অহংকারি_চাচাতো_বোন,পর্ব-১০,১১

💝অহংকারি_চাচাতো_বোন,পর্ব-১০,১১
✍শাকিল দিহান
🥀 পর্ব-১০♨

“দেখলি কি ছেলে,এতটুকু একটা ছেলে নাকি ২৮ জনকে হত্যা করছে,এরাই আমাদের দেশের গৌরব”~(দাদা)
–আমি দাদাকে কিছু বলতে যাবো তার আগে তানু বলে উঠল,”হ্যা এরা দেশের গৌরব আবার ক্রাশও”
“ঐ কি বলিস এগুলো?”~(দাদা)
“কি বলি মানে সত্যিই বলছি,মেজর শাকিলের ওপর আমি না দেখে ক্রাশ খেয়েছি”~(তানু)
“ক্রাশ যার ওপরই খা,বিয়েটা হবে দিহানেরই সাথে”~(দাদা)
“তোমার কি মনে হয় এরকম একটা কালো ছেলেকে তানু বিয়ে করবে?আরে ওর মতো ছেলে আমার পায়ের নিচে থাকার যৌগ্যতা রাখে না”~(তানু)
“মেজর শাকিল যদি দিহানের থেকে কালো হয়?”~(দাদা)
“দুর তোমার ফালতু কথা শুনার সময় আমার নাই”~(তানু)
–এই বলে তানু সেখান থেকে চলে গেলো।আমি দাদার পাশে বসে আছি
“আচ্ছা দাদা মেজর শাকিল ছোট এটা তুমি কেমনে জানলে?”-(আমি)
“তানুর কথায় তুই কষ্ট পাসনিতো?মেয়েটা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেল,তুই ওর কথায় কষ্ট পাসনা”~(দাদা)
“আরে দুর বাদ দাও এসব,আমি যেটা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দাও”~(আমি)
“কর্নেল মাহমুদের মুখে শুনছি,ওনি বলেছিলেন মেজর শাকিল দায়িত্ব অনুযায়ী বয়স অনেক কম,পরে সাংবাদিকরা তার ছবি,ঠিকানা এসব চাইলে তিনি বলেন তার বাড়ী চট্টগ্রাম,এবং বয়স,তানু দুই তিন বছরের বড় হবে হয়তো”~(দাদা)
“ও আচ্ছা”~(আমি)
“আমিও আর্মিতে সৈনিক ছিলাম,আমার স্বপ্ন ছিল তোর বাবা ও চাচা দুইজনের একজনকে আর্মি অফিসার বানাবো,ওদেরতো করতে পারলাম না,পরে তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি,আমার সেই স্বপ্ন পুরন না হলেও আরেকটা স্বপ্ন পূরন করব অবশ্যয়”~(দাদা)
“কি সেটা?”~(আমি)
“তোর আর তানুর বিয়ে”~(দাদা)
“আমি চেষ্টা করবো তোমার স্বপ্ন পুরন করার,কিন্তু তানু এসবের ধারনাই বুঝা যায় ও কখনো আমাকে মেনে নিবে না”
“কেন নিবে না,অবশ্যয় নিবে তুই ওকে ভালোভাবে বল,ওর মনে তোর জন্য একটু ফিলিংস দে,তুই…যদি ওকে ভালোবাসিস ও নিশ্চয় তোকে ভালোবাসবে,তারপর দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে,আর ওর জেদী স্বভাবও চলে যাবে”~(দাদা)
“দাদা আমি তানুকে ছোটবেলা থেকে ভালোবাসি,তখন তোমাকে ভয় একটু বেশি ভয় পেতাম তাই~
“হয়ছে থাম,তখন একটু রাগ দেখাতাম,আর আমি এখনো পুরোপুরি বুড়া হয়নি যে রাগ দেখাবো না,প্রয়োজন হলে বেতের বাড়িও খাবি”~(দাদা)
“এই দেখ আমি কিন্তু আবার চলে যাবো আর আসবো না”~(আমি)
“এবার আমি সত্যি সত্যিই বেত নিব”~(দাদা)
“ওকে বুড়া দাদা,বেত নিতে হবে না আমি কোথাও যাবো না”~(আমি)
–এভাবে কথা বলতে বলতে দুপুর হয়ে গেলো।তখন নাহিদের কল আসলো,
“কীরে জয়কে আনতে যেতে হবেতো কই এখন তুই?”~(নাহিদ)
“বাসায় আছি তুই একটু অপেক্ষা কর আমি আসছি”
–নাহিদের সাথে জয়কে আনতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।জয়কে নিয়ে এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত গল্প করে বাসায় চলে আসলাম।পুরো রাত আর বাসা থেকে বের হয়নি,শুয়ে আছি আর তানুর কথা ভাবছি,তখন মোবাইল বেজে উঠল,দেখি লিজার কল,
“হেলো”
“হুম দিহান কেমন আছো?”~(লিজা)
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো,তুমি?”
