প্রেমের_অগ্নি #পর্ব_০৭

#প্রেমের_অগ্নি
#পর্ব_০৭
#অধির_রায়

প্রীতির কথা আর মেনে নিতে পারছে না প্রেম৷ প্রীতির প্রতিটি কথা প্রেমের বুকে তীরের মতো বিঁধে যাচ্ছে৷ প্রেমের হৃদয় কাঁচের ঘরের মতো ভেঙে ভাংচুর হয়ে যাচ্ছে। প্রীতিকে থামানোর জন্য প্রীতির ঠোঁট জোড়া দখল করে নেয়৷
প্রীতি ফ্রিজের মতো দাঁড়িয়ে আছে৷ চোখ থেকে নোনা জল পড়ে যাচ্ছে। এদিকে প্রেম প্রীতির ঠোঁটের মিষ্টি নিতে ব্যস্ত৷ দুই মিনিট পর প্রীতিকে ছেড়ে দিয়ে প্রেম মাথা চুলকাতে চুলকাতে রুমের বাহিরে চলে যায়৷

প্রীতি ফ্লোরে বসে কান্না করে দেয়৷ এই প্রথম বার কোন ছেলে প্রীতিকে কিস করলো। আর আগে কোনদিন কোনো ছেলে টার্চ করেনি। প্রীতি কান্না করতে করতে বলে উঠে,
“প্রেম আপনি কেন বুঝতে পারেন না? আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না৷ আমি জানি আপনি একজন ভালো মানুষ৷ আপনি আমার কাছে আসলে আমার মনে কোন ফিলিংস আসে না৷ সেজন্য আমি স্বার্থকে এখানে ডেকে এনেছি৷ কিন্তু আপনি আরও আমার দিকে এগিয়ে আসছেন৷”
.
একটু থেমে আবার বলে উঠে,
“আমি আপনাকে আমার জীবনে জড়াতে চাইনা৷ আমি যে যুদ্ধে নেমেছি সে যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফিরতে পারবো কিনা আমার জানা নেই৷ আমার চারদিকে শত্রু। আমি জানি, আমি না থাকলেও আপনি আমার অফিস, এই গোটা সংসার সামলিয়ে রাখতে পারবেন৷”

