আমার_হৃদয়ে_সে,০৯,১০,১১

#আমার_হৃদয়ে_সে,০৯,১০,১১
#রোকসানা_আক্তার
পর্ব-০৯

মানুষ জানেন কখন সবথেকে বেশি খুশি হয়?যখন হঠাৎ সে তার অপ্রকাশিত কোনো খুশির সংবাদ পেয়ে যায়।আমিও তাই পেয়েছি আঙ্কেলের থেকে।সকালেরই কথা।ফাহিমকে আমি রাতে যেই স্কেচটা করে দিয়েছি সেই স্কেচটা সে রাতের মধ্যে পেন্সিল রং-এ ভরিয়ে দেয়।তার নিঁখুত তুলির হাতে নিষ্প্রাণ স্কেচটা একদম প্রাণবন্ত হয়ে যায়।কাগজে ধূসর কালো পেন্সিলের রং মুছে ড্রয়িং এ নর-নারীকে খুবই জীবন্ত মনে হয়।তাদের মুখের দিকে তাকালেই মনে হয় বুঝি তাদের ঠোঁট রাঙ্গা হয়ে উঠছে।তারা প্রাণ খুলে দুজন সেই রাঙ্গা ঠোঁট কথা বলছে।আঙ্কেলের ব্রেকফাস্ট টেবিলে ফাহিম যখন খুশিতে আঙ্কেলকে স্কেচটা দেখাতে যায়! আঙ্কেল স্কেচটা দেখে প্রায় বাকরুদ্ধ এবং নিস্তব্ধ হয়ে যান।কয়েক সেকেন্ডস ত তিনি মুখ দিয়ে কোনো কথাই বলতে পারেন নি!পরক্ষণে প্রশংসা মাতিয়ে নিরবতা ভেঙ্গে বলে উঠেন,

“হোয়াট আ দা ড্রয়িং ইজ!স্কেচটা করেছে কে?”
“আপু করে দিয়েছে।”
“আপু?আর রং?”
“আমি!”
“ট্যালেন্ডেট বয়।যাও এবার তোমার আপুকে ডেকে নিয়ে আসো।”

আমি আঙ্কেলের কাছে আসতেই আঙ্কেল তার চিকচিক দাঁতে হেসে দেন।জিহ্বা দিয়ে গলা ভিজিয়ে বলেন,
“বসো।বসো।কথা আছে তোমার সাথে।”

গিয়ে বসলাম আঙ্কেলের সামনের চেয়ারটায়।আঙ্কেল মুখে এক পিস রুটি ফুঁড়ে তা শক্ত দাঁতে কষতে কষতে বলেন,
“পারিসা, তুমিতো খুব ভালো ড্রয়িং পারো তা আগে জানতাম না!”

আঙ্কেলের কথার পিঠে বিনিময়ে একটা হাসি উপহার দিই।খালামণি কিচেন থেকে আরেক বাটি রুটি নিয়ে আসেন।তা টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বলি,
“আমি জানি।পারিসা যে খুব ভালো ড্রয়িং পারে।”
“আমাকে আগে বলবে না?”
“তো বললে?”
“আরেহ ড্রয়িং নিয়ে কত ভালো ভালো এক্সিবিশন হয়,জানো তুমি?কত বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি আছে তারা প্রতিবছর না কোনো এক অকেশন উপলক্ষে আর্টের এক্সিবিশন করে।এতে কতশত আর্টিস্ট অংশগ্রহণ করে।”

আমি পাশ থেকে বলি,
“আমিতো আর আর্টিস্ট না।”
“যে আঁকে সেই আর্টিস্ট!তোমার যে স্কেচ না?তোমার মতন আমার মনে হয় আরো অনেক শতশত চিত্রশিল্পীও এরকম জানে না।তোমার ড্রয়িং আমার খুব ভালো লেগেছে পারিসা।তুমি ভালো করতে পারবে আমার বিশ্বাস। আর সামনে আমাদের কোম্পানিতে একটা প্রোডাক্ট এক্সিবিশন হবে। প্রোডাক্টগুলো নিঁখুত ভাবে এঁকে এতে পণ্যের আলাদা আলাদা করে গুণ,মান,ভেল্যুও সব চিত্রের মাধ্যমে দেখাতে হবে। কোম্পানির এবারের প্রজেক্টটা খুবই ভিন্নধর্মীর। এবার চিত্রশিল্পীদের এক্সিবিশনের মাধ্যমে চিত্রশিল্পী সিলেক্ট করবে।যারটা সবথেকে ভালো হবে।তারটা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করবে।আর বিজ্ঞাপনটা যদি ক্রেতাদের মনে লেগে যায়,আই প্রজেক্টটা সাকসেস হয় তাহলে ত কথাই নেই।ধরো তুমি যদি একবার এই এক্সিবিশনে জয়েন করো এবং সিলেক্টেড হও তাহলে ভেবে দেখে ত তোমার জায়গাটা কোথায় হবে?তোমার সুনাম,খ্যাতি, নামে পুরো জায়গায় ছড়িয়ে যাবে।কেননা,এবারই প্রথম কোনো কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট বিজ্ঞাপন দিতে এইরকম ভিন্নধর্মী প্রজেক্টটা হাতে নিয়েছে।এরকম প্রজেক্ট আজ পর্যন্ত কোনো কোম্পানিই করে নি।এবার আমরাই শুরু করেছি।”

