শূন্যতা,১ম পর্ব

শূন্যতা,১ম পর্ব
লেখা:- Rafsan Sydul

মাত্র ছয়মাস মায়ের গর্ভাবস্থায় থেকে মেয়েটার জন্ম হয়। অদ্ভুত হলেও মেয়েটার সবকিছু স্বাভাবিক ই হয়। চোখ দুটো নীল আর ঠোঁটের কোণে একটা লাল তিল হয় মেয়েটার, সবাই আনন্দিত শুধু মেয়েটার বাবার মন আতংকিত হয়ে আছে, দাদু নবজাতক শিশুটাকে কোলে নিয়ে বললো “আমার হারানো দুই নাতির মতই হয়েছে আমার এই নাতনী, ওর মাঝে ওরা দুজন ফিরে এসেছে আমার পরিবারে” জনাব মাহিম এবং তার স্ত্রী মিসেস মাহিম দুজনার চোখে ভয়ের ছাপ সৃষ্টি হয়। সবার চোখের আড়ালে। ডাক্তাররা যারাই অপারেশন করেছে তারা সবাই অবাক হয়ে ছিল ছয়মাসে একটা শিশু সম্পূর্ণ কীভাবে তার মায়ের শরীরে বেড়ে উঠতে পারে.? অপারেশন এর পরেও সে সম্পূর্ণ সুস্থ, অবাক করা বিষয়। তারা সবার অন্তরালে শিশুটির ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে নেয়। যেটা একটা নবজাতক শিশুর থেকে নেওয়া বেআইনি। এক সপ্তাহ হাসপাতাল এ থাকার পরে মা সহ শিশুটিকে বাসায় নিয়ে আসে তার পরিবার। সবার মুখে হাসি ফুটে আছে, মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে পুরো গ্রামে। কারন তার ঘরের প্রদীপ এসেছে। জনাব মাহিম এর পূর্বপুরুষ থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে মেয়েরা তার বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। মেয়েদের বংশের প্রদীপ মনে করেন তারা। চার পুত্রসন্তানের পরে যখন কোনো কন্যাসন্তান আসলো না মাহিম এর বংশে তখন সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আর মিসেস মাহিম অসুস্থ হয়ে যায়। ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী মিসেস মাহিম আর কখনো মা হতে পারবে না।

মাহিম সাহেব মানুষিক ভাবে ভেঙে পরেন, তার বংশের প্রদীপ কন্যাসন্তানদের মানা হয়, এখন তার বংশের কি হবে তাই ভেবেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে শুধু তারা স্বামী স্ত্রী দুজন ই জানেন আর কেউ জানেনা এ ব্যাপার এ। দুজন যখন একটু সুস্থ তখন তারা বাসায় ফিরছিল গভীর রাত তখন, শহরের ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে হাটছিল। হঠাৎ ই কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে যায় পুরো আকাশ, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে চারদিকে, রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট গুলোর আলো আস্তে আস্তে নিভে গেলে ঠাণ্ডা শিহরণ বয়ে গেলো তাদের শরীরে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আছে, চোখের পলকেই তাদের সামনে এক অর্ধ শরীর বিশিষ্ট একটা অর্ধমানব তাদের সামনে অবতরণ করে। মাহিম এবং তার স্ত্রী এমন অবস্থা দেখে থিটকে পিছনে পড়ে যায়। পিছ ঢালা রাস্তায় পড়ে মহিম এর হাত কেটে চিনচিন করে রক্ত বের হচ্ছে, ভয়ে থরথর করে কাপছে দুজনেই, জনশূন্য রাস্তায় তারা দুজন, তখন বীভৎস অর্ধমানবটি ওদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো
“তোদের ভয় পাওয়ার কোনো কারন নেই। তোদের ক্ষতি নয় বরং উপকার করতে এসেছি আমি। আমি জানি তোদের বংশ ধংশের পথে।”
গড়গড় কণ্ঠে কথা টুকু বললো বীভৎস মানুষটি, আসলে সে মানুষ ছিলনা, ছিল “সয়তান”

