চন্দ্রকিরণ কলমে:লাবণ্য ইয়াসমিন পর্ব: ১১

#চন্দ্রকিরণ
কলমে:লাবণ্য ইয়াসমিন
পর্ব: ১১

মেঘমুক্ত নীল আকাশ,ঝিরিঝিরি বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে। সারারাত জ্বরের তা”ন্ডব শেষে ভোররাতে জাহানের জ্বর যখন কিছুটা কমেছিলো আরিয়ান ওকে রেখে শাশুড়িকে ডেকে দিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। কমোলিনির জরুরী তলব। যেতেই হবে বিধায় অসুস্থ বউকে রেখে হন্তদন্ত হয়ে ছুটেছে। বেলকনির দোলনায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে জাহান। কিভাবে জানি সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছে। হাতে আছে আর মাত্র কয়েকটা দিন। ফিরতে হবে নিজের ঠিকানায়। ক্যারিয়ারের জন্য সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে গিয়ে পড়ে থাকা। নিজের স্বপ্ন আর মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হতে হলে হৃদয় কঠিন করতে হবে। মায়া মমতা বড্ড খারাপ জিনিস। কথাগুলো ভেবে যখন ওর মন অস্থির হয়ে উঠছিলো নিচ থেকে আলেয়ার আওয়াজ শুনে বিরক্ত হলো। এই মেয়েটার কথাবার্তা হয়না। সব সময় সিরিয়াস মুডে থাকে। ঝগড়া আর কঠিন কথা বলে মানুষকে দুঃখ দিতে ওর জুড়ি নেই। বাড়ির কাজের মেয়েটার সঙ্গে কোমর বেধেঁ ঝগড়া করছে। জাহান বিরক্ত হয়ে উঁকি দিয়ে চিৎকার করলো,

> আলেয়া তুই আবার শুরু করেছিস? বিলুর সঙ্গে তোর কি এতো সমস্যা বলবি?

বিলকিসকে সকলে অর্ধেক নামে বিলু বলে ডাকে। এই নিয়ে কিলকিসের আক্ষেপের শেষ নেই। মাঝেমাঝে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে চলে যায় কিন্তু বেশিদূরে তার যাওয়া হয়না। লুতফার বানু গিয়ে ধরে আনেন। কথা দেন কখনও আর এই ভুল হবে না কিন্তু সেই কথা আর রাখা হয়না। যথারীতি খান বাড়ির আকাশে বাতাসে বিলু ধ্বনি তরঙ্গ সৃষ্টি করে। জাহানের তিক্ত আওয়াজ শুনে আলেয়া কোমরে হাত রেখে বলল,

> তুই জানিস ও কি করেছে? আচেনা এক লোকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। ওর হাতে কিছু ছিল। ওইটা ও লুকিয়ে রাখছে। আমি দেখতে চাইলাম কিছুতেই হাত সামনে আনলো না। বরং তর্ক করছে।

> পাগল হয়েছিস? ওটা ওর নিজস্ব ব্যাপার। কারো একান্ত নিজস্ব বিষয়ে এভাবে মাথা ঘামানো উচিত না। ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে একটা কথা আছে।

আলেয়া কোমরে হাত রেখে মুখ ফুলিয়ে বলল,

> তুই চুপ থাক। বিলু এই বাড়িতে কাজে করে। যদি বাইরের কোনো ঝামেলাতে ফেঁসে যায় তখন আঙ্কেলের দোষ হবে। এটা আমি কিছুতেই চাইছি না।
জাহান বিরক্ত হলো। এই মেয়েটার সব বিষয়ে বাড়াবাড়ি। আবারও চেচামেচি শুরু করেছে দেখে বলল,
> আলেয়া আফাজ ভাইয়া ফোন করেছিলো। তোর নামে নালিশ করেছে। ভাইয়া খুব এভাবে আফসোস করছিলো।তোকে বিয়ে করে ভাইয়ার জীবন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে।

