হৃদপিন্ড,পর্ব-৯,১০

হৃদপিন্ড,পর্ব-৯,১০
জান্নাতুল নাঈমা

মুসকান কাঁপা গলায় বললো দরজা বন্ধ করলেন কেনো?
ইভান এগুতে এগুতে বললো আরে ইয়ার দরজা খোলা অবস্থায় কেউ তোমাকে আমার রুমে দেখলে তোমারই বদনাম হবে,,,
মুসকান কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে ঢোক গিললো ভয়ে।
ইভান যতো এগুচ্ছে মুসকান ততো পিছুচ্ছে।
পিছুতে পিছুতে যেই দেয়ালে ঠেকেছে অমনি মুসকান ভয়ে ভয়ে বললো আপনি কি খুঁজে পাচ্ছেন না বলুন আমি খুঁজে দেই।
ইভান দেয়ালে এক হাত রেখে আরেক হাতের আঙুল দিয়ে মুসকানের গালে আলিঙ্গন করতে করতে বললো এমন কি আছে তোমার মাঝে যে ইমন চৌধুরীর মতো মানুষ সারাক্ষন তোমাকে নিয়ে পড়ে থাকে,সব কিছুতে তোমাকে প্রটেক্ট করে,কি নেশা ধরিয়েছো বেবী, শুধু বড় ভাই কে তোমার নেশায় মাতাল করলে চলবে আমরাও তো আছি।
ওর থেকে বেশী সুখ দিবো, ওর হলো এিশ আমার হলো তেইশ বলেই চোখ মারলো।
মুসকান কেঁপে ওঠলো, কথাগুলো কানের মাঝে বিষের মতো লাগলো, এতো বিশ্রি শুনালো কথা গুলো যে রাগ হলো ভীষণ এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে সামনে থেকে সরে দরজার দিকে এগুতেই ইভান ওড়না টা টেনে নিজের কাছে নিয়ে নিলো।
মুসকান ভয়ে ইভানের লোভাতুর চোখ মুখের দিকে একবার চেয়ে নিজের ওড়নার দিকে একবার চেয়ে লজ্জায় ঘৃনায় ছুটে দরজার সিটকেরী খুলতে গেলো।
ইভান সাথে সাথেই মুসকান কে টেনে বিছানার কাছে নিয়ে ছুঁড়ে ফেললো।
মুসকান ভয়ে ভয়ে পিছুতে লাগলো।
আমাকে যেতে দিন, দয়া করুন আমাকে আমার সাথে এমন করবেন না বলেই অনেক আকুতি মিনতি করতে লাগলো।
ইভান চোখ বুজে ঠোঁট দুটো জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে এগুতে লাগলো।
ইভানের নজরে পড়েছো বাবু তোমাকে টেষ্ট না করেই ছেড়ে দিবো। বলেই মুসকানকে টেনে জোর করে বিছানায় চেপে ধরতেই মুসকান জোরে এক চিৎকার দিলো,,,
ইভান মুসকানের ঘাড়ে বিশ্রিভাবে ঠোঁট দিয়ে, আলিঙ্গন করতেই মুসকান তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিতে লাগলো, তবু কোন লাভ হলো না।
মুসকানের কাঁধের জামার অংশ এক হাতে ছিঁড়ে ফেললো।
মুসকান চিৎকার করতে শুরু করলো। তাঁর চিৎকার চার দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ রইলো।
অবশেষে হুহু করে কেঁদে ওঠলো।
আমার সাথে কেনো এমন হয়।কেনো আমি বার বার এমন পরিস্থিতির স্বীকার হই আল্লাহ।
ইয়াশফা,ইয়ানা আপুরাও তো আমার মতো মেয়ে ওরা তো আমার থেকে বড় কই ওদের দিকে কেউ তো খারাপ দৃষ্টি ফেলে না বা ওদের জীবনে তো এমন খারাপ পরিস্থিতি আসেনা।
কি পাপ করেছি আমি,,,
ডুঁকরে কেঁদে ওঠলো মুসকান।
ইভান নিজের শার্ট খুলতে শুরু করলো।
মুসকান ইভানকে এক ধাক্কা দিয়ে সরাতেই ইভান আবার বিছানায় চেপে ধরলো তাঁকে,একহাতে পেটে খামচে ধরে, ঘাড়ে কামড় বসালো,,,
,
দরজায় তিন-চারবার কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো। বিছানায় তাকাতেই ইমনের মাথায় রক্ত ওঠে গেলো৷ হাতটা শক্ত মুঠ করে রক্ত বর্ন চোখে তাকালো ইমন,,,
ইভানের ভয়ে গলা শুকিয়ে গেলো।
মুসকান বিছানা থেকে ওঠে দৌড়ে গিয়ে ইমন কে শক্ত করে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। এতোটা শক্ত করে জরিয়ে ধরেছে যে কখনোই ছারবেনা, সে যেনো তাঁর সবথেকে নিরাপদ জায়গাটা পেয়ে গেছে। প্রানপনে সেই জায়গাটা ধরে রাখতে চাইছে সে কোনভাবেই হারাতে চাইছে না।
ভয়ের মাঝে, কঠিন পরিস্থিতি তে মুসকান নিজের অজান্তেই ইমনকে বুঝিয়ে দিয়েছে সে তাঁকে কতোটা আপন ভাবে, কতোটা ভরসা করে।