কান্না করতে করতে কখন ফ্লোরে ঘুমিয়ে যায় জানা নেই প্রীতির৷
________

যুবক দারোয়ান ছেলে প্রীতির পথ আটকিয়ে,
“অফিসে ঢুকার আপনার কোন অনুমতি নেই৷ আপনাকে অফিসে ঢুকতে দিলে আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিবে৷ আমি আমার বসের কথা অমান্য করতে পারবো না৷”
.
প্রীতি নিজের মাথা ঠান্ডা রেখে কৌশল খাঁটিয়ে বলে উঠে,
“কোনো সমস্যা নেই৷ এক সময় এই অফিস আমার ছিল৷ আজ যে গাড়ি তুমি গেইটের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখেছো সেই গাড়ি একদিন তোমাকে পরিষ্কার করতে হবে।”
.
দারোয়ান মুচকি হেঁসে,
“স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন৷ এমন যেন না হয় ফুটপাতে আপনার জায়গা হয়৷”
.
প্রীতি মুচকি হেঁসে মনে মনে বলে উঠে,
“আমি জানতান তুমি আমার অজানা শত্রুর দলে কাজ করো। তোমাকো রাগানোর জন্য আমার এমন পরিকল্পনা। বাবু তুমি আমার দেওয়া টুপ গিলে ফেলেছো।”
.
দারোয়ান রাগী গলায় বলে উঠে,
“কি হলো ম্যাম গাড়ি ঘুরাচ্ছেন না কেন? আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে যাবেন না৷”
.
প্রীতি গাড়ি থেকে নেমে দারোয়ানের সামনে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ায়৷ দারোয়ানকে ভালো করে একবার প্রদর্শন করে,
“আচ্ছা এই কোম্পানির মালিক কে? তাকে ডেকে নিয়ে আসো৷ তার সাথে আমার বুঝা পড়া আছে৷”
.
কোম্পানির মালিক কে, তা দিয়ে আপনি কি করবেন?” আপনি এখান থেকে চলে যান৷ ব্যাস আর কিছু চাইনা৷
.
প্রীতি মায়া ভরা কোমল কন্ঠে অভিনয় করে বলে উঠে,
“তুমি ভাবছো আমি বোকা৷ আমি এখানে এমনি এসেছি৷ তোমার অবস্থা কি করি এখন দেখো?”
.
দারোয়ান অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে,
“আপনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন৷ বেশি কথা বললে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় দিয়ে আসবো৷”
.
প্রীতি দারোয়ানের গালে কষিয়ে একটা চর বসিয়ে দেয়৷ কর্কশ কন্ঠে বলে উঠে,
“তোদের মতো ছেলেকে পিটিয়ে সোজা করেছি আমি। এখানে খালি হাতে আসিনি৷ আমি কোর্ট থেকে পারমিশন নিয়েই এসেছি৷ এই ব্যবহারে তোকে এখন জেলে যেতে হবে৷”
.
দারোয়ান কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে উঠে,
“ম্যাম আমি কি করলাম? প্লিজ আমাকে পুলিশে দিবেন না৷”
.
তুমি এটা জানো না৷ আমি তোমাকে ইচ্ছা করেই আমি রাগিয়েছি৷ আর তুমি যদি সৎ হতে তাহলে তুমি এই অফিসের মালিকের নাম অবশ্যই বলতে৷ এই অফিসটা হলো আমার৷ আর আমার নাম না বললেও তুমি প্রেমের নাম বলতে। কিন্তু তুমি সেগুলো না বলে আমাকে বললে ফুটপাতের কথা৷
.
দারোয়ান ছেলেটি প্রীতির পায়ে পড়ে,
“আমাকে প্লিজ পুলিশের হাতে তুলে দিবেন না৷ আমি কোনদিন আর অন্যায় কাজ করবো না৷”
.
তোমাকে ছাড়তে পারি একটা শর্তে। তুমি আমার শর্তে রাজি হলে তোমাকে ছেড়ে দিব।
.
আপনি আপনার শর্তে রাজি৷ বলেন আমাকে কি করতে হবে?
.
তোমাকে কিছুই করতে হবে না৷ শুধু বল তুমি এখানে কার পারমিশনে কাজ করতে এসেছো৷
.
নাম বলার কথা শুনে দারোয়ান ছেলেটি মাথা নিচু করে ফেলে৷ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে৷ কি বলবে বুঝতে পারছে না? দারোয়ান ছেলেটি হুট করেই প্রীতির গলায় ছুরি ধরে বলে উঠে,
“রিভলবার নিচে নামাতে বল প্রীতি রায় চৌধুরী। না হলে আজই তোর জীবনের শেষ দিন হবে।”
.
প্রীতি ভয়ে ভয়ে বলে উঠে,
“তুই আমাকে মেরে ফেললে কি বাঁচতে পারবি৷ কোনদিন তুই বাঁচতে পারবি না৷ আমি মরে গেলেও আপনারা রিভলবার নিচে রাখবেন না৷”
.
পুলিশের অফিসার বলে উঠে,
“প্রীতিকে ছেড়ে না৷ না হলে শুট করে দিব৷”
.
ছেলেটি মুচকি হেঁসে,
“তোদের মতো পুলিশ আমার কিছু করতে পারবি না৷ যতক্ষণ পর্যন্ত প্রীতি আমার কাছে আছে ততক্ষণ পর্যন্ত তোরা আমার কিছু করতে পারবি না৷”
.
প্রীতি দারোয়ান ছেলেটির চোখের দিকে তাকিয়ে দেখে সে পুলিশদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত৷ প্রীতি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছেলেটির পায়ে লাথি মারে৷ আর নিজের গলা ছাড়িয়ে নিয়ে ছেলে টিকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়৷
.
প্রীতি পুলিশদের উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
“আপনারা এর মুখ থেকে সবকিছু বের করার জন্য যত টর্চার লাগে করবেন৷ এদের সকলের নামে নারী পাচারের মামলা দিয়ে দিবেন৷”
.
ছেলেটি বলে উঠে,
“তুই কিছুতেই পারবি না৷ এখন এটা যুদ্ধে পরিণত হয়েছে৷ আমাকে পুলিশ আটকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আমি ঠিকই বেরিয়ে আসবো৷”
.
হুসস এখন শ্বশুর বাড়ি দিয়ে ঘুরে আয়৷
_________

প্রেম ক্লাইনদের সাথে মিটিং করছে। তাই প্রেমকে বিরক্ত না করে স্টোর রুমে চলে যায়৷ আরও জুড়ালো কিছু প্রমাণ খুঁজার জন্য৷ প্রীতি আবার সেই ডিজাইনের ফাইলটি নেয়৷ বার বার ডিজাইনের ফাইলের উপর নজর পড়ছে৷ প্রীতি ফাইলটা বাড়িতে চলে আসে৷