আঙ্কেলের কথায় আমি খুব নার্ভাস হয়ে যাই।সাথে অনেক এক্সাইটেড ও।আসলেই এক্সিবিশনে জয়েন করলে অনেককিছু হবে।তবে আমিতো আর প্রফেশনাল আর্টিস্ট না।আমাকে দিয়ে নাও হতে পারে।কত প্রফেশনাল আর্টিস্ট জয়েন করবে!বললাম,

“এতজনের মাঝে আমি কি পারবো?আমিতো আর প্রফেশনাল আর্টিস্ট না!”
“আরেহ এখানে প্রফেশনালি মেইন পয়েন্ট না।মেইন পয়েন্ট হলো তোমার কাজটা কতটা নিঁখুত,কতটা আগ্রহবোধ এবং কতটা রুচিশীল হবে সেটার উপর ডিপেন্ডেড!”

খালামণি বলেন,
“হ্যাঁ,পারিসা।হাল ছেড়ে দিস না।চেষ্টা করে দেখ।হলেও হতে পারে। ”

আঙ্কেল এবং খালামণির কথাগুলো অনেকক্ষণ ভাবলাম।ভেবেটেবে তারপর নিজেই বললাম,”মন্দ বলেনি।পৃথিবীর কোনোকিছুই অসম্ভব না।হ্যাঁ,আমাকে পারতেই হবে!এমন একটা সুযোগ কিছুতেই হাত ছাড়া নয়।আল্লাহ আমাকে ভালো কিছু দিলেও দিতে পারেন!”এখনতো দেখলেন অবস্থা আমার।অনেক কথাই বললাম। যাইহোক এবার ল্যাপটপ নিয়ে বসি।ল্যাপটপে ড্রয়িং করতে হবে।ল্যাপটপের পণ্যের ড্রয়িংগুলো এক্সিবিশনে উপস্থাপিত হবে।আমি ল্যাপটপে ওতটা সুবিধাজনক না।তারপরও এখন চেষ্টা এবং প্রাকটিস দুটোই করতে হবে।তুখোড়ভাবে করতে হবে।

৯.
তারপর থেকে আঙ্কেল আমাকে প্রোডাক্ট আর্টের কিছু স্যাম্পল এনে দিতে থাকেন।কীরকম আর্ট করতে হবে?কীভাবে করতে হবে? কোন এঙ্গেলে করতে হবে সব।আমিও হাল ছেড়ে নই।ধুরন্ধর চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছি।একটা সময় আঙ্কেলের কোম্পানির “প্রোডাক্টস এক্সিবিশন অন আর্ট ২০২১” এর ডেট তারিখ দিয়ে দেয়।সকালে আমি আঙ্কেলের সাথে নাস্তা করে বের হই।যাওয়ার সময় আন্টি আমাকে মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে দেন।ফাহিম একটা পাপ্পা দিয়ে আদর করে দেয়।আমি আঙ্কেলের কোম্পানিতে পৌঁছাই।এসে দেখি অনেক আর্টিস্ট ইতোমধ্যে এসে পড়েছে।সবার হাতে এক একটা ল্যাপটপ।আঙ্কেল আমাকে ওয়েটিং রুমে এনে বসান।বাম হাতা উল্টে ঘড়িতে টাইম দেখে নেন।ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলেন,

“এখানে বসো।আমি কোম্পানির সাথে কথা বলে আসছি।”
“আচ্ছা।”

আঙ্কেল চলে যায়।আমি তারপর ব্যাগ থেকে ফোন বের করি।ভেবেছি মাকে এই এক্সিবিশনের কথাটা বলবো।মা জানেন না আমি যে এখানে এসেছি।খালামণির বাসায় আসার পর মা আমাকে অনেকবারই কল করেছে।ংতবার কল রিসিভ করেছি ততবারই মার একই কথা ছিল-“ভদ্র মেয়ের মতন বাসায় ফিরে যেতে।বাবা রাগ করে আছে।”আমি বারবার একই উত্তর প্রদান করেছি তা হলো “যাবো না।নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াবো।”ব্যাস্ এটুকুই। এখন জানি না জবের ব্যাপারটা শুনলে কেমন রিয়েক্ট করবেন বা মানবেন কি মানবেন না।তারপরও কল দিব।কারণ এতবড় একটা এক্সিবিশনে আসছি মা-বাবাকে জানানো টা কর্তব্য আমার।কল দিলাম।দুই তিনবার রিং হবার পর ওপাশ থেকে রিসিভ হয়,,

“হ্যাঁ,বল!”