জাহানের বলতে দেরি হলো কিন্তু আলেয়ার দৌড় দিতে দেরি হলোনা। আফাজ বিমান বাহিনীতে জব করে। আলেয়ার সঙ্গে পরিবারিকভাবে কাবিন হয়ে আছে।এখনো অনুষ্ঠান হয়নি।ছেলেটা প্রায়দিন ওকে ফোন করে কিন্তু আলেয়া পাত্তা দেয়না। মিনিট খানিক পরেই আলেয়া এসে হাজির। হাপাতে হাপাতে বলল,

> জান ওই লু*চ্চু ছেলের কথা তুই একদম বলবি না। গতকাল রাতে আমাকে কি বলেছে জানিস? বলছে বেবি তুমি এখন কি ড্রেস পরে আছো? তুই ভাব কেমন চরিত্র? আমিও ইচ্ছে মতো গা*লিগালাজ করে ছেড়ে দিয়েছি। আমার সঙ্গে অশালীন আলাপ করবে আর আমি ছেড়ে দিব? ভাবছি আব্বাজানকে সব বলবো।

জাহান এক দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে থেকে বলল,

> আফাজ ভাইয়ার জন্য আমার সত্যি খুব দুঃখ হচ্ছে। সামান্য কারণে ব্লক করেছিস। বেচারা তোর জন্য অনলাইনে ড্রেস অর্ডার করেছিল তুই পরেছিস কি সারাসরি জিঞ্জাসা না করে একটু অন্যরকম করে বলে ফেলেছে। আর তুই জঘন্য ভাষায় গালি*গালাজ করেছিস সঙ্গে নাম্বার ব্লক করেছিস। এগুলো কি ঠিক?

আলেয়া থতমত খেয়ে গেলো। বেচারা আফাজ কতকরে অনুরোধ করেছিল ব্লক না করতে। ক্ষমা চেয়েছে তবুও আলেয়ার মন গলেনি। এবার একটু বেশিবেশি হয়ে গেছে। কথাটা ভেবেই ও বেরিয়ে আসলো। জাহান দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ল্যাপটপ নিয়ে বসলো। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করতে গিয়ে সত্যি বিলকিসের সঙ্গে অচেনা একটা ছেলেকে নজরে পড়লো। খুব সকালে বাড়ির সামনে লোকজন থাকে না। মাস্ক পরা বেশ সুদর্শন একটা ছেলে বিলকিসের হাতে কিছু একটা দিয়ে বাইক নিয়ে চলে গেলো। বিলকিস কাজের মেয়ে ওর সঙ্গে এই ছেলের কিসের সম্পর্ক? সত্যি চিন্তার বিষয়। এমন সময় ইব্রাহিম খান একজন মধ্য বয়সি লোক নিয়ে ভেতরে আসলেন। জাহান দাঁড়াতে চাইলো কিন্তু পারলোনা। ইব্রাহিম খান দ্রুত এসে মেয়ের পাশে বসে পড়লেন। চিন্তিত হয়ে বললেন,

> ডাক্তার সাহেব আমার আম্মাজানের পা ঠিক হতে কতদিন লাগবে? ইনফেকশন হয়ে গেছে। আমার মা কষ্ট পাচ্ছে আর আমি কিছু করতে পারছি না। আপনি তিনবেলা এসে দেখে যাবেন। দুদিনের মধ্যে পা ঠিক হওয়া চাই কিন্তু। আমার আম্মা চুপচাপ ঘরে বসে আছে দেখতে খারাপ লাগছে। ভেবেছিলাম আম্মাকে নিয়ে গ্রাম পরিদর্শনে যাব। কিছুইতো হলো না।

জাহানের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক খেলে গেলো। ইব্রাহিম খান মেয়ের জন্য নিবেদিত প্রাণ। ছোট থেকেই এখানে সেখানে সঙ্গে নিয়ে ঘুরেন। জাহান বাবার কাধে মাথা রেখে বলল,

> আব্বাজান পা ঠিক আছে তুমি চিন্তা করোনা।শুনো না আমি কিন্তু বিকালে বাইরে যাচ্ছি। না শুনবো না।

