ইচ্ছেপূরন #পর্ব-৪

#ইচ্ছেপূরন
#পর্ব-৪
Farhana_Yesmin

কথায় আছে –
“কাছে গেলে কামরায় আর দূরে থাকলে হামলায়।”
আতিকের এখন হয়েছে সেই অবস্থা। ছোট থেকেই আতিক একটু মেয়ে বৎসল। মেয়েদের সাথে তার গা ঘেঁষাঘেঁষি বরাবরই একটু বেশি। কিন্তু তা কখনো পুরো পুরি শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়নি। ঐ একটু আধটু চুমু, গা ছোঁয়াছুঁয়ি পর্যন্ত চলেছে। এর বেশি কেন যেন সাহস পায়নি। অবশ্য সেটা সাহসের অভাব না সুযোগের অভাব সেটা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা যেতে পারে! একমাত্র ছেলে হবার দরুন ইন্টার পর্যন্ত মায়ের কাছে মায়ের চোখে চোখে থাকা। তারপর ঢাকায় পড়তে এসে বোনেদের চোখে চোখে থাকা। সে হিসেবে বলা যায় চরম পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি কখনো।

বন্ধুর বিয়েতে বিভাকে দেখে ভালো লেগেছিলো। সেটাকে আতিক নিজেই প্রেম ভালোবাসা পর্যন্ত টেনে নিলো। তখন কেন জানি বিভা মেয়েটাকে অকারণেই ভালো লাগতো। একটু চোখে দেখলে কিংবা হাতটা ধরলেও মনটা ভালোলাগায় ছেয়ে যেতো। সেটা ঐ দূরে দূরে থাকার কারনে কিনা বোঝেনি আতিক। একদিন দুইদিন পর পর এক দুই ঘন্টার জন্য দেখা করা, ব্যাপারটা সংসার করার চেয়ে বেশী চার্মিং। এখন যখন সংসার করছে, পাশাপাশি অনেকটা সময় কাটাচ্ছে তখন সেই আগের আকর্ষনটা আর ফিল করছে না। অথচ বিভার ক্ষেত্রে মনেহয় ব্যাপারটা উল্টো! ও বরং এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ডেডিকেটেড আতিকের প্রতি, সংসারের প্রতি।

