নীলাম্বরীর_প্রেমে,পর্ব -৪,৫

নীলাম্বরীর_প্রেমে,পর্ব -৪,৫
Tuhina pakira
পর্ব -৪

আয়ু ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে যেই না পিছন ফিরলো সঙ্গে সঙ্গে আঁতকে উঠল । বিছানায় বসে আয়ুর একটা বই দেখছিল আয়ুর মা রাহী । দরজা বন্ধের শব্দে আয়ুর দিকে তাকিয়ে রীতিমত মাথায় রাগ উঠে গেল । ওর নতুন শাড়িটা অর্ধেক কাদায় মাখামাখি । আয়ু তো ওর মা কে দেখে ঢোক গিলছে । আজ ওর কী হবে ? বাবাও এখন বাড়িতে নেই যে বাঁচাবে । আর তাছাড়া ওকে যে কেউ বাঁচাবে সেই পরিস্থিতিই তো নেই । নিজেই তো ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে ।

— ” আয়ু তুই এই শাড়িটা পড়েছিস কেনো ? ”

মায়ের রাগী গলায় বলা কথা শুনে ঢোক গিললো । আমতা আমতা করে বলল,
-” মা আসলে আমি ….”

-” ঠাস করে এক চড় মেরে তোমার গাল লাল করে দেবো একেবারে । এতই যখন শাড়ি পড়ার শখ তো বাবাকে বলবি তোকে যেনো আর জামা কিনে না দেয় । সবসময় শাড়ি , আর আমার শাড়িটার কি দশা । তোকে আজ ……”

পড়ার টেবিলে থাকা স্টিলের স্কেলটা নিয়ে এলো রাহী । আয়ুর ভয়ে চোখ দিয়ে জল পড়ছে ।

-” মা.. মা এবারের মতো ছেড়ে দাও । আমি আর কোনোদিন এই কাজ করবো না । মা মেরোনা প্লিজ।”

-” তোকে অনেক ছাড় দিয়েছি । আজ আর না । সারাদিন তুমি টইটই করে ঘুরছো । যেটুকু কেবল স্কুল, পড়তে যাও । আর পড়াশোনা তো মাথায় উঠেছে । ভেবেছো আমার তো মাধ্যমিক হয়ে গেছে, আমি ফ্রি । তাই না । ”

-” মা আমি পড়িতো । ”

-” কতো তুমি পড়ো তা আমি জানি । কেবল পড়তে যাবার পড়া গুলো করেই তুমি বই খাতা গুছিয়ে ফেলো । হাত পাত তাড়াতাড়ি । ”

মায়ের রাগী মুখের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আয়ু সামনে হাত বাড়িয়ে দিলো । আয়ুর মা স্কেল দিয়ে সপাটে মারতেই আয়ু ব্যথায় হাত গুটিয়ে নিলো । ওর হাত ভীষন জ্বলছে । স্টিলের স্কেলের কোণাটা ওর হাতে ব্যথা করা যায়গায় লেগে আরও জ্বলছে ।

আয়ুর মা আবারও মারতে উদ্যত হতেই বাইরে থেকে আয়ুর মাসতুতো বোন দ্রুতি “মাসিমণি বলে ডেকে উঠলো ।

-” তোকে আমি পড়ে দেখছি । যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে । ”

আয়ুর মা চলে যেতেই আয়ু নিজের হাত ভালো করে দেখলো । স্কেলের কোণায় হাত কেটে গেছে । কাদা লেগে থাকায় ঠিক বোঝা যাচ্ছে না । ও কেঁদে ফেলল । তারপর ফ্রেশ হতে চলে গেলো ।

-” কী রে আজ এতো তাড়াতাড়ি চলে এলি ? আর আয়ান কোথায় ? ”

দ্রুতি জল খাচ্ছিল । মাসির দিকে তাকিয়ে হাসলো । ছোটো থেকে ও এই বাড়িতেই থাকে । এখান থেকে 10 মিনিট গেলেই ওদের বাড়ি । বাড়িতে মা , বাবা ,কাকা কাকিমা,ভাই , বোন সবাই রয়েছে । দিনের বেলায় মাঝে মাঝে বাড়ি গেলেও আবার ও ফিরে আসে । ওর এইখানে থাকতেই ভালো লাগে । এই সবে ক্লাস 9 এ পড়ে ও ।

