সর্বনাশীনি_তুমি #পর্ব:১৫ #Mishmi_muntaha_moon

#সর্বনাশীনি_তুমি
#পর্ব:১৫
#Mishmi_muntaha_moon

উপমার আজ ভালো লাগছে না।রাত থেকে মনে হচ্ছে জ্বর জ্বর।শরীর ব্যাথা করছে কিছুটা।সকালে উঠে খাবার খেতে ইচ্ছে করলো না।উপমা রান্নাঘরে গেলো রংচা বানাতে।গিয়ে তার মা কে দেখেলো আনমানা হয়ে পেয়াজ কাটছে।উপমা ধ্যান দিলো না। চা বানানো শেষ হতেই যাওয়ার সময় ও উপমা দেখলো কিছুই জিজ্ঞেস করছে না তাই না পেরে নিজেই বলল

‘কোথায় হারিয়ে গেছো আম্মু?’

উপমার মা উপমার দিকে তাকালো।মুচকি হেসে বলল

‘নাহ কিছুনা।’

উপমা ভ্রু কুচকালো।মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো।চিন্তিত মনে হচ্ছে। তার শরীরের ব্যপারে কথা না বলাই উত্তম।রুমে গিয়ে চা খেয়ে মোবাইল টিপতে লাগলো।
বিকেল দিকে উপমার আব্বু তার রুমে এলো।উপমা শুয়ে ছিলো তার রুমে শরীর ব্যাথা টা কমছে না কিন্তু তার আব্বুকে দেখে উঠে বসলো

‘শরীর খারাপ লাগছে?’

‘নাহ।তুমি বলো?’

‘তোমার জন্য কিছু এনেছি দেখবে না?’

উপমা মুখে হাসি ফোটালো।কৌতুহল নিয়ে বলল

‘অবশ্যই ফেখবো দেখাও।’

উপমার বাবা একটা বক্স থেকে সোনার চেইন বের করে গোলায় পড়িয়ে দিলো।উপমা ভ্রু কুচকালো। মুখে হাসির রেখা টেনে রেখেই বলল

‘সোনার চেইন আমার জন্য।কি দরকার ছিলো আমার ভালো লাগে না সোনার জিনিস পড়তে।’

উপমার বাবা হাসলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল

‘মেয়েদের পড়তে হয়। ‘

বলে আরও কিছু কথা বলে চলে গেলো।আবার মাথা এলাতে নিবে তখন সেহরিশের কল দেখে উঠে বসে।জ্বলজ্বল করা নামের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রিসিভ করে কানে ধরে।

‘হ্যালো।’

‘কি করছো?’

উপমা উঠে জানালার সামনে দাড়ালো।নিচে উঁকি দিয়ে দেখে ভ্রু কুচকে বলল

‘কিছু না কেনো?’

‘তুমি কি অসুস্থ?’

‘নাহ ভাল আছি আমি।’

‘আচ্ছা তাহলে আজ রাত ৮ টায় তোমায় আমার দেয়া শাড়িতে দেখতে চাই।নিচে তোমার জন্য ওয়েট করবো।’

কল কেটে গেলো।সেহরিশের কথা শুনে উপমার মাথাব্যথা শুরু হলো।ভাবতে লাগলো’বলে কি সেহরিশ শাড়িতে দেখতে চায় তাও আবার সকাল না বিকাল না রাত ৮টা বাজে।
উপমা মোবাইল বিছানায় ছুড়ে দিয়ে বসলো।জানালার দিকে তাকিয়ে আছে কারো পায়ের আওয়াজে দরজার পানে তাকালো।উপমার মা এসে উপমার পাশে বসলো

‘তোর নাকি শরীর অসুস্থ।কিছু বললি না তো।’

বলে কপালে হাত রাখলো উপমার।জ্বর দেখে আঁতকে উঠলো।অস্থির হয়ে বলল

‘কিরে তোর দেখছি অনেক জ্বর।বলিস নি কেনো?’

