মেঘের_অন্তরালে পর্বঃ ১৩

মেঘের_অন্তরালে
পর্বঃ ১৩
লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা

ইসরা নিজেকে সামলে মুচকি হেঁসে বললো, এখন কেমন লাগছে আপনার ?

আয়মান উত্তর না দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইসরার দিকে। ইসরার অস্বস্তি লাগছে আয়মানের দৃষ্টিতে। ইসরা আবারও একই প্রশ্ন করলো।

আয়মান মৃদু আওয়াজে বললো, ভালো।

ঠিক আছে, আপনি একটু রেস্ট নিন। আমি আপনার জন্য কিছু তরল খাবারের ব্যবস্থা করছি। স্যালাইন শেষ হলে খাবার দিতে হবে।

আয়মান কিছু না বলে শুধু তাকিয়ে আছে। ইসরা নিজের কথা শেষ করে বের হয়ে গেলো। ইসরা বের হওয়ার দু’মিনিটের মধ্যে ইমন তাবুর ভেতরে এলো।

আয়মানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো, স্যার আপনি ঠিক আছেন ?

আয়মান মাথা নাড়িয়ে বুঝালো সে ঠিক আছে।

ইমন একটা চেয়ার টেনে বেডের সামনে গিয়ে বসলো, আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান। ইচ্ছে ছিলো জীবনে একবার হলেও আপনার সাথে দেখা করবো।

আয়মান একটু অবাক হয়ে বললো, তুমি আমাকে চেনো ?

আপনাকে চিনবো না মানে, কী বলছেন ? আমি আপনাদের পাঁচজনকেই খুব ভালো করে চিনি। আপনাদের সব ভিডিও আমি দেখি আর আপনার ফটোগ্রাফির কথা তো বাদই দিলাম।

আমাকে এখানে কে এনেছে ?

আমি নিয়ে এসেছি, গ্রাম ঘুরে দেখতে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে রাস্তা থেকে অনেকটা দূরে রক্তাক্ত অবস্থায় পেয়েছি আপনাকে। তবে আর কেউ ছিলো না সেখানে।

আমার ক্যামেরা বা ফোন কিছু পেয়েছো ?

ইমান হতাশ গলায় বললো, না।

তোমার কাছে ফোন আছে ?

ফোন তো আছে কিন্তু এখানে নেটওয়ার্ক নেই একটুও। তাই কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব নয়।

আয়মান হতাশ হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো। তার পায়ের যে অবস্থা, এই অবস্থায় এখান থেকে যাওয়া সম্ভব নয়। ওদের নিদিষ্ট কোনো জায়গায়ও ঠিক করা ছিলো না, যেখানে যোগাযোগ করবে। ওদের খোঁজতে হলে আয়মানের নিজে গিয়ে খুঁজতে হবে।

আমি এখন যাই, আপু যদি দেখে আমি আবার আপনাকে বিরক্ত করছি তাহলে বকবে।

আয়মান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো, আপু ?

আপনাকে যে চিকিৎসা করছে সে আমার আপু, ডক্টর আনজুম ইসরা। এখন আপাতত আপনি আপুরই পেশেন্ট। আপনার দ্বায়িত্ব আপুকেই দেওয়া হয়েছে।

ইমন কথাগুলো বলে বের হয়ে গেলো। আয়মান নিজের মনে ইসরার নাম আওড়াতে লাগলো বারবার। একটা সময় নিজের অজান্তেই মুচকি হাঁসলো।

২২.
নিশি তোর পাপা এসে যদি দেখে তুই এখনো খাওয়া শেষ করিসনি, বকা দিবে কিন্তু।

খাবারের প্লেট নিয়ে পাঁচ বছরের নিশিতার পেছনে ছুটছে নিশিতার দাদী৷ কাজটা হয়তো তার মায়ের করার কথা ছিলো কিন্ত নিশিতা সেই ভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি। মায়ের ভালোবাসা নিশিতার ভাগ্যে জুটেনি। জন্মের পর থেকে দাদীর কাছেই বড় হয়েছে।

নিশি তোমার স্কুলের জন্য লেট হচ্ছে, তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো।

