মায়াজাল (ভৌতিক গল্প),পর্ব-৯

মায়াজাল (ভৌতিক গল্প),পর্ব-৯
লামিয়া আক্তার রিয়া

আজ সবাই তাড়াতাড়িই খেয়ে নিয়েছে।আজ যে অনেক কাজ বাকি।লিয়া আর সামুকে আজ শহরের দিকে এক ছোটখাটো হোটেলে উঠিয়ে ‌দিয়ে এসেছে।ইমুর কথা সে এক বান্ধবীকে হারিয়েছে।অন্যদের বিপদে ফেলবেনা।

আদ্র উমার কেসটা আজ ক্লোজ করে দিয়েছে।অনেকেই এই জমিদার বাড়ির আশেপাশে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে।তবে তারা ছেলে আর প্রত্যেকেরই রক্তশূন্য ছিন্নভিন্ন দেহ পাওয়া যেতো।কিন্তু উমার রক্ত দিয়ে তাসমিরের জামিদারবাড়িতে অভিষেক হয়েছে।আগে পুবের দিকে নিজের ঘরে রাজত্ব করলেও এখন কুমারি মেয়ের রক্ত দিয়ে সে পুরো জমিদারবাড়িতেই আধিপত্য বিস্তার করেছে।তাই আদ্র এসব থেকে গ্রামবাসিকে মুক্ত করতে চায়।

তিনজনই খাবার টেবিলে বসে আছে।

আদ্র: চাচা আপনি সব কাজ কখন শুরু করবেন?

ইদ্রিস: তোমরা যা জানো তারপর থেকে আগে বলি।

ইমু: নিজের পরিচয়ও দিবেন দয়া করে।

ইমুর কথায় মুচকি হেসে ইদ্রিস মিয়া উঠে দাড়ালো।তারপরে দুহাত দুদিকে মেলেই অদৃশ্য হয়ে গেলো।ইমু ভয় পেয়ে আদ্রের হাত চেপে ধরলো।

ইমু: চ চাচা?ক কোথায় আপনি?

ইদ্রিস: আমাকে দেখতে পাচ্ছোনা তাইনা মা?(দৃশ্যমান হয়ে) আমি জীবিত নই মা।সেদিনের আগুনে তোমাকে বাঁচাতে যেয়ে আমি নিজেও ওখানেই মারা পরেছি।এবার আসি যা জানো তার পরের কথায়।সেদিন-

ফ্ল্যাসব্যাক,,,,,,,,,

অনুভবকে বলা হলো তার বিয়ে মৃন্ময়ির সাথে ঠিক হয়েছে।তখন অনুভবের খুশি দেখে কে? যাকে নিয়ে এতদিন স্বপ্ন দেখেছে সে সত্যিই তার হবে।অনুভব সারাবাড়ি আনন্দে নেচেগেয়ে বেরালো।তার খুশিতে বাকিরাও( তাসমির,কাবিল আর তাসলিমা বাদে) খুশি।মৃন্ময়ির বাবা মইনুরকে ডেকে খুব জলদিই বিয়ের আয়োজন করা হলো।এলো‌ বিয়ের দিন।মৃন্ময়ির বাড়ি যেয়ে অনুভব মৃন্ময়িকে বিয়ে করে আনলো।গ্রামের লোক শুনলো নতুন বউ পর্দা করে।তাই মহিলারাই অন্দরমহলে যেয়ে মৃন্ময়িকে দেখে এলো।পুরুষরা বাইরেই আনন্দ করছে।আজ খুশিতে সবাই আত্নহারা।সবার প্রিয় ছোটসাহেবের বিয়ে বলে কথা।

রাতে বাসরঘরে চুপ করে বসে আছে মৃন্ময়ি।ঘরে ঢুকে দরজা আটকালো অনুভব।মৃন্ময়ি কেপে উঠলো।অনুভব এখনো প্রেয়সির মুখ দেখেনি।বিয়ের সময় দাদা,বাবা আর কাজি সহ কয়েকজন পুরুষ ছিলো তাই মৃন্ময়ির মুখ ঢাকা ছিলো।

অনু: মিনি?

