love is like a Cocktail,Part: 03

love is like a Cocktail,Part: 03
Writer: Abir Khan

হৃদয় কি এমন কথা বলার জন্য এত সংকোচ করছে? জান্নাত ঠিক বুঝতে পারছে না। হৃদয় একটু সময় নিয়ে বলে ফেলে,

– আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি?

জান্নাত পুরো হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ক্লাসের সবচেয়ে হ্যান্ডসাম ছেলেটা নিজ থেকে ওর সাথে বন্ধুত্ব করতে এসেছে! জান্নাতের যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না৷ ওর সাথে কদিন যাবৎ সব অকল্পনীয় ব্যাপার স্যাপার হচ্ছে। ও আসলে কি উত্তর দিবে ভেবেই পাচ্ছে না৷ হৃদয় অনেক আগ্রহ নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। জান্নাত অনেকটা লজ্জাও পাচ্ছে। হৃদয় আবার বলে,

– কিছু বলছো না যে? তার মানে কি তুমি আমার ফ্রেন্ড হতে চাও না?

জান্নাত মাথা তুলে হৃদয় এর দিকে তাকিয়ে দ্রুত স্বরে বলে,

~ না না তা না। আসলে তোমার জন্য এত মেয়ে পাগল, ক্লাসের সব মেয়ের ক্রাশ তুমি। তাই আমার মতো এরকম একটা মেয়ের ফ্রেন্ড হলে তোমাকে হয়তো অনেক কথা শুনতে হতে পারে। তাই আমাকে ভাবতে হচ্ছে তোমার ফ্রেন্ড হবো কি না৷

হৃদয় হঠাৎ করে জান্নাতের হাতটা শক্ত করে ধরে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,

– দেখো কে কি ভাবলো বা কি বললো আই রিয়েলি ডোন্ট কেয়ার। আমি জাস্ট যা চাই আমি সেটাই করি। আমি তোমাকে আমার ফ্রেন্ড বানাতে চাই মানে চাই ই চাই। সো তুমি আমাকে নিয়ে টেনশন করো না৷ আমাকে কেউ কিছু বলার কোন ক্ষমতা নেই৷

জান্নাত চোখ নামিয়ে লজ্জাসিক্ত নয়নে হৃদয়ের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। হৃদয় সেটা খেয়াল করে ওর হাত ছেড়ে দিয়ে বলে,

– সরি একটু এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিলাম। আচ্ছা এবার বলো হবে আমার ফ্রেন্ড?

জান্নাত একটু সময় নিয়ে ভেবে আস্তে করে বলে,

~ তোমার কোন সমস্যা না থাকলে হতে পারি। (মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে)
– সত্যি বলছো? তুমি হবে আমার ফ্রেন্ড?
~ হুম। (লজ্জা পেয়ে)

হৃদয় প্রচন্ড খুশি হয়। আর হাসি দিয়ে বলে,

– জানো অনেক দিন ধরে সাহস করে আজ তোমার কাছে আসলাম। অনেক আগে থেকেই তোমার সাথে আমার ফ্রেন্ড হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কারণ পুরো ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো, ভদ্র এবং সবচেয়ে বেশি সুন্দরী আর আকর্ষণীয় মেয়ে তুমি। বাকিদের আমার একদম পছন্দ হয় না৷ তাই একটু তাড়াহুড়ো করেই তোমাকে ফ্রেন্ড বানালাম। কজ আমি আর চাই না তুমি এরকম একা একা থাকো। তুমি অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করো।

জান্নাত মুগ্ধ হয়ে হৃদয়ের কথা শুনছি। ও কল্পনাও করতে পারে নি হৃদয় এত ভালো একটা ছেলে। ওর কষ্টটা বুঝার চেষ্টা করেছে। জান্নাত আস্তে করে লজ্জাসিক্ত কণ্ঠে বলে,

~ তুমি সত্যিই অনেক ভালো। আজ পর্যন্ত আমাকে এভাবে কেউ বলে নি৷
– জানি তো আমি৷ তাই তো তোমাকে আমার ফ্রেন্ড বানালাম। এখন থেকে কিন্তু আমার কাছে কাছেই থাকতে হবে৷ আর হ্যাঁ তুমি তো পড়াশোনায় অনেক ভালো। প্লিজ আমাকে একটু হেল্প কইরো। তাহলে তোমার সাথে অনেক সময় পাড় করতে পারবো।
~ আচ্ছা করবো। (জান্নাত খুব লজ্জা পাচ্ছে)

