ভ্যাম্পায়ার ওয়াইফ সিজন_২ পর্ব : ১,২

ভ্যাম্পায়ার ওয়াইফ সিজন_২
পর্ব : ১,২
লেখা : সাব্বির আহমেদ
পর্ব : ১

রুশা নামটাই এখন দেখছি আমার জন্য অভিশাপ।
বাবা মায়ের সাথে পাত্রী দেখতে গিয়ে যখন জানতে পারলাম পাত্রীর নামটাও রুশা।
তখনই আমার বুকে কাপুনি উঠে গিয়েছিলো।
আমি তো একদম এই মেয়েকে বিয়ে করতে নারাজ।
অন্য দিকে বাবা মায়ের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে ,,,
তাদের মেয়ে দেখে একদম পছন্দ হয়ে গেছে।
.
তারপরও আমি একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম যে ,,,
“পাত্রীর সাথে কথা বলে” এই বিয়েটা ক্যান্সেল করা যায় কিনা।
অন্য দিকে আবার ভয়ও করছিল…..
এই মেয়েটাই আবার সেই ভ্যাম্পায়ার রুশাই কিনা।
..
.
..
.
তবে বাবা মনে হয় আমার ভাব ভঙ্গি দেখে কিছু একটা আচঁ করতে পেরেছিলো।
তাই তিনি আমাকে মেয়ের সাথে আলাদা কথা বলতে দিলেন না।
যদিও পাত্রী পক্ষ একবার চেয়েছিলো আমাদের একবার আলাদা ভাবে কথা বলতে দেওয়ার জন্য।
তবে বাবা তা এককথায় নাক্ষচ করে দিয়েছিলেন।
এই লোকটাকে নিয়েই যত সমস্যা।
….
….
তারপরে পাত্রী দেখে একেবারে বিয়ের
ডেড পাকাপাকি করে
এসেছে।
কাল আমার বিয়ে।
অথচ এই বিয়েতে আমার
কোনো মত নেই।
আর থাকবেই বা কি করে আমি তো ভয়ে
ভয়েই মরে যাচ্ছি।
.
যদি আবার ভ্যাম্পায়ার রুশা
ফিরে আসে তখন কি হবে।
তাই এই বিয়ে বন্ধ করার জন্য
অনেক কষ্টে গতকাল আমি
রুশার নাম্বারটা যোগাড়
করেছিলাম।
আর এখন রুশাকে ফোন করার জন্য মোবাইল হাতে নিয়ে বসে আছি।
….
….
এদিকে চার পাচ বার কল
দিয়েও যখন রুশার নাম্বার
বিজি পেলাম।
তখন একটা দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় এলো।
ভাবলাম যে ……
এখন যদি মায়ের কাছে গিয়ে
বলি যে……
এই দেখো তোমার হবু
বঊমাকে “পাচ “বার কল
দিয়েও বিজি পেলাম।
তিনি হয়ত অন্য ছেলের
সাথে প্রেমালাপে ব্যস্ত আছেন।
…..
এমন প্যাচ কষলে নিশ্চয়ই একটা লাভ হবে।
আর তখন কায়দা করে বিয়েটাও বাতিল করা যাবে।
তখন তো আমি পুরাই বিন্দাস হয়ে যাবো।
ওহ……
এমন একটা বুদ্ধি আমার মাথায় কিভাবে
এলো সেটা আমি ভেবেই
পেলাম না।
তাই খুশিতে খাটের উপরেই নাগিন
ড্যান্স দিতে শুরু করলাম।
….
….
….
হঠাৎ আমার যেমন হেব্বি
আনন্দ লাগছিলো….
তেমনই
মূহুর্তের মধ্যে সব কিছু মাটি
হয়ে গেলো।
মা যদি রুশার কথা বলার পরে মা প্রশ্ন করে যে….
“রুশার নাম্বার কোথায় পেয়েছি” ???
তখন আমি কি বলবো।
আর এই কথা যদি মা বাবার কানে দেয়
……
তাহলে নির্ঘাত বুলবুল আবার
আমাদের বাড়িতে আঘাত
হানবে।

