মেঘ_বসন্তের_মায়া💛,পর্বঃ১০,১১

#মেঘ_বসন্তের_মায়া💛,পর্বঃ১০,১১
#লেখিকা:#তানজিল_মীম💛
— পর্বঃ১০

কিছুটা অস্থিরতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ। তার কাছেই তিথি তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে চলেছে। তিথির কথাগুলো শুনে আকাশেরও খারাপ লাগছে,এই প্রথম বার তিথি আকাশকে জড়িয়ে ধরেছে এক অস্থিরতা এসে গ্রাস করলো আকাশকে কেমন যেন ফ্রিজড হয়ে গেছে আকাশ। আকাশ আস্তে তার হাতটা নিয়ে আসলো তিথির মাথার কাছে তারপর তিথির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল সে,

‘ কুুল ডাউন তিথি কিছু হবে না তোমার মায়ের একদম ঠিক হয়ে যাবে দেখো।’

কিন্তু কে শুনে কার কথা তিথির আকাশকে আরেকটু শক্তকরে জড়িয়ে ধরে কান্না ভেজা কন্ঠ নিয়েই বললো,

‘ আপনি সত্যি বলছেন তো?’

‘ হুম দেখবে আর কিছুক্ষনের মধ্যেই সুসংবাদ পেয়ে যাবো।’

আকাশের কথা শুনে তিথি তার মাথাটা উঁচু করে কান্না ভেজা চোখ নিয়েই তাকালো আকাশের দিকে। তিথিকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে আকাশ নিজেও তিথির দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় বললো,

‘ সব ঠিক হয়ে যাবে।’

আকাশের চোখের চাহনী বুঝতে পেরে তিথি কিছু বললো না আস্তে আস্তে নিজেকে শান্ত করতে লাগলো সে। হঠাৎই তিথির হুস আসলো ইমোশনাল হয়ে কি করে বসেছে সে। তিথি এপাশ ওপাশ তাকিয়ে চটজলদি নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসলো আকাশের থেকে তারপর মাথা নিচু করে বললো,

‘ আই এক্সট্রিমলি…

তিথি আর কিছু বলার আগেই আকাশ বলে উঠল,

‘ ইট’স ওকে।’

এমন সময় সেখানে দৌড়ে আসলো সাথী। কিছুটা হতভম্ব কন্ঠ নিয়ে বললো সে,

‘ আপু অপারেশন শেষ হয়ে গেছে চলো তাড়াতাড়ি?’

সাথীর কথা শুনে আকাশ তিথি কেউ আর দু’মিনিট দেরি না করে চললো ভিতরে।

___

অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ, তিথি, সাথী সাথে ওদের মামা মামি। সবার মুখের চিন্তার ছাপ কারন অপারেশন শেষ হয়ে গেলেও কেউ অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হচ্ছে না। এতে যেন সবারই টেনশন হচ্ছে খুব। আকাশও বুঝতে পারছে না হৃদ এখনও বের হচ্ছে না কেন?’ এরই মাঝে ভাবতে না ভাবতেই সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হলো হৃদ। আর ওর পিছনে আরো দু’জন ডাক্তার। আকাশ, তিথি দুজনেই এগিয়ে গেল ডাক্তাদের দিকে। ওদের এগোতে দেখেই একজন ডাক্তার বলে উঠল,

‘ ডোন্ট ওয়ারি পেসেন্ট ইস অলরাইট।’

ডাক্তারের কথা শুনে সবার মুখেই যেন হাসির জ্বলক ফুটে উঠলো। তিথি খুশি হয়ে বললো,

‘ থ্যাংক ইউ সো মাচ ডক্টর।’

উওরে তেমন কিছু না বলে দুজন ডাক্তারই মুচকি হেঁসে চলে গেল। ওরা যেতেই তিথি এগিয়ে গেল হৃদের দিকে তারপর খুশি মনে বললো,

‘ থ্যাংক ইউ সো মাচ ভাইয়া।’

‘ ইট’স ওকে তবে হ্যাঁ ওনাকে কিন্তু এখনই বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে না কয়েকদিন এই হসপিটালের রাখতে হবে।’

‘ ওকে ভাইয়া,আমরা কি একবার মায়ের সাথে দেখা করতে পারি ভাইয়া?’

