মনের_উঠোন_জুড়ে #পর্ব_০৬

#মনের_উঠোন_জুড়ে

#পর্ব_০৬

#লেখনীতে_নূন_মাহবুব

-” দেখতে দেখতে সবার জীবন থেকে হারিয়ে গেলো কিছু দিন। সাহিত্য আর তাদের পুরো টিম তাদের চাকরির জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় কেসের ইনভেস্টিগেশন শুরু করে দিয়েছে। ফরেনসিক ডক্টর শাফ‌ওয়ান মাহমুদ জানিয়েছেন এ পর্যন্ত যে কয়টা মেয়ে খু’ন হয়েছে প্রত্যেকের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকটা মেয়েকে ঠিক একই ভাবে ,এক‌ই পদ্ধতিতে খু’ন করা হয়েছে। প্রথমে এদের কে পানীয় জাতীয় কিছুর সাথে হাই পাওয়ারের ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। খু’ নী এখানেই ক্ষান্ত হয়নি । ঘুমের ঔষধ খাওয়ানো সাথে সাথে তাদের শরীরে ইনজেকশন ও পুশ করা হয়েছে তাদের কে অজ্ঞান করার জন্য। এরপর খু’নী তাদের ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে জ’বা’ই করে বুক থেকে হৃৎপিণ্ড আলাদা করে নিয়েছে।খু’নীর হয়তো সাইকোলজিক্যাল কোনো সমস্যা রয়েছে।হয়তো অনেক দিন থেকে মানসিক কোনো সমস্যায় ভুগছেন।তবে অনেক চালাক আছে বটে।খু’ন করে কোনো প্রমাণ বা কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেখে যায় নি।তবে নির্জনে মতো তার ও ধারণা খু’নী কোনো পুরুষ নয়, বরং একজন মহিলা। ফরেনসিক ডক্টর শাফ‌ওয়ান মাহমুদ এতটুকু তথ্য দিয়েছে তাদের টিম কে।আর বাকি তথ্য তারা জোগাড় করে নিজেদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। উপরমহল থেকে তাদের কে বারবার বলা হচ্ছে যতো দ্রুত সম্ভব এই কেস সলভ করতে। আর যেন কোনো নিরীহ মেয়ের প্রাণ না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে।আর যদি তারা না পারে তাহলে তারা যেন সিআইডির চাকরি ছেড়ে দেয়। এজন্য সবাই প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রহস্যের উদঘাটন করতে।”

__________________________________

-” আজ শিক্ষার ভার্সিটির প্রথম দিন।তার হিসাববিজ্ঞান সাবজেক্ট এসেছে। ভর্তির সমস্ত কার্যক্রম সাদ্দাম শিকদার নিজে করেছেন। যদিও তার ইচ্ছা ছিলো শিক্ষার ভার্সিটির প্রথম দিনে সে শিক্ষার সাথে যাবে। সারাদিন একসাথে কাটাবে। কিন্তু তার জরুরি একটা কাজের জন্য শহরের বাইরে যেতে হবে।তিনি ব্রেকফাস্টের সময় আবৃত্তি কে বললো,দেখ মা আমি জানি না তুই কেন মনি কে সহ্য করতে পারিস না।ওর প্রতি তোর এতো রাগ কিসের? আজ থেকে মেয়েটার নতুন একটা জীবনের সূচনা হতে যাচ্ছে। আমি চেয়েছিলাম আজ ওর সাথে সময় কাটাতে। কিন্তু আমার একটা জরুরী কাজ পড়ে গিয়েছে। সেইখানে যেতে হবে আমাকে। তোরা যেহেতু এক‌ই ভার্সিটি তে আছিস , তুই কি একটু মনি কে সাথে করে নিয়ে যেতে পারবি? মেয়েটা ভার্সিটি তে গিয়ে যদি কোনো ঝামেলা করে।বড্ড চিন্তা হয় মেয়েটা কে নিয়ে আমার।”( লেখিকা নূন মাহবুব)

-” এমনভাবে বলছো কেন পাপা? হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি আমি ভুল করেছি।রাগের মাথায় তোমাকে অনেক বাজে কথা বলেছি। কিন্তু এর জন্য আমি সত্যিই অনুতপ্ত, আমি লজ্জিত।আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না পাপা?”

