হৃদয়ের_প্রতিশ্রুতি🌸,পর্বঃ২১

হৃদয়ের_প্রতিশ্রুতি🌸,পর্বঃ২১
লেখিকাঃআদিলা

ইয়ামিনার গাল গুলো লাল হয়ে গেছে।। ঠান্ডা হিমেল বাতাসে ইয়ামিনা কোমড় অব্দি চুল একদিক ওদিক ছুটে চলচ্ছে। এক অন্য রকম অনুভূতি জানান দিচ্ছে ইয়ামিনার মনে।হটাৎই আমির পেছন থেকে ইয়ামিনাকে জড়িয়ে ধরে চুলে মুখ গুজে। আমিরের শীথল হাতের স্পর্শে ইয়ামিনা কেপে কেপে উঠচ্ছে। আমির ইয়ামিনার ঘাড় থেকে চুল গুলো সড়িয়ে ঘাড়ে ছোট ছোট করে অজস্র চুম দিচ্ছে। সেদিনের স্বপ্নের কথা ভেবে আমির মুচকি হাসে আসলেই এই মেয়েটিকে জুরে এখন তার বসবাস। আমিরের মন প্রান জুরে শুধু তার মিষ্টিপাখির বিচরন হবে। কাউকে আসতে দিবে না এর মাঝে।। আমির ইয়ামিনার গলায় নাক ঘসে কানে ফিসফিস করে মাতাল করা কণ্ঠে বলে….

ভালোবাসি মিষ্টিপাখি। বললে না!!

ইয়ামিনা আমিরের প্রতিটা স্পর্শে কেপে কেপে উঠচ্ছে। কাপা কাপা গলায় বলে… ক..ক..কি।

থ্রি ম্যাজিকেল ওয়ার্ড। আমি তোমার মুখে শুনতে চায়। বলোনা একবার…. সব সুখ তোমার পায়ের কাছে নিয়ে আসবো।শুধু একবার বলো ভালোবাসি।
আমি যে আর পারচ্ছি না নিজেকে তোমার থেকে দুরে রাখতে। তোমাকে সবটা দিয়ে পেতে চায়। পরিপূর্ণ ভাবে নিজের করে।। আমির কথা বলচ্ছে আর ইয়ামিনার ঘাড়ে গলায় ভালোবাসার পরশ দিচ্ছে। আমিরের নিশ্বাস বার বার ইয়ামিনার কানে বারি খাচ্ছে। ভয়ংকর রকম কাপচ্ছে এক অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করছে।।

বলোনা একবার…. তোমার মুখ থেকে শুনতে চায়।

ইয়ামিনা একটা ঘোরে চলে গিয়েছিল। কিছু বলতে নিবে হঠাৎ করে আরুশি ঢেকে উঠে…

ভাবিইইইইই ভাবি কোথায় তুমি..

আরুশির ডাকে আমির কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।ইয়ামিনাকে ছেড়ে দেয়।ইয়ামিনা কিছুটা দূরে সরে এসে কোনো রকম শাড়ি ঠিক করে নেয়।আমির বিরক্ত নিয়ে আরুশির দিকে তাকায়…
নক করে ভেতরে ঢুকতে পারিস না। প্রাইভেসি বলতে তো কিছু আছে। ডাকার আর সময় পেলি না অসময়ে সব সময় হাত ঢুকাতে হয় তোর।।।

আরুশি আমিরের দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি দেয়। দেখেছো ভাবি শুধু শুধু ভাইয়া খালি বকা দেয়।কেউ ভালোবাসে না আমাকে ।।।আমারও ইচ্ছে নেই তোমাদের মাঝে কাবাবে হাড্ডি হওয়ার।হুহ!!

ইয়ামিনার আরুশি ঘাড়ে হাত রেখে বলে… কি হয়েছে আরু। কিছু লাগবে তোমার।

আরুশি ঠোট বাকিয়ে ইয়ামিনার দিকে তাকায়..ভাবি চলো তো তোমার সাথে কথা আছে বলে আরুশি ইয়ামিনার হাত ধরে নিয়ে যেতে নেয়…

দাড়া কোথায় যাচ্ছিস..