মার কথায় বুঝা যাচ্ছে মা আমার উপর খুব রেগে আছে।রিসিভ করে কেমন শক্ত কথা বললো।আমি নৈঃশব্দে একটা ঢোকর গিলে জবাব দিই,

“মা আমি একটা এক্সিবিশনে আসছি।এক্সিবিশনটা আর্ট নিয়ে।আমার মতো অনেকেই আসবে এক্সিবিশনে।এক্সিবিশনটা কোম্পানির প্রোডাক্ট নিয়ে হবে।তাদের পণ্যের গুণ,মান,ভেল্যু সব পেইন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে।সবার মাঝে যারটা খুব বেশি গ্রহণযোগ্য হবে তাকেই সিলেক্ট করা হবে।আর সেইটা দিয়ে কোম্পানি বিজ্ঞপ্তি দেবে।এটা এবার কোম্পানির অনেক বড় একটা প্রজেক্ট।অন্যসব প্রজেক্ট থেকে এই প্রজেক্টটা খুবই আলাদা।দোয়া করো আমার জন্যে আর বাবাকেও বলবে যাতে আমাকে দোয়া করে।যদি একবার সাকসেস হতে পারি তাহলে সামনে ভালোকিছুই হবে।”

“বুঝলাম,সব!তা তোর সংসার?ওসবে চিন্তা নাই একদম, না?”
“রাখলাম ফোন।”

বলে কেঁটে দিলাম।কেঁটে দেওয়ার কয়েক মিনিটস বাদেই আঙ্কেল ফেরত আসেন।ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলেন,

“এখন ক’টা বাঁজে?”

আমি হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে,
“দশটা।”
“এগোরটার দিকে তোমার এক্সিবিশন শুরু হবে।আমি আবার ওদিকটায় একটু যাবো। শিল্পীদের ল্যাপটপের প্রোডাক্ট ড্রয়িংগুলো আমাকে একাই হ্যান্ডেল করতে হবে।”

বলে মুখটা তিনি নিরস করে ফেলেন। আঙ্কেলের মুখ দেখে বুঝতে পারছি আঙ্কেল তার কাজের উপর চরম রকমের বিরক্ত।সম্ভবত কোম্পানির সবথেকে জটিল কাজটা আঙ্কেলকেই দিয়েছে।আঙ্কেল বলেন,

“এখন তুমি আমার অফিসে বসো।ওখানে এসি আছে।এখানে ভীষণ গরম।বসতে পারবে না।আমি ফিরে এসে তোমাকে ” প্রোডাক্টস এক্সিবিশন অন আর্ট ২০২১” গ্রাউন্ডে নিয়ে যাবো।”

“জ্বী,আচ্ছা।”

তারপর আঙ্কেল আমাকে উনার অফিসে নিয়ে বসান।

চলবে…

#আমার_হৃদয়ে_সে
#রোকসানা_আক্তার
পর্ব-১০

১০.
একঘন্টা হলো”প্রোডাক্টস এক্সিবিশন অন আর্ট ২০২১” শেষ করে বাসায় ফিরেছি।এরমাঝে ফ্রেশ হয়েছি। খাওয়াদাওয়ার কাজ সেরেছি।সারাদিনে খুব পরিশ্রম গিয়েছে।এখন ভীষণ ক্লান্ত।একটু ঘুম প্রয়োজন।জানলার পর্দাগুলো নামিয়ে দিয়ে কোলবালিশ টেনে কাত হয়ে শুয়ে গেলাম।চোখজোড়া বন্ধ করে নিলাম আলতো ভাবে।কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর চোখে ঘুম জড়িয়ে গেল।ঘুম ভাঙ্গে সন্ধের পর।চারদিকে তাকিয়ে দেখি অনেক রাত হয়ে গেছে।সময় লাগলো আড়মোড়া ভাঙ্গতে।আড়মোড়া ভাঙ্গার পর উঠে বসলাম।তারপর বাথরুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে বাইরে এলাম।ডাইনিং এ খালামণি খাবার জড়ো করছেন।ফাহিম সোফায় বসে খেলা দেখছে।খালামণি আমাকে দেখে বলেন,

“ঘুম কেমন হলো?”
“খুব ভালো।একদম ফ্রেশনেস লাগছে এখন।”

খালামণি মিষ্টি হাসি দেন,
“দুপুরের পরের ঘুম টুকু এরকমই ফিল দেয়।যাইহোক এবার নাস্তা করতে বসো।”

খালামণির কথায় সায় দিয়ে নাস্তা করতে বসলাম।ফাহিমও সাথে যোগ দিলো।খালামণি খাবেন না।পেট নাকি ভরা।নাস্তা খাওয়া অবস্থায় আঙ্কেল অফিস থেকে বাসায় ফেরেন।বাসায় ঢুকতে ঢুকতে বলেন,

“কি করো তোমরা সবাই?”

