অন্ধকার_পল্লী,Part:৪,৫,৬

অন্ধকার_পল্লী,Part:৪,৫,৬
Tabassum_Riana
Part:৪

,,,অবনীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে আফিন।বাসার গলি ভালো না?তারমানে নিশ্চয়ই কোন সমস্যা হয়।এই মেয়ে জীবন ও মুখ খুলবেনা যা করার আমাকেই করতে হবে।কথা গুলো ভাবতে ভাবতে ফোন বের করলো আফিন।একটা নম্বরে কল দিয়ে ফোন কানে ধরলো।হ্যালো স্যার!!!!!!অপর পাশ থেকে আফিনের বডিগার্ড বলে উঠলো।ইয়েস।লিসেন যে মেয়েটাকে আনতে যাই তোমরা ওর গলিতে পাহাড়া দিবে এবং আপডেট আমাকে জানাতে থাকবে।ওকে।কথা গুলো বলে ফোন কেঁটে দিলো আফিন।পকেটে ফোন ঢুকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো আফিন।বাসায় ঢুকতেই মামুন কে দেখতে পেলো।ওর দলের আরো দুজন বসে আছে রহমত সাহেবের সামনে।বাহির থেকেই অবনী রহমত সাহেবের গালাগালি শুনতে পায়।বুঝতে পারছিলো না অবনী বাবার এমন গালাগালির কারন।এখন ঘরে ঢুকেই বুঝতে পারলো অবনী।মা অবনীকে ইশারা করে দ্রুত রুমে যেতে বলছিলো কিন্তু মামুন আর ওর লোকদের দেখে অবনীর পা আটকে গেছে।হাঁটতে পারছেনা।শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছে অবনীর।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,অবনীকে দেখে মামুন উঠে ওর দিকে এগোতে লাগলো।অবনী তখনই দ্রুত হেঁটে ওর রুমের দিকে এগোলো।বারবার পিছে তাকাচ্ছিলো অবনী মামুন ওর পিছনে আসছে কিনা সেটা দেখার জন্য।অবনী কই যাচ্ছো সোনা?তোমাকে দেখার জন্যই তো এসেছি!!!প্লিজ কাছে আসো আদর দেই।উমমাহ!!!অবনীর দিকে তাকিয়ে বলছিলো মামুন আর আজে বাজে শব্দ ও করছিলো জানোয়ারটা।রহমত সাহেব আর সহ্য করতে পারলেননা।আমার মেয়েকে যদি আর কিছু বলেছিস তোকে,,,,,,,,,, তেড়ে এসে মামুন কে মারতে গেলেন।রহমত সাহেবের হাত ধরলেন মামুন।গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করবিনা।তোর মেয়ে এখনো ভালো আছে।যদি আমার গায়ে একটা ও টোকা লাগেনারে?তাহলে মনে কর তোর পরী মেয়ে দুটোই শেষ।বলে উঠলো মামুন।রহমত সাহেব হাত নামিয়ে নিলেন।মেয়ে দুটো যে ওনার জানের টুকরা।অনেক বেশি ভালোবাসে মেয়ে দুটোকে।