কোথাও যাচ্ছি না ভাবির সাথে কথা আছে। ভাবি পুরোটা তোমার সম্পত্তি হলেও আমাদের কিছু ভাগ আছে । তুমি বুঝবে না ভাবির সাথে আমার কিছু কথা আছে… বলে ইয়ামিনার হাত ধরে নিয়ে যায়।ইয়ামিনা এতক্ষন নিরব দর্শকের মত সবটা দেখেই চলচ্ছে।
আমির কিছু বলার আগেই আরুশি ইয়ামিনার হাত ধরে গট গট করে বের হয়ে যায়।।

__________________🌸🌸

কি হয়েছে আরু এভাবে ঢেকে আনলে যে কিছু লাগবে তোমার।

তেমন কিছু না ভাবি। আসলে তুমি বসো আগে বলচ্ছি। আরুশি ইয়ামিনাকে খাটে বসিয়ে দেয়।। আরুশি আমতা আমতা করে করতে করতে দুহাতের আঙুল মুচরাচ্ছে। আসলে ভাবি…

ইয়ামিনা একটু ব্রু কুচকে সন্দেহের দৃষ্টিতে আরুশির দিকে তাকায়।।। কি হয়েছে আরু বলবে তো না বললে বুঝবো কিভাবে…
ভাবী সেদিন যে আমার ফ্রেন্ডেসরা এসেছিল। সেখানে একটা ভাইয়া এসেছিল টয়ার কাজিন শিহাব৷

ইয়ামিনা একটু চিন্তা করে বলে..হ্যা তো কি হয়েছে।

আসলে ভাবী ওই ভাইয়াটা তোমার নাম্বার চেয়েছিল আর আমি বোকার মত কিছু না ভেবে দিয়েদিয়েছি। ভেবেছিলাম টয়ার কাজিন তাই ফরমালেটির জন্য নাম্বার নিচ্ছে। কিন্তু পরে জানতে পারি ছেলেটার মতিগতি মতলব ঠিক নেই। সত্যি ভাবি বুঝতে পারি নি। ভাইয়া জানতে পারলে আমাকে কুচি কুচি করে ফেলবে। এমনি ভাইয়ার অনেক রাগ৷ আমাকে অনেক আদর করলেও ভাইয়া এসব ব্যাপারে কখন টলারেট করে না।ভাবী সরি।

ইয়ামিনা চিন্তিত হয়ে বলে..এত বোকা কেউ হয়৷ যে কেউ চাইলে নাম্বার দিয়ে দিবে। তুমি ভয় পেয় না তোমার ভাইয়া কিছু জানবে না আমি নাম্বার বক্ল করে দিবো।
আরুশি যেন এতক্ষনে ভয়ে জমে গিয়েছিল। এখন একটু হাফ ছেড়েছে।

আমির এতক্ষন ধরে লেপটপে অফিসের কিছু কাজ করছিল ইচ্ছে করেই যাতে সময়টা পার হয়। বিরক্ত নিয়ে লেপটপটা বন্ধ করে উঠে দাড়ায়। কিছুক্ষন পায়চারি করে।। আমিরের বেশ বিরক্ত লাগচ্ছে৷এই মেয়েটা বুঝেনা এই মেয়েটা কে ছাড়া আমার দম বন্ধ বন্ধ লাগে। এই মেয়েটা নিশ্চয়ই আমাকে একদিন পাগল করে ছাড়বে। এত কিসের কথা বুঝিনা। আমির পায়চারি করচ্ছে আর মনে মনে বির বির করচ্ছে। আর না পেরে আমির রুম থেকে বের হয়।

ভাবি তুমি এত মিষ্টি কিন্তু ভাইয়া এত গম্ভীর আর রাগী।রাগলে তো ভাইয়া হুসই থাকে না।। কি ভাবে থাকো এত রাগী মানুষের সাথে। আমি হলে তো কবে পালিয়ে যেতাম।।

আমির রুমে ঢুকতে যেয়ে কথাটা শুনে মুচকি হাসে দরজা হেলান দিয়ে হাত ভাজ করে দাড়ায়….

