জ্বীন রহস্য (love story)❤Season 2,Part 2

জ্বীন রহস্য (love story)❤Season 2,Part 2
Writer Maishara Jahan

,,,,,, তার মানে এ রিমান খান,😨 মাহুয়া তোর চাকরি তো গেছে। আজ চাকরির প্রথম দিন আর আজি এতো বড়ো গন্ডগোল। 😰

যাই হোক এই রিমান খান কিন্তু গান সেই সুন্দর গায়।
কনসেপ্ট শেষ হয়, ম্যানেজার এসে আমাকে পানি দিতে বলে আর কি কি লাগবে তা দেখতে বলেছে। কোন মুখ নিয়ে যাবো তাই ভাবছি।

কোনো মতে মুখটা ওড়নায় ঢেকে তারপর যায়।

মাহুয়া,,,,,,,,, এই নিন স্যার পানি।

রিমান,,,,,,,, হুম, যাও আমার জন্য একটা শার্ট আর কোর্ট নিয়ে আসো। ( মোবাইল দেখতে দেখতে )

,,,,,, ঠিক আছে

বলে একটু লুকিয়ে যেতে নিয় আর ম্যানেজারের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়, সাথে ম্যানেজারও পরে যায়।

রিমান,,,,,,,, তুমি

ম্যানেজার,,,,,,,,,,,,, ইস্টুপিট গার্ল, একটা কাজ ঠিক মতো করতে পারে না,একে কাজে কে রেখেছে যত্তসব ( ধমক দিয়ে )

মাহুয়া,,,,,,,,, সরি স্যার, দেখতে পাইনি।

ম্যানেজার,,,,,,,,, চোখে যে দেখতে পাও না তাতো দেখাই যাচ্ছে, ইচ্ছে করছে,,,,,,

রিমান,,,,,,,,,,, stop,, মিস্ চশমা যাও আমার জন্য শার্ট আর কোর্ট নিয়ে আসো।

মাহুয়া,,,,,,,, এখনি আনছি।

মাহুয়া চলে যায়।

ম্যানেজার,,,,,,,, স্যার এই মেয়েকে কাজে রাখার কোনো দরকার নেয়, এই মেয়ে একটা,,,,,,

রিমান,,,,,,,,,, কাকে রাখা দরকার কাকে না সেটা আমি দেখে নিবো। আপনি আসতে পারেন।

,,,,,, ওকে স্যার।

রিমান,,,,,,, আরেকটা কথা, আর কোনো দিন যদি দেখেছি ঐ মেয়ের সাথে এই ভাবে কথা বলতে তাহলে আপনার জন্য ভালো হবে না,কথাটা মাথায় রাখবেন।

,,,,,, জ্বী স্যার।

,,,,,,,,,,,

আরাব,,,,,,,,,, কনসেপ্টটা ভালোই ছিলো, আমার এখন যেতে হবে।

ফারহান,,,,,,,,, আমারো যেতে হবে। আমি রিমানকে ফোন করে বলে দিচ্ছি।

আরাব,,,,,,,, ঠিক আছে আমি আসি।

আরাব যেতে নেয় আর একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতে নেয় আর মেয়েটি তার টাইয়ে ধরে ফেলে।

যেহেতু টাইয়ে ধরে তাই তারা দুজনি পরে যায়। আরাব নিচে আর মেয়েটি তার উপরে। মেয়েটির মুখ একদম আরাবের মুখের কাছে।

মেয়েটি তার চোখ বন্ধ করে রেখেছে, চুল দিয়ে তাদের মুখ ঢেকে গেছে তাই দৃশ্যটা একটু অন্য রকম দেখাচ্ছে।

আরাব মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সবার আওয়াজ শুনে মেয়েটি ভয়ে চোখ খুলে। চোখ খুলেই নীল দুটি চোখ দেখে আরাবের।

,,,,,, আপনার চোখ দুটি খুব সুন্দর ( আনমনে)

আরাব,,,,,,,,, কিহহ

,,,,,,, ও সরি সরি কিছু না কিছু না। ( তাড়াহুড়ো করে উঠে দাড়িয়ে )

আরাব,,,,,,, আপনি ঠিক আছেন।

,,,,,,, জ্বী ( সবার থেকে আড়ালে থাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু এটা তো উল্টো হয়ে গেলো, সবাই আমাদের দিকেই দেখছে )

আরাব,,,,,,, আপনার নাম

,,,,,,, মুন,,,,,,,, আমি এখন আসি।

বলে তাড়াহুড়ো করে চলে আসলাম। কি আর করবো আমি বেশি কারো সাথে কথা বলি না। বেশি মানুষ দেখলে আমার নার্ভাস লাগে।

আরাব মুনের পিছনে পিছনে যায়। মুন একটা কোনায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