,,,,,,,,,,,,,,,, রুমে এসে খাটে বসে কাঁদতে লাগলো অবনী।এসব আর কতোদিন সহ্য করতে হবে?এতো দিন বাহিরে জ্বালাতো এখন ঘরে চলে এসেছে তারপর তো ওরা,,,,,,, না না কি ভাবছি এসব আমি?কিছু করতে পারবেনা ওরা।কাঁদতে কাঁদতে কথা গুলো ভাবছিলো অবনী।হঠাৎ আফসানা রুমে আসায় চোখ মুছে নিলো অবনী।মামুন আর ওর লোকেরা চলে যেতেই রহমত সাহেব মাথায় হাত দিয়ে সোফায় ধপ করে বসে পড়লেন।আমেনা বেগম রহমত সাহেবের পাশে বসে স্বামীর কাঁধে হাত রাখলেন।দেখো ওনারা অনেক খারাপ মেয়েটাকে কখন কি করে বসে?এভাবে আর কতোদিন চলবে?তাই বলছিলাম যে বিয়ে দিয়ে দাও।আমেনা বেগম বলে উঠলো।বিয়ের কথা শুনে রহমত সাহেব স্ত্রীর দিকে তাকালেন।চোখের নিচে ভিজে আছে।আমার অবনী পড়াশুনা কমপ্লিট করবে।ওই শুয়োরের বাচ্চারা কি করবে দেখবো তো?কঠিন গলায় বললেন রহমত সাহেব।তারপর উঠে রুমের দিকে পা বাড়ালেন।আমেনা বেগম গজরগজর করতে করতে স্বামীর পিছু নিলেন।আপু মামুনরা বাসায় কি করছিলো?অবনীর দিকে তাকিয়ে কিছুটা চিন্তিত মুখে জিজ্ঞেস করলো আফসানা।জানিনা রে। কি চায় ওরা?কেন এমন করছে?আর কতোদিন সহ্য করবো এগুলা?বিড় বিড় করে বলতে লাগলো অবনী।বোনের পাশে বসে পড়লো অাফসানা।আপু ওরা তোকে বিরক্ত করে না তো?প্রশ্ন করে উঠলো অাফসানা।আফসানা আমি ফ্রেশ হতে যাচ্ছি,এসব কথা বলার একদমই সময় নেই আমার।আফসানার পাশ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো অবনী।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সবসসময় এ প্রশ্ন করলে এমন করিস কেন আপু?আফসানা বলে উঠলো।আফসানা প্লিজ চুপ থাক!!!বলেই বাথরুমে ঢুকে পড়লো অবনী।
খাটে আধশোয়া হয়ে ল্যাপটপে কাজ করছিলো অাফিন।”আমাদের বাসার গলিটা ভালো না”হঠাৎ অবনীর কথাটা মনে পড়তেই আফিন আর কাজে মন দিতে পারলোনা।ফোন হাতে নিয়ে বডিগার্ড কে কল দিলো অাফিন।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,, হ্যালো স্যার।বলে উঠলো বডিগার্ড।

,,,,,,,,,,,,,, কই তোমরা?জিজ্ঞেস করলো অাফিন।
,,,,,,,,,,,,,স্যার ম্যাডামের বাসার গলির সামনে।বলেই হালকা কাশলো বডিগার্ড।

,,,,,,,,,,,,,,, কোন খবর পেলে?ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো অাফিন।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,না স্যার তেমন কিছু পাইনি।তবে কিছু বখাইটটা পোলা অবনীর বাসার ভিতর থেকে বাহির হলো।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,আশেপাশে থেকে খবর নেয় ওরা কে?আর অবনীর বাসায় কেন গেলো?আমি ইনফরমেশন চাই ওদের সম্বন্ধে রাইট নাও।কঠিন গলায় বলে ফোন কেঁটে খাটের ওপর জোরে ফোনটাকে রাখলো অাফিন।
ল্যাপটপ অফ করে বসে বডিগার্ডের কলের ওয়েট করতে থাকলো অাফিন।কেমন একটা অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছে আফিনের ভিতর।কিছুক্ষন বারান্দায় হেঁটে রুমে এলো আফিন।ফোনে কল পেয়ে ফোনের কাছে দৌড়ে গেলো আফিন।বডিগার্ড কল করেছে।
পরদিন আফিনের গাড়ি দেখতে পেয়ে অবনী গাড়িতে এসে বসে। আফিন সামনে তাকিয়ে আছে।গায়ে ধূসর কালারের কোট সাথে ব্ল্যাক ডেনিম প্যান্ট,চোখে সানগ্লাস পুরাই হিরো।লোকটা আজ পাশে তাকাচ্ছেনা কেন?কেউ একজন পাশে বসলে মানুষ অন্তত একবার দেখবে তার পাশে ভূত বসে আছে নাকি মানুষ?অবনী ভিতরে এসে বসতেই আফিন গাড়ি স্টার্ট দিলো।অবনী আড়চোখে আফিনকে দেখছে।আজ এমন করছে কেন এই লোকটা?কথা ও বলছেনা।কিছুটা বিরক্ত হয়ে অপরদিকে ফিরে বসে থাকে অবনী।কেন জানি খুব হাসি পাচ্ছে ওর।বাসার গলির সামনে আসতেই থামান থামান!!!বলে উঠলো অবনী।গাড়ি থামালো আফিন।গাড়ি থেকে বের হতেই আফিনের ডাকে থেমে গেলো অবনী।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,, এই যে শুনুন।বলে উঠলো আফিন।
জি!!!!বলে উঠলো অবনী।কাল থেকে আপনাকে কলেজে নিয়ে যাবো আমি।সামনে তাকিয়ে বলল অাফিন।ক কেন?কিছুটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো অবনী।যা বলেছি শুনো।কাল থেকে আমার অপেক্ষা করবে।বুঝলে?দাঁতে দাঁত চেপে বলল অাফিন।অবনী কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আফিন গাড়ি চালিয়ে চলে গেলো।আশপাশ তাকিয়ে অবনী হাঁটতে লাগলো।ওর পিছন কালো।ইউনিফরম পরা ৭জন লোক হেঁটে যাচ্ছে।এদের আগে কখনো দেখেনি অবনী।কেমন যেন ভয় ভয় করছে অবনীর।দ্রুত হেঁটে বাসার ভিতর ঢুকে পড়লো অবনী।
চলবে
#অন্ধকার_পল্লী
#Tabassum_Riana
Part:৫