‘ না তিথি, আজ রাতে উনি আইসিইউতেই থাকবে তাই আপাতত দেখা করা পসিবল নয় কিন্তু কাল সকালে বেডে শিফট করার পর দেখা করে নিও।’

‘ ওকে ভাইয়া।’

‘ হুম।’

এতটুকু বলে এগিয়ে গেল হৃদ। সামনেই আকাশের দিকে তাকিয়ে হাল্কা হাসলো সে তারপর বললো,

‘ ডোন্ট ওয়ারি,এভরিথিং ইস অলরাইট।’

‘ থ্যাংক ইউ দোস্ত।’

উওরে কিছু না বলে হাল্কা হেঁসে এগিয়ে গেল হৃদ। চেঞ্জ করতে হবে তাঁকে। হঠাৎই সাথীর দিকে তাকিয়ে বললো হৃদ,

‘ আর কাঁদতে হবে না মিস,কাঁদতে কাঁদতে তো চোখ মুখ পুরো ফুলিয়ে ফেলেছো,তোমার মা একদম ঠিক আছে বুঝতে পেরেছো?’

ডাক্তারের কথা শুনে সাথী তার চোখ মুখ মুছে বললো,

‘ থ্যাংক ইউ।’

‘ ইট’স ওকে।’

বলেই চলে যায় হৃদ। হৃদ যেতেই তিথি তার মামা মামি আর সাথীকে উদ্দেশ্য করে বললো,

‘ তোমরা এবার বাড়ি যাও আজ রাতে আমি আছি মায়ের কাছে আর তোমাদের সাথে সাথীকেও নিয়ে যাও সেই সকাল থেকে মায়ের টেনশনে কিছু খায় নি পারলে কিছু খাইয়ে দিও।’

তিথির কথা শুনে সাথী বলে উঠল,

‘ না! আমি এখন কোথাও যাবো না আগে মায়ের সাথে কথা বলবো তারপর..

‘ বোকার মত কথা বলিস না ডাক্তার কি বললো শুনিস নি কালকে সকালের আগে মায়ের সাথে দেখা করা যাবে না।’

‘ আপু?’

‘ আমার কথাটা শোন বোন। এখন বাড়ি যা কিছু একটা খেয়ে ঘুমা কাল সকালে সেজেগুজে আসিস তোকে কিন্তু এই রকম পাগলের মতো একদম ভালো লাগছে না।’

‘ কিন্তু আপু?’

‘ আবার কিন্তু কিসের?’

উওরে কিছু বললো না সাথী মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে রইলো সে। সাথীকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিথি হাল্কা শ্বাস ফেলে সাথীর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,

‘ প্লিজ বোন আমার কথাটা শোন। আচ্ছা ঠিক আছে তুই না হয় কাল রাতে থাকিস মায়ের কাছে আজ রাতটা আমি থাকি। আর এমনিতেও কাল থেকে মায়ের দেখা শোনা তো তোকেই করতে হবে। তাই বলছি আজকে বাড়ি যা,,

‘ ঠিক আছে।’

সাথীর কথা শুনে খুশি হয়ে যায় তিথি। তারপর খুশি মনেই বলে সে,

‘ এই তো আমার মিষ্টি বোন।’

এতটুকু বলে এগিয়ে যায় তিথি তার মামা মামির দিকে তারপর বলে,

‘ যাও মামা মামি কাল সকালে এসো। সেই কখন গ্রাম থেকে এসেছো তোমরা এখন একটু বাড়ি গিয়ে রেস্ট নেও।’

তিথির কথা শুনে তিথির মামা বলে উঠল,

‘ কিন্তু তুই পারবি একা।’

‘ আমি একা কই উনি তো আছে আমার সাথে (আকাশকে দেখিয়ে)

তিথির কথা শুনে আকাশও বলে উঠল,

‘ হুম কোনো চিন্তা করবেন না আজ রাতটা আমি আর তিথিই ম্যানেজ করে নিবো আপনারা বাড়ি গিয়ে রেস্ট করুন।’

আকাশের কথা শুনে তিথির মামা মামি দু-জনেই খুশি হয়ে যায়। তারপর বলে,

‘ তুমি থাকলে আর আমাদের চিন্তা কিসের?’

