গল্পের নাম:প্রেম পায়রা,পর্ব ১২ (বোনাস পার্ট)

গল্পের নাম:প্রেম পায়রা,পর্ব ১২ (বোনাস পার্ট)
লেখনীতে: অজান্তা অহি (ছদ্মনাম)

তিথি মাথা নেড়ে শান্ত হয়ে শুয়ে পড়লো। সম্পদ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে তিথির অপর পাশে শুয়ে পড়লো।দুজন চুপচাপ দু দিকে হয়ে চোখ বন্ধ করলো।সঙ্গে সঙ্গে নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেল সম্পূর্ণ রুম।একে অপরের থেকে লুকিয়ে ফেলা প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস যেন রাতের অাবছা অন্ধকার ফালা ফালা করে দিচ্ছিল!

সম্পদের ঘুম আসছে না।ঘুমেরা আজ অধরা।দীর্ঘ সময় নিয়ে এপাশ ওপাশ করেও ঘুম নামক ক্ষণিকের প্রশান্তির মন জয় করতে পারলো না।ঘুম আজ ধরা ছোঁয়ার বাইরে।সে ধপ করে চোখ খুলল।

খুবই সাবধানে সে পাশ ফিরে তিথির দিকে মুখ দিল।তিথি গভীর ঘুমে।তার ভারী নিঃশ্বাস সম্পদের ভেতরটা শান্তিতে ভরিয়ে দিল।ক্ষুধার্ত মানুষ যেমন অন্যের খাওয়া দেখে তৃপ্তি পায় অনেকটা তেমন!ঘুমহীন দু চোখ ঘুমন্ত পরীকে দেখে প্রশান্তি পাচ্ছে।

তিথির মুখটা আবছা!মনে হচ্ছে তার মুখের উপর অদৃশ্য কোনো দেয়াল।অর্ধস্বচ্ছ সে দেয়াল ভেদ করে ওপাশে পৌঁছানো যায় না।ওপাশের রহস্যে ঘেরা মানুষটার কাছাকাছি যাওয়া যায় না!

অর্ধস্বচ্ছ সে দেয়াল ভেঙ্গে ফেলতে কি না জানা নেই,সম্পদ উঠে গিয়ে লাইট অন করলো।আবার বিছানায় আধ শোয়া হয়ে তিথির দিকে তাকিয়ে রইলো।গোলগাল মুখ,বোঁচা বোঁচা নাক,পাতলা ঠোঁট,ফোলা ফোলা গাল!সব মিলিয়ে খুবই সাধারণ একটা চেহারা।অথচ এই সাধারণ চেহারার আড়ালে কিছু একটা আছে যা তাকে দিন দিন আরো পাগল করে তুলছে।আরো তিথিনির্ভর করে তুলছে।

তিথি বাম কাত হয়ে শুয়ে আছে।সম্পদ আরো একটু এগিয়ে গেল।বাম হাতটা দিয়ে তিথির মুখের সর্বত্র আলতো হাতে স্পর্শ করলো।কি আছে এই মেয়ের মধ্যে?যার জন্য তাকে এতটা ভালোবাসতে ইচ্ছে করে?নিজেকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে,টুকরো টুকরো করে শুধু তার জন্য বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে?কেন তাকে পৃথিবীর সব দুঃখ আর অশুভ থেকে লুকিয়ে বাঁচিয়ে রেখে বুকের খাঁচায় বন্দী করে রাখতে মন চায়?কেন সাধ জাগে পৃথিবীর সব সুখ তার পায়ের নিচে ফেলতে?কেন মনে ইচ্ছে জাগে তাকে তাকে আদরে আদরে আর ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলতে?

