তুমি_শুধু_আমারই_হও লেখনীতে- অরনিশা সাথী |১৫|

#তুমি_শুধু_আমারই_হও
লেখনীতে- অরনিশা সাথী

|১৫|

কিছু একটা মনে হতেই অর্নি এক ঝটকায় উৎসবকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিলো। আচমকা অর্নির এমন ধাক্কা উৎসব সামলাতে না পেরে ক্ষানিকটা পেছনে সরে যায়। উৎসব অবাক চোখে দেখছে অর্নিকে৷ উৎসব অর্নির সামনে গিয়ে ওর গালে হাত রাখে৷ উৎসব কিছু বলার আগেই অর্নি উৎসবের হাত সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যায় বাসা থেকে৷ করিডোর থেকে নূর অর্নিকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করে ভিতরে কি হয়েছে। কিন্তু অর্নি কোনো কথা না বলে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। পেছন পেছন উৎসবও ছুটে। বার কয়েক ডাকে অর্নির নাম ধরে। কিন্তু অর্নি সারা দেয় না। বাসা থেকে বেরিয়ে একটা রিকশা ধরে বাসার দিকে চলে যায়৷ উৎসব বাসা থেকে বের হতে হতেই অর্নি রিকশায় উঠে পড়ে৷ উৎসব আবার নিজের ঘরে চলে যায়৷ কিছুক্ষণ বাদে নূর এসে জিজ্ঞেস করে,
–“ভাইয়া কি হইছে? অর্নি এভাবে চলে গেলো কেন?”

উৎসব কিছুক্ষণ নিরব থেকে লম্বা শ্বাস ফেলে বললো,
–“জানি না রে, সবটা ঠিক ছিলো। কিন্তু হুট করেই আমাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে।”

নূর এগিয়ে গিয়ে উৎসবের পাশে বসলো। উৎসবের হাতের উপর হাত রেখে বললো,
–“চিন্তা করো না, হয়তো লজ্জা পেয়েছে তাই এভাবে চলে গেলো।”

–“আমি ওর চোখমুখে লজ্জার আভাস দেখিনি নূর। ওর চোখমুখ স্পষ্ট অন্যকিছু বলছিলো। যা আমি ধরতে পারছি না।”

বেশ কিছুক্ষণ দুজনেই নিরব ছিলো। উৎসব বললো,
–“অর্নিকে ফোন দিয়ে দেখ বাসায় পৌঁছে গেছে কিনা? আর এভাবে চলে গেলো কেন সেটাও জিজ্ঞেস কর।”

–“আমি ওর নাম্বার দিচ্ছি, তুমিই ফোন করে দেখো না।”

–“নাহ, তুই ফোন কর।”

রিং হয়েই যাচ্ছে ওপাশ থেকে অর্নি ফোন রিসিভ করছে না। শেষে তিনবারের সময় ফোন রিসিভ করে অর্নি। নূর ধমকের স্বরে বললো,
–“কোথায় ছিলিস? ফোন তুলছিলি না কেন?”

অর্নি বেশ শান্ত গলায় বললো,
–“ফোন কাছে ছিলো না।”

–“বাসায় পৌঁছেছিস কখন?”

–“মিনিট পাঁচেক হবে।”

নূর বেশ ক্ষানিকটা সময় চুপ থেকে বললো,
–“ওভাবে চলে গেলি কেন? ভাইয়া আমি কত্তবার ডাকলাম একবারো পেছন ফিরে তাকালি না।”

উৎসবের কথা বলতেই অর্নি নিশ্চুপ হয়ে গেলো। কান্নাগুলো দলা পাকিয়ে গলায় আটকে আছে৷ না গিলতে পারছে আর না উগরে ফেলতে পারছে। নিজেকে সামলে নিয়ে অর্নি বললো,
–“উৎসব ভাইকে আমার হয়ে স্যরি বলে দিস নূর।”

–“কিন্তু কেন___”

অর্নি আর কিছু না শুনেই লাইন কেটে দিলো৷ নূর বেশ কয়েকবার ফোন করেও কোনো কাজ হলো না। অর্নি ফোন সুইচড অফ করে রেখেছে৷ নূর হতাশ দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
–“কিছু হইছে তোমাদের? কোনো ঝগড়া?”