ফাহিম আওয়াজ তুলে বলে,
“খাচ্ছি বাবা।”

খালামণি বিরক্তি মুখে বলেন,
“দেখো না কি করতেছি?!”

আঙ্কেল খালামণির কথায় আর জবাব দেননি।খানিকটা ফিঁকে হয়ে যান।পরমুহূর্তে আমার দিকে তাঁকিয়ে বলেন,
“পারিসা?আজ সম্ভবত তোমার রেজাল্ট দিবে।”

আঙ্কেলের কথা শুনে খাওয়ার মাঝে আমি কেশে উঠি।আন্টি তরহর জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে তা আমার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে আঙ্কেলকে বলেন,

“তোমাকে কেউ কি জিজ্ঞেস করেছে খাওয়ার মাঝে এত কথা বলতে?এমনিতেই মেয়েটা এক্সিবিশনটা শেষ করে খুব টেনশনে আছে তারউপর আবার রেজাল্টের কথা!
পারিসা পানি খাও।”

খালামণির থেকে গ্লাস টেনে পানিটুকু শেষ করলাম। কাশি ভাব কিছুটা কমে এলো।আঙ্কেল বুঝতে পারলেন রেজাল্টের কথা শুনে আমি খুব নার্ভাস হয়ে গিয়েছি।তাই তিনি প্রসঙ্গ পাল্টে বলেন,

“আহা পারিসা এত কাশতে হবে না।যা হবে ভালে হবে।আর রাহেলা ফ্রেশ হয়ে আসছি।খাবার বাড়ো।পারিসার সাথে একসাথে খেতে আসতেছি।”

রাতে আর রেজাল্ট আসলো না।সার্ভারে কি নাকি ঝাঁমেলা হয়েছে তাই পাবলিসড করতে পারেনি।সকালে পাবলিসড করবে।সকাল না হতে পাবলিসড করেও দিলো।কীভাবে বুঝলাম,জানেন?কারণ মাত্র ই-মেইল মেসেজ টোন বেজে উঠেছে।আর ই-মেইলে আমার মেসেজ আসার কথা শুধুমাত্র এক্সিবিশনটা থেকে।আমি আর ল্যাপটপের কাছে গেলাম না।আঙ্কেলকে ডাক দিলাম।আঙ্কেল চোখে চশমা এঁটে সোফা থেকে উঠতে উঠতে বলেন,

“রেজাল্ট দিয়েছে?”

আমি চুপসে যাই।আমার ভাবান্তরে আঙ্কেল বুঝে যান রেজাল্ট পাবলিসড হয়ে গেছে।তিনি আর কিছু না বলে রুমে আসেন।ল্যাপটপের কাছে যেয়ে রেজাল্ট সম্ভবত চেক করেন।চেক করেই তিনি চোখমুখ কুঁচকে ফেলেন।বলেন,

“হোয়াট আ আনবিলিভএ্যাবল!”

আমার সারা শরীর কেঁপে উঠে।এই বুঝি আমি কেঁদে দিব।আঙ্কেল এটা কেমন কথা বললেন?তারমানে আমি সিলেক্ট হইনি?কাঁপা ঠোঁট যুগলের ফাঁক বেয়ে বেরিয়ে আসে,

“আঙ্কেল, আমি সিলেক্টেড হইনি?”

আঙ্কেল আমার এ’কথার পিঠে হেসে দেন।তারপর ফিরে বলেন,
“তুমি সিলেক্টেড হয়েছো,পারিসা।এটা সত্যিই বিমোহিগ।বিশ্বাসই হচ্ছে না তুমি প্রফেশনাল না হয়ে এতবড় এ্যাচিভ করবে।কংগ্রাচুলেশনস, ডটার!”