তিথি ঘুমের মধ্যে নড়ে-চড়ে উঠলো।সম্পদ দ্রুত নিজের হাতটা সরিয়ে আনলো।তিথি বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে।অস্পষ্ট হলেও সম্পদ জানে সে কি বলছে!কার কথা বলছে!সে দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিল।বহুদিন পর,বহু বছর পর তার দৃষ্টি ছলছলে হয়ে উঠলো।মায়ের মৃত্যুর পর সে দ্বিতীয় বার কখনো কেঁদেছিল কি না মনে নেই।তবে আজ কাঁদতে ইচ্ছে করছে।হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।

সম্পদ দ্রুত উঠে দাঁড়ালো।প্রায় দৌঁড়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।শাওয়ার ছেড়ে তার নিচে দাঁড়াল।ঠান্ডা পানির স্পর্শে তার শরীর কেঁপে উঠে।চোখ বন্ধ করে এক হাতে মাথার চুলগুলো কপাল থেকে সরাল।

ঘন্টা খানেক পর ভেজা কাপড়ে বের হলো।আলমারি থেকে ড্রেস নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে চেঞ্জ করে আসলো।

মাথা মুছে ফতুয়ার উপর জ্যাকেট পড়ে নিল সে।দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো।একটা বেজে বাইশ মিনিট।সে অনিচ্ছা নিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল।বালিশের নিচ থেকে ফোনটা হাতে নিল।ভুলবশত চোখ চলে গেল তিথির দিকে।জামা কাপড় এলোমেলো করে শুয়ে আছে মেয়েটা!সে পায়ের নিচে থাকা কম্বলটা টেনে গলা পর্যন্ত টেনে দিল তিথির।মাথার উপর স্লথ গতিতে ঘূর্নায়মান ফ্যানের দিকে এক পলক চেয়ে একটু পাওয়ার বাড়িয়ে দিল।

তারপর বেলকনির কাচ ঠেলে বাইরে বের হলো।ফোনটা হাতে নিয়ে কল লিস্টে ম্যানেজারের নাম সার্চ করলো।নাম্বার চোখের সামনে।কিন্তু ফোন করবে কি করবে না তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছে।এত রাতে ফোন করা কি ঠিক হবে?

ভাবতে ভাবতে সে ফোন দিয়ে ফেলল।একবার রিং হতেই কল রিসিভ হলো।ওপাশ থেকে বিস্মিত গলায় তার ম্যানেজার বলল,

—‘স্যার,আসসালামু আলাইকুম।কোনো সমস্যা স্যার?সব ঠিকঠাক আছে তো স্যার?স্যার,কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি তো স্যার?’

এই মাঝরাতে বিক্ষিপ্ত মন নিয়েও সম্পদের হাসি পেল।তার ম্যানেজার সবুজ!খুবই কর্মঠ একটা ছেলে।সবেমাত্র গ্রাডুয়েশন কমপ্লিট করেছে।বয়সে তার থেকে কিছুটা ছোট হবে।কাজে কর্মে খুবই পটু।তার একটাই সমস্যা!একটা সেনটেন্সে হাজার খানেক বার স্যার স্যার করবে।সে বেশ কয়েক বার বারণ করেছে।কিন্তু সবুজ অপারগ।সবুজের ভাষ্যমতে তার বাবা প্রাইমারী স্কুলের টিচার ছিল।দিনরাত টিচার টিচার এটিটিউড নিয়ে চলতো।বাসায় বই ধরিয়ে রাখতো সারাক্ষণ।এবং পড়াশোনার সময় তাকে স্যার বলে ডাকা লাগতো।সেই সুবাদে বহুবার বাবাকে স্যার বলে ডাকতে ডাকতে চট করে স্যার শব্দটা চলে আসে।

সম্পদ সবুজকে আশ্যস্ত করে বলল,

—‘সব ঠিকঠাক আছে।তুমি এত রাত অবধি জেগে রয়েছ?আমি তো ভেবেছিলাম ঘুমিয়ে পড়েছ।’

সবুজ এক্সাক্ট কোনো আনসার দিতে পারলো না।তার তোতলানো স্বরে সম্পদ বুঝতে পারলো গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলেছে হয়তো।সে প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,

—‘আমার ফিনল্যান্ড যাওয়ার সব পেপারস্ ঠিক হয়েছে?’

