ইনসাইড_দ্যা_ডোর #পর্ব_৪_৫_ও_৬ লেখিকা_সাইবা_চৌধুরী

ইনসাইড_দ্যা_ডোর
#পর্ব_৪_৫_ও_৬
লেখিকা_সাইবা_চৌধুরী
__________________
শাড়ী পড়ানো শেষে সুন্দর ভাবে খোঁপা করে বেলীফুলের মালাটা খোঁপায় জড়িয়ে দেয় সোহান। নীল চুড়িগুলো খুলে একটা একটা করে হাতে পড়িয়ে দেয়। কাটা হাতে চুড়ি পড়াতে গিয়ে দুচোখ পানিতে ভরে ওঠে সোহানের।
অভিমানের সুরে তাবিয়াকে বলে,
-তোমাকে দেখাশোনা করার জন্য এ বাসায় এতো মানুষ থাকা সত্তেও তোমার রুমের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনটা কি বলো তো?
তাবিয়া সোহানের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না।
সবকিছু পরিয়ে দেয়ার শেষে তাবিয়াকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় সোহান। তাবিয়াকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকে।
” সবকিছু ঠিকঠাক শুধু একটা কমতি, তোমার কপালে ছোট্ট একটা টিপ। ”
নীল রঙের ছোট্ট একটা টিপ পড়িয়ে সোহান বলে,
“এখন তোমাকে পরিপূর্ণ লাগছে নীলপরি। আজ তোমাকে নিয়ে সুন্দর একটা জায়গায় ঘুরতে যাবো। বাসায় থেকে থেকে অনেক গম্ভীর হয়ে যাচ্ছো। তুমি একটু বসো আমি ঝটপট তৈরি হয়ে আসি।” তাবিয়াকে বিছানায় বসিয়ে রেখে ডাঃ সোহান ওয়াশরুমে চলে যায়।
অনুভূতিহীন হয়ে বসে থাকে তাবিয়া। বিছানায় বসে বসে নিজের কাছে প্রশ্ন রাখে, “ভালোবাসা খোঁজে তো কতো জনে , কিন্তু এমন অভিশপ্ত ভালোবাসা কি কেউ চায়? অভিশপ্ত ভালোবাসা কেন বলি!ভালোবাসা কি কখনো অভিশপ্ত হয়?
যেই ভালোবাসাকে অভিশপ্ত মনে হবে সেটা ভালোবাসা কিভাবে হয়? ”
আবারও কয়েকফোঁটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে তাবিয়ার।
.
.
.

তাবিয়া ব্যান্ডেজ করা হাতটা শাড়ির আঁচল দিয়ে ভালো করে ঢেকে দেয়। বাসায় তালা দিয়ে তাবিয়াকে নিয়ে বাইরে পা বাড়ায় সোহান।
গেটের কাছে যেতেই একটা মেয়ের সাথে খুব জোরে ধাক্কা লাগে তাবিয়ার। ধাক্কা সামলে উঠতে না পেরে প্রায় পরেই যাচ্ছিলো তাবিয়া। সোহান দু’হাতে শক্ত করে জাপ্টে ধরে তাবিয়াকে। ব্যাথায় কুঁকড়ে ওঠে তাবিয়া। সোহান প্রচন্ড রাগ নিয়ে ভয়ংকর অগ্নি দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকায়। কালো শার্ট ও টাইট জিন্সের প্যান্ট পরা মেয়েটি। চোখে কালো সানগ্লাস ও কাঁধে ঝোলানো ছোট একটা ব্যাগ। চুলগুলো ববকাট দেওয়া। সোহানকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অপরিচিত মেয়েটি সানগ্লাসটি খুলে হাতে নেয়। তার মাঝে কোনো ভয়ের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
নিজের ভুলের জন্য দুঃখিত জানাতে তাবিয়ার কাছে এগিয়ে যেতেই সোহান তাবিয়াকে নিজের আরো কাছে টেনে নিয়ে বিরক্তির দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটিও আর কিছু না বলে সোহানের দিকে তাকিয়ে একটু হাসি দিয়ে সানগ্লাসটি পড়ে ভেতরে চলে যায়।
.
.
.
.
চারতলার জানালা দিয়ে সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করছিলেন সাহেরা বেগম। আরিকাকে আসতে দেখে সাহেরা বেগম খুব খুশি হন। আরিকা হলো সাহেরা বেগমের বান্ধবী জোহরা চৌধুরীর মেয়ে।
প্যারানরমাল কোনো ঘটনা ও রহস্যের পেছনে ছুটে বেড়ানোই তার কাজ। ইতিমধ্যে প্যারানরমাল বিষয়ক অনেক জ্ঞান ও সে অর্জন করেছে। আরিকার মতে , যেখানে পজিটিভ আছে সেখানেই নেগেটিভ অস্তিত্ব বিদ্যমান। দোতলার ওই বাসা নিয়ে বরাবরই বেশ চিন্তায় ছিলেন সাহেরা বেগম। ডাঃ সোহান আসার পর থেকে সবকিছু তার কাছে আরো বেশি অদ্ভুত লাগছে।তিনি এ সবকিছু আলোচনা করেন তার বান্ধবী জোহরা চৌধুরীর সাথে। তার কাছ থেকেই সবকিছু জানতে পারে আরিকা। পুরো বিষয়টির মাঝে অদ্ভুত এক রহস্যের গন্ধ পায় সে। সবকিছু শোনার পরে আরিকা নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে ছুটে চলে আসে রহস্যের টানে।
.
.
.
.
বাসায় ঢুকেই আরিকা সাহেরা বেগম ও আতিক সাহেবকে সালাম জানায়। আতিক সাহেবকে দেখে আরিকা দোতালার ঘটনার বিষয়ে কোনো কথা বাড়ায় না। সাহেরা বেগম আরিকাকে রুমে গিয়ে রেস্ট নিতে বলে। আতিক সাহেবকে জানায়,
-“পাশেই একটা কাজে এসেছে আরিকা৷ জোহরা বললো আশেপাশে একটা হোটেলে থাকবে। আমাদের বাসা এতো কাছে থাকতে ও একটা হোটেলে থাকবে ব্যাপারটা কি ভালো দেখায় বলো? তাই আমি জোর করেই বললাম,কাজ শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের এখানে থাকতে।”

“বাসা তো ফাঁকাই পড়ে থাকে। ও আসাতে তো ভালোই হলো। তোমার একাকিত্বটা একটু কমবে” সাহেরা বেগমকে কথাগুলো বলে এ বিষয়ে আর কোনো কথা বাড়ালো না আতিক সাহেব।
.
.
.
.