“ভালো,আজতো দেখা করার কথা ছিল,সকালে যখন তোমার মিশনের খবর শুনি তখন ভাবছি,-
“কি ভাবছো?”
“ভাবছি রাতে হয়তো ঘুমাতে পারোনি তাই আর বিরক্ত না করাই ভালো,কাল দেখা করতে হবে”~(লিজা)
“ওকে”
–পরেরদিন সকালে লিজার সাথে দেখা করতে গেলাম।আমি আর লিজা একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছি।
“ওই কথা না বলে চুপ হয়ে আছো কেন,তানু কি প্যারা দিছে নাকি?”~(লিজা)
“ফালতু কথা বাদ দিয়ে যা বলবা বলো”~(আমি)
“আচ্ছা যেটা বলার জন্য ডাকছিলাম,তোমাকে আমার একটা হেল্প করতে হবে”
“কী হেল্প?”
–তারপর লিজা কিছু ছবি দেখালো তার ফোনে,শুধু একটা বিভিন্ন ছবি,
“এই যে ছেলেটা দেখছো,বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্তার অনেক বড় একজন অফিসার,তোমার মতো কম বয়সে ও নিজেকে অনেক বড় স্থানে নিয়ে গেছে,আর ও আমার স্যারও বটে”~(লিজা)
…”তোমার স্যার মানে!”~(আমি)
“মানে আমি একজন গোয়েন্দা,আর উনি গোয়েন্দা সংস্তার সিনিয়র একজন অফিসার,মানে আমার স্যার”
“ও,তুমি গোয়েন্দাতে জয়েন হয়ছো কখন?”
“মাত্র তিন মাস,এই তিন মাসে স্যারের প্রেমে পড়ে গেছি,এখন তোমাকে লাইনটা ক্লিয়ার করে দিতে হবে”
“আমি কেমনে করবো?”
“তোমার অডার ওরা পালন করতে হারে হারে বাধ্য,সো তুমি আমাকে ওর সাথে পরিচয় করাই দিবে বাকিটা আমার কাজ”
“পরিচয় না ও সোজা তোমাকে প্রপোজ করবে সেই ব্যবস্তা করবো”
“থ্যাংস্”
“ওকে আজ আসি”
“আল্লাহ হাফেজ”
–আমি চলে আসলাম বাসায়।লিজা তার বাসায় চলে গেলো।বাসায় আসতেই তানুর সাথে ধাক্কা লাগে,
“আমি জানি তুই ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়েছিস,আমি তোর সাথে কথা বলিনা বলে তুই ইচ্ছা করে আমাকে ধাক্কা দিয়েছিস,আসলে সুন্দরি মেয়ে দেখলে কারোরই মাথা ঠিক থাকে না,যা তোর টাইপের কোনো মেয়ে বেচে না,আমার সাথে হবে না”~(তানু)
–আমি সেখান থেকে চলে আসলাম।আমার মনে হচ্ছে তানু আমার প্রতি একটু একটু দুর্বল হয়েছে,কারন তানু এতদিন পর আমার সাথে ভালো করে কথা বললো,না দুয়েকদিন পর ওকে প্রপোজ করবো,
“ভাইয়া কি ভাবছো?”
–রুমে বসে বসে এসব ভাবছি তখন কথাটা কেউ বললো,পেছনে তাকিয়ে দেখি তাসনু,
“কিছুনা,কিছু বলবি?”