—‘ইয়েস স্যার।পেপার্স প্রসেসিং এ আছে।দু তিনদিনের মধ্যে ভার্সিটির তত্ত্বাবধানে থাকা ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে আপনাকে ডাকবে স্যার।’

—‘হুঁ!কারো সাথে যোগাযোগ করতে হলে আমাকে জানাবে।আর যতদ্রুত সম্ভব সব ঠিকঠাক করো।এজ আর্লি এজ পসিবল আমি ফরেনে মুভ করতে চাই।’

—‘ইয়েস স্যার!আপনি কোনো চিন্তা করবেন না স্যার।দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে ভিসা,পাসপোর্ট সব যোগাড় হয়ে যাবে স্যার!’

—‘আচ্ছা, রাখছি।আমার অবর্তমানে বিজনেসের সবকিছু তুমি হ্যান্ডেল করবে।আমার শ্বশুর মাঝে মধ্যে আসা যাওয়া করবে।ছয় মাস দেখতে দেখতে চলে যাবে।’

—‘ইয়েস স্যার।গুড নাইট স্যার!’

সম্পদ ফোন কাটলো।বেলকনির চেয়ার সরিয়ে সে ফ্লোরে বসে পড়লো।বাকি রাত টুকু এখানেই কাটাবে সে।একা থাকার অভ্যাস করতে হবে তাকে।একা!সম্পূর্ণ একা!পরবর্তী দিনগুলোতে তাকে ভয়ংকর সব পরীক্ষা দিতে হবে।নিজের অনুভূতির সাথে অস্ত্রহীন যুদ্ধে নামতে হবে যে!

২১.

সকালবেলা ঘুম ভাঙতে অভ্যাস বশত তিথি পাশে তাকাল।সম্পদ নেই,বিছানা খালি।সে উঠে বসলো।ঘুম কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না।বসে বসেই সে ঝিমানো শুরু করলো।

ওয়াশরুম থেকে বের হলো সম্পদ।ফুল গেট আপে।তিথির দিকে এক পলক চেয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ালো।শীতল কন্ঠে বলল,

—‘তিথি রেডি হয়ে নাও।যাওয়ার পথে ভার্সিটি নামিয়ে দিব।’

সম্পদের এত ঠান্ডা কন্ঠ তিথির ভেতরটা নাড়িয়ে দিল।মুহূর্তে ঘুম উবে গেল।সেখানে এসে ভর করলো একরাশ অভিমান।মুখটা ঘুরিয়ে সে বলল,

—‘আপনি চলে যান। আমি স্নেহার সাথে গেলেই হবে।’

সম্পদ মাথার চুলগুলো পরিপাটি করে বলল,

—‘তাহলে তো প্রবলেম সলভড!’

কত সহজে বলল প্রবলেম সলভড!সত্যিই কি সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে?তার ভার্সিটি যাওয়া সম্পদের কাছে সমস্যা মনে হয়?তিথির মন খারাপ ভাব দ্বিগুণ হলো!

গায়ের কম্বল সরিয়ে সে ক্ষীপ্র পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।

তিথি চলে যাওয়ার পর সম্পদ বিষণ্ণ দৃষ্টিতে ওয়াশরুমের দিকে চেয়ে রইলো।জীবন তাকে এমন একটা জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে!না পারছে সইতে,আর না পারছে সব স্বাভাবিক করতে।

সে শক্ত হাতে গলার টাই বাঁধলো।চলুক।জীবন জীবনের মতো।তিথি তিথির মতো!সে কারো চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

দরজার কাছে পৌঁছে পেছন ঘুরে তাকাল সম্পদ।তিথি ওয়াশরুম থেকে বের হয়নি এখনো।মেয়েটা শরীরের অযত্ন করছে বেশ।এটা তাকে আরো পুড়াচ্ছে।যতই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে ততই যেন চারপাশ আরো জটিল হয়ে উঠছে।সে আবার পিছিয়ে এলো।ওয়াশরুমের দরজায় কড়াঘাত করে বলল,

—‘তিথি, দ্রুত বের হও।নাস্তা করবো একসাথে।’

ভেতর থেকে তিথি রুদ্ধ কন্ঠে বলে উঠলো,

—‘আমি করে নিব।আপনার দেরি হয়ে যাবে।চলে যান!’

