Monday, April 13, 2026
Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার নতুন পরিচয় ভালোবাসার নতুন_পরিচয়,পর্ব_৬

ভালোবাসার নতুন_পরিচয়,পর্ব_৬

❤️ ভালোবাসার নতুন_পরিচয়,পর্ব_৬
লেখিকা;;নিপু জামান

নিবিরকে বিদায় দিয়ে বাসায় ঢুকা মাত্রই আম্মু একের পর এক প্রশ্ন শুরু করে দিলো যে নিবির কেনো আসেনি, চলে কেনো গেলো এইনা সেইনা। এগুলোতে বিরক্ত হয়ে বললাম যে ওরে কল দিয়ে নিতে আর এটা বলেই আমি আমার রুমে এসে পরলাম। আর ফ্রেশ হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে আইডিতে ডুকলাম আর যা দেখলাম আমার মাথায় বাশ পরার অবস্থা। কারন ও আমার আইডিতে আমার সব ফ্রেন্ডকে আনফ্রেন্ড করেদিছে। আরো অনেক কিছু করে আইডির বারোটা বাজিয়ে দিছে। এখন মাথাটই খারাপ করে দিছে। আমি ওরে কল দিলাম,,
এই আপনার প্রব্লেম কি এগুলা কি করছেন হ্যা

কেন কি এমন করলাম আমি।

চুপ তুই কোন কথা বলবি না সালা খচ্ছর আমার সব শেষ কইরা দিয়া এখন আবার বলে কি করলাম,, ডং দেখে বাচিনা।

যা করেছি ভালো করছি নেক্সট টাইম দরকার হলে আরো করবো কি করবে কি তুমি

ধুর এইজন্যই তোর গার্ল ফ্রেন্ড এর বিয়ে হয়ে গেছে। তুই এতো ঘার তেরা যে তাই তোর নেকি প্রেমিকা সুজুক বুঝেই পালিয়েছে।
আমি এটা বলার সাথে সাথেই ও কল কেটে দিলো। জানিনা কি হয় এই ছেলের যে হঠাৎ হঠাৎ এই ভালো আর এই রেগে যায়। আমিও আর কোন কথা না বলে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।

দেখতে দেখতে তিন মাস চলে গেলো। এই তিন মাসে নিবিরের সাথে আর কথা হয়নি কিনতু শাশুড়ি আর রিদি আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলো আমাদের বাড়িতে, আমার ওদের বাড়িতে আর যাওয়া হয়নি। এর পর দেখতে দেখতে আমার এক্সামও শুরু হয়ে গেলো, কিন্তু এই তিন মাস আমি নিবিরকে অনেক মিস করতাম। তাই অনেক কল দিছিলাম প্রথম একমাস কিন্তু কল ধরেনি আর আমিও ইগো প্রব্লেমের জন্য দেইনি। আজ আমাদের লাস্ট পরিক্ষা আমি হল থেকে বেড় হওয়ার পর ফুল সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম। কারন আমি দেখলাম যে সামনে নিবির গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার পরনে কালো শার্ট আর ব্লাক জিন্স আর হাতে একটা ব্লাক ঘড়ি। সব মিলিয়ে মিস্টার পারফেক্ট। আর আমার কলেজের মেয়েরা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। আমার গা অনেক জলছিলো কারন এই মিস্টার পারফেক্ট টাতো আমার। এই ছেসরা মেয়েগুলা কেমন করে দেখছে। কিন্তু ও এখানে কেনো এসেছে। নিশ্চই নতুন কোন মেয়ে জুটিয়েছে তাই এখানে এসেছে। আমিও না কি যে ভাবি যে মানুষ গত তিন মাসে একবারো কল করেনি সে আসবে আমার জন্য। আমি পাশ কাটিয়ে যেতে নিচ্ছিলাম এমন সময় আমাকে নিবির ডাক দিলো,,,
ওই কই যাচ্ছো

আমাকে বলছেন নাকি।

নাহ আমার আরো দশটা গার্ল ফ্রেন্ড আছে তো এই কলেজে তো তাকেই ডাকছি।

কিহ আপনি না মেরিড আবার দশটা প্রেমিকা আছে। আম্মু তোমরা আমাকে এ কার সাথে বিয়ে দিলে তোমার মেয়ের কপাল পুরলো গো। এখন আমার কি হপ্পে

নিলান্তি কি উলটা পালটা বলছো আমি তো জাস্ট এমনিই বলছিলাম আর এইটা তো পাব্লিক প্লেস তাই সিনক্রিয়েট করো না প্লিজ।

তার মানে আপনি এখানে এমনি এসেছেন কোন মেয়ের জন্য না তাইতো।

নাহ আমি এসেছি তোমার জন্য।

আমার জন্য মানে।

বাসায় বলে এসেছি যে তুমি আমার সাথে থাকবে আর তোমার বাসায়ও বলে দিছি যে আজকে তোমাকে নিয়ে এক যায়গায় যাব।

আমাকে নিয়ে যাবেন মানে, কোথায় যাবেন।

উফফ এতো কথা কেন বলো তুমি। বলছিতো আসো, খেয়ে ফেলবো না নিশ্চিত থাকো আর চুপ চাপ চলো প্লিজ।

ওকে।

এরপর আমি নিবিরের সাথে গাড়িতে উঠে পরলাম। আর মৃধু বাতাসের সাথে মেঘলা আকাশ বাহিরের পরিবেশটা খুভ ভালো লাগছিল হঠাৎ একটু পরে বৃষ্টি নামতে শুরু হল,
আমি বাইরে হাত দিয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম। আর নিবিরের কাছে বায়না ধরলাম যেনো একটা গান শোনায় আর ও আমার হাতে কিছু চকোলেট ধরিয়ে দিয়ে এ মওসাম কি বারিস গানটা গাইলো। আর গান গেতে গেতে অর্ধেক রাস্তা এসে পরলো। হটাৎ নিবির আমার চোখে একটা রোমাল দিয়ে বেধে দিলো।
কি করছেন কি নিবির।

একটু পরেই দেখতে পাবে এখন প্লিজ চুপ করো।

ওকে।

আর কিছু ক্ষন পর ও গাড়ি থামিয়ে আমাকে ধরে ধরে কোথায় জেনো নিয়ে যাচ্ছে গন্তব্য স্থানে আসার একটু পর আমার চোখের বাধন খুলে দিলো আর যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। খুশিতে আমি কান্না করে দিলাম কারন আমি ভাবতেই পারিনি নিবির আমায় এত বড় সারপ্রাইস দিবে ,,,,

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here