ভালোবাসার টান part:9,10

ভালোবাসার টান
part:9,10
Tanzidaa Jannat Jannatul Ferdousy

9
মিসকা এসে হিয়ার চেয়ারের পাশের চেয়ারে বসে।

মিসকাঃ তুমি কি খাবে হিয়া??

মিসেস নিলুফা ঃওকে এক পিস ব্রেড আর ডিমের অমলেট দাও।

মিসকাঃ আচ্ছা,,,,,, দিচ্ছি।

এর মধ্যে ইফতি এসে বললো মম আজকে আমার আসতে দেরী হবে।দরকারী কাজে একটু দূরে যেতে হচ্ছে।

মিসেস নিলুফা ঃ আচ্ছা ঠিকাছে,,,, কিন্তু ফ্রেকফাস্ট তো করে যাবি??

ইফতিঃ না বাইরেই করে নিবো,,,,বলে চলে গেলো।

মিসেস নিলুফা ঃ আমার ছেলেটা কবে যে আবার স্বাভাবিক হবে কে যানে বড় (একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো)। আল্লাহ যদি এমন কাউকে পাঠাতো আমার ইফতির জীবনে যে আমার ছেলের অগোছালো জীবনটাকে গুছিয়ে দিবে😥😥

মিসকাঃ মিসকা কিছু বুঝলো না। আবার জিগ্যেস করার সাহসও পেলো না,,,,,, কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক তখনই মিসকার ফোনে রিংটোন বেজে উঠলো,,,,,দেখে যে অফিস থেকে ম্যানেজার ফোন দিয়েছে।

মিসকাঃ আসসালামু আলাইকুম,,,,, হ্যা স্যার বলুন।

ম্যানেজারঃ মিসকা আজকে অফিসে আসতে হবে না।স্যার একটু ঢাকার বাইরে যাবে। এজন্য অফিস বন্ধ।

মিসকাঃ আচ্ছা ঠিকাছে,,,, বলেই ফোনটা কেটে দিলো।

হিয়াঃ কে ফোন করেছে আন্টি?

মিসকাঃ অফিস থেকে আর বললো যে আজকে অফিস বন্ধ।

হিয়াঃ ইয়ে,,,,,কি মজা আজকে আমরা সারাদিন মজা করবো।

মিসকা আর মিসেস নিলুফা হাসছে ওর কান্ড দেখে।

মিসকাঃ হুম এখন চলো আমরা বাগান থেকে ঘুরে আসি।

হিয়াঃ হুম চলো।তোমাকে তো আমাদের বাগান টাকে ঘুরে দেখানেই হয় নি,,,,

হিয়া,মিসকা,আর মিসেস নিলুফা তিনজন মিলে বাগানটা ঘুরে দেখছে।আর গল্প করছে আর হিয়া কতক্ষণ পর পর ফুল তুলে এনে মিসকার হাতে দিচ্ছে বা কখনও ওর চুলে গুজে দিচ্ছে।ওরা বেশ মজাই করলো।

মিসকাঃ চলো হিয়া আমরা এখন যাই। আবার বিকেলে আসবো।

হিয়াকে নিয়ে ওরা বাসায় ভিতরে আসলো। যে যার রুমে চলে গেলো।দুপুরে সবাই এক সাথে লাঞ্চ করলো।মিসেস নিলুফার দরকারী কল আসলে উনি রুমে চলে যায়,,,,,, আর মিসকা আর হিয়া দুজনে রুমে এসে গল্প করছে,,,,,,

হিয়াঃ আন্টি চলো আমরা কিছু একটা মজার গেম খেলি।

মিসকাঃ আচ্ছা,,,, 😚 কি গেম,,,,খেলা যায়,,,,,,দাড়াও একটু ভেবে নিই।

হিয়াঃ লুকোচুরি!!!

