মনের_অরণ্যে_এলে_তুমি #তাহিরাহ্_ইরাজ #পর্ব_৬ ( শেষাংশ ) [ বিবাহ বন্ধনে দু’জনে ]

#মনের_অরণ্যে_এলে_তুমি
#তাহিরাহ্_ইরাজ
#পর্ব_৬ ( শেষাংশ ) [ বিবাহ বন্ধনে দু’জনে ]

শুধুমাত্র আজ রাতটি। একাকী জীবনের অবসান। সূচনা এক নয়া জীবনের। ইরহাম ও হৃদির বিবাহ আগামীকাল। বিষয়টি যতবার মনের গহীনে প্রতিধ্বনিত ততবারই পুলকিত হচ্ছে গোটা তনুমন। নরম তুলতুলে বালিশে আয়েশ করে শুয়ে মেয়েটি। হাতে স্মার্টফোন। তাতে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রি ওয়েডিং ফাংশন সমূহে ক্যাপচারকৃত অসংখ্য ফটো। একের পর এক ফটো স্লাইড করে চলেছে মেয়েটি। দেখছে সকলের খুশি। হাসিমুখ। ফটো দেখতে দেখতে কয়েক মাস পূর্বের একটি ফটো দৃশ্যমান হলো। তাদের ফ্যামিলি ফটো। ফারিজা’র জন্মদিনে তোলা। আম্মু, আব্বু কিছুতেই ফটো তুলতে চাইছিল না। বলেকয়ে শেষমেষ ফারিজাকে হাত করে রাজি করানো হয়েছিল। এ ফটোতে তারা পরিবারের সদস্যরা সবাই উপস্থিত। আম্মু, আব্বু, চাচু, চাচি, বোনেরা সবাই। কি সুন্দর মুহূর্ত! প্রাণে যেন আনন্দময় তরঙ্গ বয়ে যায়। ফটোটি একমনে দেখতে দেখতে ভাবনায় তলিয়ে গেল হবু বধূ। আজকের রাতটি শুধু। এরপর সে চৌধুরী পরিবারের নববধূ। মিস্টার ইরহাম চৌধুরীর সহধর্মিণী। কারোর পুত্রবধূ, কারো ভাবী, কারোর নাতবউ। অজান্তেই ধীরে ধীরে আপন নীড়ের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হবে। তার আপনজন হিসেবে পরিচিতি পাবে ওই পরিবার। আম্মু, আব্বু জন্ম দিয়েও পর হয়ে যাবে। এ বাড়িতে আসতে, সময় কাটাতে বোধহয় শ্বশুরবাড়ির অনুমতি লাগবে। আসলেই কি এমনটি হবে? তবে গল্প, উপন্যাস, টিভির পর্দায় যে ভিন্ন কিছু দেখায়! বিবাহ পরবর্তী জীবন তো বড় মধুর। সুখময়। তাই নয় কি!