আসলে বিভাকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ের প্লান আতিকের ছিলো না মোটেও। ভেবেছিলো বিভাকে যথেষ্ট রকম ভাবে বাজিয়ে দেখবে,মেয়েটা আদৌও বিয়ের উপযোগী কিনা?
হয়তো মনে মনে বিভার ক্ষতি করারই প্লান ছিলো আতিকের? কিন্তু সেই প্লানটা সাকসেসফুল হয়নি! ভাগ্য মনেহয় আতিকের সাথে অন্য কিছুই করতে চেয়েছে? তাই নিজের জালে আতিক নিজেই ফেসে গেছে। বাধ্য হয়ে বিভাকে বিয়ে করতে হয়েছে! আর সেই আক্রোশটা সে বিয়ের রাতে ঝেড়েছিলো বিভার উপর। তার উপর নিজের মানস পটে মেয়ে মানুষের যে আয়বর আতিক একেছিলো তার কোনো মিল খুঁজে পেলো না বিভার সাথে। এতে যেন আতিকের বিতৃষ্ণার ষোলোকলা পূর্ণ হলো। তাওতো এতোদিন চালিয়ে নিচ্ছিলো আতিক। কিন্তু যেদিন সাবাকে দেখলো সেদিন থেকে আবার নতুন করে যেন মাথাটা নষ্ট হয়ে গেলো আতিকের! উফ! কি সুন্দর মেয়েটা! একেবারে মাথা নষ্ট করা সুন্দরী রমনী যাকে বলে। যেরকম চেহারা সেই রকম তার ফিগার! সবচেয়ে অদ্ভুত কথা হলো সাবার হাজবেন্ড শহিদই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো আতিককে সাবার সাথে। শহিদ হচ্ছে টুকটাক ছোটখাটো বিজনেস করে বেড়ানো বাটপার, যে ওদের অফিসে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অফিসিয়াল আইটেম ডেলিভারি করে। শহিদ মাঝে মাঝে এসে গল্প সল্প করতো আতিকের সাথে। সেই থেকে ঘনিষ্ঠতা। সেই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে দু’একবার মনে হয় শহিদের সামনে আফসোস করে থাকতে পারে বউকে নিয়ে! আর শহিদ ও যেন মানুষ বুঝে টোপ রাখলো আতিকের সামনে! সাবার গল্প শুরু করলো আতিকের কাছে। সাবা মোহাম্মদপূর একটা স্কুলে চাকরি করতো তখন। একদিন শহিদ জোর করে আতিককে ধরে নিয়ে গেলো বাসায়, সাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। এতোদিন শহিদের মুখে সাবার কথা শুনে শুনে মেয়েটার একটা চেহারা কল্পনা করেছিলো আতিক। কিন্তু বাস্তবে যখন সাবাকে দেখলো তখন যেন টাসকি খেয়ে গেলো? এতো সুন্দর? এই ছ্যাচরা শহিদের বউ এতো সুন্দর? হিংসেয় জ্বলে পূরে ছারখার হয়ে গেলো আতিক। নিজের ভাগ্যকে আরো বেশি খারাপ মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিলো যেন সে বিশাল ঠকা ঠকে গেছে? তারপর কি এক আকর্ষনে বারংবার শহিদের বাসায় যাওয়া, অকারনে বসে থাকা। কখনো শহিদ বাসায় থাকতো কখনো থাকতো না। কখনো ওকে বাসায় রেখেই শহিদ বেড়িয়ে যেতো বাসা থেকে। অফুরন্ত সুযোগ পা পিছলানোর। সাবাও কম যেতো না। যেদিন যেদিন আতিকের যাওয়ার কথা সেদিন যেনো সে ইচ্ছে করেই সেজে থাকতো, গায়ের জামাটা একটু বেশিই টাইট থাকতো, আবার কখনো পাতলা জর্জেটের শাড়ি থাকতো পড়নে। খুব বেশিদিন লাগেনি দুজনার দুজনের কাছে আসতে? অদ্ভুত আনন্দের দিন কেটেছে আতিকের। কিন্তু আফসোস, এবারো আনন্দটা স্হায়ী হলো না। চার মাসের মাথায় ধরা খেয়ে গেলো। সাবার নিজের চাকরি ছেড়ে দিতে হলো। শুধু তাই না, এলাকা ছেড়ে দূরে চলে যেতে হলো। এরমধ্যে আবার ব্যাপারটা বিভাও জেনে গেলো। যাকে বলে বিপদের ঘড়া পূর্ণ হওয়া!

আতিক এতোক্ষণ অফিসের চেয়ারে হেলান দিয়ে দোল খেতে খেতে ভাবছিলো এসব। সেই ঘটনার পর প্রায় তিনমাস কেটে গেছে। কিন্তু বিভা একটুও নরম হয়নি। ওর থেকে সবসময় একটা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলছে,আলাদা রুমে ঘুমাচ্ছে। তারমধ্যে আজকাল বিভা ওকে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখছে। যেমন অফিস থেকে ফিরে আতিক যখন ওয়াশরুমে ঢুকে তখন বিভা টুক করে ওর মোবাইলটা চেক করে। আতিক এটা বেশ ভালোভাবেই বোঝে, বুঝে শুধু মুচকি হাসি দেয়। বিভাকে কিছুই বলে না। মাঝে মাঝে হঠাৎ হঠাৎ ফোন দিয়ে বিভা জিজ্ঞেস করে, কোথায় তুমি? আবার কোনো কোনো দিন অফিসের নিচে এসে ফোন দেয়, তুমি কি ফ্রি আছো? নিচে আসো, আমি ওয়েট করছি। আজ একসাথে লাঞ্চ করবো! আতিক ব্যাপারটায় বেশ মজা পাচ্ছে। এই ইদুর বিড়াল খেলায় বিভা নিজেকে বিড়াল ভাবছে কিন্তু আসল বিড়াল তো আতিক, যে প্রতিনিয়ত বিভাকে দৌড়ানি দিচ্ছে! ভাবতেই মনের মধ্যে কেমন একটা পৈশাচিক সুখ অনুভব করে আতিক।