ইয়ামিনা আরুশি কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠে।আমির মুগ্ধ হয়ে ইয়ামিনার দিকে চেয়ে আছে।ইয়ামিনাকে হাসতে দেখলে আমিরের সব কিছু ওলট পালট হয়ে যায়। তোমার ওই হাসি যথেষ্ট আমার রাগ কমানোর জন্য।আমার রাগের ওষুধ তোমার ওই হাসি৷ভেবেই আমির মুচকি হাসে…

উহুম উহুম… তো আমার গুনগান গাওয়া শেষ হয়েছে।।

হটাৎ আমিরের কণ্ঠে আরুশি আর ইয়ামিনা চমকে সামনে তাকায়। আমির দুহাত ভাজ করে ব্রু উপরে উঠিয়ে তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে। ইয়ামিনা আমিরকে দেখে চুপ হয়ে যায়।দুজনে উঠে দাড়ায়। আরুশি আমিরকে দেখেই ঢোক গিলে।।

___ক..ক..ই ভাইয়া আমিতো

____আমির একটু রাগি ভাব নিয়ে বলে.. হুম আমিতো কি?

___-আমি ভাইয়া আসলে আরুশি এদিক ওদিক তাকিয়ে ভো দৌড়..আরে আরে আস্তে পড়ে বাকিটা বলার তার আগেই আরুশি ফুরুত।।

এইভাবে দৌড়াতে দেখে আমির হেসে দেয়।

আপনাকে হাসিতেই বেশি ভালো লাগে রাগলে একদম পচা দেখায়। এইভাবে সবসময় হাসবেন।

আমির মুচকি হেসে ইয়ামিনাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে… কমড় জড়িয়ে বলে তাই…কিন্তু আমার হাসি তো তুমি। তোমার ওই হাসিটাতেই আমার সব রাগ যেন নিমিষেই কোথাও হাওয়া হয়ে যায়।বলোনা কি আছে তোমার ওই হাসিতে যা ক্রমস আমাকে পাগল করে দিচ্ছে মিষ্টিপাখি। ভীষণ ভালোবাসি। কারন তুমিই তো ভালোবাসা। আমির ইয়ামিনার কোমড় ধরে নিজের আরও কাছে নিয়ে আসে। নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। ইয়ামিনার অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে আমিরের দিকে মনে মনে ভাবে হাসলে আসলেই ওনাকে বেশি ভালো লাগে। আমির মিধু ফু দিয়ে ইয়ামিনার কপালে আসা চুল গুলো সড়িয়ে দেয়…

ইয়ামিনার কানে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে…তোমার এলোমেলো চুলগুলো আমায় বড্ড জালাত্বন করে। পাগল করে দেয়।
ইয়ামিনা চোখ বড় বড় করে ফেলে… আরুশি যে কোনো সময় এসে পড়বে ছাড়ুন।

আমির একটা ঘোড়ে চলে গেছে হটাৎ ফোনটা বেজে ওঠাতে আমিরের হুস আসে।আমির ওভাবে ইয়ামিনার কোমড় জড়িয়ে রেখে ফোনটা রিসিভ করে…

ওপর পাশে কথা শুনে আমিরের রাগ উঠে যায়।। সমস্যা কি আপনাদের আমি না থাকলে আপনারা কিছুই হেন্ডেল করতে পারেন না । আমি আসচ্ছি বলে আমির ফোনটা কেটে দেয়।
মিষ্টিপাখি আরজেন্ট মিটিং যেতে হবে ফিরতে লেট হবে। তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।বলে আমির ইয়ামিনাকে ছেড়ে বের হতে নিলে আবার কয়েক কদম পিছিয়ে ইয়ামিনার কপালে চুমু দিয়ে মুচকি হেসে বলে… নিজের খেয়াল রেখো। আর কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে কল দিও কেমন।।