ভাবনায় মশগুল মেয়েটি অবচেতন মনে ছটফট করে উঠলো। বক্ষমাঝে অসহনীয় পীড়া। অশ্রু মালা চোখের কিনারে আন্দোলনরত। যেকোনো মুহূর্তে সবটুকু বাঁধা পেরিয়ে গড়িয়ে পড়বে অবিরাম। আব্বু আম্মুর ফটোটি জুম ইন করে দেখতে লাগলো হৃদি। ঝাপসা হয়ে আসছে দৃষ্টি। বুকের ভেতর বড় জ্বা’লা পো ড়া করছে। আপনজনকে হারানোর ভয় জেঁকে বসছে প্রবল রূপে। টুপ করে দু ফোঁটা অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়লো। অধর কা’মড়ে নিজেকে সামলানোর বৃথা প্রয়াস চালালো মেয়েটি। অস্বস্তি, যাতনায় পি ষ্ট হয়ে তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো। বারকয়েক ঢোক গিলে গণ্ডস্থলে স্বল্প শান্তি নামিয়ে আনলো। তবে শান্তি মিললো না অন্তরে। মোবাইলটি বিছানার একাংশে ফেলে বিছানা ত্যাগ করে নেমে এলো মেয়েটি। দ্রুত কদম ফেলে কক্ষ হতে বেরিয়ে গেল। স্বল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেল মা-বাবার কক্ষের ধারে। বদ্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এবার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালো। নিঃশব্দে ক্রন্দনে দিশেহারা হলো কোমল কায়া। কপোলের কোমল ত্বক সিক্ত হতে লাগলো অশ্রুতে। র’ক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়লো আঁখি জোড়ার সফেদ অংশে। আব্বু আম্মুর কাছে ছুটে যাওয়ার জন্য ছটফট করছে অন্তর। আম্মুর কোলে মাথা রেখে সবটুকু অস্বস্তি, দুঃখ দূরীকরণ করতে উদগ্রীব তনুমন। তবে এখন কি তা সম্ভব? রাত যে অনেক। নিদ্রায় তলিয়ে তারা। ডাকলে কি শুনবে? নেত্র গড়িয়ে নোনাজল বর্ষিত হতে লাগলো। একরাশ আকুলতা, যাতনা ভেতরে দা’ফন করে নিজ কক্ষের উদ্দেশ্যে মন্থর গতিতে হাঁটতে লাগলো হৃদি। এলোমেলো তার পথচলার ধরন। দেখতে বড়ই দুঃখিনী, অগোছালো লাগছে।

‘ সুখনীড় ‘ অ্যাপার্টমেন্টের ছয়তলায় আজ আনন্দঘন, উত্তেজনাময় পরিবেশ। অতি ব্যস্ত রায়হান-ফারহানা দম্পতি। আজ যে তাদের কনিষ্ঠ কন্যা হৃদির বিয়ে। পবিত্র এক বাঁধনে বাঁধা পড়তে চলেছে অগোছালো, সহজ-সরল, চঞ্চল মেয়েটি। ভোরবেলা হতেই ফ্লাটে জমজমাট আবহাওয়া। বাড়ির নারী সদস্যরা নিজ নিজ কর্মে লিপ্ত। পুরুষরাও থেমে নেই। তাদের কর্ম সম্পাদন করে চলেছে নিষ্ঠার সহিত। খুদে সদস্যরা ছোটাছুটি করছে এদিক ওদিক। উপভোগ করে চলেছে বিয়ে বাড়ির আনন্দঘন পরিবেশ।

নিজ কক্ষে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে হৃদি। নিদ্রায় বুঁজে আসছে আঁখি পল্লব। বিপরীত দিকে পাশাপাশি বসে নীতি এবং নিদিশা। নীতির হাতে খাবারের প্লেট। সে মোলায়েম স্বরে বলে চলেছে,

” হৃদু বুইন আমার! খাবারটা খেয়ে নে। কতগুলো বেজে গেছে‌। চাচি টের পেলে কিন্তু খুব বকবে। খেয়ে নে না। ”

নিদ্রায় মগ্ন মেয়েটি অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো, ” হু.. ”

আবার ঘুম। নীতি পড়েছে ফ্যাসাদে। এই কুম্ভকর্ণকে এখন জাগাবে কি করে? আচ্ছা মুসিবত তো! এ মুসিবত হতে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলো রাঈশা। সে ব্যস্ত ভঙ্গিতে কক্ষে প্রবেশ করেই চমকালো! হৃদি এখনো ব্রেকফাস্ট করেনি! মুহুর্তেই মেজাজ বিগড়ে গেল। বিছানার ধারে ছুটে এলো সে। নিদ্রাচ্ছন্ন মেয়েটির ডান বাহু ধরে এক ঝটকায় বসিয়ে দিলো। শক্ত কণ্ঠে ধমকে উঠলো,

” এখনো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস? খাবি কখন আর গোসল করবি কখন? ওঠ বলছি। ”

আকস্মিক কাণ্ডে হকচকিয়ে গেল হৃদি। নিদ্রা পলায়ন করলো পেছনের দরজা দিয়ে। রাঈশার এমন অবতারে নীতি কাঁচুমাচু করে বললো,