এভাবে জান্নাত আর হৃদয়ের মাঝে আরও কিছুক্ষণ কথা হয়। এদিকে ক্লাসে একজন এসে সবাইকে বলে দেয়, হৃদয় জান্নাতের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করেছে। ক্লাসের সব মেয়েদের মুখ মুহূর্তেই কালো হয়ে যায়। হৃদয় আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের সাথে নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে কথা বলে নি, সেখানে আজ ও নিজে জান্নাতের সাথে আগ বাড়িয়ে বন্ধুত্ব করলো! সব মেয়েদের চোখে জান্নাত এখন সবচেয়ে বড়ো শত্রু। সবাই রাগে সাপের মতো খালি ফুসছে। শুধু নিতু ছাড়া। ও তো অনেক খুশি। ওর বেস্ট ফ্রেন্ড মানে জান্নাত, এরকম ফেমাস হ্যান্ডসাম একটা ছেলে বন্ধু পেয়েছে বলে। জান্নাত হৃদয়ের সাথে কথা শেষ করে ক্লাসে চলে আসে। ও ক্লাসে ঢুকতেই অনেক মেয়ের সাথে চোখাচোখি হতেই ও বুঝে যায়, এরা এখন ওকে একা পেলে আস্ত গিলে খাবে। জান্নাত ভয়ে নিতুর পাশে গিয়ে বসে। নিতু মিটমিট করে হেসে বলে,

~ তোর ক্রাশ আবির আহমেদকে না পেলেও ক্লাসের সব মেয়েদের ক্রাশকে তুই শেষমেশ পেলি। হাহা৷ দেখ দেখ ডাইনি গুলা হিংসায় জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। হাহা।
~ এই চুপ কর কি যা তা বলছিস। আমরা শুধু ফ্রেন্ড আর কিছু না৷
~ হু, সে দেখা যাবে নে। হিহি।

জান্নাত লজ্জা পায় নিতুর কথা শুনে। আর নিতু হাসতে থাকে।

অন্যদিকে,

– বস ব্ল্যাক স্যাডো গ্যাং তো পুরা চুপচাপ হয়ে আছে৷ কোন অ্যাকশনে আসলো না৷
– চিন্তা করিস না৷ কিং রে আমি চিনি৷ ও কিছু না কিছু একটা করবেই৷ তোরা সাবধানে থাক। একটা কাজ তো ঠিক মতো করতে পারলি না। এখন পলায় থাক। কেউ জানি ধরা খায় না৷ তাইলে কিন্তু আমাদের আর জানে বাঁচা লাগবে না৷ মনে থাকে যেন৷
– ওকে স্যার৷ আর শুন, দ্বিতীয় অ্যাটাকের প্ল্যান রেডি কর। আর কিং এর লোকেদের দিকে খেয়াল রাখ৷
– ওকে বস৷
– কিং তোরে আমি ছাড়মু না৷ তুই আমার অনেক ক্ষতি করছিস। তুই শেষ।

আবিরের বাসায়,

আবির এখন পুরো বেড রেস্টে। অনেক ডিরেক্টরের সকাল থেকে কল এসেছে। সবার সিডিউল অফ করে দিয়েছে নিলয়৷ আবির কারো সাথে কথাও বলে নি। নিলয় আবিরের কাছে এসে জানায়,

– স্যার সবাইকে বলেছি আপনি একটু অসুস্থ। কদিন পর আবার চলে আসবেন কাজে৷
– গুড। কেউ কি বেশি ফোর্স করেছে?
– জি স্যার।
– কে?
– ডিরেক্টর আশিক। তার নাকি অনেক লস হয়ে যাবে আপনি না গেলে।
– বলিস নাই আমি অনেক অসুস্থ?
– বলছি। বলে, অসুস্থ হলে কি একটু সময় দেওয়া যায় না? কাজ নিয়া পারফেকশন না থাকলে কিভাবে হবে!
– ওরে কল লাগা৷ ও আমাকে কাজ শিখায় না৷ কল দে।
– ওকে স্যার।

