গল্পের নাম:হ-য-ব-র-ল,পর্ব_০৩

গল্পের নাম:হ-য-ব-র-ল,পর্ব_০৩
লেখনীতে: অজান্তা অহি (ছদ্মনাম)

‘অজান্তা,আমার হাত উড়ে গেছে।কব্জি থেকে খসে পড়েছে।মরে গেলাম!’

অহি সবেমাত্র বোতল খুলে পানি মুখে দিয়েছিল।রোদ্দুরের এমন চিৎকারে তার কাশি উঠে গেল।পানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যা তা অবস্থা!মুখে হাত রেখে কাশি দিতে রোদ্দুর তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গেল।চিন্তিত কন্ঠে বলল,

‘অজান্তা,ঠিক আছো তুমি?শ্বাস নাও!লম্বা করে শ্বাস নাও।’

রোদ্দুর ভয়ে ভয়ে বাম হাতটা অহির মাথার উপর রাখলো।সঙ্গে সঙ্গে অহি হাত সরিয়ে দিল।নিজেকে ধাতস্থ করে বোতলের ছিপি খুঁজলো।আশপাশে চোখে পড়লো না।হয়তো ছিটকে কোথাও পড়েছে!সে বোতলটা কাত করে রেখে বিরক্ত গলায় বলল,

‘এমন তর্জন গর্জনের মানে কি?’

রোদ্দুরের মনে পড়লো হঠাৎ!সে সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে বলল,

‘ডক্টর, আমার ডান হাতের আঙুল কেটে গেছে।রক্তে পুরো পৃথিবী ভেসে গেল।প্লিজ, কিছু একটা করুন!’

অহির কপাল কুঁচকে গেল।রোদ্দুর ডান হাত বাড়িয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে।তার দু চোখ বন্ধ।মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট!অহি মুখ থেকে চোখ সরিয়ে হাতের দিকে তাকালো।সবগুলো আঙুল অক্ষত মনে হচ্ছে।রক্ত তো দূরের কথা,কাঁটা ছেঁড়ার চিহ্ন পর্যন্ত চোখে পড়ছো না।সে আরেক নজর গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,

‘আপনার রক্তে পুরো পৃথিবী ভেসে যাচ্ছে, অথচ আমি ভাসছি না কেন?এক ফোঁটা রক্ত তো চোখে পড়ছে না।’

‘সে কি!প্রচন্ড জ্বালাপোড়া করছে।শাহাদাত আঙুলের অস্তিত্ব টের পাচ্ছি না।ওটা কি ছিঁড়ে পড়ে গেছে অজান্তা?’

‘জ্বি না!আঙুল আঙুলের জায়গাতেই আছে।আপনি এবার আসতে পারুন।’

রোদ্দুর আশাহত গলায় চোখ খুলল।সন্দেহ নিয়ে আঙুল টা চোখের সামনে নিল।সত্যি তো!ব্লাড বের হচ্ছে না।একটুখানি কেটে সাদা ত্বক বের হয়েছে শুধু।রক্তনালি পর্যন্ত পৌঁছায়নি।সে মনে মনে নিজেকে জঘন্য একটা খালি দিল।সত্যিই বেকুব সে।সামান্য হাত ঠিক মতো কাঁটতে পারলো না!সে বিড়বিড় করে বলল,

‘ছি!রোদ্দুর হিম,শেইম অন ইউ!’

অহির অগোচরে সে চোখ বন্ধ করে হাতের আঙুলে দিল চাপ!সে এখন টিপে রক্ত বের করবে!একটুপর হাতটা পরখ করে রক্তের অস্তিত্ব দেখেই ধপ করে অহির পাশে বসে পড়লো।হাতটা অহির দিকে দিয়ে বলল,

‘অজান্তা,এই দেখো কতখানি কেটে গেছে।তুমি এত নিষ্ঠুর কেন?এই ক্ষতটুকু সারতে কম সে কম এক বছর সময় লাগবে।এই এক বছর আমার আঙুলের দায়িত্ব কে নিবে?তুমি!তুমিই এর চিকিৎসা করবে!’

‘আপনি আমাকে তুমি তুমি করে কেন বলছেন মি. রোদ্দুর হিম?’