” আপু ও-ও খাচ্ছিল। ”

” চুপ। কত যে খাচ্ছিল, দেখেছি। ”

হৃদির পানে তাকিয়ে,

” আর তুই? পাঁচ মিনিট সময় দিলাম। চুপচাপ খেয়ে নে। নইলে ভালো হবে না এই বলে রাখলাম। ”

গটগট করে সেথা হতে প্রস্থান করলো রাঈশা। আজকের দিনেও এমনতর আচরণ! না চাইতেও হবু কনের নেত্রকোণে জমায়িত হলো অশ্রু বিন্দু। তা লক্ষ্য করে মলিন হলো নীতি, নিদিশার বদনখানি।
.

‘ আনন্দাঙ্গন ‘ এ আজ সত্যিই আনন্দমেলা বসেছে। বাড়িতে নতুন সদস্যের পদার্পণ হতে চলেছে। সে উত্তেজনায় মশগুল মালিহা, ইনায়া। সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা রাজেদা খানম লিভিং রুমের এক সোফায় বসে। অভিজ্ঞতার আলোকে তত্ত্বাবধায়ন করছেন সকল আয়োজন। সে-ই মতো কর্ম লিপ্ত উপস্থিত নারীগণ। পুরো বাড়িতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দেখতে বড় ভালো লাগছে। নজরকাড়া সে আয়োজন! তবে এতকিছুর ভিড়ে নির্লিপ্ত, নিষ্প্রাণ দু’জন। বাপ বেটা যুগল। দু’জন ভিন্ন ভিন্ন দুই কারণে এমনতর আচরণ করছে। এজাজ সাহেব এ মুহূর্তে নিজ কক্ষে। অফিসিয়াল কর্মে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন। আর ইরহাম?

বাহিরের কর্ম সম্পাদন করে সদ্য কক্ষে প্রবেশ করলো মানুষটি। এ নিয়ে মালিহা কম চেঁচামেচি করেননি। আজ যার বিয়ে তারই খোঁজ নেই। নিজের মতো ঘুরছে, ফিরছে, কাজ করছে। দেখা পাওয়া মুশকিল। তবে এসবে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করলো না ইরহাম। নিজের মতো করে কক্ষে প্রবেশ করলো। গোসল সেরে সতেজ দেহে বেরিয়ে এলো। সমতল আরশির সম্মুখে দাঁড়িয়ে তোয়ালে চালনা করে চলেছে সিক্ত কেশে। উদোম তার দেহের উপরিভাগ। নিম্নে কটন চেক পাজামা। এমন মুহূর্তে বিপ বিপ শব্দে আলোড়ন সৃষ্টি করলো ক্ষুদ্র যন্ত্রটি। জানান দিলো কেউ যোগাযোগ করতে ইচ্ছুক। বাঁ হাতে তোয়ালে চালনা করতে করতে বিছানার ধারে এগিয়ে গেল ইরহাম। ডান হাতে মোবাইল নিতেই কুঞ্চিত হলো ভ্রু যুগল। কলার আইডি যে অনাকাঙ্ক্ষিত! অপ্রত্যাশিত! তবুও কল রিসিভ করলো সে।

” আসসালামু আলাইকুম। ”

” ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেমন আছো বেটা? ”

লম্বা এক সালাম দিয়ে হালচাল জিজ্ঞেস করলেন আজগর সাহেব। ইরহামের অধরে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। দুর্বোধ্য সে হাসির রেখা।

” এই তো আলহামদুলিল্লাহ্। আল্লাহ্ যেমন রেখেছেন। তা হঠাৎ করে জনগণের নেতাজী আমাকে স্মরণ করলেন যে? কোনো দরকার? ”

আজগর সাহেব প্রশস্ত হাসলেন।

” দরকার ছাড়া বুঝি স্মরণ করতে মানা? তা শুনলাম বিয়ে করছো। নতুন জীবনের জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন। ”

” শুকরিয়া। ”

” হু। ভালোই করছো বিয়ে করে। আর কতকাল একা থাকবে বলো? এবার বরং বিয়েশাদী করে সংসারী হও।”

