Journey by Relation #পর্বঃ ৩

#গল্পঃ Journey by Relation
#পর্বঃ ৩
#লেখাঃ কামরুল ইসলাম ইথান

হারিয়ে গেল আমার কলিজা, আমার ভালোবাসা, আমার তায়্যিবা। সেদিন যদি ওর সাথে গিয়ে ওকে আমি রাস্তাপার করে দিতাম তাহলে আজ আমায় এই দিন আর দেখতে হত না। আজকে ওর মৃত্যুবার্ষিকী একটু দোয়া করবেন ওর আত্মার মাগফিরাত কামনায়।

সুইটি দুহাত দিয়ে নিজের চোখ মুছতে মুছতে বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। সবি শুনলাম আপনার ঘটনা। আসলেই কষ্টদায়ক। ওকে ভালো থাকেন, আমার স্টপ এসে গেছে। আমার নামতে হবে এখানে। আপনি কোথায় নামবেন?

– আরে আমিও তো এখানেই নামব। দেখেছেন কথা বলতে বলতে কখন যে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসলাম অথচ টেরই পেলাম না।
– হ্যা, এজন্যই গাড়িতে উঠে আপনাকে বলেছিলাম কথা বলার জন্য। ওকে ভালো থাকবেন। আসি, আল্লাহ হাফেজ।

সুইটিকে বিদায় দিয়ে সোজা চলে এলাম আন্টির বাসায়। আসলে সব কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। অনেকদিন পর এলাম খুলনায়। বাসায় গিয়ে কোনোমত ফ্রেশ হয়েই চলে গেলাম তায়্যিবাদের বাসায়। তায়্যিবার বাবা-মা আমাকে দেখে খুবই খুশি হলেন। তায়্যিবার বাবা তো আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে শুরু করল। আমারও নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে নোনা জল গাল বেয়ে পড়তে লাগল।

হঠাৎ একটি জিনিস দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। সুইটি নামক যে মেয়েটা আমার সফর সঙ্গীনী হিসেবে ছিল সে এখানে কেন? কি করছে ও এখানে? ওকে তো আমি তায়্যিবার বাসার ঠিকানা বলিনি, তাহলে ও চিনলো কীভাবে? এসব মানে নানান ধরনের প্রশ্ন মনের মাঝে আসছে।

হঠাৎ তায়্যিবার বাবা সুইটিকে নিজের কাছে ডাকলেন। এটা দেখে আরো অবাক হয়ে গেলাম। তার মানে তায়্যিবার বাবাও সুইটিকে চিনেন। উফফ এসব ভেবে মাথায় কোনো কাজ করছে না। খেয়াল করলাম তায়্যিবার বাবা সুইটিকে নিয়ে আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। এসেই সুইটিকে বললেন,

– সুইটি! ও হচ্ছে ইথান। ওর সাথেই তায়্যিবার বিয়ের কথা হয়েছিল।
এরপর তায়্যিবার বাবা আমাকে বললেন,
– বাবা ইথান! ও হচ্ছে সুইটি। তায়্যিবার ছোট খালার মেয়ে। লন্ডনে থেকে পড়াশুনো করছে। আজকেই ফিরেছে ওখান থেকে। বাট এই ব্যস্ততার কারণে আমরা কেউই ওকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে যেতে পারিনি। সুইটি মা আমার, তুই মন খারাপ করিসনা। ঠিক আছে তুমি তোমার খালার কাছে যাও।

সুইটি চলে যাওয়ার পর আঙ্কেল বলল,
আসলে ছোট বেলায় সুইটির মা মারা যায়। তার কিছুদিন পর ওর বাবাও চলে যায় না ফেরার দেশে। বাবা মা মারা যাওয়ার পর সয়মার চাচারা ওকে কিছুদিন লালন পালন করেন। পরে সুইটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসি আমরা। যখন ওকে আমরা এনেছিলাম তখন ওর বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। পরে আমরাই সুইটিকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেই। ইন্টার শেষ করার পর।

সুইটির জীবনের গল্প শুনে আমার খুবই খারাপ লাগতে লাগল। মেয়েটা যেভাবে হাসিখুশি থাকে কেউ দেখে বুঝতেই পারবে না যে, এই হাসি হাসি মুখের পিছনে লুকনো আছে জমাট বাধা অনেক দুঃখ।