মৃন্ময়ি আবারো কেপে উঠলো।সেই পুরোনো নাম।শুধু সেই ছেলেমানুষি কন্ঠটা এখন ভরাট পুরুষের কন্ঠ।তবুও এত সুন্দর কেন?অনুভব সামনে আসতেই মৃন্ময়ি নেমে ওকে সালাম করলো।অনুভব ওর দুহাত ধরে বিছানায় বসালো।

অনুভব: এখনো নিজেকে আড়াল করে রাখবে মিনি?সেই ছোট্ট মিষ্টি মেয়েটা আজ আমার বউ।তাকে দেখার অধিকার কি আমার নেই?

মৃন্ময়ি হাল্কা মাথা নারিয়ে সম্মতি দিয়ে চুপ করে বসে রইলো।অনুভব আস্তে করে ওর মুখ থেকে ঘোমটা তুললো।চোখ বন্ধ মৃন্ময়ির।অনুভব স্থির হয়ে রয়েছে।বন্ধ চোখেও তার প্রেয়সিকে দেখতে কি দারুন দেখায়।অনুভব মৃন্ময়ির গালে হাত রাখতেই ও কেপে উঠলো।লাল টকটকে ঠোটদুটো কাঁপছে।অনুভব মৃন্ময়ির গালে হাত দিয়েই বললো,”ভালোবাসি”।ছোট্ট কথাটাই মৃন্ময়ির মাঝে সুখ নিয়ে এলো।সে চোখ তুলে নিজের স্বামীর দিকে তাকালো।অনুভবের ঠোটে মিষ্টি হাসি ঝুলে আছে।মৃন্ময়িও মুচকি হাসলো।

অনুভব: থাকবেতো সারাজিবন হাত ধরে?ছেড়ে যাবেনাতো কখনো?সত্যি গেলে আমি থাকতে পারবোনা।সেই ছোট থেকে এই মেয়েটাকেই ভালোবেসে এসেছি।হৃদয়স্থলে শুধু তোমার নাম আছে মিনি।ভালোবাসবে আমায়?কথা দিচ্ছি মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে সব কষ্ট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবো।পাশে থাকবে আমার!

মৃন্ময়ি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সামনের মানুষটার দিকে।অবাক হলেও যে মেয়েদের এত সুন্দর দেখায় তা জানতোনা অনুভব।মৃন্ময়িকে দেখে এবার দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় চাপলো তার।

অনুভব: কিগো?কথা বলতে পারোনা নাকি?ছোটবেলায় তো খুব আমায় জ্বালাতে।মায়ের কাছে কত বকা খাইয়েছো বাবাগো।সবকিছুর শোধ তুলবো ভেবেছিলাম।কিন্তু এ মেয়েতো কথাই বলতে পারেনা।এ কি মেয়ে আনলো মা?এই মেয়ে তুমি বোবা নাকি?এই এই তুমি সত্যিই আমার ছোটবেলার সেই দুষ্টু মৃন্ময়িইতো?নাকি ঠকাচ্ছো?

এবার মৃন্ময়ি ক্ষেপে গেলো।রাগে লাল হয়ে গেলো তার মুখ।হ্যাচকা টানে নিজের হাত অনুভবের থেকে কেরে নিলো।কোমড়ে হাত দিয়ে দাড়ালো।

মৃন্ময়ি: এই ব্যটা সাদা ইদুর,লম্বু জিরাফ?তোমার সাহস হয় কিভাবে আমাকে বলছো আমি ঠকিয়েছি?লেজকাটা টিকটিকি,লাল হনুমান আমি বোবা?ভেবেছিলাম তুমি ভদ্র হয়েছো কিন্তু না,তুমি আগের সেই ঝুলন্ত বাঁদরই আছো।বজ্জাত ছেলে।বাসররাতেই বলে আমি বোবা?দাড়াও এখনি যেয়ে ছোটমাকে বলছি।সাথে ছোট বাবাকেও বলবো।আজ দেখবে মৃন্ময়িকে রাগালে কি হয়।এক্ষুনি বলবো।

মৃন্ময়ি দরজার দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই অনুভব ওর হাত টান দিলো।মৃন্ময়ি যেয়ে পরলো অনুর বুকে।তৎক্ষনাৎ একহাতে মৃন্ময়ির কোমর পেচিয়ে ধরলো অনুভব।আর অন্যহাত মৃন্ময়ির মাথায়।অনুভবের ছোয়ায় মৃন্ময়ি জমে গেলো।সে অনুভবের বুকেই রইলো।

অনুভব: এই দুষ্টু,রাগি,ঝগড়ুটে মিনিকেই তো খুজছিলাম আমি।কিন্তু এতক্ষন সে লাজে রাঙা হয়ে বোবা হয়ে ছিলো।তবে সত্যিই মিনি তোমায় লজ্জা পেলেও দারুন দেখায়।এখন থেকে বারবার লজ্জা দিবো হ্যা?