সকালে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো অবনী।সকাল থেকে অাফিন বারবার কল দিয়ে যাচ্ছে।তাই অগত্যা উঠতে হলো ওকে।আফিনের কল রিসিভ করে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো।সকালে উঠে বারান্দায় গাছ গুলোকে দেখতো এতোটা মায়াময়ী লাগে বলার মতো না।বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা পানি গাছের ছোট্ট পাতা গুলোয় জমে আছে।

হ্যালো!!!!!অপর পাশ থেকে নেশা ধরানো কন্ঠে বলে উঠলো আফিন।আফিনের কন্ঠ শুনে কেমন যেন একটা ঘোরে পৌছে গেলো অবনী।নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে ওকে ভীষন ভাবে।ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে অবনী আর নিশ্বাস গুলো আফিনের বুকের গভীরে গিয়ে লাগছে।কারোর নিশ্বাস এতোটা মাতালতায় ভরপুর হতে পারে আজ বুঝতে পারলো আফিন।দুজনেই চুপ হয়ে গেছে।নিজেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই আফিন বলল কিছুক্ষনের মাঝেই আপনার বাসার নিচে আসবো।রেডি হয়ে যান।আফিনের কথায় ঘোর কাঁটলো অবনীর।জি!!!!!কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে প্রশ্ন করে উঠে অবনী।বললাম রেডি হয়ে নাও ইন হাফ এন্ড আওয়ার।আমি আসতেছি তোমার বাসার নিচে।ওকে।অবনী বলে উঠে।আফিন কিছু না বলে ফোন কেঁটে দিলো।,,,,,,,,,,,,,,

অবনী ফোন সামনে এনে নম্বরের দিকে তাকিয়ে আছে।ওনার সাথে কথা বলার মুহূর্ত টা সেকেন্ডেই শেষ হয়ে গেলো।ইচ্ছে হচ্ছিলো কথার মাঝেই ডুবে থাকতে।কেন এমন হলো?বুঝতে পারছেনা অবনী।লোকটা যেন ওকে কাছে টানছে।কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই কাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায় অবনী।চুলের খোপা খুলে লম্বা চুল গুলোকে পিঠের ওপর ছেড়ে দিলো অবনী।ঝড়নার প্রত্যেক ফোঁটা পানি ওর শরীরকে শিহরিত করছে।ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে চুলগুলো সাদা তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে নিলো।আকাশী রংয়ের একটি স্যালোয়ার কামিজে নিজেকে অাবৃত করলো অবনী।সাদা ছোট্ট পাথরের টিপ অবনীকে একদম সাদা পরীতে পরিনত করেছে।চুল গুলো কে আঁচড়িয়ে ব্যাগ কাঁধে নিতেই ফোনে মেসেজের টোন বেজে উঠলো।অবনী ফোন অন করে সামনে ধরলো।
আফিনের মেসেজ”I’m waiting ”