উপমা তার মার হাত কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল

‘নাহ আমি ঠিক আছি।ওইটা কিছু না।’

উপমার কথায় তার মা ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকলো।উপমা আমতা আমতা করে আবারও বলল

‘শোনো না আম্মু একটা কথা।’

ওর মা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়েই বলল

‘ঢং না করে বল।’

‘উমি না রাত ৮টায় নিচে যেতে বলেছে।এখন,,,,’

উপমার আম্মু উঠে গিয়ে যেতে যেতে বলল

‘বলেছে যখন যাবি।’

উপিমা ভ্রু কুচকালো।কেমন যেনো অদ্ভুত লাগছে তার আব্বু আম্মুকে। সন্ধ্যা হতেই গা ব্যাথা নিয়েই আলমারি থেকে শাড়ি নিলো।শাড়ি হাতরিয়ে দেখতে দেখতেই ব্লাউজ এর কথা মনে পড়লো।কাপড় দেয়া আছে শাড়ির মতো ডিজাইনের কিন্তু এখন তো বানিয়ে নেয়া সম্ভব না।আলমারি ঘেটে আবারও লাল রঙের একটা ব্লাউজ বের করলো ফুল হাতার।ব্লাউজ পেটিকোট পড়ে শাড়ি পড়তে গেলো তার মার রুমে।তার আব্বু নেই বাড়িতে। উপমার মা উপমাকে শড়ি পড়িয়ে দিলো।শাড়ি পড়ানো শেষ করে হাসিমুখে উপর থেকে নিচ পরোখ করলো।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল

‘মাশাআল্লাহ।খুব সুন্দর লাগছে তো শাড়িতে।মাঝে মধ্যে তো পড়তে পারিস।আর এই শাড়িটা কোথা থেকে পেলি?’

উপমা এক ভ্রু উচিয়ে শাড়ি দেখলো।আচল আঙুলে পেচাতে পেচাতে অস্বস্তি নিয়ে বলল

‘উনি দিয়েছিলো আরকি কিছুদিন আগেই।’

উপমার মা কিছু বলল না।তাড়া দিয়ে বলল

‘যা দেরি হয়ে যাচ্ছে সাড়ে ৭টা বেজে গেছে।ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে তো।`

উপমা ঝুলানো ঘড়িতে দেখলো সত্যি সাড়ে ৭ টা বেজে গেছে।তারাতারি শাড়ি যেমন তেমন ভাবে সামলে নিয়ে সিড়ি দিয়ে নেমে নিচে গেলো। নিচে নামতেই দেখে সেহরিশ দাঁড়িয়ে আছে অলরেডি। মাথা নিচু করে সেহরিশের সামনে বাড়লো।অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও সেহরিশের কোনো শব্দ না পেয়ে মাথা উচিয়ে সেহরিশের দিকে তাকালো।নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঠোঁটের কোনে লেগে আছে একফালি হাসি।
উপমা কিছুটা লজ্জা পেলো।তাড়া দিয়ে বলল

‘আপনি আমায় শাড়ি পড়ে আসতে বললেন কেনো কতো ইমবেরেসমেন্ট এ পড়তে হয়েছে।কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন।’

সেহরিশ হাসলো।উপমার হাত ধরে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে গালে ঠোঁট ছুয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল

‘এতো তাড়া কিসের।তোমায় কিডন্যাপ করছি কাজি অফিসে নিয়ে যাবো। ‘

বলে গাড়িতে বসলো উপমার বুক ধক করে উঠলো।কি বলল কাজি অফিসে নিয়ে যাবে।উপমা ভয় নিয়েই বলল

‘কি বললেন কাজি অফিসে কেনো মজা করছেন নাকি?’

সেহরিশ গাড়ি চালাতে চালাতেই বলল

‘ মজা কেনো করবো আর কাজি অফিসে কেনো যায় বলো দেখি?’

উপমা ঘাবড়ালো।চোখের পলক বার কয়েক ফেলে বলল

‘বিয়ে কিন্তু কাদের আমাদের। না দেখুন আমি আমার আব্বু আম্মুকে ছাড়া কিছু করতে পারবো না।উনাদের ছাড়া আমি কক্ষনো আপনাকে বিয়ে করবো না।আপনি পাগল হয়ে গেলেন নাকি।’

সেহরিশ কিছু বলল না।উপমা মনে শান্তি পাচ্ছে না।কিছু বলছে না কেনো সেহরিশ। এই ভাবনাই মনে ঘুরছে।

‘আপনি কিছু বলছেন না কেনো সেহরিশ।’

সেহরিশের কোনো ভাবাবেগ না দেখে ঢোক গিললো।মাথায় শুধু তার বাবা মার খেয়াল ঘুরছে।কতো বিশ্বাস করে আদর করে তাদের সাথে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই করবে না।আর সেহরিশই কেনো হঠাৎ বিয়ে কিরার কথা বলছে অস্থির হয়ে বলল

