মিশেছো_আলো_ছায়াতে #Writer_Sintiha_Eva #part : 14

#মিশেছো_আলো_ছায়াতে
#Writer_Sintiha_Eva
#part : 14

🍁🍁🍁

আচমকা ঠাসস শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো বাড়ি টা। সায়নরা স্তব্ধ দৃষ্টিতে সিমথির দিকে তাকায়। নীলয় খান, রহিমা বেগম, সীমা বেগম বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সার্ভেন্টরা রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে। সিমথি অগ্নি দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে আছে। সিমথির সামনেই তরী গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই ফাস্ট সিমথি তরীর গায়ে হাত তুললো। সবাই চরম বিস্ময়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।

রহিমা : আমার নাতনী ডা রে মা/ই/রা লাইলো গো। কেডারে কই আছো গো।

সিমথি রহিমা বেগমের দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সামনের কাঁচের টেবিলে স্বজোরে এক লাথি লাগায়। টেবিল টা দূরে সরে যায়। নীলয় খানরা দ্রুত সোফার সামনে থেকে সরে আসে।

সিমথি : আজ আমার আর তরীর মাঝে যেই আসবে খোদার কসম তার অবস্থা আমি নাজেহাল করে ছাড়বো। ( চেচিয়ে)

সিমথির চেঁচানো তে সবাই ঘাবড়ে যায়। মুহুর্তের মধ্যে ড্রয়িংরুমে নীরবতা নেমে আসে। সিমথি তরীর দিকে তাকায়। এখনো গালে হাত দিয়ে ফুফাচ্ছে।

সিমথি : বংশের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য তোর মতো মেয়ে প্রতিটা ঘরে ঘরে জন্মাক আর তোর দাদির মতো দাদি প্রতিটা ঘরে ঘরে থাকুক।

তরী : সিমথি চেঁচিয়ে কথা বলবি না। কোন সাহসে আমার গায়ে হাত তুললি।

তরীর কথায় সিমথির মাথায় আগুন ধরে যায়। রাগ সামলাতে না পেরে পুনরায় তরীর গালে একটা থাপ্পড় মারে। পরপর দুটো দাবাং মার্কা থাপ্পড় খেয়ে তরী রেগে সিমথির দিকে তেড়ে আসতে নিলে সিমথি তরীর হাত মুচকে পেছনের নিয়ে চেঁচিয়ে উঠে।

সিমথি : ডাক্তারির পূর্বশত কি জানিস। আমাদের ঘোর শত্রু ও যদি চিকিৎসার জন্য আসে তাহলে অন্য দশটার রোগীর মতো তারও চিকিৎসা করা। সাধারণ মানুষ গুলো উপরওয়ালার পর আমাদের উপর ভরসা করে হসপিটালে এডমিট হয়। নতুন একটা জীবন পাওয়ার আশায়। আরো কিছুদিন এই পৃথিবীর আলো – বাতাস উপভোগ করার জন্য। সেখানে শত্রুতার কোনো স্থান নেই। আর তুই কি করলি আমার সাথে রাগ মেটাতে গিয়ে বাচ্চা মেয়েটাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলি। লজ্জা হওয়া উচিত তোর। ডাক্তার হবার যোগ্যতা তোর নেই। ভালো স্টুডেন্ট হয়ে, ভালো জিপিএ পেলেই, ভালো রেজাল্টেই ভালো ডাক্তার হওয়া যায়। ভালো ডাক্তার হওয়ার জন্য ভেতরে যেই মন আছে সেটা কে পবিত্র রাখতে হয়৷ কিন্তু তোর দাদি তোকে যেই শিক্ষা দিয়েছে তুই ও সেটাই পেয়েছিস। ছোট থেকে যেভাবে অ/মানুষ হবার প্রেকটিস করিয়েছে ততটাই অ/মানুষ হয়েছিস৷ এতোটা নিচে নেমেছিস যে একটা নিষ্পাপ শিশু কে মা/র/তে ও পিছ পা হোসনি। ছিহহ।

কথাগুলো বলে তরীকে ছুঁড়ে মারে। জোরে ধাক্কা দেওয়ায় সিড়ির হাতলের সাথে গিয়ে লাগে।