কাজের লোকগুলো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ইমন স্ট্রেট হয়ে পুরো শরীর শক্ত কাঠের মতো করে দাঁড়িয়ে আছে।
ইভান বললো দাদাভাই এই মেয়েটা আমার ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। জোর করে আমার সাথে,,,
তুই বিশ্বাস করসিস না,,,
মুসকানের কান্নায় ইমন বেশ বুঝতে পারলো মেয়েটা প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। ইভানের কথা তাঁর কানে গেলো না। সে মুসকানকে দুহাতে দুকাধে ধরতেই থমকে গেলো। রক্ত বর্ন চোখে ইভানের দিকে তাকালো।
মুসকান কে ছাড়িয়ে নিজের কোর্ট টা খুলে পড়িয়ে দিলো।মুসকান ভয়ে সমান তালে কেঁপে চলেছে ডুঁকরে কেঁদে ওঠছে ফিরোজা মুসকান কে জাবটে ধরলো।
ইভান ইমনকে বুঝাতে একটু এগুতেই ইমন হাত মুঠ করে নাক বরাবর এক ঘুষি দিলো। নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়তে শুরু করলো।
বাজে ভাষায় গালি দিয়ে ইভানকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না একের পর ঘুষি দিয়েই যাচ্ছে। মুসকান আরো দ্বিগুন ভয় পেয়ে যাচ্ছে এসব দেখে।

তোর সাহস কি করে হয় ওর গায়ে হাত তোলার,,,
ওর দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কোথায় পেলি তুই,,,নিজের কুকর্মের দোষ ওর ওপর চাপাচ্ছিস।
তুই আমাকে এখনো চিনতে পারিসনি।
তুই কি ভেবেছিস এই পুরো বাড়িতে এতোগুলো অপরিচিত মানুষের মাঝে ওকে আমি রেখে যাই কোন প্রকার সেফটি ছাড়াই,,,
ইমন চৌধুরী এতো কাঁচা কাজ করে না।
তুই যখন ওকে তোর রুমে নিয়ে গেছিস বাহানা দিয়ে আমি তখন রাস্তায়,,, তোর মতলব বুঝতে পেরেই ড্রাইভার কে দিয়ে ড্রাইভ না করিয়ে নিজে ড্রাইভ করে এসেছি। মুসকানের আশে পাশে একটা পিঁপড়ের উপস্থিতি ও আমি শত মাইল দূর থেকে টের পাই বুঝেছিস,,,

বলেই ঘারে চেপে ধরলো একহাতে টেনে হিচড়ে নিচে নেমে চিৎকার করে সকলকে ডাকতে লাগলো।
নাজমা চৌধুরী রুম ছেড়ে বেরিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো কি হচ্ছে,,,
ইভানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে বললো একি ইভান দাদু ভাইয়ের কি হয়েছে,,,
উপর থেকে ইয়ানা, ইয়াশফা সহ সাজিয়া বেগম নেমে এলেন। ছেলের অবস্থা দেখে সাজিয়া বেগম এক চিৎকার দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ইমনের হাত থেকে ছাড়িয়ে ছেলেকে জরিয়ে কাঁদতে লাগলো।
আমার ছেলেকে খুন করে ফেলেছে গো,,,আমার কলিজাকে আঘাত করেছে গো,,,ইমনের দিকে রাগি চোখে চেয়ে বললো খুনি,,,তুই আমার ছেলেকে খুন করতে গিয়েছিস যাতে এই পুরো সম্পত্তির মালিকানা শুধু তুই পাশ।
এদিকে নাজমা বেগম সহ ইয়ানা, ইয়াশফাও সবটা বুঝে গেছে মুসকান কে দেখে।

ইমন হাত তুলে থামিয়ে বললো ব্যাস,,,
আপনি আর একটা কথাও বলবেন না।
আপনার গুনোধর পুএ কি করেছে জানতে চান,,,
মুসকান কে এক হাতে টেনে কোর্ট টা সরিয়ে জামার ছেড়া অংশ দেখিয়ে আবার কোর্ট টা পড়িয়ে দিয়ে বললো এইটুকুন একটা মেয়ে কে আপনার ছেলে ছাড়তে চায়নি,আমি যদি ঠিক সময় না আসতাম কি হতো ভাবতে পারছেন। এমন জঘন্য, ছেলের জন্য চোখের জল না থুথু আসা উচিত।