“দুপুর হয়ে গেলো,খাবার রেডী করছি,তাড়াতারি আসো”~(তাসনু)
“ওকে তুই যা আমি গোসল করে আসছি”~(আমি)
“হুম”
–কোনোকিছু নিয়ে গভীর চিন্তা করলে সময় অনেক তাড়াতারি চলে যায়,আমারও তানুর কথা চিন্তা করতে সময়টা কেটে গেলো।মনে হয় কাউকে মন থেকে ভালোবাসলে এমন হয়,
–গোসল করে খাবার খেতে গেলাম,সবাই বসে আছে তানু আসেনি,আমি গিয়ে বসে পড়লাম,এখন শুধু আমার পাশে একটা সিট খালি আছে,কিছুক্ষন পর তানু আসলো,
এসেই তো
,
‘চলবে’

~#অহংকারি_চাচাতো_বোন💦
🔥লেখকঃ”শাকিল দিহান”⚡
🍀পর্বঃ-১১🌿

তানু এসে আমার পাশে বসলো।কী ব্যাপার তানুর আবার কি হলো,যে আমাকে দেখতে পারেনা,আমার পাশে বসতো না,এখন সে আমার পাশে বসছে,তারমানে এতদিন তানু রাগ করে ছিল।
“কীরে কি ভাবিস খাবার খা”~(চাচি)
“হুম”~(আমি)
-খাবার খেয়ে রুমে চলে আসলাম।কিছুক্ষন রেষ্ট নিয়ে রাফিকে ফোন দিলাম।
“কী অবস্তা?”~(আমি)
“এইত ভালো,তোর?”~(রাফি)
“সন্ধ্যায় একটু দেখা করিস,ভার্সীটি গেইটের পাশে ছোট চায়ের দোকানে,কেউ যাতে না জানে”
“তা আজ এত জরুরি তলব কেন?”
“প্রেম করবো তোর সাথে,যেটা বলছি করবি না হলে কিন্তু খবর আছে”
“ওকে ওকে ওকে আসবো”
“আচ্ছা বাই”
“বাই”
–বিকাল ৫টার বেশি হয়নি।জন্গলের ভেতর এক আধাঁর ঘরে হালকা আলোই বসে আছে কিছু লোক,আর তাদের মধ্যে কথা চলছে একটা বিষয় নিয়ে সেটা হলো মেজর শাকিল,এখন তাদের সবচেয়ে বড় পথের কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে মেজর শাকিল,
“তুই এতদিন শাকিলের সাথে আছিস এখনো শাকিলকে চিনলি না,তোরা করিসটা কি,তোদের কি কাজ না করার জন্য আমি বাদাম বিক্রি করে খাওয়াই?আজ সব কয়টাকে দেখবি”~(বস)
“বস বস আপনি শান্ত হোন,মেজর শাকিল দেখতে যেমন ও আসলে তেমন,দেখতে একদম অরডিনারি কিন্তু পাওয়ার এক্সট্রা অরডিনারি,ওর সাহস ও বুদ্ধির সাথে পাঞ্জা না নেওয়ায় ভালো হবে”~(বসের ভাড়া করা গোন্ডা)
“শত্রুর প্রশংশা আমি একদম দেখতে পারিনা”~এই বলে কপালে শুট করে দিল,তারপর বলা শুরু করলো,
“এই তোরা শুনে রাখ,মেজর শাকিলের সকল দুর্বল পয়েন্ট গুলো আমাকে জানাবি,তোদের আমার ফিলিংসের বেশি টাকা পয়সার উপর নজর তাই এই কাজ আমাকেই করতে হবে”~(বস)
“আপনি কোনো চিন্তা করবেন না বস,কাজ হয়ে যাবে,আমার ওর দুর্বল পয়েন্ট খুজে বের করবো”
“তাড়াতারি কাজ কর”
–বিকালে ৫টা বাজছে তাই চলে গেলাম বাজারে।ভালো কিছু স্নেক্স আইটেম আনলাম আর কিছু লাইট ফুড।এতদিনে…তাসনুর কাছ থেকে জানতে পারছি তানু লাইট ফুড পছন্দ করে,তাই পিৎজা,বার্গার আনালাম তানুর জন্য,বাসায় এসে,
“কীরে ভাইয়া তোমার হাতে কি এগুলো?”~(তাসনু)
“বলছি”~(আমি)
“বলো”
“এগুলো সন্ধ্যায় সবাই মিলে খাবি,তানু যদি বলে কোথা থেকে আনছে,বলবি আংকেল আনছে,ওকে?”
“ওকে,কিন্তু এটা কার জন্য স্পেশাল ভাবে আনছো?”
