এসো_আমার_গল্পে #পর্ব_০৭,০৮

#এসো_আমার_গল্পে
#পর্ব_০৭,০৮
#আয়ানা_আরা (ছদ্মনাম)
পর্ব_০৭

বিভোর কিছু বলতে যেয়েও বলল না। গম্ভির হয়ে বসে রইলো। স্পর্শীতা একবার আড়চোখে বিভোরের দিকে তাকালো। মনে মনে বলল এই লোক এমন কেনো?কিপটা লোক একটা।

অতঃপর সবার ইচ্ছায় বিভোরকে নিজের টাকায় ওদের জন্য আইস্ক্রিম কিনে দিতে হয়। টাকা খরচ করতে কষ্ট লাগলেও খরচ করতেই হলো নাহলে সবাই ওকে কিপটা ভাববে যে টাকা খরচ করতে চায় না।

.
সবাই তৃপ্তি সহকারে আইস্ক্রিম খাচ্ছে আর বিভোর বাংলার পেঁচার মত মুখ করে আইস্ক্রিম খাচ্ছে। সবাই ওর পকেট খালি করেই ছাড়লো শেষে। সাদাফ বিভোরের মুখ দেখে হেসে বলে,”এমন করে আছিস কেন?পেঁচা একটা!”

বিভোর গরম চোখ করে সাদাফের দিকে তাকায় তা দেখে সাদাফ বলে,”এহ!এমন চোখ করে তাকাইস না ভয় পাই না তোরে আমি!”

বিভোর বলল,”তোকে ভয় দেখানোর জন্য চোখ গরম করি নাই।”

সাদাফ কিছু না বলে হেসে চলে গেলো।

৬.
রাত ১০ঃ০০ টা ছুঁই ছুঁই। সাধারণ দিনে সবাই ৯ঃ০০ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তো কিন্তু বাড়িতে মেহমান আসলে কি তা পারা যায়?তারা তো পারলে ভোর ৫ঃ০০ টা পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে। এইবারো তাই সবাই ঘুমে পড়ে যাচ্ছে আর ওরা গল্প করেই যাচ্ছে কিন্তু স্পর্শীতার চোখ ঘুম নেই ও আগ্রহ নিয়ে ভুতের গল্প করতে ব্যস্ত বিভোরের কাজিনদের সাথে। বিভোর বিরক্ত নিয়ে বসে আছে। এরা আর কতো গল্প করবে?ডিনার করে যেই গল্প শুরু করছে মনে হয় না ভোরের আগে ছাড়া পাবে। কিছুক্ষন চুপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,”আচ্ছা আমি আর স্পর্শীতা ঘুমাতে যাই তোরা থাক।”

বিভোরের এক কাজিন (আহি) বলে উঠে,”তোমার যেতে হলে তুমি নাঈমকে নিয়ে যাও ভাবী আমাদের সাথে থাকবে আজ রাত।”

বিভোর বিরক্তি নিয়ে মুখ থেকে ‘চ’ উচ্চারণ করলো। শান্ত হয়ে স্পর্শীতার হাত ধরে বলল,”উঠো!”

স্পর্শীতা বোকা চোখে তাকিয়ে আছে। কি হচ্ছে এইখানে ও কিছুই বুঝছে না। বিভোর ফের মৃদু স্বরে বলল,”কি হলো দাড়াতে বললাম না?”

বিভোরের কথায় উঠে দাড়ালো না চুপ করে বসে রইলো। সবাই অবাক চোখে বিভোরের দিকে তাকিয়ে আছে। আরেকবার স্পর্শীতার দিকে। স্পর্শীতার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বিভোর রেগে ওকে পাঁজকোলে তুলে নেয়। আকস্মিক ঘটনায় সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। হা হয়ে বিভোরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। নাঈম বলে উঠে,”বিভোর দেখি বউয়ের আঁচল ছাড়তেই রাজী না।”

ওর কথায় সবাই হেসে কুটিকুটি।

স্পর্শীতাও এইরকম ঘটনায় লজ্জায় পড়ে যায়। ছি ওরা কি ভাববে?স্পর্শীতা বিভোরের বুকে কিল,চিমটি যা আছে সব দিতে থাকে তাও যেনো কোনো লাভ হয় না। স্পর্শীতা আশে পাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে এইখানে কেউ আছে কিনা। কেউ নেই দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। বিভোর ওকে রুমে এসে নামিয়ে দেয়। স্পর্শীতা ক্ষিপ্ত গলায় বিভোরকে বলে,”আজব তো!হঠাৎ কোলে নেওয়ার মানে কি?আমাকে কি কাঠপুতুল পেয়েছেন আপনার হাতের?যেইভাবে ইচ্ছে সেইভাবে চালাবেন।”

