কায়নাত,পর্বঃ১১

কায়নাত,পর্বঃ১১
লেখিকাঃটিউলিপ রহমান

ঘরে ঘূর্ণির মত সৃষ্টি হওয়াতে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে। কায়নাতের সব গল্পের বই যেগুলো টেবিলে সুন্দর করে রাখা ছিল সেগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সব উড়তে লাগলো। সেই ঘূর্ণির ভিতর দেখা যাচ্ছে ইবাদত আর শয়তানরূপি কায়নাত একে অন্যের সাথে লড়ে যাচ্ছে। এতক্ষণে এলাকায় সব জানাজানি হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ মানুই ওদের বাসার সামনে জড়ো হয়েছে।ঘটনা কতটুকু সত্য বা বানোয়াট তা দেখার অপেক্ষায়।
শয়তান গুলো খুব ভালো করেই জানে যে ইবাদত কায়নাত কে কখনো আঘাত করবে না। তাই তারা আশ্রয় হিসেবে কায়নাতের শরীরকেই বেছে নিল। কায়নাত তার নখ দিয়ে ইবাদতের বুকে আঁচড় দিল। এতে ইবাদতের বুক চিড়ে গেল। ইবাদত ওকে ধাক্কা দিয়ে পিছনে সরিয়ে দিল। কিন্তু কায়নাত আবার ওর শরীরের উপর আঁচড়ে পড়ল। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ইবাদত কায়নাতের মুখের দিকে তাকালো। দেখলো মায়াবী সেই চেহারার মানুষটা আজ তার সাথে লড়ে যাচ্ছে।অথচ ও জানেও না ওর জীবন এখন অন্যের হাতে।

শয়তান গুলো চাচ্ছে ইবাদত যেনো কায়নাত কে আঘাত করে শেষ করে দেয়। পরে ওরা ইবাদতকেও শেষ করে পুরো খেল খতম করবে। এক্ষেত্রে শয়তান গুলোর দুটো লাভ হবে, এক কায়নাত খতম হবে, যেটার জন্য ওদের জ্বীন সরদারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। অন্যটা হচ্ছে ইবাদতকেও তারা রুখে দিতে পারবে ভবিষ্যতে জ্বীনের বাদশাহ হওয়া থেকে। শয়তান গুলো চায় তাদের মধ্যে থেকেই কেও যেনো সেটা হয়।তাদের লড়াই তৌসিফ, তার বাবা হা করে দেখছেন। মানে তারা কখনো চিন্তাও করেনি যে এই রকম কোনো ঘটনা ঘটবে। এই রকম কোনো ঘটনার তারা সাক্ষী হবে। তৌসিফ শুধু হলিউড মুভি গুলোতে এই রকম দৃশ্য দেখেছে। বাস্তবে যে এগুলো ঘটতে পারে তার কোনো ধারনাই ছিল না।

তারা অনবরত লড়েই যাচ্ছে। কায়নাত বারবার ইবাদতের শরীরে আঘাত করছে। ইবাদত শুধু ওকে রুখে দিচ্ছে। ইবাদত চাচ্ছে না যে কায়নাত শরীরে আঘাত পাক। কিন্তু কতক্ষণ আর সহ্য করা যায়! এক পর্যায়ে ইবাদত কায়নাত কে জোরে আঘাত করে মাটিতে আছড়ে ফেলল। এতে কায়নাত ছিটকে পড়লো। ওর মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত পড়ছে। ধাক্কা দেওয়ার পর ইবাদতের হুশ হলো

— হায় আল্লাহ!এ আমি কি করলাম! আমার ভালোবাসাকে এভাবে আঘাত করলাম?

কায়নাত মাটিতে পড়ে কাঁদতে শুরু করলো। তারপর ওর ভিতরে থাকা শয়তান গুলোই নাটক করে বলছে

— ইবাদত! এ তুমি কি করলে! আমাকে এভাবে আঘাত করতে পারলে? তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে?