নিশিতা ড্রায়িংরুমে দৌড়াচ্ছিলো খাবে না বলে। গম্ভীর আওয়াজ শুনে দাঁড়িয়ে গেলো নিশি। নিজের পাপার দিকে একবার তাকিয়ে চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মতো খেতে লাগলো। ফর্মাল পোশাকে বুকে হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে নিহান। মেয়ের দিকে সে যতবার তাকায় ততবারই একটা মুখ চোখের সামনে ভাসে। সেটা অবশ্যই নীলা নয়, কারণ নীলার সাথে নিশিতার আকাশ পাতাল তফাৎ। অবিশ্বাস্য হলে সত্যি, নিশিতা দেখতে একদমই ইসরার মতো, শুধু গায়ের রং নয় মুখের ফেসও। নিহানের বুক চিঁড়ে দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে এলো। নিশিতার খাওয়া শেষে নিহান নিশিতাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো। ওকে স্কুলে দিয়ে নিজেও অফিসে যাবে। ছেলের যাওয়ার পথে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো নিহানের মা। কাউকে কষ্ট দিয়ে কেউ কখনো সুখে থাকতে পারে না। নিহানও পারেনি সুখী হতে৷ সুখ তার জীবনে ধরা দিয়েও ফাঁকি দিয়ে চলেও গেছে আবার। নিহানের সাথে নীলার বিয়ের পর বেশ ভালোই চলছিলো নিহান নীলার সংসার। মাত্র কয়েক মাসে নিহান যেনো সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলো মোহিনী আর ইসরার কথা। অপরাধবোধ উবে গিয়েছিলো তার, সুখ যেনো উপচে পড়ছিলো তাদের জীবনে। একবছর সব ভালোভাবেই কাটে কিন্তু তারপর অজানা ঝড়ে সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক্সিডেন্ট করে নিহান। গুরুতর আহত অবস্থায় হসপিটালে নেওয়া হয় তাকে। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও নিহানের পা দু’টো অকেজো হয়ে যায়। ডক্টর জানায় চিকিৎসা করলে ঠিক হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। নিহান পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এসব শুনে, তবে নীলা তার পাশে ছিলো। নিহান হসপিটালে থাকতেই নীলা একদিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে তার সামনে। নার্স গিয়ে দ্রুত ডক্টরকে ডেকে আনে। ডক্টর চেক করে জানায় নীলা প্রেগনেন্ট, তবু সিউর হওয়ার জন্য কিছু টেস্ট করানো হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে এতো বিষাদের মাঝে যেনো এক টুকরো খুশি ছড়িয়ে পড়ে। নিহানকে হসপিটাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। নীলা অফিস চলে গেলে নিহানের মা নিহানের দেখাশোনা করে। সময় যত যেতে থাকে নীলা তত পরিবর্তন হতে থাকে। নীলার যখন ছয় মাস চলে সে হঠাৎ একদিন বলে, এ বাচ্চা সে জন্ম দিতে পারবে না। এসব শুনে যেনো সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। নিহান কারণ জানতে চাইলে নীলা বলে নিহানের সাথে সে আর থাকতে পারবে না। নিহান যেমন একজন সুন্দরী বউ ডিজার্ভ করে নীলাও একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের সাথে নিজের জীবন কাটাতে চায়। সে আর নিহানের সাথে থাকতে পারবে না, অন্য একজনকে ভালোবাসে সে। এসব শুনে নিহান নিজের বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। সবাই অনেক বুঝাতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। নীলা বলে দেয় সে কোনো পঙ্গুর সাথে থেকে নিজের জীবন নষ্ট করতে পারবে না। নীলা নিজের বসের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। নীলাকে তার বস আগে থেকেই পছন্দ করতো, সেটা অনেকবার বলেছেও আর নীলা নিহানকে ভালোবাসে বলে কাটিয়ে নিয়েছে। কিন্তু নিহানের অসুস্থতায় নীলা একটু একটু করে বসের প্রতি দূর্বল হয়ে গেছে। এখন আর নিহানের কাছে থাকা সম্ভব নয় তার। নিহান যখন বুঝতে পারলো নীলাকে তার ফেরানো সম্ভব নয় তখন শর্ত দিলো নীলা তাকে সন্তান দিলে তবেই সে নীলাকে ডিভোর্স দেবে। বাধ্য হয়ে নীলাও রাজি হয়ে যায়। সময় যত অতিবাহিত হতে থাকে নিহানের প্রতি নীলার আচরণ ততই বিষাক্ত হতে থাকে। কথায় কথায় পঙ্গু, জড়পদার্থ, অকেজো নানা বাজে কথা বলতো। নিহান শুধু নিজের সন্তানের কথা ভেবে সব মুখ বুজে সহ্য করে গেছে। নিজে নীলাকে কিছু বলেনি আর বাড়ির কাউকে কিছু বলতেও দেয়নি। নীলার এতো কাছের মানুষ ছিলো আমিরা, তার খাওয়া নিয়ে আর তাকে মোটি বলে কথা শুনাতে ছাড়েনি। আমিরা একটু স্বাস্থ্যবান আর সে খেতে পছন্দ করে আমিরার ক্ষুতটা তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে নীলা। নিহান ভেবেছিলো সন্তান জন্ম নিলে তার দিকে তাকিয়ে নীলার মন ঘুরবে। কিন্তু নিশিতাকে দেখে নীলা মুখ কুঁচকে ফেলে। এতো কালো বাচ্চা তার, সেটা মানতেই পারেনি। মেয়ের মুখ দেখার পর একবার কোলেও নেয়নি। হসপিটাল থেকে সোজা নিজের বাবার বাড়ি চলে যায়, নিহানদের বাড়ি না গিয়ে। নিহানের অসুস্থতার কথা চিন্তা করে নীলার বাবা মাও নীলাকে সমর্থন করে। ডিভোর্স পেপার পাঠালে নিহান টলমলে চোখে সাইন করে দেয়। নিশিতা বড় হতে থাকে নিহানের মায়ের কাছে আর অন্যদিকে নিহানের বাবা নিজের সর্বস্ব দিয়ে একমাত্র ছেলের চিকিৎসা করতে থাকে। নিজের মেয়ের সাথে নিহানও হাঁটতে শেখে আবার। নিহান ইসরাকে নিজের জীবন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলো প্রতারণা করেছে বলে নয় বরং ইসরা কালো ছিলো বলে। সুন্দর হলে হয়তো মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতো কিন্তু একবারও মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার কথা ভাবেনি ইসরার গায়ের রঙের জন্য। কিন্তু নিহান নিজের মেয়েকে দূরে ঢেলে দিতে পারেনি গায়ের রঙ দেখে। মেয়েটা যখন তার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেঁসে উঠতো নিহান যেনো এতো বিষাদের মাঝে এক টুকরো সুখ খোঁজে পেতো। নিশিতা যখন প্রথম ভাঙা ভাঙা বাংলায় বা বা বলেছিলো সেই অনুভূতি নিহান প্রকাশ করতে পারবে না।