এদিকে এই মেয়েটাকে কল দিতে দিতে
আমার হাত প্রায় অবশ হয়ে
গেছে।
তাই রাগ করে ফোনটা বিছানার উপর ছুড়ে মারতেই দেখি “ফোন”টা
বেজে উঠেছে।
….
চট জলদি ফোনটা তুলে হাতে নিতেই
দেখি মেয়েটা মানে রুশা
ফোন করেছে।
আমি কল কেটে দিয়ে ব্যাক করতেই
ওপাশ থেকে কল রিসিভ
হলো।
__ওই আপনি কে হ্যা???
এভাবে একের পর এক ফোন
দিচ্ছেন কেনো!!!
আর আমার কল কেটে দিয়ে ব্যাকই বা
করলেন কেনো ।
মনে করেন কি আমাদের ফোনে কথা
বলার মতো টাকা থাকে না
নাকি (রুশা)

ওরে বাবা এটা মেয়ে নাকি দজ্জাল।
ভয়ে আমি ফোন কেটে দিলাম।
এই মেয়ের কাছে যদি বিয়ে ভেঙে
দেওয়ার কথা বলি তবে
নির্ঘাত সেটা আমার
বাবার কানে দিয়ে দেবে।
আর বাবা তখন আমাকে বেদম কেলাবে।
এই বয়সে কেলানি খাওয়ার শখ নেই আমার।
..
..
ঘর থেকে যেই বের হতে
যাবো ওমনি আবার ফোনটা
বেজে উঠলো।
ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখিই রুশা আবার
ফোন করেছে।
আমি কলটা কেটে দিয়ে রুশার
নাম্বারটা ব্লাকলিসটে
রেখে দিলাম।
কারন সেধে
বাশঁ খাওয়ার কোনো ইচ্ছাই
আমার নেই।

ঘর থেকে বের হয়ে সোজা ছাদে চলে
গেলাম।
ঘড়িতে এখন রাত ১১টা।
শীতের রাত তাই বেশ ঠান্ডা লাগছে।
এই সময়ে এক “কাপ কফি” হলে “মন্দ” হতো না।
কিন্তু সেটা কেইবা এনে
দিবে।
তাই নিজেই আবার
নিচে নেমে এলাম এক কাপ
কফি নেওয়ার জন্য।
কফি নিয়ে ছাদে উঠতেই দেখি
ছাদের বাল্বটা ফিউজ হয়ে
গেছে।
..
..
ধ্যৎ…..
আর ভালো লাগে না।
কফির মগটা রেলিংয়ের উপর রেখে বাল্বটাতে একটু
নাড়া দিতেই বাল্বটা
পুনরায় জ্বলে উঠলো।
তারপর রেলিংয়ের কাছে গিয়ে
কফির মগটা হাতে নিতেই
দেখি …..
…..
মগটা অর্ধেক খালি
আর মগের গায়ে
লিপস্টিকের দাগ লেগে
রয়েছে।
..
আমি রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম।
কারন এত রাতে ছাদে আমি ছাড়া আর
কেউই নেই।
আর তাছাড়া রাতের বেলা আমার
বিল্ডিংয়ের কেউই
সচারচার ছাদে আসে না।
আর বিশেষ করে মেয়েরা
তো নয়ইই।
তাহলে আমার কফির মগে লিপস্টিকের দাগ এলো কোথা থেকে।
..
..
যখন এসব কথা ভাবতেছি ঠিক তখনই
আমার ঘাড়ের কাছে কারো
গরম নিশ্বাসের অনুভূতি টের
পেলাম।
আমার পিঠের শিড় দাড়া বেয়ে গরম একটা
স্রোত এই শীতের ভিতরও
বয়ে গেলো।
আমার পিছনে ফিরে তাকানোর সাহসটা
পর্যন্ত উবে গিয়েছে।
..
..
আর ঠিক তখনই আমার সে দিন
রাতের কথা মনে পড়লো।
যেদিন রাতে ভ্যাম্পায়ার রুশা আমার উপর তার
“প্রতিশোধ” নেওয়ার কথা
বলে উধাও হয়ে
গিয়েছিলো।
সে বলেছিলো
আমার উপর তার প্রতিশোধ
নিতে সে আবার ফিরে আসবে।
নাহ আমার এতো রাতে ছাদে আসা উচিত হয় নি।
নিজের প্রতি নিজেরই রাগ হতে লাগলো।
….