এক ধ্যানে ফাইল দেখছে৷ কিছুই খুঁজে পাচ্ছে না৷ ফাইলের শেষ পাতায় হুট করে চোখ আটকে যায়৷ সেখানে বড় করে লেখা না থাকলে খুব ছোট করে লেখা আছে,
“আপনি আমার ডিজাইন বাদ দিয়ে খুব বড় অন্যায় করলেন মামু৷ আমি আপনার এই কোম্পানিকে ভেঙে তছনছ করে দিব৷ সাথে আপনার জীবন নরক করে তুলবো৷ আপনার জীবন নরক করতে না পারলে আমি দ্বীপ রাজ সিং নয়৷”
.
প্রীতি ফাইল পড়ে বুঝতে পারে এই শত্রু আর কেউ নয়৷ বরং দ্বীপ রাজ সিং৷ দ্বীপের নাম দেখে প্রীতির চোখ থেকে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে৷ প্রীতি কান্না করতে করতে মনে মনে এক ধ্যানে বলে যাচ্ছে,
“দ্বীপ তুই এই কাজ কিভাবে করতে পারলি? আমি তোকে নিজের দাভাই মানি৷ তোর মামার প্রতি এত ক্ষোভ৷ যে মামা তোকে নিজে হাতে ব্যবসা শিখেছে৷”
.
ফোনের রিংটোন শব্দে প্রীতির ধ্যান ভাঙে ফোনের স্কিনে স্বার্থের নাম ভেসে উঠেছে৷ ফোন কানে ধরতেই স্বার্থ বলে উঠে,
“আমি টাকা এখনো হাতে পাইনি৷ আপনার কথামতো তো আপনার স্বামীর সাথে অভিনয় করেছি৷ এখন টাকা না দিলে আমি সবাইকে সব বলে দিব৷”
.
আপনি আমাকে কথা বলার সময় দেন৷ আমি আপনার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।কিছু সময়ের মাঝেই পৌঁছে যাবে৷
.
মিথ্যা বলার জায়গা পান না৷ আপনি টাকা পাঠালে এখনো আমার কাছে টাকা আসলো না কেন?
.
আমি প্রায় ১ ঘন্টা আগে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি..
.
প্রীতিকে থামিয়ে দিয়ে,
“থামেন৷ কে জানি কলিং বেল বাজাচ্ছে? ফোন কটবেন না৷”
.
স্বার্থ দারজা খোলে,
কে আপনি? এখানে কি চান?
.
প্রীতি ম্যাম আপনার জন্য এই পার্সেল পাঠিয়ে দিয়েছে। খুলে দেখেন৷
.
স্বার্থ পার্সলে খুলে দেখে তাকে যত টাকা দেওয়ার কথা ছিল তার থেকে বরং কিছু টাকা বেশিই দিয়েছে৷ স্বার্থ বলে উঠে,
“আমাদের ডিল হয়েছিল এত টাকা না৷ বেশি টাকা পাঠিয়েছেন কেন?”
.
প্রীতি মুচকি হেঁসে,
“আপনার কাজে আমি খুব খুশি।ধরে নেন খুশি হয়ে আপনাকে গিফট করেছি৷ এখন ভালো কিছু করতে পারবেন৷”
.
স্বার্থ আনন্দের সাথে বলে উঠে,
“আমিও খুব খুশি হয়েছি৷ আজ আমার টাকা টার খুব দরকার ছিল৷ সেজন্য আপনাকে ফোন করা৷ আপনার কোন সাহায্য লাগলে আমাকে বলবেন৷ বড় ভাই হিসেবে আমি সাহায্য করবো৷”
.
অনেক ধন্যবাদ৷ ভলো থাকবেন৷ আর আমার সাহায্য লাগলে আবার আপনার কাছে চলে যাব৷
___________