পাপা স্কুল তো পেছনে রেখে এলে, গাড়ি থামাও।

মেয়ের কথা শুনে নিহান দ্রুত ব্রেক কষলো। নিজের অতীতে হারিয়ে গিয়েছিলো। নিহান গাড়ি ব্যাকে নিয়ে স্কুলের গেইটের কাছে নিলো। নিশিতা গাড়ির দরজা খুলতে গেলে নিহান দরজা লক করে দিলো। নিশিতা ভ্রু কুঁচকে তাকালো নিহানের দিকে। কথায় কথায় ভ্রু কুঁচকানোর অভ্যাস নিজের বাবার থেকেই পেয়েছে নিশিতা।

কী হলো দরজা লক করলে কেনো ?

গতকালকের জন্য এখনো রাগ করে আছে নিশিতা নিজের পাপার উপর ?

নিশিতা গাল ফুলিয়ে বললো, আমি কারো উপর রেগে নেই।

ওকে আমি কানে ধরে সরি বলছি আর প্রমিস করছি আজ অবশ্যই ঘুরতে নিয়ে যাবো আমার নিশি মাকে।

তুমি সবসময় প্রমিস করে ভুলে যাও। তুমি জানো আমি গতকাল রেডি হয়ে কত সময় ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু তুমি কী করলে ? রাতে আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর বাসায় এসেছো।

তুমি বুঝতে পারছো না কেনো আমার সুপারগার্ল ? বস আমাকে এতো এতো কাজ দিয়েছিলো।

পঁচা বস তোমার, তাকে ইচ্ছে মতো বকে দিবা।

ঠিক আছে বকে দিবো, এবার খুশি ?

নিহান নিশিতার সামনে এক গাদা চকলেট দিয়ে বললো। চকলেট দেখে নিশিতার মলিন মুখে হাসি ফোটে উঠলো, নিহান সবসময় যে হাসিটা নিজের মেয়ের মুখে দেখতে চায়। নিশিতা চকলেটগুলো নিজের স্কুলব্যাগে ভড়ে নিহানের গালে চুমু খেয়ে নিলো।

ইউ আর দ্যা বেস্ট পাপা ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। আমি সবার সাথে শেয়ার করে খাবো।

নিহান নিশিতার কপালে চুমু খেয়ে বললো, গুড গার্ল হয়ে থাকবে, কারো সাথে ঝগড়া করবে না।

তুমিও গুড বয় হয়ে থাকবে আর খাবার খেয়ে নিবে।

নিশিতা কথাটা বলে গাড়ি থেকে নেমে গেলো। নিহানের ঠোঁটে মেয়ের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি ফোটে উঠলো। সে ভালো মানুষ হতে পেরেছে কিনা তার জানা নেই, তবে ভালো বাবা অবশ্যই হতে পেরেছে। নিশিতা গেইটের ভেতরে চলে গেলে নিহান অফিসের দিকে চলে গেলো।

২৩.
রাতে আয়মানের তাবুতে ইমন ছিলো। আয়মানের অসহ্য লাগছে এভাবে বেডে শুয়ে থাকা। স্বভাবতই ফজরের আযানে ঘুম ভেঙে গেছে আয়মানের। এক জায়গায় দু দন্ড বসার মানুষ নয় সে আর এখন উঠে বসার শক্তিও পাচ্ছে না, শুয়ে থাকতেও ভালো লাগছে না। ইমনের দিকে তাকিয়ে দেখলো গভীর ঘুমে আছন্ন তাই নিজেই উঠে বসার চেষ্টা করতেই কাত হয়ে পড়ে যেতে নেয়। কিন্তু পড়ে যাওয়ার আগেই কেউ ধরে ফেলে, আয়মানের মাথা গিয়ে পড়ে, ধরে রাখা মানুষটার বুকে। হার্টবিটের ধক ধক আওয়াজ আয়মানের কানে লাগছে। মাথা তুলে তাকাতেই চোখে পরে স্নিগ্ধ একটা মুখ। ইসরা নামাজ পড়ে আয়মানের কী অবস্থা সেটা দেখার জন্য এসেছিলো। তাবুতে ঢুকেই দেখে বসতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে আয়মান আর তাই দ্রুত গিয়ে ধরে ফেলে। পিঠের নিচে একটা বালিশ দিয়ে ভালো করে বসিয়ে দিলো আয়মানকে।

এভাবে একা একা বসতে যাচ্ছিলেন কেনো ? আমি সময় মতো না আসলে তো পড়ে যেতেন।

বেশী সময় এক জায়গায় থাকতে পারি না আমি। সেই গতকাল সন্ধ্যা থেকে এভাবে শুয়ে আছি। ভালো লাগছিলো না তাই বসার চেষ্টা করছিলাম।

ইমন ছিলো ওকে ডাকলেই পারতেন।

আয়মান পাশের বেডে তাকিয়ে দেখলো ইমন ঘুমিয়ে আছে বাচ্চা ছেলের মতো।

আয়মান মুচকি হেঁসে বললো, এতো সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে, জাগাতে ইচ্ছে করলো না।

ইসরা একবার ইমনের দিকে তাকিয়ে আবার আয়মানের দিকে তাকালো, কিছু খাবেন, ক্ষুধা পেয়েছে ?