> কি বলো আম্মা বাইরে যাবার কি আছে? কি প্রয়োজন বলো এখুনি নিয়ে আসবো। মা আমার ইনফেকশন খুব খারাপ জিনিস। পা যতদিন ঠিক না হচ্ছে বাইরে যাওয়া চলবে না।

জাহান চুপ করে চোখ বন্ধ করলো। বাইরে যাওয়াটা খুব জরুরি। হাসপাতালে যেতে হবে। কত কাজ বাকি।
******************
বন্ধ কক্ষে কমোলিনির সামনে বসে আছে আরিয়ান। এসির মধ্যেও দর‍দর করে ঘাম ছুটে যাচ্ছে। নির্জনতা ভেঙে কমোলিনি বলল,

> তুমি জানো না এই পরিবারের ইতিহাস?এই বাড়িতে অজানা কোন এক রোগের জন্য পরপর নয়জন মেয়ের মৃ*ত্যু ঘটেছে। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে জাহান এই বাড়ির মেয়ে। তুমি যদি ওকে বাঁচাতে চাও তাহলে ওর থেকে দূরে থাকো। আজ নাহয় কাল ওর মৃ*ত্যু কিন্তু হবেই। পারবে তো মেহেরের মতো ওর লা*শ কব*রে রাখতে?

আরিয়ানের বুকের মধ্যে ধুপ করে উঠলো। কখনও পারবে না। এই পৃথিবীতে নিজের বলতে ওই একটা মানুষই আছে। যার কাছে ওর শান্তি মিলেছে। আরিয়ান ভালো করে জানে এই বাড়িতে ফিরলে যেভাবেই হোক মেয়েটার প্রা*ণঘাতী হবে। চনচল হাসিখুশি প্রাণটার কিছুতেই শান্ত প্রাণহীন শরীর দেখতে পারবে না। দূরে থেকে যদি ভালোবাসা ভালো থাকে তবে দূরে থাকাই ভালো। আরিয়ান কখনও আর জাহান নামের নেশাক্ত শান্তির থেকে শান্তি ভিক্ষা করতে যাবে না। কথাটা ভেবে ও উত্তর দিলো,

> জাহান এই বাড়ির মেয়ে না। উনি ইব্রাহিম খানের মেয়ে।আর আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওর থেকে দূরে থাকবো। গতকাল আন্টি ফোন করেছিলেন বিধায় গিয়েছি। আপনি চিন্তা করবেন না।
> বাবা,আমার কথায় মন খারাপ করোনা। আমি মেয়েটার ভালো চেয়েই তোমাকে নিষেধ করছি। তুমি কাজে মনোযোগ দাও। রাইস মিল চালু করতে হবে। প্রচুর ঋণ হয়ে গেছি।ব্যাংকে টাকা না জমা করলে আমাদের খামারের জমি নিলামে উঠবে। তখন লজ্জায় পড়তে হবে। তুমি তো জানো কতগুলো পরিবার চলে আমাদের খামাকা বাড়ি থেকে?
আরিয়ান মাথা নিচু করেই আছে। বুকের মধ্যে ভ*য়ংকর যন্ত্রণা হচ্ছে। কাছে আসার আগেই এমন বিচ্ছেদ কিভাবে মানবে? গতকাল রাতটুকু ছিল স্বপ্নের মতো। আরিয়ানকে চুপচাপ দেখে কমোলিনি ওর মাথা হাত রেখে পূণরায় বললো,

> আমাকে ভুল বুঝো না। ভাবতে পারো ফুপিমা স্বার্থপর শুধু নিজের কথা ভাবে। কিন্তু ফুপিমা এতোটাও খারাপ না। তুমি এই পরিবারের টাকাতে হাত দাওনা কিন্তু যথেষ্ট পরিশ্রম করো। তোমার কথা ভেবে আমি তোমার নামে খামার তৈরী করেছি। সেখানে কোটি টাকার সম্পদ আছে। এই বাড়িতে না থাকলেও অনায়াসে তোমার জীবন চলে যাবে।

