কাশফুলের_ভালোবাসা,পর্বঃ১০,১১

কাশফুলের_ভালোবাসা,পর্বঃ১০,১১
লেখিকাঃঅনন্যা_অসমি
পর্বঃ১০

গাড়িতে বসে আছে সৌন্দর্য,স্পর্শ,মেহেক আর রিফা,উদ্দেশ্য তাদের ভার্সিটি।মেহেক আজকে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল কিন্তু শেষ মহূর্তে এসে তার দুলাভাইয়ের একটা কাজ পড়ে যায় যার জন্য তিনি মেহেক ভর্তি সম্পর্কিত কাজে যেতে পারেননি।এখন তার বদলে মেহেককে ভর্তি করানোর দ্বায়িত্ব এসে পড়েছে সৌন্দর্যের কাঁধে।

ভার্সিটির সামনে এসে গাড়ি থামায় সৌন্দর্য।স্পর্শ আগেই নেমে ভার্সিটির ভেতরে চলে যায়।মেহেক নেমে রিফাকে প্রশ্ন করে,

” এই তোরা তিনজন কি একি জায়গায় পড়াশোনা করিস?”

” হ্যাঁ আর কিছুদিন পর থেকে তুইও এখানে পড়বি।”

” মেহেক চলো।বোনু তুই ক্লাসে যা।”

” আচ্ছা।সাবধানে থাকিস মেহু।আর বোরিং ফিল করিস না আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো।”

রিফা মেহেক থেকে বিদায় নিয়ে ক্লাসে দিকে চলে যায়।সৌন্দর্য মেহেকে নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমের কাছে আসে।

” তুমি এখানেই দাঁড়াও,আমি ভেতরে যাচ্ছি।যাও ফাইলটা আমাকে দাও।”

সৌন্দর্য মেহেক থেকে কাগজপত্রের ফাইলটা নিয়ে ভিতরে চলে যায়।বেশ কিছুক্ষণ সময় পর সৌন্দর্য বেরিয়ে আসে।

” ভেতরে কি হয়েছে?ভর্তি করিয়েছে আমাকে?নাকি….. ” ভীত গলায় সৌন্দর্যকে প্রশ্ন করে মেহেক।

” আরে বাবা শান্ত হয়।ভর্তি হয়ে গেছে তোমার।আর ভর্তি না করানোর কি আছে?তোমার তো সব জায়গা রেজাল্ট ভালোই আছে।শুধু শুধু এতো টেনশন নিচ্ছো তুমি।”

সৌন্দর্যের কথায় মেহেক স্বস্তির নিশ্বাস নেয়।

” চলো সামনে একটা রেস্টুরেন্ট আছে ওখানে গিয়ে বসি।”

” কিন্তু আপনার ক্লাস?”

” ক্লাস আরো দেরি আছে।চলো তো।”

সৌন্দর্যের পেছন পেছন মেহেক রেস্টুরেন্টে চলে আসে।

” বলো কি খাবে?”

” কিছুক্ষণ আগেই তো খেয়ে এলাম।এখন খিদে নেই।”

” আরে তা বললে কি করে হয়।আচ্ছা আমি কফি নিয়ে আসছি।কফি খেতে তো কোন সমস্যা নেই।”

” আচ্ছা।”

সৌন্দর্য কফি নিতে চলে যায়।মেহেক আশেপাশে দেখছে হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় তার থেকে কিছুটা দূরে থাকা টেবিলটাতে।একটা ছেলে একটা মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছে।এই দৃশ্যটা দেখে মেহেকের বুক ধক করে উঠে।কারণ যখন সে আর মুগ্ধ রিলেশনে ছিল মুগ্ধও তখন তাকে এভাবেই খাইয়ে দিতো।দৃশ্যটা দেখেই মেহেক পিছিয়ে যায় কিছুমাস আগে—-

ফ্ল্যাশবেক,

” এতো দেরি কেন হলো তোমার আসতে?জানো কতক্ষণ ধরে ওয়েট করছিলাম।”

” আরে বাবা সরি।আসলে কিছু কাজ ছিল।তা শেষ করে আসতে দেরি হয়ে গেলো।”

” যাও থাকো তুমি তোমার কাজ নিয়ে।আমার কাছে কেন এসেছো?”