—‘তিথি বের হও বলছি।তুমি অসুস্থ হলে তোমার বড় বাবাকে কৈফিয়ত দিতে হবে আমার।’

তিথি ভেতর থেকে জ্বলে পুড়ে গেল।শুধু মাত্র, শুধুমাত্র বড় বাবাকে কৈফিয়ত দেয়ার ভয়ে সম্পদ এত দায়িত্ব দেখাচ্ছে?কর্তব্য পালন করছে?এমন দায়িত্ব, কর্তব্য তার চাই না।সে বের হলো না।জিদ ধরে বলল,

—‘অসুস্থ হলে আমি হবো। আপনার কাছে কেউ কৈফিয়ত চাইবে না।নিশ্চিন্তে থাকুন।’

—‘তিথি লাস্ট বারের মতো বলছি।বের হবে নাকি দরজা ভাঙবো?’

সম্পদের কন্ঠের ধার দেখে তিথি ভয়ে চুপসে গেল।আস্তে করে দরজা খুলে বের হলো।মাথা উঁচু করে একবারও সম্পদের দিকে তাকালো না।

সম্পদ সেই ভেজা মুখের দিকে কিয়ৎক্ষণ চেয়ে রইলো।হুশ ফিরতে বিছানার উপর থেকে টাওয়ালটা তিথির দিকে দিয়ে বলল,

—‘হাত মুখ মুছে ফেলো।’

তিথি কোনোরকমে মুছে সম্পদের পিছু পিছু নিচে নামলো।

স্নেহা নতুন ড্রেস পড়ে অলরেডি খাওয়া শুরু করেছে।তিথি বাতাসী খালার থেকে জেনে নিল সোবাহানকে খাবার দেয়া হয়েছে কিনা।জানার পর প্লেট হাতে স্নেহার পাশে বসে পড়লো।

স্নেহা মুখে খাবার পুড়ে বলল,

—‘ভাবী,টেন মিনিটসের মধ্যে রেডি হবে কিন্তু।আমার লেইট হয়ে যাবে।’

তিথি মাথা নেড়ে হুঁ জানাল।ডিমের সাদা অংশ মুখে পুড়ে সম্পদের দিকে তাকালো।সম্পদের সমস্ত ধ্যান জ্ঞান খাবারে। গভীর মনোযোগ দিয়ে খাবার খেয়ে যাচ্ছে।এতটা মনোযোগ স্টুডেন্টরা ক্যালকুলাস ক্লাসেও দেয় না।

২২.

আজ হলিডে!নিশান ঠিক করেছিল বিকেলে পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করবে।সিনেমা টিনেমা দেখবে একত্রে।কিন্তু বিপত্তি ঘটালো তুলি। তুলি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।মোচড়ামুচড়ি করছে,কাটা মুরগির মতো ছটফট করছে।কিন্তু কি অসুখ হয়েছে তা বলছে না।

এই নিয়ে আনুমানিক কুড়ি বারের মতো অনুরোধের স্বরে নিশান বলল,

—‘তুলি সমস্যা কি তোমার? কি হয়েছে?’

তুলি এবারও উত্তর দিল না।তব্দা মেরে পড়ে আছে।ক্ষণে ক্ষনে লাফিয়ে উঠছে।তুলিকে তুলে আছাড় মারার গোপন ইচ্ছে টুকু হজম করলো নিশান।এত একরোখা আর ত্যাঁদড় মেয়ে হয়?যখন সে ঠিক করবে কথা বলবে না,মানে হাজার ধমকাধামকি করেও তার মুখ খোলানো যাবে না।

তবে এই পিচ্চি মেয়েটার ধৈর্য শক্তি সম্পর্কে সে অবগত।নিশ্চয়ই আজ অসহ্যের বাইরে কষ্ট হচ্ছে বলে এতটা ছটফট করছে।