স্পর্শীতার কথা ভ্রুক্ষেপ না করে রুমে ঢুকলো। স্পর্শীতা রাগে ফুসফুস করতে করতে রুমে গেলো। স্পর্শীতার ঢুকতেই বিভোর বলল,”সমস্যা কি?সবার সাথে এতো বন্ধুত্ব করতে হবে না।”

স্পর্শীতা ছোট ছোট চোখ করে বিভোরের দিকে তাকিয়ে বলে,”আমি যার সাথে ইচ্ছে কথা বলল আপনি কে নাক গলানোর?”

বিভোর একবার স্পর্শীতার দিকে তাকিয়ে ওর দিকে এগিয়ে এসে ঝুঁকে বলে,”হাসবেন্ড!তোমার হাসবেন্ড আমি।”

বিভোরের কথায় স্পর্শীতা মুখ ঘুরিয়ে বলে,”এক বছর আগে কোথায় ছিলেন?তখন মনে ছিলো না আপনি আমার হাসবেন্ড!”

বিভোর সরে দাঁড়িয়ে বলে,”তোমার সেটা না জানলেও চলবে ঘুমাতে যাও।”

স্পর্শীতার রাগে গা থরথর কাঁপছে। প্রথমে প্রশ্নের উত্তর দিলো না আবার বলছে ঘুমাতে যাও!হুহ! মনে মনে বিভোরকে কঠিন উপাধি দিলো। মুখে তা বলল না শুধু বলল,”অসম্ভব আমি শুতে পারবো না আপনার সাথে এক বিছানায়।”

বিভোর হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে বলে,”এক্টিং করো না। কাল যেইভাবে শুয়েছিলে সেইভাবেই শুবে।”

স্পর্শীতা আমতা আমতা করে বলে,”কাল কোনো উপায় না পেয়ে শুয়েছিলাম।”

বিভোর ভ্রুকুচকে বলে,”আজ ঘুমানোর জন্য কি কোনো উপায় পেয়েছো। আমি কিন্তু আমার বিছানায়ই শুবো এখন তুমি কোথায় শুবা তুমি জানো।”

কথাগুলো বলতে বলতে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। স্পর্শীতা কিছুক্ষন চিন্তা করে বিভোরের মাথার পাশের একটা বালিশ আর আলমারি থেকে কিছু একটা বের করে মেঝেতে পেতে শুয়ে পড়ে। বিভোর না পেরে উচ্চস্বরে হেসে উঠে। এই মেয়ে এখন মেঝেতে শুবে?

স্পর্শীতা বিভোরের দিকে তাকিয়ে বলে,”হাসছেন কেনো?আমি কি কোনো হাসির কথা বলেছি?”

বিভোর হেসে বলল,”তুমি এখন মেঝেতে শুবা?লাইক সিরিয়াসলি!”

স্পর্শীতা বলল,”আপনার সাথে এক বিছানায় শোয়া থেকে এইটা এক হাজার গুণ ভালো।”

বিভোর ঠোঁট হেসে বলল,”দেখা যাক!”

স্পর্শীতা বিভোরের কথার মানে বুঝলো না চুপ করে রইলো।

প্রায় এক ঘন্টা ধরে ও এপাশ ওপাশ করছে কিন্তু চোখ লেগে আসলেও একটুর জন্য ভেঙে যাচ্ছে। দুঃখে কান্না পাচ্ছে ওর। এখন না ঘুমালে কালকএ দ্রুত উঠতে পারবে না। উঠতে না পারলে বকাও খেতে পারে তার শাশুড়ির কাছে। আবার কালকে ওর বিভোরের আত্মীয় স্বজনেরা চলে যাবে। রান্নাও তার করতে হবে।কেনো জানি স্পর্শীতার ইচ্ছে করছে নিজের চুল ছিড়তে।

প্রায় আধা ঘন্টা পর স্পর্শীতা ঘুমাতে সফল হয়।
____________

সকালে উঠে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। ও তো মেঝেতে শুয়েছিলো তাহলে কে বিছানায় শুয়েছে?বিভোর না তো। পাশে তাকাতেই বিভোরকে না দেখতে পেয়ে বুঝতে পারলো ওকে বিভোর বিছানায় এনে শুয়েছে। নিজের ফোনে টাইম দেখে বুঝলো আজ উঠতে দেরী করে ফেলেছে ও।দ্রুত বিছানা থেকে উঠে কোনো মতে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো। আজ হয়তো তার নিস্তার নেই ওই শাশুড়ির হাত থেকে। নিচে যেয়ে দেখলো সবাই ব্রেকফাস্ট করতে বসে পরেছে। ভয়ে স্পর্শীতার কলিজার পানি শুকিয়ে গেলো। এখনই বকা খাবে। ওকে অবাক করে দিয়ে ওকে ইশারা করে সবাই খেতে ডাকলো। ভয়ে ভয়ে সামনে গেলো।কিন্তু কেউ ওকে কিছু বলল না দেখে মনে মনে অনেকটাই শান্তি পেলো।