আসরের নামাজের জন্য মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলেন আতিক সাহেব। এই সুযোগে আরিকা সাহেরা বেগমের কাছে আসে।
“আন্টি আপনাকে যেটা বলেছিলাম মনে আছে? আমি যদি ভুল না হই, একটু আগেই হয়ত ডাঃ সোহান ও তার স্ত্রী বের হয়েছে। দেখে মনে হলো,হাতে বেশ সময় নিয়েই বের হয়েছে। ফিরতে অনেক সময় লাগবে তাদের। এটাই সুযোগ।
দোতলার ডুপ্লিকেট চাবিটা আমাকে দিন। আমি ফিরে আসা অব্দি জানালা দিয়ে গেটের দিকে লক্ষ্য রাখা আপনার কাজ।”
কথাগুলো বলে আরিকা হাঁপাতে থাকে৷ এবার একটু বেশিই এক্সাইটেড সে। সোহানের অগ্নিদৃষ্টিতে অনেক রহস্যের আনাগোনা দেখেছে আরিকা। যে করেই হোক ও যত দ্রুত সম্ভব এ রহস্যের শেষ পর্যন্ত যেতেই হবে তাকে।
সাহেরা বেগম দোতলার ডুপ্লিকেট চাবিটা আরিকার দিকে এগিয়ে দেয়। আরিকাও আর দেরি না করে ব্যাগ থেখে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।
.
.
.
.
দোতলার দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই একঝাঁক অন্ধকার এসে আরিকাকে জাপ্টে ধরে। চোখে অন্ধকার সয়ে এলে দরজা ঠেলে দিয়ে ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করে সে। দিনের বেলায়ও বাসা কতোটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। মাঝে মাঝে অল্প আলোর ছোট ছোট দু একটা লাল লাইট জ্বলছে। লাল লাইটের মৃদু আলো পরিবেশটাকে আরও বেশি ভয়ংকর করে তুলেছে। আরিকার ভেতরে অনেক উত্তেজনা কাজ করতে লাগলো। সে ধীরপায়ে এগিয়ে গেলো লিভিং রুমের দিকে। লিভিং রুমে ঢুকেই আরিকার বুকটা ধুক করে কেঁপে উঠলো। আরিকা দেখলো লিভিং রুমের সোফায় বসে আছে একজন বয়স্ক মহিলা। পড়নে সুন্দর একটা শাড়ী ও দামি দামি কিছু গহনা।
“কিন্তু আন্টি তো বলেছিলো এই বাসায় ডাঃ সোহান ও তার স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ থাকে না!” বিশাল এক দ্বিধায় পরে যায় আরিকা। কোনো নড়াচড়া ও শব্দ না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। কিন্তু মহিলাটির মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখতে পায় না সে৷ পলকহীন চোখে একদিকে তাকিয়ে তখন থেকে একইভাবে বসে আছে। হঠাৎই আরিকার মনে পড়ে যায় সাহেরা বেগমের বলা সেই পুতুলের কথা যেগুলো দেখতে একদমই মানুষের মতো। আরিকা একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। তবে এনাকে দেখে কোনোভাবেই পুতুল মনে হচ্ছে না৷ বিষয়টা ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখতে আরিকা পুতুলটার কাছে এগিয়ে যায়। নাহ! এটা সত্যিই প্রাণ হীন।
কিন্তু এটাকে কাছ থেকে দেখে পুতুল বলা একদমই অসম্ভব। ভয়ে ভয়ে পুতুলটার চোখের দিকে টর্চের আলো ফেলে। আলো ফেলতেই আরিকার পুরো শরীর কাঁপতে থাকে। সে ভালো করেই বুঝতে পারে এটা কোনো সাধারণ পুতুল নয়। এটার চোখ কোনো পুতুলের চোখের মতো নয় চোখগুলো দেখতে জীবন্ত মানুষের মতো৷ আরিকা ভয়ে দু’পা পিছিয়ে যায়। তবে ভয় পেয়ে থেমে থাকার মতো মেয়ে আরিকা নয়৷ এই রহস্যের শেষ পর্যন্ত সে গিয়েই ছাড়বে এতে যত বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হয় হোক।

আস্তে আস্তে আরিকা বাসার আরও ভেতরে প্রবেশ করে। সাহেরা বেগমের কথা অনুযায়ী বাসাতে দু’টো পুতুল থাকার কথা । কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় এমন পাঁচটি পুতুল সে দেখতে পায়।এর ভেতরে দুটো পুতুল মহিলাদের অবয়বে তৈরি।কিন্তু দুজনের চেহারা ভিন্ন। দ্বিতীয় মেয়ে পুতুলটা রান্নাঘরে দাঁড় করানো অবস্থায় দেখতে পায়। বাকি তিনটাই পুরুষ পুতুল। এর ভিতরে একটা বয়স্ক পুরুষ পুতুল হাতে নিউজ পেপার নিয়ে চেয়ারে বসে আছে। আরিকা সবচেয়ে অবাক হয় নিউজ পেপারটি দেখে। পেপারটি আজকে সকালেরই। দেখে মনে হচ্ছে পুতুলটি খুব মনোযোগ দিয়ে পেপার পড়ছে।
আরেকটি পুতুল দেখে আরিকা শিউরে ওঠে।
২৬/২৭ বয়সী একটা ছেলের পুতুল। পুতুলটার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গভীরভাবে কাটার দাগ।
পুতুলটার দুটো চোখ নেই। দুহাতের ৪ টা আঙ্গুল কাটা।
বাকি একটি পুতুল হুবহু সুমনের মতো। আরিকা ধারণা করে এ পুতুলের সাথে হয়ত সুমনের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার মাঝে কোনো না কোনো সংযোগ আছে। এই বাসাটা কেন এতো ভয়ংকর ভাবে রাখা হয়েছে! এভাবে সাজানোর পেছনে কারণটাই বা কি, তা জানতেই হবে আমাকে।
মনে মনে কথাগুলো বলে এগিয়ে যায় অন্য একটি রুমের দিকে। চারদিকে টর্চের আলো ফেলে বুঝতে পারে এটি বেডরুম। টর্চের আলো বিছানায় ফেলতেই আরও একবার কেঁপে ওঠে আরিকা। সে দেখতে পায়, তাজা রক্তে বিছানা ভিজে আছে। “কার হতে পারে এই রক্ত?”
নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন রাখে আরিকা।
হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৬:২৫ বেজে গেছে। এখানে বেশিক্ষণ থাকাটা ঠিক হবেনা।
তবে এ বাসায় অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে এখনো, যেগুলো একদিনে বের করা সম্ভব না। আরিকা সাথে করে আনা স্পাই ক্যামেরা সতর্কতার সহিত বাসায় সেট করে দ্রুত বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হয়ে আরিকা লম্বা একটা নিঃশ্বাস নেয়৷ সে লক্ষ্য করে এখনো তার পা দু’টো কাঁপছে। ঘামে ভিজে আছে পুরো শরীর।
.
