#সুখ_পাখি #Ayrah_Rahman #part:- 14

#সুখ_পাখি
#Ayrah_Rahman
#part:- 14

রাতে…

আরু,তরু,ইসু একসাথে সোফায় বসে আড্ডা দিচ্ছে,,,

আরুঃ- ইসু আপু জানো আজ না তরু আপু আমায় অনেক বকা দিসে,,

ইসুঃ- ওরেএএ আমার সোনা বাচ্চা টা,, তরু কেন তোমাকে বকা দিসে?

আরুঃ- এমনি এমনি,,( ইনোসেন্ট ফেস করে)

তরু এতক্ষণ আরুর দিকে আড়চোখে দেখছিলো,,
আরুর এরুপ কথা শুনে ফোসস করে শ্বাস ছাড়ে,,

আরুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,,,

তরুঃ– তুই কি কিছু করিস নি? আমি শুধু শুধুই তোকে বকা দিসি?

আবার,
ইসুর দিকে তাকিয়ে বলে,,
— জানো তোমার আদরের বোন কি করছে?
তোমাকে তো কিছুই বলি নি,,বলেই তরু প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব ঘটনা বলল,,,,

সবশুনে ইসু আরুর দিকে কড়া নজরে তাকালো,,

ইসুঃ- কিরে আরু,,এসব কি শুনছি,,যদি তুই হারিয়ে যেতি কি হতো তখন,,তুই তো কিছুই চিনিস না,,

আরুঃ- সরি আপ্পুনি,,,( বেবি ফেস করে)

ইসুঃ- it’s ok,, next time যেন না শুনি এসব,,,

আরুঃ- ওকে,,আপু?

ইসুঃ- হুম, কিছু বলবি?

আরুঃ- হুম,,যায়েদ ভাইয়া কই গো এখনো তো আসলো না,,

ইসুঃ- চলে আসবে,,এখনই,,

আরুঃ- ভাইয়া কে ফোন করে বলো আমার জন্য চকলেট আর ফুসকা নিয়ে আসতে,,,

ইসুঃ- ওকে,,দিচ্ছি,,

ইসু ফোন বের করে যায়েদ কে ফোন দিলো,,,

__________________________

অপর দিকে,,,,,

শুভ্র,, অভ্র ও তাদের বন্ধুরা একটা কফি সপে বসে আড্ডা দিচ্ছে,,,

সবাই আড্ডা দিচ্ছে কিন্তু শুভ্র খেয়াল করছে অভ্র কেমন জানি অন্য মনস্ক রয়েছে,,

তা দেখে,শুভ্র খানিকটা হাসে,কারণ সে বুঝতে পেরেছে আসল কাহিনি কি,,

শুভ্র ঃ– কি ভাই দেবদাস,, তোমার পার্বতির কি বিয়ে হয়ে গেছে? ( অভ্রকে উদ্দেশ্য করে)

অভ্রঃ- আববব কককি বলছিস শুভ্র? আমার আবার পার্বতি আসবে কোথ থেকে..( তোতলানো গলায়)

শুভ্র ঃ– বুঝি মাম্মা বুঝি বলেই শুভ্র হেসে,, আকাশের সাথে হাইফাইভ করে,, সাথে সাথে সবাই হেসে উঠে,,,

কারণ এতক্ষণ ধরে শুভ্রের সাথে সাথে সবাই ই অভ্রের বিষয় টা খেয়াল করছিলো,,

অভ্র বেচারা খানিকটা লজ্জায় পরে যায়,,

তবে সে লজ্জাকে ধামা চাপা দিয়ে বলে উঠে,,,

অভ্রঃ– মাম্মা,, আমি তো শেষ,, ওই মাইয়া তো আমার মন,,পরান,, আত্মা হগ্গল কিছু লইয়া গেছে,,আমি অহন কিতা করুম??( দুঃখের সাথে)

শুভ্র ঃ– কাদে না বাবু কাদে না,,তোমাকে আমি তক্কেত তিনে ( কিনে) দিবো নে,,( মজা করে)

অভ্রঃ– ভাই তুই মজা করছিস,,আমি কিন্তু সিরিয়াস,,

শুভ্র আর অভ্রের কথার মধ্যে দিয়েই একজন বলে উঠলো,,,

— কিরে তোরা কি বলছিস কিছুই তো বুঝতে পারছিনা,, একটু ক্লিয়ার কর তো…

আকাশঃ- আরে যাদদু সোনা তুমি তো তখন ছিলা না,,সেই কাহিনি হয়ছে মামা,,

যায়েদঃ– কি হয়েছে সেটা তো বল,,,

শুভ্র ঃ– ওকে আমি বলছু,,তুই যখন আমাদের জন্য খাবার আনতে গেলি তখন একটা মেয়ে আসলো,,বড়জোর ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়বে,,বাচ্চা একটা মেয়ে,,

যায়েদঃ- তার পর?

