমি মার কাছে গেলাম৷
– মা কিছু বলো ওদের!

– এই সবাই চুপ আগে ব্রেকফাস্ট শেষ কর!

এইবার বলি,, আমার নাম হচ্ছে নিশা৷ এই চিরিয়া খানার সবাই আমাদের বাসায় বেরাতে এসেছে৷ আমার মা রা ৩ বোন৷ তার মধ্যে ২ বোনই বিদেশে থাকে শুধু আমরা বাদে৷ এইবার অনেক দিন পর সবাই একত্রিত হয়েছে৷ তার মধ্যে নিবির ভইয়া হলো আমার বড় আন্টির ছেলে৷ আর আমার মা সবার ছোট বোন৷ আমরা দুই ভাই বোন আমি আর আমার ছোট ভাই নিড়ব৷ আর নিবির ভাইয়ারাও দুই ভাই বোন,, তিনি সবার বড় আর তার ছোট বোন রিদিয়ানা আপু৷ আর বাকি রইলো আমার মেঝো আন্টির ব্যাপারে৷ নিশান ভাইয়া হলো মেঝো আন্টির বড় ছেলে আর ওরা ৩ভাই বোন নিশান ভাইয়ার পরে তার আরো একটা ভাই আর একটা বোন তানভির আর তানিশা ৷ একটু সবার ব্যাপারে ক্লিয়ার করি৷ নিবির ভাইয়া অনেক সিরিয়াস একজন ব্যাক্তি কিন্তু ভাই বোনদের সাথে যথেষ্ট মিশে থাকে৷ আর তার বোন রিদিয়ানা আপুর বিয়ে হয়ে গেছে৷ আর একজন হলো নিশান ভাইয়া যে একেবারেই চুপচাপ থাকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া একটাও কথা বলে না কেমন যেন৷ আর হ্যা চোখে সবসময় একটা সানগ্লাস পরে থাকে৷ আমার উনাকে আবাল মনে হয় সরি! নিশান ভাইয়া আর নিবির ভাইয়া একই সমান বয়সের৷ আর তার ছোট ভাই বোন আমার থেকে ১ বছরের বড়৷


আজকে সবার প্ল্যান সবাই শপিং করতে যাবো৷ আমি তো মহা খুশি৷ আমি আমার রুমে গিয়ে রেডি হয়ে বের হলাম৷ মনে হচ্ছে সবার আগে আমিই রেডি হয়েছি৷ সিরি দিয়ে নিচে নামতে দেখলাম নিবির ভাইয়া নিশান ভাইয়া বসে আছে৷ আমি নিচে নামতে দুইজন আমার দিকে তাকালো৷ আমি বললাম
– কি হয়েছে?!

নিবির ভাইয়া আমাকে কিছু না বলে আবার নিশান ভাইয়াকে বলল
– এই তুইও যাবি আমাদের সাথে ওকে?! বাসায় বসে একা কি করবি?

নিশান ভাইয়া বলল
– আমার ইচ্ছা নেই!

আমি বললাম
– কেন তুমিও চলো! আমারা সবাই তো যাবো!

নিবির ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে রেগে বলল
– ওই চুপ তুই যা এখান থেকে! ভীতু!

আমি নিবির ভাইয়ার সামনে গিয়ে ভাইয়ার হাতে আস্তে করে একটু মেরে বললাম
– তুমি এমন করো কেন আমার সাথে? আমি কি কিছু করেছি?

ভাইয়া আমার হাত ধরে মুচরে বলল
– চুপ! আন্টিকে বিচার দিব! বড় ভাইয়ের সাথে বেয়াদবি!

– আহ! ছারো!

নিশান ভাইয়া বিরক্ত হয়ে বলল
– উফফ! প্লিজ আমার ভাল লাগে না এইসব! তোদের যা করার দূরে গিয়ে কর!

এটা বলে ভাইয়া চলে গেলো৷ আমি নিবির ভাইয়াকে বললাম
– দেখেছো তোমার জন্য ভাইয়া চলে গেছে!

– স্টপ! আর একটা কথা বললে দেখিস! আর কি এইসব শপিং করতে গিয়ে কি আজকে বিয়ে করে ফিরবি? এত মেকাপ করার কি আছে! idiot!


আমরা সবাই গাড়িতে উঠলাম৷ আমি পিছনে বসেছি রিদিয়ানা আপু আর তানিশা৷ আর নিবির ভাইয়া ড্রাইভিং সিটে আর নিশান ভাইয়া সামনে বসেছে৷ উনাকে অনেক কষ্টে মানিয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে৷ আর বাকি সবাই অন্য গাড়িতে আসছে৷ আমরা শপিংমলে পৌছাতে সবাই গাড়ি থেকে নামলাম৷ আমি নামার সময় তখন নিশান ভাইয়াও নামছিলো,, আমি নেমেই নিশান ভাইয়ার সাথে ধাক্কা খেলাম৷ নিশান রেগে বলল
– কি করছিস উফফ?