,,,,,, wow কি সুন্দর ফুল, পুরো সেট সাদা ফুল দিয়ে সাজানো। এতো গুলো ফুলের মাঝে একটা ফুল নিলে কেও বুঝতে পারবে না। তাছাড়া কালকে তো এগুলো ফেলেই দিবে। একটা নিয়ে নেয়।

মুন আশে পাশে ভালো করে দেখে নেয় ঠিক চোরের মতো।

,,,, কেও নেয় এই ফাঁকে একটা নিয়ে নেয়।
তাড়াতাড়ি করে একটা ফুল নিয়ে যেতে নেয়, আবার থেমে যায়।

,,,,,,,, এতো গুলোর মাঝে মাত্র একটায় আমার মন ভরবে না।

বলে আরো দুটো ফুল নিয়ে দৌড় দেয়।

ঐদিকে আরাব মুনের কান্ড দেখে হাসছে। মুন এক সাইডে গিয়ে বসে ফুল গুলো দেখছে আর মুশকি মুশকি হাসছে।

,,,,,,,, মিস্ মুন

,,,,,,, ওও স্যার আপনি ( দাঁড়িয়ে )

,,,,,,,,, আপনি আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেছিলেন।

,,,,, স্যার আপনি এতো মানুষের সাথে কথা বলছিলেন তাই ভাবলাম আপনাকে একা কথা বলতে দিয়।

,,,,,, seriously মিস্ মুন, আপনি আমার এসিস্ট্যান্ট তো আপনার দায়িত্ব আমার সাথে থাকা।

,,,,,,, ওকে স্যার,,, সরি স্যার।

,,,,, চলেন আমার সাথে।

আরাব কাকে যেনো ফোন দেয়।

,,,,,, জ্বী স্যার বলেন।

আরাব,,,,,,,, একটা কাজ আছে আমি মোবাইলে সব ডিটেল্স পাঠিয়ে দিচ্ছি আজকের মধ্যে যেনো কাজটা হয়ে যায়, দরকার পরলে যতো টাকা দরকার দিবে কিন্তু কাজটা যেনো হয়ে যায়।

,,,,,,, ঠিক আছে স্যার।
,,,,,,,,,,,,

মাহুয়া,,,,,,,, এই নিন স্যার আপনার শার্ট আর কোর্ট।

রিমান,,,,,,,, এতো সময় লাগে,,,,,, তা এখানে কি করেন৷

মাহুয়া,,,,,,, স্যার আমাকে আপনার জন্য রাখা হয়েছে৷

রিমান,,,,,,,, আমার জন্য মানে ( দুষ্ট ভাবে তাকিয়ে )

মাহুয়া,,,,,,,, মানে আপনার কাজের জন্য, কি দরকার না দরকার সেটা দেখার জন্য।

রিমান,,,,,,,,, ওওওও,, রিয়া ( রিমানের মেকাপার)

রিয়া,,,,,,, জ্বী স্যার

রিমান,,,,,,,,,, আমার দেহেরা দেখে কি মনে হয় আমি গান গেতে পারি। হয়তো আমার চেহেরা এতোটা ভালো না।

রিয়া,,,,,,,,, কে বলছে স্যার আপনাকে দেখতে কোনো হিরো থেকে কম না, আপনার চোখ, নাক ঠোঁট, গলা, বডি,,,,

রিমান,,,,,,,,, থাক আর নিচে নামার দরকার নাই ।

রিয়া,,,,,,,, না স্যার মানে আপনার সব কিছুই অনেক সুন্দর।

রিমান,,,,,,,, আমার সব কিছু কবে দেখলো

রিয়া,,,,,, কিছু বললেন ।।

রিমান,,,,,,, না,,, তো মিস্ চশমা

মাহুয়া,,,,,,,,,,, মাহুয়া আমার নাম মাহুয়া

রিমান,,,,,,, মাহুয়া এটা আবার কেমন নাম,, আচ্ছা যেমনি হোক তোমার কি মনে হয় যে আমাকে বলেছে আমার চেহেরা ভালো না সে কি কানা নাকি,,

রিয়া,,,,,,, of course কানা।

রিমান,,,,,,, তাই না 🤣😂

মাহুয়া রাগে চলে যায় ।

রিমান,,,,,,,,, আরে মা মা মা দূরর কি আবল তাবল নাম মুখ দিয়োও আসে না,, মাহু মাহু এটা ঠিক আছে।

,,,,,,,,,,,

ফারহান হসপিটালে যায়, কিছু খন পরে চিৎকারের আওয়াজে চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসে কি হয়েছে দেখার জন্য। বেরিয়ে দেখে একটা মেয়ে চিৎকার করছে।

