#প্রাণেশ্বরী #Writer_Asfiya_Islam_Jannat #পর্ব-০৩

#প্রাণেশ্বরী
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
#পর্ব-০৩

মেহেদী রাঙ্গা সায়াহ্ন আঁধারের গহীনে নিমজ্জিত হতেই, স্নিগ্ধতার হাতছানি নিয়ে আবির্ভাব হলো চন্দ্রমার।নিজের রূপে মায়ায় ফেলতে। তবে মেঘ,তারাবিহীন অন্তরিক্ষে একাকিত্ব অনুভব করলো নিজেকে ভীষণ। নিজের মাঝে অপূর্ণতা খুঁজে পেল যেন। বুনো গাছ-গাছালির আঁকে-বাঁকে কলি ফুটেছে, মৃদু বাতাসের দুলে বেড়াচ্ছে আর সুবাস ছড়াচ্ছে। দূর থেকে দাঁড়িয়েই তা উপলব্ধি করতে পাচ্ছে প্রাণ। কিয়ৎক্ষণ প্রকৃতির উপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে প্রাণ নিদারুণ একটি বিষয় আবিষ্কার করলো। মিল খুঁজে পেল চাঁদের সাথে নিজের। তার মনে হলো, আজ চাঁদটাও তার মতই নিঃসঙ্গ,নিরাসক্ত। না আছে বোঝার মত কেউ, না আছে তাকে সঙ্গ দিতে কেউ। কেবল মানুষ তার রূপের মোহেই মাতোয়ারা হয়ে বেড়াচ্ছে, কেউ জানতে আসছে না তার ভিতরকার অবস্থা, জানতে চাইছে না একবারো “সে কেমন আছে?তার মন ভালো আছে তো?” বুক চিড়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড়িয়ে এলো আপনা-আপনি। অনিমেষ চাহনিতে কিছুক্ষণ ম্লান চাঁদটার পাণে তাকিয়ে থেকে রুমে চলে আসে প্রাণ। পায়ে গভীর আঘাত পাওয়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে বেশ অসুবিধে হচ্ছিল। ব্যথায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে তাকে। অসহ্য লাগছে এতে তার। এক কোণে রাখা ইজি চেয়ারটায় বসে নেত্রযুগল এক করে দুলতে থাকে প্রাণ। আজ সারাটা দিন সে ঘুমিয়েই কাঁটিয়েছে কিন্তু তবুও ঘুম পিছু ছাড়তে চাইচ্ছে না আজ। এখনো তন্দ্রা লেগে আছে। এত ঘুমকাতুরে তো সে না, তাহলে? ইজি চেয়ারে বসে থাকতে থাকতেই পুনরায় ঘুমিয়ে পড়লো প্রাণ। যখন নিদ্রাভঙ্গ হলো তখন ঘড়ির কাঁটা রাত দশটা ছুঁইছুঁই। দুইহাত উঁচিয়ে আঁখিপল্লব ডলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়ালো, ক্ষণেই পা যন্ত্রণা করে উঠতে ঠোঁট কাঁমড়ে সহ্য করে নিল সে। কোনরকম হেঁটে ওয়াশরুম পর্যন্ত গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে আসলো সে। বিছানায় পা টানটান করে মেলে দিয়ে পাশে বেডসাইড টেবিলের উপর রাখা হ্যান্ডব্যাগটা কোলে তুলে নিল। ব্যাগ ঘেটে নিজের ফোন বের করার সময় শিলার ফোন চোখে পড়তেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো সে। নিজের সকল শুট কমপ্লিট করে ভার্জিনিয়া থেকে আসার পূর্বে শিলার ফোন নিজের সাথে নিয়ে এসেছিল সে। এর মূখ্য কারণ নয়ন যাতে শিলাকে ফোন করলে না পায় এবং জানতে না পারে সে বাংলাদেশে আসছে। যদিও প্রাণ শিলাকে নিষেধ করে রেখেছিল নয়ন কিছু জানাতে তবুও কেন জানি লেগেছিল শিলা জানিয়ে দিতে পারে নয়নকে, কেন না প্রাণের সব খোঁজখবর শিলা প্রায়শই নয়নকে দিয়ে থাকে। তাই সেফটির জন্য ফোনটা সাথে নিয়ে এসেছিল সে, কিন্তু সকালে শিলা কিভাবে নয়নকে জানালো তার আসার কথা কে জানে?
আচমকাই কিছু একটা খটকা লাগলো প্রাণের, মনের মাঝে বুনতে শুরু করলো সন্দেহের বিচ। কিছুটা দ্বিধা নিয়েই সে শিলার ফোনটা অন করলো, শিলার লক প্যাটার্ন কি তা প্রাণ দেখেছিল একবার তাই মোবাইলটা খুলতে সময় লাগলো না তার। কোথা থেকে শুরু করবে ভাবতে ভাবতে হোয়াটসঅ্যাপে চলে গেল সে, সবার উপরেই নয়নের চ্যাটবক্স দেখে কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইল সে। অনুমতি ছাড়া কারো চ্যাট পড়া অনৈতিক কাজ জেনেও নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না৷ একেক করে শিলা এবং নয়নের সব চ্যাট পড়তে থাকলো সে। শুরু থেকে শেষ অব্দি। মেসেজ সব দেখা শেষে তীব্র ক্ষোভে প্রাণের বিমূঢ় আঁখিপল্লব র’ক্তি’ম বর্ণ ধারণ করলো। সর্বাঙ্গে ধরে গেল অসহ্যনীয় জ্বালা৷ নি’সা’ড়,নিস্তব্ধ,নির্বোধ হয়ে কিয়ৎক্ষণ বসে রইলো একভঙ্গিতে। ধোঁ’কা! আবার ধোঁ’কা। নয়ন,জেসিকা মিলে তার সাথে যা করেছে শিলাও তার বিপরীত কিছু করেনি। টাকার বিনিময়ে শিলা নয়নকে শুধু টাইম টু টাইম তার সকল খোঁজখবর নয় বরং তার কাছে আসা সকল অফারগুলাও সবার আগে নয়নকে জানিয়েছে সে এবং নয়ন সেখান থেকে বেশির ভাগ ভালো ভালো অফারগুলা রিজেক্ট করে বেছে বেছে এভারেজ লেভেলের কাজগুলো তার সামনে উপস্থাপন করতে বলেছে যেগুলো হিট হওয়ার চান্স খুবই ক্ষীণ। উদ্দেশ্য ছিল এটাই, সে যাতে এসব মুভি,শো করে অত্যাধিক সুনাম অর্জন করতে না পারে। তবে এখানের বেশিরভাগ অফারগুলোর সম্পর্কেই সে অবগত ছিল না। অবগত হবেই বা কিভাবে? সে তো কখনো তেমন যাচাই-বাছাই করে জানতে যায়নি কিছু, শিলার উপর ভরসা করে এসব কাজ তার উপর ছেঁড়ে দিয়েছিল সে৷ যার পরিমাণ এখন এই৷
প্রাণ আরেকবার ভালো মত সকল অফারগুলোয় চোখ বুলালো, একটা জিনিস লক্ষ্য করলো সে জেসিকা এখন যেসব মুভি, সিরিজ এবং শো-তে কাজ করছে বা করেছে সবগুলোর অফারই বহু পূর্বে তার কাছে এসেছিল। ধরতে প্রথম বোধহয় তার কাছেই এসেছিল কিন্তু নয়ন সেগুলো রিজেক্ট করে দেয়৷ বিষয়টা এখন আরেকটু পরিষ্কার হয়ে এলো প্রাণের নিকট, তার জন্য আসা অফারগুলো খুব চালাকির সাথেই নয়ন জেসিকাকে হ্যান্ড ওভার করেছে এবং ডাইরেক্টরদের কাছে এপ্রোচ করেছে। বাহ! কি সুন্দর সাজানো পরিকল্পনা। এই জন্যই বুঝি নয়ন তার আগের এসিস্ট্যান্টকে সরিয়ে দিয়ে শিলাকে এনেছিল এবং এসব করাচ্ছিল? হাহ! কি ছিল বোকা সে। এতটুকু চালাকিও ধরতে পারলো না? উপরন্ত, এতটা সময় ধরে এমন এক জ’ঘ’ন্য মানুষকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে এসেছিল, তার এক কথায় নিজের পুরো দুনিয়া উজাড় করে দিয়েছিল, ভাবতেই ধিক্কার জানালো নিজেকে প্রাণ।
নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাতের পাশে থাকা ল্যাম্পসেডটা এক ঝাটকায় মেঝেতে ছুঁড়ে মারলো সে, মুহূর্তেই তা খ’ণ্ডবি’খ’ণ্ড হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল ঘরের সকল কোণে। মনস্তাপের পরিমাণ বাড়তেই প্রাণ সহ্য করতে পারলো না আর, কষ্ট সব উপচে পড়লো বিবর্ণ ধারা হয়ে। এতটা বোকা কিভাবে হতে পারলো সে, সব তার দৃষ্টির সামনে ছিল কিন্তু কোনকিছুই আন্দাজ করতে পারেনি। দিনের পর দিন শুধু প্র’তা’রণা,প্রবঞ্চনার শিকার হয়েই এসেছে। ভালোবাসার জন্য কি এতটাই কাঙ্গাল পড়েছিল যে দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছিল? নিজেকেই নিজের এখন খু’ন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার। তার চারপাশে অবস্থানরত মানুষ আজকে পুরো দমে তার বিশ্বাস ভে’ঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বাস উঠিয়ে ফেলেছে ভালোবাসা,বন্ধুত্ব,ভরসা নামক বস্তুগুলো হতে। সে হয়তো এখন জীবনে আর কাউকেই আপন করে নিতে পারবে না। কখনো না।
এদিক, ভাঙচুরের শব্দ শুনে বাকি সব সার্ভেন্টরা নিজেদের মত কাজ করলেও ছুটে আসেন আশা বেগম। একপলক মেঝেতে চূ’র্ণ’বি’চূ’র্ণ ল্যাম্পসেডটির দিকে তাকিয়ে, দরজা ভিড়িয়ে বিছানায় ছটফট করতে থাকা প্রাণের দিকে এগিয়ে গেলেন। প্রাণের ফোলা গালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন, “কি হয়েছে মামণি? এমন করছিস কেন তুই?”