-” আজ স্যার কোথায় একটা যাবে তাই ছেড়ে দিয়েছে আমাদের । আর আয়ান আসছে পেন কিনছে । এই এলো বলে । ”

-” এই ছেলে নির্ঘাত আবার পেন খারাপ করেছে । বুঝিনা এক দিনে মানুষ কী করে পেন খারাপ করে । একটা পেন ও ওর এক দিনের বেশি চলে না । ”

দ্রুতি হেসে উঠলো । চুল থেকে ক্লিপটা খুলে হাত খোঁপা করার চেষ্টা করে বললো ,
-” আয়ু দি কোথায় মাসিমনি ? ”

-” কোথায় আবার ঘরে । আচ্ছা শোন ওকে ঘাটাস না । আজ মেরেছি বেচারি নির্ঘাত ক্ষেপে রয়েছে । তুই যা ফ্রেশ হয়ে আয় । আমি নীলাদের বাড়ি যাচ্ছি । আজ ওই বাড়িতে সকলের একটা পিকনিক আছে । একটু পড়ে তুই আয়ানকে নিয়ে চলে আসিস । আয়ু কে আমি পড়ে ডাকছি । ”

-” আচ্ছা ”

দ্রুতি নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো । আয়ুর মা রাহী আর স্পর্শের মা নীলা দুজনেই বেস্ট ফ্রেন্ড । তাদের বাপের বাড়ি এক এলাকায় । তেমনি বিয়েও হয়েছে একদম সামনা সামনি বাড়িতে । আসলে নীলার বিয়েতেই আয়ুর বাবা,মা রাহী আর জয় এর দেখা । সেখান থেকেই তাদের বিয়ে । আরেক দিক দিয়ে আয়ুর দাদু তার আরেক মেয়ে দ্রুতির মা রুহির একই পাড়ায় বিয়ে দেন । যাতে মেয়েদের দূরে যেতে না হয় ।

আয়ু নিজের ঘরের বারান্দায় মন মরা হয়ে বসে রয়েছে । একদিকে ও স্পর্শ দাকে পেলো না তার কষ্ট অপরদিকে ওর মা ওকে মারলো । হাতটা কেটে গিয়ে লাল হয়ে গেছে । ওর খুব কান্না পাচ্ছে । পাশেই তিশাদের অপর ঘর থেকে ওদের মা মেয়ের গলার স্বর পাওয়া যাচ্ছে । তিশার মা তিশাকে ABCD পড়াচ্ছে । আয়ু শুনতে পাচ্ছে তিশা বারবার আই ( I )কে এ ( A ) বলছে । তার উপর মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলছে , ” আমি পড়বো না । আমি স্কুল যাবো না । ”

-” তুমি যদি স্কুল না যাও তবে তোমার বন্ধু হবে না । তখন কী হবে ?”
-” তুমি জানো না আমার রিমি বন্ধু আছে । আমি আর পড়বো না । ”

তিশার মা এবার ধুম করে তিশার পিঠে মারতেই তিশা ভ্যা করে উঠলো ।

আয়ু সবই শুনতে পেলো । মনে মনে বললো ,
-” মায়েরা একদম ভালো না । খালি আমাদের মারে । না না শুধু আমার মা । স্পর্শ দার মা খুব ভালো । স্পর্শ দাকে মারে না । খালি আমার মা খারাপ , খালি বকে । সবার মা ভালো । না না তিশার মা ও তো ভালো না তিশাকে মারে আমার মায়ের মতো।”
এইবার আয়ুর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো । হাতে ফু দিয়ে জ্বালা কমানোর চেষ্টা করছিল ।

তখনই অপর দিকের বারান্দা থেকে কেউ ডেকে উঠলো ,
-” এই আয়ু কী হয়েছে হাতে ?”

স্পর্শকে দেখে আয়ু চোখের জল মুছে বললো ,
-” তোমাকে বলবো না । ”

স্পর্শ বারান্দার রেলিঙে হাত দুটো রেখে বেশ আয়েস করে দাঁড়ালো ।

– “ও মা নিশ্চয় মেরেছে ?”