আজকাল সাবার কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। সেই পুরান ঢাকায় চলে গেছে ওরা। এই কয়েকমাসে একবারও দেখা হয়নি সাবার সাথে আতিকের। আসলে দুজনাই এই মানসিক ধকলটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরকম ভাবে ধরা খেয়ে যাবে এটা দুজনার কেউই ভাবেনি। তাই নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার একটু সময় দিচ্ছে। তবে প্রায় প্রতিদিনই কথা হচ্ছে সাবার সাথে। কথা শেষে সুন্দর মতো কল লিষ্ট থেকে নাম্বারটা ডিলিট করে দেয় আতিক, এমনকি ম্যাসেজগুলোও ডিলিট দেয়। বিভা তাই কোনো মোবাইল ঘেটে কিছু পায় না। এখন বিভার বিশ্বাস জেতাটা খুব জরুরী আতিকের জন্য। ওর বোনগুলো আবার বিভাকে ভালোবাসে খুব। তাই বিভাকে কোনো মতেই রাগাতে চায় না এই মুহুর্তে। আর তাছাড়া সংসার করার জন্য বিভার মতো মেয়ের দরকার আছে যে নিজের ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে সংসারটা আগলে রাখবে। আর সাবার মতো মেয়েদের সাথে শুধু মজা নেয়া যায় বিয়ে করে বউ বানানো যায় না। দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা আতিক তার মনের সন্তুষ্টির জন্য সব ধরনের যুক্তি সাজিয়ে রাখে। অন্যায়টাকে ন্যায় বানানোর জন্য আতিকের খোঁড়া যুক্তির অভাব নেই। সে যাই হোক, সাবাকে নিয়ে পরেও ভাবা যাবে। আপাতত বিভাকে কিভাবে কাছে টানা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। মেয়েটা আজকাল একটু বেশিই জেদ দেখাচ্ছে। মা কাছে থাকলে বেশ হতো! বউমাকে সোজা করার ব্যাপারে মায়ের কোন জুড়ি নেই। দেবে নাকি ফোন একবার মাকে? দোনোমোনো করতে করতে মাকে ফোন দিয়েই ফেললো আতিক, আর কিছু না হোক, মায়ের সাথে কথা বলে মনটা না হয় হালকা করলো!

*******

লাঞ্চ আওয়ারে জেরিনের সাথে বসে একসাথে লাঞ্চ করছিলো বিভা। সেদিনের ঘটনাটা জেরিনকে পুরোপুরি খুলে বলেছে বিভা। সাথে সাথে অবশ্য বলেনি। বেশ অনেকদিন পর বলেছিলো। এই একটা মেয়ের সাথে বিভা মন খুলে কথা বলতে পারে যে কোন ব্যাপারে। ওর নিজের বোনের চাইতে বেশী ক্লোজ বিভা জেরিনের সাথে। যে কোন বিষয়ে জেরিন মন দিয়ে শোনে আর কখনো বিষয়টা নিয়ে ফান করে না। এটাই ওর সবচেয়ে বড় গুন। আজও জেরিন বিভাকে আতিকের ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করছিলো-
“বিভা, খবর পেলি কোন আতিকের? ”
“না, জেরিন আপু, কিছুই তো পেলাম না। প্রায় প্রতিদিনই ওর ফোন চেক করি কিছুই পাই না। আর গত কয়েকমাসে সে আমার সাথেও বেশ ভালো আচরন করছে, বাসায় তাড়াতাড়ি ফিরছে।”
“তাহলে তো আমার মনেহয় সত্যি সত্যি কিছু একটা ছিলো।”
“কেন?”
“যে মানুষটা তোকে কিছুদিন পর পর মারতো, গত কয়েকমাসে একবারও মারেনি, ব্যাপারটা কেমন না?”
“আমার কি মনেহয় জানো?”
“কি?”
“ও মনে হয় ভয় পেয়েছে। যে মার খেয়েছিলো, এতো সহজে তো ভোলার কথা না। ”
“কি জানি? তাও হতে পারে! ”
ঠোঁট উল্টায় জেরিন।
“তবুও আমি বলবো, তুই এবার ওকে এতো সহজে বিশ্বাস করিস না। আরো কিছুদিন সময় নে।”
“আমিও তাই ভাবছি। দেখি… না…”
কথা বলতে বলতেই বিভার ফোন বাজলো। স্ক্রীনে কনার নাম দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো-
“হ্যা,কনাপু,কি খবর? ভালো আছো? ”
“আমরা তো ভালোই আছি বিভা। কিন্তু মায়ের একটু সমস্যা হয়েছে। পাশের বাসার গফুর আংকেল ফোন করেছিলো। মায়ের শরীর নাকি খুব খারাপ? আমরা তো যাওয়ার পজিশনে নেই। বাবুর স্কুলে এক্সাম আবার তোমার দুলাভাই এর অফিস! তুমি আর আতিক কি একটু যাবে চাপাই? মায়ের শরীর বেশি খারাপ হলে একটু ঢাকায় নিয়ে এলে না হয় সাথে করে?”
“ওহ,তাই নাকি? আমার তো কালও মায়ের সাথে কথা হলো, কিছু তো বললো না?”
উদ্বিগ্ন কন্ঠে জানতে চাইলো বিভা।
“আজই নাকি হয়েছে? অনেকক্ষণ অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলো নাকি মা? আমি আতিকের সাথে কথা বলছি। তুমি প্লিজ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নাও। আমি আতিকের উপর ভরসা করতে পারি না। ও মাকে ভালোবাসে তো তাই মায়ের খারাপ অবস্থা দেখলে সামলাতে পারবে না।”.
” আচ্ছা ঠিক আছে, আপু। আমি দেখছি কি করা যায়। ”
ফোন কেটে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো বিভা। এভাবে ছুটি নিলে কি আদৌ চাকরি করা সম্ভব? এবার কি বলে ছুটি চাইবে বিভা? ওকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে জেরিন জানতে চাইলো-
“কি রে কি হয়েছে? কোনো সমস্যা? ”
“হ্যা, সমস্যা তো বটেই। এখন বস কে কি করে ম্যানেজ করি বলোতো? এইবারে তো মনে হয় চাকরি ছেড়ে দিতে বলবে?”
“কি হয়েছে বলবি তো?”
“ননদ ফোন দিয়েছিলেন, শাশুড়ী নাকি অসুস্থ? তাই বাড়ি যেতে বললেন।”
“অসুস্থ হলে তো যেতেই হবে। তুই যা বসকে বলে দেখ। ঝামেলা করবে না দেখিস?”
বিভা তবুও সাহস পায় না। কিন্তু ও তো বাধ্য, যেতেই হবে। খাওয়া শেষ করে দুরুদুরু বুকে বসের কেবিনের সামনে যেয়ে দাঁড়ালো।