নাস্তা করে কিচেনে এসে দেখলো রান্নার তোড়জোড় চলছে। ও কিছু করতে গেলে ওর শাশুড়ির গম্ভির স্বরে বলা কথাটা কানে আসলো,”তোমার কিছু করতে হবে না আর তোমার শশুড় তোমাকে ডেকেছিলো তুমি বরং তার কাছে যেয়ে জিজ্ঞেস করো কেনো ডেকেছিলো!”

স্পর্শীতা মাথা নেড়ে কিচেন প্রস্থান করলো। তাহসীন সাহেবের রুমের উদ্দেশ্যে বের হয়। ভাবছে তাকে কেনো ডেকেছিলেন তিনি?কিছু কি হয়েছে। ভাবতে ভাবতে তাহসীন সাহেবের রুমের সামনে এসে দাড়ালো। কড়া নাড়তেই কেউ ভিতরে আসতে বলল। ভিতরে ঢুকলো ও। তাহসীন সাহেবের উদ্দেশ্যে বলল,”ডেকেছিলেন?”

তাহসীন সাহেব ইশারা করে বললেন সোফায় বসতে। উনার ইশারা পেয়ে স্পর্শীতা সোফায় যেয়ে বসলো। নতজানু হয়ে হাত কচলাতে লাগলো। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। তাহসীন সাহেব এমন কিছু বললেন যা শুনে স্পর্শীতার খুশিতে নাঁচতে ইচ্ছে করছে। এতোটা খুশি ও জীবণেও হয়নি। খুশি মনে বের হয়ে কাউকে দেখে ভীষণ অবাক হলো। উনি এইখানে কেনো?এতো অবাক হলো যেনো ওকে এইখানে আশা করে নি। ও ব্যক্তিটির উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করলো,”আপনি এইখানে কেনো?”

“আমার বাসা এটা তাই না?আমি এইখানে আসতে পারি না?”

স্পর্শীতা জোরপূর্বক হেসে বলল,”না মানে….

#এসো_আমার_গল্পে
#Part_08
#Writer_Ayana_Ara (ছদ্মনাম)

স্পর্শীতাকে সম্পূর্ণ কথা শেষ না করতে দিয়ে বিভোর বলে উঠলো,”কি আসলে নকলে করছো?আমি তোমাকে আসলে নকলস করতে বলে নি যা সোজাসুজি বলেছি তার উত্তর দেও।”

“সেটাই এতক্ষন ধরে বলতে চাচ্ছি বলতে তো দিচ্ছেন না উলটা আমার সময় নষ্ট করছেন!”

বিভোর ভ্রুকুচকে বলে,”বাহ আমার চোখে চোখ রেখেও কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন না মিসেস বিভোর।”

স্পর্শীতা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,”আপনি কোনো ভাল্লুক বা বাঘ নয় যে আপনার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হয় পাবো বুঝলেন মিস্টার বিভোর।”

স্পর্শীতার এহেন কথায় বিভোর ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।মেয়েটাকে যত বোকা ভেবেছিলো ততটা বোকা না। স্পর্শীতা বিভোরের পাশ কেটে যেতে নিলে বিভোর হাত ধরে বলে,”আগে বলে যাও এইখানে কেনো এসেছিলে।”

“বলতে ইচ্ছে করছে না।”

বিভোর বলল,”তোমার ইচ্ছে অনিচ্ছা দিয়ে আমার কিছুই আসে যায় না।”

স্পর্শীতা এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে বলে,”তাতে আমার কি?আমি তো বলবো না সাহস থাকলে নিজে ভিতরে যেয়ে জিজ্ঞেস করেন কেনো এসেছিলাম।’

গটগট পায়ে চলে গেলো। বিভোর হেসে দরজার ওপার থেকে সরে আসলো। সবই শুনেছে ও আর এটাও জানে কেনো স্পর্শীতাকে এতো হাসি খুশি দেখাচ্ছে। খালি ওকে জ্বালাতে ওর ভালো লাগে।

স্পর্শীতা কিচেনে এসে রাগে কাঁপছে। কেনো রাগ লাগছে নিজেও জানে না হয়তোবা এতক্ষন যা হলো তার জন্য বিভোরের উপরে রাগ করেছে। কিন্তু এতে বিভোরের কি যায় আসে?রুমা স্পর্শীতাকে রেগে থাকতে দেখে ওর কাছে বলে,”নতুন ভাবী?রাইগা আছো কেন?বিভোর ভাইজান কিছু কইছে।”

স্পর্শীতা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল,”না?কি বলবে আমাকে?”