উওরে মুচকি হাসে আকাশ।’

___

আইসিইউর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিথি। সামনেই কাঁচের ভেতর থেকে হাল্কা হাল্কা দেখা যাচ্ছে তিথির মাকে। তিথি সেদিকেই তাকিয়ে আছে মাকে এভাবে দেখে কষ্ট লাগলো তিথির। ছোট্ট দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তিথি। এমন সময় ওর কাঁধে হাত রাখলো আকাশ। কারো হাতের স্পর্শ পেতেই পিছন ঘুরে তাকালো তিথি সামনেই আকাশকে দেখে বলে উঠল,

‘ ওহ স্যার আপনি?’

এতটুকু বলে নিজের চোখের পানি মুছে নিলো তিথি। তারপর বললো,

‘ আপনি এখনও বাড়ি যান নি স্যার? আপনি বাড়ি স্যার আসলে তখন আপনার কথা না বললে কিছুতেই মামা মামি যেতে চাইতো না তাই আর কি?’

‘ ইট’স ওকে আর ডোন্ট ওয়ারি আজ রাতে আমিও থাকবো তোমার সাথে তোমার কাছে।’

‘ কিন্তু স্যার? বাড়িতে গ্র্যান্ডমা একা আছে তো?’

‘ সেটায় সমস্যা হবে না জসিম ওরা তো আছে গ্র্যান্ডমার কাছে কিছুক্ষন আগেই গ্র্যান্ডমার সাথে কথা হয়েছে আমার আর গ্র্যান্ডমাই বললো আজ রাতে তোমার সাথে এখানে থাকতে আর তুমি তো জানো আমি গ্র্যান্ডমার কথা কতটা মানি তাই, বুঝতে পেরেছো আশা করি?’ এখন বলো কি খাবে নাকি সারারাত এভাবে না খাইয়েই কাটিয়ে দিবে।’

‘ না মানে?’

‘ চলো বাহিরে কিছু খেয়ে নিবে?’

‘ কিন্তু এখানে মা একা?’

‘ তার ব্যবস্থাও আমি করে দিবো চলো আমার সাথে।’

বলেই হাঁটতে শুরু করলো আকাশ। আকাশকে যেতে দেখে তিথিও বেশি কিছু না ভেবে এগিয়ে গেল আকাশের পিছন।’

আকাশ দুজন নার্সকে তিথির মায়ের দেখাশোনা করার জন্য বলে চললো তিথিকে নিয়ে বাহিরে।

_____

হসপিটালের কাছাকাছিই ছোটখাটো একটা রেস্টুরেন্টে টেবিলের সামনে বসে আছে আকাশ তিথি। আশেপাশে তেমন কেউ নেই বললেই চলে রাত প্রায় একটার কাছাকাছি এত রাতে রেস্টুরেন্ট খোলা পেয়েছে এটা তিথিদের ভাগ্য তবে খাওয়ার জন্য বেশি কিছু না মিললেও অল্প স্বল্প কিছু খাবার পেয়েছে তাঁরা আর সেটা দিয়েই আপাতত কাজ চালাচ্ছে আকাশ তিথি। হঠাৎই আকাশ নিজের খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে চুপচাপ তাকিয়ে রইল তিথির মুখের দিকে। আকাশকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে বললো তিথি,

‘ কি হলো স্যার চুপচাপ বসে আছেন যে,

তিথির কথা শুনে হাল্কা চমকে উঠলো আকাশ তারপর কিছুটা হতভম্ব হয়ে বললো,

‘ হ্যাঁ, না তেমন কিছু নয়।’

এতটুকু বলে আবারো খাওয়ায় মনোযোগ দিলো ওরা। কিছুক্ষন পর রেস্টুরেন্টের বিল মিটিয়ে সাথে সাথে রেস্টুরেন্টের কতৃপক্ষকে একটা ধন্যবাদ জানিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয় আকাশ তিথি।’

পাশাপাশি ফুটপাতের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলছে আকাশ তিথি। চারপাশ একদম নিরিবিলি আর নির্জন। চারপাশ দিয়ে হাল্কা ঠান্ডা বাতাস বইছে,নির্জন রাতের নির্জন রাস্তা পেরিয়ে এগিয়ে চলছে আকাশ তিথি কারোই মুখেই কোনো কথা নেই। উপরেই তাদের সাথে সাথে চলছে মস্ত বড় চাঁদমামা, বিষয়টা তিথির কাছে বেশ লাগছে এভাবে এতটা রাতে কখনো রাস্তায় হাঁটা হয় নি তাঁর, আজ যেন এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে তার ভিতর। এমনই এক ভালো লাগা নিয়েই এগিয়ে চলছে আকাশ তিথি হসপিটালের দিকে….
!
!
!
#চলবে…..