প্রাণ অশ্রুসিক্ত লোচনে আশা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে, “আমার চারপাশটা সম্পূর্ণ মিথ্যে দিয়ে ভরা কেন বলতে পারো আশামা? কেন সবাই শুধু আমাকে ঠকিয়েই চলে যায়, খেলে যায় আমার অনুভূতির সাথে? কেন? আমি কি মানুষ না? আমার কি কষ্ট হয় না? মন নেই আমার? আর কত সহ্য করব আমি? আর কত?”

আশা বেগম বুঝলেন আবার কিছু হয়েছে। তিনি প্রাণের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “এই পৃথিবীতে সুখে-শান্তিতে বেঁচে থাকা এত সহজ নয় মামণি, তোকে পদে পদে নিজের জন্য লড়ে যেতেই হবে। যতদিন তুই নিজের জন্য লড়াই করে যেতে পারছিস ঠিক ততদিনই তোর অস্তিত্ব টিকে থাকবে এই পৃথিবীতে। যেদিন তুই স্থির হয়ে যাবি সেদিনই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে তোর অস্তিত্ব।”

প্রাণ কম্পিত কন্ঠে বলে উঠে, “আমি যে আর পারছি না আশামা।”

“পারতে তোকে হবে, নিজের জন্য না হলেও তোর দাদির জন্য। তোর দাদি তো তোকে এই শিক্ষা দেয়নি যে কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙ্গে পড়ার। তাহলে?”

প্রাণ কিছু বলল না, মৌনব্রত রইলো। আশা বেগম প্রাণের সিক্ততায় ঘেরা গাল দুটি মুছে দিয়ে বললেন, “যে অশ্রু দূর্বলতা প্রকাশ করে, তা কখনো প্রকাশ্যে আসতে দিতে নেই৷ চেপে যেতে হয় আঁধারের অন্তরালে।”

কথাটা বলে আশা বেগম থামলেন অতঃপর বললেন, “মনে আছে, এই কথাটা কে বলেছিল তোকে?”

প্রাণ ধরা গলায় বলে উঠে, “দাদিমা!”

“কথাগুলো মনে যেহেতু আছে সেহেতু তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে শিখ। দাদিমার আদর্শগুলো মনে রেখে, নিজেকে সামলে নিতে শিখ। সর্বদা আমি তো থাকবো না তোকে সামলে নিতে। আমি এই আছি এই নেই।”

প্রাণ তটস্থ কন্ঠে বলে উঠে, “নাহ! বাজে বকবে না একদম। তুমি কোথাও যাচ্ছ না। কো..থা..ও না!”