নূর লাউডে দিয়ে কথা বলছিলো। তাই অর্নির বলা সবগুলো কথাই উৎসব শুনেছে৷ উৎসবের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে থমথমে গলায় বললো,
–“কিছু হয়নি, তুই যা।”

–“সত্যিই কিছু হয়নি___”

উৎসব এবার ক্ষানিকটা চেঁচিয়ে বললো,
–“যেতে বললাম না তোকে?”

নূর আর কিছু বললো না। বুঝলো উৎসবের মন মেজাজ ঠিক নেই। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো উৎসবের রুম থেকে। নূর বের হতেই উৎসব শব্দ করে দরজা বন্ধ করে দিলো৷ দরজার বাইরে নূর কেঁপে উঠলো৷ বুঝলো ওর ভাই ভীষণ রেগে আছে এই মূহুর্তে।

বিছানার এক কোনে দুই হাটুতে মুখ গুজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে অর্নি। ওর নিজের উপর ভীষণ রাগ লাগছে, কেন নিজের অনুভূতিগুলো নিজের মধ্যে চেপে রাখতে পারলো না সেই কারনে। ও তো উৎসবের সামনে কখনো নিজের অনূভুতি প্রকাশ করতে চায়নি। তাহলে আজ___আজ কিভাবে সবটা প্রকাশ করে ফেললো? উৎসব যে কখনো ওর হওয়ার নয়, কথাটা একদমই মাথা থেকে বেরিয়ে গেছিলো। অর্নির উৎসবের জন্য ভীষণ রকমের কষ্ট হচ্ছে। ছেলেটাকে ও সত্যিই ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু? কিন্তু ওর হাতে কিচ্ছু নেই। ও উৎসবকে মুখ ফুটে ভালোবাসি বলতে পারবে না। উৎসবকে ঘিরে ওর মনের ভিতর যতরকম অনুভূতি আছে সেসকল ও উৎসবে কখনো জানাতে পারবে না। এসব ভেবে ডুঁকরে কাঁদছে অর্নি।

দরজায় কড়াঘাতের শব্দে চোখমুখ মুছে নিজেকে ঠিক করে নিলো অর্নি। ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে পানি ছিটা দিয়ে এসে দরজা খুলে দিলো। দরজার ওপাশে অর্নব আর মিসেস অদিতি দাঁড়ানো। অর্নি দরজা ছেড়ে বিছানায় গিয়ে বসলো। অর্নব আর মিসেস অদিতি অর্নির দুই পাশে বসলো। মিসেস অদিতি অর্নিকে একপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
–“দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেছে আমার মেয়েটা।”

অর্নি কিছু বললো না। ঠোঁটের কোনে শুধু মেকি হাসি ঝুলিয়ে রেখেছে। অর্নব বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
–“তোকে কিছু বলার ছিলো বোন।”

অর্নির বুকটা ধক করে উঠলো। ও জানে এই মূহুর্তে ওর ভাই আর মা ওকে কি বলতে এসেছে। অর্নি কিছু না বলে চুপ করে রইলো। অর্নব বললো,
–“তুই যখন অনেক ছোট তখন আমাদের বাবা মারা গেছে অর্নি। বাবা, মামা (টায়রার আব্বু) কে কথা দিয়েছিলো তুই বড় হলে নিহালের সাথে তোর বিয়ে দিবে। এখন তো তুই বড় হয়েছিস, নিহালও স্টাব্লিশড। বাবার কথাটা তো রাখতে হবে অর্নি তাই না? আর এখন মামা মামিও চাচ্ছেন নিহালের সাথে তোর এনগেজমেন্টটা করে রাখতে। বছর খানেক বাদে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে।”

অর্নির দম বন্ধ হয়ে আসছে কথাগুলো শুনে। অর্নব বললো,
–“তুই কি চাস এখন?”