মৃন্ময়ি অনুভবের কথায় লজ্জায় নুইয়ে পরছে।অনুর ভীষন ইচ্ছে করছে এখন তাে মিনির মুখ দেখতে।কিন্তু সেতো বুকেই লেগে আছে।অনু তার মিনিকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে কানাকানে‌ বললো,

– এখন আমাকে জড়িয়ে ধরার সম্পূর্ণ অধিকার আছে তোমার।আমরা আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।এখনো জড়িয়ে ধরবেনা মিনি?

অনুভবের কথায় মৃন্ময়িও অনুভবকে জড়িয়ে ধরলো।শান্তিতে অনুভবের বুকটা শীতল হয়ে যাচ্ছে।

অনুভব: মিনি?

মৃন্ময়ি: হুম?

অনু: বললে নাতো থাকবেনা?ভালোবাসবেনা আমায়?

মৃন্ময়ি: হুম।

অনু: কি হুম?

মিনি: বাসবো ভালো।আপনার মতো আমিও ছোট থেকেই আপনাকেই নিজের মনে স্থান দিয়েছি।আর যখন শুনলাম আপনার সাথেই বিয়ে হবে তখন আনন্দে মন ভরে গেলো। আমিও-

অনু: কি?

মিনি: ভালোবাসি।

কথাটা বলেই আরএকটু জোরে জড়িয়ে ধরলো মিনি।অনুভবও মুচকি হেসে ভালোবাসার মানুষটাকে আগলে রাখলো।

অনুভব: চলো মিনি নামাজ পরে নেই?

মৃন্ময়ি: হুম,চলুন।

অনুভব আর মৃন্ময়ি নামাজ পরে নিলো।

সবাই ভীষন খুশি।ঘরে মৃন্ময়ির মতো মেয়ে থাকলে কেই বা কষ্টে থাকবে?যদিও তাসলিমার জন্য মৃন্ময়ি কিছুটা অস্বস্থিতে আছে কিন্তু অন্যসবার ভালোবাসায় তা মৃন্ময়ির মনে জায়গা পেলোনা।সবাই হাসিখুশিই থাকলো।তবে জমিদার বাড়িতে খুশির রোল উঠলেও তা বেশিদিন টিকলোনা।তাসমির নামের ঝড় সব ধ্বংস করে দিলো।

বাড়িতে ফিরেই যখন শুনলো তার ছোটভাই তাকে না জানিয়েই বিয়ে করে ফেলেছে তখন সে ক্ষেপে গেলো।সে এসেই অনুভবের রুমে এলো।অনুভব তখন তার বাবার সাথে বাইরে গিয়েছে।মৃন্ময়ি ঘরে দরজা চেপে বই পড়ছে। হুট করে একজন অচেনা পুরুষকে ঘরে ঢুকতে দেখেই সে ভয় পেয়ে গেলো।সে দ্রুত ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো।কিন্তু দেড়ি হয়ে গেলো।তাসমিম ততক্ষনে মৃন্ময়িকে দেখে নিয়েছে।বুঝতে পারলো তার ভাই তারই ঠিক করা মেয়েকে বিয়ে করেছে।তাসমির ক্ষেপে গেলো।

তাসমির: তুমি?তুমি অনুকে বিয়ে করেছো?তোমার সাহস হলো কিভাবে ওকে বিয়ে করার?তোমায় আমি নিজের জন্য পছন্দ করেছিলাম।

মৃন্ময়ি ভয় পেয়ে গেলো।এই‌লোক কে?কিকরে দেখলো তাকে?

মৃন্ময়ি: (কেঁপে)ক কে আপনি?এই ঘরে কি করছেন?মা? মা?দাদি?কোথায় তোমরা?(চিৎকার করে)

মৃন্ময়ির আওয়াজে নাসিমা আর অমৃতা দৌড়ে এলো।ঘরে তাসমিরকে দেখে চমকে গেলো।তাসলিমাও এসে দেখলো ছেলে এই ঘরে।

নাসিমা: তুমি এখানে কেন?এখন হুটহাট অনুর ঘরে ঢোকা যাবেনা।অনুর বউ পর্দা করে।

তাসমির: পর্দা?মা তুমি বলেছিলেনা ওকে(মৃন্ময়ি) আমার কাছে এনে দেবে?ও অনুর বউ কেন হলো?