আর অপেক্ষা না করে নিচে নেমে এলো।অবনী।গাড়িতে হ্যালান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আফিন।সাদা শার্টের হাতা কুনুই পর্যন্ত ফোল্ড করা।সাথে ব্লু ডেনিম প্যান্ট সেই মায়াবী চোখ জোড়া আর মুখে মন ভোলানো মিষ্টি হাসি ফুঁটে উঠেছে আফিনের।উফ কি যে হ্যান্ডসাম লাগছে লোকটাকে বলার মতোনা।সাদা পরী লাগছে আজ আফিনের জলপরীকে।অবনী আফিনের কাছে এসে দাঁড়াতেই আফিন গাড়ির গেট খুলে দিলো।অবনী ঢুকে পড়লো গাড়িতে।আফিন ও বসে পড়লো ড্রাইভিং সিটে।গাড়ি চলতে শুরু করলো।কলেজে পৌছে দিয়ে আফিন অফিসে চলে এলো।

অন্তরা আর অবনী পাশাপাশি বসে আছে।অবনী তোকে কিছু জিজ্ঞেস করার ছিলো।কিছুদিন ধরে বলবো ভাবছিলাম কিন্তু হয়ে উঠেনি।কথা গুলো বলে একটু থামলো অন্তরা।কি বলবি বল?টেবিলের ওপর হাত রেখে সেখানে মাথা এলিয়ে বলে উঠলো অবনী।ঐ লোকটার সাথে তোর কিছু চলছে?অন্তরা বলে উঠলো।
মানে?কোন লোকটা?কার কথা বলছিস অন্তরা? মাথা উঠিয়ে প্রশ্ন করলো অবনী।যার সাথে বাসায় যাচ্ছিস, যে তোকে আজ নিয়ে এলো সেই লোকটা।মুচকি হাসলো অন্তরা।আ আরে না কিছুনা অন্তরা।সে তো জাস্ট ড্রপ করে দিচ্ছে।আর কিছু না।কথাটা বলেই মলিন হাসলো অবনী।সে যদি এতোই অপরিচিত হতো তাহলে এভাবে তোকে নিয়ে যেতোনা বা নিয়ে আসতো ও না।বা তুইও ওনার সাথে এভাবে ইজিলি যেতে পারতিনা।নিশ্চয়ই কিছু আছে।ওনার প্রতি কোন গভীর বিশ্বাস কাজ করছে তোর মাঝে।একনাগাড়ে বলল অন্তরা।সে নিজেই হয়ত তৈরি করে নিয়েছে। বিড়বিড় করে বলল অবনী।কি বললি?অন্তরা শুনতে না পেয়ে আরেকটু কাছে এগিয়ে প্রশ্ন করলো।টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো অবনী।কিছুনা!! বলেই বেরিয়ে গেলো অবনী।অন্তরা অবনীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে উঠে অবনীর পিছু নিলো।

আকাশ ডাকছে।কিছুক্ষনের মাঝেই ধূসর বর্ন ধারন করলো আকাশ।ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে।ছাতাটা আনা হয়নি অবনীর।ভালোই হলো ভিজা যাবে বৃষ্টিতে।মুখ তুলে বৃষ্টির পানির মজা নিচ্ছে অবনী।অাফিন সেই একই জায়গায় এসে গাড়ি থামালো।খুব বৃষ্টি হচ্ছে।গাড়ির জানালা দিয়ে অবনীকে দেখার চেষ্টা করলো আফিন।কিছুক্ষনের জন্য থমকে গেলো অাফিন।সত্যিকারের জলপরী দেখতে পাচ্ছে আফিন।আফিনের গাড়ি দেখতে পেয়ে অবনী ছুটে এলো আফিনের কাছে।আফিন ঘোরের মাঝেই গেট খুলে দিলো।অবনী ঢুকে বসলো।অবনীর ঠোঁট বেয়ে পানি পড়ছে।চুল গুলো গালে লেপ্টে আছে।ঠোঁটের পানি গুলোর ওপর ভীষন হিংসে হচ্ছে আফিনের।অবনী আফিমের দিকে তাকালো।লোকটা ওর দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে।কেমন যেন একটা মাতালতা কাজ করছে আফিনের মাঝে।অবনীর একটু কাছে এগিয়ে এলো আফিন।অবনীর বুক ধুকপুক করছে।আফিন আরেকটু কাছে এগিয়ে আসতেই অবনী চোখ বুজে নিলো।