#মেঘ_বসন্তের_মায়া💛
#লেখিকা:#তানজিল_মীম💛
— পর্বঃ১১

সকালের ফুড়ফুড়ে আলোতে ভরে গেছে চারপাশ। আর সকালের এই ফুড়ফুড়ে আলোর মাঝখানে আইসিইউর বাহিরে থাকা চেয়ারে পাশাপাশি দুজনের কাঁধে দুজন মাথা দিয়ে বেঘোরে ঘুমিয়ে আছে আকাশ তিথি। কাল রাতেই পাশাপাশি চেয়ারে বসে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেই পারে নি। হঠাৎই মুখে হাল্কা রোদ্দুর এসে পড়াতে ঘুম ভাঙলো আকাশের। চোখ খুলে আশেপাশে তাকিয়ে নিজের হাতে থাকা ঘড়িটা দেখলো একবার সে। সবেমাত্র সকাল সাড়ে সাতটা বাজে। এরই মধ্যে হঠাৎই চোখ যায় আকাশের তিথির মুখের দিকে। তার কাঁধে মাথা দিয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে তিথি। কিছুটা অগোছালো আর ফ্যাকাসে লাগছে তিথিকে,চোখের সামনে হাল্কা কিছু চুল পড়ে আছে তিথির। আকাশ কিছুক্ষন তিথির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে মুচকি হেঁসে হাত দিয়ে ওর চোখের সামনে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিলো। এক অদ্ভুত ভালো লাগা এসে গ্রাস করলো আকাশকে।

কারো হাতের স্পর্শ পেতেই হাল্কা নড়েচড়ে উঠলো তিথি। তিথিকে নড়তে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে যায় আকাশ। ঘাবড়ানো মুখ নিয়ে তাকিয়ে রয় সে তিথির দিকে। অন্যদিকে তিথি একটু নড়ে আকাশের হাত ঝাপটে জড়িয়ে ধরে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। তিথিকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো আকাশ। পরক্ষণেই কিছু একটা ভেবে মুচকি হাসলো সে।

___

সকাল_৯ঃ০০টা…

আইসিইউর বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ, তিথি,সাথী সাথে তিথির মামা মামি। কিছুক্ষন আগেই এসেছে তাঁরা। এখানে দাঁড়ানোর একমাত্র কারন হলো আর কিছুক্ষনের মধ্যেই তিথির মাকে কেভিনে শিফট করা হবে। কতক্ষণ আগেই তিথির মায়ের জ্ঞান ফিরেছে। মায়ের জ্ঞান ফিরেছে কথাটা শুনে যেন তিথি সাথীর মনটা উতলা হয়ে আছে বেশি কখন মায়ের সাথে কথা বলবে এর জন্য। বলতে না বলতেই দুজন নার্স তিথির মাকে কেভিন থেকে বের করে করলো। ওদের সাথে সাথে হৃদও বের হয় আইসিইউ থেকে। মাকে যেতে দেখে সাথী তিথিও চললো নার্সদের পিছন পিছন। আর ওদের সাথে আকাশ,মামা মামি সাথে হৃদ।

কেভিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। আর ভিতরে হৃদ দেখছে তিথির মাকে। তিথিকে মাকে ঠিক ভাবে শুয়ে দিয়ে সাথে হাতে স্যালাইন লাগিয়ে দিয়ে আস্তে বের হলো সে। তারপর আকাশ তিথি সহ সবাইকে উদ্দেশ্য করেই তিথির দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ এখন তোমরা ভিতরে যেতে পারো তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবে বেশি চেচামেচি করা যাবে না কিন্তু আর পেসেন্টকে বেশি কথা বলতে দিবে না,বেশি কথা বললে মাথায় চাপ পড়বে এতে পেসেন্টের মাথা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সবেমাত্র অপারেশন হলো তাই তবে কিছুদিন গেলেই সবটা ঠিক হয়ে যাবে।

হৃদের কথা শুনে তিথিও বলে উঠল,

‘ ঠিক আছে ভাইয়া।’

‘ ওকে আর শোনো আপাতত পেসেন্টকে কোনো খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই দুপুরে খাবার দেওয়া যাবে আর একটা কথা আপাতত নরম খাবারই ওনার জন্য বরাদ্দ এই জিনিসটা মাথায় রাখবে। এখন তবে তোমরা যাও ভিতরে কোনো প্রবলেম হলে আমায় ডেকো।’

