কৃষ্ণ_মেঘের_প্রেম-৫

#কৃষ্ণ_মেঘের_প্রেম-৫
লেখিকা:- ইশানূর ইনায়াত

শান্ত থমথমে আকাশ। আকাশের অবস্থা বেশ খারাপ।
ঝড় বৃষ্টি নামবে এমন পরিস্থিতি। তবে আকাশ যেন থেমে আছে। সুখ টিকলো না লাবনীর জীবনে।একদিন ফোন ফেলে রেখেই ফুপুর বাসায় রওনা হয় তখনও ওর ফুপু জানে না যে লাবনী বাংলাদেশই আছে। বাসায় গিয়ে কলিংবেল বাজায়। গেট খুলে দেয় একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা। এনাকে আগে কখনও লাবনী দেখেনি ওদের বাসায়। ভেতরে ঢুকার আগে মহিলা ওর পরিচয় জানতে চায়। লাবনী বলে, ” আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিন ঢুকলেই জানতে পারবেন আমি কে।” লাবনী কে দেখে ভালো মানুষ করে ঢুকতে দিলেন।

লাবনী ড্রইংরুমে একটা সাদা শার্ট ব্লু জিন্স পরে বসে থাকা ছেলে কে দেখলো একে জীবনেও আগে দেখেছে বলে মনে পরলো না ওর। আর না এই বাসায় আসা যাওয়া করেছে। লাবনী ভাবলো হবে হয়তো কেউ রুহা (ওর ফুফাতো বোন) এর কোনো ফ্রেন্ড কাজিন মেয়বি হয়তো। যায় হোক ও ড্রইং রুম ক্রস করে ডাইনিং এ প্রবেশ করতেই রুহাকে দেখতে পেল। রুহার মুখ খাবার খাচ্ছিল। ও গিয়ে সবকিছু ভুলে রুহাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। রুহা কেঁপে উঠে ছিটকে দূরে সরে যায়।

খেয়াল করে লাবনী কে দেখে কেঁপে ওঠে। মুখ পাংশুটে রঙ ধারণ করে। লাবনীকে এমন সময় একদমই প্রত্যাশা করেনি দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

লাবনী ভ্রু কচুঁকে মুখ আলতো হাসি জড়িয়ে বলে,

“কি হলো? ওমন দূরে সরি গেলি কেন?”
রুহা ওর চেয়ে ২ মাসের ছোট হওয়ায় আর একসাথে বড় হওয়ায় দুজন দু’জনকে তুই তুই করে কথা বলে।

” ত..ত তুই? তুই এখন! মানে কিভাবে? কখন? এলি? ”

” এই তো এখন এলাম…”

রুহা বিরক্ত হয়ে বললো,

“কিসব বলছিস এতদূর থেকে বিদেশ থেকে এসেছিস এখন রওনা দিয়েছিস আর পৌঁছে গিয়েছিস নাকি? কয়টার ফ্লাইট এ এসেছিস আর আসার প্ল্যান কবে করলি? ২ মাস আগেই তো গেলি…”

“আমি তোকে সব বলছি পরে, এখন দীদা কোথায় সেটা বল.., ”

“নানু তো নানুর রুমে শুয়ে আছে বোধহয় ….”

“আচ্ছা, তুই খাওয়া কমপ্লিট কর । আমি আসছি..”

“আ..আচ্ছা যা..” এমন চুপসে গেল রুহা। কিছু বলতে চেয়েও বললো না।

……..

লাবনী ওর দাদির রুমে গিয়ে ” দীদা….” বলে জড়িয়ে ধরলো।
ওর দাদি ওকে দেখে খুশি ও অবাক হয়ে খুশিতে জড়িয়ে ধরলেন।
কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ওখানে হাজির হোন ফুপু।
উনি আকাশ সম বিস্ময় নিয়ে,

” তুই এখানে? লাবনী! ভাইয়াও এসেছে নাকি?”

মায়ের চিৎকার শুনে রুহা দৌড়ে রুমে আসে।

সবার-ই তখন একই প্রশ্ন,

‘ লাবনী এখন এখানে কিভাবে?” সব কিছু লাবনী বলে দিতেই ওর দাদি অনেক খুশি হোন। রুহার প্রতিক্রিয়া বোঝার উপায় নেই্। আর ফুপুর প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝাই যাচ্ছিল উনি বেশি খুশি নন। উনি রাগ করে লাবনীর হাত চেপে ওকে রুম থেকে টেনে বের করে আনতেই যাচ্ছিলেন্। লাবনী এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নেয়।

চিৎকার করে বলে,

“হাত ছাড়ো আমার!”