অবনীর ঠোঁট বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানি ওর থুতনিতে আসতেই আফিন অবনীর থুতনিতে ঠোঁট ছোঁয়ালো। পানি গুলোকে শুষে নিতে শুরু করলো অাফিন।আফিনের কোটের হাতা খামচে ধরে আছে অবনী।আফিন একটু সরে এসে অবনীর দিকে তাকালো।অবনী একটু তাকালো।নড়ার শক্তি পাচ্ছেনা কেউই।অবনীর থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে সরে এলো আফিন।অবনী ও সোজা হয়ে বসলো।কি হচ্ছিলো কেউই বুঝতে পারছিলোনা।অবনী মাথা নিচু করে বসে সময় টাকে ভাবছিলো।স্টিয়ারিংয়ের ওপর হাত রাখলো আফিন।আ’ম সরি!!কি হয়ে গেছিলো বুঝতে পারিনি।বলে উঠলো আফিন।অবনী কিছুই বলতে পারলোনা।মাথা নিচু করে বসে আছে।দুজনের মাঝে আর কথা হয়নি।অবনীর গলির সামনে আসতেই নেমে গেলো অবনী।বৃষ্টি ও থেমে গেছে।আফিনের দিকে এক নজর তাকালো অবনী।হয়ত কিছু শোনার অপেক্ষায় ছিলো।
আফিন কিছু না বলে চলে গেলো আফিন।কিছুটা মন খারাপ হয়ে গেলো অবনীর।ধীরে ধীরে বাসার দিকে এগোলো অবনী।
চলবে
#অন্ধকার_পল্লী
#Tabassum_Riana
Part:৬
সেদিন রাতে আফিন,অবনী কেউই সেই মিষ্টি মুহূর্তটাকে ভুলতে পারছিলোনা।ভুলবেই বা কি করে তখন কেউই যে কারোর মাঝে ছিলোনা।আফিনের সেই দৃষ্টি অবনীর ভিতরটাকে যেন কাঁপিয়ে দিচ্ছিলো।বিছানার ওপরে থাকা ফোনটা হাতে নিলো অবনী।কন্টাক্ট লিস্টে গিয়ে আফিনের নম্বরটি একবার দেখে নিলো।হয়ত ভাবছিলো সে কল করবে।কিন্তু করেনি।ফোনটা আরেকটু ঘাঁটাঘাঁটি করে ঘুমিয়ে গেলো অবনী।

শরীরটা ভালো লাগছেনা আফিনের।ঘাড় মাথায় প্রচন্ড রকমের যন্ত্রনা হচ্ছে।একটা ডিসপ্রিন নিয়ে শুয়ে পড়লো আফিন।অবনীর অনেক কাছে চলে গিয়েছিলো আজ ও।মেয়েটা অজান্তেই ওর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।মেয়েটা ভীষন ভাবে প্রভাবিত করছে আফিনকে।অবনীকে ভাবতে ভাবতে চোখে একরাশ ঘুম এসে ভর করে আফিনের।কিছু বিদঘুটে স্বপ্ন দেখতে থাকে আফিন।কেউ যেন ওকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।ওর শরীর থেকে মাংস আলাদা করছে।ঘুমের মাঝেই আফিন অনূভব করতে পারে ওর শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এসেছে।
সকালে অবনীর ঘুমভাঙ্গে ফোনে রিংটোনের শব্দে।ঘুমেরঘোরেই ফোন রিসিভ করে কানে ধরে অবনী।