ততক্ষনে অনুভবও চলে এলো।

অনুভব: ভাই?তুই এখানে?

তাসমির যেয়ে অনুভবের জামার গলা চেপে ধরলো।

তাসমির: কেন করলি আমার প্রেয়সিকে বিয়ে?বল কেন করলি?তুই জানিস আমি ওকে কত ভালোবাসি?আমার আগে তুই ওকে ভোগ করলি?কেরে নিলি?তোকে আমি ছাড়বোনা অনু।ভালোয় ভালোয় বলছি ওকে আমার কাছে দিয়ে দে।নয়তো তোকে খুন করবো আমি।

তাসমিরের গালে সশব্দে চড় পরলো।রাগে কাপছে কাসেম চৌধুরি।ওদের চিৎকার শুনে কাবিল আর কাইফও অনুভবের ঘরে এসেছে।

কাসেম: তুই মানুষ? নাকি হিংস্র জানোয়ার?

তাসমির: দাদা?তুমি আমায় মারলে?

কাসেম: হ্যা মারলাম।তোর সাহস হয় কিভাবে অনুকে খুন করবি বলার?আর মৃন্ময়ির মতো লক্ষি‌ মেয়েকে তুই ভোগ করতে চাস?ও তোর ভাইয়ের বউ।

তাসমির: ওকে আগে আমি পছন্দ করেছি।সেদিন পদ্মপুকুরে ওকে স্নানরতো অবস্থায় দেখেই ভেবে নিয়েছি যে করেই হোক ওকে আমার করবোই।ওর শরীরের ভাজের প্রেমে পরে গেছি আমি।ওর হাসি,কন্ঠ সবের প্রেমে পরেছি।আমার আবেদনময়ির প্রেমে পরেছি আমি।মা?তুমি চুপ কেন?তুমিই তো বলেছো ওকে আমার কাছে এনে দিবে।বাবা?তুমি বলোনি ক্ষমতা পেলে সব পাওয়া যায়?মা?আমি জানিনা।আমার মৃন্ময়িকে চাই।তুমি বলেছোনা কেউ ওকে বিয়ে করলেও ওকে ছিনিয়ে আনতে?এখন ওকে ছিনিয়ে নেবো আমি।

তাসমির মৃন্ময়িকে ধরার জন্য পা বাড়াতেই অনুভব তাসমিরকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ঘুসি দিলো।

অনুভব: বের হয়ে যা আমার ঘর থেকে।আর কোনোদিনও যেনো আমার মিনির আশেপাশে তোকে না দেখি।তাহলে আমি ভুলে যাবো তুই আমার বড়ভাই।

তাসমির: অনু?(জোরে চিৎকার করে)

কাসেম: কাবিল?কাইফ?এই ছেলেকে যেয়ে ওর রুমে আটকে রাখো।এক্ষুনি।তারপর সবাই নিচে বসারঘরে এসো।অনুভব?তুই নাতবৌয়ের কাছেই থাক।আর দরজাটা আটকে নে।

তাসমির বাধা দিলেও বাবা আর চাচার সাথে পারেনি।তারা দুজন জোর করে তাসমিরকে ঘরে আটকে দিয়ে নিচে নেমে গেলো।



অনুভব দরজা আটকে মৃন্ময়িকে জড়িয়ে ধরলো।মৃন্ময়ি পাথরের মতো স্থির।সে নরছেনা।

অনু: মিনি?এই মিনি?তুমি ভয় পেয়েছো বউ?চিন্তা করো না।দাদা ঠিক একটা ব্যবস্থা করবে দেখো।

মৃন্ময়ি এখনো স্থির।

অনু: এই পাগলি কথা বলো?দেখো আমি‌ আছিতো তোমার পাশে।ভালোবাসি মিনি।দয়া করে কথা বলো।

মৃন্ময়ি: অনি?

অনু: বলো?