বলেই কাঁদতে শুরু করলো। আসলে ওদের এই লড়াইয়ে কায়নাত কোথাও নেই। যা করছে সব ঐ শয়তান গুলোই করছে। এখনো যে কথাগুলো বলছে সেটাও ওরা বলছে। যাতে ইবাদত ইমোশনালি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ওদের কাজে সুবিধা হয়। কায়নাত আবার বলছে
–এই তোমার ভালোবাসা? এই তোমার জীবন রক্ষা করা? তুমি একটা মিথ্যুক জ্বীন। ভন্ড জ্বীন। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না। বলেই হু হু করে কাঁদতে শুরু করলো। কায়নাতের বাবা দৌড়ে কায়নাতের কাছে যাচ্ছিল কিন্তু ইবাদত বলল

— দয়া করে ওর কাছে যাবেন না। এগুলো আপনার মেয়ে বলছে না। ঐ শয়তান গুলো ওকে দিয়ে বলাচ্ছে।
–তুমি আবারও আমাকে ভুল বুঝছো ইবাদত! আমি তোমারই কায়নাত! দেখো, তুমি আমার মাথা ফাটিয়ে কি করছো, দেখো?
বলে মাথায় হাত দিতে রক্ত এনে দেখাতেই ইবাদত কেমন যেনো নরম হয়ে গেল। ও জানে এটা কায়নাত বলছে না তবুও ও কায়নাতের কাছে এগিয়ে যাচ্ছে।
বড্ড বেশীই ভালোবাসে ফেলেছে কায়নাতকে। তারপর কায়নাত আবার বলল

— এদিকে এসো, প্লিজ আমাকে একটু জড়িয়ে ধরো, আমার খুব ভয় করছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।

কথাগুলো এমন ভাবে বলল যেনো কায়নাত একদম সুস্থ মস্তিষ্কে বলছে। কিন্তু শয়তানগুলো এত তাড়াতাড়ি হার মানবে এটা ঠিক ইবাদত বুঝে উঠতে পারছে না।হ্যাঁ ইবাদত একটা জ্বীন কিন্তু ওর তো সুন্দর একটা মন আছে, যেটা ভালোবাসায় পূর্ণ, যেটা কাওকে আঘাত করতে জানে না । তাই কায়নাতের কথায় গলে গিয়ে সে ওর কাছে যায়। কায়নাত ওকে কাছে পেয়ে লাফ দিয়ে উঠে জড়িয়ে ধরলো। ইবাদতও ওকে জড়িয়ে ধরলো। কিন্তু কে জানতো যে এই জড়িয়ে ধরাই ইবাদতের শনি ডেকে আনবে।কায়নাত ওকে এমন ভাবে ধরেছে যেনো ইবাদতের শরীর গলে গলে পড়বে। রুমে থাকা বাকীরা দেখলো ছয়টা আগুনের গোলা কায়নাতের শরীরের উপর আছড়ে পড়ল। তারা খুব ভয় পেয়ে গেলেন। দেখে মনে হচ্ছে কায়নাতের শরীরে আগুন লেগেছে। আগুনের গোলাগুলো কায়নাত কে নিয়ে সিলিং বরাবর উপরে উঠে গিয়েছে। এটা দেখে কায়নাতের বাবা আশফাক সাহেব ঘাবড়ে গেলেন। তিনি এতক্ষণ হুজুরের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন। দৌড়ে মোবাইলটা নিয়ে হুজুরকে ফোন করে সব ঘটনা হালকার উপর খুলে বললেন। এতে হুজুর বললেন

–আল্লাহ এত কিছু হলো আপনি আমাকে আগে জানাননি কেনো?? আমি এক্ষুনি আসছি। আপনার মেয়ের দিকে খেয়াল রাখুন। বলে লাইনটা কেটে দিলো।

ইবাদত খুব চেষ্টা করছে কায়নাতে ওদের থেকে আলাদা করতে কিন্তু পারছে না। ওরা পাঁচজন আর ও একা তাও আবার কায়নাতকে দিয়ে ওরা ইবাদতকে ব্ল্যাকমেইল করছে। এক পর্যায়ে জ্বীনদের মধ্যে কথোপকথন শুরু হলো ——

ইবাদত বলছে — তোরা কি চাস? জ্বীন জগতে তোদের আধিপত্য বিস্তার করতে তো আমি কথা দিলাম এটাই হবে তবে তার বিনিময়ে কায়নাতকে তোরা ছেড়ে দে।

ওদের মধ্যে একটা ইফ্রিদ জ্বীন বলছে
–ওকে ওর প্রাপ্য না দিয়ে কিভাবে ছেড়ে দিবো? ও পারবে আমার বাচ্চাকে ফিরিয়ে দিতে?