এবার সাজিয়া চৌধুরী ক্ষেপে গেলো। মুসকানের সামনে গিয়ে মুসকানকে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য হাত তুলতেই ইমন হাত ধরে ফেললো।
সাজিয়া বেগম বললেন ওওও এই মেয়ের জন্যই এসব।
ইমন সাজিয়া বেগমের হাত ছেড়ে বললেন এমন ভুল করার সাহস ও দেখাবেন না।
সাজিয়া বেগম বললেন এই বাইরের মেয়ের জন্য তুমি আমার ছেলেকে আঘাত করেছো।
আমার ছেলের দোষটা কোথায়,,, যেখানে এ বাড়ির বড় ছেলে পতিতালয় থেকে ওঠে আসা একটা মেয়ে কে নিয়ে দিনরাত ফূর্তি করছে। বড় রা যা করবে ছোট রা তো তাই শিখবে।
ইমনের মাথায় রক্ত যেনো জমাট বেঁধে গেলো।
আপনি যদি আমার বড় না হতেন ঠাশিয়ে কয়টা থাপ্পড় লাগাতাম।
সাজিয়া বেগম চুপসে গেলেন। দেওয়া আর বলা একি হলো।
ইমন বললো অন্যের গায়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেকে শুধরান। বড় বাড়ির ছেলে বলে আপনার ছেলে পার পেয়ে যাচ্ছে, বাইরে কি করে বেড়ায় খোঁজ রাখেন???জিগ্যাস করবেন একরামুল চৌধুরী কে?
তাঁর ছোট ছেলের জন্য কতোজনের কাছে মুখ লুকিয়ে চলতে হয়,কতোজন পুলিশ অফিসারকে ঘুষ খাওয়িয়ে চুপ রাখতে হয়৷ কতজন মেয়েকে টাকার বিনিময়ে মুখ না খুলতে বাধ্য করা হয়।
সাজিয়া বেগম লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো। তাঁর ছেলের কুকীর্তি সবটাই তাঁর জানা,,,

এবার নাজমা চৌধুরী বললেন দাদুভাই,,,
অনেক হয়েছে আর না এবার তুমি ঘরের লক্ষীকে যথার্থ মর্যাদা দাও।

ইমন ইয়ানা,ইয়াশফার দিকে চেয়ে ধমকে বললো তোমরা এখানে কি করছো যাও উপরে যাও।
দুজনই মাথা নিচু করে উপরে চলে গেলো।
এবার ইমন মুসকানের দিকে চেয়ে বললো ফিরোজা ওকে রুমে নিয়ে যাও। পোশাক পালটাতে বলো।
সবাইকে পাঠিয়ে এবার ড্রয়িং রুমে শুধু ইমন,সাজিয়া বেগম, নাজমা চৌধুরী,আর ইভান ফ্লোরেই ঝিম মেরে পড়ে আছে।

ইমন বললো মুসকান এর বয়স সবে পনেরো, আমি চাইছিলাম না এখনি কিছু করতে, সামাজিক নিয়মে যতোটা করা যায় করবো। আর এই কুলাঙ্গার কে যেনো আমার চোখের সামনে বা মুসকানের আশে পাশে না দেখি। মুসকানের আশে পাশে ওকে যদি কখনো দেখি তো জানে মেরে দিবো।

সজিয়া বেগম এক ঢোক গিললেন।
নাজমা চৌধুরী বললেন মুসকান কোন পতিতালয় থেকে আসেনি,সময় হলে সবটা সবাই জানবে।

আর দাদু ভাই আমার যখন নয় বছর বয়স তখন তোমার দাদা আমাকে বিয়ে করে এ বাড়িতে নিয়ে এসেছে,,,সেই তুলনায় তোমার ঘরনী ঢেড় বড়,,,
ইমন গম্ভীর গলায় বললো হুম।
সাজিয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে ইভান কে ওঠাতে যেতেই ইমন বললো আপনি নিজের ভালো চাইলে ওকে ছাড়ুন আর চুপচাপ নিজের ঘরে যান।
সাজিয়া বেগম বললেন আমার ছেলেটা মরে যাবে,,, কতো রক্ত ঝড়ছে এভাবে কেউ মারে বলেই অভিযোগ ছুঁড়লেন।
ইমন এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো পনেরো বছর বয়সী এক কিশোরী কে ধর্ষন করার চেষ্টা করেছে তেইশ বছর বয়সি এক যুবক,,,
এর শাস্তি কি হতে পারে মিসেস সাজিয়া চৌধুরী???
সাজিয়া এবার হাউমাউ করে কেঁদে ওঠলো।
দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে এখন সকলেই এক জোট হয়ে লড়াই করছে। ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যু দন্ড দেওয়ার কথাও সাজিয়া বেগম জানেন। তাঁর ছেলেও তো এই জঘন্য কাজে লিপ্ত হতে যাচ্ছিলো। ভয়ে এক ঢোক গিলে ইমনকে দু হাত জোর করে অনুরুধ করলো।
ইমন বললো আমার দেওয়া শাস্তি তো ওকে ভোগ করতেই হবে। নয়তো আবারো একি ভুল করতে ওর দ্বিধা হবেনা। তাই ইমন চৌধুরীর দেওয়া শাস্তি ওকে ভোগ করতেই হবে। বিনা চিকিৎসায় সারারাত ও এখানে ছটফট করবে একটা পিঁপড়াও যেনো ওর ধারে কাছে আসতে না পারে।
সাজিয়া বেগম বললেন ইমন ও তোমার ছোট ভাই,,,
ইমন বাঁকা হাসলো অন্যায়ের শাস্তি সকলকেই পেতে হবে হোক সে আমার ভাই,আমার বাবা,আমার মা বা আমার স্ত্রী। অন্যায় কারীকে শাস্তি দিতে এই ইমন চৌধুরী কখনো পিছুপা হয়নি আর হবেওনা।