স্পর্শীতা চাচ্ছে না এতক্ষন যা হলো তা কেউ জানুক আর রুমা জানা মানে পুরো পৃথিবী জানা তাই আরো চাচ্ছে না রুমাকে কিছু বলতে। এমন ভান করছে যেনো কিছুই হয়নি। রুমা সন্দিহান চোখে স্পর্শীতাকে একনজর দেখলো। স্পর্শীতা বুঝতে পেরে রুমার দিকে হাসলো।

“আজ তুমি রান্না করবে?নাকি আমি?”

“বড় ম্যাম সাহেবকে জিজ্ঞেস কইরা আসি।উনি যদি কয় আমি তাইলে আমি রানমু নাইলে তুমি।”

রুমা জিজ্ঞেস করতে চলে গেলো শেফা আক্তারের কাছে। স্পর্শীতা যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো।

কিছুক্ষন পরেই রুমা আসলো। বলল,”আইজকা আর তোমার রান্না করা লাগবো না আমিই করমু।”

“সাহায্য তো করতে পারি?”

স্পর্শীতার এখন কিছু করার নেই শুধু শুধু বসে থাকার চেয়ে ভালো রুমার কাজে হালকা পাতলা সাহায্য করুক। আর ও নিজেও বিভোরের মুখোমুখি হতে চাচ্ছে না আপাতত।

রুমা মানা করা সত্ত্বে করতে চাইলো তাই আর পরে রুমা মানা করলো না।

রুমাকে রান্নার কাজে সাহায্য করলো যার জন্য খুব দ্রুতই রান্না শেষ হলো। বিকালের দিকে মেহমানরা চলে যাবে সাথে সাদাফ আর তানহাও যাবে। ওদের থাকতে বলে ওরা মানা করে। কেউ আর জোর করে নি থাকার জন্য।

টেবিলে সব পরিবেশন করে সবাইকে ডাকলো। সবাই খেতে বসে টুকটাক গল্প করতে থাকে। স্পর্শীতাও ওদের সাথেই খেতে বসে। খাওয়া শেষে সব কিচেনে রেখে গোছগাছ করে রুমে আসে। রুমা না করেছিলো কিন্তু স্পর্শীতা করতে দেয়নি বরং ওকে ঠেলে ওর রুমে পাঠিয়ে দেয়।

হল রুমে যেয়ে দেখলো সবাই বসে গল্প করছে। এক পর্যায়ে তাহসীন সাহেব বিভোরের উদ্দেশ্যে বলে,”অনেকদিন’ই বিশ্রাম নিলে। এইবার একটু অফিসে এসে আমার কাজে টুকটাক সাহায্য ও তো করতে পারো।”

ভ্রুকুচকালো বিভোর।

“হ্যা পারি!”

“মুখে বললেই তো হলো না!”

শেফা আক্তার পরিস্থিতি সামাল দিতে বলে উঠেন,”আহা এইসব বিষয় এখন ছাড়ো তো!এইসব নিয়ে পরেও কথা বলা যাবে!”

“তোমার ঘাড়ত্যাড়া ছেলেকে বলে দিও আমার কথাই শেষ কথা। স্পর্শীতাদের বাড়ি থেকে এসে যেনো আমার সাথে অফিসে যায় কাজ করতে।”

কর্কশ গলায় কথাটা বলে উঠে চলে গেলেন। বিভোর চুপচাপ বসে ফোন টিপতে থাকে। এমতাবস্থায় স্পর্শীতার হাসি পেলো। ঠোঁট চেপে হাসি সামলালো। মনে মনে বলল,”কি ছেলে রে!এতো কথার পরও অতি সুখে ফোন টিপছে।”

স্পর্শীতা বিভোরের দিকে ধ্যান দিলো না আর।

.
বিকাল হতেই এক এক করে সব মেহমান যেতে লাগলো। স্পর্শীতার এখন পুরো বাড়ি খালি খালি লাগছে আগে তানহা আর মায়ার সাথে কত কথা বলতো কিন্তু তানহা আর সাদাফ তো চলে গিয়েছে। এখন শুধু ওর সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য মায়া রয়েছে। স্পর্শীতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়ার রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো।