আরিয়ান চোখ বন্ধ করে নিলো। দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলল,
> ওই টাকার আমার প্রয়োজন নেই ফুপিমা। চিন্তা করবেন না। আমি সবটা সামলে নিব। আমি কি এখন আসবো?
কমোলিনির মাথা নাড়তেই আরিয়ান বেরিয়ে আসলো। এখানে বসে থাকতে ওর দম বন্ধ হয়ে আছিল। হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটা অনবরত বেজে চলেছে। জাহান ফোন করছে। আরিয়ান একবার চেয়ে ফোন বন্ধ করে পকেটে রেখে দিলো। শুধু শুধু মায়া বাড়িয়ে যন্ত্রণা পাওয়ার মানে হয়না।
*************
দুদিন অতিবাহিত হয়েছে আরিয়ানের সঙ্গে জাহানের যোগাযোগ বন্ধ। পরশু রাতে আরিয়ান লম্বা একটা টেক্সট করেছিলো,

> আমি বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোর মতো অপরাধ করে ফেলেছি। হাত না বরং হৃদয় পু*ড়ে ঝলসে গেছে। কিছু মানুষের ছোঁয়া অভিশপ্ত হয়। আমার থেকে দূরে থাকুন এতেই আপনার মঙ্গল। আপনি হচ্ছেন আমার নামে লেখা দুরধিগম্য হালাল। ইচ্ছে করলে ছুঁয়ে দিতে পারি কিন্তু ভালোবাসা চাদরে মুড়িয়ে দিতে পারিনা। আপনি যখন আমার নিকট একটু খানি ভালোবাসা পাওয়ার আশায় চনচল হয়ে উঠেন তখন আমি দুমড়ে যায়। বিশ্বাস করুন,ভাবি আমার ছোঁয়াতে যদি এই ফুটন্ত পবিত্র ফুলটা নষ্ট হয়ে যায় তখন? এরকম অভি*শপ্ত জীবন নিয়ে একটুও বাঁ*চতে ইচ্ছে করেনা। আমার জীবনে কিছু আর চাওয়ার নেই। শুধু আপনি ভালো থাকুন। আপনার ভবিষ্যৎ নক্ষত্রের মতোই উজ্জ্বল। দুজনে যতটুকু পথ চলেছি সেটুকু আমার সৌভাগ্য। আজীবন তা স্মৃতির ফ্রেমে বন্ধি হয়ে থাকবে। অনুরোধ করছি ভুলে জান আমাকে।

টেক্সট পাওয়ার পর থেকে জাহানের মেজাজ খারাপ। লোকটা একটুও কি ওর উপরে ভরসা রাখতে পারতো না? এর জন্য জাহান লোকটাকে কঠিন শাস্তি দিবে। হাতে আছে আর মাত্র পাঁচটা দিন। কথাটা ভেবেই ও চোখ দুটো বন্ধ করলো। শরীর ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। কেমন বিষাদের মতো লাগছে। ডাক্তার বলেছে বি*ষের প্রভাবে এমন হচ্ছে। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই বেশি। তাছাড়া বিলকিস একটু পর পর ওর জন্য এটা ওটা তৈরী করে দিচ্ছে। মেয়েটা হঠাৎ ওর প্রতি এতোটা যত্নশীল হয়ে উঠার গল্প অজান্তেই থাকলো। কথাগুলো ভেবে জাহান ব্যাগ হাতে বেরিয়ে আসলো। হাসপাতালে যেতে হবে। পায়ের ক্ষত কিছুটা কমেছে।
হাসপাতালের কেবিনে নিদ্রামগ্ন মানুটার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে জাহান। পাশেই তরুণ ডাক্তার হাবিব অবস্থান করছে। জাহান সোজাসুজি জিঞ্জাসা করলো,
> আজ নিয়ে যেতে পারবো? উনার সমস্যা কি বলবেন? আমার হাতে সময় কম বুঝতে পারছেন? ইউনিভার্সিটি বন্ধ এক মাসের ছুটিতে এসেছি। যাবার আগে এই মানুষটাকে তার আপন মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাইছি। তার জন্য প্রয়োজন উনার সুস্থ স্মৃতি। উনার মুখের কয়েকটা স্বীকারউক্তি একটা মানুষের জীবন পুরোপুরি বদলে দিবে। ক*বরে থাকা এক নারীর চরিত্রের কলঙ্ক মুছে যাবে।