সিমথি : তোকে আজ লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি নেক্সট টাইম আমার রাগ অন্য কারোর উপর ঝাড়বি না। নিজের সীমারেখা নির্দিষ্ট করে নে। যতটুকু সীমা তার ভেতর থাক। এর বাইরে আসার চেষ্টা ভুলেও করবি না। আমাকে বাধ্য করিস না তোর হাল ধরতে। সেটা তোর জন্য একদম ভালো হবে না। এখনো সময় আছে নিজেকে শুধরে নে। অতীতের কিছু না জানা কারণ নিয়ে আমার সাথে লাগতে আসিস না। সত্যি টা জানলে আজ যা যা করছিস তার জন্য নিজেকে কোন দিন ক্ষমা করতে পারবি না।

রহিমা : দেখো সিমথি,,,

বাকিটা বলার আগেই সিমথি হাত উঠিয়ে থামিয়ে দেয়।

সিমথি : আপনার সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধে। কতটা জঘন্য চরিত্রের মানুষ হতে পারেন আপনি তার আরোও একটা উদাহরণ আপনার শিক্ষায় শিক্ষিত নাতনী দিয়েছে। আপনার নাতনীর মতো আপনাকে ও ওয়ার্নিং দিচ্ছি আমাকে কন্ট্রোল করতে আসবেন না। আপনি আমার কেউ না। আমাকে কন্ট্রোল করতে আসলে আপনাকে লাইফ সাপোর্টে আইসিইউ তে পাঠাতে আমার এক মিনিট ও লাগবে না। নেক্সট টাইম আপনি আর আপনার এই নাতনী দুজনই আমার থেকে ডিস্টেন্স বজায় রাখবেন। আর আপনার নাতনীর মাথায় কথাটা ভালো করে ঢুকিয়ে দেন।

তরী : এনাফ সিমথি তুই দাদিমার সাথে একদম এভাবে কথা বলবি না। ( চেচিয়ে)

তরীর কথায় সিমথি শান্ত দৃষ্টিতে তরীর দিকে তাকায়। সিমথির তাকানো দেখে তরীর কলিজা কেঁপে ওঠে। তবুও তেজি দৃষ্টিতে সিমথির দিকে তাকিয়ে থাকে। সিমথি এক পা করে তরীর দিকে এগিয়ে যায়।

সিমথি : কি করবি তুই আমায় । মারবি। নে মা/র। কি হলে আয়। ( শান্ত গলায়)

তরী পিছিয়ে যায়। আচমকা গালে আরেকটা থাপ্পড় পড়ে। সায়নরা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সিমথির দিকে তাকায়। রাগে শরীর থরথর করে কাপছে সিমথির। চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে। ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে তরীর দিকে তাকিয়ে আছে।

মেঘা : সিমথি তরী কে এই প্রথম বার এতো মারছে।

রোদেলা : তন্ময় সিমথি কে সামলা প্লিজ। নয়তো আজ র/ক্তা/র/ক্তি হয়ে যাবে।

তন্ময় : আজ আমার সাহস হচ্ছে না সিমথির সামনে যাওয়ার।

সিমথি : তোর থেকে বয়সে বড় আমি। আমার সাথে চেঁচাবি না।

তরী : তুই আমাকে মারলি কেনো আগে এটা বল।

সিমথি : কোন মুখে কথা বলিস। লজ্জা নেই। এতোটা জঘন্য কাজ করে মুখে মুখে তর্ক করছিস। আজ বাচ্চার কিছু হলে তের কি হতো তুই কল্পনা ও করতে পারছিস না। তোর ভাগ্য ভালো তোকে মাত্র তিনটা থাপ্পড় দিয়েছি। একই বাড়িতে মানুষ হয়েও তিনজন মেয়ে তিন চরিত্রের হয় কিভাবে এটা ভেবেও অবাক হচ্ছি না আমি। কারণ তোর চরিত্র এমন হবে এটা আশা করা যায়। তোর জায়গায় যদি রোজ এই কাজ টা করতো তাহলে আজ ওকে আমি শেষ করে ফেলতাম। কারণ রোজের উপর আমার অধিকারবোধ আছে। তোর উপর সেই অধিকারবোধ নেই। সো নেক্সট টাইম থেকে সাবধান থাকবি।