অপর পাশ থেকে ঘুমঘুম গলায় আফিন বলে উঠলো আজ ড্রাইভার পাঠিয়েছি।সে তোমাকে নিয়ে আসবে আর নিয়ে যাবে।আমি আসবোনা।অবনীকে চুপ থাকতে দেখে আফিন বলে উঠলো জলদি রেডি হও।ড্রাইভার পৌছে যাবে।কথা গুলো বলে ফোন রেখে দিলো আফিন।অবনী কান থেকে ফোন সরিয়ে কিছু সময় স্তব্ধ হয়ে ছিলো।কালকের বিষয়টা নিয়ে হয়ত আপসেট আছেন ওনি।কিন্তু কাল যা হয়েছিলো সেটা তো দুজনেরই ঘোরের মাঝে হয়েছিলো।ওনার কোন দোষ নেই।তাহলে আসবেননা কেন?ওনার সাথে আসাটাই তো অভ্যাস হয়ে গেছে।ভালো ও লাগছেনা আজ কলেজে যেতে।সামনে পরীক্ষার কথা ভেবে অগত্যা উঠে পড়তে হলো অবনীকে।ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো অবনী।ফোনে আবার ও কল এলো তবে এখন একটি আননোন নম্বর থেকে।ফোন রিসিভ হতেই অপর পাশ থেকে ড্রাইভার বলে উঠলো আমি বাসার নিচে আছি।আফিন স্যার পাঠাইছে আমারে।আপনারে কলেজে নিবার লাইগা।আফিন নামটি শুনতে চিনতে পারেনি অবনী।কিন্তু কলেজে নেবার কথা বলতেই চিনতে দেরি হলোনা অবনীর।সেই পরিচিত মুখটাই আফিন।অবনী ফোন রেখে নিচে নেমে আসে।ড্রাইভার দরজা খুলে দিতেই অবনী গাড়িতে বসে পড়লো।আপনার স্যার আসেননি কেন?ড্রাইভার কে প্রশ্ন করলো অবনী।

স্যারের অনেক জ্বর।আজ অফিসে ও যায় নাই।বলে উঠলো ড্রাইভার।ওহ।কিছুটা মন খারাপ করলো অবনী।কলেজে পৌছে গেলো অবনী।আজ অন্তরার সাথে বেশি কথা বলে নি এমনকি হাসে ও নি।অজান্তেই মনটা ভীষন খারাপ ছিলো।অন্তরা অনেকবার জিজ্ঞেস করেছিলো কিন্তু জবাব ছিলো না অবনীর কাছে।আজ ঘরে ও মন ভালো লাগছে না অাফিনের।মেয়েটাকে দেখা ছাড়া কিছুই ভালো লাগেনা আফিনের।শূন্য শূন্য লাগে বুকখানি।একটু জলপরীর দেখা পেলে মন্দ হতোনা।মুখটা ও কেমন তেতো লাগছে।স্যুপ এনে দিয়েছিলো মেইড সার্ভেন্ট।এতো ঝাল ছিলো এক চামচের বেশি খেতেই পারলোনা অাফিন।অবনী কে ড্রাইভার নিয়ে আসতে গেলো।গাড়িতে ঢুকে বসলো অবনী।আপনার স্যারের বাসায় নিয়ে চলুন আমায়।বলে উঠলো অবনী।জি।বলে গাড়ি চালাতে শুরু করলো ড্রাইভার।কিছুক্ষনের মাঝেই আফিনের বাড়িতে পৌছে যায় অবনী।বাড়ির গেটে ঢুকেই মাথা ঘুরে যাওয়ার যোগাড় অবনীর।বড় বাগানে ঘেরা,সুইমিংপুল, দোলনা দিয়ে সাজানো। বাগানের ফুলগুলো দেখতে দেখতেই বাসার ভিতরে ঢুকলো অবনী।প্রাসাদ থেকে কম নয় ওনার বাসা।বাসায় ঢুকতেই দুপাশে বড় দুটি সিংহের শোপিজ।চকচক করছে সেগুলো।ভিতরে আরো সুন্দর করে সাজানো।দামী দামী আসবাবপত্র ব্যাবহার করা হয়েছে পুরো ঘরে।লোকটা সৌখিন আছে।একটা মেয়ে এসে অবনীর সামনে দাঁড়ালো।আফিন স্যারের রুমটা কোন দিকে?মেয়েটিকে প্রশ্ন করলো অবনী।সিড়ি দিয়ে উঠে ডানপাশের রুমটা।বলল মেয়েটা।তবে আপনি কে ম্যাম? ঠিক চিনতে পারলাম না।মেয়েটি বলল।