অর্নি জল ভর্তি চোখে ভাইয়ের দিকে তাকালো। তা দেখে অর্নব বললো,
–“তুই যদি এখনই এসব নিয়ে না ভেবে থাকিস, তাহলে এনগেজমেন্ট আরো পরে হবে। আমি কথা বলবো মামা মামির সাথে।”

অর্নি ওর ভাইকে কি করে বলবে এই বিয়ে করতে চায় না ও? ও যে উৎসবকে ভালোবাসে। আর তাকেই চেয়েছিলো। কিন্তু কোনো কারনে অর্নি কথাগুলো বলতে পারছে না৷ বাবা মারা যাওয়ার পর ওর আম্মু অনেক কষ্টে মানুষ করেছে দুই ভাই বোনকে। ওদের আজ এই অবস্থানে থাকার পেছনে ওর মামার অনেক অবদান আছে। বাবা মারা যাওয়ার পর অর্নির মামা-ই ওদের হাল ধরেছিলেন। অর্নব তো চাকরিতে জয়েন করেছে বছর চার/পাঁচ হবে৷ ওরা এখন সচ্ছল পরিবার ঠিকই কিন্তু এই সচ্ছলতার পেছনে ওর মামা আছে। তার উপর ওর বাবা কথা দিয়েছিলেন ওর মামাকে। মিসেস অদিতি আর অর্নবও রাজি এই বিয়েতে। তাই অর্নি চেয়েও কিচ্ছু বলতে পারছে না। অর্নিকে চুপ থাকতে দেখে মিসেস অদিতি বললো,
–“কথা বলছিস না যে?”

অর্নির নিজেকে সামলে নিলো। কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো,
–“তোমাদের যা ভালো মনে হয় করো।”

অর্নির জবাবে অর্নব আর মিসেস অদিতি খুশি হয়ে গেলেন। অর্নির কপালে মিসেস অদিতি চুমু খেয়ে বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে। অর্নবও বোনকে ঘুমোতে বলে চলে গেলো।

ভার্সিটি থেকে ট্যুরে যাওয়ার আগের দিন রাতে অর্নি মিসেস অদিতিকে ফোনে কারো সাথে কথা বলতে শুনেছিলেন নিহাল আর অর্নির বিয়ের ব্যাপারে। অর্নব আর মিসেস অদিতি নিজেদের মধ্যে এটাও বলাবলি করেছিলেন যে মাস খানেক বাদেই এনগেজমেন্ট করে ফেলবে৷ অর্নিকে কিছু না জানিয়েই সবটা ঠিক করে ফেলেছিলো উনারা। অর্নি এই দুটো মানুষকে ভীষণ ভালোবাসে। তাই ওদের কথা ভেবেই মেনে নিতে চেয়েছে সবটা। শুধু মাত্র এই কারনটার জন্যই অর্নি সেদিন উৎসবকে মুখের উপর না করে দিয়েছিলো। সত্যি বলতে তো উৎসবের প্রতি অর্নিরও একটা আলাদা টান, আলাদা জায়গা তৈরি হয়েছিলো। তাই এতদিন রূঢ় ব্যাবহার করেছে উৎসবের সাথে৷ ওর অনূভুতিটা কক্ষনো জানতে দিতে চায়নি উৎসবকে।

অর্নি জানতো ওর নিহালের সাথে বিয়ের কথা ঠিক হয়ে আছে৷ উৎসব ওর জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু মানুষের বরাবরই নিষিদ্ধ জিনিসের উপর দূর্বলতা বেশি থাকে। অর্নির ক্ষেত্রেও ঠিক সেরকমটাই হইছে। তবুও অর্নি ওর অনূভুতিটা নিজের মাঝেই চেপে রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু শেষ অব্দি পারলো না সেটা। উৎসবের পাশে ইশাকে সহ্য হয় না ওর। সেই নিজের অনূভুতিগুলো প্রকাশ করে ফেললো উৎসবের সামনে। উৎসব ওর হওয়ার নয়, এই কথাটা মনে হতেই ছুটে বেরিয়ে এসেছে নূরদের বাসা থেকে।