৭.
পরেরদিন খুব দ্রুতই ঘুম ভাঙ্গলো স্পর্শীতার। হয়তোবা নিজের বাড়ি যাবে ভেবে। হাসি মনে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নেয়। বিভোরকে ডাকার সময় মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধি তৈরি করলো।

নিজের ফোনে ৫ সেকেন্ডের টাইমার সেট করে সাউন্ড বাড়িয়ে বিভোরের কানের পাশে রেখে দ্রুত বেরিয়ে আসলো। বেরিয়ে আসতে চিৎকার শুনে পিছনে ফিরলো। ভয়ে আত্মা কেঁপে উঠলো স্পর্শীতার। বিভোর ভয় পেয়েছে আওয়াজে?দ্রুত কাছে যেয়ে ব্যস্ত গলায় বলল,”কিছু কি হয়েছে আপনার?ভ-য় পেয়েছেন!”

বিভোর ধীর গলায় বলে,”কিসের আওয়াজ ছিলো ওটা?”

বিভোরের বলতে বলতে ওর চিৎকার রুমের ভিতর তড়িঘড়ি করে সবাই ঢুকল। শেফা আক্তার ছেলেকে দেখে কাছে এসে বলেন,”কি হয়েছে বিভোর?কিছু কি হয়েছে চিৎকার করলি কেন?”

বিভোর কিছু বলল না। শেফা আক্তার স্পর্শীতার কাছে এসে ওর দুবাহু ধরে ঝাঁকিয়ে বলে,”কি করেছ তুমি?এমন করলো কেনো ও?বলো!”

স্পর্শীতা ভয়ে পেয়ে সব খুলে বলল। সব শুনে মায়া এগিয়ে এসে বলল,”তোমার উচিত হয়নি এমন করা! ছোট বেলা থেকেই কোনো শব্দ জোরে হলে ভাইয়া খুব ভয় পায়। আর তুমি তো ফোনটা তার কানের সামনে রেখে দিয়েছিলে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিকই।”

মায়ার কথায় স্পর্শীতা ভয় পেলো। মনে মনে এক অপরাধবোধ কাজ করলো। এমনটা না করলেও পারতো ও। শুধু শুধু লোকটাকে কষ্ট দিলো।

শেফা আক্তার বিভোরের পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে বলল,”মায়া যা পানি নিয়ে আয় বিভোরের জন্য।”

মায়া যেতেই শেফা আক্তার স্পর্শীতার দিকে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন যা তাহসীন সাহেবের চোখে এড়ায় নি তিনি শেফা আক্তারের উদ্দেশ্যে বললেন,”বাদ দাও কাহিনিটা ও৷ কি জানতো নাকি?”

শেফা আক্তার কর্কশ গলায় বলেন,”না জানলেও কি করা লাগে এইগুলা?”

“ছোট মানুষ বুঝে নি হয়তো। তোমার এতটা রিয়েক্ট করা উচিত না।”

শেফা আক্তার কিছু বলতে যাবেন তার আগেই মায়া অয়ানি নিয়ে এলো। উনি বিভোরকে পানি খাইয়ে মাথা একটা বালিশের সাথে ঠেকিয়ে দিলেন। উঠে স্পর্শীতার কাছে এসে গম্ভির গলায় বললেন,”আজ বিভোর অসুস্থ আজ তোমার আর ও কোথাও যাওয়া হবে না। বুঝতে পারলে কি বলতে চাচ্ছি আমি?”

মনে মনে স্পর্শীতা মন খারাপ করলেও কিছু বলল না। ওরই দোষ সব!না এমন কিছু করতো আর না বিভোর অসুস্থ হতো। খুব কান্না পেলো। নিজেকে সামলে শেফা আক্তারের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে গেলে। বিভোর ধীর গলায় বলে উঠে,”আমি ঠিক আছি। হালকা বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবো। এতো চিন্তা করো না। আর স্পর্শীতা একটু পরই আমরা বের হবো যা ব্যাগ গুছিয়ে ছিলে তা আবার ঢুকিয়ে রেখো না আলমারিতে।”

শেফা আক্তার বাঁধা দিয়ে বললেন,”তুই অসুস্থ হয়ে পরেছিস বুঝলি?তাও কিভাবে যেতে চাস বলছিস?কোথাও যেতে দিবো না তোকে এই অবস্থায়।”

বিভোর শুনলেও তা কানে না নিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলো যেনো ও কিছু শুনেই নি।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here