মিসকাঃ ইয়েস,,,,,,,, এটাতেই মজা হবে আচ্ছা তুমি লুকিয়ে পড়ো আমি তোমায় খুজবো ঠিকাছে

হিয়াঃ আচ্ছা,,,, কিন্তু কোনো চিটিং করবে না কিন্তু

হিয়া কোথায় লুকাবে ভেবে পাচ্ছে না। ইফতির রুমের সামনে গিয়ে ভাবছে বাবাইয়ের তো আজ ফিরতে দেরী হবে। আমি বরং এই রুম টাতেই লুকিয়ে পড়ি।যেই ভাবা সেই কাজ,,,

এদিকে ইফতি বাসায় এসে উপরে যাচ্ছে।,,

মিসেস নিলুফাঃ একি তুই না বললি আজ আসতে দেরী হবে তাহলে,,এতো তাড়াতাড়ি চলে এলি যে,,,,

ইফতিঃ আসলে আমার দরকারী ফাইলটা ই রেখে গেছি,,,,,এটা বলেই উপরে যায়।

মিসকাঃ হিয়াকে খুজতে থাকে,,,,,,হঠাৎ করো সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতে নিলে,,,,,,, ও,,,,,,,,মা বলে চিৎকার দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।

চোখ খুলে দেখে ইফতি ওকে ধরে আছে,,,,,ও তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে দাড়িয়ে যায়,,

মিসকাঃ সরি আসলে,,,,আমি দেখতে পাই নি,,,,৷

ইফতিঃ দেখবে কিভাবে? চোখ তো আর একদিকে থাকে না। লাটিমের মতো এদিকে সেদিকে ঘোরে এটা বলেই রুমের দিকে যাচ্ছে।

মিসকাঃ 😠ব্যাটা বজ্জাত সবসময় একগাদা কথা শুনিয়ে যায়। আচ্ছা হিয়া ওনার রুমে লুকায় নি তো? তা কি করে হয় ঐ রাক্ষস টার রুমে হিয়া কেনো যাবে এতো যায়গা থাকতে,,,,,আচ্ছা সকালে তো বললো দেরী হবে ফিরতে তাহলে এতো তাড়াতাড়ি 🤔🤔তাতে আমার কি,,,,,

ইফতি রুমে ঢুকে ফাইলটা খুজতে থাকে। হঠাৎ দরজার পিছনে দেখে কিছু একটা নড়ছে। গিয়ে হিয়কে হাত ধরে টেনে এনে,,,,,,,

ইফতিঃ কি করছো এই রুমে হুম

হিয়া ভয়ে পিছনে যেতে থাকে।ওর হাতে পানির গ্লাস থাক্কা লেগে টেবিলের রাখা ফাইলগুলো ভিজে যায়।

ইফতিঃ কি করলে এটা??তোমায় না নিষেধ করেছি এরুমে আসতে?? (ধমকের সুরে বলে,,,,,)

মিসকাঃ হঠাৎ ইফতির গলা শুনে দৌড়ে রুমে যায়।গিয়ে দেখে হিয়া ভয়ে থর থর করে কাপছে আর ইফতি ফাইলগুলো পানি ঝারছে।

ইফতিঃ এই গুলোই তো খুজছি😲।কি করেছো দেখেছো??

হিয়াঃ দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাপছে আর কাঁদছে

মিসকাঃ মি. ইফতি আপনি এভাবে একটা বাচ্চার সাথে বিহেভ করছেন।(আর চুপ করে থাকতে পারলো না)

(ওরা যখন কথা বলছিলো হিয়া তখন রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।কিন্তু ওরা কেউই সেটা খেয়াল করে নি)

ইফতিঃ দেখুন যেটা বুঝবেন না সেটা নিয়ে সবসময় বাড়াবাড়ি কম করবেন।দেখুন ফাইলটার কি অবস্থা

মিসকাঃ আরে রাখুন আপনার ফাইল।একটা অবুঝ বাচ্চার সাথে একটু হাসি মুখে কথা বলতে পারেন না? না পারেন বেশ ভালো কথা। কথায় কথায় ধমকান কেনো হুম।যে আদর করতে পারে না তার কোনো রাইট নাই ধমকানোর শ্বাসন করার।😡 আর আপনি আমায় শিখাবেন আমায় কখন কিভাবে কথা বলতে হবে??