প্রীতিকে দ্বীপ তার বাড়িতে দেখে চমকে উঠে৷ অবাক হয়ে বলে উঠে,
“প্রীতি তুই এখানে কেন! আমাকে ফোন না করেই তুই এখানে এসে পড়েছিস!”
.
প্রীতি কান্না করতে করতে,
“দাভাই আমার সব শেষ হয়ে গেছে৷ আমার কাছে কিছুই নেই৷ আমি এখন পথের ফকির হয়ে গেছি৷”
.
হোয়াট! তুই এসব কি বলছিস? কি করে হলো এসব?
.
প্রীতি ভিতরে ভিতরে সাপের মতো ফুসফুস করছে৷ মনে মনে উঠে,
“দাভাই তুই কিছুই জানিস না৷ হাউ ফানি৷ কিন্তু দাভাই তুই আমার সাথে অভিনয় করে নে৷ আমিও দেখি তুই কতটা নিচে নামতে পারিস৷”
.
দ্বীপকে জড়িয়ে ধরে,
“দাভাই আমার সবকিছু কেঁড়ে নিয়েছে ওই প্রেম ছোটলোকের বাচ্চা ৷ আমার সবকিছু তার নিজের নামে লিখে নিয়েছে৷”
.
প্রীতির চোখের জল মুছে দিয়ে,
“তুই চিন্তা করিস না৷ তোর দাভাই থাকা অবস্থায় তোর কিছু হতে দিব না৷ তোর সবকিছু আবার ফিরিয়ে দিব৷ তুই আমার আগের মতো অফিসে যেতে পারবি৷”
.
কিন্তু দাভাই আমি কিভাবে অফিসে যেতে পারবো? আমার কাছে কোন প্রমাণ নেই৷ প্রমাণ ছাড়া আমি কিভাবে প্রেমকে শাস্তি দিব?
.
সেসব নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না৷ আমি প্রেমের বাচ্চাকে দেখে নিব৷ ওই প্রেমের জন্য মামু আমার গায়ে হাত তুলেছে৷ আমি ওই প্রেমকে বাঁচতে দিব না৷
.
প্রীতি কোমল স্বরে বলে উঠে,
“দাভাই তোকে কি বলে ধন্যবাদ দিব? সেই ভাষা আমার জানা নেই। মাথার উপর থেকে বড় একটা বোঝা নেমে গেল।”
.
তুই এখানে বস আমি একটু আমার রুম থেকে আসছি৷
.
ওকে৷ দাভাই পিসিমনি কোথায়? উনাকে দেখতে পাছি না কেন?
.
মা একটু বাহিরে গেছে৷ তুই এখানে বস৷ আমি আসছি৷
.
দ্বীপ প্রীতির কাছ তার রুমে যায়৷ কিন্তু দ্বীপের বাসার ডাইনিং রুমের একুরিয়ামে দেখা যাচ্ছে দ্বীপ ফোনের টপের আড়ালে ক্যামেরা লাগিয়ে যাচ্ছে৷ যেন প্রীতি কিছু করলে সে ধরতে পারে৷
.
প্রীতি মনে মনে বলে উঠে,
দাভাই তুই আমার সন্দেহটা বিশ্বাসে পরিণত করে দিলি৷ তুই আমাদের সম্পর্ক নিজ হাতে গলা টিপে মেরে ফেলেছিস৷ আমিই আর এই সম্পর্কে নেই৷ এখন শুধু তোর জন্য শাস্তি অপেক্ষা করছে৷
.
কিছুক্ষণ পর দ্বীপ পিছন থেকে বলে উঠে,
“তুই কিছু চিন্তা করিস না আমি সব ঠিক করে দিব৷ আমি কিছু লোকের সাথে কথা বলেছি৷ তারা সবকিছু ঠিক করে দিবে৷”
.
তুই আমার জন্য এতকিছু করছিস। আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলেও এতকিছু করতে পারতো না৷
.
তুই এখন বাড়ি যা৷ প্রেম এসে তোকে বাড়িতে দেখতে না পেলে সন্দেহ করবে।
.
ওকে দাভাই৷
.
দ্বীপ মনে মনে বলে উঠে,
“তোর সর্বনাশ প্রেম নিয়ে আসেনি৷ তোর সর্বনাশ আমি নিয়ে এসেছি৷ আর কিছুদিন। সবকিছু আমার হাতে চলে আসুক তারপর তোকে স্বর্গে পাঠিয়ে দিব৷
.
প্রীতি পিছনে একবার তাকিয়ে,
“তুই নিজেকে কি ভাবিস? তোর খবর কেউ পাবে না৷ আমাকে বার বার দারোয়ান কাকা তোর কথাই বুঝাতে চেয়েছিলেন। কাছের কেউ৷ ঠিকই তুই আমার কাছের মানুষ হয়ে আমার পীঠে ছুরি মারলি৷”

চলবে….

ভুল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here