‘সেহরিশ গাড়ি থামান।আমি যাবো না।আমাকে বাড়ি পৌছে দিন।সেহরিশ আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন না।’

বলতে বলতে উপমার দম ফুরালো।বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিতে লাগলো।উপমার অবস্থা দেখে সেহরিশ গাড়ি থামালো।উপমাকে দুই হাত দিয়ে আগলে ধরে বলল

‘কাম ডাউন উপমা।টেক আ ডিপ ব্রিথ।তোমার আব্বু আম্মুকে ছাড়া আমিও তোমাকে বিয়ে করবো না।এতো অস্থির হচ্ছো কেনো।’

সেহরিশের কথায় উপমা টলমল চোখে জোরে জোরে শ্বাস নিলো।সেহরিশ উপমার দুই গাল নিজের দুই হাতে আগলে নিয়ে বলল

‘উপমা তোমার দেখছি আমার প্রতি একটুও বিশ্বাস নেই। ‘

উপমা চুপ হলো।সেহরিশ কিছু না বলে আবারও গাড়ি স্টার্ট দিলো।উপমা কিছু বলতে চেয়েও বলল না কিছু কিন্তু কি হতে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না মনে প্রশ্নরা সব উঁকি দিচ্ছে।

__

কাজি অফিসের সামনে গাড়ি থামতেই উপমার শরীর শিরশির করে উঠলো।বুক ধরফর করছে।শরীরে ব্যাথা যেনো ভুলেই গেলো।কাজি অফিসের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার মাঝেই সেহরিশ এসে উপমার হাত মুঠোয় নিলো।মুচকি হাসলো সেহরিশ উপমার দিকে তাকিয়ে।উপমা কিছু বলল না সেহরিশের হাত ধরে ভিতরে গেলো।

ভিতরে গিয়ে হতভম্ব। সেহরিশের মা উপমার বাবা, মা সাইডের চেয়ারে বসে আছে।উপমার পা যেনো বরফ হয়ে গেলো।কি হচ্ছে? তার বিয়ে কিন্তু সে তো কিছুই জানলো না।উপমা দাঁড়িয়ে সামনে চেয়ে রইলো।জাফর সাহেব এসে উপমার মাথায় হাত বুলিয়ে হেসে বলল

‘সেহরিশকে আমি কথা দিয়েছিলাম সে যেইদিন আমার সব শর্ত মেনে নিবে তোমাকে তার হাতে তুলে দিবো।আর তোমার খুশিতে তোমার বাবা মা খুশি।’

বলে উপমাকে এগিয়ে নিয়ে গেলো।উপমার এখনো সব কিছু স্বপ্ন মনে হচ্ছে।উপমাকে চেয়ারে বসিয়ে তার বাবা তার পাশেই বসলো।
কাজি কাগজ পত্রের সব কাজ সেড়ে কবুল বলতে বললো।সেহরিশকে কবুল বলতে বললে সেহরিশ উপমার দিকে একপলক তাকিয়ে কবুল বলে দেয়।
উপমার পালা আসতেই জাফর সাহেব উপমাকে কবুল বলতে বলল
উপমাতো যেনো এখনো শকড এ আছে।কিছুক্ষন বসে থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলল

‘আব্বু আমি বিয়ে করবো না।আমি আমাদের বাড়িতে যাবো।’

উপমার সেহরিশ অবাক হলো বলে কি মেয়ে।কতো শর্ত কষ্টের পর এই দিন টাকে বাস্তবে পরিনত করছে আর উপমা বলে সে বিয়ে করবে না।সেহরিশ কিছু বলল না ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে রইলো উপমার দিকে।উপমা তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল

‘অন্য একদিন করে নিবো নে, কিন্তু আজ করবো না আমি কোনো বিয়ে।’

সেহরিশ আর চুপ থাকতে পারলো না।হতাশ হয়ে বলল

‘কিসব বলছো উপমা।কি সমস্যা? আমাকে বিয়ে করতে চাও না তুমি?’