,
মুসকান বিছানায় দুহাটুর ওপর মুখ রেখে কেঁপে চলেছে,,,
ইমন রুমে ঢুকতেই ফিরোজা বললো বড় ভাই, আপা তো অনেক ভয় পাইছে,কেমন কাঁপতাছে।
ইমন গম্ভীর ভাবে বললো আমি দেখছি।
ফিরোজা চলে যেতেই ইমন দরজা টা লক করে দিলো। মুসকানের কোন প্রতিক্রিয়া দেখতে পেলো না।
ধীর পায়ে এগিয়ে মুসকানের সামনে বসলো।
মুসকান নিচের দিকে মাথা রেখে কেঁদেই চলেছে।
ইমন ডাকলো মুসকান,,,

……….
মুসকান,,,

………..
কোন সারা পেলো না এবার ইমন জোরে এক ধমক দিয়ে ডাকলো মুসকান,,,
মুসকান কেঁপে ওঠলো ইমনের দিকে অশ্রু মিশ্রিত চোখে চেয়ে হাঁটু ছেড়ে ইমনকে জাবটে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।
ইমন চোখ দুটো বন্ধ করে গভীর এক শ্বাস ছাড়লো।
কিছুক্ষন পর মুসকানের কান্না টা থেমে এলো।
হাত দুটো আলগা করে দিলো,কিন্তু নিজে সরতে পারলো না। ইমনের বুকের মাঝে আবদ্ধ সে,,,
ইমনের হুকুম ছাড়া সেই বুক থেকে ওঠার সাধ্য কি আর তাঁর আছে,,,
কান্না থেমে একরাশ লজ্জা এসে ভড় করলো,,,
ইমন মুসকানের হালকা নড়চড় অনুভব করতেই ছেড়ে দিলো।
মুসকান একটু সরে মাথা নিচু করে বললো আপনি খেয়েছেন,,,
ইমন গম্ভীর মুখেই মুসকানের দিকে চেয়ে ভাবলো এমন মানসিক অবস্থায়ও আমাকে নিয়ে ভাবছো, সত্যি মুসকান তুমি কি দিয়ে তৈরী,,,আল্লাহ তোমাকে কোন মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছে,তোমার আত্মায় কিসের সবুর দিয়ে সৃষ্টি করেছে খুব জানতে ইচ্ছে হয়। এইটুকুন মেয়ের এতো ক্ষমতা,এতো ধৈর্য, সহনশীলতা কোথায় থেকে আসে???
মুসকান ওঠতে নিতে নিতে বললো আমি খাবাড় রেডি করি গিয়ে,,,
ইমনের ভাবনায় ছেদ পড়লো মুসকানের ঘারের দিকে চোখ যেতেই,,,
একটানে মুসকান কে একদম নিজের কাছে নিয়ে এলো। মুসকান খানিকটা ভয় পেয়ে ইমনের মুখের দিকে তাকালো।
ইমন একহাতে মুসকানের কোমড় জরিয়ে আরেকহাতে ওড়নাটা সরিয়ে চুল সরালো,বিস্ময় চোখে চেয়ে আছে,রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে তাঁর। চোখ দুটো রক্ত বর্ন ধারন করেছে।
কামড়ের দাগ স্পষ্ট,,,
মুসকান ভয়ে চুপসে যাচ্ছে, শ্বাস প্রচন্ড ভাবে ওঠানামা করছে তাঁর, ইমন রাগে কয়েকদফা শ্বাস নিয়ে মুসকানের ঘাড়ের আঁচে আঙুল ছুঁয়ালো,,,
মুসকান আহ করতেই ইমন হাত সরিয়ে নিলো।
ইমন বললো আর কোথাও এমন ব্যাথা রয়েছে,,,
মুসকান লজ্জায় কুঁকড়িয়ে গেলো।
ইমনের প্রচন্ড রাগ হলো কড়া গলায় জিগ্যেস করলো আছে কিনা বলো,,,
মুসকান মাথা নিচু করে ফেললো ইমন সেভাবেই মুসকানকে শক্ত করে ধরে রইলো আর বললো কোথায়,,,
মুসকান একহাত পেটের দিকে দেখিয়ে এখানে,,,
ইমন আর কিছু না ভেবে কামিজের পার্টটা ওঠিয়ে দেখলো নখের বেশ বড় একটা আঁচ,,,
মুসকান ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে আবারো,,,
ইমন বুড়ো আঙুল দিয়ে পেটের সাইটে দাগটার ওপর বুলালো মুসকানের পুরো শরীরে কেমন অদ্ভুত শিহরন বয়ে গেলো, যা তাঁর ব্যাথা অনুভূত হওয়াটা কমিয়ে দিলো,মনের ভিতর অজানা অনুভূতি রা ওঁকি দিতে লাগলো, সেই অনুভূতির কাছে এই সামান্য ব্যাথাটা তাঁর তুচ্ছ মনে হলো।
চোখ বন্ধ করে ভারী শ্বাস ফেলতে শুরু করলো।
ইমন হাত সরিয়ে পেট টা ঢেকে ঘাড়ে তাকালো।
খুব বিশ্রি লাগছে তাঁর দাগটা ইচ্ছে হলো দাগপড়া জায়গাটা ব্লেট দিয়ে কেটে ফেলে দিতে।
মুসকান যদি ব্যাথা না পেতো,মুসকানের ক্ষতি না হতো তবে সে তাই করতো।
ধীরে ধীরে হাত আলগা করে দিলো।
কি যেনো ভেবে বললো মুসকান আর কোন ক্ষতি হয়নি তো,,,
মুসকানের মুখটা মলিন হয়ে গেলো,,,ছোট হলেও সে ঠিক বুঝতে পারলো ইমন কি বুঝাচ্ছে।
মাথা নাড়িয়ে না করলো,,,
ইমন স্বস্তির এক শ্বাস ছেড়ে বললো –
দুজন একসাথে এ রুমেই খাবো,,,