ওদিকে আমার পিছনে যে….
“কে দাড়িয়ে আছে ”
সেটাও দেখার মতো সাহস আমার হচ্ছে না।
তাই ভয়ে ভয়ে আল্লাহর নাম জপতে শুরু করলাম।
আর ঠিক তখনই আমার নিজেকে অনেকটা হালকা মনে হচ্ছিল।
কারন ঘাড়ের কাছে এখন আর গরম নিশ্বাসটা পাচ্ছি না।
তাই কোনো রকম একটু সাহস করে পিছনে ঘুরতেই….
আমি একটা হার্ট বিট মিস করলাম।

কারন আমার পিছনে এতক্ষন ধরে ….

চলবে …..

ভ্যাম্পায়ার ওয়াইফ সিজন ২
পর্ব ২
লেখা :সাব্বির
.
.
কারন এতক্ষন আমার পিছনে আমার হবু বউ রুশা দাড়িয়ে ছিলো।
আমি যেমন অবাক আর ঠিক তেমনই ভয় পেয়েছি।
কারন রুশা আমাদের বাড়িতে কীভাবে আসবে।
তাছাড়া কাল যেহেতু আমাদের বিয়ে সেহেতু আজ আমাদের বাড়িতে আসার
কোনো সম্ভাবনাই নেই।
তবে রুশা তাহলে আমাদের
বাড়িতে কীভাবে এলো।
..
আমাকে রুশার দিকে
এভাবে ভয়ার্ত ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে
রুশা ফিক করে হেসে
ফেললো।
এই ভয়ের মাঝে থাকার পরেও ওর হাসি
দেখে আমি অবাক হলাম।
মানতেই হবে রুশার হাসিটা
চমৎকার।
..
..
-কি ভয় পেলেন নাকি (রুশা)
_আ..আপনি এখানে কেনো (আমি)
-কেনো আসতে পারি না বুঝি (রুশা)
_তা নয়। একে তো এত রাত তার উপর
আবার আমাদের মানে “হবু শশুর “বাড়িতে আসাটা কেমন অবাক করা বিষয় নয় কি (আমি)
-তা বটে।তবে আমি আপনাকে একটা কথা বলতে এসেছি (রুশা)
_ কি বলেন সামান্য একটা কথা বলার
জন্য এত রাতে আমাদের বাড়িতে এসেছেন।
ফোনেও তো বলতে পারতেন (আমি)
-হাহাহা ফোনে বলার কোনো দরকার নেই।আর আমি তো রাতকেই
ভালবাসি।
রাত না হলে আমার কিছুই ভালো লাগে
না (রুশা)
_মা .. মানে কি বলতে চান আপনি (আমি)
-সেটা সময় হলেই বুঝতে পারবেন।
তবে যে কথাটা বলতে এসেছি
সেটা হলো …
” “আপনার হাতে আর মাত্র একদিন সময় আছে।
তারপরেই আপনার উপর” “….
হাহাহা …
থাক সেটা না হয় তখনই বলবো (রুশা)
_মানে কে আপনি।
আর আমার উপর কিই
বা হবে (আমি)
..
..
হঠাৎ সামনে তাকাতেই দেখি
সেখানে কেউই নেই।
আশ্চর্য এতক্ষন তাহলে আমি কার
সাথে কথা বললাম।
আমি সিওর দেখেছি এখানে রুশা
দাড়িয়ে ছিলো।
বাট এত দ্রুত চোখের পলকে কোথায় চলে
গেলো।
আমি ছাদের রেলিংয়ের কাছে গিয়ে
নিচের দিকে তাকালাম
যে…..
কাউকে দেখা যায় কিনা।
কিন্তু কাউকেই সেখানে
দেখতে পেলাম না।
..
রেলিংয়ের উপরে থাকা
আমার কফির মগের দিকে
তাকাতেই দ্বিতীয় বারের
মতো অবাক হলাম।
কারন কফির মগটা পুরো ভরাট।
মানে আগের মতোই আছে।
মগটা হাতে নিয়ে মগের
গায়ে লেগে থাকা সেই
লিপস্টিকের চিহ্নটা খুজতে
লাগলাম।
কিন্তু মগের গায়ে কোনো জায়গায়ই সেই
লিপস্টিকের দাগটা খুজে
পেলাম না।
তাহলে কি আমি এতক্ষন চোখে ভুল দেখেছি।
নাহ তা কি করে হবে।
আমার পুরো খেয়াল আছে যে মগের
গায়ে লিপস্টিকের চিহ্ন
ছিলো।
তাছাড়া আমি রুশাকে দেখেছি।
আর রুশার সাথে কথাও বলেছি।
তাহলে এগুলো সবই কি আমার মনের
ভুল ছিলো।
নাকি সত্যই রুশা এসেছিলো।
কিন্তু যদি সে এসেই থাকে তবে চোখের
পলকেই বা কোথায় গেলো।
..
নাহ বিষয়টা আমার মাথায়
ঢুকছে না।
কফির মগটা হাতে নিয়ে দ্রুত ছাদ থেকে নিচে নেমে এলাম।
তারপর নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে
চুপচাপ খাটের উপরে শুয়ে
পড়লাম।
আর ছাদে এইমাত্র ঘটে যাওয়া বিষয়টা
ভাবতে লাগলাম।