-” আমি যে একজন বাবা‌ রে মা।আর বাবা মায়ের কাছে সন্তানের হাজার টা ভুল ও মাপ করে দেওয়া যায়।”

-” তার মানে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছো?”

-” হ্যাঁ।”

-” থ্যাংক ইউ সো মাচ পাপা। তোমার মনি কে বলো পাঁচ মিনিটের মধ্যে যেন নিচে আসে।না হলে কিন্তু আমি তাকে রেখে চলে যাবো। বাইরে ড্রাইভার কাকু অপেক্ষা করছে।আই হ্যাভ টু গো।”

-” আমি রেডি আবৃত্তি ম্যাম। চলুন আপনি সিঁড়ি থেকে নামতে নামতে বললো শিক্ষা।”

-” শিক্ষা কে দেখে একদফা চমকে উঠলো আবৃত্তি। শিক্ষা কালো কালারের জর্জেটের একটা থ্রি পিস পরেছে।কালো কালার টা ফর্সা গায়ের সাথে একদম ফুটে উঠেছে।মুখে নেই কোনো প্রসাধনী । শুধু মাত্র ঠোঁটে গাঢ় খয়েরী লিপস্টিক দিয়েছে । হাঁটু অব্দি লম্বা স্ট্রেট চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে। দেখলে কেউ বলবে না এটা ন্যাচারাল চুল।সবাই ভাববে হয়তো পার্লার থেকে চুল স্ট্রেট করা হয়েছে। ডাগর ডাগর চোখের চাহনি , পাগল করা হাঁসি সব মিলিয়ে লম্বা, চওড়া গড়নের মিষ্টি একটা মেয়ে।”

-” চলুন আবৃত্তি ম্যাম, যাওয়া যাক।”

-” হুম বলে তারা বেরোতে যাবে তার আগেই কাজের মেয়ে সাথী এসে বললো, সফর আফা আফনারে অনেক বিউটিকুল লাগছে।আই হ্যাভ এ ক্রাশ অন ইউ। সাহিত্য ভাইজান যদি আজ আফনারে দেখতো একদম ফিট হয়ে পড়ে থাকতো। একটা নজর টিকা ল‌ইয়ে যান।যাতে কারো নজর না লাগে সফর আফা।”

-” সাথীর কথায় অন্তরা এসে বললো , ওটা বিউটিকুল না বিউটিফুল হবে সাথী।এসব ভুল ভাল ইংরেজি কোথা থেকে শিখেছিস তুই? আর তোকে কতোবার বলেছি ওর নাম শিক্ষা ,সফর নয়।”

-” শিক্ষা আফা বলতে গেলে আগে আগে ঐ শিক্ষা সফর কথাটা আমার মাথায় চলে আসে।তাই আমি সংক্ষেপে তাকে সফর আফা ডাকি। তবে দুইডা কিন্তু একি কথা হলো‌ । আই মিন যে লাউ সেই কদু।”

___________________________________

-” প্রায় ঘন্টা খানেক পরে গাড়ি ভার্সিটির সামনে এসে দাঁড়ালো। আবৃত্তি গাড়ি থেকে নেমে দেখে তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবী প্রিয়া তার জন্য গেটের বাইরে অপেক্ষা করছে। আবৃত্তি প্রিয়া কে দেখা মাত্র দৌড়ে তাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।প্রিয়া তার কাজিনের বিয়েতে গ্ৰামে গিয়েছিলো কিছুদিনের জন্য।যার জন্য কয়েকদিন তাদের দেখা হয় নি।আর গ্ৰামে নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকার কারণে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ও হয় নি। অনেক দিন পরে বান্ধবীর দেখা হয়ে আবৃত্তি এতোটা আবেগ প্রবন হয়ে গেছিলো যে শিক্ষা নামে কেউ তার সাথে এসেছে এইটা আবৃত্তি ভুলে গিয়েছে। আবৃত্তি শিক্ষা কে‌‌ রেখে ক্যাম্পাস থেকে বেশ দূরে একটা নির্জন জায়গায় চলে যায়। দুই বান্ধবী বাহারি আলাপে মেতে উঠেছে ,এমন সময় পিছন থেকে পুরুষালী কণ্ঠে ভেসে আসে, আজকে তোমাকে অনেক বেশি হ’ট লাগছে বৌয়াম পাখি। দিন দিন আরো বেশি হ’ট হয়ে যাচ্ছো। তোমার হ’ট হ‌ওয়ার পিছনে গোপন রহস্য জানতে ‌পারি?”