ইফতি কিছু বলতে যাবে এর মধ্যেই রুমার চিৎকার শুনতে পেলো।মিসকা চারপাশ হিয়াকে খুজছে কিন্তু না তো হিয়া তো এই রুমে নেই তাহলে,,,,এসব ভাবতে ভাবতে দৌড়ে নিচে গেলো। নিচে গিয়ে হিয়া বলে চিৎকার দিয়ে হাটু ভেঙ্গে বসে পরলো। হিয়া রক্তাক্ত শরীরে পরে আছে।পাশে দাদিয়াও বসে কাদছে। হিয়াকে পাজা দিয়ে ওকে বলছে হিয়া এই হিয়া কিচ্ছু হয় ন😭দেখ আন্টি চলে এসেছে,,,,,,, হিয়া 😭হিয়া
কথা বলতে পারছে না তবুও বলে আন্টি আমার খুব,,,,,,,, খুব কস্ট হচ্ছে। কি করে এসব হলো হিয়া তোমার?😭
মিসেস নিলুফা বলে ও দৌড়ে নামছিলো এর মধ্যেই হঠাৎ হোচট খেয়ে সিড়ি গড়িয়ে পরে গেলো ।আর আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম কিছুই করতে পারলাম না
এদিকে রুমা ডাক্তারকে ফোন দিলো।

ইফতি দাড়িয়ে আছে কি করবে দিশা পাচ্ছে না সারা শরীর অবস হয়ে গেছে। চোখগুলো আবছা হয়ে আসছে। হিয়াকে ধরতে গেলে।
মিসকা ঃ আপনি ওকে একদম টাচ করবেন না😭।আজ আপনার জন্য আমার হিয়ার এই অবস্থা।,,,,
ইফতি আর কিছু বলতে পারছে না। অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে আছে। আর চোখের জল ফেলেই যাচ্ছে।

এদিকে ডাক্তার চলে আসে সাথে ২ জন নার্স।ওদের পারিবারিক ডাক্তার। ডাক্তার সবাইকে রুম থেকে বের হতে বলে।কিন্ত মিসকা বলে ডাক্তার বাবু আমি আমার মেয়ের পাশেই থাকবো প্লিজ,,, হিয়ার হাত শক্ত করে ধরে আছে।আমি বাইরে বের হবো না

ডাক্তার ঃ ঠিকাছে আপনি থাকুন। আর আপনারা সবাই বের হয়ে যান।

মিসেস নিলুফা ঃ আমার নাতনিটাকে ভালো করে দিন ডাক্তার সাহেব ওর কিছু হলে আমি বাচবো না।

ডাক্তার ঃ আমাদের কাজ আমাদের করতে দিন।আর আল্লাহ এর উপর ভরসা রাখুন সব ঠিক হয়ে যাবে।

ইফতি অসহায়ের মতো দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।

মিসেস নিলুফা ঃ তুই কেনো কাঁদছিস?? তোর তো খুশি হওয়ার কথা,,,,,, ছিঃ আমার ঘৃণা হচ্ছে তোর উপর ইফতি। আমি তোকে এই শিক্ষা দিয়েছি? এসব বলে চলে গেলো।

মিসেস নিলুফা গিয়ে নামাজে দাড়ায়ে গেলো।২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে মোনাজাত ধরে কেঁদে ই যাচ্ছে।

ডাক্তারঃ রুম থেকে বাহিরে বের হলে। ইফতি বলে কি অবস্থা হিয়ার। বলে ভয়ের কারন নেই,,,ড্রেসিন করে দিয়েছি।ছোট মানুষ তো তাই অনেক ব্লিডিং হয়েছে। স্লাইন দিয়ে দিয়েছি। আর এই ঔষধ গুলো এখনি নিয়ে আসেন। সময় মতো খাইয়ে দিবেন।জ্ঞান ফিরবে কিছু ক্ষনের মধ্যে,,,,,,

মিসেস নিলুফা ঃ ইফতির কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন টা টান দিয়ে নিয়ে বললো।ডাক্তার চিন্তা করবেন না। আমরা ওর খেয়াল রাখবো।সিফাতকে ফোন দিয়ে বলে দিলো ডাক্তারদের কে পৌছে দেওয়ার জন্য।

ইফতির আজ মনে হচ্ছে এই পৃথিবীর স্রেষ্ঠ অপরাধী সে,,, এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না,,,

#চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

#ভালোবাসার__টান,,,,,,,,😍👸😍

#part::::::::(10)