*******

আসলেও বিভার শাশুড়ী অসুস্থ ছিলো। বিভা আর আতিক বাড়ি যেয়ে দেখে অবস্থা ক্রিটিক্যাল। ওরা পরদিনই একটা এ্যাম্বুলেন্সে করে আতিকের মাকে নিয়ে ঢাকায় ব্যাক করলো। এনে সরাসরি পিজি হাসপাতালে ভর্তি করালো। টেষ্ট ফেষ্ট করে দেখা গেলো আতিকের মায়ের স্ট্রোক হয়েছে, সেই সাথে পুরনো রোগ হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস এগুলো কন্ট্রোল লেস। মায়ের এই অবস্থা দেখে আতিক পুরো পুরি ভেঙে গেলো। একটা সেকেন্ড মায়ের কাছ ছাড়া হচ্ছে না আতিক। বাচ্চা ছেলেদের মতো মায়ের কাছে বসে আছে আর মাঝে মাঝে আড়ালে যেয়ে কান্না করছে মায়ের অবস্থা দেখে। আতিকের বোনেরাও সব পালা করে থাকছে, সেই সাথে বিভাও আছে। বিভা একটু অবাক হয়ে আতিককে খেয়াল করেছে এই কয়দিন। মানুষের কতো রুপ হয়! এই ছেলেটাই ওকে মারে মাঝে মাঝে আবার এই ছেলেটাই মায়ের জন্য কান্না করছে! যার মনে মায়ের জন্য এতো মায়া সে কিভাবে বউয়ের গায়ে হাত তুলে, এটা ভেবে পায়না বিভা! একমাস জমে মানুষে টানাটানি করে অবশেষে মাকে বাসায় নিয়ে আসলো আতিক আর বিভা। আতিকের মা নিজে কিছু করার ক্ষমতা হারিয়েছে। এমনকি খাওয়াটাও বিভার খাইয়ে দিতে হয়। চাকরি থেকে শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে হয়েছে বিভার। আতিক স্ট্রিক্টলি বলে দিয়েছে যেন ওর মায়ের কোনো অযত্ন অবহেলা না হয়। কি আর করবে বিভা? আবারও একটা কম্প্রোমাইজ করতে হলো। তাছাড়া এতোদিন ছুটি কাটানোর ব্যাপারটা নিজের কাছেই কেমন লাগছিলো যেন। এখন আতিক নিশ্চিত মনে অফিস করছে আর বিভা শাশুড়ির সেবা।