আয়ু এবার ফ্যাচফ্যাচ করে কেঁদে ফেললো ।
-” আমার মা ভালো নয় । খালি মারে । আমি আর এখানে থাকবো না । ”

-” দূর পাগলি মা তো তোর ভালোর জন্যই মেরেছে । যে যাকে বেশি ভালোবাসে তাকেই তো মারে । ”

-” মা আমাকে ভালোবাসে ? ”

– ” হ্যাঁ বাসে তো । তুই না মায়ের বড়ো মেয়ে । তুই তো প্রথম মা বলে তোর মাকে ডেকেছিলি । তাহলে সব থেকে বেশি তো তোকেই ভালোবাসবে পাগলি ।”

-” তাইতো । ”

-” নে এবার বল হাতে কী হয়েছে ? ”

আয়ু হাত তুলে স্পর্শকে দেখালো । রাস্তার আলো , বারান্দার আলোয় স্পষ্ট বোঝা গেলো আয়ুর হাত কেটে গেছে ।

-” বাহ্ হাত ও কেটে ফেলেছিস । মলম লাগিয়েছিস?”

আয়ু মাথা নেড়ে না বোঝালো । স্পর্শ খানিক ক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওকে দেখে নিলো ।

– ” যা গিয়ে অয়েনমেন্ট লাগা আগে । তোর কাছে আছে ?”

– ” না , মা জানে । আমি মাকে বলছি । ”

– ” তোর মা আমাদের বাড়ি । আচ্ছা দাঁড়া । ”

স্পর্শ নিজের ঘরে গিয়ে অয়েনমেন্টটা নিয়ে আবার বারান্দায় ফিরে এলো । দুজনের বাড়ির মাঝের রাস্তাটা খুবই ছোটো । সহজেই আয়ু কে এটা ছোড়া যাবে ।

-” এই নে ক্যাচ কর । ”

স্পর্শ ছুড়ে দিতেই ওটা আয়ু ক্যাচ করতে গেলেও পারলো না । ওটা বারান্দা থেকে ছিটকে ঘরে চলে গেল।

স্পর্শ আয়ু কে রাগাতে বললো ,
-” তুই কিচ্ছু কর্মের না । ”

-” নিজে যেনো কতো কি পারে ঠিক মতো একটা ক্যাচ দিতেও পারে না । ”

আয়ু ভেংচি কেটে ঘরে চলে গেলো ।

(চলবে )

#নীলাম্বরীর_প্রেমে
#Tuhina pakira
পর্ব -৫

হাতে অয়েনমেন্ট লাগানোর পর জ্বালাটা একটু কমে আয়ুর। কিন্তু ওর হঠাৎই মনে হয় ও কিছু একটা ভুলছে। কিন্তু কী ভুলছে? সারা ঘর পাইচারি করতে করতে মনে পরলো কাল সকালে ওকে স্যারের কাছে পড়তে যেতে হবে। আর স্যার কালকে বাংলার কিছু চ্যাপ্টারের প্রশ্ন লিখতে দেবে। আয়ু ছুটে গিয়ে পড়ার টেবিলে বসে গেলো। বেশি নয় পাঁচটা প্রশ্ন মুখস্ত করতে হবে । যদিবা ওইগুলো ওর আগেই পড়া রয়েছে। কিন্তু পড়তে পড়তে আয়ু কিছুতেই পড়ায় মন বসাতে পারছে না। কেবলই বিকেলের কথা গুলো মনে পড়ছে। বুকের বাম পাশটা কেমন যেনো খালি খালি লাগছে। রবি ঠাকুরের ‘ কর্তার ভূত’ পড়তে পড়তে এখন যেনো ওর মাথাতেই ভূত উঠে নাচছে। আয়ু বই , খাতা সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো।

-” ধুর, এইভাবে পড়া হয়।”

আয়ু ঢকঢক করে একগ্লাস জল খেয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। চেয়ারে সোজা হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে মনে মনে ১-১০০ পিছন থেকে সামনের দিকে গুনতে লাগলো। প্রথমে একবার , তারপর দুইবার, তিনবার , চারবার গোনার পর আয়ুর মন যেনো শান্ত হলো। আয়ুর মতে এই মুহূর্তে ওকে কোনো কঠিন বই দিলেও ও তা পড়ে সুন্দর করে মুখস্থ করে ফেলবে। আয়ু এবার শান্তি মতো পড়তে লাগলো ।