মুসকান বিছানা থেকে নামতে যেতেই ইমন বললো তুমি এখানেই থাকো ফিরোজা খাবাড় আনবে,,,
,
চলবে……

হৃদপিন্ড
জান্নাতুল নাঈমা
পর্ব-১০

আর দশদিন আছে তারপরই ফিরে যেতে হবে মুসকান কে ইমনের সাথে ইমনের বাড়িতে।
যে বাড়িটা একদমই ইমনের নিজস্ব, যে বাড়িতে কোন সেলফিসদের জায়গা দেয়নি ইমন চৌধুরী।
যে বাড়িতে এতো এতো মানুষের ভীর না থাকলেও আলাদা এক শান্তি রয়েছে। যেখানে সে তৃপ্তি সহকারে থাকতে পারে। কোন প্রকার অশান্তি তে ভুগতে হয় না।
যে বাড়িটা সে নিজের রোজগারে তৈরী করেছে।
আঠারো বছর বয়স থেকেই সে তাঁর পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, মাঝে পরিবারের সাথে যোগাযোগ হলেও আরো একটা দূর্ঘটনায় সেইটুকুও বাদ দিয়ে দেয়। তারপর থেকে সে একাই থাকে।
পাঁচবছর যাবৎ সায়রী এসে থাকছে তাঁর বাড়িতে সেটা সম্পূর্ণ সায়রীর নিজের স্বার্থে। ইমন দুঃসময়ের বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর। এমনকি তাঁর জবটাও সম্পূর্ণ ইমনের সহযোগিতায় হয়েছে।
,
দাদীর কাছে ইমনের বিষয়ে টুকটাক শনে নিলো মুসকান। দাদী সবটা বললোও না তা বেশ বুঝলো মুসকান কিন্তু এতে সে একটুও মন খারাপ করলোনা। বরং যে টুকু শুনেছে এতেই সে হ্যাপি হলো।
দাদী কথার ফাঁকে মুসকান কে প্রশ্ন করলো হেরে তোর মায়ের কি হয়েছিলো।
মুসকানের মুখটা মলিন হয়ে গেলো মায়ের কথা মনে পড়তেই। চোখ দুটো পানিতে টলমল করছে।
নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো আম্মার অনেক রোগ ছিলো।
দাদীর বুক টা কেঁপে ওঠলো প্রশ্ন করলো কি রোগ?
মুসকান বললো আমি হওয়ার পর থেকেই নাকি রোগটা হয়েছিলো। অনেকে বলে এর আগে থেকেই নাকি ছিলো আমার আগে তিনবার বাচ্চা পেটে এসেছিলো একটাও টেকে নি। তারপর অনেক বছর পরে নাকি আমি হয়েছি। আমি হওয়ার পর থেকেই আব্বা -আম্মার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।
আব্বা চাইছিলো একটা ছেলে সন্তান হোক।
কিন্তু হলো মেয়ে সেই নিয়ে ভীষণ রাগ ছিলো তাঁর।
বলেই মাথা নিচু করে ফেললো, মাথা নিচু করেই বললো আম্মারে চিকিৎসাও করায় নি। মানুষ বলতো চিকিৎসা করালে নাকি আমার আম্মা বাঁচতো।
বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো মুসকান, দাদীও কান্নায় ভেঙে পড়লো মুসকানকে জরিয়ে সেও কাঁদতে লাগলো।
বহুবছরের চাপা আর্তনাদ গুলো যেনো বেরিয়ে এসেছে আজ।