.
.
.
সন্ধ্যা ৭:১৫।
ডাঃ সোহান, তাবিয়াকে নিয়ে বাসায় ফিরে আসে।
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে সোহান থমকে দাঁড়ায়। তাবিয়াকে রুমে যেতে বলে গম্ভীর ভাবে লিভিং রুমে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সোফায় বসে থাকা পুতুলটার দিকে দৌড়ে চলে যায়। পুতুলটার পাশে বসে পুতুলের হাত ধরে বলে,
-তোমাদের বিরক্ত করতে আবার বাসায় কেউ এসেছিলো তাই না মা?
তুমি রাগ করো না, এতে তো ভালোই হলো তোমাদের মাঝে আরও একজন সদস্য বাড়তে চলেছে।
.
.
.
.
.
#পর্ব_৫
__________________
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ায় সোহান। তাবিয়াকে বেড রুমে যেতে বলে গম্ভীর ভাবে ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে থাকে সে। কিছুক্ষন এদিক সেদিক তাকিয়ে,বাতাসে গন্ধ শুঁকে সোফায় বসে থাকা পুতুলটার দিকে দৌড়ে যায় সোহান। পুতুলের পাশে বসে হাত ধরে বলে,
-তোমাদের বিরক্ত করতে আবার বাসায় কেউ এসেছিলো তাই না মা?
তুমি রাগ করো না, এতে তো ভালোই হলো তোমাদের মাঝে আরও একজন সদস্য বাড়তে চলেছে।
সোহান এমন আরও নানাধরণের গল্প করতে থাকে পুতুলের সাথে। সোহানের বলা কথাবার্তা এবং করা কাজ সবকিছুই ভিডিওতে দেখছিলো আরিকা। স্পাই ক্যামেরা সেট করে আসায় ভালোই হয়েছে তার। রহস্যের অনেক জট খুলতে সাহায্য করবে এটি। সোহানের কথাবার্তা ও কাজ দেখে আরিকা বুঝতে পারে সোফায় বসা একজন মহিলার অবয়বে তৈরি পুতুলটা ডাঃ সোহানের মায়ের। তবে একটা বিষয়ে আরিকা বেশ অবাক হয়৷
“বাসায় কেউ ঢুকেছিল সেটা কি করে জানতে পারলো ডাঃ সোহান?
তাহলে কি তাড়াহুড়োয় কোনো প্রমাণ রেখে এসেছি আমি!” নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন রাখে আরিকা।
“যদি তাই হয় তাহলে রহস্যের শেষ পর্যন্ত যেতে অনেক বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।”
.
.
.
.
পরদিন সকাল।
ঘুম থেকে উঠে পাশ ফিরে তাবিয়াকে দেখতে না পেয়ে সোহান খুব বিরক্ত হয় । রুমের চারপাশে চোখ বুলিয়েও তাবিয়ার দেখা পায় না। বিছানা ছেড়ে উঠে সোহান বেলকনির দিকে পা বাড়ায়।
সেখানে গিয়ে সোহান দেখতে পায়, তাবিয়া বেলকনির গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার দুচোখ বেয়ে অনবরত পানি পড়ছে। তাবিয়াকে এভাবে কান্নারত অবস্থায় দেখে সোহান প্রচন্ড রেগে যায়। পেছন থেকে তাবিয়ার চুল মুঠো করে ধরে টানতে টানতে রুমের ভেতরে নিয়ে আসে। আচমকা ঘটনাটি ঘটে যাওয়ায় তাবিয়া বেশ ঘাবড়ে গেলো। সোহান সচরাচর এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে না। সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়েছিলো তাবিয়া।
“সকাল সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনে না। কারও কারও কাছে প্রতিদিনের মতো আরও একটি বিষাদময় দিনের শুরু মাত্র। ”
তাবিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দেয় সোহান।
এরপর এক হাত দিয়ে তাবিয়ার ঠোঁট দুটো চেপে ধরে বলে,
-“তোমার প্রাক্তন রাকিবের কথা খুব মনে পড়ছে তাই না! খুব কষ্ট হয় তার জন্য? এজন্যই সকাল সকাল বেলকনিতে এসে কান্না করা হচ্ছিল?
তাহলে কাটা গায়ে নুনের ছিটা তো একটু দিতেই হয়। ”
কথাগুলো বলে বড় একটা চাকু নিয়ে আসে সোহান। তাবিয়ার চুল আবারও মুঠো করে ধরে টানতে টানতে ওকে নিয়ে মাঝ বয়েসী চেহারার ছেলে-পুতুলটার কাছে নিয়ে আসে।
তাবিয়ার চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে পুতুলটার শরীরে এলোপাতাড়ি ভাবে চাকু দিয়ে আঘাত করতে থাকে সোহান। চাকুর আঘাতে পুতুলটির শরীর থেকে পঁচা কালো মাংস বের হয়ে আসে। এমন নৃশংস দৃশ্য দেখে তাবিয়া কাঁপতে থাকে, কেঁপে ওঠে আরিকাও।
যতটা সম্ভব আরিকা সবসময় মোবাইলে চোখ রাখার চেষ্টা করেছে। সকাল সকাল এমন নৃশংস দৃশ্য হয়ত আশা করেনি সে ও।
তবে একটা বিষয় আরিকা নিশ্চিত যে, এগুলো অবয়বে তৈরি কোনো পুতুল নয়, বরং প্রতিটি পুতুল এক একজন মানুষের মৃতদেহ।
“কিন্তু এই মৃতদেহগুলো এতো জীবন্তরূপে কিভাবে সংরক্ষণ করছে ডাঃ সোহান? ”
চিন্তার ভাঁজ পড়ে আরিকার কপালে।

তাবিয়াকে কাঁপতে দেখে চাকু ফেলে দিয়ে সোহান আবার তার দিকে এগিয়ে যায়। তাবিয়ার কাছে গিয়ে,আগের দিনের হাতের কাটা জায়গায় শক্তভাবে পা দিয়ে চাপ দেয়। মাত্রাতিরিক্ত ব্যাথায় তাবিয়া গোঙানি দিয়ে ওঠে। কাটা জায়গা থেকে ছিটকে রক্ত বের হয়ে দেয়ালের উপরে পরে।
পায়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সোহান বলতে শুরু করে,
-“ভালোবাসায় কি কোনো কমতি রেখেছিলাম আমি? আমার সবটুকু দিয়ে তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলাম। তুমি মানে আমার কাছে পুরো একটা পৃথিবী ছিলো। কিন্তু তুমি কি করেছিলে?