একঘন্টা পরে আয়ুর হঠাৎ মনে হলো ওর ঘরে আশ্চর্য্য জনক কিছু হচ্ছে । কিন্তু কী ? আয়ু চারিদিকটা ভালোকরে দেখলো । মনে হলো কিছু আলো ওর মুখে এসে পড়ছে । আয়ু উঠে দাঁড়ালো । ঘরের লাইটটা অফ করে দিলো । কিছুক্ষণ পর ঘরের মধ্যে লাল আলো এসে পড়ছে । আয়ু চারিদিক ভালো করে দেখে বুঝলো বারান্দার দিকের জানালাটা থেকে এই আলো আসছে । আয়ু বুঝলো এই কাজ একমাত্র ওর প্রতিবেশীর । আয়ু বারান্দায় দরজাটা খুলতে গিয়েও থেমে গেলো । ওকে যেতে হবে আচমকা। যাতে স্পর্শ দা লুকোনোর সুযোগটা না পায়। কয়েক মিনিট পর লাল আলোর সাথে সবুজ আলোর রশ্মি দেখা গেলো। আয়ু বুঝতে পারলো অপর দিকের ব্যাক্তিটা একে ডিস্টার্ব করার সব পন্থাই ভেবে রেখেছে । আয়ু এবার একগাল হেসে ছুটে দরজা খুলে বারান্দায় চলে গেলো ।

স্পর্শ আচমকা আয়ুকে দেখে চমকে গেলো । ও বেচারা লুকোনোর সময় টুকু পেলো না । আয়ু হাত গুটিয়ে স্পর্শের দিকে চোখ ছোটো ছোটো করে তাকালো । ও যা ভেবেছিল তাই , স্পর্শ হাতে লেসার লাইট নিয়ে এতক্ষণ আয়ুকে ডিস্টার্ব করছিল।

-” এতো সুন্দর আইডিয়া তুমি কোথায় পেলে স্পর্শ দা ?

-” যেখানেই পাই তোর কি ? কখন ধরে ডাকছি ম্যাডামকে সাড়া দিতে কী কষ্ট হচ্ছিল ? ”

আয়ু কোমরে হাত রেখে বলল ,
-” কোথায় ডাকলে ? আমি কী কানে কালা যে শুনতে পাবো না । ”

স্পর্শ একটা ছোটো প্যাকিং এর বক্স আয়ুর দিকে ছুড়ে বললো ,

-” তুই তো কালাই । এটা নিয়ে আমাকে উদ্ধার কর।”

স্পর্শের ছোড়া বক্সটা গিয়ে আয়ুর মাথায় লেগে ওর পায়ের কাছে পড়ে । আয়ু মাথায় হাত দিয়ে বললো ,
-” আউচ।”

-” উহু , ওতো লাগেনি । দেখ কি দিয়েছি । ”

স্পর্শকে ভেংচি কেটে আয়ু বক্সটা পায়ের কাছ থেকে তুলে খুলতে লাগলো । সেখানে ছিল একটা নুপুর ।

-” ওয়াও !, এটা আমার ?

-” তোকে যেহেতু দিয়েছি ওটা তোরই । নে এখন ওটা পড়ে নে । খবরদার ওটা কিন্তু খুলবি না পা থেকে । ”

আয়ু কিছু ভেবে বললো ,
-” কিন্তু স্কুলের মিস তো এর ঘুঙুরের শব্দ পেলেই আমাকে বকবে । ”

স্পর্শ গালে হাত দিয়ে বললো ,
– তাও তো । তবে কি করবি ? ”

আয়ু কিছুক্ষণ কিছু ভাবার পর বললো ,
-” হ্যাঁ , পায়ে মোজার ভিতরে নুপুরটা ঢুকিয়ে রাখবো তাহলেই আর শব্দ হবে না। ”

– ” বাহ্ , মাথায় বুদ্ধি আছে। এবার নুপুর টা পড়ে তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়ি চলে আয়। মা তোকে আমাকে ডেকে দিতে বললো । ”

আয়ু পায়ে নূপুর টা পড়তে পড়তে বললো ,
-” হঠাৎ মিমি ডাকছে কেনো ? ”

– ” কেনো আবার আজ সবাই মিলে আমাদের বাড়ি একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করবে তাই । চলে আয় ভারি মজা হবে । ”

আয়ু নীচের দিকে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে খুঁজতে বললো ,
-” যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি।”

-” কী রে কি করছিস?”