প্রাণকে প্যানিক করতে দেখে আশা বেগম ঘাবড়ে গেলেন। প্রাণকে কোনরকম শান্ত করে দ্রুত সাইড টেবিল থেকে কিছু মেডিসিন বের করে, বুঝিয়ে খায়িয়ে দিলেন। অতঃপর সব গুছিয়ে প্রাণ শুয়ে দিয়ে বললেন, “আমি যাচ্ছি না কোথাও, দেখ! শান্ত হো।”

প্রাণ আশা বেগমের একহাত শক্ত করে মুঠো ধরে শুয়ে থাকে আর বিরবির করতে থাকে। আশা বেগম প্রাণের হাতের উপর হাত রাখতেই বুঝতে পারলেন প্রাণ কাঁপছে। তাকে এবার আশঙ্কিত দেখা দিল। কিছু একটার ভয় ঝেঁকে ধরলো তাকে গভীরভাবে।

______

রৌদ্রজ্বল প্রভাতের নীলিমা অম্বর জুড়ে অজস্র মেঘের দা’পা’দা’পি। প্রত্যুষপাখির কূজন চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। বাতাসের নামগন্ধ নেই ছিঁটেফোঁটাও। ভ্যাপসা গরমে ফুলে ফেঁপে উঠেছে শহর। প্রাণ তখন সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠেছে এমন সময় একটা সার্ভেন্ট এসে জানালো, “বড় সাহেব এসেছেন, তাকে খুঁজছেন।”

সাত সকাল নেহাল শিকদার তার বাড়িতে এসে হাজির হয়েছে বিষয়টা ঠিক হজম করতে পারলো না প্রাণ। যে লোক স্বার্থ ছাড়া এক চুল পর্যন্ত নড়ে না সে আজ এসেছে মানে নিশ্চয়ই কোন কাহিনী আছে। প্রাণ ‘আসছি’ বলে সার্ভেন্টকে বিদায় করে দেয়। অতঃপর ফ্রেশ হয়ে নিজেকে গুছিয়ে নেমে আসে নিচে। ড্রয়িংরুমে এসে নেহাল শিকদারের বিপরীত পাশের সোফায় বসে পড়ে সে। মন্থর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, “আজ কি মনে করে এখানে? কোন দরকার?”

নেহাল রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠে, “কথা বলার এটা কেমন ধরন? আদাব-কায়দা শিখো নি কিছু? নিজের বাবার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানো না?”

প্রাণ শ্লেষাত্মক চাহনি নিক্ষেপ করে বলে, “আপনি নিশ্চয়ই সেই বনানী থেকে কষ্ট করে আমাকে এসব বলতে আসেন নি? তাই একবারে কাজের কথা আসলে খুশি হব।”

নেহাল বিরক্তিকর কন্ঠে বলে উঠেন, “বড্ড অবাধ্য এবং বেদ্দব তুমি।”

“দুইটাই আমি ছোটবেলা থেকে ছিলাম, আপনি শুধু তা জানার বা বোঝার সুযোগ পাননি। অথবা বলতে পারেন চান নি।”

নেহাল ধাতস্থ হয়ে কথা চেঞ্জ করার জন্য বলে, “বাজে বকা বন্ধ কর।”

প্রাণ ম্রিয়মাণ কন্ঠে বলে, “করলাম। তা বলেন, কি বলতে এসেছেন।”

নেহাল কিয়ৎক্ষণ থেমে বলেন, “সামনের মাস থেকে যে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুরু মনে আছে? তা আমি চাইছি এবার রেড কার্পেটে তুমি আর নয়ন একসাথে এণ্ট্রি কর।”

প্রাণ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে, “হঠাৎ?”

“কারণ সেখানেই আমি একটা এনাউন্সমেন্ট করতে চাচ্ছি।”

প্রাণের কপালে ভাঁজ গাঢ়তর হলো, “কিসের এনাউন্সমেন্ট?”

নেহাল নির্লিপ্ত কন্ঠে বলেন, “তোমাদের এনগেজমেন্টের, সময় এসে গিয়েছে তোমাদের নিউজটা পাবলিক করার। সে সাথে তোমাদের দুইজনের আপকামিং যে মুভি আসছে সেটা রিলিজের ডেটও সেদিনই পাবলিশ করব।”

কথাটা শুনে প্রাণ কিছুক্ষণ থম মেরে বসে থেকে বলে উঠে, “কখন কোন নিউজকে হাতিয়ার বানিয়ে নিজের প্রোফেট দ্বিগুণ করা যায় তা কেউ আপনার কাছ থেকে শিখুক। নিজের মেয়েকেও ছাড় দিচ্ছেন না আপনি, হাহ! পলিটিক্স এন্ড পলিটিক্স।”