মৃন্ময়ি: আমি জানতামনা তোমার ভাই আমাকে স্নানরতো অবস্থায় দেখেছে।আমার শরীরের ব্যাখ্যা দিচ্ছিলো।আমি আমি আর-

মৃন্ময়ি কিছু বলতে পারলোনা।অনুভবকে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।নিজেকে বড্ড খারাপ মনে হচ্ছে।কেন সেদিন মায়ের কথা না শুনে পদ্মপুকুরে গেলো?এত পর্দা যে এক লহমায় শেষ হয়ে গেলো।কি করবে এবার সে?

মৃন্ময়িকে শান্ত করতে পারছেনা অনুভব।পাগলের মতো চিৎকার করে কাঁদছে ও।



সবাই মাথা নিচু করে বসে আছে।তাসলিমা মুখ চেপে কাঁদছে।উপর থেকে দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ আসছে।অন্যদিকে মেয়েলি কন্ঠও ভেসে আসছে।সে চিৎকার করে কাঁদছে।সবকিছু থমকে আছে।

কাসেম: কি করবে এবার কাবিল? তোমার ছেলে কিভাবে বেপরোয়া হয়ে গিয়েছে দেখেছো?মেয়েদের নেশায় সে পাগল হয়ে গিয়েছে।নিজের ছোটভাইয়ের বউকেও ছাড় দিচ্ছেনা।কি করবে এবার?

কাবিল: আপনি যা বলেন(মিনমিনিয়ে)

নাসিমা: বের করে দাও ‌ওকে এই গ্রাম থেকে।

তাসলিমা: মা?আমার ছেলে-

নাসিমা: থামো তুমি।জমিদারদের সম্মান তোমার ছেলে মাটিতে মিলিয়ে দিয়েছে।

অমৃতা: আমি বলছিলাম ওকে যদি একবার বোঝানো যেতো।

তাসলিমা: হ্যা হ্যা আমি আর ওর বাবা বোঝাবো।দয়া ‌করে ছেলেটাকে দূরে ঢেলে দিবেন‌না।(কেঁদে)

কাইফ: বাবা ওকে‌ বরং একটা শেষ সুযোগ দিন।

সবার কথায় তাসমিরকে বোঝাতে গেলো কাবিল আর তাসলিমা।তাসমির চুপ করে মেনে নিলো কিন্তু ওর মনে যে অন্যকিছু চলছে তা কেউ‌ বুঝতেও পারেনি।তাসমির দরজার বাইরে থেকে মৃন্ময়ির কাছে ক্ষমা চাইলো।‌সব স্বাভাবিক।

কয়েকদিন পর রাতে সবাই মিলে কাসেম চৌধুরির ঘরে আড্ডা দিচ্ছে।মৃন্ময়ি আর অনুভব নিজের ঘরে।হঠাৎ সব লাইট বন্ধ হয়ে গেলো।জামিদারবাড়ি ছেয়ে গেলো গভির অন্ধকারে।অমৃতা আলো আনতে যেয়ে দেখলো সব দরজা জানালা বাইরে থেকে বন্ধ।হঠাৎই বেশ কিছু কন্ঠস্বর ভেসে এলো।সবাই ভয় পেয়ে গেলো।

নাসিমা: কিগো ডাকাত পরলো‌ নাকি বাড়িতে?

কাইফ: দরজা কে বন্ধ করলো?

কাইফ আর কাসেম দরজা ধাক্কাচ্ছে।সবার মনে ভয় ঢুকে গিয়েছে।



মৃন্ময়ি: বাতি নিভে গেলো?

অনুভব: বৈদ্যুতিক গোলোযোগ।বসো আলো আনি।

মৃন্ময়ি: আমার ভয় করছে।

অনুভব: ধুর পাগলি বসো।

অনুভব উঠে দরজার সামনে আসতেই মৃন্ময়ি অনুভবের আর্তচিৎকার শুনতে পেলো।

মৃন্ময়ি: অনি?কি হলো?

তখনি ভেসে এলো তাসমিরের কন্ঠ।সাথে পেছন থেকে দুজন হারিকেন জ্বালিয়ে সামনে এলো।আলোতে তাসমিরকে ভয়ংকর দেখাচ্ছে।

তাসমির: এবার কি করবে মৃন্ময়ি?

মৃন্ময়ি: আপনি?একি অনি?কি হলো তোমার?

মৃন্ময়ি ছুটে যেয়ে নিচে পরে থাকা অনুভবকে তুললো।মাথার পেছনে হাত দিতেই চমকে উঠলো ও।

মৃন্ময়ি: রক্ত?