#writer::::::::::Tanzidaa Jannat❤Jannatul Ferdousy

ইফতি বাইরেই দাড়িয়ে আছে,,,,,, কি করবে ও কিছুই বুঝতে পারছে না।আজ হিয়ার জন্য ওর এতো খারাপ লাগছে ইচ্ছে করছে ওকে দৌড়ে গিয়ে কোলে নিতে।ও দরজার ফাকা দিয়ে উকি দিয়ে দেখে মিসকা হিয়ার হাত ধরে আছে।আর কেদে কেদে চোখ পুরো ফুলিয়ে ফেলেছে।আর মিসেস নিলুফা মিসকা কে শান্তনা দিচ্ছে।

মিসেস নিলুফা ঃ তুই কেনো কাঁদছিস?? দেখ মা ডাক্তার বলেছে ও তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।

মিসকাঃ আন্টি ওর এখনও তো জ্ঞান ফিরলো না।আমার হিয়াটা কতো কস্ট পাচ্ছে ।আমি যদি ওকে নিয়ে চলে আসতাম তাহলে ও এভাবে পরে যেত না আর এমন হতো না, এটা তো আমার ভুল

এমন সময় দেখলো হিয়া আস্তে আস্তে চোখ খুলছে।

হিয়াঃ আন্টি বলেই একটু হেসে দিলো,,,

মিসকাঃ হিয়া,,,,,, 😢আন্টি!!!
দেখেন আমার হিয়ার জ্ঞান ফিরেছে বলেই হিয়াকে একটা চুপু দিলো।

মিসেস নিলুফা ঃ আল্লাহ এর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া।

এরই মধ্যে সিফাত এসে ঔষধ গুলো দিয়ে গেলো।

মিসেস নিলুফা ঃ মিসকা তুই ওর পাশে থাক আমি সুপ বানিয়ে আনি।

মিসাকাঃ আচ্ছা।

মিসেস নিলুফা চলে গেলো,,,আর মিসকা হিয়ার সাথে কথা বলছে।

মিসকাঃ হিয়া তোমার এখন কেমন লাগছে??কস্ট হচ্ছে??

হিয়াঃ আন্টি আমার হাতে ব্যথা লাগছে।এটা খুলে দাও না

মিসকাঃ (কি বলবে বুঝতে পারছে না,,,,) হুম দিবো। তার আগে আমার একটা গল্প শোনো।( আসলে ওকে এসব ভুলানোর জন্য বলছে) মিসকা গল্প বলছে আর হিয়া হাসছে। ওর হাসি দেখলে মনে হয় না ও এখন অসুস্থ।
এমন সময় নিসেস নিলুফা সুপ নিয়ে আসলো।মিসকা হিয়াকে ঠিক করে উঠে বসালো।

হিয়াঃ আমি খাবো না,,,,, আমার ক্ষুধা নেই,,,,,বলে মাথায় হাত দিলো।

মিসকাঃ যদি না খাও তাহলে আমার প্রিন্সেসটা তাড়াতাড়ি শুস্থ হবে কিভাবে?? আর যদি বলো খাবে না তাহলে আমি তেমার সাথে কথা বলবো না😏

হিয়াঃ উফফ শরীর ব্যথা করছে খেতে ইচ্ছা করছে না

মিসকা ঃ হা করো এখন,,,,,,, আমার লক্ষীসোনা আমার সব কথা শোনে
হিয়া অনিচ্ছা সত্বেও খেয়ে নিলো।আর মিসকা ওকে মেডিসিন দিলো।

মিসেস নিলুফা ঃ আজ রাতটা আমি আমার দিদিভাইয়ের কাছে থাকবো।

মিসকাঃ না আন্টি আপনার শরীরটা এমনিতেও বেশি ভালো নেই।আপনি রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরেন।

মিসেস নিলুফা ঃ কিন্তু,,,,,,,

মিসকাঃ কোনো কিন্তু নয়,,,,, আমি আছি তো ওর পাশে,,,,,,

মিসেস নিলুফা চলে গেলো। হিয়াকে ঠিক করে সুয়ে দিলো। তারপর মিসকা ওকে গল্প বলছে আর ও হাসছে হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে পরেছে।,,,,,,মিসকা ওর পাশে বসেই রইল। মিসকা ও ঘুমিয়ে পড়েছে,,,,,,

