ধূসর পাহাড়,পর্ব_১৪

ধূসর পাহাড়,পর্ব_১৪
লেখিকা আমিশা নূর

কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বাক্যটি বলে সীয়ামা এগিয়ে গেলো।এই প্রথম বারের মতো রৌদ্রময়ের অপরাধবোধ হচ্ছে।হ্যা এটাই সত্যি মেয়েরা ব্রেকআপ করতে বাধ্য হয়।সীয়ামাও হয়েছিলো।কিন্তু সেদিন তার কান্নায় কষ্ঠ হয়েছিলো আর আজও তার কান্না মোটেও সহ্য হচ্ছে না!

“গাইস?”
“আরে তোরা এসে গেছিস।”
“হু।”

অধ্রী আর অরণ্যের কথোপকথনে রৌদ্রময় সামনে এগিয়ে গেলো।

“খেয়েছিস তোরা?”
“হুম।এখন যাবো কই?”
“মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম আমি,পরিবেশটাই ভালো করে দেখলাম না।”
“তুৃমি বরং পরিবেশ দেখো আমরা প্ল্যান করি।”(অধ্রী)

“হিমছড়ি?”(কানন)
“ওকে।তারপর সেন্টমার্টিন!”

১৬.
দুপুরবেলা…..

টমটম নামের গাড়িটি হিমছড়ি এসে থামলো।গাড়ি থেকে নেমে অধ্রী ‘ওওওওঅঅ” বলে চেচিয়ে উঠলো।বিরক্তিতে রৌদ্রময় বললো,

“ঐ হুতোম পেঁচি,একদম চেঁচাবি না।এইটা কী তোর নানুবাড়ি পাইছস?”
“উহু।আমার দাদির বাবার বাড়ি।”
“আমার ইচ্ছে করছে উড়ে যায়,,,ওয়াওওও।”
“কন্ট্রোল সীয়ামা কন্ট্রোল!”
“হাহাহাহা”

কাননের কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো।সামনে তাকাতেই দেখলো কিছু খোলা আমের আচার বিক্রি করা হচ্ছে।টক দেখলে কুয়াশা লোভ সামলে রাখতে পারে না।তাই মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো,

“আআআআমম”
“হ্যা আমই তো।” (অরণ্য)
“খাবো।”
“এমন খোলা আমের চাটনি খাবে?”
“আম মানে আম,সেটা খোলা হোক কিংবা ঢাকা।অধ্রীপুু?”
“না বোন আমি এসব খাই না।”
“সীয়ামা?”
“নাহ দি।’খোলা জিনিস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক!'”
“আমি খাবো।”

হাত উচু করে কানন সম্মতি জানালো।কুয়াশা বিশ্ব জয় হাসি দিয়ে দোকানের সামনে এগিয়ে গেলো।বাকিরা হাটা শুরু করলো।সামনে আরো কয়েক রকম জিনিসের দোকান।ঝিনুকের মালা,ব্যাসলেট,এমনকি কানের দুল।এসবই জেনো কক্সবাজারের সৌন্দর্য!সীয়ামা সব কিছুতে হাত বুলাচ্ছে।রৌদ্রময় সীয়ামা’কে নতুন রুপে দেখছে।অনেক বড় হয়ে গেছে মেয়েটা!
অরণ্য পেছন ঘুরে কুয়াশা’র আচার খাওয়ার দৃশ্যটা ক্যামেরা বন্ধি করলো।মেয়েটা সব কিছুতেই অসাধারণ।হঠাৎ সীয়ামা’র ডাকে অরণ্য সামনে তাকালো।সীয়ামা মাথায় টুপি পরে ইশরায় ছবি তুলতে বলছে।তার বোনটাও অন্যরকম।শতকষ্ট বুকে জমা রেখে কতো সুন্দর হাসতে পারে!ক্যামেরা’য় তুলা ছবিটায় দৃষ্টি পড়তেই দেখতে পেলো সীয়ামা’র সাথে কুয়াশা’ও রয়েছে।কিন্তু ও কখন আসলো?