-” দেখোনা আরেক পায়ের নুপুর পাচ্ছিনা । বোধহয় এখানে কোথাও পড়ে গেছে । ”

স্পর্শ হেসে নিজের পকেট থেকে কিছু বের করে বললো ,
-” পাবি না পাবি না । কারণ আমি তোকে এক পায়ের নুপুরই দিয়েছি । আরেক পায়ের নুপুর আমার কাছে। ”

-” ও তোমার কাছে । দাও পড়বো।”

স্পর্শ নুপুর টা আবারও পকেটে পুরে বললো ,

– ” ওটি তো হবে না । যেটা তোকে দিলাম সেটা আপাতত তোর তবে পুরোটা না । আর এইটা আমার নীলাম্বরীর । পুরোপুরি নীলাম্বরীর । তোকে কেবল ওইটা আগলে রাখতে দিয়েছি। ”

আয়ুর মনটা নিমেষে খারাপ হয়ে গেলো। তবে স্পর্শ দা এটা ওর জন্যে আনেনি। এতক্ষণ আয়ুর হাসি মুখটা মলিন হয়ে গেলো । স্পর্শ সেই দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো।

-” তবে এটা আমাকে দিলে কেনো ? তোমার নীলাম্বরী কে দাও। ”

-” আরে তোকে বললাম না , নীলাম্বরী কেবল আমার হৃদয়ের । তার রাজত্ব কেবল আমার হৃদয়ের
অন্তঃস্থলের। কিন্তু সে আমার নিজের কেউ না। তাই তার জন্যে আমার জমানো ভালোবাসাটা আমি কিছুটা তোকে দিলাম। আর কিছুটা নিজের জন্যে রাখলাম। সময় মতো সেটা তোর থেকে আমি দায়িত্ত্ব সহকারে নিয়ে নেবো। ”

আয়ু মলিন হেসে স্পর্শের দিকে তাকিয়ে বললো ,
-” যদি এটা নষ্ট হয়ে যায়?”

-” আমার বিশ্বাস এর কিছু হবে না। আর যদি হয় তোকে আমি দোষ দেবো না। ”

আয়ু আর কিছু বললো না। স্পর্শের দিকে একভাবে তাকিয়ে রইলো । স্পর্শের ও কী হলো কে জানে ও তো আগে থেকেই আয়ুর চোখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে । হয়তো ওর চোখের গভীরতা মাপার চেষ্টা করছে ।

-” কী রে স্পর্শ দা কী করছিস? ”

পিছন থেকে কারোর গলা শুনে দুজনের হুস ফিরল । স্পর্শ পিছনে তাকিয়ে দেখলো ওর পিসতুতো ভাই দিহান দাঁড়িয়ে।

আয়ু দিহানের দিকে তাকিয়ে বললো ,
-” কেমন আছিস ?”

দিহান একগাল হেসে আয়ুর বারান্দার দিকে তাকালো। ও তো ভাবতেই পারেনি আয়ু এইখানে।

-” আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?”

-” ওই আছি। তা কখন এলি? পিমনি আসেনি? ”

-” ওই একটু আগে। আর আমি একাই এসেছি। বাবা , মা আসতে পারেনি।”

ওদের কথার মাঝেই স্পর্শ দিহানের দিকে তাকিয়ে বললো ,
-” কিছু বলবি?”

-” ও হ্যাঁ , মামীমা তোমাকে ডাকছে। এসো। আর আয়ু তুই ও চলে আয়। ”

আয়ু হেসে বলল ,
-” এই তো যাচ্ছি। ”

কথাটা বলেই আয়ু নিজের ঘরে চলে গেল । আর দিহান নীচে চলে গেলো। পড়ে রইলো কেবল স্পর্শ।
আকাশের দিকে তাকিয়ে স্পর্শ বলে উঠলো ,

-” নীলাম্বরীর মলিন হাসি
আমি দেখতে ভালোবাসি । ”

– ” স্পর্শ তুই ও না , যার প্রেমে আবেশিত তুই , তার মলিন হাসি তোর ভালো লাগে । কেনো আনন্দের হাসি ভালো লাগতে নেই ? ”
নিজেকে নিজে করা প্রশ্নের উত্তরে স্পর্শ বিড়বিড় করে বলে উঠলো ,
-” তার জীবনের হাসি, খুশি, আনন্দ ,দুঃখ, বেদনা সবটা নিয়েই আমি তাকে ভালোবাসি । ওই আকাশের নীলাম্বরীর নীলিমাকে যতটা ভালোবাসি তার হাজার গুন আমার হৃদয়ের নীলাম্বরী কে ভালোবাসি। ”

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here