রাত্তির আড়াইটা বাজে। অর্নি নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। চোখ বন্ধ করলেই উৎসবের হাসিমাখা মুখখানা ভেসে উঠে চোখে৷ নিহালের সাথে অর্নির এনগেজমেন্ট এর কথা শোনার পর কি উৎসবের মুখে আর হাসিটা থাকবে? উৎসব কি ভালোবাসবে আর অর্নিকে? ভুলে যাবে চিরদিনের মতো? এসবই সাতপাঁচ ভাবছে অর্নি বসে বসে। কান্না পাচ্ছে ওর ভীষণ রকমের কান্না পাচ্ছে৷ নিজেকে এই মূহুর্তে সবথেকে অসহায় মনে হচ্ছে অর্নির। একদিকে মা ভাই, মৃত বাবার প্রতিশ্রুতি আর অন্যদিকে নিজের ভালোবাসা। ভাবতে পারছে না আর অর্নি। দুহাতে নিজের চুল খামচে ধরে কেঁদে উঠলো আবারো।

দুদিন পর আজ ভার্সিটি এসেছে অর্নি৷ এই দুদিন অর্নি নিজের ফোন অন করেনি আর। নূর আর রুশান মিসেস অদিতির ফোনে কল করে কথা বলেছে অর্নির সাথে। আজ সকালেই ফোন অন করেছে অর্নি। ভার্সিটিতে এসে নূরকে ম্যাসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করলো ও কোথায় আছে। কিছুক্ষণ বাদে নূর রিপ্লাই করতেই অর্নি চলে গেলো ক্যান্টিনে। নূর আর রুশান এই মূহুর্তে ক্যানটিনেই আছে। অর্নিকে দেখে আঁতকে উঠলো নূর। বিচলিত কন্ঠে বললো,
–“অর্নি এটা কি হাল বানিয়েছিস নিজের? এরকম দেখাচ্ছে কেন তোকে? তুই ঠিক আছিস?”

অর্নি মলিন হেসে বললো,
–“আমি একদম ফিট আছি।”

রুশান অর্নির কপালে হাত দিয়ে বললো,
–“গাঁ তো গরম না। কি হইছে তোর? মুখ এরকম শুকনো শুকনো লাগছে কেন? চোখদুটো এরকম ফুঁলে আছে কেন? কান্না করেছিস রাতে?”

রুশানের কথায় অর্নি চমকালো ক্ষানিকটা৷ তবে সেটা ওদের বুঝতে দিলো না। মেকি হেসে বললো,
–“কান্না করবো কেন? রাতে ঘুম হচ্ছে না ঠিকমতো। তাই এই অবস্থা।”

নূর আর রুশান অর্নির কথা বিশ্বাস করতে পারলো না৷ নূর অর্নির হাত ধরে বললো,
–“অর্নি সত্যি করে বল, সেদিন ভাইয়ার সাথে তোর ঝগড়া হয়েছিলো?”

–“তোর ভাইয়ার সাথে ঝগড়া করার মতো কোনো সম্পর্ক আছে আমাদের?”

নূরের এবার রাগ হলো বেশ। মৃদু চিৎকার করে বললো,
–“তুই কিছু বলছিস না, ভাইয়া কিছু বলছে না বুঝবো কি করে আমি?”

–“কিছু হয়নি নূর।”

–“আচ্ছা, তোদের দুজনকে সামনা-সামনি জিজ্ঞেস করবো আমি। ওয়েট ভাইয়াকে আসতে বলছি।”

–“নূর দেখ উৎসব ভাইকে ডাকবি না এখানে।”

নূর অর্নির কথার তোয়াক্কা না করে উৎসবকে ফোন করে ডাকলো এখানে৷ অর্নি বাসায় যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে ছিলো। কিন্তু নূর আটকে দিয়েছে ওকে। উৎসব না আসা অব্দি কিছুতেই যেতে দিবে না ওকে।

অর্নির ভালো লাগছে না৷ একটু হলেই কেঁদে দিবে। উৎসবের মুখোমুখি কিভাবে হবে ও? উৎসবের সামনে যে দাঁড়াতে পারবে না অর্নি৷ মিনিট পনেরোর মাঝেই উৎসব এসে উপস্থিত হলো সেখানে। অর্নি মাথা নিচু করে নিলো৷ নূর ওর ভাইকে জিজ্ঞেস করলো,
–“এবার একটু ক্লিয়ারলি বলবে ভাইয়া? তোমাদের মাঝে কি হইছে?”