,
ইমন দাদীকে বলেছিলো মুসকান কিভাবে কি পরিস্থিতি থেকে ইমনের কাছে এসেছে কিন্তু তাঁর মনে প্রশ্ন থেকেই গেলো।
আর ভাবতে লাগলো তারেক এমনটা কেনো করবে?
এমনটা করায় তাঁর কি স্বার্থ থাকতে পারে?
নিজের রক্তের সাথে এমনটা করতে একটুও আত্মা কাঁপলো না ওর।
এতো ভালোবাসা কোথায় হারিয়ে গেলো?
তাহলে কি আমিই ভুল ছিলাম আর বাকি সবাই ঠিক? আমি কি নিজের হাতে নিজের মেয়ের বলি দিলাম। কিন্তু সেই সময়তো আমারো আর উপায় ছিলো না।
কারো তো কোন ক্ষতি হলো না যা হওয়ার শুধু দুইজনেরই হলো। হে আল্লাহ দুনিয়াতে তাকে সুখ,শান্তি দাওনি পরকালে যেনো তাকে সুখ দিও।
কেউ যদি তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকে তাহলে তাঁর শাস্তি যেনো সে দুনিয়াতেই পেয়ে যায়।
মরার আগে একটাই চাওয়া আমি যেনো সবাই কে সব সত্যিটা জানাতে পারি। ইমন দাদুভাইকে যেনো সবটা জানিয়ে যেতে পারি। যে করেই হোক ওদের বিয়েটা আমাকে তারাতারি দিয়ে দিতে হবে।বিয়ে না হওয়া অবদি সব সত্যি সামনে আনা যাবে না। তাহলে একরামুল বাঁধা হয়ে আসতে পারে।
আর আমাকে সব সত্যি খুঁজে বের করতে হবে।
,
দাদী নিজের কান্না চেপে বললো কাঁদিস না, আমার দাদু ভাই জানলে রাগ করবে।

মুসকান চুপ হয়ে গেলো মাথা তুলে দাদীর দিকে তাকালো। দাদী বললো আমার দাদু ভাই তোকে ভীষন আপন করে নিয়েছেরে, তুইও আপন করে নিয়েছিস বুঝি, দাদু ভাইকে সারাজীবন এভাবেই আগলে রাখবি তো,,,
মুসকান লজ্জা পেয়ে গেলো, অবাক চোখে দাদীর দিকে চেয়ে রইলো।
দাদী আঁচল দিয়ে চোখ মুখ মুছলো, মুসকানের চোখ মুখ ও মুছে দিলো।
,
আমার কর্তা আমার থেকে ১৭বছরের বড় ছিলো।
আমার সাথে যখন তাঁর বিয়ে হয় তখন আমি ৯বছরের। হাফ প্যান পড়ে বারবাড়ি দৌড়াদৌড়ি করছিলাম তখনি ইয়া বড় লম্বা, খাম্বার মতো মানুষটা আমার সামনে দাঁড়ালো। আমি কোমড়ে হাত দিয়ে বললাম আপনে কেডা?তখন ওনি চোখের চশমাটা খুলে আমাকে ভালো করে দেখলো। আবার চশমা চোখে দিয়ে আমার বাড়ির ভিতরে ঢুকে আমার বাজানের সাথে কি জানি আলাপচারিতা সারলো। পরেরদিনই বাজান আমারে কোলে করে নিয়ে বসিয়ে কর্তার সাথে বিয়ে পড়িয়ে দিলো।
প্রথম দিকে বিছানা ভিজাতাম তা নিয়ে কর্তা যে কি রাগারাগি করতো। সংসার তো বুঝতামই না। স্কুলে ভর্তি করাই দিলো সিক্সে ওঠার পর থেকেই কর্তা আমার সাথে রসিকতা করা শুরু করলো আমি যে কি ক্ষেপে যেতাম,,, ওনি যে আমার স্বামী বুঝতামই না। বুঝলামতো যখন নাইনে পড়ি সে সময় ছেলে-মেয়ের প্রেম হতো চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যমে। আমাকেও এক ছেলে চিঠি দিলো তা দেখে কর্তা সে কি রাগ । ঐ চিঠির জন্যই তো তারাহুরো করে এক বাচ্চার মা বানিয়ে দিলো।
একরামুল কে কোলে বসিয়েই এসএসসি পরীক্ষা দিলাম। এমন পরিবারে বউ হয়ে আসছিলাম যে তাঁরা পড়াশোনাকেই প্রাধান্য দিতো বেশী সেই সুবাদে আমারো শিক্ষিত হওয়াও হয়ে গেলো।