” সরি জান,প্লিজ রাগ করোনা।আচ্ছা এই দেখো আমি তোমার জন্য কি এনেছি।”

মেহেক তাকিয়ে দেখে মুগ্ধ তার জন্য তার ফ্রেবারিট চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম নিয়ে এসে।এটা দেখে তো মেহেকের সব রাগ পানি হয়ে যায়।মেহেক আইসক্রিম নিতে গেলে মুগ্ধ হাত সরিয়ে ফেলে।

” কি হলো এটা?দাও আমাকে।”

” না দেবোনা।”

” কেন?দাও আমি খাবো।”

” হুম খাবে তবে এভাবে না।”

” তো কিভাবে?”

আইসক্রিম প্যাকেট থেকে বের করে মেহেকের মুখে সামনে ধরে মুগ্ধ।

” এভাবে।খাও এবার।”

” আমি খেতে পারবো তো।”

” না আমি খাইয়ে দেবো।এবার তাড়াতাড়ি খাও নয়তো গলে যাবে তো।”

মেহেকও মুচকি হেসে মুগ্ধের হাত থেকে আইসক্রিম খেতে থাকে।খাওয়ার সময় মেহেকের নাকের আইসক্রিম লেগে গেলে মুগ্ধ খুব সাবধানে তা মুছে দেয়।মুগ্ধের এতো কেয়ারিং কাজ দেখে মেহেক লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলে।

ফ্ল্যাসবেক এন্ড…..

” এইযে মেহুরানী,কোথায় হারিয়ে গেলো?”

সৌন্দর্যের কথায় মেহেক অতিত থেকে বেরিয়ে আসে।

” হ্যাঁ?”

” কি এতো ভাবছো তুমি?আর ওইদিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?বয়ফ্রেন্ডের কথা মনে পড়ছে বুঝি?নাকি বয়ফ্রেন্ড ছেড়ে চলে গিয়েছে?” মজা করে বলে সৌন্দর্য।

কিন্তু সৌন্দর্য তো আর জানে না আসলেই মেহেকের সাথে এরকম কিছু হয়েছে।যদি জানতো তাহলে হয়তো এরকম কথা বলতো না।সৌন্দর্যের কথায় মেহেক কিছু না বলে শুধু মুচকি হাসে।

” আবার কি ভাবছো তুমি?কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো।”

মেহেক কফির কাপটা নিয়ে তাকে চুমুক দেয় আর বাইরে দেখতে থাকে।

” আচ্ছা মেহেক তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?”

” বলুন।”

” আচ্ছা তুমি হঠাৎ নিজ শহর ছেড়ে এই অচেনা শহরে এলে কেন?না মানে কোন বিশেষ কারণ আছে?”

” না তেমন কিছু না।আসলে ওখানে এখন আমার তেমন কেউ নেই।বড্ড একা লাগতো ওই শহরে,তাই শহর ছেড়ে চলে এসেছি নিজের একাকিত্ব দূর করার জন্য।”

” হা…..আবার তোমার জ্ঞানী জ্ঞানী কথা।”

মেহেক কিছু না বলে কফির কাপে চুমুক দেয়।

” উহু…উহু….মেহেক।”

” জ্বি।”

” তোমার মুখে কফি লেগে আছে।নাও মুছে নাও।” একটা টিস্যু পেপার বারিয়ে কথাটা বললো সৌন্দর্য।

” এবার ঠিক আছে?”

” না এখনো আছে।”

” কোন দিকে?”

” এইতো বাম দিকে,না না এখনো আছে।একটু উপরে।”

সৌন্দর্য উপরে,নিচে,পাশে বলেই চলেছে কিন্তু মেহেক ঠিক মতো মুছতে পারছেনা।অবশেষে বিরক্ত হয়ে সৌন্দর্য নিজেই টিস্যু দিয়ে কফিটা মুছে দেয়।সৌন্দর্যের কাজে মেহেক কিছুটা অস্বস্তিবোধ করে।

” খাবার সময় মুখে খাবার লাগে কেন?তুমি কি ছোট বাচ্চা?”

” হুম জানেন না আমি কিউট পিচ্চি বাচ্চা।” মজা করে বলে মেহেক।

” ওলে আমার পিচ্চি বাচ্চারে।আসো আমাকে একটু আদর করে দিয়।বাবু তুমি কি চকলেট খাবে?”