নিলয় আশিককে কল দেয়৷ রিসিভ করলে নিলয় বলে,

– স্যার কথা বলবে আপনার সাথে।
– দেও।

আবির ফোন নিয়ে বলে,

– কিরে আপনি নাকি আমাকে কাজের পারফেকশন শিখাবেন?
– না না আবির কি বলছো তুমি! তোমাকে কাজ শেখানোর কারো ক্ষমতা নেই। আসলে আমি অনেক চাপের মধ্যে আছি তাই ভুল বলে ফেলছি।
– সে যাই হোক! আমার না আসাতে তো আপনার অনেক ক্ষতি হবে তাই না? আপনাকে কিছু পাঠাচ্ছি সেটা দিয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েন৷ আর হ্যাঁ, আপনার সাথে আমি আর কাজ করছি না।
– না না আবির প্লিজ, তাহলে আমি তো একদম শেষ হয়ে যাবো। আমার কোন কিছু চাই না৷ তুমি প্লিজ আমার সাথে কাজ করো। প্লিজ আবির। তোমার পায়ে পড়ি।
– বেশি কথা বাড়াবেন না৷ আমি একবার যেটা বলি সেটাই করি। আপনার মতো ডিরেক্টর এর সাথে কাজ করার আমার কোন ইচ্ছা নেই।

আবির নিলয়ের কাছে ফোন দিয়ে দেয়। নিলয় ফোন কেটে দিয়ে বলে,

– স্যার কত দিব?
– হিসাব করে ওর যা ক্ষতি হয় তার ৩ গুণ দিয়ে দিও।
– ওকে স্যার৷ তাহলে আমি আসি। আপনি রেস্ট নিন৷
– হুম।

নিলয় গেলে আবির মাইশাকে ওর আরেকটা ফোন দিয়ে কল দেয়৷ এখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। দুইটা রিং হতেই মাইশা ফোন রিসিভ করে। আবির বলে উঠে,

– হেই বেবি কোথায় তুমি? আসবে না বাসায়?
~ বেবি…আমি তো খুব বিজি৷ আরেকটা শুট আছে ৭ টার দিকে৷
– ওহ! কোন সমস্যা নেই। তুমি কাজ করো। আর বাসায় গিয়ে আমাকে কল দিও।
~ ওকে বেবি৷

এখন রাত প্রায় ১ টা নাগাদ বাজে। আবির ওর রুম ছেড়ে বের হয়ে করিডর ধরে হেঁটে শেষ মাথায় যে স্টোর রুমটা আছে সেখানে যায়৷ রুমের ভিতর ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আবির সেখানেই থাকে। ওর সাথে যারা থাকে তারা কেউই জানে না আবির ওই স্টোর রুমটার ভিতরে গিয়ে ঠিক কি করে। একমাত্র নিলয় জানে। আবির পরদিন সকালে স্টোররুম থেকে বের হয়ে ওর নিজের রুমে চলে আসে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না৷ আবিরের কয়েকজন লোক নিলয় এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,

– ভাই, প্লিজ বলেন না, স্যার ওই রুমে সারারাত একা বসে কি করে? যে আমাদেরও বলা যাবে না?
– দেখ তোদের আগেও বলছি যে এই কথা কখনো জিজ্ঞেস করবি না। স্যারের একদম নিষেধ আছে। আমি যদি কাউকে বলি আমাকে জানে মেরে ফেলবে।
– ঠিক আছে ভাই ঠিক আছে। এই চল।

আবিরের লোকেরা নিরাশ হয়ে যে যার কাজে চলে যায়। নিলয়ও ওর কাযে চলে যায়। আবির ওর রুমে এসে বেডে শুয়ে পড়ে। শরীরটা আজ একদম ভালো লাগছে না ওর। হাতের ব্যথাটাও একটু বেড়েছে। আবির একসময় ঘুমিয়ে পড়ে এই সকালে। সারারাত রুমের মধ্যে কি করেছে তা ও আর নিলয় ছাড়া কেউ জানে না৷

অন্যদিকে জান্নাত সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো নাস্তা বানিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়ে কলেজের দিকে৷ অন্যসব দিনের মতো আজ দিনটা হলেও হতে পারতো। কিন্তু আজ একটু ব্যতিক্রম হলো। জান্নাত কলেজের সামনে নামতেই ও পুরো অবাক। কারণ হৃদয়…..

চলবে…?

সবার ভালো সাড়া চাই। আর কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here