এদিকে ইফতি বাহিরে দাড়িয়ে ওদের দেখছিলো।যখনই ওরা ঘুমিয়ে পরেছে ও আস্তে আস্তে রুমে ধুকলো। গিয়ে হিয়ার কপালে একটা চুমু খেলো।( আর মনে মনে ভাবলো আমাকে ক্ষমা করে দিস)চলে যাবে তখনই দেখল মিসকা হেলে পরে যাচ্ছে। তাই মাথাটা ঠিক করতে যাবে তখনই,,,,,মিসকা চোখ খুলো।

মিসকাঃ আপনি এখানে,😵,,,,,,,হিয়ার দিকে তাকিয়ে উঠে গেলো।আর ইফতির হাত টেনে বাহিরে নিয়ে গেলো।আপনি আবার হিয়ার কাছে গেছেন(।ইফতি কোনো কথা বলছে না)কি হলো এখন কথা বের হচ্ছে না??আপনার কি শান্তি হয় নি ওকে এই অবস্থায় দেখে

ইফতিঃ দেখো তুমি আমায় ভুল বুঝছো। আমি জাস্ট ওকে,,,,,(মিসকা থামিয়ে দিয়ে বললো)

মিসকাঃ সেই অধিকার আপনার নেই,,,,,সেই অধিকার অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছেন।

ইফতিঃ দেখ ও আমার মেয়ে। আর আমার অধিকার সবার আগে ওকে,,,,,,,(বলতে না বলতেই)

মিসকাঃ ওহ রিয়েলি,,,,হোয়াটা জোকস মি. ইফতি কোন অধিকার টা পালন করেছেন আপনি?? আবার অধিকার দেখাতে এসেছেন। শুনুন আপনি আজ যেটা করেছেন না এটার ক্ষমা হয় না। আমার মেয়ের ধারে কাছেও আপনি আসার চেস্টা করবেন না।মা তার সন্তানের জন্য কি করতে পারে আপনি চিন্তা ও করতে পারবেন না। এটা যেনো মাথায় থাকে
(এটা বলেই মিসকা দরজা আটকে লক করে দেয়)

ইফতিঃ দরজায় হাত দিয়ে বসে পরলো। আর ভাবছে মিসকার কথা,,,,,, সত্যি ই কি মা তার সন্তানের জন্য সব কিছু করতে পারে?? তাহলে নিলা?? নিলা কি করে পারলো এটা করতে??আমি তো কখনও চাই নি হিয়ার ক্ষতি হোক😰আমিও ওকে ভা,,,ভালোবাসি। ভিষন রকম😭 আমারও ইচ্ছে করে ওকে আদর করতে কিন্তু ওকে যখন ই দেখি নিলার মুখটা ভেসে আসে। ওযে হুবুহু নিলার কার্বন কপি।নিলার ঠোটেঁর পাশে একটা তিল ছিলো তা হিয়ারও আছে।ওর চোখের চাহনি,মুখের হাসি সব যে আমায় অতীতের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আমি অতীতে আবার ফিরতে চাই নি এজন্য শতোকস্ট সহ্য করেও আমি হিয়ার থেকে দূরে থেকেছি। ওর সাথে এমন বিহেব করার একটাই কারন তা হলো নিলা,,,,,আই হেট ইউ নিলা,,,,(ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে,,ও তা বুঝতেও পারে নি)

মিসকা আজ খুব সকালে উঠেছে।হিয়ার স্লাইন টা খুলে ফেললো।(নার্স শিখিয়ে দিয়ে গেছে)হিয়া একটু উহ করে উঠলো ঘুমের চোখেই,,,,তারপর আবার ঘুমিয়ে পরলো।

মিসকাঃ ওয়াসরুমে গিয়ে,,,ফ্রেস হয়ে দরজা খুলতেই দেখে ইফতি দরোজার পাশে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে।একি মি. ইফতি এখানে এভাবে ঘুমিয়ে আছেন 😱।মিসকার রাতের ঘটনাগুলো মনে পড়ে গেলো।ও ভাবতে লাগলো রাতে আমি যা যা বলেছি এটা কি ঠিক হয়েছে আমার? সত্যি ই তো আমি কে তাকে বারন করার?? ইফতি তো হিয়ার বাবা আর আমি? আমি হচ্ছি বাইরের। আবার হিয়াকে নিজের মেয়ে বলেছি,,,,( এসব ভাবতে ভাবতে কিছুর একটা শব্দে মিসকার ভাবনার ছেদ পরলো)দেখলো ইফতি উঠে দাড়িয়েছে।চোখটা লাল হয়ে আছে। মনে হচ্ছে রাতে অনেক কেদেছে,,,,