বিকালে তায়্যিবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। আসরের নামাজ পড়ে এসে দোয়াতে অংশগ্রহণ করলাম। অনেক দোয়া করলাম আমার তায়্যিবার জন্য। আসলে আজকেই যে শুধু দোয়া করেছি বিষয়টা এমন না। আমি আমার প্রতিটি দোয়াতেই তায়্যিবাকে রেখেছি, রাখি এবং রাখব।

দোয়া শেষ করে মাগরিবের নামাজ আদায় করে, আন্টির বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর ভাবছি সুইটি কেন আমার সাথে এমনটা করল। যখন গাড়িতে ওকে তায়্যিবার কথা বলেছিলাম তখন ও তো বলতে পারত, তায়্যিবা আমার আপু হয়। এসব নানা কথা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ কাশির আওয়াজে বাস্তবে ফিরে এলাম। দেখলাম আঙ্কেল এসেছে।

– আসসালামু আলাইকুম।
– ওয়াআলাইকুমুস সালাম।
– কি ব্যাপার ইথান তুমি নাকি বাসায় চলে যাবে?
– জ্বি,আঙ্কেল। সেই প্রস্তুতিই তো নিচ্ছি।
– ইথান একটা কথা বলি বাবা। আজকে আমাদের এখানেই থেকে যাও বাবা। যেয়ো না বাবা।

আঙ্কেলের কোনো কথাই আমি কখনো ফেলি নি। তাই আজকেও ফেলতে পারলাম না। অনেক রিকোয়েস্ট করল বিধায় আন্টিকে ফোন করে জানিয়ে দিলাম আজকে ফিরব না। রাতে খেয়ে দেয়ে ছাদে চলে গেলাম। আজকে একটা জিনিস আমি খুবই লক্ষ্য করলাম, সুইটি মেয়েটা সারাদিন আমার আশেপাশেই ছিলো। তবে এটার কারণ আদৌ আমার জানা নেয়।

হঠাৎ কারোর পায়ের আওয়াজে পিছনে ফিরে তাকালাম, একি সুইটি আসছে। এত রাতে ও ছাদে কেন আসল। যায় হোক এসেছে ভালোই হয়েছে, জানা যাবে আমার সাথে এমনটা কেন করেছিল। সুইটি আমার কাছে এসেই,

– কেমন আছেন? জানি এমূহুর্তে এমন প্রশ্ন করা ঠিক না। আসলে আপনার কথা তায়্যিবা আমাকে সবই বলত। তবে আমি ভাবতেই পারিনি যে, আপনার সাথে হঠাৎ এভাবে আমার দেখা হয়ে যাবে। প্রথমে অবশ্য চিনতে পারিনি কারণ, তায়্যিবা কখনো আপনার ছবি আমাকে দেখায়নি। তবে আপনি গল্প লেখেন সেই বিষয়টা বলেছিল। তাইতো আপনার গল্প পড়তে শুরু করলাম। রিকোয়েস্ট দেওয়ার একমাস পর আপনি আমার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছেন। কতবার আপনাকে নক ও করেছি বাট আজও অবদি একটা মেসেজও সীন হয়নি। যখন আপনি গাড়িতে বললেন, এসব গল্প আপনি লিখেছেন তখন বুঝেছি যে আপনিই সেই মানে তায়্যিবার যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে।

– তখন কেনো আপনি বললেন না? যে আপনি তায়্যিবার বোন হন।
– আসলে আমি আপনাদের লাভ স্টোরি টা আপনার কছে থেকে শুনতে চেয়েছিলাম।
– কাজটা ঠিক করেননি।
– ওকে! সরি ফর দ্যাট। তায়্যিবার মৃত্যুর খবর আমি পেয়েছিলাম ঠিকই তবে আমি আসতে পারিনি। এটা ছিল আমার ব্যাড লাক। আপনি আমার কাজে রাগ করবেন না প্লিজ।

– আপনি কথা খুব বেশি বলেন।
এটা বলে আমি নিচে চলে আসলাম। রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম কিন্তু কিছুুতেই আমার ঘুম আসছে না। আজকে বিশেষ করে তায়্যিবার কথা খুব মনে পড়ছে। কিছুুতেই ঘুম আসছে না। পরে কখন যেন চোখটা লেগে গেছে। ফজরের সুমধুর আজানের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। তখনি…

#চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here