” উহু…..লাগবে না আমার চকলেট।”

এভাবেই হাসিমজা করে সময় পার করতে থাকে মেহেক আর সৌন্দর্য।এর মধ্যে মেহেক মুগ্ধ কথা ভুলে যায়।

১ সপ্তাহ পর,

আজ নতুন ভার্সিটিতে মেহেক প্রথম দিন।সৌন্দর্য,মেহেক,রিফা আর স্পর্শ আজও একসাথে ভার্সিটিতে আসে।

” বোনু মেহেকের খেয়াল রাখিস কিন্তু।ও কিন্তু এখানের কিছুই চেনেনা তাই ওকে সবসময় চোখে চোখে রাখবি।”

” আচ্ছা দাভাই।তুমি তোমার ক্লাসে যাও।মেহেককে নিয়ে চিন্তা করোনা আমি আছি তো।”

” সেই জন্যই তো বেশি চিন্তা হচ্ছে।তুই যে শয়তানি করিস।”

” দাভাই,তুমি এভাবে বলতে পারলে।” কিউট ফেস করে বলে রিফা।

” আচ্ছা যা এবার।আমিও গেলাম।মেহেক সাবধানে থেকে।”

রিফা মেহেকের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটা গাছের নিচে এসে দাঁড়ায়।

” কিরে রিফু আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি কেন?ক্লাসে যাবিনা?”

” একটু দাঁড়া,একজনের জন্য অপেক্ষা করছি।”

হঠাৎ কেউ এসে পেছন থেকে রিফাকে জরিয়ে ধরে।

” বেপি আই এম এসে পড়েছি।”

” তোর এতো সময় লাগে আসতে।”

” রাগ করিস না বেপি।আসলে সকালে উঠে দেরি হয়ে গিয়েছে।”

” দেরি তো হবেই।রাতে আরো কে-ড্রামা দেখ আর দেরি করে ঘুমা।তাহলে তো তুই আরো সকালে উঠতে পারবি।”

” ওই আমার কে-ড্রামা নিয়ে কিছু বলবিনা।আচ্ছা এটা কে?”

” ও এ হচ্ছে মেহেক।আমার ভাবীর ছোট বোন আর এখন আমার ফ্রেন্ড।মেহু এ হচ্ছে অথৈ স্টর্ট ফ্রম অথু।”

” আনেং মেহু।(হাই মেহু)”

” এই বেডি বাংলায় কথা ক।মেহু তুই ওর কথায় আবার উল্টাপাল্টা কিছু ভাবিস না।আসলে ও কে-ড্রামা দেখতে দেখতে পাগল হয়ে গিয়েছে।”

” গোয়েনচানা।(ইট’স ওকে)”

” তুইও কোরিয়ান পারিস?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে অথৈ।

” ওই একটু আকটু পারি।”

” বইন প্লিজ তোরা তোদের কোরিয়ান ভাষা বন্ধ করবি?আমি বাঙালি মানুষ আমি বাংলা ছাড়া অন্য ভাষা বুঝিনা সো বাংলায় কথা বলবি।”

” আরাতসোও।(ওকে)” হাসতে হাসতে বলে অথৈ।

” অথু কি বাচ্ছি বাংলায় বল।বলছিনা আমি কোরিয়ান ভাষা বুঝিনা।”

” আচ্ছা আচ্ছা অথু আর কোরিয়ান বলিস না।না হলে দেখা যাবে রিফাকে এখনই মেন্টাল হসপিটালে ভর্তি করাতে হবে।”

” ওকে মেহু সোনা।ওই রিফু আমার জানটা কেমন আছে রে?”

” রিফু অথু কোন জানের কথা বলছে?অথু তোরও কি বয়ফ্রেন্ড আছে?”

” আরে ও ভাইয়ার(স্পর্শ) কথা বলছে।ও তো ভাইয়া উপর ক্রাশ খেয়ে উল্টো পড়ে আছে।”

” তাই নাকি অথু?”

” হুম।” লজ্জা মাখা মুখে মুচকি হেসে বলে অথৈ।

” বাহ্ বান্ধবী তোরা কত ফার্স্ট।তা মিস্টার স্পর্শ কি জানে?”

” না না জানে না।আর ভুলেও তুই ওর সামনে এই কথা বলিস না।না হলে আমি কোনদিনও লজ্জায় স্পর্শের সামনে যেতে পারবোনা।”

” আচ্ছা এসব রাখ।আর আজ তো মেহুর আমাদের ভার্সিটিতে প্রথম দিন,চল ওকে ক্যাম্পাসটা ঘুরিয়ে দেখায়।”

এরপর অথৈ আর রিফা মেহেকের দুপাশে দুটো হাত ধরে তাকে ক্যাম্পসটা ঘুরিয়ে দেখাতে থাকে।

চলবে…….