উপমা অসহায় চোখে সেহরিশের দিকে তাকালো।মনে মনে ভাবলো আগে বললেই পারতো প্রস্তুত তো হয়ে নিতো।কিন্তু এভাবে হঠাৎ মেনে নিতে পারছে না যেনো।মৃদু কন্ঠে বলল

‘কখন বললাম আমি।’

উপমার দিকে তাকিয়ে জাফর সাহেব শক্ত কন্ঠে বলল

‘সেহরিশ আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে বলে দিলাম ওর সাথে নরম গলায় কথা বলবে।’

সেহরিশ হতাশার নিশ্বাস ফেললো।একে তো মেয়ে কবুল বলছে না তার উপর বাবা।উপমা ঠোঁট উল্টিয়ে তার বাবার দিকে তাকালো।মাথা কিছুক্ষন নিচু করে মৃদু কন্ঠে কবুল বলল।সেহরিশ কাছে থেকে শুনতে পেয়ে বলল

‘কবুল বলেছে শুনেছেন না। হয়ে গেছে বিয়ে তাইতো?’

কাজি মাথা নাড়ালো।বিয়ে হতেই উপমার বাবা রাবেয়া বেগমের সাথে কথা বলতে লাগলো।উপমার মা এসে উপমাকে বিভিন্ন কথা বলে দিচ্ছে।উপমা ভ্রু কুচকালো মৃদু কন্ঠে বলল

‘আম্মু আমি তোমাদের সাথে যাবো না নাকি?’

উপমার মা হাসলো।ধীর কন্ঠে বলল

‘বিয়ে হয়ে গেছে এখন আমাদের সাথে যাবি কেনো?স্বামীর সাথেই যাবি’

উপমা ঠোঁট উল্টিয়ে বলল

‘কেনো এখনি কেনো।’

তখনি পাশে সেহরিশ এসে উপমার মাকে বলল

‘আন্টি আপনাকে আংকেল ডাকছে ‘

উপনার মা চলে যেতেও সেহরিশ বাকা চোখ উপমার দিকে তাকালো।উপমার মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল

‘কি হয়েছে তোমার।আমাকে বিয়ে করতে চাইছিলে না এখন আবার জেতে চাইছো না আমার সাথে।’

উপমা সেহরিশের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো।রাবেয়া বেগম সেহরিশের কাছে এলো।চিন্তার রেশ ধরে রেখে বলল

‘সেহরিশ তুই কি বলছিস।আমাদের সাথে থাকবি না তুই।আমাকেও ছেড়ে দিচ্ছিস?’

রাবেয়া বেগমের চোখের কোনে জল চিকচিক করছে।সেহরিশ তার মায়ের গাল দুই হাতে আগলে ধরলো নরম কন্ঠে বলল

‘আমি উপমাকে তোমার স্বামীর সাথে রাখতে চাইছি না। না আমি থাকতে চাইছি।সমস্যা কোথায় তুমিও চলে আসো আমাদের সাথে।’

রাবেয়া বেগম মলিন মুখেই বলল

‘উপমা নিয়ে কয়েকদিন পর পর আসবি।’

সেহরিশ হতাশ হলো কিন্তু কিছু বলল না।কথাবার্তা শেষ করে সকলে গেলো সেহরিশের সেই বাড়িতে। রাবেয়া বেগম জাফর সাহেব কে বলল যে এই বাড়িটা তার দাদা সেহরিশের নামেই লিখে রেখে গিয়েছিলো। বাড়িটা আরেকটু ছোট ছিলো সেহরিশ তা সুন্দর ভাবে তৈরি করে ডেকোরেট করেছে আর এই ফুলের বাগান।উপমার বাবা মা রাবেয়া বেগম কিছুক্ষন থেকে সব দেখে ১০ টার দিকে চলে গেলো।
পুরো বাড়ি যেনো নিশ্চুপ হয়ে গেলো গেলো।এক রুমে উপমা বসে আছে। কোনো ফুলের ছিটেফোঁটাও নেই।সেহরিশ উপমার বাবা মা আর তার মাকে কিছুটা দিয়ে আসতে গিয়েছে।উপমা তার পরিহিত শাড়ির দিকে তাকালো এইজন্যই হয়তো সেইদিন বলেছিলো এই শাড়িতে সেহরিশ উপমাকে নিজের করে দেখতে চায়।
উপমার বিশ্বাস হচ্ছে না তার বিয়ে হয়ে গেলো তাও আবার সেহরিশের সাথে। এই বাড়িটা কেমন যেনো অপরিচিত লাগছে নিজস্ব মনে হচ্ছে না।কিন্তু এইটা তো তার আর সেহরিশের ছোট সংসার।তাদের ভবিষ্যৎ।

চলবে,,,
ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই। বিয়ে বিয়ে বিয়ে দিয়ে দিলাম তাদের বিয়ে।🙂🙂)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here