-” আবৃত্তি তুই কি আজো চুপ করে থাকবি? ঐ দিগন্ত ব’দ’মা’শ কে কিছুই বলবি না। তুই কেন ওকে বলছিস না তুই একজন সিআইডি অফিসারের বোন? দিগন্ত দিনের পর দিন তোকে হ্যারাস করছে আর তুই মুখ বুজে সহ্য করছিস কেন?”

-” আ’ম নট ইন্টারেস্ট টু টকিং এবাউট মাইসেল্ফ ।”

-” কিন্তু কেন?”

-” দেখ আমি যদি সবাইকে বলি আমি একজন সিআইডি অফিসারের বোন,সবাই আমাকে ভয়ে এড়িয়ে চলবে।কেউ আমার সাথে মিশতে চায়বে না। আমি এইখানে পড়াশোনা করতে এসেছি।পাপার টাকা পয়সা বা ভাইয়ার পাওয়ার দেখাতে নয়। তাছাড়া তুই খুব ভালো করে জানিস পাপা আমাকে এই ভার্সিটি তে ভর্তি করতে চায় নি। আমি শুধু মাত্র তোর জন্য এইখানে ভর্তি হয়েছি।তাই পাপা বা ভাইয়া কে এই সম্পর্কে কিছু বলতে পারবো না। আর তো মাত্র কয়েকটা দিন। এরপর আমাদের গ্ৰাজুয়েশন শেষ হয়ে যাবে। তারপর দিগন্ত না আমার দেখা পাবে আর না আমাকে বিরক্ত করতে পারবে। এখন তাড়াতাড়ি চল তো। ওকে যতো এড়িয়ে চলা যায়,ততোই আমাদের জন্য মঙ্গল বলে আবৃত্তি আর প্রিয়া পা বাড়ানোর আগেই দিগন্ত এসে আবৃত্তির ওড়না হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো, এতো তাড়া কিসের সুন্দরী? আমার মনে যে আগুন তুমি জ্বালিয়েছো সেই আগুন আগে নিভিয়ে দিয়ে যাও।”

-” আমি কিন্তু চিৎকার করবো।”

-” ওহ্ আচ্ছা ।বেবি চিৎকার করবে। হ্যাঁ হ্যাঁ করো চিৎকার।এই নির্জন জায়গায় তোমার চিৎকার শুনে কেউ আসবে না।আর ভুলে ও যদি চলে আসে এই দিগন্ত আগার‌ওয়ালের সামনে দাঁড়ানোর সাহস পাবে না।সবাই জানে দিগন্ত আগার‌ওয়াল যা চাই তা সে আদায় করে নেয়। তাই আজ আমার হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না মাখন বেবি বলে দিগন্ত আবৃত্তির ওড়না ধরে নিজের দিকে টান দিতে যাবে, তার আগেই কেউ একজন দিগন্তের গালে ঠাস ঠাস করে থা’প্প’ড় মে’রে দেয়। থা’প্প’ড় খেয়ে দিগন্ত চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় বললো কার এতো বড়ো কলিজা যে দিগন্ত আগার‌ওয়ালের গালে থা’প্প’ড় মা’রে ?সেই কলিজা আমি কেটে টুকরো টুকরো করে রাস্তার কু’কু’র দিয়ে খাওয়াবো।”

-” তৎক্ষণাৎ মেয়েলি কণ্ঠে ভেসে ওঠে , আমার । এবার তুই যা করবি কর।দেখি তুই ঠিক কি করতে পারিস । আমি ও দেখি তোর ক্ষমতা কতটুকু?

চলবে ইনশাআল্লাহ।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here