এবার আমি সত্যিই কেঁদে দিলাম।চোখের নোনা পানিগুলে খুশির ছিল।অতিরিক্ত খুশির।

১১.
প্রোডাক্টস পেইন্টিং বিজ্ঞাপন হিসেবে টেলিভিশন, ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।প্রকাশের প্রথম দুই তিনদিন তেমন একটা সাড়া পায়নি। চারদিনের মাথায়ই বিজ্ঞাপন আস্তে আস্তে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়।তারা “অটোয়া কোম্পানি ” মানে আঙ্কেলদের কোম্পানির সম্পর্কে জানতে চায়।তাদের প্রোডাক্টসগুলোর চাহিদা বেড়ে যায়।এক সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিটির শত শত প্রোডাক্টস বিক্রি হবার রেকর্ড হয় যা গত বছরের সমীক্ষা থেকে এ’বছর ৩ গুণই বেশি!কোম্পানিটি মোটামুটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির স্টেজে চলে আসে।আঙ্কেলে ত খুব খুশি।বাসায় এসে কতবার যে আমার গুণগান গাইলেন!আমাকে নাকি কোম্পানিতে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ করা হবে।মেডেল দিনে।আরো অনেক বড় বড় গ্রিফট।
১২.
সকাল ন’টা বাজে।অবেলায় শুয়ে আছি।মনটা কেনজানি আজ সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে ভীষণ খারাপ।সকালে হুট করেই কতগুলো অতীত মস্তিষ্কে নাড়া দিয়ে উঠলো।জীবনে আমার কতকিছুই পার করে এসেছি। বিয়ে হয়েছে।সংসার হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকদেরও দেখা হয়েছে। সবই ভালো ছিল কিন্তু যার সাথে সংসার করেছি তাকেই আমার আজ পর্যন্ত ভালো করে চেনা হলো না।বুঝা হলো না।কখনো ভালোভাবে দেখাও হলো না।স্বচ্ছ কাচের মতন সে ওপাশের দেয়ালেই ঢাকা পড়ে গেল।এখনো ঢাকা পড়ে আছে।খামোখা মাঝখানের এই খন্ডকালীন জীবনটায় যত কষ্ট মুড়েছিল !আজ আমি খুব ভালো অবস্থানেই আছি।স্বামী ছাড়া,নিজের পরিবার ছাড়া।আপনারা হয়তো জানেন না আমাকে অনেক ভালো ভালো কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপন বানাতে বিশেষভাবে নিমন্ত্রণ কার্ড পাঠায়। অলরেডি আমি অনেকগুলো কোম্পানির বিজ্ঞাপনের সাথে যুক্তও হয়ে গেছি।মাল্টিন্যাশনাল একটা কোম্পানিতেও আমাকে কার্ড পাঠিয়েছে যেটা আমার জন্যে সবথেকে খুশির সংবাদ!আমি উনাদের নিমন্ত্রণ সাগ্রহে গ্রহণ করেছি কেননা মাল্টিন্যাশনালের মতন এতবড় কোম্পানিতে যদি জয়েন হতে পারি তাহলে আমার লাইফ একদম সেটেল!আজ অবশ্যি সেখানে যাওয়ার তারিখ।দুপুরের পরে দেখা করতে বলেছে।

দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষ করে বাসা থেকে বের হব এমন সময় মার সাথে দরজা কাছে দেখা হয়ে যায়।মা হয়তো আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন।কালরাতে মার সাথে ঝগড়া করেছি।ঝগড়ার কারণ ছিল জবটা যে করেই হোক ছেড়ে দিতে।বিভিন্ন কোম্পানিতে যেয়ে যেয়ে বিজ্ঞাপন বানাচ্ছি এটা নাকি উনার কাছে চ্যাঁচরা কাজ মনে হচ্ছে।উনার আরো মনে হচ্ছে এসব কাজ করে দরিদ্ররা যাদের পেঁটে ভাত নাই!ঘরে চাল নেই!মার কথা শুনে প্রচন্ড রাগ শলে আসে!সাথে সাথে রেগেমেগে কলটা কেঁটে ফোন সুইচট অফ করে দিই।এতবড় সম্মানিত একটা পেশাকে মার চ্যাঁচরা মনে হলো হাস্যকর!খুবই হাস্যকর!ভাবনার মাঝেই খালামণি বলেন,

“আরেহ আপা,আপনি?হঠাৎ কি মনে করে বোনের বাসায়?”

মা কেমন ভার ভার মুখে খালামণিকে জবাব দেন,
” আসছি এমনি।”
“তো ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?সোফায় এসে বসেন না?”

মা সোফায় গিয়ে বসে।আমি ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি আমার আর দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই।দুটার আগে আগে ওখানে গিয়ে পৌঁছাতে হবে। গতরাতে এমডি কল করে তাড়াতাড়ি পৌঁছার জোর রিকুয়েস্ট করেছে।আমার পেছনে হালকা ঘাঁড় ঘুরিয়ে মা এবং খালামণিকে উদ্দেশ্য করে বললাম,

“আমি আসছি তাহলে।”

মা ওমনি বলে উঠেন,
“কোথায় যাচ্ছিস তুই?”
“বিজ্ঞাপনের স্যাম্পল আনতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যাচ্ছি।”

মা চোখমুখ খুব তীক্ষ্ণ করে আনেন।খালামণির দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত গলায় বলে উঠেন,

“রাহেলা,কি শুরু করেছিস তোরা ওকে দিয়ে?একটা থার্ড ক্লাস টাইপ চাকরি ধরিয়ে দিয়ে ওকে গরীবদের মতন এদিক ওদিক ঘোরাচ্ছিস?ওর কি সংসার করা লাগবে না?!এটা করেই কি ওর সারাজীবন কাঁটাবে?!”