নেহাল কাঠ কাঠ কন্ঠে বলে উঠেন, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কোন কিছু কেউ খামাখা করে না, সবার আগে এখানে লাভের চিন্তাটাই আসে৷ আর তোমার পিছনে আমি না থাকলে এতদিনে দেখতে নাম কামানোর জন্য কি কি করতে হতো। আমি ছিলাম বলেই, চোখের পলকে তুমি স্টার হয়ে গিয়েছ।”

প্রাণ তাচ্ছিল্যভাবে বলে উঠে, “আপনার কি মনে হয় আমি সেচ্ছায় কখনো এই জগৎ-এ আসতাম?”

নেহাল ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই প্রাণ নির্লিপ্ত কন্ঠে বলে উঠে, “সে যাই হোক, আপনার কথায় আমি রাজি আছি তবে আমার কিছু শর্ত আছে।”

নেহাল কিছুক্ষণ প্রাণের পাণে বিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন। যতটুকু তিনি প্রাণকে চিনেন, সে নিজের পার্সোনাল লাইফ প্রচন্ড প্রাইভেট রাখতে পছন্দ করে। যার দরুণ সে এনগেজমেন্টটাও করেছিল নিভৃতে। সেখানে আজ তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন তার এবং নয়নের এনগেজমেন্টের কথা পাবলিশ করা নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যাবে দুইজনের মাঝে। কিন্তু প্রাণ যে এত সহজে মেনে যাবে তা কল্পনারও বাহিরে ছিল তার। তিনি নিজের বিস্ময়ভাব কোনরকম কাটিয়ে উঠে খানিকটা প্রসন্ন মনেই জিজ্ঞেস করেন, “কি শর্ত তোমার?”

“নয়নকে আপনি এই বিষয়ে কিছু জানাবেন না। বিশেষ করে এনগেজমেন্টের নিউজ পাবলিশের ব্যাপারটা। ওকে আমি সারপ্রাইজ দিতে চাই। যখন হুট করে আপনি নিউজটা পাবলিশড করবেন তখন ওর অভিব্যক্তি কিরকম হবে তা আমি উপভোগ করতে চাই।”

কথাটা শুনে নেহাল আপত্তি করার মত কিছু পেলেন না বিধায় রাজি হয়ে গেলেন। ভাবলেন, মেয়ে তার হবু বরকে সারপ্রাইজ দিতে চায় এতে ক্ষতি কই? নেহাল প্রাণের প্রস্তাবে রাজি হতেই প্রাণ প্রশস্ত হাসলো। অতঃপর বলে উঠে সে, “আরেকটা রিকুয়েষ্ট।”

“কি?”

“আমার নতুন একটা এসিস্ট্যান্ট লাগবে, খোঁজ করে ভালো কাউকে দিতে পারবেন? বর্তমানটার কাজ আমার ভালো লাগছে না।”

নেহাল কিছুটা ভেবে চিন্তে বলেন, “আচ্ছা, কাল-পরশুর মাঝে নতুন এসিস্ট্যান্ট পেয়ে যাবে।”

প্রাণ কিছু বলল না আর। নেহাল শিকদারও আর বেশিক্ষণ থাকলেন না, একবার আশা বেগমের সাথে দেখা করে বেরিয়ে গেলেন নিজ কাজে। নেহাল শিকদার চলে যেতেই প্রাণ নিজের রুমে এসে বা হাতের অনামিকা আঙুলে থাকা ডায়মন্ড কাটের ছোট আংটিটার দিকে তাকালো। অতঃপর একটা টানে সে-টা খুলে ফেলে মুখশ্রী সম্মুখে তুলে ধরে বিরবির করে বলল, “‘মি. নয়ন মেহরাব’ জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ। তোমার জীবন যদি আমি জাহান্নাম না বানিয়েছি আমার নামও ‘নুসাইবা আরা প্রাণ’ না।”

কথাটা বলে ড্রেসিং টেবিলের এক কোণে অবহেলা সহিত আংটিটা ফেলে রাখলো। অতঃপর ফোন হাতে নিতেই ওয়ালের নোটিফিকেশনে নয়নের মেসেজ দেখতে পেয়ে ভ্রু কুটি কুঞ্চিত করে আসলো তার। মেসেজে লেখা, “আজ রাত আটটায় তৈরি থেক, বের হবো তোমাকে নিয়ে। লাভ ইউ জান।”

চলবে……

[কপি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here