হৃদের কথা শুনে সাথী বললো,

‘ ওকে ডক্টর।’

সাথীর ভয়েস শুনে এক পলক তাকালো হৃদ সাথীর দিকে। তারপর আর বেশি কিছু না বলে চলে যায় সে।’

হৃদ যেতেই সবাই ঢুকলো কেভিনের ভিতর।’

____

হসপিটাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করছে আকাশ। পাশেই চুপচাপ বসে আছে তিথি। কিছুক্ষন আগেই মায়ের সাথে অল্প স্বল্প কথা বলে হসপিটাল থেকে বেরিয়েছে তাঁরা। অবশ্য তিথি আসতে চায় নি কিন্তু মামা মামি আর সাথীর জোরাজোরিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই আসতে হয়েছে তাঁকে। চুপচাপ গাড়ির জানালার দিকে মুখ করে বসে আছে তিথি এখন একটু ভালো লাগছে তাঁর সময়টা তখন প্রায় দুপুর এগারোটার কাছাকাছি বাহিরে রোদ্দুরেরা ভিড় করেছে খুব। সাথে হাল্কা বাতাস তো আছেই। সচরাচর খুব একটা বড় প্রাইভেট গাড়িতে ওঠা হয়নি তিথির। কখনো উঠতে পারবে এটাও ভাবে নি সে। কিন্তু ভাবতেই কেমন লাগছে তিথির। নানান কল্পনা জল্পনা ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তিথি। আর আকাশ সে দু’ একবার ইচ্ছে হলে তিথির দিকে তাকায় আর নয় সামনে তাকিয়েই ড্রাইভ করছে সে। এখান থেকে বাড়ি গিয়েই সোজা তাকে অফিসে যেতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চলছে সে।’

কিছুক্ষনের মধ্যেই তাঁরা পৌঁছে গেল তাদের বাড়িতে। আকাশ পৌঁছেই চলে যায় তার রুমের দিকে আর তিথি সে চলে যায় গ্র্যান্ডমার রুমের দিকে।’

বিছানায় শুয়ে আছে গ্র্যান্ডমা শরীরটা হাল্কা খারাপ লাগছে তাঁর। এমন সময় তার রুমে ঢুকলো তিথি ভিতরে ঢুকেই বললো সে,

‘ গ্র্যান্ডমা।’

আচমকা তিথির ভয়েস শুনেই শোয়া থেকে উঠে বসলো গ্র্যান্ডমা। গ্র্যান্ডমাকে বসতে দেখে তিথি খুশি মনে এসে বসলো গ্র্যান্ডমার পাশ দিয়ে তারপর বললো,

‘ কি করছো গ্র্যান্ডমা?’

‘ কিছুই না তোমার মা ঠিক আছে তো তিথি?’

‘ জ্বী গ্র্যান্ডমা! আল্লাহ রহমতে মা এখন পুরোপুরি না হলেও মোটামুটি সুস্থ তবে ডাক্তার বলেছে খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে।’

‘ আলহামদুলিল্লাহ।’

উওরে মুচকি হাসলো তিথি। তারপর বললো,

‘ ব্রেকফাস্ট করেছিলে সকালে?’

‘ হুম।’

‘ খুব ভালো।’

এরপর কিছুক্ষন গ্র্যান্ডমার সাথে কাটিয়ে হঠাৎই বলে তিথি,

‘ আচ্ছা গ্র্যান্ডমা তুমি বসো আমি এক্ষুনি ফ্রেশ হয়ে আসি।’

‘ ঠিক আছে।’

উওরে তিথি আর কিছু না বলে চললো বাহিরে।’

এরই মাঝে কোট,প্যান্ট,কালো শার্ট আর টাই পড়ে গ্র্যান্ডমার রুমে ঢুকলো আকাশ হয়তো অফিস যাবে সে। তিথি অল্প কিছুক্ষন আকাশের দিকে তাকিয়ে বেশি কিছু না ভেবে চলে যায় উপরে। আর আকাশ সেও তিথি যেতেই ঢুকে পড়ে ভিতরে তারপর গ্র্যান্ডমার সাথে কিছুক্ষন কথা বলে চললো অফিসের উদ্দেশ্যে।’