— যা হবার হয়ে গেছে, আমি বলছি ওর দ্বারা এই ভুল আর হবে না। ওকে মুক্তি দে।(ইবাদত)
–অসম্ভব! ওকে হয় মারবো না হয় আমার সাথে নিয়ে যাবো। আমার ভবিষ্যৎ সন্তান জন্ম দিবে তারপর ওকে আমরা কুঁড়ে কুঁড়ে খাবো! বলে হো হো করে হেসে দিল।(বদজ্বীন )
–নাহ! তোদের অনেক সুযোগ দিলাম কিন্তু তোরা কোনো ক্রমেই তার সৎ ব্যবহার করতে পারলি না। এখন দেখ আমি কি করি।( ইবাদত)

বলে ইবাদত কায়নাত সহ ওদের জোরে একটা ধাক্কা দিল। এতে কায়নাত ওদের থেকে আলাদা হয়ে ওর বাবা আর ভাইয়ের সামনে ছিটকে পড়ল। এতে ও শরীরে বেশ কয়েক জায়গায়ই আঘাত পেল। আর শয়তান গুলো অন্যপাশে ছিটকে পড়লো। উপর থেকে ইবাদত বলছে

— তৌসিফ, কায়নাতকে জলদি অন্য রুমে নিয়ে যা আর হুজুর কে দিয়ে ওর শরীর বন্ধ করা। তাড়াতাড়ি!

তৌসিফ আর বাবা কায়নাতকে তুলে অন্য রুমে নিয়ে গেল। হুজুরও এলেন ঠিক সেই মুহুর্তে। শরীর বন্ধ করে তিনি এলেন কায়নাতের রুমে। এসে দেখেন এখানে রীতিমতো একটা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। তিনি সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত জোরে জোরে তিলাওয়াত করছেন। তখন ইবাদত তার দুই হাত দিয়ে ওদের সবগুলোকে ধরে চোখ বন্ধ করে দোয়া পড়ছে। এতে বদজ্বীনগুলো চিৎকার শুরু করে দিল। ইবাদত দুই হাতে চারটি জ্বীনের গলা টিপে মেরে ফেলল। কিন্তু একটা ইফ্রিদ জ্বীন জানে বেঁচে সেখান থেকে পালালো। তবে যাওয়ার সময় বলে গেল

–তুই কাজটা ভালো করলি না। একটা নারীর জন্য নিজ হস্তে স্বজাতিকে মেরে ফেললি। এর প্রতিশোধ আমি অন্য ভাবে নিবো। আজ আমি চলে গেলাম তবে আমি আবার ফিরে আসবো আরো শক্তি নিয়ে, মনে রাখিস।

এটা বলে সেই জ্বীনটা কায়নাতের বিছানাটাকে উপরে তুলে জোড়ে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল এবং একটা বিকট শব্দে সেটা ভেঙ্গে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল।পরে সব কিছু শান্ত হয়ে গেল যেমনটি একটা বড়সড় ঝড় থেমে যাওয়ার পর হয়। ইবাদত উপর থেকে নিচে নেমে এলো। হুজুরকে দেখে সালাম দিল।তারপর হুজুর বললেন
— আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো, আসলে আপনি আমার অনেক উপকার করলেন আর এই অসহায় মেয়েটিরও জীবন বাঁচালেন।