অনুভব: মিনি?

মৃন্ময়ি: কি করলেন আপনি?ও ওর ম মাথা থেকে রক্ত?মা?ও মা?বাবা?

তাসমির: চেচিয়ে লাভ নেই।সবাইকে একরুমে দরজায় তালা দিয়ে আটকে রেখেছি।

অনুভব: ভাই?(অনেক কষ্ট করে)

তাসমির: বলো ভাই।আহারে আমার আদরের অনুটা এভাবে কাতরাচ্ছে?এই ওর লিলা সাঙ্গ কর।তলোয়ার দে।আর এই তুই যেয়ে মেয়েটাকে ধর।

মৃন্ময়ি: না।দয়া করে এমন করো না।আমার স্বামীকে ছেড়ে দাও।ছাড়ো আমায়।

অনুভব কিছু করতে পারছেনা।মাথা দিয়ে গলগল রক্ত পরে মেঝে ভেসে যাচ্ছে।

অনুভব: ভ ভাই?আ আমার ম মিনির ক্ষতি করিসনা।আল্লাহ্ সহ্য করবেনা।দয়া করে ওকে ছ ছেড়ে দে।

অনুভব মৃন্ময়ির কথা শুনলোনা তাসমির।একজন স্ত্রীর সামনে তার স্বামীর বুকে তলোয়ার ঢুকিয়ে দিলো।গলগল করে অনুর মুখ থেকে রক্ত পরছে।মৃন্ময়ি থেমে গেছে।

অনুভব: ম মিনি!

মৃন্ময়ি ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলো অনুভবের দিকে থপ করে বসলো ওর সামনে।অনুভব মৃন্ময়ির হাত ধরলো।

অনুভব: আ আমি পারলাম না।ক্ষমা করে দাও।পারিনি তোমায় রক্ষা করতে।আহ্।ম মিনি?আমার খ খুব কষ্ট হচ্ছে।আমি যাই মিনি।সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র উপর তোমায় রেখে গেলাম।(মৃন্ময়ির হাতে চুমু খেলো) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু,মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্(স.)।

চোখ বুজলো অনুভব।মৃন্ময়ি পাথরে মতো তাকিয়ে আছে।মাথার ভেতরটা শূন্য শূন্য লাগছে।মৃন্ময়ির হুস ফিরলো তাসমিরের টানে।তাসমির টান দিয়ে ওকে মেঝে থেকে উঠালো।

তাসমির: এবার কে বাঁচাবে তোকে?আর কেউ নেই তোকে বাচানোর জন্য।এই তোরা বাইরে যা।

তাসমিরের কথায় এর সাথের দুজন লোক বাইরে গিয়ে দরজা আটকে দিলো।তাসমির কাছে আসতেই মৃন্ময়ি জোরেজোরে হাসতে শুরু করলো।কেমন পাগল পাগল লাগছে তাকে।চুলগুলো এলোমেলো।অবিন্যস্ত ভাবে শাড়ি গায়ে দেয়া।চোখদুটো লাল হয়ে আছে।

মৃন্ময়ি: তুই আমাকে ভোগ করবি?এত শখ তোর?যদি আমি সত্যিই পবিত্র হই,যদি সত্যিই আমার ইবাদত আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহনযোগ্য হয় তাহলে শুনে রাখ তুই আমায় পাবিনা।তুই যেখানে আমার স্বামীকে মারলি সেখানেই তোকে মারবো।আমার সতিত্বের কছম,,আবার জন্মালে দুজন নিজের হাতে শেষ করবো তোকে।এই ঘরেই বন্দি থাকবি তুই।গুমরে গুমরে মরবি।

মৃন্ময়ি পাগলের মতো হাসতে হাসতে ঘরে তেল ছিটিয়ে দিলো।তাসমির ভয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে কিন্ত বাইরে কেউ নেই।হুট করেই হারিকেন মেঝেতে পরে গেলো।আগুন জ্বলে উঠলো ঘরে।হাসতে হাসতে মৃন্ময়ি প্রান দিলো।চারদিকে ছড়িয়ে পরলো আগুন।পুরো জমিদারবাড়ি আগুনের শিখায় জ্বলছে।একসাথে মৃত্যু হলো সবার।শেষ হয়ে গেলো চৌধুরিদের জমিদারি।



এটুকু বলে থামলেন ইদ্রিস।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here