ভেজা বেড়াল কে বাঘিনী হয়ে যেতে দেখে অবাক হোন। অসন্তুষ্টিত হোন।

————
সেইদিন বেশকিছুক্ষণ দীদার সাথে গল্পগুজব করে রুহার সাথে কথাবার্তা বলে রওনা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ওর দীদা আর রুহা মিলে জোর করে ওকে ওই রাতের জন্য রেখে দেয়।

লাবনী হোস্টেলে ফিরে যাওয়ার পর লক্ষ করে কে যেন তাকে ফলো করে। এবং কিছুদিন পর তার উত্তর ও পেয়ে যায়। তাকে ফলো করা ছেলেটি অন্য কেউ নয় সেদিনের ওই ছেলেটি যে কি না ড্রইংরুমে সোফায় বসেছিল। যাকে দেখে ও চিনতে পারেনি। বুঝতে পারার সেই কথা ও ওর এক সিনিওর আপু কে বলে। সিনিওর আপু একদিন হাতে নাতে ছেলেটাকে হোস্টেলের হেড এর কাছে ধরিয়ে দেয়।
ওই ছেলেটি পরবর্তীতে একদিন খুবই খারাপ ভাবে লাবনীকে হ্যারেজমেন্ট করায় ওর সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে। এবং তার পর থেকে লাবনী কলেজ আর হোস্টেলের বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। প্রায় শুধু টাকা আনতে হলে ওর দুইটা বেস্টফ্রেন্ড আর দুইটা সিনিওর আপুকে নিয়ে যেতো।

এরপর লাবনীর এই অবস্থা দেখে ওর দুই সিনিওর আপু আর বেস্টফ্রেন্ড রা জিডি করার পরামর্শ দেয়। তাই করলো লাবনী। জিডি করার পর যেন আরো পিছে পরে যায় ছেলেটা্। এরপর এক রাতে সিনিওর দুই আপু ও দুই বান্ধবীর কাছে আবারও এবারে জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পরে লাবনী। ওরা ঠিক করলো প্রমাণ জোগাড় করে ভালোভাবে ধরিয়ে দিতে হবে এই ছেলে কে। তা-ই করলো। একদিন প্ল্যান মোতাবেক লাবনীকে ওই রাস্তায় পাঠালো আধো আধো অন্ধকার ছেয়েছে তখন মাত্র। লাবনী কাঁধে ব্যাগ হাতে পার্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে। কিছু দূরেই দুই বান্ধবী আর দুই সিনিওর আপু দাঁড়ানো।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই দেখা মিললো ওই ছেলের আর তার শয়তান সাঙ্গোপাঙ্গ দের। তারা আবারও লাবনী ডিস্টার্ব করা আর থ্রেট দিতে লাগলো। সবই রেকর্ড হচ্ছিল ক্যামেরায়। সব প্রমাণ রেকর্ড হয়ে যেতেই ওরা লাবনীকে ফোন করলো। ফোনের কেঁপে উঠতেই লাবনী নিজের বান্ধবী দের তাকালো ওরা ওকে ইচারায় ডাকছে…

লাবনী ওইদিন বাসায় ফিরে ওইসব প্রমাণ চারজন চারজনের মোবাইলে সেন্ড করে দেয়। যাতে একজনের মোবাইল থেকে প্রমাণ মুছে গেলেও যেন আরেকজনের মোবাইলে থেকে যায়। অতপর সেই প্রমাণ নিয়ে পরের দিন পুলিশ স্টেশনে যায়। পুলিশ স্টেশনের অফিসার একজন মেয়ে ছিলেন। এবং উনি খুব ভালো ও সৎ থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তার একমাস পর লাবনীর বিয়ে ঠিক হয় রোদ্রের সাথে…….

বর্তমান …….

লাবনীর মুখে এক ফালি রোদ্দুর আছড়ে পরে আছে্। মুখে উষ্ণতা অনুভব করতেই চোখ মেলে তাকালো লাবনী। অনুভব করলো ঘাড় ছিঁড়ে যাচ্ছে। ও বেলকনিতেই রকিং চেয়ারে বাঁকা করে মাথা হেলিয়ে ঘুমিয়ে পরেছিল রাত্রে। আর আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে রোদ্রকে ওর কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে দেখতে পেল। আশ্চর্য বনে গেল লাবনী।

এখন কিভাবে এখান থেকে উঠবে লাবনী এটা ভেবে পাচ্ছে না।

– ” চলবে ”

#writer_ishanur_inayat

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here