“দোস্ত ওসাম!”
“কীহ?”
“আমের আচার!”

অরণ্য কাননের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো।তার একটু দূরেই দেখতে পেলো একটি চেনা মুখ গাড়ি থেকে নামছে।অরণ্য তাড়াতাড়ি মুখ লুখিয়ে সামনে চলে গেলো।কানন ভ্যাচকা খেলো।এভাবে চলে যাওয়ার মতো কী বললো সে?

কুয়াশা একটি টুপিতে নিতে গেলে অরণ্য এসে টুপিটা নিয়ে মাথায় দিলো।কুয়াশা হা করে রইলো।অরণ্য ইশরায় “কী হলো?” প্রশ্ন করলো।কুয়াশা জেদি ভাবে উত্তর দিলো,

“টুপিটা আমি নিচ্ছিলাম।”
“তো এখন আমি নিলাম।তুমি আরেকটা নাও।”
“মোটেও না।আমি এটাই নিবো।”
“উফ আমি নিলাম না এটা।”

“উফ” শব্দটা শুনে কুয়াশা’র জেদ আরো বেড়ে গেলো।টুপিটা ধরে রীতিমতো টানাটানি শুরু করে দিলো দুজন।ওদের ঝগড়া দেখে দোকানদার নিজেই বোকাবনে গেলো।টানাটানি করতে করতে একসময় টুপিটা ছিড়ে গেলো।দুজনে চুপচাপ দোকানদারের দিকে তাকালো।দোকানদার হাত নড়লো যার অর্থ “তিনি কিছুই জানে না, টাকা দিতে হবে।” এমন অবস্থায় অধ্রী এসে ব্যাপারটা সামলে নিলো।

আরো সামনে এগোতেই তারা সিঁড়ি দেখতে পেলো।কুয়াশা এতো সিঁড়ি দেখে হা করে রইলো।সিঁড়ি বেয়ে উপরের পাহাড়টাই যেতে হবে।অনেকটা আগ্রহ নিয়ে সবাই উঠা শুরু করলেও ১৫-১৬ নং সিড়িতে এসে বসে রইলো।তখনি পেছন থেকে অরণ্যের নাম শুনা গেলো।সবাই পেছনে ফিরতে দেখলো একটি মেয়ে জুতো জোড়া হাতে নিয়ে দৌড়ে আসছে।মেয়েটা সরাসরি অরণ্যের কাছে এসে বললো,

“অরণ্য?তুমি? ও মাই গড আই ক্যান’নট বিলিভ দিস।”
“হাই অরিন।কেমন আছো?”

অরিন নামের মেয়েটি অরণ্যকে জড়িয়ে ধরতে গেলে অধ্রী অরণ্যের সামনে এসে দাঁড়ালো।যার ফলে অরিন অধ্রী’কে জড়িয়ে ধরে।অধ্রীর কান্ডে সবাই মুচকি হাসলো কিন্তু কুয়াশা’র মুখ ভার।

“তুমি আবার আমাদের মাঝখানে আসছো?”
“আরে অরিন মাঝখানে কই আসলাম?তুৃমি শুধু অরণ্যকেই চোখে দেখলে কিন্তু আমাদের কাউকে দেখলে না তাই মনে করিয়ে দিলাম মাত্র।”
“ইউউ…”
“আই….”
“উফফ অধ্রী বাদ দে না।কেমন আছো অরিন?”
“হুম ভালো।তুম..তোমরা?”

অরণ্যের একটা প্রশ্নে অরিনের মন গলে গেলো।তখনি অরিনের চোখ গেলো অরণ্যের পেছনে কুয়াশা’র দিকে।

“তুমি কে?”
“কুয়াশা।তুমি?”
“আমি অরণ্যের গফ।তুমি কী হও অরণ্যের?”