রোদ্দুর কোনো কথা খুঁজে পেল না।অহি দরজার দিকে তাকালো।দরজা খোলা!রুমের এসি বন্ধ।মোখলেসুর রহমান নামের সেই এটেনডেন্টটা ১৩ নাম্বার কেবিনের এসি বন্ধ করতে গিয়ে সমস্ত ট্রেনের স্পেশাল কেবিন গুলোর এসি বন্ধ করে দিয়েছে।এতক্ষণ শীতের জন্য কেবিনে থাকা যাচ্ছিল না।যার দারুন শীত নিবারণের জন্য সে এতক্ষণ এপ্রোন পড়ে ছিল।এখন আবার গরমে থাকা যাচ্ছে না।এপ্রোনটা গায়ে থেকে খুলতে নিতে রোদ্দুরকে দেখে থেমে গেল অহি।

এক পলক তার দিকে চেয়ে বলল,

‘বেরিয়ে যান রুম থেকে!’

রোদ্দুরের গলা খুশখুশ করছে।অহিকে ইমপ্রেস করার জন্য যত ধরনের কথা সাজিয়ে রেখেছিল সব ভোলাটাইলের মতো নিঃশেষ হয়ে গেছে।সে আর কথা খুঁজে পাচ্ছে না।তাছাড়া মেয়েটার থেকে এতটা দূরত্ব বজায় রাখার পরো বুকের ভেতর ঝড় উঠে গেছে।সে লম্বা করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,

‘অজান্তা,তোমায় তুমি করে বলাতে রেগে গেছ?’

‘এটা কি রাগার জন্য যথেষ্ট নয়?’

‘অবশ্যই যথেষ্ট।অতিরিক্ত তুচ্ছ কারণে তোমার রেগে যাওয়ার অধিকার আছে।কিন্তু একটু শোনো!তোমায় ‘মাই ডেয়ার’ টাইপ ভাবি।সেজন্য তুমি করে বললাম।তুমিও আমায় তুমি করে বলতে পারো!এই তোমার সাদা এপ্রোন ছুঁয়ে বলছি, আমি রাগ করবো না।’

রোদ্দুর হাত বাড়ানোর আগেই অহি উঠে দাঁড়ালো।সরে গিয়ে দরজা দিয়ে বাইরে উঁকি দিল।বাবা আসছে না কেন?বাবা আসলে এই আপদটা বিদেয় হয়!

রোদ্দুর কাঁটা আঙুলের দিকে তাকালো।আঙুলটার জন্য তার ভীষণ মায়া হচ্ছে।এত ত্যাগ স্বীকার করার পরো পাত্তা পেল না।আহারে!

‘আঙুল কেটেছে কিভাবে?’

আচমকা অহির প্রশ্নে ঘাবড়ে গেল রোদ্দুর।অহির দৃষ্টি কেবিনের বাইরের করিডোরে।রোদ্দুর আগ্রহ নিয়ে অহির দিকে চেয়ে বলল,

‘রেজারে কেটে গেছে।ইনফেকশন হতে পারে।কিছু একটা দাও না!’

‘আঙুলে কি দাঁড়ি গজিয়েছিল?রেজারে কাটবে কিভাবে?’

রোদ্দুর উত্তর দিতে পারলো না।কি মুশকিল!মেয়েটা তো তার থেকে এক ধাপ উপরে।কি করে একের পর এক কথার প্যাঁচে ফেলাচ্ছে!

অহি দরজা থেকে সরে এসে নিজের ব্যাগ খুলল।তুলোতে একটু এন্টিসেপ্টিক লাগিয়ে সামনে রাখলো।একটা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ বের করে রোদ্দুরের দিকে বাড়িয়ে দিল। এক পলক তাকিয়ে অন্য দিকে চোখ সরিয়ে নিল।হতাশ সুরে বলল,

‘তুলো দিয়ে পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে নিন।’

রোদ্দুরের বুক জমিনে সুখপাখিরা নৃত্য শুরু করলো।আহা কি সুখ!সে অহির দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসলো।কম্পমান হাতটা বাড়িয়ে ব্যান্ডেজ হাতে নিল।তুলো হাতে নিয়ে বলল,

‘এভাবে চিকিৎসা করো অজান্তা?পেশেন্টের প্রতি এত অবহেলা?তোমায় সার্টিফিকেট কে দিয়েছে?তুমি তো পেশেন্টকে সুস্থ করার বদলে মেরে ফেলবে।তুমি নিজ হাতে একটু ব্যান্ডেজ করে দাও!’

‘আপনার ক্ষত এতটা গভীর নয় যে আইসিইউ তে ভর্তি করতে হবে।নিজ হাতে সেবা করতে হবে।’

রোদ্দুর মনে মনে বলল,

‘উপরের ক্ষতটা দেখছো,ভেতরের ক্ষতটা কেন দেখছো না অজান্তা?কি দুঃখ!’