তারা দুজন ভয় এবং উত্তেজনা হয়ে আছে এমন একটা মানুষ অচেনা অজানা শহরে তাদের পারিবারিক কথা কীভাবে জানলো.?
মাহিম সাহেব একটু শক্ত হয়ে নরম কণ্ঠে বললে,
“কে আপনি.?”
অদ্ভুত অর্ধমানব টি মাহিম সাহেব এর দিকে এগুতে এগুতে বললো
“আমি… এক অপরিচিত, যার সাহায্য দরকার তার কাছে হাজির হই, সাহায্য করি বিনিময়ে আমাকে খুসি করতে তাদের প্রিয় দুটো জিনিশ বলি দিতে হয়, আমি চাইলে তোদের ও সাহায্য করতে পারি কিন্তু তোদের অনেক বড় ত্যাগ করতে হবে”
কথা গুলোয় ছিটে ফোটা বিশ্বাস হয়নি মাহিম সাহেবের, কিন্তু সয়তান তার কার্য হাসিলের জন্য তাদের সয়তানের উপর বিশ্বাস আনার জন্য মাহিমের কাটা হাত মুহূর্তে ঠিক করে দেয়, চমৎকার হয়ে যাওয়ার মত তারাও অবাক হয়ে সয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যায়। বিশ্বাস করতে শুরু করে সয়তানকে।
নিরূপায় হয়ে মহিম সাহেব সয়তানের কাছে কন্যা সন্তান পাওয়ার ইচ্ছে মঞ্জুর করে। সয়তান তার সর্ত অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে দুটো পুত্র সন্তানের বলি দান করতে বলে।
একটা কন্যাসন্তান এর আসায় তারা অন্ধ হয়ে দুটো পুত্রসন্তানকে বলি দান করে সয়তান এর উদ্দেশ্যে। বলি দানের সময় পুত্র সন্তান দুটোর চোখের জ্বলের একটুও মূল্য দিল না পাষাণ হৃদয় তাদের।

তার তিনমাস পরে জানতে পারলো মিসেস মাহিম মা হতে চলেছে, খুসিতে আত্মহারা তারা, সেই খুসিতে গ্রামের বাসায় চলে আসে, আর সবাইকে এটা বুঝায় যে তাদের দুটি সন্তান হারিয়ে গেছে, মিথ্যে চোখের জ্বল ভাসায়। সহজেই বিশ্বাস করে সবাই। কারন একজন মায়ের চোখের জ্বল মিথ্যে বলেনা কখনো। তাই, তারপর জন্ম হলো অদ্ভুত এক কন্যার।
বাসায় নিয়ে এসে তার ভীষণ যত্ন করা হয়। তা দেখে ভাই দুটোর মনে হিংসে জন্মে, কেনো জানি তাদের মনে হয় এর জন্য তারা তার আগের দুটো ভাইকে হারিয়েছে।

সপ্তাহব্যাপী পারিবারিক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। এর মাঝে মেয়ের শারীরিক গঠন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, দু ইঞ্চি চুল সম্পূর্ণ সাদা বর্ণের হয়েছে, মাঝ রাতে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের মত কান্নার শব্দ ও শুনতে পাওয়া যায়, মাহিম আর তার স্ত্রী ভীষণ ভয় পাচ্ছে, যত দিন যাচ্ছে ততো ভয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি হচ্ছে।
অন্যদিকে ডাক্তাররা নবজাতক শিশুটির ডিএনএ টেস্ট করে কোনো রেজাল্ট পাচ্ছে না,
তারা যে ডিএনএ পাচ্ছে সেটা তার পরিবারের কোনো মানুষের সাথে ম্যাচিং হচ্ছে না।

বরং সেটা কোনো মানুষের ডিএনএ ই না…..

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here