কুয়াশা থমকে গেলো।মেয়েটা’কে দেখে প্রথমেই তার সন্দেহ হয় আর এখন সিওর।কিন্তু কুয়াশা’কে ভুল প্রমাণিত করে অরণ্য উত্তর দিলো,

“অরিন আমাদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে আর..”

তখনি কুয়াশা’র ফোন বেজে উঠলো।কুয়াশা একটু দূরে গিয়ে কল রিসিভ করলো।

“সুগারদি কেমন আছো?”

ওপাশ থেকে নিপুর কন্ঠ শুনা যাচ্ছে।মেয়েটা একদম মুখ ভার করে প্রশ্ন করছে।অভিমান করেছে মনে হচ্ছে।

“আমি ভালো আছি।তোমার কী খবর?”
“ব্রেকিং নিউজ মিস.কুয়াশা’র স্টুডেন্ট নিপুণা দে নিপু এখন ভালো নেই।”

ওপাশ থেকে নিপু’র বড় আপু উত্তর দিলো।কুয়াশা হেসে ফেললো।

“কেনো ভালো নেই?”
“কী আর সুগারদি’কে মিস করছে।”

কুয়াশা এবং নিপুর বড় আপু দুজনেই হেসে ফেললো।নিপু আগের চেয়ে বেশি অভিমানি দৃষ্টিতে তার দিদির দিকে তাকালো।

“সুগারদি জলদি চলে আসবে তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো।দুষ্টমি কম করবে আর দিদি’কে একদম জ্বালাবে না।”
“ওকে।আমার জন্য চকলেট আনবে সুগারদি?”
“আচ্ছা।প্রকৃতি শুনো?”

নিপুর বড় আপুর নাম প্রকৃতি!দু’বোনের নামে যেমন কোনো মিল নেই তেমনি আচার-আচরণেরও।নিপু একদম কুয়াশা’র মতো!আর নিপু’কে একমাত্র তার দিদিই সামলাতে পারে।কুয়াশার ডাক শুনে প্রকৃতি ‘হ্যা’ সূচক উত্তর দিলো।

“ওকে একটু দেখে রাখো বেশি কান্না যেনো না করে।”
“আচ্ছা।”

কুয়াশা ফোন কেটে দিয়ে অরণ্যের কাছে আসতেই অরণ্যের কন্ঠ শুনতে পেলো,

“তোমার জন্য আমার কোনো ফিলিংস ছিলো না ইনফেক্ট আমার গফ আছে আর আমি তাকে অনেক ভালোবাসি।”
“কে?কাকে ভালোবাসো তুমি?”

ঝাঁজালো কন্ঠে অরিন জিজ্ঞেস করলো প্রতিত্তোরে অরণ্য অধ্রীর দিকে তাকালো।এই মুহুর্তে যেখনো একজন অরণ্যের গফ হিসেবে অরিনের সামনে প্রেজেন্ট করতে হবে।সীমায়া তার বোন,অধ্রীর সাথে অরণ্যের রিলেশন কেমন তা অরিন জানে।বাকি রইলো কুয়াশা!

“কুয়াশাই আমার গফ।কুয়াশাকে ভালোবাসি আমি।”

কুয়াশার একহাতে পানির বোতল ছিলো।অরণ্যের কথা শুনে তার হাতের বোতল’টা পড়ে গেলো।থমকে দাড়ালো সে।চেয়েও পা আর সামনে এগোচ্ছে না।

“ওহ। আমি আগেই ভেবেছিলাম।কিন্তু আমি তোমাকে দেখে নিবো অরণ্য এন্ড তোমাকেও।”

কুয়াশা আর অরণ্যকে হুমকি দিয়ে অরিন নিচে নেমে গেলো।কিছুক্ষণের জন্য পরিবেশটা নিরব হয়ে গেলো।নিরবতা ভেঙে অধ্রী প্রশ্ন করলো,

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here