____

বিকেল_৪ঃ০০টা…

মায়ের বেডের পাশে বসে বসে ঘুমিয়ে আছে সাথী। পাশেই ওর মা চুপচাপ শুয়ে আছে। কতক্ষণ আগেই মায়ের সাথে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েছে সাথী। সাথীকে ঘুমাতে দেখে সাথীর মাও আস্তে আস্তে তার ডান হাত দিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে লাগলো। তিথির চেয়ে সাথী খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে বেশি কথা বলা এটা পছন্দ করে না সাথী। আর তিথি সেও শান্ত স্বভাবের কিন্তু একটু বেশি কথা বলে এমনিতে সাথী তিথি দুজনই খুব ভালো। হাল্কা হাসে সাথীর মা সে বেশ বুঝতে পেরেছে কাল মায়ের চিন্তায় হয়তো ঘুমই হয়নি দুই মেয়ের। এমন সময় কিছুটা শব্দ করে ভিতরে ঢুকলো তিথি। কিছু একটার শব্দ কানে আসতেই সাথীর মা আস্তে মাথাটা ঘোরালো সামনেই তিথিকে হাতে ইশারায় নিজের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বললো,

‘ হুস শব্দ করিস না সাথী ঘুমাচ্ছে?’

মায়ের ইশারা বুঝতে পেরে তিথি এগিয়ে আসে সামনে। বিছানায় বোনকে ঘুমাতে দেখে বললো সে,

‘ ওকে বলেছি তোমার দেখা শোনা করতে সাথে সেবাযত্ন করতে আর ও কিনা পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে দেখাচ্ছি মজা?’

এই বলে এগিয়ে যায় তিথি সাথীর দিকে। তিথিকে এগোতে দেখে বলে তিথির মা,

‘ হইছে কিছু করতে হবে না এতক্ষণ সেবাই করছিল একটু আগেই ঘুমিয়েছে বাদ দে।’

মায়ের কথা শুনে তিথি আর কিছু করলো না চুপচাপ গিয়ে বসলো সাথীর পাশ দিয়ে।’

হঠাৎই তিথি আর মায়ের কথা বলার শব্দে সাথীর ঘুম ভেঙে যায়। সামনেই তিথিকে মায়ের সাথে কথা বলতে দেখে ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো সে,

‘ আপু তুই এসেছিস?’

‘ হুম আর তুই কি করছিস এগুলো?’

‘ আমি আবার কি করলাম?’

‘ কি করলি মানে তোকে বলেছি মায়ের দেখা শোনা করতে আর তুই কিনা পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস?’

‘ না মানে…

‘ হইছে আর কিছু বলতে হবে না তাড়াতাড়ি চোখে মুখে পানি দিয়ে আয়?’

‘ ঠিক আছে এতটুকু বলে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো সাথী। এখনো ঘুমের রেস কাটে নি তাঁর। সাথী তার চোখ ডলতে ডলতে বললো,

‘ তোমরা কথা বলো আমি এক্ষুনি আসছি?’

সাথীর কথা শুনে তিথিও বলে উঠল,

‘ হুম যা।’

উওরে সাথী আর কিছু না বলে কেভিন থেকে বেরিয়ে গেল।

___

কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটছে সাথী সাথে চোখ ডলতে ডলতে এগিয়ে যাচ্ছে সে।’

অন্যদিকে ওর থেকে কিছুটা দূরে সামনেই একটা ছোট্ট বাচ্চা হাতে ক্রিকেট খেলার ছোট্ট বল নিয়ে খেলছে। হঠাৎই ছেলেটা বলটা ছুঁয়ে মারলো সাথীর পায়ের কাছে আর সাথী সে তো অন্যমনস্ক হয়ে চলতে গিয়ে সেই বলের ওপর পা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে হোটচ খেয়ে পড়ে যেতে নেয়। সেই মুহূর্তেই একটা কেভিন থেকে বের হয় হৃদ সাথীকে পড়ে যেতে দেখে হৃদ গিয়ে ধরে বসে সাথীকে। ঘটনাটা হুট করে হয়ে যাওয়াতে সাথী হৃদ দুজনেই প্রায় চমকে উঠলো। আর সাথীর তো নিমিষেই ঘুম উড়ে গিয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায়। কি থেকে কি হলো সব যেন মাথার উপর দিয়ে গেল তাঁর….
!
!
!
#চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here