,,,,,,,,, পাগল নাকি একজন এখানে মারা যাচ্ছে আর আপনারা বলছেন অপেক্ষা করতে, ততো খনে এর যদি কিছু হয়ে যায় তখন।

,,,,,,, আপু আমি ঠিক আছি একটু অপেক্ষা করি সমস্যা নেয়।

,,,,,,, আপনি চুপ থাকেন, মাথা কেটে কতো রক্ত পরছে কিছু হয়ে গেলে তখন, হায় আল্লাহ আমার কি হবে।

ফারহান,,,,,,,,,, এটা হসপিটাল একটু আস্তে।

,,,,,, এর কিছু ব্যবস্তা করেন না হলে পুরো হসপিটাল আমি মাথা উঠিয়ে দিবো।

ফারাহান,,,,,,,,, ড.খান পিল্জ একে নিয়ে যান আর ব্যান্ডেস করে দিন।

,,,,ওকে স্যার,,,, বলে নিয়ে যায়।

ফারহান,,,,,,,,, আপনার কি হয় ওনি।

,,,,,,,, কিছু না।

,,,,,,,,, তাহলে এতো চেচ্ছেন কেনো।

,,,,,,,, ডক্টর যদি ওর কিছু হয়ে যায় তাহলে আমার কি হবে।

,,,,,,,, কেনো

,,,,,, কারন ওকে তো আমিই মেরেছি, এখন যদি মরে টরে যায় তাহলে আমাকে পুলিশে নিয়ে যাবে।

,,,,,,,,, কিহহহ আপনে মেরেছেন, কিন্তু কেনো।

,,,,,,,, আমাকে দেখে ইভটিজিং করছিলো,তাহলে কি করে ছেড়ে দেয়। ( হাফাতে হাফাতে )

,,,,,,,, কি হলো।।

,,,,,,,, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে

বলে নিচে পড়ে যায়, শ্বাস নিতে পারছে না গলায় আটকে যাচ্ছে, কথা বলতে পারছে না৷

ফারাহান ওকে ধরে বুকে চাপ দিচ্ছে যাতে শ্বাস নিতে পারে, তারপর CPR দেওয়ার জন্য মেয়েটির ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে শ্বাস দেয়।

মেয়েটির চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যায়। এমন ভাবে তিন বার দেওয়ার পর শ্বাস নিতে পারছে। তারপর ফারহান কোলে নিয়ে বেডে শুয়িয়ে দেয়।

ফারহান হাতের নালি চেক করে, তারপর হার্ট চেক করতে থাকে মেয়েটি এখনো তাকিয়ে আছে ফারহানের দিকে। হঠাৎ করে,,,

,,,,,, i love u doctor

,,,,,,,,, মানে।

,,,,, মানে আমি আপনাকে ভালোবাসি।

,,,,,,,,, পাগল হয়ে গেলে নাকি ( উঠে দাঁড়িয়ে )

,,,,,,,, মনে তো হয়,

,,,,,,, আপনি অসুস্থ তাই চেকাপ করান আর মেডিসিন নিয়ে চলে যান।

,,,,,,,,,,, আমি অসুস্থ না, আমার একটু শ্বাস কষ্ট আছে বেশ আর কিছু না, বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম তো তাই। ঐটা ছাড়েন আগে i love u too বলেন।

,,,,,,,, অদ্ভুত কেনো বলবো।

,,,,,,, তাহলে আমাকে কিস করলেন কেনো।

,,,,,,, আজব আমি কখন কিস করলাম।

,,,,,,, এই মাত্র, তাও আবার তিন তিন বার, এটা আমার জীবনের ফাস্ট কিস।

,,,,,,, ঐটাকে CPR বলে

,,,,,,,,, আপনি ঐটাকে যাই বলেন না কেনো আমি তো কিস হিসাবে নিছি।

,,,,,, এই মেয়ে পাগল হয়ে গেছে, আমি এখানে থাকলে আমিও পাগল হয়ে যাবো।

বলে চলে যায়।

,,,,,,,,, ও হ্যালো আপনি না অনেক হেন্সাম। (অনেক জোরে)

সবাই ওর দিকে তাকিয়ে আছে সে দিকে তার কোনো খেয়াল নেয়।

,,,,,,, আমাকে তুমি চিনতে না পারলেও আমি ঠিকি চিনে গেছি, এখানে যখন এসেই গেছি তাহলে এতো সহজে তুমাকে ছারবো না ভাইয়া।

,,,,,, হ্যালো বাবা আমি রিমি বলছি, আমি ভার্সিটিতে না ডাক্তার হতে চাই, তার ব্যবস্থা করো। আর আমি আট বছর পর বাড়ি ফিরছি সবাইকে বলে দিয়ো বাই।

চলবে,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here