#কাশফুলের_ভালোবাসা
#পর্বঃ১১
#লেখিকাঃঅনন্যা_অসমি

মেহেক,অথৈ আর রিফা হাঁটাতে হাঁটাতে ভার্সিটির পেছনে চলে আসে।ভার্সিটির পেছনে একটা বড় গাছ আছে,ওখানে বসে আড্ডা দিচ্ছে কয়েকজন।মেহেক একটু ভালো করে দেখলে বুঝতে পারে ওখানে সৌন্দর্য আর স্পর্শ দুজনেই আছে আর স্পর্শ হেসে হেসে কথা বলছে।স্পর্শকে হাসতে দেখে তো মেহেক অবাক কারণ ও এসেছে পর্যন্ত স্পর্শকে একবারো হাসতে দেখেনি।

এসব চিন্তা করতে করতেই কখন যে মেহেক তাদের কাছে চলে এসে বুঝতেই পারেনি সে।

” কিরে তোরা ক্লাসে না গিয়ে ঘুরাঘুরি করছিস কেন?” বলে সৌন্দর্য।

” মেহেককে ভার্সিটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছি আর এখন আমাদের ক্লাস নেই।”

” এই মেয়েটা কে রে সৌন্দর্য?” পাশ থেকে একটা ছেলে বলে।

সৌন্দর্যকে বলতে না দিয়ে রিফা বলে,” ও হচ্ছে মেহেক আমাদের নতুন বান্ধবী।এবার তোমরা তোমাদের পরিচয় দাও।আচ্ছা বাদ দাও আমিই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।মেহু এটা হচ্ছে শান্ত ভাইয়া,এটা আদিব ভাইয়া,এটা মহুয়া আপু আর এটা হচ্ছে লিজা আপু।”

” আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া আপুরা।”

” ওয়ালইকুম আসসালাম ।” সবাই একসাথে বলে।

” মেহেক আজ থেকে তুমিও আমাদের ছোটবোন আর বন্ধু।কোন হেজিটেশন ফিল করোনা আমাদের সাথে কথা বলার সময়।এখানে কিন্তু সৌন্দর্য আমাদের সবার বড় তাও আমরা সবাই অনেক ভালো বন্ধু।” বলে শান্ত।

” আপনারা সবাই একি ক্লাসে না?”

” সৌন্দর্য ছাড়া আমরা বাকি সবাই সেইম ব্যাচ।”

” তা মেহেক তুমি সিঙ্গেল আছো নাকি?” আদিব বলে।

আদিবের কথা শুনে মেহেক ঘাবড়ে যায়।

” ওই তোর না গার্লফ্রেন্ড আছে?” আদিবের মাথায় টোকা দিবে বলে শান্ত।

” আরে আমার গার্লফ্রেন্ড আছে?কে সে?”

” ভাই আজ তোর কপালে সত্যি দুঃখ আছে।লিজা যেভাবে লুচির মতো ফুলছে না জানি কখন পুড়ে যায়।”

আদিব লিজার দিকে একটা কিউট স্মাইল দিয়ে তাকায়।কিন্তু লিজার মুখের ভাব দেখেই তার হাসি উবে যায়।লিজা ফট করে আদিবারের চুল ধরে ফেলে।

” তোর গার্লফ্রেন্ড নাই না?তোর গার্লফ্রেন্ড নাই?তো আমি কে?আমি কি কাজের বেটি জরিনা?”

” ছেড়ে দে মা ছেড়ে দে।”

” কি বললি?আমি তোর মা লাগি।দাঁড়া আজ তোর সাধের চুল আমি সব ছিঁড়ে ফেলবো।তোরে যদি আমি আজ টাকলা না বানিয়েছি তো আমার নামও লিজা না।”

” ভুল হয়ে গেছে গার্লফ্রেন্ড আর জীবনেও এরকম কিছু বলবোনা।সত্যি বলছি।”

” তাহলে বল তোর গার্লফ্রেন্ড আছে?”

” আছে আছে আমার গার্লফ্রেন্ড আছে।”

” আর কোনদিন অন্য মেয়েকে লাইন মারবি?”