কথাগুলো বলে সিমথি থামে। জোরে একটা শ্বাস ছাড়ে। উপস্থিত সবার দিকে এক নজরে তাকিয়ে রুমের দিকে পা বাড়ায়। আচমকা থেমে তরীর দিকে তাকায়।

সিমথি : থাপ্পড় গুলো তোকে হসপিটালেই দিতে পারতাম৷ বাড়িতে দিয়েছি কারণ থাপ্পড় গুলো শুধু তের গালে পড়েনি কিছু মানুষের শিক্ষায় ও পড়েছে।

কথাগুলো বলে সিমথি একপলক রহিমা বেগমের দিকে তাকিয়ে হনহনিয়ে চলে যায়।

রহিমা বেগম : তরী রুমে চল।

রহিমা বেগম তরীকে নিয়ে রুমে চলে যায়। সায়ন একটা জোরে শ্বাস ফেলে দরজার দিকে তাকায়।

সায়ন : আরে তুহিন তোরা। তোরা কখন এলি।

তন্ময় : আপনার বোন যখন তান্ডব করছিলো তখনই।

সায়ন : আজ প্রথম সিমথিকে এতোটা রাগতে দেখালাম। আর তরীর গায়ে হাতও আজই তুললো। প্রতিবারই হাত উঠিয়ে থামিয়ে দিতো। কিন্তু আজ

ইফাজ : আচ্ছা বাদ দে। তোরা ভেতরে আয়। ডিনার করে যা।

মেঘা : না ভাইয়া আজ আর ইচ্ছে নেয়। আসি। অনেক রাত হয়েছে।

মিম : আরে কিছু খেয়ে যাও।

তন্ময় : না আসি এখন। চল তোদের নামিয়ে বাড়ি ফিরবো।

ঘুমের মধ্যে গালে কারো স্পর্শে কেঁপে ওঠে তরী। স্পর্শ টা ওর চেনা। ভীষণ চেনা। চোখজোড়া মেলতে চাইছে কিন্তু পারছে না। মনে হচ্ছে কেউ আটা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছে। গালে ঠান্ডা কিছু স্পর্শে চুপটি হয়ে যায়। হঠাৎ চোখ খুলে। চারপাশে চোখ বুলায় কিন্তু না রুমে কেউ নেই। দরজার পর্দা নড়ছে। তার মানে রুমে কেউ এসেছিলো। কিন্তু কে? গালে হাত দিয়ে আটালো কিছু লাগায় বেড সাইড টেবিলের ল্যাম্প জ্বালায়।

তরী : অয়নমেন্ট কে লাগিয়ে দিলো। হয়তো সায়ন ভাইয়া বা ইফাজ ভাইয়া এসেছিলো৷ ( বিড়বিড়িয়ে)

গাল টা প্রচণ্ড ব্যথা করছে। তাই বেশী কিছু না ভেবে তরী ঘুমিয়ে যায় আবারো৷

_________________

সিমথি : আপনার কি কোনো কাজ নেই। রাস্তায় ঢিল ছুঁড়ছেন কেনো। মানুষ মা/রা/র প্ল্যান করছেন ইডিয়ট।

সিমথির কথায় আদি হাসে। আজ অবশ্য আদি সিমথির সাথে দেখা করতে আসেনি। বন্ধু রা মিলে ঘুরতে এসেছিলো। সায়নের কাজ থাকায় সায়ন একটু পরই চলে আসবে। তাই ওরা নদীর পাশে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারছিলো। আদি নিচ থেকে একটা ইট নিয়ে খালি রাস্তায় ঢিল দেয়। কিন্তু তখনই এদিক দিয়ে সিমথির গাড়ি যাচ্ছিলো। যা ফলে ঢিল টা সিমথির গাড়িতে পড়ে কাচ ভেঙে যায়। তখনই সিমথি রেগে গাড়ি থেকে বের হয়ে আসে আর সামনে আদি, আয়াশ,রিক সহ আরো কয়েকজন কে দেখতে পায়। বাকিদের ভ্রুক্ষেপ না করেই সিমথি আদিকে উদ্দেশ্য করে উপরের কথাগুলো বলে।