–না না, আমার আর আমার আব্বা হুজুরের এই পরিবারের উপর ঋন ছিল। তা আজ অনেকাংশে সোধ হলো।
— তাই নাকি? তারা কি করেছিল আমি জানতে পারি?
–জী আমার ভাইয়ের জীবন বাঁচিয়েছিল। আজ আমি এই পরিবারের মেয়ের জীবন বাঁচিয়ে তার কিছুটা পূরন করেছি।
— অনেক ভালো কথা, শুনে অনেক ভালো লাগলো। তাছাড়াও আমি সেদিন রাতে আপনাকে যেই পরিবারের কথা বলেছিলাম এটা সেই পরিবার।
–জী আমি জানি।
— আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার যদি কোনো ইচ্ছা থাকে মানে আমার পূরন করার মত কোনো ইচ্ছা যদি বলতেন তাহলে আমি আপনার সামনে সেটা পেশ করতাম!
–আমার তেমন কিছুই লাগবে না শুধু এতটুকু উপকার করুন, কেও যেনো না জানে আমি জ্বীন।
— জী জী, আমার তরফ থেকে আমি ওয়াদা করলাম কাওকেই জানতে দিবো না। কিন্তু এই পরিবারের সবাই তো জেনে ফেলল?
–সেটা সমস্যা নেই। আমি তাদের ভুলিয়ে দিবো। এতক্ষণ যা যা ঘটল, যারা যারা দেখলো, সবাই সবকিছু ভুলে যাবে।
— এটা কি সম্ভব?
–হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু কথা হচ্ছে সবগুলো জ্বীনকে মারতে পারিনি একটি পালিয়েছে এবং আমার মনে হচ্ছে সেটা ভবিষ্যতে ফিরে এসে ক্ষতি করতে পারে।
— তাহলে তো এটা চিন্তার বিষয়।
–আপনি এক কাজ করুন বাড়ির প্রতি দেওয়ালে একটা করে পিন গেড়ে বাড়িটা বন্ধ করে দিন।
— জী আচ্ছা, তাহলে আমি আজ আসি, আগামীকাল সব প্রস্তুতি নিয়ে এসে বাড়ি বন্ধ করে যাবো।
–জী, আল্লাহ হাফেজ।

হুজুর বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। ইবাদত তুড়ি বাজিয়ে সবাই কে সব কিছু ভুলিয়ে দিল। বাহিরে যারা দাড়িয়ে সবকিছু উপভোগ করছিল তারাও ভুলে গেল, যে তারা এখানে এসে কেনো দাড়িয়ে আছে। শুধু কায়নাতকেই কোনো কিছু ভুলতে দেয়নি,কারন ওর সাথে ইবাদতের বিশেষ কিছু জরুরী কথা আছে।

ইবাদতের শরীরের বেশ কিছু জায়গায় ক্ষত হয়ে গিয়েছে। ও সেই রুম থেকে বের হয়ে ড্রইং রুমে গেল। তৌসিফ দৌড়ে আসলো, তারপর বলল

— দোস্ত, তোকে যে কি করে ধন্যবাদ দিবো আমি জানি না। জীবনে হয়তো কোনো ভালো কাজ করেছি যার জন্য তোর মত বন্ধু পেয়েছি।
–আরে না কি বলছিস, এটা তো আমার দায়িত্ব ছিল।
— তারপরও, চল কায়নাতের সাথে তোর পরিচয় করিয়ে দেই।
–হ্যাঁ চল, বেচারির উপর আজ অনেক ধকল গেল।

তৌসিফের শুধু এতটুকুই মনে আছে যে ইবাদত কুরআনে হাফেজ আর কিছুই মনে নেই। ওরা কায়নাতের রুমে গেল। দেখলো কায়নাতের মাথায় ব্যান্ডেজ করা, হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ করা। ইবাদতের খুব মায়া হলো ওর জন্য।কায়নাতের জ্ঞান ফিরল। ও চোখ খুলেই ইবাদতকে দেখলো সামনে বসা। উঠে বসতে চাইলো কিন্তু ইবাদত বলল

— একদম ব্যস্ত হবেন না, শুয়ে থাকুন, কিছুদিন রেস্ট করুন তাহলেই দেখবেন শরীর আবার আগের মত ঠিক হয়ে গিয়েছে।

কায়নাত ওর কথায় আশ্চর্য হলো কারণ ইবাদত জ্বীন, এটা জেনেও সবাই কেনো ওর সামনে স্বাভাবিক আচরন করছে! তৌফিক আর বাবা গিয়েছে হুজুরের সাথে বাহিরে আর ঐ রুমে শুধু কায়নাতের মা ছিল। কায়নাত ওর মাকে বলছে