ভাবতে ভাবতেই চোখে
রাজ্যের ঘুম নেমে এলো।
আমি অতল ঘুমে তলিয়ে
গেলাম।
..
..
এক বিশাল মরু প্রান্তরে
দাড়িয়ে আছি আমি।
আশেপাশে কোনো ঘরবাড়ি
বা জন মানবের কোনো
চিহ্নটুকুও নেই।
কিন্তু কথা হচ্ছে …
আমি এখানে এলাম কি
করে।
আমি তো নিজের ঘরেই
ঘুমিয়ে ছিলাম।
তবে আমি কি স্বপ্ন দেখছি।

নিজের গায়ে নিজেই জোড়ে একটা
চিমটি কাটলাম।
কিন্তু কোনো ব্যাথা বা কোনো
অনুভূতি টের পেলাম না।
তাই
আবার চিমটি কাটলাম।
!!!
নাহ…
এবারও আগের বারের মতোই
কোনো ব্যাথা পেলাম না।
তাহলে মনে হয় আমি সত্যই
স্বপ্ন দেখছি।
আরেকটু পরীক্ষা করা দরকার।
আশে পাশে তাকাতেই একটা বেশ
বড় সাইজের পাথর দেখতে
পেলাম।
উবু হয়ে যেই সেটা তুলতে গেলাম এমনি পিছন থেকে

কেউ জোড়ে একটা
ধাক্কা দিলো।
আমি বেশ খানিকটা দূরে ছিটকে পড়ে
গেলাম।
উঠে দাড়িয়ে পিছনে ঘুরতেই দেখি
….
সেখানে একটা লম্বা আকৃতির অদ্ভুত মানুষ
দাড়িয়ে রয়েছে।
তাকে দেখেই আমি ঘাবড়ে
গেলাম।
লোকটা আমাদের মতো সাধারন মানুষের
চেয়ে দ্বিগুন লম্বা।
আর শরীরটাও বেশ বড়সড়।
তাকে দেখলে যে কেউ নিজের
সামনে সাক্ষাত যমদূত বলে
মনে করবে।
ঠিক যেমনটা আমি মনে করছি।
কিন্তু এই মরু প্রান্তরে এতক্ষন আমি
কাউকেই দেখতে পারি নি।
তবে হঠাৎ করে এই লোকটা
কোথা থেকে হাজির হলো।
আমার সামনে দাড়িয়ে
থাকা লোকটার দিকে
তাকাতেই দেখি

সে আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে
আছে।
যেন আমাকে একবারে
আসত গিলে খাবে।
ভয়ে আমার প্রানটা বের হয়ে
যাওয়ার মতো অবস্থা।
যতটুকু বুঝলাম নিজের প্রাণ
বাচাতে হলে এখন আমার
দৌড়াতে হবে।
তাই কোনো দিক খেয়াল না করেই
পিছনে ফিরে দৌড় শুরু
করলাম।
ওদিকে আমি পিছনে না তাকিয়েও বুঝতে
পারলাম যে …..
আমার পিছনে থাকা সেই লোকটাও দৌড়
শুরু করেছে।
কারন ক্ষনে
ক্ষনে মাটি কেপে উঠছে।
আমাকে ধরতে তার বেশি
সময় লাগবে না।
তাই প্রাণপনে দৌড়েতে
লাগলাম।