পরে শুভ্র বাকি সবটা যায়েদ কে বলল,,

সবটা শুনে যায়েদ তো পারে না হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়ে,,

যায়েদঃ- মামা,,সেই মিস করা করছি,,সিন টা তো সেই ছিলো,,ব’লেই আবার হাসা শুরু করে দিলো,,

এমন সময় জায়েদের ফোনে কল আসে…

যায়েদঃ- আসসালামু আলাইকুম,, আপু..

অপরপাশঃ-…………….

যায়েদঃ- আচ্ছা ঠিক আছে,,

অপরপাশঃ-……………..

যায়েদঃ- বনুকে বলবা ও যাতে না ঘুমাই,,আমি সব নিয়ে আসবো,,

অপরপাশঃ-…………

যায়েদঃ- আচ্ছা,, রাখি,,

বলেই যায়েদ ফোনটা কেটে দিলো,,,

শুভ্র ঃ– কে ফোন দিলো রে?

যায়েদঃ- ইসু আপু,,

শুভ্র ঃ– কেন?

যায়েদঃ- আরে তোকে বলে ছিলাম না,,আমার মামাতো বোন,,আমার কলিজা,,ওও আসছে আর কি,,আর বলছে চকলেট আর ফুসকা নিয়ে আসতে,,

শুভ্র ঃ– কে? ওই ছোট্ট চড়ুই পাখি নাকি?পিচ্চি টা?

যায়েদঃ- আরে হ্যা,,তোর মনে আছে ওর কথা?

শুভ্র ঃ– ওই পাজি টার কথা মনে থাকবে না আবার,,যেভাবে আমার গায়ে,,, ইয়াক থু,,এখনো মনে হলে বমি আসে,,,

শুভ্রর রিয়াকশন দেখে যায়েদ হেসে উঠে,,

(শুভ্র,, অভ্র আর যায়েদের ফ্রেন্ডসিপ টা সেই ছোট্ট বেলা থেকে,,ছোট বেলায় শুভ্র রা চট্টগ্রাম থাকতো,,ওর বাবার ব্যবসার কাজে পরবর্তী তে তারা ঢাকায় সিফ্ট হয় কিন্তু শুভ্র, অভ্র আর যায়েদের বন্ধুত্বের কোন কমতি হয়নি)

ওদের কথা শুনে আকাশ বলে উঠলো,,
— কিরে তোরা কি বলছিস,, একটু আমাদের ও বল আমরাও হাসি,,আর চড়ুই পাখি টাই বা কে?

যায়েদ হাসতে হাসতে বলে উঠলো,,

— আরে আর বলিস না, পিচ্চি টার বয়স সবে মাত্র ছয় হলো,,মায়ের সাথে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলো,,

তেমনি একদিন,,

সময় টা ছিলো ঈদুল আজহার আগের দিন,,
পিচ্চি বাগানে খেলা করছিলো,,

আমি আর শুভ্র আমাদের বাসায় আসলাম,,অভ্রটা তখন অসুস্থ ছিলো,,,

শুভ্র ছোট বেলা থেকে ই একটু শান্ত আর গম্ভীর প্রকৃতির,,ও গিয়ে বাগানের দোলনায় বসে ছিল,,

পিচ্চি টাও খেলতে খেলতে শুভ্র পাশে গিয়ে বসলো,,

পিচ্চি ঃ- কি গো আংকেল,, বসে আছো কেন এভাবে,,চলো আমার সাথে খেলবে,,

শুভ্র ঃ– না,,আমি খেলবো না,,তুই যা তো পিচ্চি,, আমি পিচ্চি দের সাথে খেলি না,,

পিচ্চি ঃ- আমি পিচ্চি না(রেগে)

শুভ্র ঃ– তুই পিচ্চি ই,,

পিচ্চি ঃ- না আমি পিচ্চি না,,

বলেই পিচ্চি টা চলে আসে,,কিন্তু ভেতরে ভেতরে রাগটা তখন ও ছিলো,,

কিছুক্ষন পর,,

আমি আর শুভ্র গরুর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম,,
ঠিক তখনই পিচ্চি টা পিছন থেকে এসে শুভ্র কে ধাক্কা দিয়ে গোবরের স্তুপে ফেলে দেয়,,

বেচারা শুভ্র তো কিছুক্ষণ ঘোরের মধ্যে ই ছিলো,,কি থেকে কি হলো,,

আমি দ্রুত গিয়ে ওকে টেনে তুলি,,
বেচারার তো সারা গা গোবরে ভর্তি,, মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা সব জায়গায়,,

আর শুভ্র তো রেগে বোম হয়ে গেছে,,

পরে ওই পিচ্চি কে জিজ্ঞেস করে জানা গেছে,,

ওকে পিচ্চি ডাকাার কারণে ও এমন টা করছে,,

বলেই যায়েদ হেসে উঠে, যায়েদের সাথে সাথে সবাই ই হেসে উঠে, শুভ্র ও কিছুক্ষণ মুড ধরে থেকে সেও হেসে ফেলে,,

আকাশঃ- বাহ ভালো তো,, পিচ্চি থেকে আবার চড়ুই পাখি তে কনভার্ট হলো কি করে?