“আপা,এসব কি বলতেছো?এটা থার্ড ক্লাস টাইপ চাকরি মানে?এই চাকরি সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণা আছে?
“আমার কোনো ধারণা রাখতে হবে না।ওকে ভালোয় ভালোয় বল বাসায় চলে যেতে!”

আমি এবার আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।খালামণিকে থামিয়ে বলে উঠলাম,
“বাসায় যাবো ওই আশা ছেড়ে দাও।আর চাকরিটাও ছাড়ছি বা।আমি আসছি। আমার লেট হয়ে যাচ্ছে।”

বলে মার এবং খালামণির সামনের থেকে চলে এলাম।
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিটিতে পৌঁছার পর এমডির পিএ আমাকে সাদরে গ্রহণ করেন।তারপর মিটিং রুমে নিয়ে আসেন।সেখানে এসে এমডি,ব্যবস্থাপক আরো অনেক কর্মকর্তাও বসে আছে।তারা সবাই আমাকে বসতে জায়গা করে দেন।আমি বসি।এমডি তার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন,

“ম্যাম,সময় মতই আসলেন।যাক টেনশনমুক্ত হলাম।”
“আমি যেখানে কথা দিই সে কথার বলখিলাপ করি না।”
“থ্যাংকস,ম্যাম।তা গরম নাকি ঠান্ডা খাবেন?এতবড় একজন আর্টিস্ট আমাদের অফিসে আসলেন..।”
“আরেহ নাহ আমি কিছু খাবো না।আমি আসার সময়ই ঠান্ডা কিছু খেয়ে এসেছি।”
“তারপরও..?”
“সরি।”

এম ডি আর কিছু বললো না।আমি বললাম,
“তা কাজ শুরু করা যাক…?”
“জ্বী,অবশ্যই।তার আগে ম্যাম,আমাদের কোম্পানির পরিচালককে ডেকে নিয়ে আসতেছি।উনিই বিজ্ঞাপনের ক্যাটাঘরিটা আপনাকে সাজেস্ট করবেন।আপনি একটা কাজ করুন ততক্ষণে আপনি একটু কষ্ট করে আমাদের প্রোডাক্টসগুলো দেখুন।”

বলে এম ডি আমার সামনে ল্যাপটপটা অন করে তাদের প্রোডাক্টসগুলো শো করে।আমি ল্যাপটপটা আমার হাতের কাছে টেনে এনে কি-বোর্ডের উপর চাপতে চাপতে এম ডি কে জবাব দিই,

“নো প্রবলেব।”

এমডি মাথা নেড়ে চলে যায়।কয়েক মিনিটস বাদেই কেউ একজন আমার সামনে এসে বসে।সম্ভবত পরিচালকই।আমি আর সামনে তাকালাম না।ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকেই তাকিয়ে থাকলাম।ওপাশ থেকে বলে উঠলো,

“আমার ক্যালিগ্রাফির বিজ্ঞাপন চাই।”

পরিচালকের কণ্ঠের আওয়াজ শুনামাত্রই আমার চোখে কেনজানি আতংক ছুঁয়ে যায়।তরহর করে মাথা তুলে সামনে তাকাই।সামনে তাকিয়ে যেটা দেখতে আমি একদমই প্রস্তুত ছিলাম না তাই দেখলাম।আমার সামনে অভি বসে আছে!আমাকে দেখে তার মাঝে তেমন কোনো ভাবান্তর দেখতে পেলাম না।সে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বসে আছে।স্বাভাবিক মুখেই আবার বললো,

“আপনার আগের ক্যালিগ্রাফির ডিজাইনগুলো আমাকে দেখান!যেটা আমার ভালোলাগে সেটা চুজ করবো।”

চলবে…..
(এরপর আপনাদের কি মনে হয়?পারিসা অভির কোম্পানির বিজ্ঞাপনে কাজ করতে কি রাজি হবে আর?)

#আমার_হৃদয়ে_সে
#রোকসানা_আক্তার
পর্ব-১১

”আপনার আগের ক্যালিগ্রাফির ডিজাইনগুলো আমাকে দেখান!যেটা আমার ভালোলাগবে সেটা চুজ করবো।”

পাশে রাখা আমার ল্যাপটপটা ওপেন করে ক্যালিগ্রাফির প্রোডাক্টগুলো স্ক্রিনে শো করে তা অভির দিকে এগিয়ে দিই।কাজটা অত্যন্ত ফর্মালভাবে করি।করার মাঝে কোনো রকম জড়তা বা আড়ষ্টতা ফুঁটে উঠে নি।দেখলেই যে কেউ বুঝবে অভির সাথে আমার এই প্রথম দেখা বা প্রথম কথা।অভি চটজলদি হাতে ল্যাপটপটা আমার থেকে টান মেরে ক্যালিগ্রাফিগুলো দৃঢ় মনোযোগে দেখতে ব্যস্ত হয়ে যায়।দেখা শেষ হলে সে ল্যাপটপটা আবার আমার দিকে তাঁক করে।স্ক্রিনে ইশারা করে। বলে,

“আমার কুয়াড্রানগুলার ক্যালিগ্রাফিগুলো পছন্দ হয়েছে।তবে গোলাপী কালার দেওয়া যাবে না।গোলাপীর বদলে গাঢ় নীল দিতে হবে।আর বাদবাকি কালার সব ঠিক আছে।তবে হ্যাঁ,কাজটা আমার একদম সলিড চাই।অত্যন্ত নিঁখুত কর্মা।কোনোরকম কাঁচা যেন না থাকে।আশা করি মোটামুটি ক্লিয়ার!”