পবিত্র মন নিয়ে কারো সাথে সারাজীবন থাকতে চাইলে, কাউকে মন থেকে ভালোবাসলে, মনের জোর থাকলে ঠিক দুজন মানুষ দুজনের আপন হয়ে ওঠতে পারে। আশেপাশের মানুষ যাই বলুক না কেনো।

মুসকান লজ্জায় মিইয়ে যাচ্ছে কেমন। বুকের ভিতর হাতুড়ি পিটা শুরু হয়ে গেছে এটা অবশ্য তাঁর দোষ না। দাদীরও দোষ না দোষটা বয়সের। এই বয়সে আবেগ ধরে রাখা তো বড়ই মষ্কিল ।
অবুজ বয়সের অবুঝ আবেগ,অবুঝ মন যাকে বলে।
অল্প অনুভূতিতে বেশীই মিইয়ে যায় মেয়েটা।

,
মুসকান নিজের সব জিনিসপত্র গুছিয়ে ব্যাগে রেখে ইমনের রুমে গেলো তাঁর জিনিস পএ গুছাতে।
ইমন বেলকুনিতে বসে সিগারেট খাচ্ছে।
মুসকান রুমে এসে ইমনের জিনিসপত্র গুছাতে লাগলো।ইমন সিগারেট টা মুখে পুরেই ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে রুমে ঢুকলো।
মুসকান স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর কাজ করতে লাগলো।
ইমন ইচ্ছে করেই বেশী বেশী ধোঁয়া ছারতে লাগলো।
বেশ মজা নিচ্ছে সে এই মূহুর্তে সে যেনো তাঁর স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে মেয়েটাকে জ্বালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনভাবেই মুসকান কে ঘায়েল করতে পারছে না। সে যেনো তাঁর সব জ্বালাতন সহ্য করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে।

এই মানুষ টা কি দিয়ে তৈরী,,,অবাক লাগে ভীষন অদ্ভুত সব মায়া, অদ্ভুত সব ক্ষমতা,অদ্ভুত সব সহনশীলতা এর মাঝেই যেনো আল্লাহ তায়ালা উজার করে দিয়েছে।
প্রথম দেখাতেই যে মানুষ টা হার্টে আঘাত করতে পারে,সে মানুষ তো সত্যি অদ্ভুত। শুরুটা শারিরীক আঘাতে হলেও এরপর প্রতিটা আঘাত করেছে মনে। যে আঘাত গুলো বুকের বা পাশে লেগেছে। যে আঘাতে ছিলো শুধুই মুগ্ধতা।

“ও শুধুই আমার জন্য তৈরী, ও আমার “মুগ্ধময়ী”।
যার প্রতিটা কাজে,প্রতিটা কথায়,প্রতিটা ব্যবহারে শুধু মুগ্ধতা ছেয়ে থাকে,নমনীয়তা ভরে থাকে।
ভাবতে ভাবতেই হুশ ফিরলো মুসকানের নরম হাতের শক্ত স্পর্শে। মুসকানের আতঙ্ক ভরা চোখ মুখে বলা কথাটায়।

ঠোঁট পুরে যাবে তো,,,কি করছেন এভাবে কেউ সিগারেট খায়,,,

ইমন নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো সিগারেটের শেষ অংশ টুকুই পড়ে আছে। আর একটু হলেই আগুনের ছ্যাঁকা খেতো।