উৎসব নূরের কথার জবাব দিলো না। এক দৃষ্টে অর্নিকে দেখছে। দুদিন বাদে অর্নির মুখটা দেখলো ও। ওর থেকে চোখ সরাতে পারছে না উৎসব। যেন অনেকদিনের দেখা না পাওয়ার তৃষ্ণা মেটাচ্ছে আজ। নূর আবারো একই প্রশ্ন করলো৷ উৎসব দু কদম এগিয়ে অর্নির সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। অর্নি এক পলক উৎসবের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিলো। উৎসব অর্নির হাতদুটো নিজের হাতে নিয়ে বললো,
–“কি হইছে তোমার? সেদিন হুট করেই ওভাবে বাসা থেকে চলে গেলে। ফোন অফ করে রেখেছিলে, ভার্সিটি আসোনি৷ কারন কি অর্নি? সেদিন তো তুমি নিজে বললে আমার পাশে অন্য কাউকে সহ্য হয় না তোমার। আমি যেন শুধু তোমাকেই ভালোবাসি। সব তো ঠিক হয়ে গেছিলো অর্নি তাহলে হঠাৎ করে কি হলো যে তুমি এমন করছো?”

অর্নি উৎসবের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
–“সেদিন যা বলেছি ভুল বলেছি উৎসব ভাই। আপনি ভুলে যান আমাকে। ইশা__ইশা আপনাকে খুব ভালোবাসে, আপ্ আপনি ওকেই ভালো্ ভালোবাসুন।”

অর্নির এমন কথায় উৎসব হুট করেই রেগে গেলো৷ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ক্যানটিনেই অর্নির দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরে চিৎকার করে বললো,
–“এখন তুমি ঠিক করে দিবে আমি কাকে ভালোবাসবো আর কাকে ভালোবাসবো না? একদিন বলবে তোমাকে ভালোবাসতে, অন্য মেয়ে যাতে আমাকে স্পর্শ করতে না পারে। আজ আবার বলছো তোমায় ভুলে গিয়ে ইশাকে ভালোবাসতে। আমাকে কি মনে হয় তোমার? চাবি দেওয়া পুতুল? যা বলবে তাই শুনবো? যেভাবে নাচাবে সেভাবেই নাচবো? আমার ভালোবাসা কি তোমার কাছে খেলনা মনে হচ্ছে? যে আজ কাছে টেনে নিলাম তো কালই ছুঁড়ে ফেলে দিলাম? এত সস্তা মনে হয় তোমাকে নিয়ে আমার অনূভুতিগুলো?”

অর্নি বহু কষ্টে চোখের পানি আটকে রেখেছে। কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো,
–“উৎসব ভাই, ছাড়ুন আমাকে লাগছে।”

উৎসব ছাড়ার বদলে আরো শক্ত করে ধরলো অর্নির বাহু৷ অর্নি ব্যাথায় মৃদু চিৎকার করে উঠলো। গাল বেয়ে দুই ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। নূর আর রুশান অর্নিকে ছেড়ে দিতে বলছে। উৎসব আশেপাশে চোখ বুলিয়ে অর্নির বাহু ছেড়ে দিলো। অর্নির দুই গালে হাত রেখে নরম স্বরে বললো,
–“কি হইছে তোমার বলো না? কেন এমন করছো? না বললে বুঝবো কি করে?”

অর্নি ক্ষানিকটা দূরে সরে গিয়ে বললো,
–“কিছু হয়নি। সব ঠিকঠাক আছে। আপনি আমার থেকে দূরে থাকুন উৎসব ভাই, এতে আমাদের দুজনের জন্যই ভালো।”

কথাটা বলে অর্নি দৌড়ে বেরিয়ে গেলো ক্যানটিন থেকে। উৎসব রাগে একটা টেবিল উলটে ফেলে চেয়ারে লাথি মারলো। অর্নি গেট অব্দি এসে থেমে পেছন ফিরে উৎসবের দিকে তাকায় একবার। তারপর আবার চোখের পানি মুছে নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে ভার্সিটি থেকে। একটা রিকশা ডেকে তাতে উঠে পড়ে। এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না অর্নি। হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো।

চলবে~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here