বলে আমার দিকে তাকায়!আমার চোখের পাতা নিশপিশ করে উঠে।প্রথমে তাকাতে বিপত্তি বেঁধে যায়।তারপরও বিপত্তিকে ঠেলে স্বাভাবিক তাকিয়ে বলি,

“ক্লিয়ার!তবে হ্যাঁ,একদম নিঁখুতের ব্যাপারে আমি এখনো অনিশ্চিত।করার আগমুহূর্তে বলতে পারছি না।তবে আশা করি,নিঁখুত না হলেও সুন্দর হবে!”

বলে সৌজন্যতামূলক একটু হাসি।অভি চোখের দৃষ্টি অন্যদিক করে জোরে নেয়। গাঢ় একটা নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।আবার আমার দিকে তাঁকায়।বলে,

“ইট’স ওকে।আমি তাহলে প্রোডাক্টসগুলো আপনাকে ই-মেইল করে দিচ্ছি যেগুলোর বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।”
“সিউর।”

তারপর অভি আমার ই-মেইলটা নিয়ে তাতে প্রোডাক্টসগুলো এক এক করে সেন্ড করে।সেন্ড করা শেষ হলে। বলে,
“কাজ করার সময় আপনার যাবতীয় যা যা তথ্য জানার প্রয়োজন হবে আমাদের এম.ডি সাহেব আছেন।তাকে কল করে জেনে নিতে পারবেন।আপনাকে ডিরেকশন দেওয়ার কাজ উনার উপর।”
“ওকে।”
“কয়দিন লাগবে বানাতে আপনার?”
“আপনি ক’দিনের মধ্যে চান?”
” চারদিনের মধ্যে চাই।”
“ঠিক আছে।”

অভি আর কিছু বলে নি।তার কথা সম্ভবত শেষ।সে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সামনে থেকে চলে যায়।তারপর এম.ডি আমার সামনে বসে।বিনীত বাক্যে বলে,

“ম্যাম,আপনার যত যা সমস্যা হয় কাজ করতে গিয়ে আমাকে সাথে সাথে কল দিবেন।ঠিক আছে?”
“সমস্যা হলে অবশ্যই দিব।”
“থ্যাংক ইউউ,ম্যাম।”
“মোস্ট ওয়েলকাম।”

তারপর চলে আসি।

১৩.
ভেতরটা নিশপিশ করছে।মনটা খুব একটা ভালো নেই!অবশেষে অভির কোম্পানিরও বিজ্ঞাপন বানাতে হচ্ছে?
জীবনে ঘুরে দাঁড়াবার সময়ে এটাও ছিল কপালে?কখনো ত ভাবিই নি ওর সামনে গিয়ে এভাবে দাঁড়াবো।আর আজ!আর আমি ওর সামনে কীভাবে এতটা শান্ত,স্বাভাবিক এবং সাবলীল থেকেছি!অবাক!বড্ড অবাক নিজের উপর!তবে কেনজানি ওর কোম্পানির বিজ্ঞাপন বানাতে মন থেকে একসেপ্ট করতে পারছি না।মন চায় এখুনি অফার টা সোঁজা রিজেক্ট করে দিই!কয়েক সেকেন্ডস নিশ্চুপ থাকি।এরইমাঝে খালামণি আসেন।আমি ফ্যাকাসে চোখমুখ মসৃণ করে আবার ঠিকঠাক হয়ে বসি।জোরপূর্বক হেসে।বলি,

“খালামণি..!”

তালে খালামণিও হেসে দেন।হাতে থাকা খাবারের প্লেট টি-টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বলেন,
“বিকেলো আসার পর থেকেই রুম থেকে বের হচ্ছিস না।সন্ধে নাশতাও করলি না। আঁটটা বাজতে চললো।এখনতো কিছু খেয়ে নে?”
“খুদা নেই খালামণি।”
“খুদা নেই মানে?আবার জ্বরটর হলো নাকি?”