শুভ্র ঃ– আরে আর বলিস না,,সারাদিন ই বান্দরের মতো লাফাতো,আর চড়ুই পাখি যেমন সারাক্ষণ কিচিরমিচির করে সেভাবেই পিছন পিছন ঘুরতো আর কিচির মিচির করতো,,এত কথা বলে পিচ্চি টা,,

বলেই শুভ্র মুচকি হাসলো,,,

সেই হাসিটা কেউ দেখতে না পেলেও অভ্র ঠিকই লক্ষ্য করে,,কিছু একটা ভেবে তার ঠোঁটের কোনে ও ভেসে উঠে মুচকি হাসি,,,

_________________

কফিশপ থেকে বের হয়ে,, শুভ্র বলল

শুভ্র ঃ– কিরে যাদুওও তোর পিচ্চি বোন না বলে দিসে চকলেট নিতে ভুলে গেলি নাকি?

অভ্রঃ- যায়েদ ভুলে গেলেও তুই ভুলবি না সেটা আমরা জানি সো প্যারা নেওয়ার দরকার নাই( মজা করে)

যায়েদঃ- ওই তোরা কি শুরু করছিস,,তোরা ২ মিনিট দাড়া আমি চকলেট নিয়ে আসি আর রাস্তায় ফুসকার দোকান পেলে ফুসকা নিবো নে,,

বলেই যায়েদ চকলেট আনতে দোকানে গেলো,,

পথে যেতে যেতে,,

ফুসকা ও নিয়ে নিলো,,,

________________________

রাত প্রায় আট টা বেজে ১৫ মিনিট,,,

ক্রলিং বেলের শব্দ শুনে আরু দৌড়ে দরজা খুলতে চলে গেলো,,,

আরু জানে এখন ওর যায়েদ ভাইয়া আসবে সাথে চকলেট আর ফুসকা,,,

—– ভাইয়া তুই আসছিস,,জানিস কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি আমি,,

বলেই আরু দরজা খুলে সামনে যায়েদের জায়গায় অন্য কাউকে দেখে খানিকটা চমকে যায়,,

আরুঃ- আপনি?

শুভ্র ঃ– তুমি? তুমি এখানে কি করো?

আরুঃ- আপনাকে কোথায় জানি দেখেছি,, ( কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করে) ওহ হ্যা মনে পরেছে,, আপনি সেই আংকেল টা না?

শুভ্র ঃ– এই মেয়ে,,তুমি আমাকে আবার আংকেল ডাকছো?( রেগে)

অভ্র আর যায়েদ গাড়ির ভারা মিটিয়ে দিয়ে দরজার কাছে আসতেই দেখে শুণ্র আর আরু ঝগড়া করছে,,

যায়েদঃ- কি ব্যাপার তোরা ঝগড়া করছিস কেন?

আরু যায়েদ কে দেখা মাত্র ই যায়েদের কাছে চলে যায়,,

আরুঃ- দেখো না ভাইয়ু,, ওই আংকেল টা আমার সাথে সেধে সেধে ঝগড়া করছে,,

শুভ্র ঃ– তুমি আবার আমাকে আংকেল বলছো( রেগে)

যায়েদঃ- দুর বাদ দে,,চল ভেতরে চল,,বলেই যায়েদ,আরুর হাতে চকলেট আর ফুসকা দিয়ে শুভ্র কে নিয়ে ভেতরে যায়,,

— আইরাহ…..

পিছন থেকে কারো ডাক শুনে আরু পিছনে তাকায়,,
দেখে..

অভ্র অবাক চোখে আরুর দিকে তাকিয়ে আছে,,,

আরুঃ- কি অভি ভাইয়া,,

অভ্রঃ– তুমি এখানে?

আরুঃ- হ্যা,,এটা তো আমার ফুপির বাসা,,যায়েদ আমার বড় ভাই,,

অভ্রঃ- তার মানে তুমি আরু, আর যায়েদের পিচ্চি বোন,,

আরুঃ– আমি পিচ্চি না,,হুহ,,সবাই খালি পিচ্চি ডাকে,,

বলেই আরু ভেতরে চলে যায়,,

অভ্র ও কিছু একটা চিন্তা করে মুচকি হাসে,,

অতপর সেও ভেতরে যায়,,,

ড্রয়িংরুমে……..

চলবে………

[📌প্লিজ সবাই গঠন গত মন্তব্য করবেন,,, আমি এত দেরিতে গল্প দেই বলে সবাই কে একবস্তা সরি🥺🥺🤧🤧]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here