আমার বিশ্বাস, ভরসা, ভালোবাসার খুন করে আমার অবর্তমানে তুমি রাকিবের সাথে নষ্টামিতে মেতে উঠেছ।
কেমন লাগছে যন্ত্রণাটা? এর থেকে শতগুণ যন্ত্রণা আমি সেদিন পেয়েছিলাম, যেদিন নিজ চোখে তোমাকে আর তোমার প্রাক্তন প্রেমিককে শারিরীক সম্পর্কে আবদ্ধ অবস্থায় দেখেছিলাম। রাকিবকে তো আমি তার কর্মের সাজা নিজ হাতে দিয়েছি, এখন আমি চাই তুমি কিছুটা হলেও আমার ভেতরের যন্ত্রণাটা অনুভব করো। তিলে তিলে তোমার পাপের শাস্তি আমি তোমাকে দেবো।

সোহানের কথা শুনে অনুরোধের স্বরে তাবিয়া বলে,
-“আমি আমার ভুলের জন্য সত্যি খুব লজ্জিত। সারাক্ষণ অপরাধবোধে ভুগি। ভুলের জন্য কম শাস্তি ও তো তুমি দাওনি। আমি আবারও ক্ষমা চাচ্ছি তোমার কাছে, সবকিছু ভুলে গিয়ে আমাকে আর একবার সুযোগ দাও। আমি তোমার স্বপ্নের মতোই আমাদের জীবন সাজিয়ে তুলবো।”

তাবিয়ার কথা শুনে হো হো করে হেঁসে ওঠে সোহান৷
তীব্র ঘৃণার চোখে তাবিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
-“ভালোবাসার জগতে সবচেয়ে ঘৃণিত অপরাধ কি জানো? “বিশ্বাস হনন”।
বিশ্বাস অর্জনে যেমন ভালোবাসা মধুময় হয় তেমনই বিশ্বাস হননে হয় তীব্র বিষাদময়।
এমন ভালোবাসার খুনিদের একটাই শাস্তি ” মৃত্যু”।
যেটা আমি তোমাকে দেবো তবে একবারে নয় তিলে তিলে। কথাটা বলেই হাতের কাছে থাকা ফুলদানি দিয়ে আঘাত করে তাবিয়ার মাথায়।

ওহ শীট! বলে হাতের মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলে আরিকা। কাল ফুলদানির ভেতরেই স্পাই ক্যামেরা সেট করে এসেছিলো সে। ফুলদানি দিয়ে তাবিয়াকে আঘাত করায় ফুলদানির সাথে স্পাই ক্যামেরাও ভেঙে যায়। বাসার ভেতরের খবর জানার এখন অন্য কোনো উপায় নেই।
তবে যতদূর জেনেছে এটাই ধীরে ধীরে রহস্যের দিকে এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করবে।
সোহানের কথায় যতদূর বুঝলাম, প্রতিটি পুতুলেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প।
একটা পুতুলের গল্প তো জানা গেলো বাকিগুলোর বিস্তারিত আমাকে জানতে হবে।
সবার আগে জানতে হবে সুমনের ব্যাপারটা। পুতুল রূপি মৃতদেহ যদি সুমনের হয় তাহলে সুমনের গল্পটা কি ছিলো?
নিজেই নিজের কাছে প্রশ্ন রাখে আরিকা।
সুমনের সাথে ডাঃ সোহানের কি সংযোগ থাকতে পারে এটা ভাবতে ভাবতে চিন্তার জগতে হারিয়ে যায় আরিকা।
সুমন ও ডাঃ সোহানের ভেতরের আসল কাহিনি জানতে হলে আমাকে একদম প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। আজ সুমনের রুমটা সার্চ করতে হবে। পেলেও পেতে পারি কোনো ক্লু, যা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
ভাবামাত্রই আরিকা সুমনের রুমের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়।
.
.
.
.
সাহেরা বেগমকে কোন ঘটনার আদ্যোপান্ত জানায় না আরিকা।
সুযোগ বুঝে সতর্কতার সহিত আরিকা সুমনের রুমে প্রবেশ করে। রুমের সব জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজে খুঁজে দেখে আরিকা। তবে ডাঃ সোহানের সাথে সংযুক্ত কোনোকিছু খুঁজে পায় না সে। তবে একটা ঔষধের বক্সের ভেতর বেশ কিছু সন্দেহভাজন ঔষধ দেখতে পায় সে। ঔষধগুলো দেখে আরিকা বুঝতে পারে সুমন একজন ড্রাগস এডিক্টেড ছেলে ছিলো।
কিন্তু আশানুরুপ কিছু না পেয়ে বেশ হতাশ হয় যায় আরিকা। তবে এতো সহজে হাল ছাড়ার পাত্রী সে নয়। বুকশেলফ, টেবিলের ড্রয়ার থেকে শুরু করে বিছানায় তোষক ও উল্টে দেখে।
হঠাৎই আরিকার নজর পরে খাটের কোণায় রাখা ছোট একটা ব্যাগের উপর। ব্যাগ টা খুলে সে বেশকিছু থ্রিডি ভিডিও ডিভাইস ও ছোট কয়েকটা সাউন্ড রেকর্ডার দেখতে পায়। সাউন্ড রেকর্ডার প্লে করতেই ভেসে আসে ভয়ংকর কিছু আওয়াজ।
থ্রিডি ভিডিও ডিভাইসটা চালু করার পরে সামনের দেওয়ালে ভেসে ওঠে বিভৎস কিছু চেহারা। চেহারাগুলো এতোটাই ভয়ংকর ছিলো যে আরিকার শরীরের প্রতিটা পশম দাঁড়িয়ে যায়।
দেখে একদমই বোঝার উপায় নেই এটা কোনো ভিডিও। আরিকার মাথায় সব ঘটনা গুলো ঘুরপাক খেতে থাকে। শুরু থেকে সবকিছু মেলানোর চেষ্টা করে সে। হঠাৎ আরিকা ঠোঁটের কোণে বাকা হাসি টেনে মনে মনে বলে,
“আরও একটা পুতুলের রহস্য আমার কাছে পরিষ্কার। এখন শুধু অপেক্ষা সময় বুঝে আরও একবার ডাঃ সোহানের বাসায় যাওয়ার। বাকিটা না হয় তাবিয়ার কাছ থেকেই জানা যাবে।”
ভিডিও ডিভাইস, সাউন্ড রেকর্ডার ও সুমনের কিছু ঔষধ নিয়ে খুশি খুশি মনে রুম থেকে বের হয়ে যায়।
.
.