কিছুটা পথ দৌড়ানোর পর খেয়াল
করলাম আমি পায়ের নিচে আর
মাটি কেপে ওঠার অনুভূতি
পাচ্ছি না।
পিছনে ফিরে দেখি যে সেখানে কেউই
নেই।
তাহলে সেই লোকটা কোথায় গেলো।


যেখানে যায় যাক আমাকে নিজের
প্রাণ বাচাতে হলে এখান
থেকে পালাতে হবে।
তাই আবার সামনের দিকে দৌড়
শুরু করলাম।
আর তখন সামনের দিকে নজর দিতেই আমার বেহুশ হয়ে পড়ে যাওয়ার
মতো অবস্থা হলো।
কারন সামনে এখন একটা
দুইটা না “প্রায় শ খানেকে”র
মতো সেই লোকটার মতো
মানুষ দাড়িয়ে আছে।
যেন তারা আমার অপেকষাই
করছিলো।
আসলে আমার কপালটাই
খারাপ ।
কারন যদি দৌড় না দিতাম
তাহলে
হয়ত মাত্র একজন লোকের
হাতে আমার প্রাণ যেতো।
কিন্তু এখন তো মনে হচছে
আমার দেহের হাড়গুলোও আর
খুজে পাওয়া যাবে না।
কি ভয়ংকর ব্যাপার।
..
..
__যদি এখনো
বাচতে চাস তবে জলদি
পালা এখান থেকে (নিজেই
নিজেকে বললাম কথাটা)
….
তারপর আবার যেদিক থেকে
দৌড়ে এসেছিলাম সে
দিকে দৌড় দিলাম।
কিছুদূর দৌড়ানোর পরে
পিছনে
ফিরে দেখি যতদুর দেখা
যায় শুধু বালি আর বালি ।
তাছাড়া আর কিছুই নেই।
আমি বেশ অবাক হলাম।
এত দ্রুত ওত গুলো মানুষ
কোথায় চলে গেলো।
সামনে তাকাতেই দেখি
সেই আগের
প্রথম লোকটা আমার মুখের
দিকে ঝুকে আছে।
এবার মনে হয় আর বাঁচার
কোনো সুযোগ
নেই।
..
..
হঠাৎ সেই লোকটা
আমার পা ধরে দূরে ছুড়ে
মারলো।
আর আমি অনেকটা
দুরে গিয়ে ছিটকে পরলাম।
তবে আমার বিন্দুমাত্রও
কোনো ব্যাথার অনুভূতি
হলো না।
তখনই আবার আমার
মনে হলো আমি ঘুমিয়ে
আছি।
আর এটা নিশ্চয়ই একটা
স্বপ্ন।
আর আমাকে এখন এই
স্বপন্টা ভেঙে ঘুম থেকে
জেগে উঠতে হবে।
ওদিকে সেই লোকটা আবার
পুনরায় আমার কাছে এসে আমার পা
ধরে উপরের দিকে ছুড়ে
মারলো।
আমি প্রায় চার পাচ তলা
সমান উচুতে উঠে
গেলাম।
..
..
এখান থেকে নিচে পড়লে
নির্ঘাত আমার দেহের
হাড়গোড় সব ভেঙে যাবে।
তাই চোখ বন্ধ করে নিচে
পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে
লাগলাম।
আর মনে মনে ভাবতে
লাগলাম যেন আমি
নিচে না পরে উপরেই ভেসে
থাকি।
..
..
প্রায় ১ মিনিটের
মতো সময় পরেও যখন দেখলাম
আমি নিচে পড়ছি না …তখন
আগের তুলনায় ভয়টা অনেক
বেশিই করতে লাগলো।
না জানি কত উপর থেকে
নিচে
পড়ছি আমি।
এবার আর বেচে থাকার
কোনো সম্ভাবনাই
নেই।
ওদিকে আরো ২মিনিট
অতিবাহিত হওয়ার পরেও
যখন দেখলাম আমি নিচে
পড়ছি না

…তখন সাহস করে
ধীরে ধীরে চোখ মেললাম।
আর চোখ মেলতেই আমি
হতবাক হয়ে গেলাম।
কারন আমি
..
..
চলবে ….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here