শাশুড়ী আসার পর বিভার বাঁধ্য হয়ে আতিকের সাথে বেড শেয়ার করতে হচ্ছে। বিভা ওর শাশুড়ীর কাছেই শুতে চাচ্ছিলো কিন্তু উনি কিছুতেই রাজি হলেন না। বিভাকে বলে দিলেন, রাতে কারো সাথে ঘুমাতে উনার অসস্তি হয়। তাই বিভা যেন তার রুমে যেয়েই ঘুমায়। আতিক যেন এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। সেও মায়ের সাথে গলা মেলালো। অগত্যা বিভা হার মানলো। দু’দিন ধরে এই চলছে। এই দু’দিন আতিক কিছু বলেনি বিভাকে। বেশ অনেকদিন বাদে আতিকের পাশে শুয়ে খুব অসস্তি ফিল করছিলো বিভা। আগের মতো ঘেন্না না থাকলেও প্রেমটাও নেই। মনে হচ্ছিলো যেন কোন অপরিচিত মানুষের পাশে শুয়েছে। সেটা বুঝেই মনে হয় আতিক ঘাটায়নি ওকে। সারাদিনের খাটুনিতে ক্লান্ত বিভাও শোয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে গেছিলো। আজও আতিককে শুয়ে থাকতে দেখে নিশ্চিত মনে ঘুমাতে যাচ্ছিলো বিভা। ও বিছানায় শোয়া মাত্রই আতিক ওর গায়ের উপর হাত রাখলো। বিভা ভয় পেয়ে দরফর করে উঠে বসলো। আতিক ফিসফিস করলো-
“কি হলো? ভয় পেলে?”
দাঁতে দাঁত চাপলো বিভা-
“এসব কি আতিক? পাশের রুমে মা আছে! ”
“তো কি হয়েছে, বিভু? আমি কি পর মানুষ? তোমারই তো হাজবেন্ড! ”
“হাজবেন্ড! ঠিকই বলেছো? তা এতোদিনে বুঝি মনে পড়লো যে তুমি আমার হাজবেন্ড?”
বিভার কন্ঠে শ্লেষ।
“আমার ঠিকই মনে আছে, তুমি বরং ভুলে গেছো। কতদিন ধরে আমার কাছে আসো না বলোতো? এতোদিনেও কি তোমার আমার প্রতি বিশ্বাস জন্মায়নি? এই যে এতোদিন ধরে আমাকে এতো চোখে চোখে রাখলে তবুও এতো অবিশ্বাস? কেন বিভু, কেন?”
আতিকের কথা শুনে দমে গেলো বিভা। আতিক কিভাবে জানলো যে বিভা ওকে চোখে চোখে রাখছে? তাহলে ও কি সব টের পেয়েছে? টের পেয়ে আগে থেকেই নিজেকে প্রিপেয়ার করেনি তো আবার?
“মানে কি বলছো এসব? আমি কেন তোমার উপর নজর রাখতে যাবো?”
“দেখো বিভু,আমি জানি তুমি আমার উপর নজর রেখেছো। তবে এজন্য আমি তোমার উপর রাগ করি নাই। আমি সন্দেহ করার মতো কাজ করেছি তাই তুমি এমন করেছো। কিন্তু এখন তো তোমার এমন করার উচিত না, তাই না? আমারও তো একটা ধৈর্যের লিমিট আছে? প্লিজ আজ মানা কোরো না! ভালোবাসি তোমাকে, এটা নিয়ে অন্তত সন্দেহ পোষন করোনা?”

আতিক মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে বিভাকে কাছে টানে। বিভা মানা করতে পারে না। আবার মন থেকে গ্রহনটাও হয় না। মেয়ে মাত্রই আত্মসমর্পণ যেন অবধারিত! তবুও তাতেও যদি সব পাওয়া যেত জীবনে? এতোকিছুর পরেও সামনে একটা কালবৈশাখী ঝড় আড়ি পেতে হাসছিলো বিভার জীবন লন্ডভন্ড করার জন্য তা কে জানতো?

চলবে—–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here