বাম হাত দিয়ে কাঁটা জায়গায় তুলো চেপে বলল,

‘অজান্তা,তোমার ব্যাপারে আমি ডিটেইলসে একটু স্টাডি করতে চাই।একটু সাহায্য করবে?’

‘জ্বি না!’

কাঠ কাঠ গলায় উত্তর দিল অহি।উত্তর দিয়ে দেরি করলো না।সে কেবিনের বাইরে চলে গেল।রোদ্দুর ঝটপট ব্যান্ডেজ লাগিয়ে পিছু নিল।কাছাকাছি গিয়ে বলল,

‘কোথায় যাচ্ছো অজান্তা?’

অহি বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।হাত উঠিয়ে বলল,

‘কানের কাছে অজান্তা অজান্তা বলে ঘ্যানর ঘ্যানর করবেন না তো!বিরক্ত লাগে।আমার নাম কি আমি জানি!ওয়েট,আপনি আবার পিছু নিচ্ছেন কেন আমার?পুরো কেবিন ছেড়ে দিয়ে আসলাম তাতে হচ্ছে না?’

‘ডক্টর আমার আঙুলের ভেতর ব্যথা করছে।’

‘করুক!প্রয়োজনে ঠাডা পড়ুক!আমাকে আর জ্বালাবেন না।আমি এখন লিরা আপুর কেবিনে ঢুকবো।’

রোদ্দুর সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,

‘লিরা আপু নয় অজান্তা!লিরা ভাবী বলে ডাকবে।’

অহির ভ্রু যুগল কুঁচকে গেল।কিছুক্ষণ মৌন থেকে গটগট করে এগিয়ে গেল।

রোদ্দুর সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছে।অহির পিছু পিছু যাবে নাকি অন্য কিছু করবে?এই মেয়ে কি কোনোদিন একটু মিষ্টি করে কথা বলবে না?কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে সে লিরা ভাবীর কেবিনের দিকে পা বাড়াল।কয়েক পা এগুতেই পেছন থেকে পুরুষালী একটা কন্ঠ কানে আসলো।

‘হেই ইয়াং পুরুষ!’

রোদ্দুর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখে হাসি ফুটাল।লুৎফর রহমান চায়ের কাপ হাতে সাগ্রহে এগিয়ে আসছে।তার মুখটা হাসি হাসি।ছোট বাচ্চাদের পছন্দের খেলনা দিলে যতটা খুশি হয়,ততটা খুশি মনে হচ্ছে।এই মানুষটাকে সে চেষ্টা করছে এভয়েড করে চলার।কিন্তু হিতে বিপরীত হচ্ছে।যেখানেই যাচ্ছে, এর সাথে দেখা হচ্ছে।

লোকটা প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কথা বলে।একটা অতিরিক্ত মেনে নেয়া যায়,অতিরিক্ত স্কয়ার মেনে নেয় যায়, কিন্তু অতিরিক্ত কিউব কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।হবু শ্বশুর মশাই বলে সে মেনে নিচ্ছে।

‘ইয়াং পুরুষ, কোথায় যাচ্ছো?’

লুৎফর রহমান কাছে এগিয়ে এসেছেন।রোদ্দুর মুখে জোরপূর্বক হাসি টেনে বলল,

‘কোথাও না আঙ্কেল।এমনিতে করিডোরে হাঁটাহাঁটি করছি।’

‘এমনিতে তো কোনো কিছু ঘটে না পৃথিবীতে।এমনি বলতে কোনো ওয়ার্ড বিজ্ঞানের ভাষায় খুঁজে পাবে না তুমি।নিউটনের ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স বলে কার্যকারণ ছাড়া পৃথিবীতে কিছু ঘটে না অর্থাৎ তুমি যে করিডোর ধরে হাঁটাহাঁটি করছো তারও উপযুক্ত কারণ আছে। এই যে আমি চা খাচ্ছি তারও কারণ আছে।’

‘জ্বি,ঠিক বলেছেন।’

লুৎফর রহমান এক চুমুক চা মুখে দিয়ে মাংস কামড়ানোর মতো কামড়ে কামড়ে খেলেন।তারপর বললেন,

‘এসো কেবিনে বসি।অহি নেই ভেতরে!’