আদি : আজ তো তুই নিজেই আসলি। আমার কি দোষ।

সিমথি : আপনার দোষ কবে থাকে। যত্তসব আজাইরা মার্কা পাবলিক।

আদি : একটা দিবো। ফা/জ/লা/মি করিস। এই রাস্তা দিয়ে কোথায় যাচ্ছিলি।

সিমথি : আপনাকে বলতে বাধ্য না। ভালো একটা কাজে যাচ্ছিলাম। দিলেন তো বারোটা বাজিয়ে। আপনি মানেই ঝামেলার সমার্থক শব্দ।

আদি : থেংক্স ফর ইউর কমেন্ট বাট এই ঝামেলা কেই তোর সারাজীবন সহ্য করতে হবে। এটা ভেবেই আমার কষ্ট হচ্ছে।

আদির কথায় সিমথি বিরক্তি নিয়ে আয়াশদের দিকে তাকায়। সবাই মুখ চেপে হাসছে।

সিমথি : আপনি আর আপনার কষ্ট দুইটাই দূরে থাকুন।

আদি : আচ্ছা আপাতত দূরে থাকলাম। বাট বিয়ের পর কিন্তু দূরে থাকবো না ( শয়তানি হেসে)

সিমথি : শাট আপ।

আদি : আচ্ছা। কোথায় যাচ্ছিলি।

সিমথি : আমি এক কথা একশবার বলি না।

আদি : আচ্ছা। তোর সিম অফ কেনো

সিমথি : সিম অফ না। আপাতত মাটিড নিচে

আদি : এ্যা। মানে

সিমথি : একটা ফালতু, বখাটে ছেলে ফোন দিয়ে দিয়ে ডিস্টার্ব করছিলো তাই ভেঙে ফেলেছি ওই সিম।

সিমথির কথায় আদি চোখ পাকিয়ে তাকায়। সিমথি মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। আদির ফুসফুস করার কারণ সেই ছেলেটা আদিই ছিলো।

আদি :তোর নাম্বার টা দে তো। ( ফুসতে ফুঁসতে)

সিমথি : আমার নাম্বার দিয়ে আপনার কি কাজ।

আদি : আহা আগের সিম চেঞ্জ করেছিস তো নাম্বার দিবি না। না দিলে কথা বলবো কিভাবে।

সিমথি : আমার আপনার সাথে কথ বলার সামান্যতম ইন্টারেস্ট ও নেই।

আদি : তারজন্যই পাক্কা ১০ মিনিট ৭ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিস।

আদির কথায় সিমথি থামে। সত্যিই তো অনেকক্ষণ ধরে আদির সাথে বকবক করছে সিমথি। রাগি চোখে আদির দিকে তাকায়।

সিমথি : আপনার জন্য আজ আমার লেট হলো। ধ্যাত আমাকে ক্যাফে যাওয়া লাগবে। সরুন তো সামনে থেকে।

আদি : ক্যাফে কেনো যাবি।

সিমথি : বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে। সমস্যা আপনার আজব।

আদি : তা বয়ফ্রেন্ড টা কে? তন্ময়!

আদির কথায় সিমথি হঠাৎ হেসে উঠে।

সিমথি : বাব্বাহ আপনার এতো বুদ্ধি জানতামই না। বাই দ্যা ওয়ে এটা ঠিকই বলেছেন। সমস্যা নেই কিছুদিনের মধ্যে আমাদের বিয়ের খবর ও জানতে পারবেন। ভাইয়া অবশ্যই আপনাদের দাওয়াত দেবে। ভাই হিসাবে বোনের বিয়েতে তো আপনাদের দায়িত্ব সব দেখভাল করার। অগ্রিম দাওয়াত আমি দিয়ে গেলাম।

সিমথি গাড়ি নিয়ে চলে যায়। আদি হাতের মুঠো শক্ত করে সিমথির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতরে চিনচিন ব্যথা হচ্ছে। সিমথির কথা যদি সত্যি হয়ে যায়। তাহলে আদির কি হবে?

চলবে,,,,,

( নেক্সট পর্বে সারপ্রাইজ আছে। ভুলক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন৷ ধন্যবাদ ❤️)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here