সে তুলির পাশে বিছানায় বসে একটা হাত তার মাথায় রাখলো।মেয়েটার মধ্যে অদ্ভুত একটা ক্ষমতা আছে।খুব দ্রুত সবাইকে নিজের মায়ায় জড়িয়ে ফেলতে পারে।সবার মনে জায়গা করে নিতে পারে।দু তিনদিনের মধ্যে তার মা বাবাকে আপন করে নিয়েছে।এখন তার মা বাবা তুলিকে এতটা আদর করে যে নিশানের সন্দেহ হয় সে তাদের ছেলে কি না!সত্যি মেয়েটার মধ্যে বিশেষ একটা ক্ষমতা আছে।ইতোমধ্যে তার মনেও উল্লেখযোগ্য একটা স্থান করে নিয়েছে মেয়েটা।

নিশান তুলির মাথায় হাত বুলিয়ে নরম গলায় বলল,

—‘তুলি বলো আমায়!কোথাও কষ্ট হচ্ছে?’

তুলির শুকনো খটখটে চোখ দুটো মুহূর্তে পানিতে ভরে উঠলো।এই একটা মানুষের সামনে সে খোলস পড়ে থাকতে চায় না।নিজেকে আড়ালে রাখতে চায় না।ভালো থাকার অভিনয় করতে চায় না।চোখ দুটো বন্ধ করলো সে।সাথে সাথে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে কানের কাছে পৌঁছাল।সে কাঁদতে কাঁদতে বলল,

—‘পেট ব্যথা করছে।ভীষণ ব্যথা করছে।নাড়িভুড়ি সব ছিঁড়ে যাচ্ছে।’

এতক্ষণে নিশান খেয়াল করলো তুলি মাঝে মধ্যে পেটে হাত চেপে কেমন যেন করছে।সে দ্বিগবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে শাড়ির নিচ দিয়ে ডান হাতটা তুলির পেটে রাখলো।চিন্তিত কন্ঠে বলল,

—‘হঠাৎ পেট ব্যথা করছে কেন?অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা?ও গড!এপেন্ডিক্স কেটে ফেলতে হবে।’

কষ্টের মধ্যেও তুলির ঠোঁটের কোণে ব্যথাতুর হাসি ফুটে উঠলো।নিশানের হাতের উপর নিজের হাতটা রেখে বলল,

—‘চিন্তার কিছু নেই।ঠিক হয়ে যাবে।এ ব্যথা প্রতিমাসেই হয়!’

আচমকা নিশান বুঝতে পারলো এটা কিসের ব্যথা।বুঝতে পেরেই লজ্জায় মিইয়ে গেল সে।তুলির পেট থেকে হাত সরিয়ে এক লাফে উঠে দাঁড়ালো।হড়বড় করে বলল,

—‘আমি এক্ষুণি ফার্মেসি থেকে ঘুরে আসছি।’

তুলি বাঁধা দিয়ে বলল,

—‘যাবেন না!আপনি কোথাও যাচ্ছিলেন বোধ হয়।’

—‘হুঁ সিনেমা দেখতে যেতে চাইলাম।’

—‘ওখানেই যান।আমার ব্যথা আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যাবে।’

নিশান মনে মনে বলল,

—‘গুল্লি মারি সিনেমা দেখার!’

মুখে বলল,

—‘চুপচাপ থাকো তো!আমি আসছি।’

সে রুম থেকে বের হয়ে এলো।আগেই ফার্মেসী গেল না।প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে।হ্যাঁ!এক পলক ড্রয়িং রুসে চোখ বুলালো।কেউ নেই।মা-বাবার বিকেল বেলা ঘুমানোর অভ্যাস আছে।

রান্নাঘরে ঢুকে ডেকচিতে পানি বসাল নিশান।গরম পানির ছ্যাঁকা দিলে ব্যথা কমার কথা।

মিনিট পাঁচ-সাত পর সে গরম পানিটা তুলির দিকে বাড়িয়ে দ্রুত তুলির সামনে থেকে সরে আসলো।কে জানি তুলির সামনে যেতে নিজেরই লজ্জা লজ্জা করছে।ড্রয়িং রুমের দরজা খুলে সে মোড়ের দিকে এগোল।কাছেই কিন রাস্তার মোড়ে ফার্মেসির দোকান!

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here