নিতান্ত অনিচ্ছায় রোদ্দুর লুৎফর রহমানের পিছু পিছু কেবিনে ঢুকল।গিয়ে অহি যে জায়হাটাতে বসেছিল সেখানে বসলো।লুৎফর রহমান ব্যাগ থেকে সিগারেট বের করে ধরালেন।এক টান দিয়ে বললেন,

‘এতক্ষণ এসি থাকার কারণে সিগারেট ধরাতে পারছিলাম না।এসি বন্ধ হয়ে গিয়ে ভালোই হয়েছে।কি বলো?’

‘জ্বি, ভালো হয়েছে।’

‘তুমি একটা সিগারেট খাবে?’

‘না!’

‘আমার সাথে ফর্মালিটিজের দরকার নেই ইয়াং পুরুষ।নো নিড!এখন আমরা লুডু খেলবো।’

রোদ্দুর হকচকিয়ে গেল।সাথে নিশ্চিত হলো যে মানুষটার মাথায় গোলমাল আছে।সে টেনশন বোধ করছে।লুৎফর রহমান লুডু বের করেছে।সে আয়েশ নিয়ে তার গুটির কালার এক করছে।সবগুলো গুটি নিয়ে তিনি রোদ্দুরের পাশে বসে পড়লেন।রোদ্দুর ঘুরে বসলো।

লুৎফর রহমান সিগারেটে একটা টান দিয়ে চাল দিলেন।প্রথমবার ছক্কা উঠলো না।তিন উঠলো।তিনি সোৎসাহে বললেন,

‘আমি দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করে একটা জিনিস বের করেছি ইয়াং পুরুষ!সেটা হলো লুডু খেলা শুরু করলেই পর পর তিন দান তিন উঠবে আমার।চতুর্থ বারে গিয়ে ছক্কা বা অন্য কিছু উঠবে।তুমি আমার কথা মিলিয়ে নিয়ো।’

রোদ্দুর মাথা নাড়লো এবং কিছুক্ষণ পর অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো যে লুৎফর রহমানের পর পর তিনবার তিন উঠেছে!এটাকে নিছক কাকতালীয় বলে সে এড়িয়ে গেল।একটুপর উসখুস করে জিগ্যেস করলো,

‘আঙ্কেল খুলনা কার বাসায় যাচ্ছেন আপনারা?’

লুৎফর রহমান নিজের গুটি চালিয়ে বললেন,

‘আমার নিজের বাসায়।অহি কলেজ লাইফ থেকে ঢাকাতে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।মেডিকেলে পড়েছে।কয়েক মাস হলো ইন্টার্ণি শেষ করেছে।আমি কলেজ টিচার ছিলাম।সাত বছর হলো রিটায়ার করেছি।আর কোনো ছেলেপুলে নেই।যক্ষের ধন এই একটা মেয়ে।ওকে নিতে ঢাকা এসেছিলাম।তা তোমরা খুলনা কোথায় যাচ্ছো?’

‘অামরা ঢাকাতে স্থানীয়।বড় ভাবীর বাবার বাড়ি খুলনা।সেখানে যাচ্ছিলাম।আসলে বড় ভাবীর দাদী হঠাৎ করে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।তাকে দেখতে যাচ্ছিলাম।আমরা দুই ভাই শুধু।বড় ভাই আর বাবা বিজনেসের দেখাশোনা করে।আমি দুই বছর হলো ইন্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা শেষ করেছি।এখন ফুড ব্লগিং নিয়ে কাজ করছি।আমার বাবার রেস্টুরেন্টের বিজনেস!’

ফুড ব্লগিংয়ের ব্যাপারটা রোদ্দুর মিথ্যে করে বলল।আজকাল বেকার মানুষ কেউ পছন্দ করে না।শুরুতেই সে বেকার বললে তার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করবে ইনি!রোদ্দুর আরো কিছু বলতে চাইলো।কিন্তু বুঝতে পারলো লুৎফর রহমানের আগ্রহ নেই।তাই সে থেমে গেল।সে চুপ করতে লুৎফর রহমান মুখ খুললেন।রোদ্দুরের পাকা গুটি শেষ মুহূর্তে খেয়ে দিয়ে প্রসন্ন হেসে বললেন,

‘ট্রেনে একটা সমস্যা হয়েছে বুঝলে?’

‘কি সমস্যা?’

‘এই ট্রেনে একজন সেলিব্রিটি মানুষ যাচ্ছে।ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে যাকে নিয়ে সবসময় তুমুল হইচই আর বাড়াবাড়ি রকমের আদিখ্যেতা হয়।’

‘কার কথা বলছেন আঙ্কেল?’