আমি অবনী।স্যারকে দেখতে এসেছি।কিছু খেয়েছে স্যার?না বলে মেয়েটি অবনীর সামনে থেকে চলে গেলো।সিড়ির দিকে পা বাঁড়ালো অবনী।চোখের ওপর হাত রেখে শুয়ে ছিলো আফিন।সারারাত ঘুম হয়নি ওর।হঠাৎ নুপুরের মিষ্টি শব্দে চোখ থেকে হাত সরালো আফিন।নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছেনা।সত্যি কি এসেছে ওর জলপরী?হলুদ একটি স্যলোয়ার কামিজ পরে এসেছে অবনী।কানে ছোট্ট একজোড়া টপ।চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপী লিপস্টিক। চুলগুলো এলো মেলো ভাবে পিঠে ছড়িয়ে আছে।সত্যি সুন্দর লাগছে অবনীকে।একদম পাগল করার মতো সুন্দর।আফিন শোয়া থেকে খাটে হেলান দিয়ে উঠে বসলো।অবনী আফিনের কাছে এলো।খান নাই কেন এখনো?প্রশ্ন করে উঠলো অবনী।আপনি কি করে জানলেন?আর এখানে কেন আপনি?আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।খাননি কেন?বলে উঠলো অবনী।স্যুপ টা এতো ঝাল ছিলো।বলার মতো না।বলল অাফিন।ওহ।অবনী আর অপেক্ষা না করে রুম থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে গেলো।নিজ হাতে স্যুপ বানিয়ে নিলো আফিনের জন্য।আফিন অবাক চোখে অবনীকে দেখছে।মেয়েটা ওর জন্য সুপ বানিয়ে আনলো?অবনী আফিনের পাশে বসে চামচে একটু সুপ নিয়ে আফিনের দিকে ধরলো।

অবনীকে একনজরে দেখছে অাফিন।মেয়েটা বড় মায়াবী।এই মায়াভরা মুখটাই আফিনকে অবনীর দিকে টানে।খেয়েনিন অবনীর কথায় ঘোর ভাঙ্গে আফিনের।নিজেকে কিছুটা সামলিয়ে নিলো।চামচের সুপটুকু খেয়ে নিলো অাফিন।অবনী ওকে খাইয়ে দিচ্ছে ভাবতেই মনটা ভরে গেলো আফিনের।
সুপ খাইয়ে দিয়ে অবনী আফিনের কপালে হাত রাখলো।গা তো পুড়ে যাচ্ছে!!! চিন্তিত হয়ে বলল অবনী।আফিনের পাশ থেকে রুমাল নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলো অবনী।রুমাল ভিজিয়ে আফিনের পাশে এসে বসে পড়লো।আফিনের হাত পা মুখ মুছে দিতে থাকলো অবনী।জ্বর একটু কমে এসেছে।নিজ হাতে রান্না করে আফিন কে খাইয়ে সন্ধ্যায় অবনী বেরিয়ে পড়লো।রাতে মেয়েটাকে অনেকবার কল দিয়েছিলো অবনী আফিনের খবর জানতে।রাতে ও নাকি আফিনের গা পুড়ে যাচ্ছিলো জ্বরে।
(বাহিরে গেছিলাম অনেক টায়ার্ড লাগছে।)

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here