ইফতিঃ (আমায় কি কখনই ক্ষমা করবে না,,,,সত্যি আমি হিয়ার ক্ষতি চাই নি চাইতে পারি না,,,, মনে মনে ভাবছে)

মিসকাঃ কিছু না বলেই পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।কি করে মি. ইফতির চোখে চোখ মিলাবে ও,,,, কাল রাগে ইফতিকে যা বলেছে এর পর কিভাবে ওর সাথে কথা বলবে??? ভাবতে ভাবতে কিচেনে ঢুকলো।

রুমাঃ আফামুনি আপনে এতো সকাল সকাল এইহানে??

মিসকাঃ হুম,,,,, আসলে হিয়ার জন্য একটু সুপ বানাবো। তুমি আমায় একটু বলে দাও কোথায় কি রাখা আছে??

রুমাঃ আফামুনি আপনার কস্ট করতে হবে না। আমিই সুপ বানাইয়া দিতাছি।

মিসকাঃ আচ্ছা আন্টি কোথায়??

রুমাঃখালাম্মায় তো নিজের রুমে কোরআন শরীফ পড়তাছে।।

মিসকাঃ ও আচ্ছা। তুমি এক কাজ করো আমি সুপ বানাচ্ছি আর তুমি তোমার মানে চা দিয়ে আসো।

রুমাঃ আচ্ছা,,,,,এ বলে কোথায় কি রাখা আছে তা দেখিয়ে দিলো।

মিসকাঃ ছ্যুপ বানিয়ে উপরে গেলো।তখন দেখলো যে ইফতি সেখানে নেই।( যাক ভালোই হইছে চলে গেছে আমার তার সামনে যেতেই লজ্জা করছে।কাল রাতে,,,,না আর মনে করতে চাই না”” মনে মনে”””)

(মিসকা রুমে ঢুকে দেখে হিয়া এখনও ঘুমুচ্ছে। টেবিলের উপর ট্রে টা রেখে জানালার পর্দাগুলো সরিয়ে দিলো।
হিয়ার চোখে আলো পরতেই নরে উঠলো)

মিসকাঃ হিয়ার মাথায় আলতো করে হাত রেখে হিয়া সোনা,,,,,,,,,,,,, কি হলো আজ এতো ঘুমুচ্ছো যে,,, তাড়াতাড়ি উঠো।ঔষধ খেতে হবে তো।

হিয়াঃ চোখ খুলে হালকা আড়মোড়া দিয়ে বললো আমাী ঔষধ খেতে ভালো লাগে না

মিসকাঃ না লাগলেও খেতে হবে। চলো উঠো।বলে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো।ওকে ফ্রেস করে স্যুপ খাইয়ে দিলো।ঔষধ খাওয়াচ্ছে তখন মিসেস নিলুফা রুমে আসলো।

মিসেস নিলুফা ঃ দিদিভাই,,,তুমি তো আজকে ফার্স্ট হয়ে গেলে

হিয়াঃ মুচকি হাসছে,,,,,,(মিসকা মনে মনে ভাবছে আজ হিয়া যে অবস্থা আমি হলে সপ্তাহে বিছানা থেকে উঠতে পারতাম কি না সন্দেহ। আর হিয়াকে দেখে মনে হচ্ছে ওর কিছুই হয় নি আসলে বাচ্চারা এমনই হয়। যদিও চোট টা তেমন লাগে নি,,,,মাথাটা আগে নিচে পড়ায় কেটে গেছে)

মিসকাঃ আপনারা গল্প করুন আমি অফিসে ফোন করে ছুটি নিচ্ছি!!!!!

মিসেস নিলুফাঃ আচ্ছা,,,,,,বলে দুই দাদী নাতনী গল্প করছে,,,,,,

চলবে,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here