” জ্বি নিশ্চয়ই। বিয়ে তো করার ই ছিল। আফটার অল আমি তো আবার অন্যদের মতো হালাল ছেড়ে হা’রামে গা ভাসাতে পারি না। এছাড়াও বিয়ের বয়স হয়েছে। শেষমেষ বুড়ো বয়সে বাহিরে চুকচুক করবো নাকি? ”

সুক্ষ্ণ খোঁচাটা ঠিক জায়গামতো লাগলো। আজগর সাহেব গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন,

” মুখ সামলে কথা বলো চৌধুরী। ”

” জ্বি মুখ সামলেই বলছি। বেসামাল হলে তো অন্যদের ই অসুবিধা। যাই হোক। শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ। পারলে বিয়েতে আসবেন। পেট ভরে খেয়েদেয়ে চলে যাবেন। ”

” পেট ভরে খাওয়ার জন্য চৌধুরীদের দ্বারস্থ হতে হবে এমন দিন এখনো আসেনি। আর আসবেও না বুঝতে পেরেছো বাছা? যাই হোক। বিয়েশাদী করে মন দিয়ে ঘরসংসার করো। ওসব ইলেকশন টিলেকশনের চিন্তা ছেড়ে দাও। নতুন বউকে নিয়ে ঘোরো। হানিমুন মানাও।”

” বউকে নিয়ে হানিমুন করার জন্য ঘুরতে যেতে হবে এমনটা তো অবশ্যই নয়। স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকলে ভাঙা ছাদের নিচেও হানিমুন করা যায়। যাই হোক। সবাই তো আর সব বোঝে না। এখন তাহলে রাখছি? বুঝতেই পারছেন বিয়ে বলে কথা। ”

কিছু বলবার সুযোগ না দিয়ে,

” ওহ্ হাঁ। বিয়ে হয়েছে বলে ইরহাম চৌধুরী ভেজা বেড়াল হয়ে গেছে এমন ভাবনা আনবেন না যেন। ইনশাআল্লাহ্ নির্বাচনী প্রচারণাকালীন সময়ে দেখা হচ্ছে। রাখছি। আসসালামু আলাইকুম। ”

কল কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো মানুষটি। ততক্ষণে সিক্ত কেশে তোয়ালে চালনা সমাপ্ত হয়েছে। ভেজা তোয়ালে যথাস্থানে রেখে ঘরের পোশাক পরিধান করে নিলো সে। চোখে রিমলেস চশমা পড়ে বেরিয়ে এলো কক্ষ হতে।
.

সান্ধ্যকালীন প্রহর। দিবাশেষে আপন নীড়ে ফিরছে মুক্ত বিহঙ্গের দল। সতেজ পবনে শিহরিত তনুমন। আনন্দাঙ্গনের বাহিরে অপেক্ষারত বরযাত্রীর গাড়ি। এক সারিতে দন্ডায়মান গাড়িগুলো। এজাজ সাহেব অনিচ্ছা সত্ত্বেও এসবে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। ওনারা অপেক্ষায় বর এবং তার ছোট বোনের জন্য। অপেক্ষার প্রহর শেষে বেরিয়ে এলো ইরহাম। সঙ্গে বন্ধু তাঈফ। মেরুন রঙের শেরওয়ানি পরিহিত মানুষটি। চোখে রিমলেস চশমা যার আড়ালে লুকায়িত নভোনীল চক্ষু জোড়া। হালকা চাপদাড়ির উপস্থিতি গুরুগম্ভীর মুখশ্রীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে চলেছে। বাঁ হাতে রিস্ট ওয়াচ। পায়ে নবাবী শ্যু। গৌর বর্ণের দেহে এমনতর সজ্জা বেশ মানিয়েছে! মালিহা খুশিমনে এগিয়ে গেলেন।

” মাশাআল্লাহ্! আমার ইরুকে আজ খুব সুদর্শন লাগছে! কারোর নজর না লেগে যায়। ”