#পর্ব_৬
__________________
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকেই থমকে দাঁড়ায় সোহান। তাবিয়াকে বেড রুমে যেতে বলে গম্ভীর ভাবে ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে থাকে সে। কিছুক্ষন এদিক সেদিক তাকিয়ে,বাতাসে গন্ধ শুঁকে সোফায় বসে থাকা পুতুলটার দিকে দৌড়ে যায় সোহান। পুতুলের পাশে বসে হাত ধরে বলে,
-তোমাদের বিরক্ত করতে আবার বাসায় কেউ এসেছিলো তাই না মা?
তুমি রাগ করো না, এতে তো ভালোই হলো তোমাদের মাঝে আরও একজন সদস্য বাড়তে চলেছে।
সোহান এমন আরও নানাধরণের গল্প করতে থাকে পুতুলের সাথে। সোহানের বলা কথাবার্তা এবং করা কাজ সবকিছুই ভিডিওতে দেখছিলো আরিকা। স্পাই ক্যামেরা সেট করে আসায় ভালোই হয়েছে তার। রহস্যের অনেক জট খুলতে সাহায্য করবে এটি। সোহানের কথাবার্তা ও কাজ দেখে আরিকা বুঝতে পারে সোফায় বসা একজন মহিলার অবয়বে তৈরি পুতুলটা ডাঃ সোহানের মায়ের। তবে একটা বিষয়ে আরিকা বেশ অবাক হয়৷
“বাসায় কেউ ঢুকেছিল সেটা কি করে জানতে পারলো ডাঃ সোহান?
তাহলে কি তাড়াহুড়োয় কোনো প্রমাণ রেখে এসেছি আমি!” নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন রাখে আরিকা।
“যদি তাই হয় তাহলে রহস্যের শেষ পর্যন্ত যেতে অনেক বিপদের মুখোমুখি হতে হবে।”
.
.
.
.
পরদিন সকাল।
ঘুম থেকে উঠে পাশ ফিরে তাবিয়াকে দেখতে না পেয়ে সোহান খুব বিরক্ত হয় । রুমের চারপাশে চোখ বুলিয়েও তাবিয়ার দেখা পায় না। বিছানা ছেড়ে উঠে সোহান বেলকনির দিকে পা বাড়ায়।
সেখানে গিয়ে সোহান দেখতে পায়, তাবিয়া বেলকনির গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার দুচোখ বেয়ে অনবরত পানি পড়ছে। তাবিয়াকে এভাবে কান্নারত অবস্থায় দেখে সোহান প্রচন্ড রেগে যায়। পেছন থেকে তাবিয়ার চুল মুঠো করে ধরে টানতে টানতে রুমের ভেতরে নিয়ে আসে। আচমকা ঘটনাটি ঘটে যাওয়ায় তাবিয়া বেশ ঘাবড়ে গেলো। সোহান সচরাচর এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে না। সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়েছিলো তাবিয়া।
“সকাল সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনে না। কারও কারও কাছে প্রতিদিনের মতো আরও একটি বিষাদময় দিনের শুরু মাত্র। ”
তাবিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দেয় সোহান।
এরপর এক হাত দিয়ে তাবিয়ার ঠোঁট দুটো চেপে ধরে বলে,
-“তোমার প্রাক্তন রাকিবের কথা খুব মনে পড়ছে তাই না! খুব কষ্ট হয় তার জন্য? এজন্যই সকাল সকাল বেলকনিতে এসে কান্না করা হচ্ছিল?
তাহলে কাটা গায়ে নুনের ছিটা তো একটু দিতেই হয়। ”
কথাগুলো বলে বড় একটা চাকু নিয়ে আসে সোহান। তাবিয়ার চুল আবারও মুঠো করে ধরে টানতে টানতে ওকে নিয়ে মাঝ বয়েসী চেহারার ছেলে-পুতুলটার কাছে নিয়ে আসে।
তাবিয়ার চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে পুতুলটার শরীরে এলোপাতাড়ি ভাবে চাকু দিয়ে আঘাত করতে থাকে সোহান। চাকুর আঘাতে পুতুলটির শরীর থেকে পঁচা কালো মাংস বের হয়ে আসে। এমন নৃশংস দৃশ্য দেখে তাবিয়া কাঁপতে থাকে, কেঁপে ওঠে আরিকাও।
যতটা সম্ভব আরিকা সবসময় মোবাইলে চোখ রাখার চেষ্টা করেছে। সকাল সকাল এমন নৃশংস দৃশ্য হয়ত আশা করেনি সে ও।
তবে একটা বিষয় আরিকা নিশ্চিত যে, এগুলো অবয়বে তৈরি কোনো পুতুল নয়, বরং প্রতিটি পুতুল এক একজন মানুষের মৃতদেহ।
“কিন্তু এই মৃতদেহগুলো এতো জীবন্তরূপে কিভাবে সংরক্ষণ করছে ডাঃ সোহান? ”
চিন্তার ভাঁজ পড়ে আরিকার কপালে।

তাবিয়াকে কাঁপতে দেখে চাকু ফেলে দিয়ে সোহান আবার তার দিকে এগিয়ে যায়। তাবিয়ার কাছে গিয়ে,আগের দিনের হাতের কাটা জায়গায় শক্তভাবে পা দিয়ে চাপ দেয়। মাত্রাতিরিক্ত ব্যাথায় তাবিয়া গোঙানি দিয়ে ওঠে। কাটা জায়গা থেকে ছিটকে রক্ত বের হয়ে দেয়ালের উপরে পরে।
পায়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়ে সোহান বলতে শুরু করে,
-“ভালোবাসায় কি কোনো কমতি রেখেছিলাম আমি? আমার সবটুকু দিয়ে তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলাম। তুমি মানে আমার কাছে পুরো একটা পৃথিবী ছিলো। কিন্তু তুমি কি করেছিলে?