বলে তিনি উদ্বিগ্নতা মুখে আমার কাছে আসেন।কপালে,মুখে,গাঁয়ে হাত বুলান।নাহ তাপমাত্রা ঠিকই আছে।বলেন,

“তাপমাত্রা ত ঠিক আছে।তাহলে খেতে ইচ্ছে করছে না কেন?”
বলে খালামণি কয়েক সেকেন্ডস চুপ থাকেন।এরমাঝে কিছু ভাবেন।পরক্ষণে মনে অন্য আশঙ্কা ঢুকতেই চোখজোড়া বড় করে ফেলেম। বলেন,
“এই পারিসা?আবার মন খারাপ নাকি?ওখানে কিছু হয়েছে?ওখান থেকে আসার পর থেকেই ত দেখছি খেতে চাচ্ছিস না!”

আমি খালামণির এ’কথার পিঠে খালামণির দিকে মাথা তুলে তাকাই।পরক্ষণে মাথা আবার নত করে ফেলি।কথার জবাব দিই নি।নিশ্চুপতায় খালামণির জহুরি চোখ আমার মনের কথা বুঝে যায়।আসলেই মন খারাপ আমার।খালামণি ওমনির হাত চাপড়ে ধরেন।বলেন,

“কি হয়েছে অফিসে?বল আমাকে?”

আর চুপ থাকতে পারি নি।অভির কথা খালামণিকে বলে দিই।খালামণি সবটা শুনে হেসে দেন।তা দেখে আমার চোখ জোড়া সরু হয়ে আসে।খালামণি বুকে হাত রেখে হাসি থামান।বলেন,

“আরেহ,ওর কোম্পানি থেকে সুযোগটা হলো এটা তো খুশির সংবাদ!তুই ওর কোম্পানির বিজ্ঞাপন বানিয়ে দিবি এটা তোর যোগ্যতার প্রমাণ পারিসা!তুই ওকে তোর জাস্ট যোগ্যতা টা দেখিয়ে দিবি।আর সাথে ইগো,ব্যক্তিত্ব সব।কখনোই বুঝতে দিবি না তুই একসময় ওরজন্যে দুর্বল ছিলি! কেদেছিলি। কষ্ট পেয়েছিলি।ওর সামনে নিজের বিলং লাইফ এনজয় করবি।শেষে কি হবে জানিস?ও ভাববে তুই ওকে ছাড়া খুব ভালে আছিস।খুব ভালো।আর এই ভালোটুকুই তোর দাম্ভিকতা!তোর অহংকার!”

তাকিয়ে থাকলাম খালামণির দিকে।খালামণি কথাগুলোা বলা শেষে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলেন আমি সন্তুষ্ট নই।দ্বিধাদ্বন্দে।এবার কাঁধে হাত রাখেন।বলেন,

” কাজ এবং পার্সোনাল কিছু খুবই আলাদা!কাজের সাথে কখনো পার্সোনাল লাইফ টানবি না।পার্সোনাল পার্সোনালই।তা মানুষ একা ফিল করে।আর কাজটা সবার মাঝে!নিজের কাজকে এড়িয়ে যাবি না।আগে নিজের কাজ করবি তা যেই জায়গায় বা যেই পরিস্থিতিতেই হোক।এখানে মনোবল হারালে পরে অন্য জায়গায়ও মনোবল রাখতে কষ্ট হয়ে যাবে।তবে তোর পার্সোনাল লাইফে এখনতো আর মাথাব্যথা নেই তাই তো?”

আমি স্থির চাহনিতে খালামণির মুখ পানে তাঁকাই।খালামণি এবারো হাসেন।বলেন,

“যদিও থেকে থাকে।তুই তোর এই যোগ্যতা দিয়েই তোর পার্সোনাল লাইফকে সফল করবি।আর এটাতে এত দ্বিধাদ্বন্দ হবার কি আছে?সহজভাবে ভাব।যাইহোক একদম মন খারাপ করবি না।মনকে শক্ত কর।খেয়ে নে।খাবার ঠান্ডা হয়ে যাছে।ফাহিম বোধহয় ডাকছে আমাকে। গেলাম।”

বলে খালামণি দরজার দিকে পা বাড়ায়।কিছু একটা ভেবে আবার পেছনে ঘুরে দাঁড়ায়।বলে,

“ওহ পারিসা?তোকে একটা কথা বলতাম..।”
“বলো?”
“তুই যাওয়ার পর তোর মাকে তোর জবটার ব্যাপারে ডিটেইলস বুঝিয়েছি।বুঝেছেন হয়তো।কথার ভঙ্গিমায় বুঝলাম পরে আর আপত্তি করবে না মনে হয়।যদিও আপত্তি করে বসে তাহলে সোঁজা আমাকে জানাবি,ঠিক আছে?”

মৃদু হেসে উঠি।বলি,
“মা কখন বাসায় গিয়েছে,খালামণি?”
“তুই যাওয়ার দুই ঘন্টা পরই।থাকতে বলেছি।থাকে নি।”
“থাকবে না।আমার উপর রেগে আবার থাকবে!কল্পনা! ”

খালামণি ঠোঁট টিপে হেসে উঠেন।তারপর রুম ত্যাগ করেন।

চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here