–মা মেহমানের জন্য কিছু নিয়ে আসো, উনাকে কি খালি হাতে বিদায় করবে? আজ উনি না থাকলে তোমার মেয়ে জীবিত ফিরে আসতে পারতো না।

— হ্যাঁ রে মা, তুই ঠিক বলেছিস, আমি আনছি। বলে তিনি উঠে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।

সাথে সাথেই কায়নাত ইবাদতের হাত ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল

— তুমি আসোনি কেনো? তোমাকে মনে মনে কত ডেকেছি! আমার ডাকে যদি সাড়া দিতে তাহলে আজ কি এই ঘটনাগুলো ঘটতো? বলো? কেনো আসোনি? বলো?

–কিভাবে আসবো, ওরা আমাকে আটকে রেখেছিল। সেদিন রাতে যখন তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আমি হোস্টেলে যাচ্ছিলাম তখন ওরা আমাকে বাক্সে বন্দী করে। তারপর আল্লাহ সহায় হয়েছিলেন বলেই আমি মুক্ত হয়ে তোমার কাছে আসতে পেরেছি। তারপরও আমার ভুলের জন্য আমি দুঃখিত।
— নাহ, আমি মানবো না, আমি অভিমান করেই থাকবো।
ইবাদত হেসে দিল, তারপর বলল
— তুমি আসলেই দুষ্টুর মধ্যে একটা মিষ্টি মেয়ে।
— হুম হয়েছে, কিন্তু কেও কি বুঝতে পারেনি তুমি যে জ্বীন?
— হ্যাঁ, সবাই জানে।
— তাহলে? তোমাকে কেও ভয় পায় না কেনো?
–কারন আমি তাদের সব কিছু ভুলিয়ে দিয়েছি তাই।
— ওহ, তাই বলো। কিন্তু তোমাকে তো শাস্তি পেতেই হবে। এর কোনো মাফ নাই।
–কি?
— তুমি যে ভাইয়ার বন্ধু আগে বলোনি কেনো? আমি খুব রাগ হয়েছি।
–আগে বললে সব কিছুতে প্যাঁচ লেগে যেতো তাই বলিনি।
— তারপরও আমার কাছে এটা তোমার লুকানো উচিৎ হয়নি। আচ্ছা একটা কথা বলো তো, তুমি তোছজ্বীন!তাহলে তুমি ডাক্তারী পড়ে কি করবে?আসছে আমার ডাক্তার জ্বীন! বলে হো হো করে হেসে দিলো।

— এভাবে বলো না। আমারা জ্বীনরাও তো অসুস্থ হই, আমাদেরও চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তখন যদি আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ডাক্তার থাকে তাহলে সেটা ভালো না!

তখনই কায়নাত নিজের হাত ধরে বলছে
–ওহ! ব্যাথায় শেষ হয়ে গেলাম। ওহ! আমি মরে গেলাম।
ইবাদত ওর চিৎকার শুনে অস্হির হয়ে ওর হাত ধরে বলছে
— কোথায় ব্যাথা করছে আমাকে দেখাও?

কায়নাত ওর হাত খপ করে ধরে বলছে

–এই যে ডাক্তার, এই ব্যাথা কোনো ঔষধেই ভালো হবে না। দাও তো আমাকে একটু আদর করে!
ইবাদত ওর কথা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেল। মাথা নিচু করে বসে মুচকি মুচকি হাসছে আর বলছে

— যাও, কি যে বলো না, সবাই দেখে ফেলবে।
— কেও দেখবে না, বলে কায়নাত ইবাদতের গাল টেনে ধরে ওর ঠোঁটে আদরের স্পর্শ এঁকে দিল।এই মুহুর্তটার জন্য ওরা দুজনই খুব অপেক্ষা করেছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ওরা স্বাভাবিক ভাবে বসে গল্প করছিল আর পিছন থেকে দাদী এসে বলছে

— কায়া দেখোতো, বাড়িতে কে এসেছে!

কায়নাত আর ইবাদত আগত ব্যক্তিকে দেখে অবাক হয়ে গেল। সবকিছু তো ঠিকই হচ্ছিলো তাহলে এইই মুহুর্তে উনার আবার এখানে আসার কি দরকার ছিল??(কায়নাত মনে মনে )

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here