আমার বিশ্বাস, ভরসা, ভালোবাসার খুন করে আমার অবর্তমানে তুমি রাকিবের সাথে নষ্টামিতে মেতে উঠেছ।
কেমন লাগছে যন্ত্রণাটা? এর থেকে শতগুণ যন্ত্রণা আমি সেদিন পেয়েছিলাম, যেদিন নিজ চোখে তোমাকে আর তোমার প্রাক্তন প্রেমিককে শারিরীক সম্পর্কে আবদ্ধ অবস্থায় দেখেছিলাম। রাকিবকে তো আমি তার কর্মের সাজা নিজ হাতে দিয়েছি, এখন আমি চাই তুমি কিছুটা হলেও আমার ভেতরের যন্ত্রণাটা অনুভব করো। তিলে তিলে তোমার পাপের শাস্তি আমি তোমাকে দেবো।

সোহানের কথা শুনে অনুরোধের স্বরে তাবিয়া বলে,
-“আমি আমার ভুলের জন্য সত্যি খুব লজ্জিত। সারাক্ষণ অপরাধবোধে ভুগি। ভুলের জন্য কম শাস্তি ও তো তুমি দাওনি। আমি আবারও ক্ষমা চাচ্ছি তোমার কাছে, সবকিছু ভুলে গিয়ে আমাকে আর একবার সুযোগ দাও। আমি তোমার স্বপ্নের মতোই আমাদের জীবন সাজিয়ে তুলবো।”

তাবিয়ার কথা শুনে হো হো করে হেঁসে ওঠে সোহান৷
তীব্র ঘৃণার চোখে তাবিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
-“ভালোবাসার জগতে সবচেয়ে ঘৃণিত অপরাধ কি জানো? “বিশ্বাস হনন”।
বিশ্বাস অর্জনে যেমন ভালোবাসা মধুময় হয় তেমনই বিশ্বাস হননে হয় তীব্র বিষাদময়।
এমন ভালোবাসার খুনিদের একটাই শাস্তি ” মৃত্যু”।
যেটা আমি তোমাকে দেবো তবে একবারে নয় তিলে তিলে। কথাটা বলেই হাতের কাছে থাকা ফুলদানি দিয়ে আঘাত করে তাবিয়ার মাথায়।

ওহ শীট! বলে হাতের মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলে আরিকা। কাল ফুলদানির ভেতরেই স্পাই ক্যামেরা সেট করে এসেছিলো সে। ফুলদানি দিয়ে তাবিয়াকে আঘাত করায় ফুলদানির সাথে স্পাই ক্যামেরাও ভেঙে যায়। বাসার ভেতরের খবর জানার এখন অন্য কোনো উপায় নেই।
তবে যতদূর জেনেছে এটাই ধীরে ধীরে রহস্যের দিকে এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করবে।
সোহানের কথায় যতদূর বুঝলাম, প্রতিটি পুতুলেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প।
একটা পুতুলের গল্প তো জানা গেলো বাকিগুলোর বিস্তারিত আমাকে জানতে হবে।
সবার আগে জানতে হবে সুমনের ব্যাপারটা। পুতুল রূপি মৃতদেহ যদি সুমনের হয় তাহলে সুমনের গল্পটা কি ছিলো?
নিজেই নিজের কাছে প্রশ্ন রাখে আরিকা।
সুমনের সাথে ডাঃ সোহানের কি সংযোগ থাকতে পারে এটা ভাবতে ভাবতে চিন্তার জগতে হারিয়ে যায় আরিকা।
সুমন ও ডাঃ সোহানের ভেতরের আসল কাহিনি জানতে হলে আমাকে একদম প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। আজ সুমনের রুমটা সার্চ করতে হবে। পেলেও পেতে পারি কোনো ক্লু, যা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
ভাবামাত্রই আরিকা সুমনের রুমের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়।
.
.
.
.
সাহেরা বেগমকে কোন ঘটনার আদ্যোপান্ত জানায় না আরিকা।
সুযোগ বুঝে সতর্কতার সহিত আরিকা সুমনের রুমে প্রবেশ করে। রুমের সব জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজে খুঁজে দেখে আরিকা। তবে ডাঃ সোহানের সাথে সংযুক্ত কোনোকিছু খুঁজে পায় না সে। তবে একটা ঔষধের বক্সের ভেতর বেশ কিছু সন্দেহভাজন ঔষধ দেখতে পায় সে। ঔষধগুলো দেখে আরিকা বুঝতে পারে সুমন একজন ড্রাগস এডিক্টেড ছেলে ছিলো।
কিন্তু আশানুরুপ কিছু না পেয়ে বেশ হতাশ হয় যায় আরিকা। তবে এতো সহজে হাল ছাড়ার পাত্রী সে নয়। বুকশেলফ, টেবিলের ড্রয়ার থেকে শুরু করে বিছানায় তোষক ও উল্টে দেখে।
হঠাৎই আরিকার নজর পরে খাটের কোণায় রাখা ছোট একটা ব্যাগের উপর। ব্যাগ টা খুলে সে বেশকিছু থ্রিডি ভিডিও ডিভাইস ও ছোট কয়েকটা সাউন্ড রেকর্ডার দেখতে পায়। সাউন্ড রেকর্ডার প্লে করতেই ভেসে আসে ভয়ংকর কিছু আওয়াজ।
থ্রিডি ভিডিও ডিভাইসটা চালু করার পরে সামনের দেওয়ালে ভেসে ওঠে বিভৎস কিছু চেহারা। চেহারাগুলো এতোটাই ভয়ংকর ছিলো যে আরিকার শরীরের প্রতিটা পশম দাঁড়িয়ে যায়।
দেখে একদমই বোঝার উপায় নেই এটা কোনো ভিডিও। আরিকার মাথায় সব ঘটনা গুলো ঘুরপাক খেতে থাকে। শুরু থেকে সবকিছু মেলানোর চেষ্টা করে সে। হঠাৎ আরিকা ঠোঁটের কোণে বাকা হাসি টেনে মনে মনে বলে,
“আরও একটা পুতুলের রহস্য আমার কাছে পরিষ্কার। এখন শুধু অপেক্ষা সময় বুঝে আরও একবার ডাঃ সোহানের বাসায় যাওয়ার। বাকিটা না হয় তাবিয়ার কাছ থেকেই জানা যাবে।”
ভিডিও ডিভাইস, সাউন্ড রেকর্ডার ও সুমনের কিছু ঔষধ নিয়ে খুশি খুশি মনে রুম থেকে বের হয়ে যায়।
.
.
#ইনসাইড_দ্যা_ডোর
পর্ব -৬
-সাইবা চৌধুরী।
—————————-
আরও একটা পুতুলের রহস্য আমার কাছে পরিষ্কার। এখন শুধু অপেক্ষা সময় বুঝে আরও একবার ডাঃ সোহানের বাসায় যাওয়ার। বাকিটা না হয় তাবিয়ার কাছ থেকেই জানা যাবে।”
ভিডিও ডিভাইস, সাউন্ড রেকর্ডার ও সুমনের কিছু ঔষধ নিয়ে খুশি খুশি মনে রুম থেকে বের হয়ে যায় সে।
.
.
.
.
সকাল থেকে গেটের দিকে নজর রেখেছে আরিকা। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল ডাঃ সোহানের বের হওয়ার নামগন্ধও নেই।
“তাহলে কি আজ ডাঃ সোহান বাইরে বের হবে না!
যদি তাই হয় তাহলে আরও একদিন অপেক্ষা করতে হবে আমাকে। কিন্তু রহস্য সমাধানের নেশা আমাকে কিছুতেই বসে থাকতে দিচ্ছে না।
এভাবে ছটফটিয়ে আরিকা আরও এক ঘন্টা কাটিয়ে দিলো। এর ভেতর ডাঃ সোহানকে বের হতে না দেখে আরিকা ধরেই নিলো আজ হয়ত সে বাইরে যাবে না।
অগত্যা আরিকা কিছুক্ষণের জন্য বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। শরীর ক্লান্ত শরীর নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো সে।
.