পুত্রের ললাটে চুম্বন এঁকে দিলেন উনি। ইরহামের অধরকোণে অতি সুক্ষ্ণ হাসির রেখা ফুটে উঠলো। এদিকে ইনায়া এখনো অনুপস্থিত দেখে রাহিদ বাড়ির অন্দরে প্রবেশ করতে বাধ্য হলো।

লিভিং রুমে পৌঁছাতেই দেখা মিললো ইনায়ার। লেহেঙ্গা পরিহিতা ললনা হিজাব ঠিক করতে করতে এগিয়ে আসছে। রাহিদ দিলো চটাপট এক ধমক।

” এতক্ষণ লাগে আটা ময়দা মাখতে? সবাই যে অপেক্ষা করছে সে খেয়াল নেই? চল তাড়াতাড়ি। ”

” রাহি ভাইয়া! আ আমি তো..”

কিচ্ছুটি শুনলো না রাহিদ। বড় বড় কদম ফেলে বেরিয়ে এলো। মলিন বদনে পিছু নিলো মেয়েটি। সকলে গাড়িতে বসলে কার ডোর উন্মুক্ত করে নিজ আসন গ্রহণ করলো বর। বরযাত্রী নিয়ে চলতে আরম্ভ করলো গাড়ি।
.

লিভিং রুমে উপস্থিত বরযাত্রীর একাংশ। বাকিরা ছাদে। যেখানে অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন করা হয়েছে। বড় একটি সোফায় বসে ইরহাম। ডান পাশে ইনায়া। বামে রাহিদ। তাঈফ দাঁড়িয়ে মালিহার পাশে। সকলের মধ্যমণি কাজী সাহেব। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন উনি। রাশেদ সাহেব ওনাকে নিয়ে কনের কক্ষে অগ্রসর হলেন।

কনের বিপরীত দিকে বসে কাজী সাহেব। উনি কোমল স্বরে বললেন,

” বলো মা কবুল। ”

সে আকাঙ্ক্ষিত মূহুর্ত আজ উপস্থিত। কাজীর কণ্ঠ যেন শুধু কর্ণ নয় বরং হৃদয়ে কড়া নাড়ছে। ধুকপুক ধুকপুক করছে হৃৎপিণ্ডে। সমস্ত উত্তেজনা, আনন্দ এক লহমায় উধাও। আছে শুধু একরাশ চিন্তা, ভীতসন্ত্রস্ত ভাব এবং আপনজনকে ছেড়ে যাওয়ার যাতনা। থেমে থেমে কম্পিত হচ্ছে অন্তঃস্থল। কাজীর ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেল নববধূ। ওর কাঁধে হাত রেখে অনুমতি এবং ভরসা দুইই প্রদান করলেন ফারহানা। মায়ের পানে একপলক তাকিয়ে সে-ই তিন বর্ণের শক্তিশালী, মধুর শব্দটি উচ্চারণ করলো হৃদি।

” কবুল। ”

” আবার বলো মা। ”

” আলহামদুলিল্লাহ্ কবুল। ”

ভেতরকার অস্থিরতা, ভীত ভাব, সবটুকু উত্তেজনা লুকায়িত রেখে তিনবার কবুল বলে, মহান রবের নাম স্মরণ করে পবিত্র এক বন্ধনে আবদ্ধ হলো দু’জন। অপরিচিত, ভিন্ন মানসিকতার অধিকারী, সর্বোপরি দুই মেরুর দু’জনে এক সুতোয় বাঁধা পড়লো। দুইধারে উপস্থিত সকলে আলহামদুলিল্লাহ্ বলে রবের শুকরিয়া আদায় করলো। আজ থেকে হৃদি শেখের অন্যতম পরিচয় সে ইরহাম চৌধুরীর সহধর্মিণী। তার অর্ধাঙ্গী। কেমন হতে চলেছে ভিন্ন পথের এই দুই পথিকের পথচলা?

চলবে.

[ আসসালামু আলাইকুম। কেমন লাগলো আজকের পর্বটি? বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো দুজনে। কেমন হতে চলেছে আগামীর পথচলা? গঠনমূলক মন্তব্য আশা করছি বন্ধুরা। ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here