” আরে আমি কেন লাইন মারতে যাবো?আমার এতো সুন্দর,ভালো,শান্ত লেজ বিশিষ্ট একটা গার্লফ্রেন্ড থাকতে আমি কেন অন্য মেয়েকে লাইন মারবো?আমি কি এরকম তুমিই বলো বাবু।”

” হুম জানি আপনি কতো ভালো।লুইচ্চা পোলা।আর যদি তোরে আমি অন্য মেয়ের সাথে ফষ্টিনষ্টি করতে দেখেছি তো তোর চুল……”

” না না আর যাই কর প্লিজ আমার চুলরে কিছু করিস না।”

” না কিছু করবো কেন?কিছু করবো না জাস্ট তোর চুলে আগুন লাগিয়ে দেবো।”

এতোক্ষণ নীরবে সবাই আদিব আর লিজার কান্ড দেখছিল এবার লিজার কথা শুনে সবাই একসাথে হেসে উঠে।হাসতে হাসতে হঠাৎ মেহেকের চোখ পড়ে শান্তের উপর।শান্ত কেমন করে যেন অথৈ এর দিকে তাকিয়ে আছে।মেহেক অথৈ এর দিকে তাকিয়ে দেখে সে নিজের মতো হাসতে ব্যস্ত।

রিফা,অথৈ আর মেহেক ক্লাসে দিকে যাচ্ছে।হাঁটতে হাঁটতে মেহেক রিফাকে কানে কানে বলে,

” আচ্ছা রিফু শান্ত ছেলেটা কেমন রে?”

” কেন কি হয়েছে?হঠাৎ এরকম প্রশ্ন করছিস কেন?”

” আরে আমরা যখন হাসাহাসি করছিলাম তখন শান্ত ভাইয়া কেমন করে যেন অথুর দিকে তাকিয়ে ছিল।”

” আরে তুই শান্ত ভাইয়ার ব্যপারে উল্টাপাল্টা কিছু ভাবিসনা।শান্ত ভাইয়া খুব ভালো ছেলে।শোন তোকে একটা সিগরেট বলি।”

” কি?”

” আসলে শান্ত ভাইয়া না অথুকে পছন্দ করে।”

” তোকে বলেছে নাকি?”

” আরে ধুর উনার কি আর কোন কাজ নেই নাকি যে আমাকে বলবে।”

” তাহলে তুই কিভাবে জানলি?”

” আরে ওনার হাবভাব দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে।আর আমিও তো প্রেমে পড়েছি তাই আমি বুঝি কাউকে পছন্দ করলে বা প্রেমে পড়লে তার আচরণ কেমন হয়।”

” ও আচ্ছা।”

” শোন এটা অথুকে বলিস না।”

” কেন?বললে কি হবে?”

” আসলে অথু কেন যেন শান্ত ভাইয়াকে তেমন একটা পছন্দ করেনা।সবসময় এড়িয়ে এড়িয়ে চলে।”

” কিরে তোরা কি এতো ফুসুরফুসুর করছিস?আমাকেও তো বল।”

” কিছু না।চল তাড়াতাড়ি ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে।”

রিফা একহাতে অথৈ আর অন্যহাতে মেহেকের হাত ধরে ক্লাসের উদ্দেশ্যে দৌড় দেয়।
__________________________________________

” কিরে রিফু এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?কারো জন্য অপেক্ষা করছিস নাকি?” রিফাকে জিজ্ঞেস করে মেহেক।

” আরে আমার বাবুর জন্য দাঁড়িয়ে আছে।” মাঝখান থেকে বলে উঠে অথৈ।

” বাবু!”

” এই তোর লজ্জা করেনা নিজের হবু জিজুকে বাবু বলতে?” রেগে অথৈকে বলে রিফা।

” ও মা লজ্জা কেন করবে?সে আমার হবু জিজু হলেও ভাই তো আর না।”

” জিজু আর ভাই সমান।তাই ভাইয়ের নজরে দেখবি।লিচু মেয়ে কোথাকার।”

” হ্যালো গার্লস।কেমন আছো তোমরা?”

” বাবু……।তুমি চলে এসেছো।জানো তোমার জন্য কত অপেক্ষা করেছি আমি।”

” আরে আমার আধিঘরওয়ালি।ও সো সুইট তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করেছো।”

” রিফু এটা কে?” কানে কানে রিফাকে বলে মেহেক।

” এটাই হচ্ছে ইভান।”

” ও আচ্ছা তাহলে এই হচ্ছে অথুর বাবু।”

” ও তাহলে তুমিই মেহেক।তোমার কথা রিফার মুখে অনেক শুনেছি আজ দেখেও নিলাম।হাই আমি ইভান।”

” হ্যালো ভাইয়া।”

” রিফু দেখ আজ আমার বাবুটাকে ওয়ার্ট শার্টে কত কিউট লাগছে।হায় কিসি কি নাজার না লাগে।”

” রিফু তোকে একটা কথা বলবো?রাগ করবিনা তো?” মেহেক বল।

” বল কি বলবি।”