ইমন মুসকানের দিকে চেয়ে বললো খেয়াল করিনি।
মুসকান বললো এরপর খেয়াল করবেন, নয়তো ঠোঁট পুরে ছাই হয়ে যাবে বলেই বেরিয়ে যেতে নিলো।
ইমন বললো ঠোঁট পুরে ছাই হয় কিভাবে আবার।
মুসকান থেমে চুপ রইলো ইমনের দিকে অবুঝ চাহনীতে চাইতেই ইমন বাঁকা হাসলো।
আর বললো ওখানে একটা জিনিস রয়েছে তোমার কাছে নিয়ে রাখো। ও বাড়ি গিয়ে দেখো কি আছে তাঁর আগে দেখবে না।
মুসকান ঘাড় কাত করে সম্মতি দিয়ে জিনিসটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
,
ব্যাগের চেইন খুলে জিনিসটা রাখলো। ড্রেসিং টেবিলের দিক চোখ পড়তেই বললো এ বাবা আমি তো চুলের ব্যান্ডগুলো ওঠাইনি।
তারাতাড়ি গিয়ে ব্যান্ড গুলো নিয়ে ব্যাগে রাখলো। কয়েকটা সেপটিপিন ব্যাগের সামনের পকেটে রাখতে যেতেই ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
এই গয়না কিসের বলেই একজোড়া কানের দুল বের করলো। দুলগুলো ছিলো গোল্ডের মাঝে সাদা পাথরের। ওটা যে ডায়মন্ড ছিলো মুসকান বুঝতে পারেনি। বুঝবে কি করে সে কখনো ডায়মন্ড দেখেয়নি।
সায়রী তাকে একজোরা রিং বানিয়ে দিয়েছে স্বর্নের শুধু। এছাড়া এসব গয়নার প্রতি তাঁর আকর্ষণ নেই।
সে বুঝে ওঠতে পারছেনা এই গয়না টা কোথায় থেকে এলো। তাঁর রুমে তো কেউ আসেনা তাহলে কে রাখলো এটা। কেউ ভুল করে রেখে যায় নি তো।
কাকে জিগ্যাস করবে এখন বেশ চিন্তায় পড়ে গেলো মুসকান। দুলজোরা নিয়ে ইমনের রুমে গিয়ে দেখলো ইমন সেখানে নেই।
কেমন ভয় হতে লাগলো ভীষন মুখটা চুপসে গেলো।
ভয়ে ভয়ে নিচে নেমে এলো।
ইয়ানা,ইয়াশফা বসে আছে সোফায়।দাদী চেয়ারে বসে পান চিবুচ্ছে। ইমন দাদীর সামনে বসে আছে।
একরামুল চৌধুরী নিচে নেমে এলো।
ইয়াশফা মুসকান কে দেখে শয়তানি মাখা এক হাসি দিলো
কারন মুসকান যখন সব কাপড় গুছিয়ে ইমনের রুমে যায় তখনি ইয়াশফা তাঁর মায়ের কথা অনুযায়ী তাঁর ডায়মন্ডের দুল মুসকানের ব্যাগে রেখে আসে।
তাদের প্ল্যান অনুযায়ী, সাজিয়া বেগম এইতো কিছুক্ষনের মধ্যেই চিৎকার,চেচামেচি করতে করতে নিচে নেমে আসবে। আর মুসকান কে বাজে ভাবে সকলের সামনে অপমান করবে। কিন্তু তাদের সব পরিকল্পনা যে এইভাবে মাটি হয়ে যাবে সেটা মা মেয়ে ভাবতে পারেনি।

মুসকান দাদীর পাশে দাঁড়াতেই ইমন ভ্রু কুঁচকে বললো কিছু বলবে,,,
মুসকান আরো ভয় পেয়ে গেলো। ইমনের খটকা লাগলো ভীষণ। দাদী বললো কিরে কি হয়েছে মুখটা এমন হয়ে আছে কেনো।
মুসকান এক ঢোক গিললো হাতটা সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো এটা আমার ব্যাগে ছিলো,কিন্তু এটা তো আমার না।

ইমন মুসকানের হাতের দিকে তাকালো।
ইয়াশফা চমকে গেলো।
এটা কি হলো,,,নাটক, সিরিয়াল দেখে একটা প্ল্যান সাজালাম কিন্তু ইন্ডিং টা এমন ঘুরে গেলো কেনো?
এখন কি হবে???
ওরে মাদার বাংলাদেশী তুমি কই।
,
দাদী বললো ওমা এটাতো বউমার কানের দুল।
তোর বাবা দিয়েছে,ওটা ওর ব্যাগে কি করে গিয়েছে।
ইমনের মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।
বসা থেকে ওঠে দাঁড়ালো।

মুসকানের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে একদম নিজের সামনে নিয়ে এলো।
কড়া গলায় বললো -এই মাথায় কিছু নেই,,,
এতো দামী জিনিস পেয়ে বোকার মতো সকলের সামনে নিয়ে এসেছো। নিজের কাছে রেখে দিতে এটা বিক্রি করলে কতো টাকা পেতে জানো??
দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো বলেই ইয়াশফার দিকে চেয়ে বললো তাইনা ইয়াশফা মুসকানের তো এটাই করা উচিত ছিলো বল,,,মেয়েটা না ভীষণ বোকা বলেই রহস্যময় হাসি দিলো।

ইয়াশফা চমকে ওঠে দাঁড়ালো আমতা আমতা করতে লাগলো। ভয়ে বার বার ঢোক গিলতে শুরু করলো।

মুসকান মাথা নিচু করে ফেললো। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো কয়েক ফোঁটা।
,
ইমন মুসকানের চোখের পানি দেখে বিরক্ত হলো ভীষণ।
কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই শুরু হলো ড্রামা।

চলবে…………
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here