> ম্যাম উনার সবটা মনে আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত ড্রাগস নেবার জন্য উনি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। তার জন্য আমার মনে হচ্ছে রিহাবে পাঠানো উচিত। ছয় মাসে উনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
জাহান উত্তেজিত হয়ে উঠলো। চোখ রাঙিয়ে বলল,
> এই বয়সে রিহাবে পাঠাবো? আপনার মাথা ঠিক আছে? আমি চাইছি না উনাকে বাইরে রাখতে। ভালোবাসার চাইতে বর নেশা পৃথিবীতে কি আর একটাও আছে? আমি যে মানুষটার নিকটে উনাকে রাখতে চলেছি সেই মানুষটার ভালোবাসা পেলে ওসব নেশা ধোপে টিকবে না। আপনি ব্যবস্থা করুন। আমার লোকেরা বাইরে অপেক্ষা করছে। তাছাড়া উনি সুস্থ হওয়া অবধি আপনি কিন্তু নিয়মিত চেক করতে যাবেন। টাকা নিয়ে ভাববেন না।

জাহান ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসলো। দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলের সঙ্গে করা বলে হাটা ধরলো। মাথা চক্কর দিচ্ছে। এই পযর্ন্ত আরিয়ানের পাঠানো টেক্সট কতশত বার পড়েছে তার ঠিক নেই। এখন আর ফোন লাগছে না। লাইন বাই লাইন মনের মধ্যে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। জাহান এটার একটা ভিডিও তৈরী করেছে। যখন ভুলে যাবে তখনই ভিডিও দেখে রাগটা আবার নতুন করে তাজা করবে। তার আগে আরিয়ানের মাথাটা ফা*টিয়ে যাবে। যেটা আজীবনের চিহ্ন হয়ে থাকবে। জাহান আনমনে হাটতে হাটতে একটা কেবিনের সামনে গিয়ে থমকে গেলো। এখানে লাবিবকে রাখা হয়েছে। জাহান উঁকি দিয়ে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পূণরায় হাটতে থাকলো। লিফটের নিকট গিয়ে হতাশ পুরো ভিড় জমে গেছে। জাহানের একটুও ইচ্ছে হলো না এই ভিড়ের মধ্যে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে তাই সিড়ির দিকে রওনা দিলো। বেশ কষ্ট করে দোতলায় এসে বসে পড়লো। পা চলছে না। সামান্য আঘাত লেগেছে কিন্তু যন্ত্রণায় মনে হলো মৃ*ত্যু হয়ে যাবে। শরীর দুলছে মাথাটাও কেমন ঘুরছে। জাহান ফোন হাতে নিলো ঠিক তখনই আরিয়ান হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে হাটু মুড়িয়ে বসে ওকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে বলল,

> আপনি এখানে কি করছেন? ঠিক আছেন? জাহান কথা বলুন।

ততক্ষণে মেয়েটা অচেতন হয়ে ওর হাতের মধ্যে এলিয়ে পড়েছে। আরিয়ান সময় নষ্ট করলোনা। আলগোছে ওকে কোলে তুলে ছুটে গেলো ইমারজেন্সির দিকে।

পুরোপুরি দুই ঘন্টা জাহানের জ্ঞান নেই। ইব্রাহিম খান মেয়ের হাত ধরে বসে কান্নাকাটি করছেন। আরিয়ান ডাক্তারের পিছু পিছু ছুটাছুটি করছে। জাহানের পাকস্থলীতে বিষা*ক্ত ঔষুধ পাওয়া গেছে। যেটার অনেক খানি র*ক্তের সঙ্গে মিশে গেছে।র*ক্ত পরিবর্তন করা হচ্ছে । আরিয়ান হতভম্ভ হয়ে আছে। চৌধুরী বাড়িতে জাহানের শত্রুর অভাব নেই কিন্তু ওই বাড়িতে কে ওর ক্ষতি করতে চাইছে? তার উদ্দেশ্য কি?

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here