.
.
.
সময় তখন দুপুর ৩ টা।
সাহেরা বেগম কিছু কাজে বাইরে বের হয়েছিলেন।
কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় সিঁড়িতে দেখা হয় ডাঃ সোহান ও তাবিয়ার সাথে। সাহেরা বেগমকে দেখে ডাঃ সোহান মুখে হাসি টেনে তাকে সালাম জানায়।
সালামের উত্তর দিয়ে সাহেরা বেগম টুকটাক কিছু কথা বলেন। কথা বলার মাঝে “তারা কোথায় যাচ্ছে” জানতে চান সাহেরা বেগম। ডাঃ সোহান জানায়, কোনো এক দরকারে তার বন্ধুর বাসায় যেতে হচ্ছে। ফিরতে একটু লেট হবে তাদের।
সাহেরা বেগম কোনো কথা না বাড়িয়ে তাদের বিদায় জানান। ডাঃ সোহানের সাথে কথা বলার সময় সাহেরা বেগমের চোখ ছিলো তাবিয়ার দিকে। পুরোটা সময় তাবিয়ার দিকে আঁড়চোখে খুব অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। যেটা একদমই ডাঃ সোহানের নজর এড়ায় না।
তবে বিষয়টিকে পাত্তা না দিয়ে সোহান তাবিয়াকে নিয়ে বেড়িয়ে পরে।
.
.
.
.
দোতলায় উঠে সাহেরা বেগম দেখতে পান আজ ডাঃ সোহান বাসায় তালা দিয়ে যায়নি। হয়ত তাড়াহুড়োয় ভুল করে তালা না দিয়েই বের হয়ে গেছে। ডাঃ সোহানের বাসায় ঢোকার প্রবল ইচ্ছে জাগে সাহেরা বেগমের মনে।
হবেই না বা কেন! আরিকাকে তিনি সব বিষয় খুলে বলেছিলেন একটা কারণেই, যাতে করে সে সব রহস্যের পর্দা খুলে তার সামনে রাখতে পারে। কিন্তু কি অদ্ভুত বিষয়! দু’দিন হয়ে গেল আরিকা তাকে কিছুই জানালো না।
এমন কি সেদিন এ বাসায় ঢুকে কি দেখেছিলো, তাবিয়ার বিষয়ে কতটুকু জানতে পেরেছে কিছুই জানায় নি তাকে। জিজ্ঞেস করলে আরিকার একটাই কথা ছিলো, সময় হলে সে নিজের থেকেই সবকিছু বলবে।
আজ এমন একটা সুযোগ হাতের মুঠোয় পেয়ে সাহেরা বেগম কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাইলেন না।
আস্তে করে দরজা ঠেলে তিনি ধীরপায়ে ভেতরে ঢুকে গেলেন। চারদিক থেকে অন্ধকার ঘিরে ধরলো সাহেরা বেগমকে।লাইট জ্বালানোর জন্য সুইচ টিপলেন তিনি। লাল রঙ এর একটা ডিম লাইট জ্বলে উঠলো। কিন্তু তাতে অন্ধকার দূর হলোনা। বরং রহস্যময় পরিবেশ আরো ঘনীভূত হল। ব্যাগ থেকে ফোন বের করে টর্চ অন করে সন্তর্পণে সামনের দিকে এগিয়ে যান তিনি।
এদিক সেদিক লাইট মেরে বাসার ভেতরের সবকিছু পর্যবেক্ষন করতে থাকেন। হঠাৎ একজন মহিলার পুতুল দেখে বেশ ঘাবড়ে যান তিনি। পুতুলগুলো দূর থেকে দেখে অনেক বড় মনে হয়েছিলো। এবার কাছ থেকে দেখার পর মনে হচ্ছিলো পুতুলগুলো শুধু আকারেই বড় নয়। অনেকটা সত্যিকারের মানুষের মত।এরকম আরো বেশ কয়েকটা পুতুল দেখতে পান তিনি। সবথেকে বেশি ভয় পান সুমনের চেহারার পুতুলটি দেখে।ভয়ে তার বুক ধুক ধুক করে কাঁপতে থাকে। কোনভাবে এ পুতুলগুলো মানুষের লাশ নয় তো! নিজের মনের কোথাও একটা এ প্রশ্ন উঁকি মারতে থাকে বার বার।হাঁটতে হাঁটতে চলে আসেন ডাঃ সোহানের বেডরুমে। সেখানে সাদা কাপড়ের উপরে মেখা থাকা ছোপ ছোপ রক্তের দাগ এবং একটা অদ্ভুত গন্ধে অনেক বেশি
ভয় পেয়ে যান তিনি। মনে মনে ঠিক করেন আজ ডাঃ সোহান বাসায় ফেরার পরে তিনি সোজাসাপটা বাসা ছেড়ে দিতে বলবেন। ভয় ও রাগে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দ্রুত পা ফেলেন সাহেরা বেগম।
হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন কিছু একটার সাথে তার পা পেঁচিয়ে গেছে। পায়ের দিকে আলো ফেলে তিনি একটা রশি দেখতে পান।
রশি থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য পা হেঁচকা টান দিলেন সাহেরা বেগম। এতেই হলো হিতে বিপরীত।
পা টান দিতেই রশিটা তার পায়ের সাথে আরো শক্ত ভাবে পেচিয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে গেলো।
পা উপরের দিকে ও মাথা নিচ দিকে হয়ে ঝুলে গেলেন সাহেরা বেগম। কোথা থেকে যেন ভারী জাল ও কাপড় উড়ে এসে তাকে পেঁচিয়ে ফেললো সম্পূর্ণ রূপে।চিৎকার করলেও তার মুখ থেকে জোড়ালো শব্দ বের হলোনা৷ ছোটার জন্য ছটফট করতে লাগলেন তিনি। পাশ থেকে শো শো শব্দ করে দুটো তীর ছুটে এসে বিঁধে গেলো সাহেরা বেগমের গায়ে।
একটা তীর মুখের একপাশ থেকে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। অপর তীরটা আঘাত করে বুক বরাবর ।
আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যান তিনি।
মুখ ও বুক থেকে প্রবল বেগে রক্ত ঝড়ে ফ্লোরে রক্তের বন্যা বয়ে যায়।
সাহেরা বেগমের রক্তাক্ত মৃতদেহটা উল্টোভাবে ঝুলতে থাকে ডাঃ সোহানের বাসায়।
.
.
.