” শোন না তোর বয়ফ্রেন্ডটা না আসলেই অনেক কিউট।পুরোই কিউটের ড্রাম।আমারো এখন বলতে ইচ্ছে করছে হায় কিসি কি নাজার না লাগে।”

রিফা অথৈ আর মেহেকের কথায় কিছু না বললেও সে ভিতরে ভিতরে রাগে ফুসছে।তার ইভানের উপর এতো রাগ হচ্ছে যে ইচ্ছে করছে তাকে কাঁচা চিবিয়ে খেতে।

” দাঁড়া আজ তোর সাজগোজ আমি বার করছি।যেখানে আমাকে নিজের বান্ধবীরা তোর দিকে নজর দিচ্ছে না জানি বাকি মেয়েগুলো তোকে চোখ দিয়ে গিলে খায়।” মনে মনে কথাগুলো বলে রিফা।

” তো গার্লস চলো সামনে কফিশপটাতে গিয়ে বসি।”

” হ্যাঁ হ্যাঁ বাবু চলো চলো।”

” দাঁড়া।শোন তোরা আগে আগে যা,আমার ওর সাথে কিছু কথা আছে।”

” কি কথা তোর বাবুর সাথে?”

” তোকে কেন বলবো?যা বলার আমি ওকে বলবো।তুই এখন মেহেকের সাথে আগে আগে হাঁট আমরা আসছি।”

” আচ্ছা ঠিক আছে।বাবু তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো আমার কাছে।আই মিস ইউ বাবু।মেহু চল।”

মেহেক আর অথৈ যখন কিছু দূরে যায় তখন রিফা চোখ বড় বড় করে ইভানের দিকে তাকাই।

” এই এই।”

” কি হয়েছে?এভাবে ছাগলের মতো ব্যাঁ ব্যাঁ করছো কেন?”

” কি আমি ছাগল।” রেগে বলে রিফা।

” আরে না না আমি ছাগল কেন হবে?তুমি তো মহিষ।” মুচকি মুচকি হেসে বলে ইভান।

” রাখ তোর ছাগল,মহিষ।আমি এই ব্যপারে তোর সাথে পরে কথা বলছি।তার আগে এটা বল এতো সেজেগুজে এসেছিস কেন?”

” কোথায় সাজলাম?আমি কি মেয়ে নাকি যে সাজগোছ করবো?আর তুমি তুই তুই করে কেন বলছো?”

” একশো বার বলবো হাজার বার বলবো।আর তুই বলছিস তুই সাজিসনি।তাহলে জেল দিয়ে চুলগুলো স্টাইল করেছিস কেন?আর এতো সুন্দর করে শার্ট পড়েছিস কেন?”

” ও মা বাইরে একটি একটু পরিপাটি হয়ে আসবো না?”

” রাখ তোর পরিপাটি।এরপর থেকে তুই চুলগুলো কাকের বাসার মতো করে আসবি আর পুরোনো জামাকাপড় পড়ে বের হবি।আর যদি তোকে আমি একটু স্টাইল করে আসতে দেখেছি তো তুই শেষ।”

” কি করবে?”

” বেশি কিছুনা জাস্ট তোর জামাকাপড় গুলো একটু ছিঁড়ে দেবো।তারপর সেসব জামাকাপড় পড়ে দেখি তুই কিভাবে বাড়িতে ফেরত যেতে পারিস।”

রিফার শেষের কথাগুলো শুনে ইভান ভয় পেয়ে যায়।

অন্যদিকে,

” কিরে অথু এইভাবে হাসছিস কেন?”

” হাহাহা…..দেখ রিফু কিভাবে ক্ষেপেছে।”

” তুই শুধু শুধু মেয়েটাকে রাগিয়ে দিলি।দেখ এখন কিভাবে ইভান ভাইকে জাড়ছে।”

” হাহাহা…..কি করবো বল,ওরে ঝালাইতে ভালো লাগে।”

মেহেক আর কিছু না বলে রিফা আর ইভানের দিকে তাকাই।তাদের দেখে মেহেকের মুগ্ধ আর তার কথা মনে পড়ে যায়।সেও এরকম রাগ করতো যদি কোন মেয়ে মুগ্ধের প্রশংসার করতো।

” না না মেহু তুই এসব কি ভাবছিস।ভুলে যা মুগ্ধের কথা।মুগ্ধ বলে কেউ তোর জীবনে ছিল একথা ভুলে যা।”

চলবে……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here