‘আরে চিত্র নায়িকা পলি মজুমদার!’

রোদ্দুর চমকে উঠলো।পলি মজুমদার উঠতি একজন নায়িকা।গ্ল্যামার দুনিয়ায় তার নাম ডাক প্রচুর।তার একটা ছবির বাজেট শুনে যে কেউ হিমশিম খাবে।এই কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া তার নয় নাম্বার ছবিটি রাতারাতি ফেমাস হয়ে গেছে।সে কিছু বলার আগেই লুৎফর রহমান বললেন,

‘তাদের একটা ছবির কিছু অংশ ট্রেনঘটিত। রাতের বেলা শুটিংয়ের জন্য এই ট্রেনে যাচ্ছে।এখনো শ্যুট করেনি।করবে!কিন্তু একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।এসি বগির প্রতিটি কেবিনের এসি বন্ধ হয়ে গেছে।গরমে নায়িকার অবস্থা নাজেহাল।শুরু করেছে চিল্লাফাল্লা।প্রযোজক,ক্যামেরাম্যান,স্টাফ সবার অবস্থা খারাপ!’

রোদ্দুর খেলায় আর আগ্রহ পাচ্ছে না।অহির খোঁজ নিতে হবে।শ্যুটিংয়ের কিছু দৃশ্য দেখতে মন চাচ্ছে।সে এলোমেলো ভাবে খেলে গেল।কিছুক্ষণের মধ্যে জয় হলো লুৎফর রহমানের!লুৎফর রহমান মন খুলে হাসছে।রোদ্দুরের মুখেও হাসি ফুটে উঠলো।মানুষটার হাসি দেখতে তার ভালো লাগছে!

৪.

অহি এটেনডেন্টকে বলে সিট চেঞ্জ করেছে।চেঞ্জ করেছে বলতে নন এসি বগিতে পাশাপাশি দুটো সিট খালি ছিল।সেটাতে গিয়ে বসেছে।কেবিনে থাকা যাচ্ছে না।একটুপর পর রোদ্দুর নামক ছেলেটা বিনা বাধায় কেবিনে যাতায়াত করছে।তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে!ইতোমধ্যে তার বাবার সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছে।

জানালা ঘেঁষে বসে অহি হাঁফ ছাড়লো।বাইরে সন্ধ্যা নেমে গেছে অনেক ক্ষণ হলো।তবে অন্ধকার পুরোপুরি গ্রাস করেনি।সে জানালার কার্নিশে মাথা রাখলো।হিম শীতল বাতাস এসে ভেতরটা নাড়িয়ে দিচ্ছে।তার ভালো লাগছে!প্রচুর ভালো লাগছে।

ধপ করে পাশের খালি সিটে কারো বসার আওয়াজ হলো।অহি বিরক্তি নিয়ে তাকাতে চমকে গেল।রোদ্দুর এসে বসেছে।তাকে এত ভীড়ের মধ্যে খুঁজে বের করলো কি করে?তাকে আরেক দফা অবাক করে ঝরণার মতো বিরামহীন ধারায় বলল,

‘অজান্তা,আমি তো সেলিব্রিটি হয়ে যাব।ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি।আমায় এখন টিভিতে দেখাবে।’

‘মানে?’

‘আজ রাত ন’টায় সামনের স্টেশনে ট্রেন থামবে।সেখানে ছবির শ্যুটিং হবে।নায়িকা হলো পলি মজুমদার।সেখানে একটা অংশে আমি অভিনয় করবো।ডিরেক্টর আমার আগ্রহ দেখে খুশি হয়েছেন।প্রথমে তিনি আমাকে ছোট্ট একটা রোল দিয়েছিল।নায়িকার পাশ দিয়ে হেঁটে যা-ওয়া।এখন একটা বড় রোল পেয়েছি।স্টেশনে নায়িকা সানগ্লাস চোখে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।তার পাশের ট্রলিটা নিয়ে আমি দৌঁড় শুরু করবো।নায়িকা পেছন পেছন দৌঁড়াবে।হঠাৎ করে আমি ফ্লোরে পড়ে যাব।এর মধ্যে নায়িকা আমাকে ধরে ফেলবে এবং চুরি করার অপরাধে একটা থাপ্পড় দিবে।’

‘আপনি সত্যি সত্যি চোরের ভূমিকায় অভিনয় করবেন এবং থাপ্পড় খাবেন?

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here