টুন টুন করে একটা সিগনাল বেজে ওঠে ডাঃ সোহানের মোবাইল ফোনে। ডাঃ সোহানের চোখ চিকচিক করে ওঠে।
ঠোঁটের কোণে বাকা হাসি টেনে বলে,
“অবশেষে আমার ট্রাপে শিকার ধরা পড়েছে”
.
.
.
.
আতিক সাহেবের ডাকে ঘুম ভেঙে যায় আরিকার।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আরিকা দেখতে পায় তখন সন্ধ্যা ৭ টা বাজে।
-“তোমার আন্টি কোথায় গেছে তুমি কি জানো? না মানে তোমাকে কি বলে গিয়েছে? দুপুর থেকেই বাসায় দেখছি না। ফোনে রিং দিচ্ছি কিন্তু রিসিভ করছেনা। বুঝে উঠতে পারছি না আজ কি হলো তার৷ কখনোই সে এমন করেনি।”
আতিক সাহেবের কথায় আরিকা বেশ অবাক হয়।
সে দুপুর ১২ টার দিকে বের হতে দেখেছিলো সাহেরা বেগমকে। কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে বলেছিলেন, ছোট একটা কাজে বের হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে । কিন্তু সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে তবুও সাহেরা বেগমের খোঁজ নেই! ব্যপারটা স্বাভাবিক নয়।
সব আত্নীয় স্বজনের বাসায় খোঁজ নেয় আতিক সাহেব ও আরিকা। যেসব জায়গায় সাহেরা বেগমের আসা যাওয়া ছিলো এমন প্রতিটা জায়গা খুঁজে দেখে দু’জন মিলে কিন্তু সাহেরা বেগমের কোনো খোঁজই তারা পায় না।
দারোয়ানের কাছে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়,
দুপুরের দিকে বাসায় ঢুকতে দেখেছিলো সাহেরা বেগমকে। তারপরে আর সাহেরা বেগমকে বের হতে দেখে নি।
দারোয়ানের কথা শুনে আরিকার মনে খটকা লাগে। বাড়ির ভেতর থেকে হঠাৎ করে একটা মানুষ কিভাবে উধাও হতে পারে? আরিকার মনে হাজারটা প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে।
.
.
.
.
পরদিন সকাল।
আজও সকাল থেকেই আরিকা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তার ধারণা সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ডাঃ সোহানের বাসায়।
হতেও পারে সাহেরা বেগমের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে ডাঃ সোহানের হাত আছে। যদি এমন হয় তাহলে এর পরিণাম কতোটা ভয়াবহ হতে পারে সেটা ভেবেই আরিকার বুকটা ধুক করে কেঁপে উঠলো।
একটার পরে একটা অঘটন ঘটেই চলেছে।
অন্যকোনো বিপদ হওয়া আটকাতে যতদ্রুত সম্ভব সকল রহস্য উদঘাটন করতে হবে। আটকাতে হবে ভদ্রতার মুখোশ পরে থাকা সোহান নামক পশুটাকে।
এসব ভাবনার মাঝেই আরিকা,ডাঃ সোহানকে গেট থেকে বের হয়ে যেতে দেখতে পায়। সোহানকে গেট থেকে বের হয়ে যেতে দেখে আরিকা স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলে। চিন্তার সাথে সাথে মনের এক কোণে জমা হয় অজানা ভয়ের। অদ্ভুত এক বাসা যার ভেতরে রয়েছে পাঁচটি মৃতদেহ সেই বাসার ভেতরে আবারও প্রবেশ করতে হবে ভেবে আরিকা কিছুটা কেঁপে উঠলো। তবে আজ বাসার ভেতরে আছে তাবিয়া। আরিকা ডাঃ সোহানের বাসার দিকে রওনা হয়।
.
.
সোহানের বাসার সামনে গিয়েই দেখতে পায় দরজাটি হালকা খোলা অবস্থায় আছে। আরিকা ঠিক করল তাবিয়াকে না জানিয়েই ভেতরে ঢুকবে সে।

কাঁপা কাঁপা হাতে দরজা ঠেলে আরিকা ভেতরে প্রবেশ করে। যতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে । এমন একটা বাসায় দ্বিতীয়বার ঢোকা সত্যিই একটা দুঃস্বপ্নের মতো। তবুও তার সাহসের সাথে সব ভয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
সাহস,ভয়,ও হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে আরিকা ধীরে ধীরে ভেতরে এগিয়ে যায়। একটু ভেতরে ঢুকতেই ভ্যাপসা গন্ধ এসে নাকে লাগে তার। নাক চেপে ধরে ডাইনিং রুমের দিকে এগিয়ে যায় আরিকা।
সেখানে রাখা সোফার দিকে তাকিয়ে বাসার লাল লাইটের আলোয় আরিকা সোফায় বসা মহিলার পুতুলটার পাশে আরও একটি পুতুল দেখতে পায়। হাতে থাকা টর্চটি পুতুলটার মুখের দিকে ঘুরাতেই চিৎকার করে উঠে কয়েক পা পিছিয়ে যায় সে। সাহেরা বেগমের এমন ভয়ংকর পুতুল দেখে আরিকা প্রচন্ড রকমের ভয় পায়। মুখের দুই চোয়ালেরই মাংস নেই। বুকে একটা তীর বিঁধে আছে। সাহেরা বেগমের এমন পরিণতি দেখে ফ্লোরের উপর বসে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে আরিকা।
চিৎকার শুনে তাবিয়া ভেতরের রুম থেকে হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে আসে। ডাইনিং রুমের মেঝেতে বসে একটা মেয়েকে কাঁদতে দেখে তাবিয়া অনেক অবাক হয়। মেয়েটাকে সে চেনে। সেদিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এই মেয়েটির সাথেই ধাক্কা লেগেছিল তার। “কিন্তু সে এখানে কি করে?”
নিজের কাছে প্রশ্ন রাখে তাবিয়া। আরিকার চোখের দৃষ্টি অনুসরণ করে পুতুলটার দিকে তাকিয়ে তাবিয়া বুঝতে পারে মেয়েটি হয়ত সাহেরা বেগমের কাছের কেউ।
তাবিয়া আরিকাকে কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পায় না। আরিকাকে উদ্দেশ্য করে শুধু একটা কথাই বলে,
-“জানিনা তুমি কে। তোমার এখানে আসার উদ্দেশ্যটাও আমার জানা নেই।
শুধু বলবো, যদি নিজের প্রাণের প্রতি মায়া থাকে যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে চলে যাও। এতে তোমারও ভালো হবে সাথে আমারও।
তাবিয়ার কথা শুনে আরিকা কান্না থামিয়ে ভয়ংকর অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় তাবিয়ার দিকে।
আরিকার এমন রাগান্বিত চোখের দিকে তাকিয়ে তাবিয়ার গলা শুকিয়ে যায়।
.
.
.
.
.
.
চলবে……..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here