সকাল…🌸

ইয়ামিনা রেডি হচ্ছে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য। আমির কাল অনেক লেট করে বাসায় ফিরেছিল। এসে দেখে ইয়ামিনা ঘুমিয়ে গেছে। তাই ইয়ামিনাকে আর ডাকে নি। ফ্রেশ হয়ে কপালে ঠোট ছুয়ে ইয়ামিনাকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে শুয়ে পড়ে।

আমির মাএ শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে।ইয়ামিনা আয়নায় হিজাবের পিন লাগাতে যেয়ে আয়নাতে আমিরের দিকে চোখ যায়৷ একহাত দিয়ে চুল মুচচ্ছে আর অন্য হাত দিয়ে ফোনে কথা বলচ্ছে। চুল থেকে বিন্দু বিন্দুপানি পড়ে আমিরের টিশার্ট অনেকাংশ ভিজে গেছে ।ইয়ামিনা হা হয়ে তাকিয়ে আছে৷ হটাৎ এত নিলজ্জ্ব হতে ইচ্ছে করছে কেন ইয়ামিনা নিজেই বুঝতে পারচ্ছে না।আমির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হিজাবের পিন ইয়ামিনার আঙুলে বিধে যায়।
ব্যাথায় ইয়ামিনা শব্দ করে৷ উঠে…..

আউউউউচচচ!!
আমির ইয়ামিনার দিকে তাকিয়ে দৌড়ে আসে। কি হয়েছে মিষ্টিপাখি। ব্যাথা পেয়েছো।কোথায় লেগেছে দেখি। চিন্তা কোথায় থাকে তোমার। ইয়ামিনা যেন রোবটের মত দাড়িয়ে আছে কোথা বলার সু্যোগ টাও আমির দিচ্ছে একের পর এক কথা বলেই যাচ্ছে।

আসলে হিজাবের পিন লাগাতে যেয়ে হাতে একটু বিধে গেছে।

আমির একটু রেগে বলে… খেয়াল কোথায় থাকে তোমার। হাত দেখি। আমির ইয়ামিনার হাতটা নিয়ে আঙুলটা ধরে আলতো করে নিজের ঠোট ছোয়ায়।হটাৎ এমন করাতে ইয়ামিনা হাতটা দ্রুত সড়িয়ে ফেলে।একটা ভয়ংকর অনুভুতির কাজ করছে যার জানান ইয়ামিনা দিতে চাচ্ছে না।
ইয়ামিনা অস্ফুট কণ্ঠে বলে…ত..ত..তেমন কিছু হয়নি এই একটু আর লেগেছে।
আমির ইয়ামিনাকে নিজের কাছে টেনে আনে। ইয়ামিনার হাত থেকে হিজাবের পিনটা নিয়ে নিজে লাগিয়ে দেয়।ইয়ামিনা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে আমিরের কার্যকলাপ দেখচ্ছে।
দুহাত দিয়ে ইয়ামিনার মুখ আজলে নিয়ে কপালে গভীর চুমু দেয়।
___ভালোবাসি মিষ্টিপাখি আমার।

আমির ইয়ামিনার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে… তোমার কিছু হলে আমার এখানটাই বিধে বলে ইয়ামিনার হাতটা আমির নিজের বুকের বা পাশে রেখে শক্ত করে চেপে ধরে।

ইয়ামিনা অবাক চোখে আমিরের দিকে দৃষ্টিপাত করে আছে….

এত ভালোবাসা কখন হলো!!!

আমির একটা মুচকি হাসি দেয়…আমার নিজের অজান্তেই!!
আমি রেডি হয়ে নিচে ওয়েট করছি তারাতারি এসো বলে আমির চলে গেল।



আমির একহাতে ব্লেজার অন্য হাত দিয়ে শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে নিছে নামচ্ছে। হল রুমে যেয়ে আমিরের মাথায় রাগ যেন চর চর করে চটে উঠেছে।।
.
.
চলবে….🌸🌸

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here