“যাতো”
–তাসনু চলে গেলো।এখন সন্ধ্যা ৬টা বাজে,রাফির সাথে দেখা করার জন্য বের হয়ে আসলাম।আমি চলে আসার পর,
“সবাই খেতে আসো আজ সবার জন্য স্পেসাল খাবার আছে”~(তাসনু)
“কি স্পেশাল খাবার,দেখি”~(তানু)
-তারপর সবাই খেতে বসলো।
“সবাই আছে,দিহান কই?”~(তানু)
“কী ব্যাপার আজ ভাইয়ার জন্য এত দরদ?”~(তাসনু)
“না,আমরা একাই খাবো নাকি যে আনলো সে কই?দিহান বাসায় আসোক সবাই একসাথে খাবো”
-এটা বলে তানু রুমে চলে গেলো।
“আজ কোনো নতুন মানুষ দেখছি মনে হয়?”~(চাচি)
“অবশেষে আমার ইচ্ছেটা পুরন হবে?”~(দাদা)
“হ্যা বাবা আপনি নিশ্চন্তে থাকুন”~(চাচি)
–ভার্সিটি গেইটের পাশে একটা দোকানে রাফি বসে আছে।
“কীরে কি অবস্তা?”~(আমি)
“এইত আলহামদুলিল্লাহ,তোর?”~(রাফি)
“ভালো”
“এত জরুরি ডাক কেন!”
“একটা সত্য কথা বল?”
“হুম বল কি জানতে চাস?”
“তুই আসলে কে?ছাত্রজীবন ছাড়া তোর আসল পরিচয় কি?”
-এটা বলার পর রাফি নিজের কোমর থেকে গান বের করে আমার দিকে তাক করলো।এটা বলায় রাফি এরকম রিয়েক্ট করবে ভাবতে পারিনি।
“এন্টি ট্রেরিজম স্কোয়াড,বাংলাদেশ সিভিল পুলিশ,অনেকদিন ধরে তোকে ফলো করছিলাম,রাতে তোর পেছনে একজন ছিল আর দিনে একজন,ভেবেছিলাম তুই কোনো খারাপ কাজে নাই,এখন দেখছি আমার ধারনা ভুল,অপরাধী ছাড়া পুলিশকে কেউ চেনে না,আইনের কাছে বন্ধুত্বের মূল্য নেই,সরি দোস্ত ইউ আর আন্ডার এরেস্ট”~(রাফি)
-দোকানে আমি আর রাফি ছাড়া কেউ নেই।জায়গাট একটু নিরিবিলি তাই সন্ধ্যার পর কেউ আসতে চায় না।তাই এই দোকান…বেছে নিয়েছি,রাফির সাথে কথা বলার জন্য।
“হয়ছে তোর ডং বাদ দে এবার আসল কথা বলছি”~(আমি)
“আমি মোটেও ডং করছি না”~(রাফি)
-পকেট থেকে আইডি কার্ড বের করে ওকে দেখালাম।রাফি অবাক হয়ে আমার তাকিয়ে রইল।
“তুই কি আমার ছোটবেলার বন্ধু?”~(আমি)
“সরি দোস্ত,আসলে এই এলাকার যেই অবস্তা কাউকে ছাড়ার সাধ্য নাই,আর আমি বন্ধু শত্রু দেখে আইনে কাজ করি না”~(রাফি)
“ধন্যবাদ,এবার একটা কথা শোন,কানে কানে বলছি,(ওরা কানে কানে কথা বলায় লেখক শুনতে পায়নি)”
“ওকে কাজ হয়ে যাবে”
“এবার ভালো কিছু নাস্তা খাওয়া”
“হুম”
-আমার আসল উদ্দেশ্য ছিল রাফির সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দেওয়া।মানুষ থাকলে হয়তো সিনক্রিয়েট হতো,ভাগ্য ভালো বলে আজ বেচে গেছি।
-দোকান থেকে বের হতে হতে প্রায় রাত হয়ে গেলো।আমি আর রাফি গল্প করে করে আসছি।
আমি বাসায় এসে নিজের রুমে যাচ্ছিলাম তখন,”কোথায় গেছিলি?”~(চাচা)
“এইত রাফির সাথে ছিলাম”~(আমি)
“পরিস্তিতি ভালো না,রাতে বাইরে যাবি না”
“ওকে”
“এবার ফ্রেশ হয়ে খেতে আই,তানু তোর জন্য না খেয়ে বসে আছে”~(চাচি)
“কে”
“তানুওওও”
“চাচি তুমি আমার সাথে মজা করছো,ওকে করো সমস্যা নাই”
“আমি বসে আছি তা বিশ্বাস হয় না?”~(তানু)
“হবে না কেন এমনি বলছি আরকি”~(আমি)
“তাড়াতারি আয়,নাস্তা করবি”
“ওকে,আমি ফ্রেশ হয়ে আসি”
-ফ্রেশ হয়ে এসে নাস্তা করলাম।হঠাৎ তানুর আবার কি হলো,ওর ব্যবহারে এত পরিবর্তন হলো কি করে,এটা কি তানু!

‘চলবে’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here