– সরি সরি!!

নিশান ভাইয়া কিছু না বলে রুড চেহারা নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো৷ পিছন থেকে নিবির ভাইয়া এসে আমার মাথায় চাপর মেরে বলল
– চোখ কি হারিয়ে ফেলেছিস? প্রতিবন্ধী একটা!

এটা বলে নিবির ভাইয়াও চলে গেলো৷ আমি রেগে পা দিয়ে গাড়িতে কত গুলি গুতা দিয়ে বললাম
– উফফ,, এই নিবির ভাইয়ার সমস্যা কি? আমার সাথে এমন করে কেন??!

শেষে সবাই গেলাম শপিংমলের ভিতরে৷ আমি আর রিদিয়ানা আপু একটা দোকানে দাঁড়িয়ে কসমিটিক্স দেখছিলাম৷ রিদিয়ানা আপু বলল
– ওহ্ নিশান ভাইয়ার কাছে মনে হয় আমার ফোনটা! যা একটু নিয়ে আয়!

আমি নিশান ভাইয়াকে খুজছিলাম৷ সবার সাথে ত নিশান ভাইয়া নেই বুঝলাম না একা কোথায় গেছে? আমি তানিশাকে জিজ্ঞেস করতে ও বলল ও জানে না৷ আসলে তানিশার কাছে জগৎ দুনিয়ায় কোন খবরই থাকে না! আমি একটু খুজার পর দেখলাম ওই কোনায় নিশান ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে আর তার সাথে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে দেখার পর মনে হলো মেয়েটা ভাইয়াকে বিরক্ত করছে৷ হায় রে,,,কি করার আমার এই ভাইয়েরা যে এত হ্যান্ডসাম! দেখতে হবে না আমার ভাই যে৷ কিন্তু বেচারা নিশান ভাইয়া অনেক ভোলা ভালা৷ আমি নিশান ভাইয়ার সামনে গিয়ে মেয়েটাকে বললাম
– এই আপু প্লিজ যাও তো এখান থেকে আমার ভাইকে ডিস্টার্ব করো না!!

মেয়েটা ভ্রু কুচকে বলল
– আমি কথা বলছি না ওর সাথে! যাও এখান থেকে!

– লিসেন! তোমার কোন অধিকার নেই আমার সাথে এই ভাবে কথা বলার! নিশান ভাইয়া আমার ভাইয়া ওকে যাও এখান থেকে!

মেয়েটা আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো৷ আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম
– আচ্ছা ওইযে রিদিয়ানা আপুর ফোন নাকি তোমার কাছে,,,,,,?

নিশান ভাইয়া মুখ দিয়ে কোন কথা ত বলবে না,, পকেট থেকে ফোন বের করে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো৷ আমি ফোন হাতে নিয়ে ভাইয়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি৷ কোথা থেকে যেন নিবির ভাইয়া এসে আমার মাথায় আবার চাপড় মেরে বলল
– এই কি বুঝলাম না! এত পাকনামি কেন করিস তুই??

– কি করলাম?

– এই নিশান জানিস কেমন বেচারাকে আমি কত কষ্ট করে একটা মেয়ের সাথে লাগিয়েছি যেন ও একটু চালু হয় আর তুই এসে দিলি সব! আর তাছাড়া ওইটা নিশানের ক্লাসমেট ছিল৷!

আমি ভ্রু কুচকে বললাম
– আজব! ক্লাসমেট ছিল তাহলে আমাকে আগে বলবে না? আমি এত ক্ষন ধরে যা যা বললাম ওই মেয়েটাও বলল না কিছু আর নিশান ভাইয়াও কিছু বলল না! বুঝলাম না কিছু এমন কেন?

– নিশান দেখেছিস এমনেই সারা দিন কথা বলে না! শুন তুই আর নিশানের সামনেই যাবি না,, নাহলে তুই জীবনে ওকে একটু স্যেটেল হতে দিবি না!!

আমি বললাম
– ১০০বার যাবো তোমার কি!? তুমি তোমার কাজ করো!

– এই বেশি বেয়াদব হয়ে গেছিস! আমি তোর বড় ভাই!!

– দাড়াও আমি দেখাবো তোমাকে,, তোমরা যে কয়েকদিন এখানে আছো আমি নিশান ভাইয়াকে এমন চালু বানাবো না যে সারা দিন ভাইয়া কথা বলতেই থাকবে!!হুহ!

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here