ক্ষুধা তো পেয়েছিলো কিন্তু,,

ঠিক আছে আপনি বসুন আমি আপনার খাবারের ব্যবস্থা করছি।

আয়মানের উত্তরের অপেক্ষা না করে ইসরা তাবু থেকে বেড়িয়ে এলো। আয়মান আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। গতকাল থেকে খেয়াল না করলেও এখন খেয়াল করলো জায়গাটা। একটা তাবুর ভেতর দুটো হসপিটালের বেড, একটা টেবিল তাতে অনেক অনেক মেডিসিনের বক্স রাখা। আরো অনেক হসপিটালের ছোট খাটো সামগ্রী। আয়মানের পর্যবেক্ষণের মাঝেই ইসরা সুপ নিয়ে তাবুতে এলো। গতকাল ইসরা খাইয়ে দিয়েছিলো তবে আজ আয়মানের সামনে রেখে খেতে বললো।

ফ্রেশ না হয়ে খাবো কী করে ? অন্তত দাঁত ব্রাশ তো করতে হবে।

সেটা আগে বলবেন তো।

আপনি আমার কথা শোনার আগেই তো চলে গেলেন।

ইসরা নিজের ভুল বুঝতে পেরে একটু লজ্জিত হলো। তারপর আবার গিয়ে একটা ব্রাশে টুথপেষ্ট লাগিয়ে নিয়ে এলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একটু বেশি করেই আনা হয়েছে, কখন প্রয়োজন হয় বলা যায় না। তাই আয়মানের জন্য ব্রাশের ব্যবস্থা করতে কষ্ট করতে হয়নি ইসরাকে।

ইসরা আয়মানের হাতে ব্রাশটা দিতেই সে আশেপাশে তাকিয়ে বললো, এখানে ?

আপনাকে ধরে বাইরে নিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি আমার নেই।

আয়মান আর ইসরার কথোপকথনে ইমনের ঘুম ভেঙে গেলো। শেষে ইমন আয়মানকে ধরে বাইরে নিয়ে গেলো। এখানে ওয়াশরুম বলতে একটা টিউবওয়েল আছে আর টয়লেট। ইমন আয়মানকে ফ্রেশ হতে সাহায্য করে আবার তাবুতে নিয়ে এলো। আগের মতো বেডে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিয়ে নিজেও ফ্রেশ হতে চলে গেলো।

এবার খেয়ে নিন।

আয়মান ইসরার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে চামচটা হাতে নিলো। হাতেও ব্যান্ডেজ থাকার জন্য ঠিকমতো ধরতে পারছে না। ইসরা তাকিয়ে দেখলো আয়মানের কষ্ট হচ্ছে নিজের হাতে খেতে। ইসরা একটু চিন্তা করে আয়মানের হাত থেকে সুপের বাটি আর চামচটা নিয়ে এক চামচ তুলে ধরলো মুখের সামনে। আয়মান অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালো ইসরার দিকে, অস্বস্তিতে পড়ে গেলো ইসরা।

ঠান্ডা হয়ে গেলে খেতে ভালো লাগবে না।

ইসরার কথায় আয়মান চোখ নামিয়ে নিয়ে সুপ টুকু মুখে নিয়ে আহ করে উঠলো।

ইসরা ব্যস্ত গলায় বললো, কী হলো ?

বেশী গরম কিছু খেতে পারি না আমি।

ইসরা খেয়াল করে দেখলো সুপটা ঢেকে রাখায় এখনো অনেক গরম আছে। পরের চামচ তুলে হালকা ফু দিয়ে ঠান্ডা করতে লাগলো। আয়মান ইসরার দিকে তাকিয়ে থমকে গেলো। তবে সেদিকে ইসরার খেয়াল নেই, তার দৃষ্টি চামচের দিকে। আয়মানের তাকিয়ে থাকার মাঝেই ইসরা চামচটা আয়মানের মুখের সামনে ধরলো। দৃষ্টি না সরিয়েই সুপ মুখে পুরে নিলো আয়মান। তার কাছে সবচেয়ে অখাদ্য উপাধিপ্রাপ্ত ভেজিটেবল সুপটাও আজ অমৃত লাগছে। আয়মান নিজের অনুভূতিতে নেই অবাক।

চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here